fbpx

Skillyogi – Video Lectures In English & Bangla

Shirajuddoula সিরাজউদ্দৌলা

Bangla Natok Subject WBBSE Madhyamik Class 10

Here you will learn the basics of  সিরাজউদ্দৌলা (Shirajuddoula) in a simple language it is for Bengali medium students who are studying under West Bengal Board of Secondary Education and preparing for their Madhyamik exam (Class 10 WBBSE) Here you will find all necessary and important WBBSE Madhyamik Suggestions, notes, solved sample question paper in Bangla along with video lectures from expert teachers

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে  আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে 
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  •  তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  •  চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

এখানে আপনি Basic Terms, Definitions, Solved Short, Long Answers & Questions and MCQ's নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে পেয়ে যাবেন

সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারিহয়েছে করা হয়েছে সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

বাংলা বিষয়- পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা পরিষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য এটা সাহায্য কর হবে এখানে আমরা আপনাকে এক Marks er MCQ  এবং Suggestion পেয়ে যাবেন যেটা আপনাকে সাহায্য করবে কম সময়ের মধ্যে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে এবং ভালো মাল আনতে নিজের মাধ্যমিক পরীক্ষা

VIDEO LECTURES BY EXPERT TEACHERS FOR EASY LEARNING

FOUNDATION - BASICS OF THE CHAPTER

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

SHORT QUESTIONS ANSWER - 3/4 MARKS

LONG QUESTIONS ANSWER - 5/6 MARKS

Definition, Important Terms, Explanation in Simple Words for Fast Learning

update

 

MCQ SHort Questions (1 Marks)

update

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Short Answers & Questions (3-4 Marks)

update

 

ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Long Answers & Questions (5-6 Marks)

  • “বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আপনাদের শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে সবরকমে আমাকে সাহায্য করুন”— কাদের কাছে সিরাজ , কী সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন?

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা “সিরাজদ্দৌল্লা’ শীর্ষক নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা উক্ত সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন জগৎশেঠ, মিরজাফর, রাজবল্লভ প্রমুখের কাছে। 

নবাব সিরাজদৌল্লার বিরােধী ছিলেন জগৎশেঠ ও মীরজাফর। তাঁরা মনে করতেন যে নবাব তাঁদের অপমান করেছেন। অন্যদিকে নবাব বুঝতে পেরেছিলেন তারা তার বিরুদ্ধে এক ঘােরতর চক্রান্তে লিপ্ত। নবাবের বিরুদ্ধে মিরজাফরকে লেখা ওয়াটস-এর চিঠিটাই ছিল তার প্রমাণ। সেখানে লেখা। ছিল—“নবাবের ওপর নির্ভর করা অসম্ভব। চন্দননগর আক্রমণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।” | এইসব ঘটনা সত্ত্বেও নবাব সিরাজ দেশের জন্য সমস্ত পুরনাে বিবাদ ভুলে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি মনে করেছিলেন দেশের দুর্দিনে ঐক্যবদ্ধ থাকাটাই বেশি জরুরি। তাই বাংলার দুর্দিনে কেউ যেন তাঁকে ত্যাগ না করে। তাই সিরাজ কাতর অনুরােধ করেছিলেন এবং বাংলার মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে শক্তি ও বুদ্ধি দিয়েও সকলকে তাঁর পাশে থাকতে বলেন। সকলের একজোট বা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াইটাই তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন। 

  • পাঠ্য নাট্যাংশে সিরাজদ্দৌলার চরিত্রটি আলােচনা করাে। 

পাঠ্য নাট্যাংশে কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজদ্দৌলা। 

কর্তব্যকর্মেকঠোর-কোমলে অবস্থান : আসলেনবাব সিরাজদ্দৌলা কর্তব্যকর্মে কঠোর-কোমলে অবস্থান করে মানুষকে পাশে নিয়ে চলতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি সভাসদদের উদ্দেশে বলেছেন—“বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আপনাদের শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে সবরকমে আমাকে সাহায্য করুন।” তবে সিরাজের এই আহ্বান খুব একটা সফল হয়নি। 

দেশপ্রেমী : নবাবের গভীর দেশপ্রেম এই নাট্যাংশে ফুটে উঠেছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতা দুর্গকে নিজেদের অধিকারে নিয়ে নিতে চাইলে নবাব তা জানার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা জয় করে নগতে বিরুদ্ধে থাকা ষড়যন্ত্রকারী সভাসদদের এ পরম তা জয় করে নগরের নাম দিয়েছেন আলিনগর। এছাড়া নবাবের সডয়ন্ত্রকারী সভাসদদের ওপর নিজের বিচারের ভার দেওয়া, কাউকে আত্মীয় বলে ডাকা, বাংলাকে হিন্দু ও মুসলমানের মাতৃভূমি রূপে তুলে ধরা এসবই নবাবের দেশপ্রেমের পরিচয় বহন করে। 

আত্মসমালােচনা : নবাব ছিলেন আত্মসমালােচক। সভাসদদের কাছে তাই নিজের অপরাধ অকপটে স্বীকার করে বলেছিলেন—“আপনাদের সকলের সমবেত চেষ্টার ফলে যদি এ বিপদ থেকে আমরা পরিত্রাণ পাই, তাহলে একদিন আপনারা আমার বিচারে বসবেন। সেদিন যে দণ্ড আপনারা দেবেন আমি মাথা পেতে নেব।” 

সংবেদনশীল : নবাব ছিলেন সংবেদনশীল মানুষ। পরের ব্যথায় সমব্যথী হন বলেই কঠোর হতে পারেন না। সভাসদদের আত্মীয় বলে ভাবেন ও ঘসেটি বেগমকে মা বলে সম্বােধন করেন।

বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও সত্যপ্রকাশে দৃঢ় : নবাব ছিলেন বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও সত্যপ্রকাশে দৃঢ় মনের অধিকারী মানুষ। তাই তাে তিনি গােপনে হস্তগত করেছিলেন অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের পত্র, ষড়যন্ত্রকারী কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে লেখা পত্র সম্পর্কে কথা বলে তাতে ইংরেজ যােগসাজশের দিকটি ব্যক্ত করেছিলেন। 

আলােচ্য পাঠ্যাংশে সিরাজদ্দৌলার চরিত্রটি এভাবেই আমাদের সামনে ফুটে উঠেছে। 

  1.  “জানি না আজ কার রক্ত সে চায়। পলাশি! রাক্ষসী পলাশি”—এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে বক্তার যে মানসিকভাবনা ফুটে উঠেছে তা আলােচনা করাে। 

নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের সিরাজদ্দৌল্লা নাট্যাংশে প্রশ্নোস্তৃত উক্তিটি নবাব সিরাজের। এক প্রচণ্ড মানসিক কষ্ট  নিয়ে বিধ্বস্ত অবস্থায় নাট্যাংশের শেষে লুৎফার কাছে তিনি বেদনার্ত উক্তিটি করেছেন। 

নাট্যাংশে সিরাজের চরিত্রটি একটি অতীব ট্র্যাজিক চরিত্র। তিনি নিজে সচক্ষে আসন্ন বিনাশ প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু সিরাজের পক্ষে সেই মর্মান্তিক পরিণতিকে এড়ানাে সম্ভব হয়নি। প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটিতে এই হতাশার প্রতিফলন ঘটেছে । তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বাংলাকে রক্ষা করতে তাকে প্রচুর রক্ত ঝরাতে হবে। তাই তিনি বলেন 

“…এই পনেরাে মাসে আমার এমনি অভিজ্ঞতা হয়েছে, মানুষের এমন নির্মিত পরিচয় আমি পেয়েছি যে, কোন মানুষকে শ্রদ্ধাও করতে পারি না, ভালোও বাসতে পারি না।” 

পলাশির প্রান্তরে যেখানে এককালে পলাশ ফুল রাঙিয়ে তুলত দিগন্ত, সেখানে আসন পলাশির যুদ্ধ রক্তের দ্বারা লাল করে তুলবে। তাই প্রায় পনেরাে মাসের ক্ষতবিক্ষত নবাবকে পলাশি সম্পর্কে ধারণা দিতে এমন আতঙ্কিত আর্তনাদ করেছেন। 

 

  • “বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়—মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি এই গুলবাগ বাংলা”—কাদের উদ্দেশ্য করে একথা বলা হয়েছে? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে? 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজদ্দৌল্লা’নাট্যাংশেনবাব সিরাজদ্দৌল্লা জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, প্রমুখের উদ্দেশে আলােচ্য উক্তিটি করেছেন। 

এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে নাট্যাংশে বক্তার নিম্নলিখিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি ফুটে উঠতে দেখা যায়— 

ঐক্যবােধ : নিজেরা পারস্পরিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে কোম্পানির কাছে বাংলা দখল করাটা সহজ হয়ে যাবে। সেই কারণেই ধর্মকে দূরে সরিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে—এটা উপলব্ধি করেছিলেন সিরাজ। 

উদারনৈতিক মানসিকতা : নবাব যখন জানতে পারেন যে বিত্ত ও ক্ষমতাবানদের আলাদা একটা দল তাঁর রাজসভার মধ্যেই গড়ে ওঠেছে তখন তিনি এই বিভাজন থেকে রাজবল্লভ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখকে বিরত থাকতে আহ্বান জানান। 

অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ : মিরজাফর আলিকে উদ্দেশ্য করে নবাব যে বক্তব্য প্রকাশ করেছেন, তার মধ্যে নবাবের উদার ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ প্রতিফলিত হয়েছে। 

সম্প্রীতির বার্তাবাহক : হিন্দু-মুসলমান দুটি জাতির প্রজারা যাতে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করতে পারে তারই চেষ্টা করেছিলেন নবাব সিরাজদ্দৌলা। 

  • মনে হয় ওর নিঃশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গসঞ্চালনে ভূমিকম্প”—  এই মন্তব্য কে, কার সম্পর্কে করেছে। তার সম্পর্কে বক্তার  এরূপ মন্তব্যের কারণ কী? 

নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌল্লা’ নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম সম্পর্কে সিরাজের পত্নী লুফা এই মন্তব্য করেছেন। 

ঘসেটির বােন আমিনার পুত্র সিরাজ নবাব হলেন আর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে মাসি ঘসেটিকে তিনি নজরবন্দি করলেন। এতে ঘসেটি বেগম প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে পদে পদে সিরাজকে কটুভাষণ ও অত প্রাসাদ মতিঝিলে থাকতে দেন চকে কটুভাষণ ও অপদস্থ করতে থাকলেন। ঘসেটিকে নবাব তার নিজের দলে থাকতে দেননি। এইজন্য তিনি প্রকাশ্যেই নবাবকে ‘দুস্যু’ বলেন। নবাবের সামনেই তাঁকে অকালমৃত্যুর অভিশাপও দেন। তিনি বলেন—“চোখের =নবার পথ দেখতে পাবেন না। বেগমকে আজীবন আমারই মতাে কেঁদে কাটাতে বে।” নবাব সিরাজ ও তার স্ত্রী লুঙ্কার অনেক অনুনয়-বিনয় সত্ত্বেও ঘসেটি কিছুতেই প্রতিহিংসাপরায়ণতা থেকে সরে আসেননি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঘসেটিকে বিষাক্ত ও অশুভ মনে করে লুৎফা প্রশ্নে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেন। 

  • “বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা”— কোন কারণে বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে এসেছিল? অথবা, “জাতির সৌভাগ্য-সূর্য আজ অস্তাচলগামী”—বক্তা কে? এই বক্তব্যের তাৎপর্য ব্র্যাখ্যা করাে। অথবা, “জাতির সৌভাগ্য-সূর্য আজ অস্তাচলগামী”—কোন জাতির কথা বলা হয়েছে? জাতির সৌভাগ্য-সূর্য অস্তাচলগামী কেন? 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌল্লা’ নাটকে বাংলার চরম দুর্দিনে একথা বলেছেন নবাব সিরাজদ্দৌলা। এখানে জাতি বলতে বাঙালি জাতিকে বােঝানাে হয়েছে। নবাবের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, ঘসেটি বেগম প্রমুখ ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছেন । সকলে বাংলার সিংহাসন দখলের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।

সিরাজদ্দৌলা মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেছেন নবাব আলিবর্দি খাঁ-র মৃত্যুর পর। ইংরেজরা সিরাজের পনেরাে মাসের শাসনে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ শক্তি শাসনক্ষমতা দখলে প্রয়াস চালায়। জাতির স্বাধীনতা, প্রজাদের নিরাপত্তা ও বাংলার কল্যাণসাধনকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। একাজে তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র ভেদও করেছেন। কিন্তু ইংরেজদের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে। ইংরেজ কোম্পানি নবাবের অনুগত ফরাসি বণিকদের বাণিজ্য স্থলগুলি একে একে আক্রমণ ও দখল করে তখন মুর্শিদাবাদের দিকে অগ্রসর হয়। নিরুপায় নবাব তখনও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন বাংলা তথা জাতির স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য। আর এমন পরিস্থিতিতেই দিষ্ট অসহায় নবাব সিরাজদ্দৌল্লার উপলব্বি—“জাতির সৌভাগ্য-সূর্য আজ অস্তাচলগামী।” 

  • “কে বেশি অপরাধী তা তিনি নিজেই বিচার করবেন”—কে, কাকে এক বলেছেন? উক্তিটির তাৎপর্য লেখাে। অথবা, “আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন”—কে, কাকে উদ্দেশ্য করে এক বলেছেন? এই বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা লেখাে। অথবা, অন্যায় আমিও করেছি, আপনারাও করেছেন”—কে, কাকে এক বলেছেন? এই বক্তব্যের কারণ লেখাে। 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজদ্দৌল্লা’ নাটকে নবাব সিরাজদৌলা তারই সেনাপতি মিরজাফরকে উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন। 

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদৌলা এক প্রজাহিতৈষী, উদার ও দেশপ্রেমিক নবাব হিসেবে পরিচিত। মিরজাফর, ঘসেটি বেগম, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখ নবাবের ভালাে মানসিকতার সুযােগে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। নবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ  ঘােষণাকারী ওয়াটসকে জাফর আলি বন্ধু বলে ঘােষণা করেন। নবাবের হাতে অ্যাডমিরাল ওয়াটসনের গােপন চিঠি এসে পৌঁছায়। এই খবর মিরজাফরের কানে পৌঁছালে মিরজাফর নবাবকে প্রশ্ন করেন, নবাব কী প্রকাশ্যে তাকে শাস্তি দিতে চান? তদুত্তরে নবাব ক্ষমাপরায়ণ দৃষ্টি নিয়ে বলেন, “আজ বিচারের দিন নয়, সৌহাদ্য স্থাপনের দিন।” 

  • “ঘসেটির বন্ধন মােচন হবে, সিরাজের পতন হবে, সুদিন নয়।” বক্তা কে? এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বক্তার কোন মনােভাব ফুটে উঠেছে তা আলােচনা করাে। অথবা, সিরাজদ্দৌল্লা’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ঘসেটি বেগমের চরিত্র বর্ণনা করাে। অথবা, ‘সিরাজদ্দৌল্লা’ নাট্যাংশে ঘসেটি বেগম স্বার্থান্বেষী, প্রতিহিংসাপরায়ণ, যুগােপযােগী এক বাস্তব নারী।” এই মন্তব্যের আলােকে ঘসেটি বেগমের চরিত্র বিশ্লেষণ করাে। অথবা, “আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই—আছে শুধু প্রতিহিংসা।” উক্তিটির আলােকে বক্তার চরিত্র বিশ্লেষণ করাে।

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজদ্দৌলা নাটকটি পলাশির যুদ্ধের ঐতিহাসিক ঘটনাকে সামনে রেখে রচিত হয়েছে। নাট্যকার বিশেষ কিছু চরিত্রের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সত্যকে হুবহু রক্ষা করেছেন। এই চরিত্রগুলির মধ্যে অন্যতম চরিত্র হলাে “ঘসেটি বেগম। তার চরিত্রের যে দিকগুলি পাঠ্যাংশে দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেগুলি হলাে—  

ষড়যন্ত্রকারী : ঘসেটি বেগম সম্পর্কে সিরাজের মাসি। তিনি চেয়েছিলেন পিতা আলিবর্দির মৃত্যুর পরে তার স্বামী বাংলার মসনদে বসুন। কিন্তু তাঁর স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু হলে সিরাজের সিংহাসনে লাভ একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে ওঠে। নিজের মনােবাসনা জসটি সিরাজের প্রতি ঈর্ষা থেকে ইংরেজদের সাথে মিলিত হয়ে ষড়যন্ত্রে পূর্ণ না হওয়ায় ঘসেটি সিরাজের প্রতি লিপ্ত হন। 

প্রতিহিংসাপরায়ণ : ঘসেটি সিরাজের বিরুদ্ধে নানা অভিযােগ ও অভিসম্পাত চন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে সিরাজ ঘসেটিকে গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন। তাতে ঘসেটি আরও প্রতিহিংসাপরায়ণা হয়ে ওঠেন। ঘসেটির মুখেই সেই প্রতিহিংসার কথা প্রকাশ পায়—“আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই—আছে শুধু প্রতিহিংসা। এই প্রতিহিংসা তার পূর্ণ হবে সেদিন যেদিন সিরাজের প্রাসাদ অপর জন অধিকার করবে এবং সিরাজকে হত্যা করবে। 

অমানবিক আচরণ : ঘসেটিকে সিরাজের মনে হয়েছে দানবী। ঘসেটির সঙ্গে থাকতে লুফারও ভয় হয়—“মনে হয়, ওর নিশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গ-সঞ্চালনে ভূমিকম্প।” নবাবের সকল চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রধান বিদ্রোহিনী ঘসেটি বেগম। 

স্বার্থপরতা : নারীর কোনাে গুণ-বৈশিষ্ট্য ঘসেটির মধ্যে খুঁজে পাওয়া না যাওয়ায় তিনি মানবী না হয়ে হয়েছেন দানবী। সিরাজ তাকে মায়ের সম্মান দিলেও ঘসেটির মধ্যে কিন্তু মায়ের স্নেহ ছিল না, ছিল তীব্র প্রতিহিংসার দহন জ্বালা। নাটকে এক কুচক্রী, স্বার্থান্বেষী, প্রতিহিংসাপরায়ণ কূট নারী হিসাবেই ঘসেটির উপস্থিতি। 

 

  • “আমার এই অক্ষমতার জন্য তােমরা আমাকে ক্ষমা করাে।” কে, কেন এই ১৫ মন্তব্য করেছেন? যাকে উদ্দেশ্য করে একথা বলা তার মধ্যে এই মন্তব্যের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে? 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত “সিরাজদ্দৌলা’ শীর্ষক নাট্যাংশে প্রশ্নে উদ্ধৃত কথাটি সিরাজ ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন।

মন্তব্যটি করার কারণ : ইংরেজরা ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগর অধিকার করে মসিয়ে লা সিরাজের রাজসভায় আসেন নিলে নবাবের সাহায্য পাওয়ার আশায় । নবাব সিরাজ ফরাসিদের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতিশীল হলেও জানান যে কলকাতা জয় করতে গিয়ে এবং পূর্ণিয়ার শওকত জঙ্গের সঙ্গে লড়াই-এর কারণে তাঁর বহু লােকক্ষয় ও অর্থব্যয়ও হয়েছিল। তাঁর মন্ত্রীমণ্ডলও নতুন যুদ্ধের পক্ষপাতী নন। এই অবস্থায় সহানুভূ তি থাকলেও ফরাসিদের সাহায্য করা সম্ভব নয় জানিয়ে সিরাজ বলেন, “আমার এই অক্ষমতার জন্য তােমরা আমাকে ক্ষমা করাে।” 

মন্তব্যের ফলে প্রতিক্রিয়া : সিরাজের এই কথার উত্তরে সঁসিয়ে লা বলেছেন মাজের সমস্যার কথা বুঝতে পেরে নবাবের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। নজেদের অবস্থাও তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে। ভালােবাসার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া কে তার ভাবী বিপদ। যে চাপা আগুন জ্বলে ছাড়া আর তাঁদের কোনাে উপায় নেই। একই সাথে তিনি নবাবকে তার ভা সম্পর্কেও সচেতন করে দেন এবং জানান—“…On our departure from th; the smothered flame will burst forth and will destroy your kingdon” people.” অর্থাৎ তাঁরা বাংলা ছেড়ে চলে যাওযার সাথে সাথেই যে চাপা আগ উঠবে তাতে নবাবের সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে। 

  • “আপনাদের কাছে আমার এই ভিক্ষা যে আমাকে শুধু আশ্বাস দিন”কা কাছে বক্তা এই ভিক্ষা চান? তিনি কী আশ্বাস প্রত্যাশা করেছিলেন? 

বিখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশের অন্যতম চরিত্র সিরাজ তাঁর বিরুদ্ধপক্ষ মিরজাফর, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভঁদের কাছে ভিক্ষা চেয়েছেন। সিরাজের প্রত্যাশা করা আশ্বাস : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি ধীরে ধীরে সমগ্র বাংলা দখলের উদ্দেশ্যে বিস্তৃত হচ্ছিল। নবাব সিরাজ ওই সত্যটি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন এবং বুঝেছিলেন তারই অধীনস্ত কিছু কর্মচারী ও সভাসদ এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কোম্পানির মদতে তারা ক্ষমতা দখলে উদগ্রীব হয়ে ওঠে। 

কিছু নবাব মনেপ্রাণে চাইতেন বাংলার স্বাধীনতা যেন অটুট থাকে। আর সেইজন্য সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বদেশ রক্ষায় সচেষ্ট হতে হবে, এই ছিল নবাবের ইচ্ছা। মীরাজাফর ও বাকি কিছু সভাসদ তাঁকে ত্যাগ করলেও এই সংগতি বিনষ্ট হবে বলে সিরাজ মনে করেছিলেন। এই বিবেক ও বুদ্ধি তাঁর সভার বাকি সদস্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে বলেও হয়তাে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। 

তাই সমস্ত ভুল বােঝাবুঝি মিটিয়ে নিয়ে সবার উদ্দেশ্য বলেন—“বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আপনাদের শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে সবরকমে আমাকে সাহায্য করুন।” এছাড়াও তিনি বলেন, তিনি দোষ করে থাকলে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। এইজন্য সিরাজ মিরজাফর ও অন্যান্য সদস্যকে চলে যেতে বারণ করেন। 

বাংলার এই আসন্ন দুর্দিনে তাঁরা নবাবকে ছেড়ে চলে গেলে নবাব আরও অসহায় হয়ে পড়বেন। এইজন্য নবাব তাঁদের মুখে ফিরে না যাওয়ার আশ্বাসবাণীটি শােনার জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। 

 

  • “তাঁর আদেশে হাসিমুখেই মৃত্যুকে বরণ করব।”—এখানে কার আদেশের কথা বলা হয়েছে? এই উক্তির আলােকে বক্তার চরিত্রটির ওপর আলােকপাত করাে। 

বিশিষ্ট নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে মিরমদন মিরজাফরের আদেশকেই মান্য করার কথা বলেছেন। 

সিরাজের অন্যতম বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন মিরমদন। তাঁর। চরিত্রের বৈশিষ্ট্যগুলি হলাে— 

জাবােধ : বিপদের দিনে নবাবের বেদনাবােধের সঙ্গে সহমর্মী হয়ে তিনি জীবনপণ লড়াইয়ের শপথ গ্রহণ করেছেন। 

আনুগত্যবােধ : মিরজাফর যখন সর্বসময়ে সর্বক্ষেত্রে নবাবকে সাহায্য করার সতশ্রতি দিয়েছেন, তখন যাবতীয় সন্দেহ সত্ত্বেও মিরমদন তাকে মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

আদর্শ সেনা : মীরজাফরের আদেশে তিনি মৃত্যুবরণ করতেও যে রাজি তা জানিয়ে দিয়েছেন। আসলে একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে মিরমদনের কাছে। দেশ সবথেকে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। 

  • তােমাদের কাছে আমি লজ্জিত” — কে, কাকে একথা বলেছেন? বক্তা লজ্জা প্রকাশ করেছেন কেন? 

শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে সিরাজউদ্দৌলার ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন। 

খুবই শান্ত, নিরীহ প্রকৃতির মানুষ বলে ফরাসিরা পরিচিত ছিল। তাদের ব্যবসা কেন্দ্র ছিল চন্দননগর। 

কিন্তু নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী ইংরেজরা নবাবের অনুমতি নিয়ে নবাবের রাজ্যের মধ্যে থাকা চন্দননগর আক্রমণ করে এবং দখল করে নেয়।

ফরাসি প্রতিনিধি মসিয়ে লা এই আক্রমণের প্রতিবাদ জানিয়ে নবাবের সাহায্য প্রার্থনা করেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন যুদ্ধের ফলে নবাবের লোকবল, অর্থ বল এতই কমে গিয়েছিল যে ফরাসিদের হয়ে ইংরেজদের প্রতিহত করার ক্ষমতা তার ছিল না।

তাই তিনি নিরুপায় হয়ে ফরাসিদের কাছে লজ্জিত বলে জানিয়েছেন। 

  •  “আমরা নবাবের নিমক বৃথাই খাই না, একথা তাঁদের মনে রাখা উচিত” —  কে, কাকে একথা বলেছেন? মন্তব্যটির প্রেক্ষাপট আলােচনা করাে। 

বিখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের লেখা ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরমদন একথা বলেছেন। 

ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। 

সিরাজের উচ্চপদস্থ কর্মচারীরা তার সঙ্গে গোপন সমঝোতায় যোগ দিয়েছে । এ সংবাদ নবাব জানতে পেরে ইংরেজ প্রতিনিধি ওয়াটসনকে রাজসভা থেকে বিতাড়িত করেন। 

এতে জগৎশেঠ, মীরজাফর অভিযোগ করেন। রাজবল্লভ নবাব এর বিরোধিতা করেন। তখন নবাবের বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর মদন ও মোহনলাল সিরাজের পাশে দাঁড়ান। 

মীর মদন মীর জাফরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন। নবাবের কাজের সমালোচনা সব সময় শোভন নয়, একথা মীরজাফরকে মনে করিয়ে দেন মীরমদন।

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

  • all replace

WEST BENGAL BOARD Related Links

Shopping Cart
Open chat