বিপ্লবী আদর্শ , নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ- Biplobi Adorsho, Nepoliyoniyo Samrajyo O Jatiyotabad Class 9 WBBSE Notes

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of বিপ্লবী আদর্শ , নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

বিপ্লবী আদর্শ, নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে সন্ত্রাস শাসনের অবসানে পাঁচজন ডাইরেক্টর ও দুই কক্ষযুক্ত আইনসভার সাথে ফ্রান্সে শুরু হয় ডাইরেক্টরি শাসন যা ছিল ফরাসি ইতিহাসের এক চূড়ান্ত ব্যর্থতার যুগ। বৈদেশিক যুদ্ধের কারণে ফ্রান্সের বিপ্লবী আদর্শ কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এমতাবস্থায় নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নেতৃত্বে ফ্রান্সে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটে।

নেপোলিয়ান বোনাপার্টের ক্ষমতা লাভ

নেপোলিয়ানের উত্থান

নেপোলিয়ান সতেরো বছর বয়সে ফরাসি গোলন্দাজ বাহিনীতে সহকারী লেফটেন্যান্ট পদে যোগ দেন ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে।

১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে  উন্নীত হয়ে তুলো বন্দরকে ব্রিটিশ অবরোধমুক্ত করেন।

১৭৯৫ খ্রিস্টাব্দে মেজর জেনারেল পদ লাভ করে তিনি জনগণের আক্রমণ থেকে ন্যাশনাল কনভেনশন রক্ষা করেন।

ক্ষমতায় উত্তরণ

  • ফ্রান্সে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সংকটময় ডিরেক্টরি শাসনকালে নেপোলিয়ান ইংল্যান্ড, অস্ট্রিয়া শক্তি জোটের বিরুদ্ধে সমরনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
  • তিনি ইতালিকে পরাজিত করে পার্মা, মডেনা, নেপলস ও অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করে মিলান দখল করেন।
  • ১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি পোপ ষষ্ঠ পায়াসের রাজ্য আক্রমণ করে তাঁর সঙ্গে টলেন্টিনোর সন্ধি স্বাক্ষর করেন।
  • অস্ট্রিয়া-মিলান যুদ্ধে জয়লাভের পর ১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর অস্ট্রিয়ার আর্চ ডিউক চার্লসের সাথে ক্যাম্পোফরমিয়োর সন্ধি স্বাক্ষর করেন।
  • চুক্তির শর্তানুযায়ী বেলজিয়ামের বৃহদাংশ, করফু এবং আড্রিয়াটিক সাগরের তীরবর্তী একাধিক দ্বীপপুঞ্জসহ অস্ট্রিয়ার বেশ কিছু প্রদেশ ফ্রান্সের দখলে আসে।দুই ভাগে বিভক্ত ভেনিস-এর একটি অস্ট্রিয়ার সম্রাটের অধীনে আসে এবং অপরটি স্বাধীন থাকে ফলে ফ্রান্সের সীমানা বৃদ্ধি ঘটে।
  • নেপোলিয়ান পিরামিডের যুদ্ধে সফল হলেও নীলনদের যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি নেলশনের কাছে পরাজিত হন।
  • ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর অ্যাবে সিয়াস ও ব্যারাস নামক দুই ডাইরেক্টরের সহায়তায় তিনি ফ্রান্সে ডাইরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটান।
  • তিনি কনসুলেট নামক নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রচলন করেন।
  • ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে ত্রিশ বছর বয়সে তিনি নিজেকে ফ্রান্সের জাতীয় সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সমগ্র ইউরোপ জুড়ে শুরু হয় নেপলিয়ানের যুগ (১৭৯৯-১৮১৪)।

ফরাসি বিপ্লবের আদর্শের প্রেক্ষিতে কোড নেপোলিয়ান প্রণয়ন

১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের পর ফ্রান্সের শাসনব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ পরিলক্ষিত হয় । নেপোলিয়নের শাসনকালে রাজতান্ত্রিক আদর্শের পাশাপাশি বৈপ্লবিক আদর্শও সমান গুরুত্ব পায়।

কোড নেপোলিয়ান

  • প্রথম কনসালরূপে নেপলিয়ান প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্করণ করেন।
  •  ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে পোপ সপ্তম পায়াসের সাথে কনকরডার্টের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
  •  সেই সময়ে দেশে প্রায় ৪০০ টি আইনবিধি প্রচলিত ছিল যার মধ্যে উত্তরাংশে প্রথাগত এবং দক্ষিণাংশে রোমান আইন চালু ছিল।
  •  বিপ্লব পরবর্তীকালীন ফ্রান্সের আইনি জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা দূর করে দেশে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রণয়নের জন্য তিনি একটি কমিটি গঠন করেন।
  •  ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে চারবছরব্যাপী ৮৪ টি অধিবেশনের পর নেপোলিয়ান বিপ্লবের মূল আদর্শ সামাজিক সাম্যকে স্বীকার করে নতুন আইন সংকলন করেন যা কোড নেপোলিয়ন নামে পরিচিত।
  •  কোড নেপোলিয়ানে মোট ২২৮৭টি ধারা ছিল যারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি হলো দেওয়ানি কোড, ফৌজিদারি কোড এবং বাণিজ্যিক কোড।
  •  দেওয়ানি আইনগুলোতে রাখা হয় সকল ব্যক্তির সমানাধিকার, সামাজিক সাম্য, যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি, সম্পত্তির অধিকার, সামন্তন্ত্রের বিলোপ প্রভৃতি বিষয়গুলি।
  •  বিচারব্যবস্থায় জুরি প্রথা প্রবর্তিত হয়।
  •  ফৌজিদারি আইনবিধিগুলোকে যুক্তিবাদী ও প্রাকৃতিক আইনের আদলে রচনা করা হয়।
  •  বর্বরোচিত শাস্তিদান পদ্ধতি রদ করে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্টা করা হয়।
  •  বাণিজ্যবিষয়ক আইন সংকলন করা হয়।
  •  লেফেভর কোড নেপলিয়ানকে “Bible of the society” বলে ঘোষণা করেন।
  •  কোড নেপোলিয়ানে আইনের বিচারে স্যামতা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ,প্রতিভার স্বাভাবিক স্ফুরণের সুযোগ প্রভৃতির দিকে দৃষ্টি আরোপ করা হলেও এটি ছিল অনেকটা রোমান আইনের মত। ফলে, বিপ্লবের জোয়ারে টান পড়ে ও পরিবর্তনের পথ ব্যাহত হয়।

নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্যের সঙ্গে ফরাসি বিপ্লবের আদর্শের সংঘাত

ফরাসি বিপ্লবের আদর্শের সাথে নেপোলিয়ানের আদর্শের বেশ কিছু ফারাক ছিল। তিনি শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্রে ফরাসি বিপ্লবের সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শকে গ্রহণ করলেও স্বাধীনতার আদর্শ বর্জন করেন এবং গণতন্ত্রকে অস্বীকার করেন। শাসনব্যবস্থাকে নিজের আয়ত্বে রেখে প্রিফেক্ট এবং সাবপ্রিফেক্ট নামে পরিচিত রাজকর্মচারীদের সহায়তায় স্বৈরাচারী শাসন শুরু করেন। বিপ্লবী আমলের বিকেন্দ্রীকরণ আবার পরিণত হয় বুরবোঁ আমলের কেন্দ্রিকরণ প্রথায়।

নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের পারস্পরিক অবস্থান

  •  নেপোলিয়ান ইউরোপে কেন্দ্রীভূত শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
  • ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে ব্যাভেরিয়া, ব্যাডেন, উরটেমবার্গসহ ষোলোটি জার্মান রাষ্ট্র নিয়ে গঠন করেন কনফেডারেশন অফ দ্য রাইন এবং সেখানে কোড নেপোলিয়ান চালু করেন।
  • যে ইউরোপের মানুষ তাঁকে এক সময় পরিত্রাতা ভেবেছিল, তাদের কাছে এখন তিনি একনায়কতন্ত্রী ও অত্যাচারী চরিত্রে উপনীত হন এবং তাঁর সাম্রাজ্যে জাতীয়তাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের মধ্যে বিভেদ ঘটে।
  • নেপোলিয়ান ইতালি ও জার্মানিতে অস্ট্রিয়ার শক্তি হ্রাস করে ও প্ৰাশিয়াকে পরাজিত করে সেই অঞ্চলের জনসাধারণের জাতীয়তাবাদী চেতনা বৃদ্ধির চেষ্টা করেন কিন্তু তাদের বৈপ্লবিক চেতনার কাছে তাঁর কূট সাম্রাজ্যবাদী নীতি পরাস্ত হয়।

সাম্রাজ্যিক কার্যকলাপের সঙ্গে সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার আদর্শের বিরোধ

নেপোলিয়নের শাসনকালে একদিকে পুরাতনতন্ত্র, সামন্ততন্ত্র ও চার্চের প্রাধান্য যেমন লুপ্ত হয়েছিল, অন্যদিকে তিনি ফরাসি বিপ্লবকে ইউরোপীয় বিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু তিনি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন না। ফলে তার সাম্রাজ্যে একনায়কতন্ত্র ও স্বাধীনতার মেলবন্ধন ঘটেনি।

ইউরোপের পুনর্গঠন

  • ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে নেপোলিয়ান ফরাসি সৈন্যবাহিনী, কূটনীতি ও জাতীয়তাদকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন রাজ্যের সীমানা পরিবর্তন করেন।
  • ইংল্যান্ডকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য ইউরোপের বন্দরগুলিতে ইংল্যান্ডের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেন। এই অর্থনৈতিক অবরোধ ‘মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত যা নেপোলিয়নের ‘রাজনীতিজ্ঞানের অভাবের বিস্ময়কর প্রমান’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
  • ফ্রান্সের মিত্রশক্তি ফ্রান্স-বিরোধী হতে শুরু করে এবং ইংল্যান্ডের পাল্টা অবরোধে কাঁচামাল আমদানি হ্রাস পাওয়ায় ফ্রান্স অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
  • পর্তুগাল, স্পেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন।
  • ইতালির লম্বার্ডিকে কেন্দ্র করে তিনি স্থাপন করেন সিজালপাইন প্রজাতন্ত্র যা ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে ইতালীয় প্রজাতন্ত্র হিসেবে নামাঙ্কিত হয়।
  • অস্ট্রিয়া ভেনিসের এবং পিডমেন্ট ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স সাম্রাজ্য জেনোয়া, ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে পার্মা, পিয়াসেঞ্জা, টাস্কানি এবং ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে ক্যারিনথিয়া, ক্রোশিয়া, ডালমেশিয়াসহ ইলিরীয় প্রদেশ দখল করে যার সীমানা ভেনেশিয়া, অস্ট্রিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল, এস্কোপ ও ট্রেনটিনো পর্যন্ত বিস্তৃত হয় ১৮১১ খ্রিস্টাব্দে।
  • ইটালির হেলেভেটিক প্রজাতন্ত্র নেপলিয়ানের আমলে পরিণত হয় সুইস কনফেডারেশনে যার উনিশটি ক্যান্টন ফ্রান্সের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
  • ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে বাতাভীয় প্রজাতন্ত্র রূপান্তরিত হয় হল্যান্ড রাজ্যে, যার শাসক ছিলেন নেপোলিয়নের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা লুই হল্যান্ড। ১৮১০ সালে তাঁকে সরিয়ে হল্যান্ড ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত হয় ।
  • ১৮০৩ থেকে ১৮০৫ অবধি চলা ট্রাফলগারের নৌযুদ্ধে ব্রিটেনের কাছে ফ্রান্স পরাজিত হয়।
  • ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে অস্টারলিজের যুদ্ধে নেপোলিয়ান রাশিয়া ও অস্ট্রিয়ার যৌথ বাহিনীকে পরাস্ত করেন।
  • ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে ১৮ টি জার্মান রাজ্য নিয়ে গঠন করেন রাইন কনফেডারেশন যার মধ্যে অন্যতম ছিল ব্যাডেন, ব্যভেরিয়া, উরটেমবার্গ প্রভৃতি।
  • ১৮০৭ থেকে ১৮১০-এর মধ্যে হ্যানোভার, ব্রুনসত্ত্বিক, রেনিস প্রভৃতি রাজ্যাংশ নিয়ে গঠন করেন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্য।
  • ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে লাইপজিগের যুদ্ধে নেপলিয়ানের ফরাসি বাহিনী রাশিয়া, প্রাশিয়া, অস্ট্রিয়া ও সুইডেনের সম্মিলিত বাহিনীর কাছে পরাজিত হয় এবং নেপোলিয়নের পতনের সূত্রপাত ঘটে। ১৮১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফন্টেন ব্লু সন্ধি সাক্ষর করেন ও এলবা দ্বীপে নির্বাসিত হন।
  • ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে মার্চ মাস থেকে ওই বছর জুনে ওয়াটারলুর যুদ্ধে পরাজয়ের পর সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত হওয়ার মধ্বর্তি একশো দিন তিনি ফ্রান্সের শাসনভার গ্রহণ করেন যা ‘শত দিবসের রাজত্ব’ নামে পরিচিত।
  • ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে নির্বাসিত অবস্থায় নেপলিয়ানের মৃত্যু হয়।

জার্মানিতে নেপোলিয়ান বিরোধী জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া

নেপোলিয়ান রাইন নদীর পূর্বতীরের রাজ্যগুলি দখল করে নেওয়ায় প্রাশিয়া আর অস্ট্রিয়া বাদে জার্মানির বাকি রাজ্যগুলো তাঁর অধীনে চলে আসে। নেপোলিয়নের কাছে পরাজয় জার্মানিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। জার্মানিতে প্রাশিয়ার কিছু স্বদেশপ্রেমী হামবোল্ট, হিনডেনবার্, স্টাইন, শার্নহর্স্ট প্রমুখ ব্যক্তি শিক্ষার মাধ্যমে যুবসমাজকে নেপোলিয়নের কূট শাসননীতি সম্পর্কে অবগত করেন এবং সচেতন করে তোলেন, ফলে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ সকলে নেপোলিয়ান-বিরোধী মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে।

আইবেরীয় উপদ্বীপে নেপোলিয়ান বিরোধী জাতীয়তাবাদী প্রতিক্রিয়া

নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ তীব্র ছিলো স্পেনে। সেখানে নেপোলিয়ান, রাজা চতুর্থ চার্লস ও তার ছেলে সপ্তম ফারদিনান্দকে সরিয়ে নিজের ভাই জোসেফ বোনাপার্টকে সিংহাসনে বসান। নেপোলিয়নের গণসমর্থন আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ করে স্পেনে একাধিক বিদ্রোহী সমিতি গড়ে ওঠে। এই বিদ্রোহের চাপে নেপোলিয়ান ১১ দিনের মাথায় রাজধানী মাদ্রিদ ছাড়েন এবং বেলেন, ভিমেয়রা, স্যালাম্যাঙ্কর প্রভৃতি যুদ্ধে পরাজয়ের পর ফরাসি বাহিনী স্পেন ত্যাগ করে।

ফ্রান্সে নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া:- মহাদেশীয় অবরোধ ব্যবস্থার ব্যর্থতার ফলে ফ্রান্সের অর্থনৈতিক দুর্যোগের পর ফ্রান্সের জনগণ নেপোলিয়ান-বিরোধী হয়ে পড়ে।ইংল্যান্ডের জাহাজ ফরাসি উপকূলে না আসায় শহরে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয় ফলে বেকারত্ব বাড়ে। আইবেরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ পরবর্তীকালীন সামরিক অভিযানের জন্য অর্থের ঘাটতি হওয়ায় ফরাসিদের ওপর কর চাপানো হয়। ফলে মানুষের ক্ষোভ বাড়ে।নেপোলিয়নের কূট রাজনীতি ও সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতায় ফ্রান্সে বিপ্লব আসে।

রাশিয়ার আক্রমণ

নেপোলিয়নীয় যুদ্ধে রাশিয়ায় নেপোলিয়ান বাহিনী বিপর্যস্ত হয় সবথেকে বেশি। তাদের সামরিক বাহিনী ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে রুশ-ফরাসি মৈত্রীতে টিলজিটের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু জার আলেকজান্ডার এই চুক্তি ভেঙে ইংল্যান্ডের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপন করলে ক্ষুব্ধ নেপোলিয়ান ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে সুইটজারল্যান্ড, পোল্যান্ড, হল্যান্ড, প্রাশিয়া সহ কুড়িটি দেশের সেনা দ্বারা গঠিত গ্র্যান্ড আর্মি নিয়ে মস্কো অভিযান করে। এমতাবস্থায় রুশ সেনাপতি কুতুজেভের নেতৃত্বে রুশ গেরিলা বাহিনী ‘পোড়ামাটি নীতি’ অবলম্বন করলে নেপোলিয়ানের ফরাসি বাহিনীর পরাজয় সুনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

1 MARKS QUESTIONS of বিপ্লবী আদর্শ , নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

1. বিপ্লবের সন্তান কে ছিলেন?
উত্তর : নেপােলিয়ন বােনাপার্ট ছিলেন ‘বিপ্লবের সন্তান।

2.নেপােলিয়ন কবে ডিরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন?
উত্তর : নেপােলিয়ন ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দের ৯ নভেম্বর ডিরেক্টরি শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন।

3.নেপােলিয়ন বােনাপার্ট কত খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের শাসনক্ষমতা দখল করেন?
উত্তর : নেপােলিয়ন বােনাপার্ট ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের শাসনক্ষমতা দখল করেন।

4.ফ্রান্সে কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থা কে প্রবর্তন করেন?
উত্তর : ফ্রান্সে কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেন নেপােলিয়ন।

5. কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থায় কত জন কনসাল ছিলেন ?
উত্তর : কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থায় ৩ জন কনসাল ছিলেন।

6.কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থার তিনজন কনসাল কারা ?
উত্তর : কনস্যুলেট শাসনব্যবস্থার তিনজন কনসাল হলেন- নেপােলিয়ন, আবে সিয়েস এবং রজার ডুকোস।

7. ফ্রান্সে কনস্যুলেটের শাসনব্যবস্থায় প্রথম কনসাল কে ছিলেন ?
উত্তর : ফ্রান্সে কনস্যুলেটের শাসনব্যবস্থায় প্রথম কনসাল ছিলেন নেপােলিয়ন বােনাপার্ট।

8.নেপােলিয়ন প্রথমে কত বছরের জন্য কনসাল নিযুক্ত হন?
উত্তর : নেপােলিয়ন প্রথমে ১০ বছরের জন্য কনসাল নিযুক্ত হন।

9.কত খ্রিস্টাব্দে সংবিধান সংশােধন করে নেপােলিয়ন যাবজ্জীবনের জন্য কনসাল নিযুক্ত হন?
উত্তর : ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে সংবিধান সংশােধন করে নেপােলিয়ন যাবজ্জীবনের জন্য কনসাল নিযুক্ত হন।

Multiple choice questions – 1 marks of বিপ্লবী আদর্শ , নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ

1. কোড নেপোলিয়ন ঘোষিত হয় –
A. 1806 খ্রিস্টাব্দে B. 1807 খ্রিস্টাব্দে C. 1808 খ্রিস্টাব্দে D. 1809 খ্রিস্টাব্দে
Ans. B

2. নেপোলিয়ন নিজেকে ফরাসি জাতির সম্রাট’ বলে ঘোষণা করেন—
A. 1802 খ্রিস্টাব্দে B. 1803 খ্রিস্টাব্দে C. 1804 খ্রিস্টাব্দে D. 1805 খ্রিস্টাব্দে
Ans. C

3. সাইবেরিয়া উপদ্বীপে যুদ্ধের মূল কারণ ছিল—
A. ফ্রান্সের হস্তক্ষেপ B. ইংল্যান্ডের হস্তক্ষেপ C. রাশিয়ার হস্তক্ষেপ D. অস্ট্রিয়ার হস্তক্ষেপ
Ans. A

4. ‘রাইন-রাষ্ট্রসংঘ’ বা কনফেডারেশন অব দি রাইন গঠিত হয়—
A. 1806 খ্রিস্টাব্দে B. 1808 খ্রিস্টাব্দে C. 1809 খ্রিস্টাব্দে D. 1810 খ্রিস্টাব্দে
Ans. A

5. ফ্রিডল্যান্ডের যুদ্ধে নেপোলিয়ন কোন রাষ্ট্রকে পরাজিত করেন?
A. রাশিয়া B. প্রাশিয়া C. অস্ট্রিয়া D. ইটালি
Ans. A

6.ডাইরেক্টরি শাসনের সদস্য সংখ্যা ছিল—
A. 2 জন B. 3 জন C. 4 জন D. 5 জন
Ans. D

7.নেপোলিয়ন ফ্রান্সের সিংহাসন ত্যাগ করেন—
A. 5 জানুয়ারি 1813 খ্রিস্টাব্দে B. 10 জুলাই 1814 খ্রিস্টাব্দে C. 6 এপ্রিল 1814 খ্রিস্টাব্দে
D. 10 আগস্ট 1812 খ্রিস্টাব্দে
Ans. D

8.নেপোলিয়ন বোনাপার্টের জীবনের শেষ যুদ্ধ –
A. ফ্রিডল্যান্ডের যুদ্ধ B. উলমের যুদ্ধ C. উপদ্বীপের যুদ্ধ D. ওয়াটার্লুর যুদ্ধ
Ans. D

9.মৃত্যুকালে নেপোলিয়নের বয়স হয়েছিল—
A. 32 বছর B. 42 বছর C. 52 বছর D. 62 বছর
Ans. C

10. যে বিপ্লবের মাধ্যমে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ক্ষমতালাভ করেন তা হল –
A. ফরাসি বিপ্লব B. জুলাই বিপ্লব C. ফ্রেবুয়ারি বিপ্লব D. রুশ বিপ্লব
Ans. A

11.নেপোলিয়নের জন্মস্থান ইটালির কর্সিকা দ্বীপটি ফরাসি সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয় –
A. 1768 খ্রিস্টাব্দে B. 1769 খ্রিস্টাব্দে C. 1789 খ্রিস্টাব্দে D. 1799 খ্রিস্টাব্দে
Ans. A

12.নেপোলিয়ন কনফেডারেশন অব দি রাইন-এ ছিল—
A. 18টি রাজ্য B. 25টি রাজ্য C. 33টি রাজ্য D. 36টি রাজ্য
Ans. D

13.বিপ্লবের সন্তান বলা হয়—
A. রুশোকে B. নেপোলিয়নকে C. রোবসপিয়রকে D. অ্যাবে সিয়েসকে
Ans. B

14. নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে চতুর্থ রাষ্ট্রজোট গড়ে উঠেছিল—
A. 1806 খ্রিস্টাব্দে B. 1807 খ্রিস্টাব্দে C. 1809 খ্রিস্টাব্দে D. 1813 খ্রিস্টাব্দে
Ans. D

15. নেপোলিয়ন বোনাপার্টের জীবনের শেষ যুদ্ধ –
A. ফ্রিডল্যান্ডের যুদ্ধ B. উলমের যুদ্ধ C. উপদ্বীপের যুদ্ধ D. ওয়াটার্লুর যুদ্ধ
Ans. D

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে