fbpx

Skillyogi – Video Lectures In English & Bangla

জীব জগতের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় - Jib Jogoter Niyontron O Somonnoy

Chapter 1 Life Science জীবন বিজ্ঞান WBBSE Madhyamik Class 10

You will learn the basics and the foundation of this chapter in English medium from an expert teacher this module has been organised in four segments

  • In the first segment you are going to learn the foundation and basics of this chapter
  • In the second module you are going to learn the multiple choice questions that is MCQ or high order thinking skills question of 1 marks
  • In the third segment you are going to learn the short answers and questions which is typically asked from the chapter in your examination which is explained in very easy and simple method
  • The fourth segment comprises of long answers and questions which is typically of 5 to 6 marks which will help you prepare well for your examination you also get sample questions and sample paper for better preparation

If you have any questions please feel free to contact our team for details and help

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে  আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে 
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  •  তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  •  চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

এখানে আপনি Basic Terms, Definitions, Solved Short, Long Answers & Questions and MCQ's নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে পেয়ে যাবেন

সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারিহয়েছে করা হয়েছে সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

বাংলা বিষয়- পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা পরিষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য এটা সাহায্য কর হবে এখানে আমরা আপনাকে এক Marks er MCQ  এবং Suggestion পেয়ে যাবেন যেটা আপনাকে সাহায্য করবে কম সময়ের মধ্যে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে এবং ভালো মাল আনতে নিজের মাধ্যমিক পরীক্ষা

VIDEO LECTURES BY EXPERT TEACHERS FOR EASY LEARNING

FOUNDATION - PART 1

FOUNDATION - PART 2

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

SHORT QUESTIONS ANSWER - 3/4 MARKS

LONG QUESTIONS ANSWER - 5/6 MARKS

Definition, Important Terms, Explanation in Simple Words for Fast Learning

repalc

MCQ SHort Questions (1 Marks)

Life Science Class-10, WBBSE
1 MARKS QUESTIONS

ছোট প্রশ্ন (Short Question 1 Mark, wbbse 10th)

জলে দ্রবণীয় একটি হরমোন হলো – অক্সিন ও জিব্বেরলিন|

বীজহীন ফল উৎপাদন কে বলে – পার্থেনোকার্পি (অক্সিন,IAA) |

আন্টি জিব্বেরলিক হরমোন হল- abscisic অ্যাসিড|

BMR নিয়ন্ত্রণ করে কোন হরমোন/ ক্যালরিজেনিক হরমোন- থাইরক্সিন |

একটি মিশ্র গ্রন্থি – অগ্ন্যাশয় |
সোয়ান কোষ / মায়োলিন সিদ থাকে – এক্সন|
turgour মুভমেন্ট বলা হয় কোন চলন কে- সিসমোনাস্টি |
মসের শুক্রাণুর গমন কোন ধরণের চলন- chemotactic|
স্ত্রীলোকের যৌন লক্ষণ প্রকাশ করে কোন হরমোন- ইস্ট্রোজেন |
দেহে ভারসাম্য রক্ষা করে মস্তিষ্কের কোন অংশ- লঘু মস্তিস্ক |
আয়োডিন এর অভাব এ কোন হরমোন সংশ্লেষ বিঘ্নিত হয়- থাইরক্সিন|
ডাবের জলে কোন হরমোন থাকে- cytokinin |
ভয় পেলে কোন হরমোন কাজ করে / কিডনির উপরের অংশ কোন হরমোনের উৎস- এড্রিনালিন|
প্রভুগ্রন্থি বলে – পিটুইটারি কে |
মানুষের দৃষ্টি কি প্রকার- দ্বিনেত্র |
মানুষের অক্ষয় গোলকের কোন অংশ আলোকসুবেদি- রেটিনা|
মায়োটম পেশী কিন্ প্রাণীদের গমনে সাহায্য করে- মাছ |
পায়রার রেমিজেস কটি-২৩ |


Life Science Class-10, WBBSE
1 MARKS QUESTIONS

MCQ (chapter 1, WBBSE 10TH)

1.উদ্ভিদের কোন অঙ্গ এর চলন জলের অনুকূলে হয় – কান্ড, পাতা, মূল |

2.লজ্জাবতীর পাতায় কি ধরণের চলন দেখা যায়- কেমোন্যাসটি , সিস্মন্যাসটি , ফটোট্রপিজম, ফটোট্যাক্টিক চলন |

3.বনচাড়াঁল গাছের পাতার ফলকের সঞ্চালনের কারণ- বায়ু প্রবাহ, রসস্ফীতিজনিত চাপ, স্পর্শজনিত চাপ|

4.কিছু ফুল সূর্যোদয়ের পর ফোটে কিন্তু সূর্যাস্তের পর মুড়িয়া যায় ইহা কি ধরণের চলন- কেমোন্যাসটি , সিস্মন্যাসটি, ফটোন্যাস্টি|

5.জগদীশ চন্দ্র বোস দ্বারা ব্যবহৃত উদ্ভিদের চলন পরিমাপক যন্ত্র কোনটি – ক্রেস্কোগ্রাফ , সিসমোগ্রাফ, কালিওগ্রাফ|

6.উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা কোন চলন হয়- ট্রপিক, ন্যাস্টিক , ট্যাকটিক, প্রকরণ|

7.সামগ্রিক চলন দেখা যায়- ভাইভ্যাক্স , লজ্জাবতী , সূর্যশিশির|

8.হরমোন একটি – রাসায়নিক সমন্বয়ক, ভৌত সমন্বয়ক, দুটি সঠিক|

9.উদ্ভিদের পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে কোন হরমোন- জিব্বেরেলিন, অক্সিন, ইথিলিন|

10.ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে কোন হরমোন- অক্সিন, জিব্বেরেলিন, থাইরক্সিন|

11.একটি কৃত্রিম হরমোন এর উদাহরণ হলো- জিব্বেরেলিন, জিয়াটিন, IAA , ন্যাপথলিন acetic অ্যাসিড |

12.কোষের সাইটোপ্লাজম বিভাজনে সাহায্য করে কোন হরমোন- cytokinin , অক্সিন, abscisic অ্যাসিড|

13.অগ্রমুকুল বৃদ্ধি করে কোন হরমোন – ABA , ইথিলিন, IAA

14.বার্ধক্য রোধ করে কোন হরমোন – জিব্বেরেলিন, অক্সিন, ইথিলিন, cytokinin |

15.তারারন্ধ্র কে বিস্ফোরিত করতে কোন হরমোন সাহায্য করে- এড্রিনালিন , থাইরক্সিন, প্রোজেস্টেরন|

16.ACTH ক্ষরিত হয়- পিটুইটারি , অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয় |

17.ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোধ করে কোন হরমোন- অক্সিটোসিন, ADH , STH , ইন্সুলিন |

18.ডিম্বাশয় ক্ষরিত হরমোন হলো- ইন্সুলিন, থাইরক্সিন, টেস্টোস্টেরোন, ইস্ট্রোজেন |

19.থাইরক্সিন নিঃসৃত করে কোন গ্রন্থি -এড্রিনালিন, থাইরয়েড, অগ্ন্যাশয়, শুক্রাশয় |

20.কোন হরমোন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি দ্বারা ক্ষরিত হয় না- থাইরক্সিন,পেপসিন, ACTH |

21.ইন্সুলিন হরমোন কোন কোষ থেকে নিঃসৃত হয়- আলফা কোষ, বিটা কোষ, ডেল্টা কোষ|

22.রক্তে শর্করা এর পরিমান কমাতে সাহায্য করে কোন হরমোন- ইন্সুলিন, গ্লুকাগন , এড্রিনালিন, ভেসোপ্রেসিন |

23.GTH হরমোন ক্ষরিত হয় – মধ্য পিটুইটারি , আগ্রো পিটুইটারি, পশ্চাদ পিটুইটারি|

24.প্রসবের সময় কোন হরমোন কাজ করে – প্রোজেস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, টেস্টোস্টেরোন |

25. আন্টি কিটোজেনিক হরমোন হলো- প্রোলাক্টিন, থাইরক্সিন, ইন্সুলিন, গ্লুকাগন |

26.পশ্চাদ পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হয় কোন হরমোন- ADH , এড্রিনালিন, গ্রোথ হরমোন, গ্লুকাগন |

27.গলগন্ড রোগ হয় কোন হরমিন এর বেশি ক্ষরণে – গ্রোথ হরমোন, TSH , ইন্সুলিন, গ্লুকাগন|

28.টেস্টোস্টেরোন হলো- amine ধর্মী, গ্লাইকোপ্রোটিন ধর্মী, স্টেরোয়েড ধর্মী|

29.স্নায়ুকোষ বা নিউরোন এর কোন অংশ কে নিউরোসাইটন বলে – কোষদেহ, axon , ডেন্সডটন, প্রান্তবুরুষ|

30.নিউরোনের দীর্ঘ প্রবর্ধকের নাম হলো- ডেনড্রাইট, ডেন্ড্রন, axon , কোষদেহ|

31. Acetyle choline হলো- হরমোন, উৎসেচক, নিউরোট্রান্সমিটার |

32.মস্তিষ্কের আবরণ কে বলে- মেনিনজেস,প্লুরা, পেরিকার্ডিয়াম|

33.মস্তিস্ক কোন স্নায়ু তন্ত্রের অন্তর্গত- কেন্দ্রীয়, প্রান্তীয়, স্বয়ংক্রিয়|

34.একটি আজ্ঞাবহ স্নায়ুর উদাহরণ – oculomotor , ভেগাস, অপটিক |

35.দেহে তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কর কোন অংশ- গুরু মস্তিস্ক, লঘু মস্তিষ্ক, হাইপোথ্যালামাস |

36.অগ্রমস্তিষ্কের সর্ববৃহৎ অংশ – থ্যালামাস, গুরুমস্তিষ্ক , সুষুন্মা শীর্ষক|

37.লঘু মস্তিষের যোজক হলো- ভার্মিস, পন্স, করপাস্ কালোসাম|

38.মানুষের সুষুন্মা স্নায়ুর সংখ্যা – ১২ জোড়া, ৩১ জোড়া, ১৫ জোড়া, ২ জোড়া|

39.মস্তিষ্কের কোন অংশ রিলে কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত- হাইপোথ্যালামা,থ্যালামাস, গুরু মস্তিষ্ক, পন্স|

40.রেটিনার সাথে যুক্ত স্নায়ু কোনটি- অপটিক , ভেগাস, অলফ্যাক্টরি |

41.লোভনীয় খাদ্য দেখলে লালা ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে- লঘু মস্তিষ্ক, গুরু মস্তিষ্ক, সুষুন্মা কান্ড, সুষুন্মা শীর্ষক|

42.নিউরোসিল পরিপূর্ণ থাকে কোন তরল দ্বারা- নিউরোট্রান্সমিটার, লোহিত রক্ত কণিকা, CSF , লসিকা|

43.রড কোষ কোন ভিটামিন তৈরী করে – ভিটামিন D , ভিটামিন B , ভিটামিন A , ভিটামিন C |

44.চোখের কোন অংশ তে বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠিত করতে সাহায্য করে- রেটিনা, পিতবিন্দু , রড কোষ|

45.চোখের বাইরের দিকের স্বচ্ছ স্তর হলো- কর্নিয়া, রেটিনা, sclera |

46.হাইপার মেট্রোপিয়া বা হাইপারোপিয়া তে কোন লেন্স ব্যবহার করা হয়- উত্তাল লেন্স, অবতল লেন্স, Bifocal লেন্স|

47.গমন করতে পারে কোন উদ্ভিদ- ভলভোক্স, chlamydomonas, both

48.প্যারামিসিয়ামএর/ amoeba গমনাঙ্গ হলো- ফ্লাজেলা, সিলিয়া, সিউডোপোডিয়া|

49.বল ও সকেট সন্ধি কোথায় থাকে- হাঁটুতে, কনুইতে, স্কন্ধর সন্ধিতে|

50.হাত ও পা ভাজ করে সময় কোন সন্ধি ব্যবহৃত হয় -ফ্লেক্সর, এক্সটেনসোর, রোটেটর|

 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Short Answers & Questions (3-4 Marks)

repl

ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Long Answers & Questions (5-6 Marks)

হরমােন কাকে বলে ? উদ্ভিদ হরমােনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি লেখাে।

ANS- হরমােন : যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকোশ থেকে বা বিশেষ কলাকোশ থেকে ক্ষরিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কলাকোশের কার্যকরিতা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় তাকে হরমােন বলে।

উদ্ভিদ হরমােনের প্রধান বৈশিষ্ট্য :
উৎস : প্রধানত উদ্ভিদের কান্ড ও মূলের অগ্রস্থ ভাজক কলাতে উদ্ভিদ হরমােন উৎপন্ন হয়। এছাড়া ভূণমুকুল, ভূণমূল, সস্য, ফল, পরিণত বীজ, বীজপত্র, বর্ধনশীল পাতা কোশেও উদ্ভিদ হরমােন থাকে।
পরিবহণ : উদ্ভিদ হরমােন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সংবহন কলার (জাইলেম ও ফ্লোয়েম) মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।
কাজ : উদ্ভিদ হরমােন উদ্ভিদের বৃদ্ধি, বীজের অঙ্কুরােদ্গম, ফুল ফোটানাে, মুকুলের বৃদ্ধি, কোশের বিভাজন, ফুলের বৃদ্ধি, ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদিতে সাহায্য করে।
সদতি : উদ্ভিদ হরমােন ক্রিয়ার পর বিভিন্ন প্রকার উৎসেচকের দ্বারা বিনষ্ট অক্সিন হরমােন ইন্ডােল অ্যাসিটিক অ্যাসিড অক্সিডেজের প্রভাবে বিনষ্ট রেলিন এবং সাইটোকাইনিন অক্সিডেজের (Oxidase) প্রভাবে বিনষ্ট হয়। যেমন- অক্সিন হরমে


জিব্বেরেলিন হরমােনের উৎস এবং কাজ লেখাে।

ANS- উৎস : উদ্ভিদের পরিপক্ক বীজে, বীজপত্রে, অঙ্কুরিত চারাগাছে, পাতার বর্ধিষ্ণু অঞলে জিব্বেরেলিন সংশ্লেষিত হয়।
জিব্বেরেলিন হরমােনের কাজ :

বীজের ও মুকুলের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গকরণ : বীজ ও মুকুল দীর্ঘ সময় ধরে সুপ্ত অবস্থায় বা নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। জিব্বেরেলিন বীজ মধ্যস্থ উৎসেচকের সক্রিয়তা বাড়িয়ে বীজের অঙ্কুরােদগমে এবং মুকুলের সুপ্তাবস্থা ভাঙতে সাহায্য করে।

পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বদ্ধি : জিব্বেরেলিনের প্রভাবে উদ্ভিদের পর্বমধ্যের বৃদ্ধি ঘটে, ফলে উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়।

ফলের বৃদ্ধি : আপেল, আঙ্গুর, ন্যাসপাতি প্রভৃতি ফলের গঠনে এবং আকার বৃদ্ধিতে জিব্বেরেলিন হরমােন বিশেষভাবে সাহায্য করে।

ফুলের প্রস্ফুটন : জিব্বেরেলিন সমস্ত উদ্ভিদের ফুল ফোটাতে সাহায্য করে।
জিব্বেরেলিন হরমােন কিউকারবিটেসি গােত্রভুক্ত উদ্ভিদের ফল গঠনে এবং লিঙ্গ প্রকাশে সাহায্য করে।

 

জিব্বেরেলিনের রাসায়নিক নাম এবং রাসায়নিক উপাদান উল্লেখ করাে। এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি লেখাে।

ANS- রাসায়নিক নাম : জিব্বেরেলিক অ্যাসিড।
রাসায়নিক উপাদান : কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) ও অক্সিজেন (O)
জিব্বেরেলিনের বৈশিষ্ট্য :
i) এটি নাইট্রোজেনবিহীন উদ্ভিদ হরমােন। ii) এটি কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত। iii) জিব্বেরেলিন টারপিনয়েড গােষ্ঠীর আম্লিক প্রকৃতির হরমােন। iv) এটি জাইলেম ও ফ্লোয়েম উভয় কলার মাধ্যমে উভয়মুখীভাবে পরিবাহিত হয়। v) পরিপক্ক বীজে ও বীজপত্রে বেশি জিব্বেরেলিন সংশ্লেষিত হয়।


সাইটোকাইনিনের উৎস এবং বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।

ANS- সাইটোকাইনিন উদ্ভিদের সস্যে ও ফলে সংশ্লেষিত হয়। এছাড়া নারকেল ও ভুট্টার সস্যে, টমেটোর রসে অধিক পরিমাণে সাইটোকাইনিন পাওয়া যায়।
সাইটোকাইনিনের বৈশিষ্ট্য :
সাইটোকাইনিন পিউরিন জাতীয় নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারীয় জৈব পদার্থ।
i) সাইটোকাইনিন কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং নাইট্রোজেন নিয়ে গঠিত।
ii) এটি উদ্ভিদদেহে সবদিকে পরিবাহিত হয়। iii) এর রাসায়নিক সংকেত CoHONO।
iv) এটা উদ্ভিদদেহে কোশ বিভাজনে সাহায্য করে।


কৃষিক্ষেত্রে অক্সিন হরমােনের প্রয়ােগ আলােচনা করাে।

ANS- অক্সিন হরমােনের প্রয়ােগ :
i) অক্সিন হরমােন প্রয়ােগ করে বীজবিহীন ফল যেমন— আঙ্গুর, পেঁপে, পেয়ারা, কলা ইত্যাদি উৎপাদন করা যায়। এই পদ্ধতিকে পার্থেননাকার্পি বলে।
ii) IBA, NAA প্রভৃতি কৃত্রিম অক্সিন প্রয়ােগ করে অল্প সময়ে জবা, গােলাপ, আম, পেয়ারা, লেবু প্রভৃতি গাছের শাখাকলম তৈরি করা হয়।
iii) আপেল, ন্যসপাতি, চা প্রভৃতি উদ্ভিদে ডাল ছাঁটার পর ক্ষত নিরাময়ে কৃত্রিম অক্সিন প্রয়ােগ করা হয়।
iv) আগাছা দমন করার জন্য কৃত্রিম অক্সিন 2,4-D বা 2,4, 5-T ব্যবহার করা হয়।
v) কৃত্রিম অক্সিন যেমন 2,4-D, NAA ইত্যাদি প্রয়ােগ করে অপরিণত পাতা, ফুল ও ফলের মােচন রােধ করা হয়।
vi) কৃত্রিম অক্সিন যেমন- NAA প্রয়ােগ করে দ্রত ফুল ফোটানাে হয়।

বিভিন্ন প্রকার ন্যাস্টিক চলন সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

উদ্দীপকের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে ন্যাস্টিক চলন বিভিন্ন প্রকারের হয়। যথা—
i) ফোটোন্যাস্টিক চলন বা ফোটোন্যাস্টি : আলােক উদ্দীপকের তীব্রতার বৃদ্ধি বাহ্রাসের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গে যে ন্যাস্টিক চলন হয় তাকে ফোটোন্যাস্টিক বা ফোটোন্যাস্টি চলন বলে।
উদাহরণ : সূর্যমুখী, পদ্ম প্রভৃতি ফুল বেশি আলােতে ফোটে এবং কম আলােতে মুদে যায়। অন্যদিকে সামালতী কম আলােতে ফোটে এবং বেশি আলােতে মুদে যায়।
ii) থার্মোন্যাস্টিক চলন বা থার্মোন্যাস্টি : উয়তা উদ্দীপকের তীব্রতার বৃদ্ধি বা হ্রাসের ফলে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন হয় তাকে থার্মোন্যাস্টিক চলন বা থার্মোন্যাস্টি বলে।
উদাহরণ : অধিক উন্নতায় টিউলিপ ফুল ফোটে এবং কম উয়তায় মুদে যায়।


iii) সিসমেন্যাস্টিক চলন বা সিসমেন্যাস্টি : স্পর্শ, আঘাত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদি পর্কেরতীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদের অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলনহয়তাকেসিসমেন্যাস্টিক চলন বা সিসমেন্যাস্টি বলে।
উদাহরণ : লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে নুয়ে পড়ে।
iv) কেমােন্যাস্টিক চলন বা কেমেন্যাস্টি : রাসায়নিক উদ্দীপকের (যেমন— প্রােটিন) তীব্রতার উপর নির্ভর করে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন হয় তাকে কেমােন্যাস্টি বলে।
উদাহরণ : ভেনাস ফ্লাইট্রাপ (পতঙ্গভুখ উদ্ভিদ)-এর পাতার উপর পতঙ্গ বসলে প্রােটিন উদ্দীপকের প্রভাবে পাতার পত্রফলক বন্ধ হয়।


থাইরক্সিন কোথা থেকে ক্ষরিত হয় ? এর তিনটি কাজ লেখাে। এর কম বা বেশি ক্ষরণে কোন কোন রােগ হয় ?

ANS- থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন ক্ষরিত হয়। থাইরক্সিন হরমােনের কাজ :
i) শর্করা, প্রােটিন ও ফ্যাটের বিপাকক্রিয়ার হার বৃদ্ধি করা।
ii) লােহিত রক্ত কণিকার (RBC) ক্রম পরিণতিতে সাহায্য করা।
iii) এটি যকৃতে নিউগ্লুকোজেনেসিস পদ্ধতিতে প্রােটিন থেকে গ্লুকোজ সংশ্লেষ করে।।
থাইরক্সিন হরমােনের কম ক্ষরণে শিশুদের ক্রেটিনিজম ও বয়স্কদের মিক্সিডিমা রােগ হয়। এর বেশি ক্ষরণে গয়টার বা গলগণ্ড বা গ্রেভস বর্ণিত রােগ হয়।


অ্যাড্রিনালিন কোথা থেকে ক্ষরিত হয় ? এর প্রধান কাজগুলি লেখাে। একে জরুরিকালীন হরমােন বলে কেন ?

ANS- অ্যাড্রিনালিন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মেডেলা অঞ্চল থেকে ক্ষরিত হয়।
অ্যাড্রিনালিনের কাজ :
i) অ্যাড্রিনালিন হৃৎপিণ্ডের গতি বাড়ায়, ফলে হৃদ-উৎপাদ বাড়ে এবং রক্তচাপ বাড়ে।
ii) অ্যাড্রিনালিন মােল বিপাকীয় হার (BMR) বৃদ্ধি করে।
iii) এর প্রভাবে পেশির সংকোচনশীলতা বাড়ে।
iv) অ্যাড্রিনালিন শ্বাসতন্ত্রের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং ব্রংকিওলসকে প্রসারিত করে। | অ্যাড্রিনালিন হরমােন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির মেডেল হতে ক্ষরিত হয় এবং আপদকালীন বা জরুরিকালীন অবস্থায় (যথা রাগ, ভয়, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি) দেহকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে, তাই এই হরমােনকে আপদকালীন হরমােন বলে।


ইনসুলিন কোথা থেকে ক্ষরিত হয় ? এর দুটি কাজ লেখাে। এর অভাবে কোন রােগ হয় ? এই রােগের লক্ষণ কী ?

ANS- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স-এর বিটা কোশ থেকে ক্ষরিত হয়।।
ইনসুলিনের কাজ :
i) ইনসুলিন কার্বহাইড্রেট বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে রক্তে গ্লুকোজ-এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
ii) ইনসুলিন অশর্করা থেকে গ্লুকোজ উৎপাদনে বাধা দান করে।
iii) ইনসুলিন যকৃতে কিটোনবডি উৎপাদনে বাধাদান করে। তাই একে অ্যান্টিকিটোজেনিক হরমােন বলে।
ইনসুলিনের অভাবে মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস রােগ হয়।
রােগের লক্ষণ – i) মূত্রের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়, ii) মূত্রে শর্করা থাকে, iii) প্রবল তৃয়া হয়।

শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয় নিঃসৃত হরমােনের কাজ লেখাে। অথবা, টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন ও প্রােজেস্টেরন হরমােনের উৎস ও কাজ লেখাে।

ANS- টেস্টোস্টেরন |Testosterone) :
উৎস : শুক্রাশয়ের লেডিগের অন্তরকোশ থেকে ক্ষরিত হয়।
কাজ :
i) পুরুষদেহের যৌনাঙ্গের বৃদ্ধি ঘটায়।
ii) পুরুষের গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য (যেমন- পেশিবহুল দেহ, গলার স্বর মােটা, গোঁফদাড়ি গজানাে) -এর প্রকাশ ঘটায়।
iii) শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে।

 


ইস্ট্রোজেন [Estrogen] :
উৎস : ডিম্বাশয়ের পরিণত ডিম্বথলি থেকে ক্ষরিত হয়।
কাজ :
i) এর প্রভাবে জরায়ু, ডিম্বনালি বৃদ্ধি হয়, নারীদের ত্বক কোমল ও মসৃণ হয়, স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি হয়।
ii) এই হরমােনের প্রভাবে স্ত্রীদেহেমাসিক যৌনচক্র বা ঋতুচক্রনিয়ন্ত্রিত হয়।
Cetcocuga [Progesterone) :
উৎস : ডিম্বাশয়ের পরিণত ডিম্বথলি থেকে ক্ষরিত হয়।
কাজ :
i) স্ত্রীদেহের জরায়ুর এন্ডােমেটিয়াম বৃদ্ধি করে।
ii) নিষিক্ত ডিম্বাণুর রােপণে সাহায্য করে।
iii) প্লাসেন্টা গঠনে সাহায্য করে।


স্নায়ুতন্ত্রের সংজ্ঞা দাও। স্নায়ুতন্ত্রের কাজ লেখাে।

ANS- নিউরােন বা স্নায়ুকোশ এবং নিউরােগ্লিয়া, নিয়ে গঠিত যে তন্ত্রের সাহায্যে প্রাণীদেহের উদ্দীপনা গ্রহণ এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের বিভিন্ন অন্তর্যন্ত্রের সঙ্গে সমতা রক্ষা করে এবং দেহের বিভিন্ন অন্তর্যন্ত্রের কার্য নিয়ন্ত্রণ করে তাকে স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেম বলে।
শয়তন্ত্রের কাজ- i) দেহের বাইরের ও ভিতরের উদ্দীপনা গ্রহণ করা। ii) বিভিন্ন উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সাথে সমতা রক্ষা করা। iii) বিভিন্ন যন্ত্র ও তন্ত্রের মধ্যে যােগাযােগ রক্ষা এবং সমন্বয়সাধন করা।
iv) স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীদেহের বিভিন্ন অনৈচ্ছিক ও ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন ও গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
v) স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণীদেহের স্মৃতি, বুদ্ধি, চিন্তা, ভয়, হাসি, কান্না, ক্ষুধা, তুয়া, প্রতিবর্ত ক্রিয়া, দেহের ভারসাম্য রক্ষা ইত্যাদি কার্য সম্পন্ন হয়।

একটি আদর্শ নিউরােনের গঠন বর্ণনা করাে।

ANS- একটি আদর্শ নিউরােন প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। যথা – কোশদেহ (Cell Body) এবং প্রবর্ধক (Process)।
কোশদেহ : নিউরােনের গােলাকার বা ডিম্বাকার বা নক্ষত্রাকার কোশের মতাে অংশটিকে কোশদেহবা সেল বডি বা সাইটন বলে। কোশের বাইরে লাইপােপ্রােটিন নির্মিত পর্দা থাকে। কোশপর্দার ভিতরের সাইটোপ্লাজমকে নিউরােপ্লাজম বলে। নিউরােপ্লাজমের কেন্দ্রের দিকে একটি বড়াে গােলাকার বা ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। কোশদেহের সাইটোপ্লাজমে নিউক্লিয়াস ছাড়া অন্যান্য কোশ অঙ্গাণু যেমন—মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগিবস্তু সেন্ট্রোজোম ইত্যাদি কোশ অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। নিউরােনের সেন্ট্রোজোম নিষ্ক্রিয় থাকে, তাই নিউরােন বা স্নায়ুকোশ বিভাজিত হয় না। নিউরােপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তন্তু ছড়িয়ে থাকে, এদের নিউরােফাইবিল বলে। এগুলি স্নায়ুকোশের সংকোচনে সহায়তা করে। নিউরােপ্লাজমে রাইবােনিউক্লিও প্রােটিন দ্বারা

গঠিত একপ্রকার দানা দেখা যায় যা প্রােটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে। এই দানাগুলিকে নিজল দানা বলে।

প্রধক : নিউরােনে দুই প্রকার প্রবর্ধক দেখা যায়। যথা : অ্যাক্সন ও ডেনড্রন।
অ্যাক্সন : কোশদেহ থেকে নির্গত দীর্ঘ প্রবর্ধককে অ্যাক্সন বলে। কোশদেহের যে স্থান থেকে অ্যাক্সন উৎপন্ন হয় তাকে অ্যাক্সন হিলক বলে। অ্যাক্সনের বাইরে থেকে ভিতরের দিকে যথাক্রমে অ্যাক্সোলেমা, মায়ােলিন সদ ও নিউরােলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এটি নিউরােনের আজ্ঞাবহ প্রবর্ধক। অ্যাক্সনের সাইটোপ্লাজমকে অ্যাক্সোপ্লাজম বলে। অ্যাক্সনের সবচেয়ে বাইরের আবরণকে বলে অ্যাক্সোলেমা। অ্যাক্সোলেমার বাইরে স্নেহ পদার্থের একটি মােটা আবরণ গঠিত হয়। একে মায়ােলিন সিদ বলে। অ্যাক্সনে মায়ােলিন আবরণবিহীন সংকুচিত অংশকে র্যানভিয়ারের পর্ব বা নােড অবর্যানভিয়ার (Node of Ranvier) বলে।


মায়ােলিন সিদের বাইরের আবরণটিকে নিউরেলেমা বলে। অ্যাক্সনের মায়ােলিন সিদ ও নিউরেলেমার সংযােগস্থলে একপ্রকার কোশ থাকে। বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে একে সােয়ান সেল বা সােয়ান কোশ বলে। অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত অসংখ্য সূক্ষ্ম শাখাপ্রশাখা গঠন করে। একে প্রান্তবুরুশ বলে।
কাজ : অ্যাক্সন কোশদেহ থেকে স্নায়ুস্পন্দন পরিবহণ করে দূরে নিয়ে যায়।
ডেনড্রন : কোশদেহ থেকে নির্গত ক্ষুদ্র আকৃতির শাখাপ্রশাখাযুক্ত প্রবর্ধককে ডেনড্রন বলে। ডেনড্রনে মায়ােলিন সিদ এবং সােয়ান কোশ থাকে না। ডেনড্রনে নিজল দানা এবং নিউরােফাইব্রিল থাকে। ডেনড্রনের শাখাকে ডেনড্রাইট বলে।
কাজ : ডেনড্রনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী স্নায়ুকোশ বা নিউরােন থেকে স্নায়ুস্পন্দন কোশদেহে প্রবেশ করে।

 

 

কার্য অনুযায়ী বিভিন্নপ্রকার স্নায়ুর শ্রেণিবিভাগ করাে। প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা ও উদাহরণ দাও।
ANS-


অফারেন্ট বা অন্তর্বাহী স্নায়ু : যে স্নায়ু গ্রাহক থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে উদ্দীপনা বহন করে তাকে অ্যাফারেন্ট বা অন্তর্বাহী স্নায়ু বলে।
উদাহরণ : অলফ্যাক্টরি, অপটিক স্নায়ু।

 

ইফারেন্ট বা বহির্বাহী স্নায়ু : যে স্নায়ু কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা বহন সব কারকে (ইফেক্টরে) নিয়ে যায় তাকে বহির্বাহী বা ইফারেন্ট স্নায়ু বলে।
উদাহরণ : অকিউলাে মােটর (3rd) অ্যাকসেসরি (11th) হাইপােগ্লসাল (12th)

মিশ্র স্নায়ু : অন্তর্বাহী ও বহির্বাহী উভয় প্রকার স্নায়ুর সমন্বয়ে গঠিত স্নায়ুকে মিশ্র স্নায়ু বলে।
উদাহরণ : ফেসিয়াল (7th), ভ্যাগাস স্নায়ু (10th)

 

 

 

অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলির অবস্থান ও কাজ লেখাে।
ANS-
প্রধান অংশ
অবস্থান


কাজ
গুরুমস্তিষ্ক (সেরিব্রাম)
অগ্রমস্তিষ্কে অবস্থিত। করােটির বেশিরভাগ স্থান জুড়ে থাকে।
১ প্রাণীর বুদ্ধি, চিন্তা, স্মৃতি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রাণীদেহের চাপ, তাপ। – ব্যাথা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. দর্শন, শ্রবণ ঘ্রাণ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
থ্যালামাস। (Thalamus)
গুরুমস্তিস্কের নীচে অবস্থিত
১. চাপ, তাপ, স্পর্শ, ব্যথা ইত্যাদি অনুভূতির প্রেরক স্থান রূপে কাজ করে।
হাইপােথ্যালামাস (Hypothalamus)
থ্যালামাসের নীচে অবস্থিত


১. হাসি, কান্না, ভয়, ক্রোধ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। ২. দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ |


পশ্চাত্মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলির অবস্থান ও কাজ লেখাে।
ANS-
প্রধান অংশ
অবস্থান
কাজ


লঘুমস্তিষ্ক (Cerebellum)
পক্স ও সুষুম্নাশীর্ষকের সংযােগস্থলে অবস্থিত


১. দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।
২. দেহে পেশীর টান নিয়ন্ত্রণ করে।
পল্স (Pons) বা যােজক
সুষুম্নাশীর্ষকের উপরে অবস্থিত
এটি চোয়াল ও অক্ষিগােলকের সঞ্চালন, লালাক্ষরণ, মূত্রত্যাগ, শ্বসন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
সুষুম্নশীর্ষক বা মেডালা অবাংগাটা
পক্স ও সুষুম্নাকাণ্ডের মাঝে অবস্থিত
হৃদস্পন্দন, শ্বাসক্রিয়া, খাদ্যগ্রহণ ঘাম নিঃসরণ ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসাবে কাজ করে।

 


জ্ঞানেন্দ্রিয় হিসাবে জিহ্বা, নাসিকা ও ত্বকের ভূমিকা আলােচনা করাে।
ANS-
প্রাণীদেহের যেসব গ্রাহক অঙ্গ পরিবেশ থেকে বিশেষ উদ্দীপনা গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পাঠায় তাদের জ্ঞানেন্দ্রিয় বলে। উদাহরণ : চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক হলাে পঞ ইন্দ্রিয়।

জিহ্বা বা জিভ : এটি মানুষের স্বাদেন্দ্রিয় হিসাবে কাজ করে। এর উপরিভাগে অসংখ্য গুটির মতাে দানা থাকে, এদের স্বাদকোরক বলে। জিহ্বায় এদের সংখ্যা 10,000 এর মতাে। জিহ্বার অগ্রভাগে মিষ্টি, পশ্চাদ্ভাগে তিক্ত, মধ্যভাগে লবণাক্ত ও দুই পার্শ্বে। অম্ল স্বাদ গৃহীত হয়।
কাজ : প্রধানত স্বাদগ্রহণে সাহায্য করে। তাছাড়া কথা বলা, খাদ্যচর্বণ ও গলাধঃকরণে সাহায্য করে।

 

নাসিকা : নাসিকা বা নাক ঘ্রাণ অনুভূতি গ্রহণ করে, তাই একে ঘ্রাণেন্দ্রিয় বলে। নাসা গহ্বরের ছাদে অবস্থিত ঘ্রাণঝিল্লিতে ঘ্রাণ অনুভুতি কোশ থাকে যা ঘ্রাণ। গ্রাহক হিসাবে কাজ করে। পরিবেশ থেকে বিভিন্ন প্রকার গন্ধ এই গ্রাহক দ্বারা মস্তিষ্কের ঘ্রাণকেন্দ্রে প্রেরিত হয় এবং আমরা সেই গন্ধ অনুভব করতে পারি।

কাজ : গন্ধ বা ঘ্রাণ অনুভুতি গ্রহণ করা মুখ্য কাজ।

ত্বক বা চর্ম : আমাদের দেহের আবরণকে চর্ম বা ত্বক বলে। এটি স্পর্শ, চাপ, তাপ, ব্যথা ইত্যাদি অনুভূতি গ্রাহক হিসাবে কাজ করে।
কাজ : i) স্পর্শগ্রাহক হিসাবে কাজ করে।
ii) চাপ, তাপ, ঠান্ডা, গরম ইত্যাদি অনুভূতি গ্রহণ করে।।
iii) বস্তুর শনাক্তকরণে সাহায্য করে।

গমনকী ?গমনের চালিকাশক্তিগুলি (Motivations BehindLocomotion) সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
ANS-
গমন : যে প্রক্রিয়ার জীব অঙ্গপ্রতঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে তাকে গমন বলে।
গমনের চালিকাশক্তিগুলি হলাে –

খাদ্যান্বেষণ : সমস্ত প্রাণী এবং নিম্নশ্রেণির কয়েকটি উদ্ভিদ (যেমন ভলভক্স) খাদ্য সংগ্রহের জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গমন করে।

আত্মরক্ষা : খাদক প্রাণীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণীদের গমন দরকার হয়।
অনুকূল বাসস্থান বা আশ্রয় খোঁজ : পছন্দমতাে এবং অনুকূল আশ্রয়ের জন্য প্রাণীরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গমন করে।

প্রজনন : প্রজননের সময় উপযুক্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনীর খোঁজে বা নিভৃত প্রজনন স্থান খোঁজার জন্য প্রাণীরা এক স্থান থেকে অন্য জায়গায় গমন করে।

বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া : প্রজননের মাধ্যমে অধিক পরিমাণে শাবকের জন্ম হলে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য এক জায়গা থেকে বিভিন্ন জায়গাতে প্রাণীরা ছড়িয়ে পড়ে।


পাখির উডড্ডয়নে ডানা, পালক ও পেশির ভুমিকা লেখাে।
ANS-
পাখির উড্ডয়নে ডানা, পালক ও পেশির ভূমিকা :
ডানা : খেচর অভিযােজনের জন্য পা অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে। ডানার সামনের দিক প্রশস্ত এবং পেছনের দিক সরু। ডানার সাহায্যে পাখি উড়তে পারে এবং ডানা দেহকে বাতাসে ভাসতে সাহায্য করে।
পালক : পাখির সারাদেহে পালক থাকে। দুটি ডানায় 23টি রেমিজেস এবং পুচ্ছে 12 টি রেকট্রিসেস নামক বড়াে পালক থাকে।
রেমিজেস উড়তে এবং রেকট্রিসেস উড়ার সময় দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে।
উড্ডয়ন পেশি : পাখির দেহে থাকা পেক্টোরালিস মেজর, পেক্টোরালিস মাইনস এবং কোরাকো ব্রাকিয়ালিস নামক পেশির সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে ডানা উঠা নামা করে পাখি অনেকক্ষণ বাতাসে উড়তে পারে।


মানবদৃষ্টির ত্রুটিগুলি উল্লেখ করাে। ত্রুটির কারণ ও সংশােধনের পদ্ধতি লেখাে।
ANS-
উপযােজন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার ফলে মানুষের চোখে নিম্নলিখিত রােগগুলি দেখা যায়—
মায়ােপিয়া বা নিকট দৃষ্টি : চোখের যে ত্রুটির জন্য দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয় কিন্তু কাছের দৃষ্টি ঠিক থাকে, তাকে মায়ােপিয়া বা নিকট দৃষ্টি বলে।

কারণ : অক্ষিগােলকের ব্যাস স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয় ফলে রেটিনার সামনে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

সংশােধন : অবতল লেন্সের চশমা ব্যবহার করলে সমস্যা দূর হয়।

হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরবদ্ধ দৃষ্টি : চোখের যে ত্রুটির জন্য কাছের বা নিকটের। দৃষ্টি ব্যহত হয়, কিন্তু দূরের দৃষ্টি ঠিক থাকে তাকে হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরবদ্ধ দৃষ্টি বলে।।

কারণ : অক্ষিগােলকের ব্যাস স্বাভাবিকের তুলনায় ছােটো হয়, ফলে রেটিনার পিছনে প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

সংশােধন : উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করলে সমস্যা দূর হয়।

প্রেসবায়ােপিয়া : সাধারণত 40 বছরের বেশি বয়সের লােকদের চোখের লেন্সের
সংকোচন-প্রসারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় কাছের বস্তুকে দেখতে অসুবিধা হয়। এই অবস্থাকে প্রেসবায়ােপিয়া বলে।

কারণ: সংশােধন :বাইফোকাল লেন্স অথবা উত্তল লেন্সের চশমা ব্যবহার করলে সমস্যা দূর হয়।

ক্যাটারাক্ট বা ছানিপড়া : বয়স বাড়লে লেন্স অস্বচ্ছ হয়ে পড়ে এবং রেটিনাতে। অস্বচ্ছ প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। ফলে দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ হ্রাস পায়। একে চোখের ছানিপড়া বা ক্যাটারাক্ট বলে।

কারণ : লেন্সের ক্রিস্টাল প্রােটিন বিনষ্ট হওয়ার এই রােগ হয়।

সংশােধন : অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি অপসারণ করে তার পরিবর্তে Intra Ocular Lens (IOL) ব্যবহার করলে এই সমস্যা দূর হয়।

 

 


মাছের গমনে মায়ােটাম পেশির ভূমিকা আলােচনা করাে এবং প্যারামেসিয়ামের গমনের পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখাে।
ANS-
মাছের দেহের মেরুদণ্ডের দু’পাশে V-আকৃতির মায়ােটাম পেশি থাকে। মায়ােটাম পেশি ডানদিকে সংকুচিত হলে মাছের দেহ ডানদিকে বেঁকে যায়। আবার এই পেশি বামদিকে সংকুচিত হলে দেহ বামদিকে বেঁকে যায়। এইভাবে মায়ােটাম পেশির সংকোচন ও প্রসারণে মাছের দেহ আন্দোলিত হয়। এই আন্দোলন সামনের অংশ থেকে পিছনের অংশে অগ্রসর হয়, ফলে মাছ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
প্যারামেসিয়ামের গমন : প্যারামেসিয়ামের গমন অঙ্গ হলাে সিলিয়া। সিলিয়ার সাহায্যে প্যারামেসিয়াম জলে গমন করে। প্যারামেসিয়াম এককোশি প্রাণী। এর সারা দেহে অনুদৈর্ঘ্যভাবে সিলিয়া উপস্থিত। প্যারামেসিয়াম সিলিয়াগুলিকে নৌকার দাঁড়ের মতাে জলের উপর আঘাত সৃষ্টি করে দেহকে সামনের দিকে সঞ্চালন করে। সিলিয়ার সাহায্যে প্যারামেসিয়ামের এই গমন পদ্ধতিকে সিলিয়ারি (Ciliary) গমন বলে।

ফ্লাজেলীয় গমন কাকে বলে ? ইউগ্লিনার গমন পদ্ধতি সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
ANS-
ফ্লাজেলীয় গমন : কোশের সাইটোপ্লাজম থেকে উৎপন্ন সিলিয়া অপেক্ষা মােটা ও দীর্ঘ যে সূক্ষ্ম তন্তু আন্দোলনের মাধ্যমে বা সঞ্চালনের মাধ্যমে প্রাণীর গমনে সাহায্য করে তাকে ফ্লাজেলা বলে। ফ্লাজেলার মাধ্যমে গমন পদ্ধতিকে ফ্লাজেলীয় গমন বলে।

ইউগ্লিনার গমন পদ্ধতি : ইউপ্লিনার গমন অঙ্গ হলাে ফ্লাজেলা। ফ্লাজেলা সাইটোপ্লজম থেকে উৎপন্ন সূক্ষ্ম তন্তু যা সিলিয়া অপেক্ষা মােটা ও দীর্ঘ হয়। গমনের সময় ইউপ্পিনা ফ্লাজেলামকে সামনে থেকে দেহের পিছনের দিকে নৌকার দাঁড়ের মতাে চালনা করে। ফলে ফ্লাজেলাতে আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। ফ্লাজেলার আন্দোলনের জন্য। ইউপ্লিনার দেহে গতির সৃষ্টি হয়, ফলে ইউপ্লিনা সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

 

অ্যামিবয়েড গমন বলতে কী বােঝায় ? অ্যামিবার গমনের পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করাে।

অ্যামিবয়েড গমন : ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে গমনকে অ্যামিবয়েড গমন বলে। অ্যামিবাতে এইপ্রকার গমন দেখা যায়।
অ্যামিবার গমন পদ্ধতি : অ্যামবা ক্ষণপদ বা সিউডােপােডিয়ার সাহায্যে গমন। সম্পন্ন করে। অ্যামিবার গমনের ইচ্ছা হলে দেহের প্রােটোপ্লাজমের ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটিয়ে নির্দিষ্ট দিকে অস্থায়ী পদ সৃষ্টি করে। অস্থায়ী পদকে ক্ষণপদ বলে। ক্ষণপদটি ক্রমান্নয়ে বৃদ্ধি পায় এবং এর আঠালাে প্রান্তকে কঠিন বস্তুর সঙ্গে আটকে দেয়। এর পর দেহ মধ্যস্থ প্রােটোপ্লাজম ক্ষণপদে প্রবাহিত করে পিছনের অংশকে গুটিয়ে নেয়। ফলে অ্যামিবার দেহ সামনে এগিয়ে যায়। এইভাবে একই পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে প্রয়ােগ করে অ্যামিবা গমন সম্পন্ন করে। এই গমন পদ্ধতিকে অ্যামিবয়েড গমন (Amoeboied Locomotion) বলে।

উদ্ভিদের ফোটোট্রপিক ও জিওট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রনে অক্সিন হরমােনের ভূমিকা আলােচনা করাে।

ফোটোট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রন : আলােক উৎসের দিকে বা আলাের গতিপথের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের চলনকে ফোটোট্রপিক চলন বলে। ইহা অক্সিন হরমােন দ্বারা নিয়ন্ত্রীত হয়। অক্সিন হরমােন আলােকে সংবেদনশীল হওয়ায় কান্ডে আলােক উৎসের বিপরীত দিকে অক্সিন সঞ্চিত হয়। এই সঞিত অংশে অক্সিন হরমােন দ্রুত কোশ বিভাজন ঘটায়। ফলে আলাের বিরীতে অর্থাৎ অন্ধকার অংশে বৃদ্ধি বেশী হয় ফলে কান্ড আলাের উৎসের । দিকে বেঁকে যায়। অর্থাৎ ফোটোট্রপিক চলন দেখায়। কান্ড আলােক অনুকূলবর্তী হয়।


জিলট্রোপিক চলন নিয়ন্ত্রন : অভিকর্ষ বলের টানে পৃথিবীর ভরকেন্দ্রের দিকে উদ্ভিদ অঙ্গের অগ্রসর হওয়াকে জিওট্রপিক চলন বলে। মুলের ক্ষেত্রে অক্সিনে কর্ম ঘনত্বে বেশী কোশ বিভাজিত হয় এবং মুলের বৃদ্ধি বেশী হয় এবং মাটির গভারে প্রবেশ করে। তাই মুলের চলনক জিওট্রপিক বা অভিকর্ষবৃত্তি চলন বলে।
তাই উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রনে (ফোটোট্রপিক ও জিওট্রপিক) অক্সিন হরমােনের গুেরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

 

হরমােনের সংজ্ঞা দাও। মানবদেহে ৪টি অন্তক্ষরা গ্রন্থির অবস্থান ও নিঃসৃত হরমােনের নাম লেখাে।
ANS-
সংজ্ঞা : যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকোশ থেকে বা বিশেষ কলাকোশ থেকে ক্ষরিত হয়ে দুরবর্তী স্থানের কলাকোশের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রন করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় তাকে হরমােন বলে।

 

স্নায়বিক পথ কাকে বলে ? স্নায়বিক পথটি সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
ANS-
স্নায়বিক পথ : যে উদ্দীপনা গ্রাহক থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌছায় এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে পুনরাই উদ্দীপনা কারকে এসে সাড়া প্রদান সাহায্য করে সেই পথকে স্নায়বিক পথ বলে।।

স্নায়বিক পথের সংক্ষিপ্ত আলােচনা : পরিবেশের বিভিন্ন উদ্দীপআ গ্রাহকের মাধ্যমে স্নায়ু গ্রহণ করে এবং সংজ্ঞাবহ নিউরােন দিয়ে স্নায়বি কেন্দ্র অর্থাৎ মস্তিস্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড প্ররণ করে। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র অর্থাৎ মস্তিস্ক ও সুষুম্নাকান্ড উদ্দীপনাকে বিশ্লেষণ করে পুনরাই আজ্ঞাবহ নিউরােন দিয়ে উদ্দীপনা কারকে প্রেরণ করে। কারকে উদ্দীপনা পৌঁছালে কারক উদ্দীপিত হয় এবং সাড়া প্রদানে সহায়তা করে।

 


সুষুম্নকাণ্ডের গঠন ও কাজ সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
ANS-
সুষুম্নাকাণ্ড : মেরুদণ্ডের গহূরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কঁপা রঞ্জুর মত স্নায়ুদণ্ডকে সুষুম্নাকাণ্ড (Spinal Cord) বলে।

অবস্থান : করােটির ফোরামেন ম্যাগনাম ছিদ্র থেকে শুরু করে প্রথম লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং কশেরুকার নিউরাল ক্যানেলের মধ্যে অবস্থিত এবং মেনিনজেস আবরণে আবৃত থাকে।


অন্তর্গঠন :
i) সুষুম্নাকাণ্ডের বাইরে ত্রিস্তরীয় আবরণ থাকে একে মেনিনজেস বলে।
ii) এর কেন্দ্রের দিকে একটি শুরু নালি থাকে যা কেন্দ্রীয় নালি বা নিউরােসিল নামে পরিচিত।
iii) কেন্দ্রীয় নালির চারপাশে ধুসর বর্ণের H-আকৃতি অঞ্চলকে ধুসর বস্তু এবং ধুসর বস্তুর চারপাশের স্বতবর্ণের অলকে শ্বেত বস্তু বলে।
iv) ধুসর বস্তুর নিউরােনগুলি মিলিত হয়ে একাধিক শৃঙ্গ বাহন (Horn)গা করেছে। যেমন সন্মুখ শৃঙ্গ, পাশ্বশৃঙ্গ, পশ্চাৎ শৃঙ্গ ইত্যাদি।
v) সুষুষ্মকাণ্ডের পৃষ্যদেশে অর্ন্তবাহী স্নায়ু যুক্ত অংশকে পৃষ্টমূল এবং অঙ্গীয়দেশে বহির্বাহী স্নায়ু যুক্ত অংশকে অঙ্কমূল বলে।


সুষুম্নাকাণ্ডের গঠন :
i) সুষুম্নাকাণ্ডের দৈর্ঘ্য পুরুষের প্রায় ৪৫ সেমি এবং স্ত্রী ৪২ সেমি এবং ওজন ৩৫ গ্রাম।
ii) ইহা মেরুদন্ডের নিউরালক্যানেলের মধ্যে অবস্থিত। নিউরাল ক্যানেলা সরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড CSF দিয়ে পূর্ণ থাকে।
iii) সুষুম্নাকাণ্ড ৩১টি খণ্ডকে বিভক্ত প্রতিটি খণ্ড থকে একজোড়া করে ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু নির্গত হয়েছে।
iv) সুষুম্নাকাণ্ড লম্বা চোঙাকৃতির ফাপা রজ্জর মতাে। এর নীচের দিকের ছুঁচোলাে লীয় অংশকে কোনার মেডুলারিস (Conus meduleries) বলে।।
v) সুষুম্নাকাণ্ডের কোনান মেডুলারিস-এর পরবর্তি স্নায়বিক কলাবিহীন তন্তুময় হশকে ফাইলাম টারমিনেল (Filum terminale) বলে।

 


সুষুম্নাকাণ্ডের কাজ :
i) বিভিন্নপ্রকার প্রতিবর্ত ক্রিয়া নিয়ন্ত্রন করে।
ii) সুষুম্নাকাণ্ড পেশীটান নিয়ন্ত্রন করে, দেহভঙ্গি বজায় রাখে।
iii) সুষুম্নাকাণ্ডের মাধ্যমে মস্তিস্কের সঙ্গে দেহের পেশীর ও অন্তরযন্ত্রের যােগাযােগ স্থাপন হয়।

 

স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপস (Synapse) কী ? ইহা কোথায় অবস্থিত। সাইন্যাপস-এর গঠন ও কাজ সংক্ষেপে আলােচনা করাে।

সাইন্যাপস : দুটি নিউরােনের সংযােগস্থল, যেখানে একটি নিউরােন শেষ এবং অপর নিউরােন শুরু হয় সেই সংযােগস্থলকে সাইন্যাপস্ বা প্রাপ্তসন্নিকর্ষ বা স্নায়ু সন্নিধি বলে।
অবস্থান : সাইন্যাপস দুটি নিউরােনের সংযােগস্থলে অবস্থিত।
গঠন :
i) সাইন্যাস গঠনে অংশগ্রহণকারী অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত স্ফীত হয়ে প্রিসাইন্যাপটিক নব বা প্রাকসন্নিধি স্ফীতি গঠন করে। প্রাকসন্নিধি স্ফীতির পর্দা বা ঝিল্লিকে প্রাকসন্নিধি ঝিল্লি বলে।

ii) পরবর্তী নিউরােনের ডনড্রনের প্রান্ত স্ফীতি হয়ে পােস্ট সাইন্যাপটিক নব বা পশ্চাদ সন্নিধি স্ফীতি গঠন করে। এর পর্দা বা ঝিল্লিকে পােস্ট সাইন্যাপটিক বা ঝিল্লি বলে।

iii) দুটি নব বা স্ফীতির মধ্যে যে ফাঁক থাকে সেই স্থান সাইন্যাপটিক ক্লিফট (Synaptic cleft) বলে।

iv) প্রাক সন্নিধি স্ফীতির সাইটোপ্লাজমে মাইটোকনড্রিয়া এবং পর্দাযুক্ত থলি (Vesicle) থাকে। এর মধ্য থেকে অ্যাসিটাইল কোলিন, অ্যাডরিনালিন প্রভৃতি পদার্থ ক্ষরিত হয়। এই পদার্থকে নিউরােহিউমর বলে।

 

সরল ও জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলতে কী বােঝায় ? বিভিন্নপ্রকার প্রতিরক্ত সংক্ষেপে লেখাে।
ANS-
i) সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়া : যে প্রতিবর্ত ক্রিয়া সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রীত হয় তা সরল প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ : চোখে ধুলাে বালি পড়লে চোখ বন্ধ হয়, লােভনীয় খাদ্যের দর্শনে লালাক্ষরণ ইত্যাদি।
ii) জটিল প্রতিবর্তক্রিয়া : যে প্রতিবর্ত ক্রিয়া মস্তিস্ক দ্বারা নিয়ন্ত্রীত হয় তাকে জটিল প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদাহরণ : শিশুর হাটতে শেখা, সাতার কাটতে শেখা ইত্যাদি। সাইন্যাপসের সংখ্যার

 

উপর নির্ভর করে প্রতিবর্ত চাপ চার প্রকারের হয়। উদাহরণ :
অসন্নিধি প্রতিবর্ত চাপ বা সন্ধিবিহীন প্রতিবর্তচাপ : এইপ্রকার প্রতিবর্ত চাপে সাইন্যাপস গঠিত হয় না।
এক সন্নিদিবা একসন্ধি প্রতিবর্তচাপ: এইপ্রকার প্রতিবর্তচাপেদুটি সাইন্যাপস গঠিত হয়।
দ্বিসন্নিধি বা দ্বিসন্ধি প্রতিবর্ত চাপ : এইপ্রকার প্রতিবর্তচাপে দুটি সাইন্যাপস। গঠিত হয়।
উদাহরণ : হাঁটু ঝাকুনি প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
বহুসন্নিধি বা বহুসন্ধি প্রতিবর্ত চাপ : এইপ্রকার প্রতিবর্ত চাপে দুয়ের অধিক সাইন্যাপস্ গঠিত হয়।
উদাহরণ : প্লান্টার রিফ্লেক্স বা পদতল প্রতিবর্তক্রিয়া।

 

প্রতিবর্তচাপ কাকে বলে (Reflex Actionare)? প্রতিবর্তচাপের বিভিন্ন অংশগুলি সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
ANS-
প্রতিবর্ত চাপ : যে পথে প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পন্ন হয়, সেই পথকে অর্থাৎ প্রবিবর্ত। ক্রিয়ার পথকে প্রতিবর্ত চাপ বলে।
প্রতিবর্ত চাপের বিভিন্ন অংশ :
গ্রাহক (Receptor) : গ্রাহক অঙ্গগুলি পরিবেশের এবং দেহের অভ্যন্তরের। উদ্দীপনা গ্রহণ করে স্নায়ুকেন্দ্রে প্রেরণ করে।

সংজ্ঞাবহ নিউরােন (Sensory Neurone) : গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা। স্নায়ুকেন্দ্রে প্রেরণ করে।
স্নায়ুকেন্দ্র (Nerve Centre) : মস্তিস্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড স্নায়ুকেন্দ্র হিসাবে কাজ তবে উদ্দীপনার বিশ্লেষনে সাহায্য করে।

আজ্ঞাবহ নিউরােন (Notor Newrone) : উদ্দীপনা স্নায়ুকেন্দ্র অর্থাৎ রভিস্থ এবং সুষুম্নাকাণ্ড থেকে বহন করে কারকে নিয়ে যায়।

কারক (Effector) : জীবদেহের যে অঙ্গগুলি উদ্দীপনায় সাড়া প্রদান করে তাদের কারক বলে।

উদাহরণ : পেশী বা গ্রন্থি কারক হিসাবে কাজ করে।


দ্বিপদ গমন কাকে বলে? মানুষের দ্বিপদ পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখাে।
ANS-
দ্বিপদ গমন : মানুষ দুটি পায়ের সাহায্যে গমন করে তাই একে দ্বিপদ গমন বলে।
দ্বিপদ গমনে সাহায্যকারী অঙ্গ : দুটি পা, দুটি হাত, অস্থি, অস্থিসন্ধি ও অস্থিপেশী দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে লঘুমস্তিস্ক এবং অন্তর্কন।


পদ্ধতি : হাটার সময় প্রথমে গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস পেশীর সংকোচনে গােড়ালি মাটি ছেড়ে উপরে উঠে। এরপর এক্সটেনসর ডিজিটেরিয়াম পেশির সংকোচনে পায়ের সামনের অংশ মাটি ছেড়ে উপরে উঠে। পরক্ষণে সাইসেপস ফিমােরিস পেশির সংকোচনে পা মাটি থেকে উপরে উঠে আসে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়া একবার ডান পা ও একবার বাম পায়ে চলতে থাকে ফলে মানুষ সামনের দিকে হেঁটে এগিয়ে যায়। গমনের সময় হাত দুটি পর্যায়ক্রমে সামনে ও পিছনে আন্দোলন হয়। বাম পা-এর সঙ্গে ডান হাত এবং ডান পা-এর সঙ্গে বাম হাত অগ্রসর হয়। ফলে ডাটার সময় দেহের ভারসাম্য বজায় থাকে। দৌড়ানাের সময় সমগ্র প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
দেহের ভারসাম্য রক্ষা : হাটার সময় লঘুমস্তিস্ক এবং অন্তকনে অবস্থিত অর্ধচন্দ্রাকার নালি (3টি) অটোলিথ সমগ্র বা ভেস্টিবিউল দেহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

 

মানব চক্ষুর যেকোনাে ৫টি অংশের কাজ লেখাে।
ANS-
i) স্কেরা, ii) কোরয়েড, iii) রেটিনা, iv) কেরনিয়া, v) তারাবন্দ্র, vi) লেন্স।

i) স্কেরা : চোখের সবচেয়ে বাইরের তন্তুময় স্তর। অক্ষিগােলকের পিছনের স্তরকে রক্ষা করা এর কাজ।

ii)কোরয়েড : অক্ষিগােলকের মধ্যভাগে এবং পিছনে অবস্থিত। রেটিনাকে রক্ষা করা এবং বিচ্ছুরিত আলাের প্রতিফলনবােধ করা কাজ।

iii) রেটিনা : অক্ষিগােলকের ভিতরের পশ্চাদভাগে অবস্থিত। আলোেক প্রতিসারক মাধ্যম হিসাবে কাজ করে।


iv) কেরনিয়া : অক্ষিগােলকের বাইরের আবরণের সামনের দিকে অবস্থিত। আলাের প্রতিসারক মাধ্যম হিসাবে কাজ করে।

v) তারারন্ধ্র : আইরিশের কেন্দ্রে অবস্থিত। চোখে আলােক রশ্মি প্রবেশ নিয়ন্ত্রন করে।

vi) লেন্স : আইরিশের পিছনে অবস্থিত স্বচ্ছ, উভউত্তল স্থিতিস্থাপক প্রায় বৃত্তাকার গঠন যা আলাের প্রতিসরণে এবং আলােক রশ্মিকে রেটিনার উপর কেন্দ্রীভুত করে।

 

দর্শনের পদ্ধতিটি সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
ANS-
আমরা যে বস্তুটি দেখি তা থেকে আলােকরশ্মী প্রথমে কনিয়াতে প্রতিসৃত হয়। কর্ণিয়া থেকে আলােক রশ্মি অ্যাকুয়াস হিউমারের মধ্য দিয়ে লেন্সে আবর্তিত হয় এবং প্রতিসারিত হয়ে ভিট্রিয়াস হিউমরের মধ্য দিয়ে রেটিনাতে আপাতত হয়। রেটিনায় অবস্থিত রড ও কোন কোশ থাকাই আলােক সুবেদি হয় তাই বস্তুর উলটো প্রতিবিম্ব। তৈরী হয়। এই অনুভূতি অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে গুরুমস্তিস্কের দর্শন কেন্দ্রে যায় এবং মস্তিস্কের বিশেষ ক্ষমতা বলে উলটো প্রতিবিম্ব আমরা সােজা দেখতে পায়।


মাছের গমনকে কী বলে ? ভাছের গমনে সাহায্যকারী অঙ্গের নাম লেখাে। | মাছের গমনের পদ্ধতি সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
ANS-
মাছের গমন পদ্ধতিকে সন্তরণ (Swimming) বলে। মাছের গমনে পাখনা, পটকা এবং মায়ােটাম পেশি সাহায্য করে।
মাছের গমন পদ্ধতি :মাছ মুখ্য জলজ প্রাণী, সন্তরণ পদ্ধতিতে মাছ গমন করে। | মাছের গমনের সময় মায়ােটম পেশি, পাখনা এবং পটকা মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
মাছের দেহের মেরুদণ্ডের দুপাশে আকৃতির মায়ােটম পেশি থাকে। মায়ােটম পেশি থাকে। মায়ােটম পেশি ডানদিকে সংকুচিত হলে মাছের দেহ ডানদিকে বেঁচে যায়। আবার এই পেশি বামদিকে সংকুচিত হলে দেহ বামদিকে বেঁকে যায়। এইভাবে মায়ােটম পেশির সংকোচন ও প্রসারনে মাছের দেহ আন্দোলিত হয়। এই আন্দোলন সামনের অংশ থেকে পিছনের অংশে অগ্রসর হয় ফলে মাছ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
মাছের গমনের সময় বক্ষপাখনা ও শ্রেণিপাখনা মাছকে জলে ওঠানামা করতে | এবং মাছকে ঘীরভাবে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। পুচ্ছপাখনা গমনের সময় মাছের পরিবর্তনে সাহায্য করে। পুচ্ছ পাখনা ডানদিকে বাঁকা হলে মাছ বামদিকে এবং ভপাখনা বামদিকে বাঁকা হলে মাছ ডানদিকে ঘােরে। গমনের সময় মাছের পটকা ছকে জলে ডুবতে ও ভাসতে সাহায্য করে।

মানুষের গমনে সচল বা সাইনােভিয়াল অস্থিসন্ধি এবং কঙ্কাল পেশীর ভূমিকা লেখাে।
ANS-
সচল বা সাইনােভিয়াল অস্থিসন্ধি : দুই বা ততােধিক অস্থির সংযােগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে। যে অস্থিসন্ধি বিচলন করতে পারে তাকে সচল অস্থিসন্ধি বা সাইনােভিয়াল অস্থিসন্ধি বলে। এই অস্থিসন্ধি সাইনােভিয়াল পদা দ্বারা আবৃত এবং এই অস্থিসন্ধিতে একটি তরল থাকে যা সাইনােভিয়াল তরল নামে পরিচিত। ইহা অস্থিকে ঘর্ষন জনিত আঘাত রােধ করে।

উদাহরণ মানুষের দেহে সচল অস্থিসন্ধি হলাে :

কবজা সন্ধি : ইহা হাঁটু ও কনুইতে থাকে। এইপ্রকার সন্ধি কবজার মতাে একদিকে সঞ্চালিত হয়। বিপরীতদিকে সালিত হতে পারে না।
বল ও সকেট সন্ধি : ইহা কঁাধে, কোমরে প্রভৃতি স্থানে থাকে। একটি অস্থির | গােলাকার বলের মতাে অংশ অন্য অস্থির কাপের মতাে অংশে যুক্ত থাকে। এইপ্রকার সন্ধি বিভিন্ন দিকে সালিত হয়।
কঙ্কালপেশী ইহা বিভিন্ন প্রকারের হয় –
ফ্লেক্সর পেশী : অস্থি ভাজ হতে সাহায্য করে। যেমন : বাইসেপস

এক্সটেনশন পেশী : ভাঁজ করা অস্তিকে দুরে সরাতে সাহায্য করে। যেমন : ট্রাইসেপস পেশি।


অ্যাবডাকশন পেশী : এই পেশি অঙ্গকে দেহ থেকে দুরে যেতে সাহায্য করে। যেমন : গ্লুটিয়াস মিডিয়াম পেশী।

অ্যাডাকশন পেশী : এই পেশী অঙ্গকে দেহের কাছে আসতে সাহায্য করে। যেমন : অ্যাডাক্টর ম্যাগনাস পাক দেহের কাছে নিয়ে আসে।

রােটেশন : অস্থির আবর্তনে সাহায্য করে। যেমন : পায়রিফরমিস।

মুখ্য উদ্ভিদ হরমােনগুলির উৎসস্থল উল্লেখ করাে।
ANS-
উৎসস্থল :
i) অক্সিন হরমােন : উদ্ভিদের ভাজক কলার কোশে বিশেষ করে কাণ্ডের বা মূলের অগ্রভাগে ভুণ ও কচিপাতার কোশে অক্সিন হরমােন উৎপন্ন হয়।।
ii) জিব্বেরেলিন হরমােন : পরিপক্ক বীজে, অঙ্কুরিত চারাগাছে, বীজের বীজপত্রে উৎপন্ন হয়।
iii) সাইটোকাইনিন হরমােন : সস্য ও ফলে এই হরমােন উৎপন্ন হয়।


প্রতিবর্ত ক্রিয়া কীভাবে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে সাহায্য করে — দুটি উদাহরণের সাহায্যে তা বুঝিয়ে দাও।
ANS-
বিজ্ঞানী শেরিংটন (Sherrington – 1789) প্রতিবর্ত ক্রিয়ার যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা হলাে— “সুষুম্নাকাণ্ড থেকে উদ্ভূত সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনাজাত অনৈচ্ছিক সাড়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।”
উদাহরণ :
i) চোখে আলাে পড়লে চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
ii) গরম বস্তুতে হাত দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাত সরে যাওয়া।


প্রতিবর্ত ক্রিয়া দুই প্রকারের :
i) সহজাত বা শর্তনিরপেক্ষ।
ii) অর্জিত বা শর্তসাপেক্ষ।

প্রতিবর্ত ক্রিয়ার ব্যাখ্যা : হঠাৎ পায়ে কাঁটা বিঁধে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পা মাটি থেকে উপরে উঠে আসে। এখানে পায়ের চামড়াতে উপস্থিত গ্রাহক প্রথমে স্নায়ু অনুভূতি (কাটা বিধে যাওয়া) গ্রহণ করে এবং অন্তর্বাহী স্নায়ু দিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (অর্থাৎ মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে) পাঠায়। এখানে সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা চেষ্টীয় উদ্দীপনায় রূপান্তরিত হয় এবং বহির্বাহী স্নায়ু দিয়ে পায়ের পেশিতে পৌছায়। পায়ের পেশি কারকের কাজ করে এবং উদ্দীপিত হয়। ফলে পায়ের পেশি সংকুচিত হয় এবং পা মাটি থেকে তৎক্ষণাৎ উপরে উঠে আসে।

 

একটি নিউরােনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করাে।
ANS-

সরল প্রতিবর্ত চাপের চিত্র অঙ্কন করে বিভিন্ন অংশগুলি চিহ্নিত করাে।
ANS-

 

WEST BENGAL BOARD Related Links

Shopping Cart
Open chat