রাধারানী- (Radharani) Bangla Literature Subject WBBSE Class 9

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

বিষয়সংক্ষেপ 

গরিব বিধবা মায়ের কন্যা হলো রাধারাণী। তার সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, তার মা জ্ঞাতির সাথে মামলা-মোকদ্দমায় হেরে যান এবং অসহায় হয়ে পড়েন। কায়িক পরিশ্রম করে তাদের কোনোরকমে দিন চলে যেত। কিন্তু রাধারাণীর মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাও সম্ভব হতো না। 

ফলত তাদের না খেয়েই দিন কাটাতে হতো। রাধারানী তার মায়ের পথ্যের চিন্তায় অধৈর্য হয়ে বন থেকে ফুল কুড়িয়ে মালা তৈরি করলো। তা হাটে বিক্রি করে মায়ের পথ্যের অর্থ জোগাড় করবে । কিন্তু তার এই আশা পূর্ণ হয়নি কারণ সেদিন বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে যায়।  রাধারানী অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল, কিন্তু বৃষ্টি থামল না এবং মেলাও ঠিক জমেনি। অন্ধকার রাস্তায় বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি যাওয়ার সময় রাধারানীর চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। হঠাৎ, একজন পথচারী তার ঘাড়ে এসে পড়ে এবং সে কেন কাঁদছে তা জানতে চাই। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার অবস্থা, অবস্থান ইত্যাদি জানতে পেরে পথিক রাধারানীকে পাশের রাস্তায় ধরে নিয়ে যায়। তিনি রাধারাণীর গাঁথা মালাও কিনেছিলেন বাড়ির ঠাকুরকে পরানোর জন্য। 

কিন্তু মালার দাম নেওয়ার পর রাধারানীর সন্দেহ হয় যে তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে আর তাই সে বাড়িতে গিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে যাচাই করতে যায় এবং পথিককে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে কিন্তু যাচাই করার পর সে বুঝতে পারে যে তার অনুমান সত্য। বাইরে এসে দেখে সেই পথিক সেখানে ছিল না। ইতিমধ্যে, রাধারানী দোকানের মালিক পদ্মলাচন সাহা একজোড়া শান্তিপুরি শাড়ি রাধারাণীকে দেয় এবং বলে যে, একজন বাবু শাড়ির দাম মিটিয়ে তাকে এই শাড়িটি দিতে বলেছেন । পথিকের পরিচয় নিয়ে সবাই বিস্মিত হয়ে পড়ে। এরপর রাধারানী সেই টাকা নিয়ে ভাঙিয়ে বাজার করে আনে এবং নিজের মায়ের জন্য সামান্য রান্না করেন । 

তারপর মাকে খেতে দেওয়ার আগে যখন সে ঘর ঝাঁট দিতে গিয়ে একটি নোট কুড়িয়ে পায়। সেই নোটে রাধারাণীর নাম এবং দাতার নাম রুক্মিণীকুমার রায় লেখা আছে । এরপর তারা দাতার সন্ধান কোনোরকমভাবে পায়নি । রাধারাণীরা দরিদ্র ছিল কিন্তু লোভী নয় আর তাই তারা নোটটি না ভাঙিয়ে তুলে রাখে। 

নামকরণের তাৎপর্য

গল্পের নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  গল্পকার অত্যন্ত নিপুনতার সাথে গল্পের নামকরণ করে থাকেন। সেই নামকরণ কখনো চরিত্রকেন্দ্রিক বা ঘটনাকেন্দ্রিক বা রূপক ধর্মী হয় এবং নামকরণের মধ্যে থেকেই আমরা সেই গল্পটির মূল আভাস খুঁজে পায়। 

রাধারানী হল একজন পিতৃহীন বিধবা মায়ের কন্যা। সে বন থেকে ফুল তুলে মালা গাঁথে রথের মেলায় বিক্রি করে তার মায়ের পণ্যের অর্থ সংগ্রহের জন্য। কিন্তু মেলার দিন প্রবল বৃষ্টি হওয়ায় সেদিন মেলা বসেনি এবং তার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়নি।  এরপর সে যখন মেলা থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল ঠিক সেই মুহূর্তে অন্ধকারে একজন পথিকের সাথে তার পরিচয় হয় এবং তার প্রতিটি কথা শোনার পর সেই পথিক রাধারানীর মালা কিনে নেয় এবং  সেই মালার দাম চার পয়সা হওয়া সত্ত্বেও তাকে দাম দেয় টাকা। আবার ব্যবসায়ী পদ্মলোচনের দোকানে একটি শাড়ির দাম মিটিয়ে যায় এবং শাড়িটি রাধারানীর বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলেন। সকলের আড়ালে রাধারানীর বাড়িতে একটি রেখে যায় সেই পথিক। এই সমস্ত ঘটনার মূল কেন্দ্র ছিল রাধারানী। গল্পকার এই নির্লোভ, সৎ, নীতিপরায়ণ চরিত্রটিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন এবং যাবতীয় ঘটনা রাধারাণীকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। অর্থাৎ আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে গল্পটির নামকরণ ‘রাধারানী’ আসলে চরিত্রকেন্দ্রীক নামকরণ যা সার্থকতা পেয়েছে। 

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of রাধারানী (RADHARANI)

1 MARKS QUESTIONS of রাধারানী (RADHARANI)

  1. রাধারাণী কোথায় গিয়েছিল? 

উত্তর:) রাধারাণী মাহেশে রথ দেখতে গিয়েছিল।

2.”…বিধবা হাইকোর্টে হারিল।”—এখানে কোন্ মামলার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর:) জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে রাধারাণীর মায়ের যে মামলা হয়েছিল এখানে তার কথাই বলা হয়েছে। 

  1. হাইকোর্টে মামলায় হেরে যাওয়ার ফলে রাধারাণীদের কী অবস্থা হয়েছিল? 

উত্তর:) হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার ফলে ডিক্রি জারি করে রাধারাণীদের ভদ্রাসন থেকে উৎখাত করা হয়।

  1. হাইকোর্টে হেরে যাওয়ার পরে রাধারাণীদের দিন কীভাবে কাটত? 

উত্তর:) হাইকোর্টে হেরে গিয়ে বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে রাধারাণীর মা কুটিরবাসিনী হন এবং কায়িক পরিশ্রমে কোনােরকমে তাদের দিন কাটে।

  1. “সুতরাং আর আহার চলে না।”—এই না চলার কারণ কী বলে তােমার মনে হয়?

উত্তর:) রাধারাণীর মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাঁর উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়, ফলে আহার আর চলে না। 

  1. রাধারাণী মায়ের পথ্যের জন্য কী করেছিল? 

উত্তর:) মায়ের পথ্য সংগ্রহের জন্য রাধারাণী বনফুল তুলে মালা গেঁথে রথের হাটে বিক্রি করার পরিকল্পনা করে। 

  1. “মালা কেহ কিনিল না”—মালা না কেনার কারণ কী ছিল? 

উত্তর:) রথের টান অর্ধেক হতে না হতেই প্রবল বৃষ্টিতে মেলা ভেঙে গেলে মালা কেনার লােক থাকে না। 

৪.“তদপেক্ষাও রাধারাণীর চক্ষু বারিবর্ষণ করিতেছিল।”—কী সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে?

উত্তর:) শ্রাবণের মুষলধারে বৃষ্টিপাতের সঙ্গে তুলনা করে রাধারাণীর চোখের জল ঝরার কথা বলা হয়েছে। 

9.“এক্ষপে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিল।”—কোন্ সময়ের কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর:) অন্ধকারে বাড়ি ফেরার সময় কোনাে একজন রাধারাণীর ঘাড়ের উপরে পড়ায় রাধারাণী উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে ওঠে। 

10.”কিন্তু কণ্ঠস্বর শুনিয়া রাধারাণীর রােদন বন্ধ হইল।’—কেন এমন হয়েছিল? 

উত্তর:) রাধারাণী সেই অপরিচিত কণ্ঠস্বরের মধ্যে একজন দয়ালু মানুষকে আবিষ্কার করেছিল বলে তার কান্না বন্ধ হয়েছিল। 

  1. “রাধারাণী রােদন বন্ধ করিয়া বলিল…”—রাধারাণী কী বলেছিল? 

উত্তর:) রাধারাণী কান্না বন্ধ করে বলেছিল সে দুঃখী লােকের মেয়ে এবং তার মা ছাড়া কেউই নেই। 

12.“তুমি আমার হাত ধরাে”—এ কথা বলার কারণ কী?

 উত্তর:) বক্তা এ কথা বলেছিল কারণ, হাত না ধরলে পিছল পথে রাধারাণীর পড়ে যাবার সম্ভাবনা ছিল। 

13.“রাধারাণী বড়াে বালিকা।”—কীভাবে এই ধারণা হয়েছিল? 

উত্তরঃ) পথিক প্রথমে রাধারাণীর গলার স্বরে এবং পরে তার হাতের স্পর্শে বুঝতে পারেন রাধারাণী নিতান্ত বালিকা। 

  1. পথিক চরিত্রটি মালার সন্ধান করছিল কেন?

উত্তরঃ) পথিক চরিত্রটি তার গৃহদেবতাকে পরানাের জন্য মালার সন্ধান করছিল। 

  1. পথিক চরিত্রটি তার মালা কিনতে না পারার পক্ষে কী যুক্তি  দিয়েছিল?

 উত্তর:) পথিক চরিত্রটি বলেছিল যে রথের হাট তাড়াতাড়ি ভেঙে যাওয়ায় সে মালা কিনতে পারেনি। 

16.“এ যে বড়াে বড়াে ঠেকচে”—কীসের সম্পর্কে এ কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর:) রাধারাণীকে মালার দাম হিসেবে পথিক চার পয়সা দিলে তা অন্ধকারে তার কাছে অনেক বড়াে মনে হয়।

  1. “তুমি ভুলে টাকা দাও নাই তাে?”—কেন বক্তা এ কথা বলেছে? 

উত্তর:) মালার দাম হিসেবে দেওয়া পয়সার আকৃতি এবং অন্ধকারেও তার ঔজ্জ্বল্য দেখে বক্তা রাধারাণী প্রশ্নোধৃত মন্তব্যটি করে। 

18 “…তাই চকচক করছে।”—বক্তা এই চকচক করার কী কারণ বলেছিল? 

উত্তর:) বক্তা পথিক চরিত্রটি বলেছিল যে নতুন কলের পয়সা হওয়ায় মুদ্রা দুটি চকচক করছে। 

19.”…তখন ফিরাইয়া দিব।”—কখন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর:) ঘরের আলােয় ভালােভাবে দেখে পথিকের দেওয়া মুদ্রাটি টাকা হলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 

20.“তারপর প্রদীপ জ্বালিয়াে।—“তারপর’ বলতে বক্তা কীসের পর প্রদীপ জ্বালাতে বলেছেন? 

উত্তর:) এখানে বক্তা ‘তারপর’ বলতে ঘরে গিয়ে রাধারাণীর ভেজা কাপড় ছাড়ার পর বুঝিয়েছেন।

Multiple Choice Questions – 1 marks of রাধারানী (RADHARANI)

1. রাধারাণী’ গল্পের সময়কাল হল-
A. বৈশাখ মাস B. আষাঢ় মাস C. শ্রাবণ মাস D. ভাদ্র মাস
উত্তর:) আষাঢ় মাস
2. ‘রাধারাণী’ গল্পাংশের উৎস হল—
A. সীতারাম উপন্যাস B.আনন্দমঠ উপন্যাস
C. রাধারাণী উপন্যাস D.কৃষ্ণুকান্তের উইল উপন্যাস
উত্তর:) রাধারাণী উপন্যাস
3. রাধারাণী রথ দেখতে গিয়েছিল—
A. পুরীতে B. মাহেশে C. মায়াপুরে D. মামাবাড়িতে
উত্তর:) মাহেশে
4. রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়—
A. আষাঢ় মাস B.শ্রাবণ মাস C.আশ্বিন মাসে D. চৈত্রমাসে
উত্তর:) আষাঢ় মাস
5. মাহেশ’ অঞ্চলটি যে জেলার অন্তর্গত –
A.হুগলী B. হাওড়া C.পূর্বমেদিনীপুর D. বর্ধমান
উত্তর:) হুগলী
6. রাধারাণীরবয়স ছিল—
A. অনধিক দশ B. বারাে C.এগারাের বেশি D.প্রায় এগারাে
উত্তর:) প্রায় এগারাে
7. রাধারাণীদের সংসারে বর্তমান দুরবস্থার কারণ—
A. তাদের বাড়িতে মস্ত চুরি হয়ে গেছে
B.তার বাবার মৃত্যু হয়েছে
C. তার মা এক জ্ঞাতির কাছে মােকদ্দমায় হেরে সর্বস্ব খুইয়েছেন
D.উইলে তার বাবা তাদের জন্য কিছুই লিখে যাননি
উত্তর:) তার মা এক জ্ঞাতির কাছে মােকদ্দমায় হেরে সর্বস্ব খুইয়েছেন
8. রাধারাণীর মা মােকদ্দমা হেরেছিলেন—
A. হাইকোর্টে B. লােয়ার কোর্টে C.সুপ্রিম কোর্টে D.প্রিভি কাউন্সিলে
উত্তর:) হাইকোর্টে
9. রাধারাণীর মা আপিল করেছিলেন –
A. হাইকোর্টে B.প্রিভি কাউন্সিলে C. জমিদারের কাছে D. বড়ােলাটের কাছে
উত্তর:) প্রিভি কাউন্সিলে
10. “যে কায়িক পরিশ্রমে দিনপাত হইত, তাহা বদ্ধ হইল।” রাধারাণীর মায়ের কায়িক পরিশ্রম বন্ধ হওয়ার কারণ—
A. প্রবল বর্ষা B.ভদ্রাসন থেকে উৎখাত হওয়া
C. গুরুতর অসুস্থতা D. অকাল বৈধব্য
উত্তর:) গুরুতর অসুস্থতা
11. “রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে কতকগুলি বনফুল তুলিয়া তাহার মালা গাঁথিল।”— রাধারাণীর মালা গাঁথার উদ্দেশ্যটি হল –
A.পূজা করে দেবতার কাছে মায়ের আরােগ্য কামনা করা
B. রথের হাটে সেই মালা বিক্রি করে মায়ের পথ্যের ব্যবস্থা করা
C.সেই মালা গলায় পরে রথের মেলা দেখতে যাওয়া
D.মালা বিক্রি করে খাবারের ব্যবস্থা করা
উত্তর:) রথের হাটে সেই মালা বিক্রি করে মায়ের পথ্যের ব্যবস্থা করা
12. “…বড়াে বৃষ্টি আরম্ভ হইল।”— যখন বৃষ্টি এল তখন –
A. রথের মেলা ভেঙে গেছে
B. সবে রথ বেরিয়েছে
C. রথ তার নির্দিষ্ট যাত্রাপথের অর্ধেকও অতিক্রম করেনি
D. রাত হয়ে গেছে
উত্তর:) রথ তার নির্দিষ্ট যাত্রাপথের অর্ধেকও অতিক্রম করেনি
13. ”রাধারাণী মনে করিল”-
A. সে বাড়ি ফিরে যাবে
B. বৃষ্টি থামার জন্য অপেক্ষা করবে
C. বৃষ্টি থামলে মানুষের জমায়েত হলেই তার মালা বিক্রি হয়ে যাবে
D. মালা বিক্রির আর কোনাে সম্ভাবনা নেই
উত্তর:) বৃষ্টি থামলে মানুষের জমায়েত হলেই তার মালা বিক্রি হয়ে যাবে
14. রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।”—তার কান্নার কারণ—
A. বৃষ্টিতে সে একেবারে ভিজে গেছে
B. সে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও বৃষ্টি থামেনি
C. বৃষ্টি না থামায় লােকজনও মেলায় আসেনি
D. মালা বিক্রি না হওয়ায় তার মায়ের পথ্য জোগাড় করা হল না
উত্তর:) মালা বিক্রি না হওয়ায় তার মায়ের পথ্য জোগাড় করা হল না
15. রথের মেলা থেকে ফেরার পথ ছিল—
A. বন্যজন্তুপূর্ণ B. কর্দমাক্ত C. তৃণগুল্মপূর্ণ D.জ্যোৎস্নালােকিত
উত্তর:) কর্দমাক্ত
16.“রাধারাণী সেই এক পয়সার বনফুলের মালা বুকে করিয়া রাখিয়াছিল—ফেলে নাই। — রাধারাণীর, এভাবে মালাটি বুকে করে রাখার কারণ—
A. সে অনেক যত্নে বহু সময় ধরে মালাটি গেথেছিল
B. মালাটি বিক্রি করার আশা সে তখনও ছাড়েনি
C. মালাটি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে সে তার মাকে দেখাতে চেয়েছিল
D. এমন সুন্দর বনফুলের মালা সচরাচর দেখা যায় না
উত্তর:) মালাটি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে সে তার মাকে দেখাতে চেয়েছিল
17. “এক্ষপে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিল।”—রাধারাণীর এমন উচ্চৈঃস্বরে কেঁদে ওঠার কারণ—
A. পিচ্ছিল পথের কাদায় সে হঠাৎ পড়ে যাওয়ায় ভীষণ ব্যথা পেয়েছে
B. অন্ধকার রাস্তায় কেউ একজন আচমকা তার ঘাড়ের উপর এসে পড়েছে
C. অচেনা লােকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে সে ভয় পেয়েছে
D. তার মনে হয়েছে আকস্মিকভাবে এগিয়ে আসা মানুষটি তার কষ্ট দূর করতে পারবেন
উত্তর:) অন্ধকার রাস্তায় কেউ একজন আচমকা তার ঘাড়ের উপর এসে পড়েছে
18.”…কণ্ঠস্বর শুনিয়া রাধারাণীর রােদন বন্ধ হইল।”—কণ্ঠস্বরটি হল—
A. রাধারাণীর মায়ের
B. রাধারাণীদের পরিবারের এক জ্ঞাতির
C. মেলা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া এক পুরুষের
D. বস্ত্র ব্যবসায়ী পদ্মলােচন সাহার
উত্তর:) মেলা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়া এক পুরুষের
19. পথিকের কণ্ঠস্বর শুনে রাধারাণীর তাকে মনে হয়েছিল –
A.ভয়ানক লােক B. রাশভারী লােক C. দয়ালু লােক D. কোনােটাই নয়
উত্তর:) দয়ালু লােক
20.“রাধারাণীর ক্ষুদ্র বুদ্ধিটুকুতে ইহা বুঝিতে পারিল।’—তার এই ক্ষুদ্রবুদ্ধির কারণ—
A. তার বয়স তখনও এগারাে পূর্ণ হয়নি
B. পরিচিত গণ্ডীর বাইরে সে কখনাে পা রাখেনি
C. সংসারের জটিলতা ছাপিয়ে বাইরের সমস্যা নিয়ে রাধারাণীর ভাবার সুযােগ ঘটেনি
D. রাধারাণীর অভিভাবকেরা এ বিষয়ে কখনও নজর দেননি
উত্তর:) তার বয়স তখনও এগারাে পূর্ণ হয়নি
21. রাধারাণী পথিককে নিজের বাড়ি বলেছিল—
A. শ্রীরামপুর B. শ্রীরামচন্দ্রপুর C. চণ্ডীপুর D. রামচন্দ্রনগর
উত্তর:) শ্রীরামপুর
22. রাধারাণী রােদন বন্ধ করিয়া বলিল…”রাধারাণীর ‘রােদন বন্ধ করার কারণ—
A. তার সহযাত্রী তাকে কাঁদতে নিষেধ করেছেন
B. সহযাত্রীর কণ্ঠস্বর শুনে তাকে রাধারাণীর দয়ালু বলে মনে হয়েছে
C. অন্ধকার নির্জন পথে সঙ্গে একজনকে পেয়ে সে নিশ্চিন্ত হয়েছিল
D. তার সহযাত্রীটি তার থেকে ফুলের মালাটি কিনে নিতে চাইলেন
উত্তর:) সহযাত্রীর কণ্ঠস্বর শুনে তাকে রাধারাণীর দয়ালু বলে মনে হয়েছে
23. রাধারাণী পথিককে নিজের বয়স বলেছিল—
A. আট-দশ বছর B. ন দশ বছর C. দশবারাে বছর D. দশ-এগারাে বছর
উত্তর:) দশ-এগারাে বছর
24. রাধারাগী মালা গেঁথে রথের হাটে বিক্রি করতে গিয়েছিল কারণ –
A. মালা বিক্রি ছিল তার পেশা B.মায়ের পথ্য জোগাড় করতে হবে
C. বাড়ির নির্দেশ ছিল D. কোনােটাই নয়
উত্তর:) মায়ের পথ্য জোগাড় করতে হবে
25. পথিকের কথা মতাে, সে রথের মেলায় যা খুঁজছিল—
A. একছড়া মালা B. জগন্নাথের বিগ্রহ C. বনফুল D. একজন সঙ্গী
উত্তর:) একছড়া মালা
26. “কিন্তু মনে ভাবিল যে…”—এখানে রাধারাণীর যে ভাবনার প্রসঙ্গ রয়েছে তা হল –
A. দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার রাতে সে কীভাবে বাড়ি ফিরবে
B. সহযাত্রীকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সে কোথায় বসতে দেবে
C. মালার দাম রেখে টাকা ভাঙিয়ে সে কীভাবে তার সহযাত্রীটিকে পয়সা ফেরত দেবে
D. যে এমন দুর্যোগে যত্ন করে অন্ধকারে তাকে বাড়ি পৌছে দিচ্ছে, তার থেকে সে কীভাবে মালার দাম নেবে
উত্তর:) যে এমন দুর্যোগে যত্ন করে অন্ধকারে তাকে বাড়ি পৌছে দিচ্ছে, তার থেকে সে কীভাবে মালার দাম নেবে
27. “রাধারাণী, মালা সমভিব্যাহারীকে দিল।”— সমভিব্যাহারীকে রাধারাণীর মালা দেওয়ার কারণ—
A. তিনি মালাটি কিনে নিতে চেয়েছিলেন
B.রাধারাণী তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল
C. মালাটি তার কাছে বিক্রি করে সে পয়সা নেবে বলে স্থির করেছে
D. মালাটি বিক্রি করার সেই ছিল শেষ সুযােগ
উত্তর:) তিনি মালাটি কিনে নিতে চেয়েছিলেন
2৪. রাধারাণীর সঙ্গী পথিকটি মালার দাম নির্ধারণ করেছিল—
A. তিন পয়সা B. এক পয়সা C. চার পয়সা D. পাঁচ পয়সা
উত্তর:) চার পয়সা
29. “তুমি ভুলে টাকা দাও নাই তাে?”—রাধারাণীর মনে এমন প্রশ্ন জাগার কারণ—
A. চার পয়সা বলে ভদ্রলােক যা দিয়েছেন তা তার হাতে বড়াে বড়াে ঠেকেছে
B. তার মনে হয়েছে কথাবার্তা বলার সময় ভুল করে তিনি তাকে টাকা দিয়েছেন
C. নতুন কলের পয়সা সম্বন্ধে তার সঠিক ধারণা ছিল না
D. অন্ধকারে টাকা না পয়সা তা চিনতে ভদ্রলােকের ভুল হতে পারে বলে তার মনে হয়েছে
উত্তর:) চার পয়সা বলে ভদ্রলােক যা দিয়েছেন তা তার হাতে বড়াে বড়াে ঠেকেছে
30. “ঘরে গিয়ে প্রদীপ জ্বেলে দেখি…”—ঘরে গিয়ে রাধারাণী প্রদীপ জ্বলতে চায়, কেননা সে দেখতে চায়—
A. সেই দয়ালু মানুষকে, যিনি তাকে বাড়ি পৌঁছে দিলেন
B. মালার দাম হিসেবে সে প্রকৃতই পয়সা নাকি টাকা হাতে পেয়েছে
C. মায়ের শরীর এখন কেমন আছে
D. তার কাপড়ে কাদা লেগেছে কি না
উত্তর:) মালার দাম হিসেবে সে প্রকৃতই পয়সা নাকি টাকা হাতে পেয়েছে

short questions – 2-3 marks of রাধারানী (RADHARANI)

1.“কিন্তু আর আহারের সংস্থান রহিল না।” -এই সংস্থান না থাকার কারণ আলােচনা করাে।

উত্তর:) জ্ঞাতির সঙ্গে হাইকোর্টে সম্পত্তি নিয়ে মামলা হওয়ায় রাধারানীর বিধবা মা সেই মামলায় হেরে যায় এবং ডিক্রি জারির ফলে তাদের পিতৃপুরুষদের ভিটে থেকে উচ্ছেদ হতে হয়, এমনকি তাদের 10 লক্ষ টাকার সম্পত্তিও দখল হয়। এরপর খরচ এবং পাওনা শোধ করতে তারা সর্বস্ব হয়ে পরে। রাধারাণীর মা গয়না বিক্রি করে প্রিভি কাউন্সিলে আবজাপিল করলেও শেষপর্যন্ত তাদের আর খাবার জোগাড়ের কোনো পরিস্থিতি থাকে না। 

2.“রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না।”- রাধারাণীর  বিবাহ দিতে না পারার কারণ আলােচনা করাে।

উত্তর:) জ্ঞাতির সাথে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিবাদে হেরে যাওয়ার পর, রাধারানীর বিধবা মা প্রায় দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তি হারিয়ে ফেলে । এরপর যা কিছু অর্থ ছিল তা পাওনা শোধ করতে তারা সর্বস্ব হয়ে পরে। রাধারানীর মা গয়না বিক্রি করে প্রিভি কাউন্সিলের কাছে আবেদন করে এবং আর্থিকভাবে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যায় । এই নিঃস্বের কারণে, রাধারানীর মা, যিনি সারাদিন কায়িক শ্রম করে খেতেন, তার পক্ষে রাধারানীর বিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। 

3.”তাহাতেই মার পথ্য হইবে।”—এই ভাবনাসূত্রটি ব্যাখ্যা করাে। 

উত্তর:) রাধারানীর বিধবা মা একজন জ্ঞাতির সাথে মোকদ্দমায় সর্বস্ব হারিয়ে একটি কুটিরে থাকতে শুরু করেন এবং কায়িক শ্রম করে দিন কাটান। কিন্তু অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর কাজ করতে পারেননি। রথের দিনে, মায়ের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তাঁর জন্য পথ্যের প্রয়োজন হয় । রাধারানী তার মায়ের খাবারের জন্য বন থেকে কিছু ফুল সংগ্রহ করে এবং তা থেকে মালা তৈরি করে রথের মেলায় বিক্রি করতে চায় । 

4.“অগত্যা রাধারাণী কাঁদিতে কাঁদিতে ফিরিল।”- রাধারাণীর কেঁদে কেঁদে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর:) রাধারানী মায়ের পথ্য জোগাড়ের জন্য বনের ফুলের মালা গেঁথে রথের মেলায় গিয়েছিলো কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর প্রবল বৃষ্টির কারণে মেলা ভেঙে যায়। মেলা আবার সমৃদ্ধ হবে এবং তার মালাও বিক্রি হবে এই আশায় রাধারানী বৃষ্টিতে ভিজতে থাকে। রাত হয়ে গেলেও বৃষ্টি না থামায় সে আশা হারিয়ে ফেলে। মালা মেলা দেশে মালা বিক্রি করতে না পারায় অর্থাৎ তার মায়ের জন্য পথ্যের অর্থ জোগাড় করতে না পারায় সে অন্ধকারে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল।

  1. “সেই এক পয়সার বনফুলের মালার সকল কথাই বাহির করিয়া লইল।”—মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করাে। 

উত্তর:) প্রবল বৃষ্টির কারণে মালা বিক্রি করতে না পেরে রাধারানী যখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল ঠিক সেই মুহুর্তে একজন পথিকের সাথে তার দেখা হয়। ফেরার পথে রাধারাণীর হাত ধরে পথিকও তাকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করে। কিন্তু রাধারাণীর পরিচয়, যুবতী রাধারাণীর একা রথে যাওয়া, তার কান্নার কারণ ইত্যাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে পথিক এই যাত্রায় “এক পয়সার বুনো ফুলের মালা” সম্পর্কে সমস্ত বিবরণ জানতে পারে।

  1. “তুমি দাঁড়াও, আমি আলাে জ্বালি”- এই আলাে জ্বালার কারণ আলােচনা করাে।

উত্তর:) প্রবল বৃষ্টির কারণে মালা বিক্রি করতে না পেরে রাধারানী যখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল ঠিক সেই মুহুর্তে একজন পথিকের সাথে তার দেখা হয়। সেই পথিক রাধারাণীর থেকে চার পয়সার মালা কেনে। দাম পাওয়ার পর সে বুঝতে পারে তাকে দেওয়া মুদ্রাগুলি বড়ো এমনকি পথিক ‘ডাবল পয়সা’, ‘নূতন কলের পয়সা’ বলে লোভ দেখালেও নির্লভ রাধারানী বাড়িতে আলোতে তা পরীক্ষা করার কথা জানায় ।

7.“তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লােভী নয়।”—মন্তব্যটি ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর:) রাধারানী যখন রথের মেলা থেকে বাড়ি ফিরছিল ঠিক সেই সময় এক পথিকের সাথে তার দেখা হয় । তিনি রাধারাণীর কাছ থেকে ফুল কেনেন, তার জন্য বস্ত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং এমনকি রাধারানীকে সহায়তা করার জন্য তাদের বাড়িতে তাদের নাম সহ একটি নোট রেখে যান। রাধারাণীরা দরিদ্র কিন্তু লোভী নয়। পথিক তাদের জন্য যা করেছিল তা যথেষ্ট ছিল । তাই দাতার উদারতার চিহ্ন হিসাবে, তারা সেই নোটটি খরচ না করে গুছিয়ে রাখে ।

long questions – 5 marks of রাধারানী (RADHARANI)

1.“রাধারাণী নামে এক বালিকা মাহেশে রথ দেখিতে গিয়াছিল।” রাধারাণীর মাহেশে রথ দেখতে যাওয়ার কারণ কি ছিল? সেখানে তার কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল? 

 উত্তর:) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “রাধারাণী” গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র এগারো বছরের কম বয়সী রাধারানী । 

রাধারাণীর বিধবা মা জ্ঞাতির সঙ্গে মোকদ্দমায় বিস্তৃত সম্পত্তি হারিয়ে ফেলে এবং কায়িক পরিশ্রম করে একটি কুটিরে দিনযাপন করতে থাকে। তার মা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দিন কাটানো অতিষ্ট হয়ে পড়ে। তবে মায়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় রথযাত্রার দিন খাবারের প্রয়োজন ছিল। রাধারানী বন থেকে ফুল সংগ্রহ করে একটি মালা তৈরি করে মায়ের পথ্যের জন্য । রাধারাণীর মাহেশে রথের মেলা যাওয়ার মূল কারণ হলো মালা বিক্রি করে মায়ের পথ্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা ।

প্রচণ্ড বৃষ্টির ফলে মেলা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ায় রাধারানীর মালা বিক্রি হয় না। রাধারানী যখন অন্ধকারে বাড়ির পথে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিলো, তখন তার ঘাড়ের উপরে একজন পথিক এসে পড়ে । রাধারানী কেন কাঁদছে তা নিয়ে সে কৌতূহলী। লোকটির কণ্ঠ রাধারাণীর কাছে তার প্রেমময় চরিত্র প্রকাশ করেছিল। যখন সে জানতে পারে কেন রাধারাণীর রথ মেলায় যাত্রা করছে, তখন লোকটি মালা কিনে রাধারাণীর হাত ধরে বাড়ি ফেরার অন্ধকার পথে সাহায্য করে।

2.“কিন্তু কণ্ঠস্বর শুনিয়া রাধারাণীর রােদন বন্ধ হইল।”— রাধারাণী কেন কেঁদেছিল এবং তা বন্ধই বা হয়েছিল কেন? গল্পের কাহিনি অবলম্বনে আলােচনা করাে। 

উত্তর:) উদ্ধৃত অংশটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারানী’ গল্প থেকে গৃহীত। 

মায়ের জন্য খাবার কেনার জন্য রাধারানী রথের মেলায় গিয়েছিলেন ফুলের মালা বিক্রি করতে। তবে, ভারী বৃষ্টির কারণে মেলা উঠে যায়, এইভাবে তার মালা আর বিক্রি হয়নি । সে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করলেও বৃষ্টি থামেনি এবং রথের মেলাও আর জমেনি। শেষপর্যন্ত রাত হয়ে গেলে আর বৃষ্টি না থামায় রাধারানী কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির পথ ধরে। 

কর্দমাক্ত, অন্ধকার পথ ধরে রাধারানী যখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিল রাস্তা পিছল হওয়ায় সে পড়ে যাচ্ছিলো কিন্তু মালাটিকে সে বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেছিলো। সেই মুহূর্তে অপ্রত্যাশিতভাবে কেউ তার ঘাড়ের উপর এসে পড়ে । ব্যক্তি রাধারাণীর পরিচয় জানতে আগ্রহী। যদিও লোকটি তার কাছে অপরিচিত, রাধারাণী তার কথা বলার ধরনে বুঝতে পারে ব্যক্তিটি দয়ালু স্বভাবের । এই কারণে তার কান্না বন্ধ হয়ে যায় ।

3.“আমরাও ভিখারি হইয়াছি, দান গ্রহণ করিয়া খরচ করি।”— বক্তার এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট গল্পাংশ অবলম্বনে আলােচনা করাে।

 উত্তরঃ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ ছোটগল্পে রাধারাণীর মা এই কথা বলেছেন। অতীতে রাধারাণীর সংসার ছিল খুবই পরিপূর্ণ। কিন্তু জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে মামলা হওয়ায় তার মা হেরে যায়, মামলার খরচ, পাওনা শোধ করতে, প্রিভি কাউন্সিলে আবেদন করায় তার মা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। শেষে রাধারানীর মা একটি কুটিরে আশ্রয় নিয়ে কায়িক পরিশ্রম করে দিন কাটাতে থাকে। মা অসুস্থ হলে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়। এক সময়ে কয়েক দিন খাবারের এভাবে উপবাস শুরু হয় । রাধারানীর মা এই জীবনকেই ‘ভিক্ষুকের জীবন’ বলে অভিহিত করেছেন।

রাধারানী তার অসুস্থ মায়ের পত্র জোগাড়ের জন্য মন থেকে ফুল তুলে তার মালা গেঁথে রথের মেলায় বিক্রি করতে যায়। কিন্তু সেখানে বৃষ্টি হওয়ার জন্য মেলা ভেঙে যায় ফলত শেষপর্যন্ত সে মালা বিক্রি করতে পারে না। হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় একজন পথিকের সাথে তার দেখা হয় এবং সে সেই মালাটি কিনে নেয়। মালার দাম পাওয়ার পর সে যখন বাড়িতে গিয়ে আগুন জ্বালিয়ে যাচাই করে যে পয়সার বদলে তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে তখন সে বাইরে বেরিয়ে পথিককে আর খুঁজে পায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রতীক্ষা দেখতে না পেয়ে রাধারানী বিভ্রান্ত হয়ে তার মায়ের কাছে পরামর্শ চাইলে তার মা বলেন যে দাতা অর্থ দিয়েছেন এবং তারা যেহেতু দরিদ্র তাই তাদের তা গ্রহণ করে খরচ করা ছাড়া আর অন্য কোন উপায় নেই। 

  1. “নােটখানি তাহারা ভাঙাইল না—তুলিয়া রাখিল তাহারা দরিদ্র, কিন্তু লােভী নহে।”—মন্তব্যটির তাৎপর্য গল্পাংশ অবলম্বনে আলােচনা করাে। 

উত্তর:) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাধারানী গল্পে, পিতৃহীন রাধারানী, যার বয়স এগারো বছরেরও কম ছিল, তার মা অসুস্থ হয়ে পড়ায় মায়ের খাবারের জন্য ফুলের মালা সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতে রথের মেলায় গেছিলো । কিন্তু প্রবল বৃষ্টির কারণে মালা বিক্রি করতে না পেরে সে যখন হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছিলো তখন একজন পথচারী তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। তিনি মালার দাম চার পয়সার বিনিময়ে দুই টাকা দিয়েছেন। রাধারানী ঘটনাটি মেনে নিতে চায়নি, কিন্তু তার মায়ের মন্তব্যে সে তা গ্রহণ করে । এরপর রাধারাণী আশ্চর্যভাবে পদ্মলালেচনের মাধ্যমে ওই পথিকের পাঠানো দুটি শাড়ি গ্রহণ করেন। কিন্তু ঘর ঝাঁট দেওয়ার সময় পাওয়া নোটটি রাধারানী এবং তার মা উভয়েই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ এটার তাদের প্রয়োজন ছিল না। তাই তারা যখন জানতে পারে সেই পথিক হলেন রুক্মিণীকুমার রায় তখন তার খোঁজ করেন নোটটি ফেরত দেওয়ার জন্য। পথিককে খুঁজে না পেয়ে তারা নোটটিকে তুলে রাখে।  এই ঘটনা থেকে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে রাধারাণীরা গরিব হলেও তাদের সততা ও নির্লোভ মানসিকতা লোভকে জয় করেছে। 

  1. রাধারাণী’গল্পাংশে রাধারাণীর চরিত্রকে যেভাবে পাওয়া যায় তা নিজের ভাষায় আলােচনা করাে।

 উত্তর:) ‘রাধারানী’ গল্পের নামকরণের মধ্য দিয়ে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে চরিত্রটির গুরুত্ব কতখানি। 

মায়ের প্রতি ভক্তি : রাধারাণী শুধুমাত্র মায়ের পথ্যের জন্য ফুল সংগ্রহ করে তা থেকে মালা তৈরী করে মেলায় বিক্রি করতে যাওয়ার মধ্যে দিয়ে বোঝা যায় মায়ের প্রতি তার অসীম ভক্তি। আবার রুক্মিণীকুমারের কাছ থেকে পাওয়া মালা বিক্রির অতিরিক্ত অর্থ সে মায়ের কথাতেই গ্রহণ করেছে। 

দায়িত্ববোধ : রাধারানী বয়সের দিক থেকে ছিল অত্যন্ত ছোট কিন্তু তার দায়িত্ববোধ ছিল অসীম। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই সে অসুস্থ মায়ের পথ্যের অর্থ সংগ্রহের জন্য বন থেকে ফুল জোগাড় করে মালা গেঁথে একাই সে রথের মেলায় তা বিক্রি করতে গেছিলো। 

সততা : রাধারানী সৎ বলেই, রুক্মিণীকুমারের থেকে মালা বিক্রির অতিরিক্ত অর্থ তাঁকে ফেরত দিতে চেয়েছিলো এবং রাধারাণীর ঘরে রেখে যাওয়া নোটটিও সে খরচ করেনি। 

সেবাপরায়ণতা : মায়ের জন্য বাজারে গিয়ে তেল আনা, রান্না করা, ঘর পরিষ্কার করা, মাকে খেতে দেওয়া – এই সমস্ত কাজ শুধুমাত্র সে তার অসুস্থ মায়ের জন্য করেছে অর্থাৎ তাঁর মায়ের প্রতি সেবাপরায়ণতা দিক ফুটে ওঠে। 

কৃতজ্ঞতাবোধ : যে পথিক তাকে অন্ধকারে হাত ধরে পথ দেখিয়ে বাড়ি নিয়ে আসে, সেই উপকারী মানুষের থেকে মালার দাম নেওয়া নিয়ে রাধারাণীর যে সংশয় তা থেকে তার কৃতজ্ঞতাবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।  

  1. “রাধারাণীর বিবাহ দিতে পারিল না।” রাধারাণীর পরিচয় দাও। কে, কেন তার বিবাহ দিতে পারে নি ?

উত্তরঃ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারাণী’ গল্পের রাধারানী হলো প্রায় এগারো বছরের এক বালিকা। রাধারানী ছিল পিতৃহীন বিধবা মায়ের মেয়ে। বড়োলোক হওয়া সত্ত্বেও তাদের অবস্থা ভালো ছিল না। 

রাধারাণীরা বড়োলোক হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির চাপে তাদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। সম্পত্তি নিয়ে একজন জ্ঞাতির সাথে মামলা-মোকদ্দমা হওয়ায় হাইকোর্টে তার মা হেরে যায়। এরফলে তারা নিজের বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছিষ্ট হয়, এমনকি দশ লক্ষ্য টাকার সম্পত্তিও হাতছাড়া হয়ে যায়। নগদ যে টাকা ছিল তা অন্যান্য খরচ ও পাওনা পরিশোধ করতে শেষ হয়ে যায়। তার মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করার জন্য নিজের গয়না বিক্রি করে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলে। শেষপর্যন্ত তারা একটি কুটিরে আশ্রয় নিয়ে কায়িক পরিশ্রম করে দিনযাপন করতে থাকে। তাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হওয়ায় রাধারাণীর মা রাধারাণীকে বিবাহ দিতে পারেননি। 

  1. রাধারাণী’ রচনাংশ অবলম্বনে সেকালের সমাজজীবনের পরিচয় দাও। 

উত্তর:) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘রাধারানী’ গল্পটি কোনো সামাজিক সমস্যা ও সংকটকে অবলম্বন করে লেখেননি। তবে লক্ষ্য করলে বোঝা যায় যে কাহিনীতে সমাজ কিছুটা হলেও উঠে এসেছে। 

  • আইনি বিবাদে রাধারাণীদের সর্বস্ব হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে, তৎকালীন সময়ে মামলা-মোকদ্দমা ছিল। 
  • রথের মেলার উপলক্ষ্যে সাধারণ মানুষের সমাগমের মধ্যে দিয়ে গ্রামবাংলার ছবি ফুটে উঠেছে। 
  • তৎকালীন সময়ে দারিদ্রতার পরিচয় মেলে রাধারাণীর পরিবারের করুন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে, তাদের খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের অভাব থেকে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না তাদের দারিদ্রতা। 
  • আবার অসৎ ব্যবসায়ী পদ্মলোচন সাহার চার টাকার শাড়ি আট টাকা সাড়ে চোদ্দ আনায় বিক্রি করার মধ্য দিয়ে তৎকালীন সময়ের অসাধু ব্যবসায়ীর কথা ফুটে ওঠে। 
  • তৎকালীন সময়ে যে নারীশিক্ষার প্রকলন ছিল তা লেখকের উক্তির মধ্য দিয়ে বোঝা যায় – ‘রাধারানী বড়ঘরের মেয়ে, একটু অক্ষরপরিচয় ছিল।’
  • রুক্মিণীকুমার রায়ের রেখে যাওয়া নোট তুলে রাখার মধ্য দিয়ে সৎ ও আদর্শবাদী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছে রাধারানী এবং তার মা।
error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে