ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ : রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত Class 9 WBBSE Notes

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

জাতীয়তাবাদ বিষয়ক ধারণা

ঐক্যতার সাথে দেশপ্রেম মিললে যে অনুভুতি মানুষ অনুভব করে, তাকে এককথায় জাতীয়তাবাদ বলে যেখানে বংশ, ধর্ম, ভাষা, ভৌগলিক এলাকা, সংস্কৃতি প্রভৃতি মানুষের মধ্যে একই ঐক্যবোধের সৃষ্টি করে। এই জাতীয়তাবাদের বহিঃপ্রকাশ হল জাতি-রাষ্ট্র।

জাতি ও রাষ্ট্র

  • জাতি হল রাজনৈতিক চেতনাসম্পন্ন সংস্কৃতি এবং জাতীয়তাবাদ দ্বারা রাষ্ট্র গঠনে ইছুক জনগোষ্ঠী।
  • নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনসমষ্টির ওপর সরকারী নিয়ম দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান হল রাষ্ট্র।
  • অ্যারিস্টটলের মতে, স্বাবলম্বী ও পরিপূর্ণ জীবন যাপনে সংগঠিত কয়েকটি পরিবার ও গ্রামের গোষ্ঠী কে বলে রাষ্ট।
  • কার্ল মার্ক্স-এর মতে রাষ্ট্র হল বুর্জয়াদের দমন পীড়নের যন্ত্র।

জাতি-রাষ্ট্রের ধারণা

  • ভাষা, বর্ণ, ধর্ম বা ঐতিহ্যের ভিত্তিতে গড়ে  ওঠে একটি সাংস্কৃতিক  ঐক্য। ঐক্যবদ্ধ জাতি যখন সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তুলে রাজনৈতিক ঐক্য স্থাপন করে।
  • ইউরোপে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ফ্রান্সকে কেন্দ্র করে এবং ঊনবিংশ শতাব্দীতে জার্মানি, ইটালি প্রভৃতি অঞ্চলে জাতি-রাষ্ট্র গঠনের কাজ শুরু হয়।
  • উনবিংশ শতাব্দীর অবসানের আগেই সমস্ত ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে জাতি-রাষ্ট্র গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা।

রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার দ্বন্দ্ব

রাজতান্ত্রিক ভাবধারা :

  • রাজতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত আদর্শবোধ, চিন্তা, ক্রিয়াশীলতা রাজতান্ত্রিক ভাবধারা নামে পরিচিত।
  • এই ভাবধারার মধ্যে ঐশ্বরিক মতবাদ, বংশানুক্রমিতা, সর্বময় ক্ষমতার আদর্শ, স্বাধীন চিন্তা, উদারনীতি লক্ষ করা যায়না।
  • রাজতান্ত্রিক ভাবধারা রক্ষণশীল ও পুরাতনপন্থী ধারণা হিসেবে পরিগনিত হত।

জাতীয়তাবাদী ভাবধারা :

  • জাতীয়তাবোধে উদবুদ্ধ সামাগ্রিক চিন্তাধারা জাতীয়তাবাদী ভাবধারা হিসেবে পরিচিত।
  • এর মধ্যে উদারতন্ত্র, গনতন্ত্র, যুক্তিবাদ, প্রজাকল্যান, প্রজাদের দ্বারা শাসক নির্বাচন ও পদচ্যুতি, দেশপ্রেম লক্ষ করা যায় যা রাজতান্ত্রিক ধারণার থেকে আলাদা।
  • থিয়ার্স, লা মার্তিন, সেন্ট সাইমন, লুই ব্ল্যাংক প্রমুখ এই মতের সমর্থন ছিলেন।

উভয় ভাবধারার দ্বন্দ্ব : 

  • ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে পুরাতন রাজতান্ত্রিক ও নবজাগরিত জাতীয়তাবাদী ধারণার সঘাত ছিল প্রবল।
  • ফরাসি বিপ্লবের পর কিছু মানুষের চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন আসায় বিকাশ ঘটে জাতীয়তাবাদের। কিন্তু কিছু রক্ষণশীল মানুষের গোঁড়ামির ফলে তৈরি হয়েছিল এই সঘাত।
  • ইউরোপের নবজাগরণে ফ্রান্সের ভূমিকা ছিল মুখ্য যা ছিল বারবার রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু।
  • অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফরাসি বিপ্লবের সময় বিদেশি শক্তি ফ্রান্সের রাজতন্ত্র রক্ষায় সহায়ক হয়েছিলো।

ভিয়েনা সম্মেলন

  • ওয়াটারলুর যুদ্ধে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয়ের পর ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপের পুনর্গঠনের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে মিলিত হয় মিত্র শক্তিবর্গ। অস্ট্রিয়ার রাজধানী হয় ভিয়েনা। ইতিহাসে এই সম্মেলনের নামই হলো ভিয়েনা সম্মেলন।
  • অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড, রাশিয়া এবং প্রাশিয়া এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলিতে অংশ গ্রহন করে।
  • অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর মেটারনিক, প্রাশিয়ার রাজা তৃতীয় ফ্রেডারিক উইলিয়াম, ইংল্যান্ডের বিদেশ সচিব ক্যাসালরি এবং রাশিয়ার জার প্রথম আলেকজান্ডার নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, যারা চার-প্রধান বা big four নামে খ্যাত।

ভিয়েনা সম্মেলনের উদ্দেশ্য

  • ভিয়েনা সম্মেলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্রের পরিবর্তন ঘটানো।
  • বিজয়ী দেশ গুলির পরাজিত ফ্রান্সের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা।
  • ফ্রান্স বা অন্য কোনো দেশ যাতে ভবিষ্যতে ইউরোপের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা।

গৃহীত নীতি:

ভিয়েনা সম্মেলনে যে প্রধান তিন নীতির কথা বলা হয়েছিল সেগুলো হলো:- ন্যায্য অধিকার নীতি, শক্তিসাম্য নীতি ও ক্ষতিপূরণ নীতি।

ন্যায্য অধিকার নীতি

এই নীতিতে বলা হয় যে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রগুলির দেশশাসনের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এই নীতি প্রয়োগ করে-

  1. হল্যান্ডে অরেঞ্জ রাজবংশ বা ফ্রান্সের বুরবোঁ রাজবংশ রাজত্ব ফিরে পায়।
  2. স্পেন, সিসিলি ও নেপলস-এ বুরবোঁ বংশীয় শাসকরা রাজত্ব ফিরে পান।
  3. অস্ট্রিয়ার হ্যাপসবার্গ বংশীয় শাসককে তাঁর পূর্বতন রাজ্য ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
  4. পোপকে তার রাজত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
  5. সার্ডিনিয়া ও পিডমন্টে স্যাভয় বংশের শাসন আবার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
  6. উত্তর ইটালি ও জার্মানিতে অস্ট্রিয়া তার ক্ষমতা ও আধিপত্য দখল করে।
  7. জার্মানিকে ৩৯টি রাজ্যে ভাগ করা হয় ও ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যের অধীনে দেওয়া হয়।
  8. জার্মান রাজ্যগুলিকে একটি অসংহত রাষ্ট্রসংহ হিসেবে একত্রে আনা হয় ও তাদের একটি ডায়েটের আওতায় আনার ব্যবস্থা হয়।
  9. জেনোয়া ও ভেনিসের মতো প্রজাতন্ত্রিক রাষ্ট্রকে কোনো ন্যায্য অধিকার দেওয়া হয়নি।

শক্তিসাম্য নীতি

এই নীতি অনুযায়ী মনে করা হয় কোনো দেশ তার প্রতিবেশী দেশগুলোর থেকে শক্তিশালী হয়ে উথলেবসে বিস্তারনীতি গ্রহণ করে শৃঙ্খলাভঙ্গ করবে, যেমনটা করেছিলাম ফ্রান্স। এই নীতি অনুসারে ভিয়েনা সম্মেলনে-

  1. ফ্রান্সের দিমান পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
  2. ফরাসি সেনাবাহিনী ভেঙে দেওয়া হয় এবং সেখানে পাঁচবছরব্যাপী মিত্রপক্ষের সেনা মোতায়েন করা হয়।
  3. ফ্রান্সকে 75 কোটি ফ্রাঁ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয় ও ফ্রান্স যাতে ইউরোপের শান্তি লঙ্ঘন করতে না পারে সেজন্য তার চারদিকে শক্তিশালী রাষ্ট্রের বেষ্টনী স্থাপন করা হয়।
  4. উত্তর-পূর্বে হল্যান্ডের সঙ্গে বেলজিয়ামকে যুক্ত করা হয়।
  5. পূর্ব সীমান্তে প্রাশিয়ার সঙ্গে রাইনল্যান্ডকে যুক্ত করা হয়।
  6. দক্ষিনদিকে সার্ডিনিয়ার সঙ্গে জেনোয়াকে যুক্ত করা হয়।
  7. ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বে সুইটজারল্যান্ডকে শক্তিশালী করে নিরপেক্ষ দেশের মর্যাদা দান করা হয়।

ক্ষতিপূরণ নীতি

  1. ফ্রান্সের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ 70 কোটি ফ্রাঁ দাবি করা হয় এবং অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া ও রাশিয়া ইউরোপের আর ইংল্যান্ড ইউরোপের বাইরের কিছু জায়গা দখল করে নেয়।
  2. অস্ট্রিয়া উত্তর ইতালির লম্বার্ডি ও ভেনেশিয়া প্রদেশ এবং টাইরল, সালজবর্জ ও ইলিরিয়া অঞ্চল দখল করে।
  3. প্রাশিয়ার অধীনে আসে পোজেন, থর্ন, ডানজিগ, স্যাক্সনির উত্তরাংশ, পশ্চিম পোমেরেনিয়া ও রাইন নদীর তীরবর্তী প্রদেশ।
  4. রাশিয়ার অধীনে আসে পোজেন ও থর্ন বাদে গ্র্যান্ড-ডাচি অফ ওয়ারসর অধিকাংশ অঞ্চল, ফিনল্যান্ড ও বেসারাবিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল।
  5. ইংল্যান্ডের অধীনে আসে সিংহল, কেপ কলোনি, পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ, মাল্টা, হ্যালিগোল্যান্ড, আইওনিয়ান দ্বীপপুঞ্জ প্রভৃতি।
  6. ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ ঘটে। ভিয়েনা সম্মেলনে রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর প্রিন্স মেটারনিক এই বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন।

মেটারনিক ব্যবস্থা

১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অস্ট্রিয়া সহ সমগ্র ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর বা প্রধানমন্ত্রী  প্রিন্স ক্লেমেন্স ভন মেটারনিক । ইউরোপের ইতিহাসে এই সময়কাল তাই ‘মেটারনিক যুগ’ নামে খ্যাত। মেটারনিক যে পদ্ধতিতে

রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন তা ‘মেটারনিক ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।

মেটারনিকের উদ্দেশ্য:-

মেটারনিক বুঝেছিলেন যে গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারা অস্ট্রীয় রাজতন্ত্রের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তাই এই মেটারনিক ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল ইউরোপে গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী  ভাবধারার প্রসার বন্ধ করে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন দমন করা

মেটারনিক ব্যবস্থার প্রয়োগ:-

  • ঊনবিংশ শতাব্দীতে মুক্তচিন্তা ও জাতীয়তাবাদের উৎস ছিল জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। এটি রোধ করার জন্য মেটারনিক ‘কার্লসবাড ডিক্রি’ জারি করে ছাত্র ও অধ্যাপকদের উদারপন্থী জাতীয়তাবাদী কার্যকলাপ ও সংগঠন রোধ করেন।
  • বিদেশি বইপত্র ও খবরের কাগজেরপ্রসার নিয়ন্ত্রিত করা হয়।
  • ভিয়েনা কংগ্রেসের সিদ্ধান্তগুলি বাস্তবায়ন করার জন্য ইউরোপীয় শক্তি সমবায় গঠন করা হয়।
  • ইতালিতে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলন কড়া হাতে দমন করেন মেটারনিকের অস্ট্রীয় সৈন্যবাহিনী।
  • ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ইতালি, জার্মানি ও অস্ট্রিয়া সহ বেশিরভাগ রাষ্ট্রের  জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চাপে মেটারনিক ব্যবস্থার অবসান ঘটে।
  • এই ব্যবস্থা ছিল অনৈতিক ও যুগবিরোধী।  এই ব্যবস্থার পুরানো নেতিবাচক আদর্শই এর পতনের মূল কারণ।

১৮৩০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই বিপ্লব

  • ভিয়েনা কংগ্রেসের ন্যায্য অধিকার নীতি  অনুসারে ফ্রান্সে আবারও বুরবোঁ রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হবার পর অষ্টাদশ লুই ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেছিলেন।
  • তিনি বুঝেছিলেন বিপ্লব পূর্ববর্তী চরম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় তাই কিছু গণতান্ত্রিক আদর্শ যেমন সীমিত আকারে ভোটাধিকার, আইনের চোখে সমানাধিকার, চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তির প্রাধান্য প্রভৃতিকে স্বীকৃতিদান করেন।
  • কিন্তু তার রাজত্বকালে নানারকম বিরোধীদলের উৎপত্তি হয়।
  • তবে তিনি আপোষমুখী নীতি অনুসরণ করে চলেন।
  • যে সমস্ত রাজনৈতিক দল তার সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হল উগ্র রাজপন্থী, সংবিধানপন্থী, উদারপন্থী এবং চরমপন্থী দল নামে বিভিন্ন দলগুলি।
  • ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে অষ্টাদশ লুই -এর মৃত্যুর পর অষ্টাদশ লুই-এর ভ্রাতা ডিউক অব আর্টোয়িস  ‘দশম চার্লস’ উপাধি নিয়ে সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন।
  •  উগ্র রাজতন্ত্রের সমর্থক দশম চালর্স-এর হাত ধরে যাজক শ্রেণীও শক্তিশালী হতে শুরু করে। দশম চার্লস দেশত্যাগী অভিজাতদের সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করলে, তাদের যে সমস্ত ভূসম্পত্তি বিপ্লবের সময় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়। প্রায় ১ লক্ষ ফ্রাঁ বিলিয়ন ক্ষতিপুরণ দিতে হয়েছিল।
  •  এই কাজের বিরোধিতা করায় ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই মাসে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। তার বিরুদ্ধে প্যারিসে তীব্র আন্দোলন শুরু হয় ফলে তিনি ইংল্যান্ড পালিয়ে যান।
  • জনতার ইচ্ছানুসারে অর্লিয়েন্স বংশের লুই ফিলিপ সিংহাসন আরোহন করেন।

ইউরোপে জুলাই বিপ্লবের অভিঘাত

  1. এই বিপ্লবের ফলে জাতীয়তাবাদী ও উদারনৈতিক চিন্তাধারার ক্রমবিকাশ ঘটে। ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড প্রভৃতি অঞ্চলে উদারনীতি শাসনতন্ত্রে প্রভাব ফেলেছিল। ভিয়েনা চুক্তিতে বেলজিয়াম হল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে আসে। হল্যান্ড থেকে বেলজিয়াম বেরিয়ে আসে এবং তার ফলে জাতীয়তাবাদী আদর্শের জয় লাভ হয়।
  2. জার্মানির স্যাক্সনি, হ্যানোভার, ব্যাডেন, ব্যাভেরিয়া প্রভৃতি রাজ্যের শাসক উদারপন্থী হতে বাধ্য হন।
  3. মডেনা থেকে চতুর্থ ফ্রান্সিসকে সরানো হয় এবং ইতালিতে গণজাগরণ দেখা যায়। পার্মার শাসক দেশত্যাগ করেন। ম্যাৎসিনির নেতৃত্বে ‘ইয়ং ইতালি’ আন্দোলন শুরু করে।
  4. রাশিয়ার অধীনস্থ পোল্যান্ডে অভ্যুত্থান শুরু হয়।
  5. স্পেন ও পর্তুগালে গণতান্ত্রিক ও উদারনৈতিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়।
  6. ইংল্যান্ডে শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ে।
  7. গ্রিসের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন প্রবল আকার  ধারণ করে।

১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লব

লুই ফিলিপ  একটা বুর্জোয়া পার্লামেন্ট দ্বারা রাজপদে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর দেশে বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষার ব্যবস্থা করা হয় এবং তিনি ধনী ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় প্রাধান্য দিতে শুরু করেন, ফলে দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

বিভিন্ন কারণে লুই ফিলিপের জনসমর্থনের অভাব ছিল। যেমন-

  • নেপোলিয়নের অনুগামীরা তার ভ্রাতুষ্পুত্র লুই বোনাপার্টকে সিংহাসনে বসতে চেয়েছিল।
  • বৈদেশিক ক্ষেত্রে লুই ফিলিপের নীতি ফরাসিবাসীর কাছে হতাশাজনক ছিল।
  • ন্যায্য অধিকার নীতির সমর্থকরা দশম চার্লসের উত্তরাধিকারী ডিউক অফ বেরিকে সিংহাসনের বৈধ দাবিদার মনে করতেন।
  • ক্যাথলিকরা লুই ফিলিপের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির ও প্রজাতন্ত্রিত রাজতন্ত্রের তীব্র বিরোধী ছিল।
  • লুই ফিলিপ পোল্যান্ড ও ইতালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নিরপেক্ষ থাকেন।
  • বেলজিয়ামের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বগ্রহণে ব্যর্থ হন।
  • ফ্রান্সে শ্রমিকদের অধিক সময় খাটানো, কম মজুরি প্রদান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ প্রভৃতির ফলে তাদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল।
  • ১৮৪০- এর দশকে খরা, শস্যহানীর ফলে ফ্রান্স তীব্র খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের শিকার হয়। কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণীর আন্দোলন জায়গায় জায়গায় প্রবল হতে থাকে।
  • মন্ত্রী গিজো দমননীতি প্রয়োগ করলে আন্দোলন আরো তীব্র হয়। চাপে পড়ে লুই ফিলিপ সিংহাসন ত্যাগ করলে ফ্রান্সে দ্বিতীয় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠিত হয়।

ইউরোপে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের অভিঘাত:-

  • অস্ট্রিয়ায় এই আন্দোলনের চরিত্র ছিল গণতান্ত্রিক।
  • ভিয়েনায় ছাত্র, শ্রমিক ও বুর্জোয়াগোষ্ঠী উদার শাসনে ও ভোটাধিকারকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নামে।
  • মেটারনিকের পদত্যাগের পর সম্রাট বিপ্লবীদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি দিলেও বুর্জোয়াদের এই আন্দোলন থেকে সরে আসার ফলে খুব সহজেই তিনি এই আন্দোলন দমন করেন।
  • অস্ট্রিয়ার অধীনস্থ হাঙ্গেরির ম্যাগিয়া জাতি লুই কসুথের নেতৃত্বে ও বোহেমিয়ার চেক জাতি ফ্রান্টিসেক পালাকির নেতৃত্বে স্বতন্ত্র সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন করে।
  • প্রাথমিকভাবে আন্দোলন সফল হলেও রাশিয়ার সহায়তায় অস্ট্রিয়া আবার চেক ও হাঙ্গেরির ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
  •  ঐক্যবদ্ধ ইতালি ও জার্মান রাষ্ট্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ইতালি ও জার্মান ভাষাভাষী অঞ্চলে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয়।

১৮৩০ ও ১৮৪৮-এর বিপ্লবে রাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের সংঘাত:-

জাতীয়তাবাদ- রাজতন্ত্র ও জুলাই বিপ্লব:- জুলাই বিপ্লব ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান না ঘটালেও রাজতন্ত্রের ভীত দুর্বল করতে সফল হয়। এই বিপ্লবের ফলে গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদের হওয়া বইতে শুরু করে। জুলাই বিপ্লব প্রমাণ করে যে, ন্যায্য অধিকারের ভিত্তিতে নয়, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে রাজা সিংহাসন লাভের অধিকারী। প্যারিসে বিপ্লবের আগুন সমগ্র ইউরোপে দাবানলের সৃষ্টি করে।

ভিয়েনা সম্মেলনে বেলজিয়াম ও নরওয়কে যথাক্রমে হল্যান্ড ও সুইডেনের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও জুলাই বিপ্লবের পর বেলজিয়াম ও নরওয়ে স্বাধী রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়। জুলাই বিপ্লব একদিকে যেমন ফ্রান্সের শ্রমিক শ্রেণি চিন্তার জাগরণ ঘটায়, অন্যদিকে তেমনি ভিক্টর হুগাে, জর্জ সায় সাঁ সিমো প্রমুখ তাদের রচনায় দেশের বতি, নিপীড়িত মানুষে দুর্দশার কাহিনি ফুটিয়ে তােলেন।

জাতীয়তাবাদ- রাজতন্ত্র ও ফেব্রুয়ারি বিপ্লব:- ফ্রান্স ফেব্রুয়ারি বিপ্লব শুরু হলেও সাফল্যমন্ডিত হয়নি। এই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা। ভিয়েনা বন্দোবস্ত এবং মেটারনিক ব্যবস্থার পতনের মূলে ছিল এই বিপ্লব। এই বিপ্লব ভুমিদাস প্রথা ও সামন্ততন্ত্রের পতন সুনিশ্চিত করে। প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জার্মানি ও সার্ডিনিয়ার নেতৃত্বে পিডমেন্ট ঐক্যবদ্ধ হয়। এই বিপ্লব ছিল মূলত শহর কেন্দ্রিক।

প্যারিস, ভিয়েনা, বার্লিন, রোম, মিলন, ভেনিস প্রভৃতি শহর ছিল এই বিপ্লবের প্রাণকেন্দ্র। কবি, সাহিত্যিক, অধ্যাপক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীরা এই বিপ্লবে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন। অস্ট্রিয়ার অধীনে থাকা উত্তর হাঙ্গেরির ম্যাগিয়া জাতি, দক্ষিণ হাঙ্গেরির সার্ব ও ক্রোট জাতি, বোহেমিয়ার চেক ও শ্লাভ জাতি ঐক্য আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু দুই আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়, রাজতন্ত্রের সক্রিয় দমন নীতিতে।

ইতালিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বহিঃপ্রকাশ:-

ফরাসি বিপ্লবের আগে ইতালি বা জার্মানি নামের কোনো রাষ্ট্র ইউরোপে ছিল না। ইতালি ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত ছিল। নেপোলিয়নের ইতালি জয়ের পরে সেখানে আইন ও অর্থব্যবস্থা প্রণয়ন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে গুপ্তসমিতি ও মধ্যবর্তী পর্যায়ে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ইতালি ও জার্মানিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ানের পতনের পর ভিয়েনা সম্মেলনে ইটালিকে পুনর্বিভক্ত করা হলে সেখানে জাতীয়তাবাদ ধাক্কা খায়।

গুপ্তসমিতি ও পত্রপত্রিকার প্রভাব:-

প্রথম পর্যায়ে গুপ্তসমিতি যেমন কার্বনারি ইতালির জাতীয়তাবাদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই কার্বনারির সংকেত চিহ্ন ছিল জ্বলন্ত কাঠ-কয়লা। তাই এর নাম ছিল কার্বনারি। এই দলের মূল উদ্দেশ্য ছিল গোপনে হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। এর প্রভাবে লম্বার্ডি, পার্মা, মডেনা, এলিওনা প্রভৃতি এলাকায় আন্দোলন শুরু হয় যা জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়

  • রিসর্জিমেন্টো:-
    ইটালিবাসীর মনে বিভিন্ন কারণে যে জাতীয়তাবাদী ধারণার জন্ম হয়েছে তা রিসর্জিমেন্টো বা ‘পুনর্জাগরণ’ নামে পরিচিত। কার্বনারি গুপ্তসমিতির তৎপরতায় নেপলসের বিদ্রোহী নেতা জেনারেল পেপ সরকারের কাছে সাংবিধানিক সংস্কারের আবেদন জানায়। ফলে নেপলস থেকে শুরু করে ইতালির বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়ায় ক্যাভুরের ‘রিসর্জিমেন্টো’ পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
  • ম্যাৎসিনির ভূমিকা:-
    কার্বনারির গুপ্তসমিতির সদস্য জোসেফ ম্যাৎসিনি ইতালির ঐক্য আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন। তিনি পরবর্তীকালে সন্ত্রাসবাদের পথ ত্যাগ করে গণ আন্দোলনের পথ বেছে নেন ইটালিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। তিনি জানতেন এই ঐক্যের পথে প্রধান অন্তরায় অস্ট্রিয়া।
    কিন্তু বিরোধী শক্তির সাথে মোকাবিলা করার জন্য তিনি কোনো বিদেশি শক্তির সাহায্য চাননি। বরং তিনি ইটালির জনগণের লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে আশাবাদী ছিলেন।ইয়ং ইতালি:- এই উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে একটি দল গঠন করেন যা ‘ইয়ং ইতালি’ নামে খ্যাত। এই একই নামের তিনি একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন যেখানে তিনি তার লক্ষ্য ও কর্মসূচি প্রচার করেন। ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি তার ভাবশিষ্য গ্যারিবল্ডির উদ্যোগে রোমে স্বল্পকালীন প্রজাতান্ত্রিক সরকার গঠন করেন। ১৮৫২ ও ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে মান্টুয়া ও মিলানে প্রজাতান্ত্রিক উত্থান ঘটান।
  • ক্যাভ্যুরের ভূমিকা:-
    ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ব্যর্থতায় ইটালিবাসী যখন দিশেহারা তখন পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্যাভুর ইটালিবাসীকে নতুন পথের সন্ধান দেন। কঠোর বাস্তববাদী ক্যাভুর বুঝেছিলেন ইটালিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য অস্ট্রিয়াকে বিতাড়িত করতে হবে এবং এর জন্য বিদেশি শক্তির সাহায্যের প্রয়োজন।ক্যাভুর ইটালিবাসীর মধ্যে স্যাভয় রাজবংশের শাসনের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য অভ্যন্তরীণ ও সামরিক সংস্কার করে পিডমন্ট-সার্ডিনিয়াকে শক্তিশালী করে তোলেন। তিনি ইটালির সমস্যাকে আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত করার জন্য ক্রিমিয়ার যুদ্ধে ইঙ্গ-ফরাসি পক্ষে যােগদান করেন।ক্যাভুর ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পান অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে। উভয়ের মধ্যে প্লমবিয়ার্স নামক স্থানে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ক্যাভুরের প্ররোচনায় অস্ট্রিয়া পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে তৃতীয় নেপোলিয়নের সাহায্যে ক্যাভুর ম্যাজেন্টা ও সলফেরিনোর যুদ্ধে অস্ট্রিয়াকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।ইতিমধ্যে অস্ট্রিয়ার পরাজয় ইটালিবাসীর মধ্যে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পার্মা, মডেনা, টাসকানি, রোমানা প্রভৃতি রাজ্যগুলি পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির ইচ্ছা প্রকাশ করে। অবশেষে মধ্য ইটালির রাজ্যগুলি পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে উত্তর ইটালি ঐক্যবদ্ধ হয়।

গ্যারিবল্ডির ভূমিকা:-

ম্যাৎসিনির সুযােগ্য শিষ্য গ্যারিবল্ডি ছিলেন দক্ষিণ ইতালিতে মুক্তিযুদ্ধের নায়ক। তাঁর জীবনের লক্ষ্য ছিল ইটালি থেকে বিদেশি শাসন উচ্ছেদ করে ইটালিকে ঐক্যবদ্ধ করা। যখন দক্ষিণ ইতালির নেপলস ও সিসিলিতে অত্যাচারী বুরবো বংশীয় শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দানা বাঁধে, নেপলস ও সিসিলিবাসীর অনুরােধে তিনি জেনােয়া থেকে সিসিলি পদার্পণ করেন এবং দ্বিতীয় ফার্দিনান্দকে পরাজিত করেন।

এই অবস্থায় গ্যারিবল্ডি গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা এড়িয়ে নেপলস ও সিসিলি রাজা ভিক্টর ইমান্যুয়েলের হাতে তুলে দেন। এইভাবে রােম ও ভেনিসিয়া বাদে ইতালির ঐক্য সম্পন্ন হয়। এই ঐক্যবদ্ধ রাজ্যের রাজা হন ভিক্টর ইমান্যুয়েল।

জার্মানিতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার বহিঃপ্রকাশ:-

জার্মানিতে ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ছড়িয়ে পড়ার পর জার্মানি প্রায় তিনশটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। নেপোলিয়ান এগুলি মিলিয়ে প্রায় ৩৯ টা রাজ্য তৈরি করেছিলেন যার নাম ছিল ‘কনফেডারেশন অফ দ্য রাইন’। ভিয়েনা সম্মেলনে জার্মানির ওপর অস্ট্রিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

জার্মান জাতির ঐক্যচেতনা অগ্রসর হয় দুই ভিন্নমুখী ধারায়। এক হলো প্যান জার্মানিজম বা সর্ব জার্মানবাদ এবং অন্যটি হলো জোলভারেইন নামক শুল্কসংঘ। 

জোলভারেইন হল প্রাশিয়ার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত একটি শুল্কসংঘ । এর উদ্যোগে ১৮১৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জার্মানির এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ব্যবসা ও মালপত্রের যাতায়াতের শুল্ক সংক্রান্ত নানা রকমের অসুবিধা ছিল । এর মধ্যে প্রাশিয়াতে প্রায় ৫৭ রকমের শুল্ক চালু ছিল ।

এই সকল অসুবিধা দূর করার জন্য প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জোলভারেইন শুল্কসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে অস্ট্রিয়া ব্যতীত জার্মানির সব রাজ্যেই এই শুল্কসংঘে যোগ দিয়েছিল।

  • ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট:- ফেব্রুয়ারি বিপ্লবে মেটারনিকতন্ত্রের পতনের পর মেটারনিক ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেসময়ে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটে নির্বাচিত ৫৮৪ জন প্রতিনিধি ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে এক সভায় মিলিত হন যা ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট নামে পরিচিত।
    এর উদ্দেশ্যগুলো হলো- জার্মানির জন্য সংবিধান রচনা করা ও প্রাধিয়ার রাজা চতুর্থ ফ্রেডরিক উইলিয়ামকে ঐক্যবদ্ধ জার্মানির সম্রাটপদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা।

বিসমার্কের রক্ত ও লৌহনীতি:-

  • ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে অটোভন বিসমার্ক নামে এক কূটনীতিজ্ঞ প্রাশিয়ার হোহেনজোলার্ন রাজবংশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলে জার্মানির ঐক্য আন্দোলনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
  • রক্ষণশীল রাজতন্ত্রের ঘাের সমর্থক বিসমার্ক মনে করতেন, প্রাশিয়ার রাজতন্ত্রের অধীনেই জার্মানি ঐক্যবদ্ধ হবে।
  • গণতান্ত্রিক পদ্ধতির উপর তাঁর আস্থা ছিল না। তিনি বলেন যে, বক্তৃতা দিয়ে বা সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রস্তাব পাস করিয়ে দেশের সমস্যার সমাধান হবে না, এর জন্য গ্রহণ করতে হবে রক্ত ও লৌহ নীতি (Blood and Iron Policy)। রক্ত ও লৌহ নীতি হল সামরিক শক্তির উপর নির্ভরশীল। সামরিক শক্তির দ্বারাই জার্মানির ঐক্যলাভ সম্ভব— এ কথা তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন।
  •  শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তির সাহায্যে তিনটি যুদ্ধের মাধ্যমে তিনি জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

ডেনমার্কের সঙ্গে যুদ্ধ: শ্লেগউইগ ও হলস্টিন প্রদেশ জার্মানির রাজ্যসীমার অন্তর্ভুক্ত হলেও আইনত নষ্টর অধীন ছিল। বিসমার্ক অস্ট্রিয়ার সঙ্গে মিলিত হয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। পরাজিত ডেনমার্ক রামকির দ্বারা দুটি প্রদেশের উপর সব দাবি ত্যাগ করে।

কিন্তু অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়ার মধ্যে এই দুই প্রদেশের কর্তৃত্ব নিয়ে বিবাদ বাধে।গ্যাস্টিনের সন্ধি দ্বারা প্রাশিয়া শ্লেজউইগ ও অস্ট্রিয়া হলস্টিন প্রদেশ লাভ করে।

অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ: বিসমার্ক অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় রাজনীতিতে তাকে মিত্রহীন করার জন্য সচেষ্ট হন। পোল বিদ্রোহের সময় রাশিয়া প্রাশিয়ার সাহায্য পেয়েছিল। আর ইটালি অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যোগ দিলে ভেনেসিয়া পেতে পারে এবং ফ্রান্স নিরপেক্ষ থাকলে জার্মানির কিছু ভূখণ্ড লাভ করতে পারে এই আশায় রাশিয়া, ইটালি, ফ্রান্স অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে চলে যায়।

সাত সপ্তাহের যুদ্ধে এবং স্যাডোয়ার যুদ্ধে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়া শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং প্রাগের সন্ধির দ্বারা যুদ্ধের অবসান ঘটে।

ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধ : অস্ট্রিয়ার পরাজয়ের পর ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য অগ্রসর হয় প্রাশিয়া। অস্ট্রিয়া, ইটালি ও রাশিয়াকে নিরপেক্ষ রেখে বিসমার্ক ফ্রান্সকে যুদ্ধের জন্য প্ররোচিত করেন। ফ্রান্স বিসমার্কের কূটনৈতিক জালে জড়িয়ে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে প্রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

সেডানের যুদ্ধে ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন চূড়ান্তভাবে পরাজিত হন। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে ফ্রাঙ্কফোর্টের সন্ধির দ্বারা এই যুদ্ধের অবসান ঘটে। জার্মানির রাজনৈতিক ঐক্য সম্পন্ন হয়। এইভাবে বিসমার্ক কূটনীতি ও যুদ্ধনীতির মাধ্যমে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন।ঐক্যবদ্ধ জার্মানির প্রথম সম্রাট হন কাইজার প্রথম উইলিয়াম।

অটোমান সাম্রাজ্য ও বলকান জাতীয়তাবাদ:

পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে অটোমান তুর্কি সম্রাটরা যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা অটোমান সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। পূর্ব ইউরোপের দানিয়ুব, ইজিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে বলকান অঞ্চল গঠিত। গ্রিক, সার্ব, রুমানিয়ান প্রভৃতি ইউরোপীয় জাতি এই অঞ্চলে বসবাস করত। এই অঞ্চল অষ্টাদশ শতকে অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল।

তুরস্কের দুর্বলতা এবং বলকান জাতীয়তাবাদ

  • অষ্টাদশ শতাব্দীতে তুর্কি সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়লে তার প্রভাব দেখা দেয় বলকান অঞ্চলে।
  • ইউরোপে ঊনবিংশ শতাব্দীর জাতীয়তাবাদী ভাবধারার হাওয়া বইছে থাকে বলকান অঞ্চলেও।
  •  সেখানে এমনিতেই কৃষনাঙ্গ, এশীয় ,মুসলিম তুর্কিদের সাথে শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় খ্রিস্টান বলকান জনটির জাতিগত, বর্ণগত ও ধর্মীয় সংঘাত চলছিল।
  •  তুর্কিদের দুর্বলতার সুযোগে এই জাতীয়তাবাদী চেতনা আরো সুস্পষ্ট হয়।

ইউরোপীয় বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা:-

রাশিয়া বলকান অঞ্চলকে তুরস্কের কবল থেকে মুক্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠে। কারণ তাতে বলকান জাতির ওপর তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে ও তুরস্কের বিরুদ্ধে সংগ্রামে তার বিশেষ উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়।

সেই সঙ্গে তারা কৃষ্ণ সাগরের উপকূল অবধি নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে পারবে এবং দারদানেলিস প্রণালী দিয়ে ভূমধ্যসাগরেও পৌঁছতে পারবে।  রাশিয়ার এই নীতি ‘উষ্ণজল নীতি’ নামে খ্যাত।

অন্যদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ডও বলকান অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিল।

ক্রিমিয়ার যুদ্ধ

  • বলকান সমস্যাকে ভিত্তি করে, ইউরোপে রাশিয়ার সাথে, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের  একটি বড় যুদ্ধ ঘটে, সে যুদ্ধ ক্রিমিয়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত।
  • কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলকে অধীনস্ত করে সেই অঞ্চলে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং তুরস্কের মিলিত বাহিনীর যুদ্ধ হয় ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
  • রাশিয়ার প্ররোচনায় হওয়া এই যুদ্ধে রাশিয়াই আগে তুরস্ককে আক্রমণ করে। এই আক্রমণের পেছনে অজুহাত হিসেবে কাজ করেছে খ্রিস্টান প্রজাদের প্রতি তুরস্কের আচরণের ত্রুটি।
  • এই যুদ্ধে রাশিয়া, তুরস্ক সাম্রাজ্যভুক্ত মলাদাভিয়া এবং ওয়ালাচিয়া দখল করে নেয়। এই যুদ্ধে তুরস্কের পক্ষে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স যোগদান দেয়। যে যুদ্ধের মেয়াদ ছিল দু-বছরের কিছু বেশি সময়।
  • রাশিয়ার জার নিকোলাসের মৃত্যুতে, যুদ্ধের প্রতি ইচ্ছে হারিয়ে রাশিয়া ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে পরাজয় স্বীকার করে এবং যুদ্ধের অবসান হয়। অন্যদিকে তুরস্কের ইউরোপীয় সাম্রাজ্য অটুট থাকায়, স্বাধীনতা পায়না বলকান জাতিগুলি।
  • পরবর্তী কালে, ইউরোপের শান্তি ভঙ্গ করতে বলকান সমস্যা পুনরায় ফিরে আসে।

রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের উদ্যোগে ভুমিদাস প্রথার অবসান

রাশিয়ার জার প্রথম নিকোলাসের মৃত্যুর পর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র দ্বিতীয় আলেকজান্ডার(১৮৫৫-১৮৮৯ খ্রিস্টাব) সিংহাসনে বসেন।তিনি সংস্কারবাদী, বাস্তববাদী ও দায়িত্ববান শাসক হওয়ায় রাশিয়া থেকে তথা বিশ্ব ইতিহাসে দাসপ্রথার উচ্ছেদ করেন।

ভুমিদাস প্রথা : আধুনিক যুগের শুরুতেও দাসপ্রথা অব্যাহত ছিল রাশিয়াতে। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ায় ভুমিদাসের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি। এই দাস প্রথা রাশিয়ার অর্থনীতিতে বিপুল প্রভাব ফেলেছিল।

ভূমিদাস প্রথা উচ্ছেদের পটভূমিকা : 

১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ১৯ ফেব্রুয়ারি জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের এক ঘোষণা দ্বারা দাস প্রথা উচ্ছেদ হয়।

ভুমিদাস প্রথার অপ্রয়োজনীয়তা : রাশিয়ায় শিল্পবিপ্লব ঘটে, তারই সাথে অন্তর্বানিজ্যের সুবিধা গড়ে ওঠায় শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে, ভূমিদাসের  প্রয়োজনীয়তা ক্রমশ হ্রাস পায়।

কৃষকদের ক্ষোভ : ডিসেমব্রিস্ট বিদ্রোহের কারণ ছিল জারের স্বৈরাচারী শাসন। যে বিদ্রোহে কৃষকরা উদারনৈতিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।   প্রথম নিকোলাসের আমলে, ১৮৫৪ – ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে চারশো জন কৃষক বিদ্রোহ ঘোষণা করে, যা পরবর্তীকালে ভুমিদাস প্রথা উচ্ছেদে প্রবল ভূমিকা নেয়।

বুদ্ধিজীবীদের প্রভাব :  রাশিয়ার বহু বুদ্ধিজীবী ও লেখক, কলম হাতে কৃষকদের পাশে ছিল। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম গুলো হলো পুশকিন, টলস্টয়, তুর্গেনিভ, গোগোল, গ্লিনকা।

দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের ভূমিকা : জার দ্বিতীয় আলেক্যান্ডারের উদারনৈতিক শাসনকালে এক ঘোষণাপত্র দ্বারা রাশিয়া ভুমিদাস প্রথা থেকে মুক্তি পায়।

মুক্তির ঘোষণাপত্র

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কিছু জমিদারের বিরোধিতায় ভূমিদাসপ্রথার অবসানের পর ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ১৯ ফেব্রুয়ারি Emancipation Edict বা মুক্তির ঘোষণাপত্র জারি করা হয়। এই নির্দেশনামায় ৩০০ টি পাতায় ২২ টি ধারায় বলা আছে-

  1. ভুমিদাসদের ওপর কোনো মালিকের কোনো জোর, জুলুম ও অধিকার থাকবে না।
  2. মুক্ত ভুমিদাসদের জমির অধিকার দিতে হবে এবং বলা হয় তাদের ওপর জমিদারের অধিকার থাকবে না।
  3. ভুমিদাসের জমি পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে ‘মির’ নামক গ্রাম্য সমিতির ওপর। ‘মির’ হলো রাশিয়ার গ্রামীণ সমবায় সমিতি। ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটিয়ে মুক্ত কৃষকদের ভূমির সমস্ত ভার  এদের ওপর অর্পণ করেন।
  4. জমিদারের ক্ষতিপূরণ মেটানোর দায়িত্বে থাকবে সরকার।
  5. কৃষকদের সেই অর্থ দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হিসেবে শোধ করতে হবে।
  6. কর আদায়, কর জমা দেওয়া, সেনা সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ করবে ‘মির’গুলি।
  7. মুক্ত ভূমিদাসদের স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার দেওয়া হবে।

ফলাফল

সুফল :

  1. মধ্যযুগীয় কুপ্রথার অবসান ঘটে।
  2. কৃষির উন্নতি হয়। ফলস্বরূপ বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়।
  3. শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিকের বৃদ্ধি ঘটে। ফলে শিল্পেরও বিকাশ হয়।

কুফল :

  1. ভূমিদাসদের প্রাপ্ত জমির যে প্রকৃত মূল্য হওয়া উচিত ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্য তাদের কাছ থেকে আদায় করা হয়।
  2. মুক্ত ভুমিদাসদের ওপর প্রচুর কর চাপানো হয়।
  3. তাদের নিকৃষ্ট জমি গুলি দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের জমির মালিকানা প্রদান করা হয়নি।
  4. ভুমিদাসদের অল্প পরিমান জমি দেওয়া হয়েছিল।
  5. কৃষকদের ওপর গ্রামীণ মিরগুলির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
  6. ভুমিদাসদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ : রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত

1 MARKS QUESTIONS of ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ : রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত

1. ‘কনফেডারেশন অফ দি রাইন’ কে গঠন করেন?
Ans. ‘কনফেডারেশন অফ দি রাইন’ গঠন করেন ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।

2. উনবিংশ শতকের ইউরোপের একটি রক্ষণশীল ভাবধারার নাম বলো?
Ans. উনবিংশ শতকের ইউরোপের একটি রক্ষণশীল ভাবধারার নাম হল রাজতন্ত্র।

3. দশম চার্লস জুলাই বিপ্লবের ফলে কোথায় পালিয়ে গিয়েছিলেন?
Ans. দশম চালর্স জুলাই বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ডে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

4. দেশশাসনে অষ্টাদশ লুই কী অধিকারে বিশ্বাস করতেন?
Ans. দেশশাসনে অষ্টাদশ লুই ঐশ্বরিক অধিকারে বিশ্বাস করতেন।

5. স্বাধীন গ্রিসের প্রথম রাজা কে ছিলেন?
Ans. স্বাধীন গ্রিসের প্রথম রাজা ছিলেন প্রথম অটো।

6. কোন জার্মান অর্থনীতিবিদের উদ্যোগে জোলভেরাইন প্রতিষ্ঠিত হয়?
Ans. জার্মান অর্থনীতিবিদ ম্যাজেন-এর উদ্যোগে জোলভেরাইন প্রতিষ্ঠিত হয়।

7. ভিয়েনা সম্মেলনে যোগদানকারী বৃহৎ চারটি শক্তি কোন্ কোন্ দেশগুলি ছিল?
Ans. ভিয়েনা সম্মেলনে যোগদানকারী বৃহৎ চারটি শক্তি অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ড দেশগুলি ছিল।

8. স্যাডোয়ার যুদ্ধ কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
Ans. 1866 খ্রিস্টাব্দে স্যাডোয়ার যুদ্ধ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

9. পবিত্র চুক্তির কে বিরোধিতা করেছিলেন?
Ans. ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্যালরি পবিত্র চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন।

10. ক্রিমিয়ার যুদ্ধ কত বছর ধরে চলেছিল?
Ans. ক্রিমিয়ার যুদ্ধ দুই বছর ধরে চলেছিল।

Multiple Choice Questions – 1 Marks of ঊনবিংশ শতকের ইউরোপ : রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত

1. ভিয়েনা সম্মেলনে মুখ্য চারটি শক্তি ছিল—
A. অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স ও প্রাশিয়া B. অস্ট্রিয়া, ইংল্যান্ড, রাশিয়া ও ফ্রান্স C. অস্ট্রিয়া, রাশিয়া, প্রাশিয়া, ইংল্যান্ড D. ইতালি, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, প্রাশিয়া
Ans. C

2. ইউরোপীয় শক্তি সমবায় স্থাপনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন
A. ট্যালিরান্ড B. প্রথম আলেকজান্ডার C. ক্যালরি D. মেটারনিখ
Ans. D

3. ইটালির ঐক্য আন্দোলনের জনক ছিলেন—
A. ম্যাৎসিনি B. ক্যাভুর C. গ্যারিবল্ডি D. ভিক্টর ইমানুয়েল
Ans. A

4. ‘কার্লসড ডিক্রি’ (1819 খ্রি) জারি করা হয়েছিল—
A. ফ্রান্সে B. জার্মানিতে C. গ্রিসে D. বেলজিয়ামে
Ans. B

5. প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের স্বীকৃতি পায়
A. ভার্সাই সম্মেলন B. ভিয়েনা সম্মেলন C. প্যারিসের সম্মেলন D. জেনেভা সম্মেলন
Ans. B

6. গ্রিসের জাতীয়তাবাদের প্রধান প্রবক্তা কে?
A. কোরায়েস B. মেটারনিখ C. ট্যালিরান্ড D. সেন্ট সাইমন
Ans. A

7. জার্মানির ঐক্যসাধনে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ বলতে বোঝায়
A. অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ B. ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ C. ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ D. রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ
Ans. A

8. ফ্রাঙ্কফোর্টের সন্ধি কাদের মধ্যে সম্পাদিত হয়?
A. ফ্রান্স ও রাশিয়া B. প্রাশিয়া ও রাশিয়া C. প্রাশিয়া ও অস্ট্রিয়া D. ফ্রান্স ও জার্মানি
Ans. D

9. 1830 খ্রিস্টাব্দে পোল্যান্ডে বিদ্রোহ হয়েছিল—
A. মেটারনিখগ্রে বিরুদ্ধে B. জার প্রথম নিকোলাসের বিরুদ্ধে C. তুরস্কের সুলতানের বিরুদ্ধে
D. অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে
Ans. B

10. ভিয়েনা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল—
A. ইংল্যান্ডে B. প্রাশিয়াতে C. অস্ট্রিয়াতে D. ফ্রান্সে
Ans. C

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে