আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

সারসংক্ষেপ

মুক্ত গঙ্গা যেখানে স্পর্শ করেছে সেই পবিত্র অঞ্চলে বাঙালি বাস করে। বাংলার প্রকৃতি ফুল-ফলে পূর্ণ সৌন্দর্যমন্ডিত। প্রতিকূলতার মধ্যেও বাঙালিরা অটল থেকেছে। তারা পূর্বপুরুষদের দৃঢ়তা এবং সাহসিকতা বহন করেন। এদের গর্বের একটি দিক হল বিজয় সিং কর্তৃক লঙ্কা দখল, মুঘলদের বিরুদ্ধে চাঁদ রায় প্রতাপাদিত্যের প্রতিরোধ বা মগ আক্রমণকারীদের বিতাড়ন। 

বাঙালির গর্বিত ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে কপিলমুনির সাংখ্যদর্শন, বৌদ্ধ ধর্মের প্রসারে অতীশ দীপঙ্করের অবদান, মিথিলা পণ্ডিত মহাবীর মিশ্রের বিরুদ্ধে রঘুনাথ শিরোমণির বিজয় এবং জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ রচনা। 

‘বরভূধর’ বা ‘ওঙ্কারধাম’ সৃষ্টি বাঙালি স্থপতিদের কৃতিত্বকে তুলে ধরে। বিটপাল ও ধীমান নামে দুই বিখ্যাত ভাস্কর বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। বাঙালিরা তাদের আবেগ প্রকাশের জন্য কীর্তন এবং বাউলগান সৃষ্টি করে। বাঙালিরা আধ্যাত্মিকতাকে বেঁচে থাকার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছে । ঈশ্বর ও মানুষ কাছাকাছি এসেছে । বাঙালির হৃদয়-অমৃত চৈতন্যর মধ্যে দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিবেকানন্দ বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 

বাঙালি জাতি হিসেবে তাদের বৈজ্ঞানিক কৃতিত্বের জন্য গর্বিত। মহামিলনের গান পরিবেশন করেছেন কবি। বাঙালির বুদ্ধিমত্তা তাকে সত্য এবং অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর আবিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। এই পূর্ব সফলতার উপর ভিত্তি করে, ভবিষ্যতে সাফল্য সম্ভব হবে। জবরদস্তি বা হিংসা ব্যবহার না করে সম্প্রীতির মন্ত্রে বাঙালি তার প্রতিভা প্রতিষ্ঠা করবে।

নামকরণের তাৎপর্য

সাহিত্যে নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । কবিতায় ব্যঞ্জনাধর্মী নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু বা ভাব অনুযায়ী করা হয়।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতাটি তাঁর উগ্র জাতীয়তাবাদকে প্রকাশ করে। এই জাতীয়তাবাদে অন্য জাতির উপরে কোনো বিদ্বেষ নেই, শুধু নিজের জাতি ও গোত্রের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসা ও গর্ব।

লেখক বাঙালি জাতির মহানুভবতার গল্প বলার আগে বাংলামায়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়ে কবিতাটি শুরু করেছেন। এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে এই ক্ষেত্রে কবি নিজেকে ছোট প্রাদেশিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেননি। কবি এই গৌরবগাথায় শুধু জন্মসূত্রে বাঙালিদের কথা নয়, যাঁরা বাঙালিকে ভালোবাসেন বা বাংলার সঙ্গে কোনো না কোনো সম্পর্ক রেখেছে তাঁদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাই শ্রীকৃষ্ণ বা কপিলমুনি বাঙালি না হয়েও বাংলার সুনাম বৃদ্ধি করেছেন।

বাঙালির জয়গাথা লিখতে গিয়ে কবি শুধু ইতিহাসের উপর নির্ভর না করে, লোককাহিনীর উপরেও নির্ভর করেন। কবি বীর বিজয়সিংহ, বারোভূইয়ার অন্যতম চাঁদ রায়, প্রতাপাদিত্য, পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর, রঘুনাথ শিরোমণি, এবং কবি জয়দেব সকলকেই সম্মান জানিয়েছেন। তিনি পাল আমলের সুপরিচিত ভাস্কর বিটপাল, ধীমানের কথাও স্মরণ করেছেন ।

সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে বাংলার অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং এই অঞ্চলে পাল-সেন আমলের স্থাপত্য প্রভাবের ঐতিহাসিক প্রমাণের ভিত্তিতে কবি ‘বরভূধর’ স্তূপ এবং “ওঙ্কার-ধাম” মন্দিরে বাঙালির অবদান নিয়ে আলোচনা করেছেন।

কবি শ্রীচৈতন্যদেব, বিবেকানন্দ, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব-প্রত্যেকের আলাদাভাবে নাম উল্লেখ না করলেও প্রত্যেকের জয়গান গেয়েছেন ।

লেখক অনেক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ বাঙালিদের অবদানকে স্মরণ করেছেন এবং ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালির সংস্কৃতির মূল সুর উল্লেখ করেছেন। এই সুর মানুষ এবং মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করে। মানুষ দেবতার সাথে আত্মীয়তার পাশাপাশি প্রিয়জনদের দেবতাজ্ঞানে মর্যাদা দিয়েছে । 

আবেগপ্রবণ বাঙালি জনগণ, তাই যারা তাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বের সাথে ভাগ করে নিতে আগ্রহী ছিল তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি বরং সাদরে কাছে টেনে নিয়েছে। কীর্তন ও বাউলগানে এই প্রেম ও সম্প্রীতি শোনা যায়।

অবশেষে, কবি স্বদেশ ও স্বজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনেছেন । তিনি বিশ্বাস করতেন যে বাঙালি নিঃসন্দেহে একদিন বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অর্জন করবে ।

কবি বাঙালী জাতিকে কেন্দ্র করে অর্থাৎ আমাদের কথা নিয়ে কবিতাটি রচনা করেছেন । অতএব, কবিতাটি বিষয়ভিত্তিক এবং‘আমরা’ নামকরণ সার্থক হয়েছে ।

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of আমারা- (Aamra)

1 MARKS QUESTIONS of আমারা- (Aamra)

  1. 1. গঙ্গা কোথায় মুক্তি বিতরণ করে?

উত্তর-সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর আমরাকবিতায় বলেছেন যে মুক্তধারা গঙ্গা তীর্থভূমি বাংলায় মুক্তি বিতরণ করে।

 2.‘ভালে কাঞ্ছন-শৃঙ্গ-মুকুটবলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর বঙ্গভূমির উত্তরে বরফে ঢাকা হিমালয় পর্বতমালার সূর্যকিরণে সোনার রং ধারণ করাকে কবি বাংলামায়ের কপালে সোনার মুকুট বলেছেন। 

  1. 3. বাংলা মায়ের কোল ও বুক ভরা কীসের কথা কবি বলেছেন?

উত্তর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমরাকবিতায় বাংলা মায়ের কোলভরা সোনালি ধান আর বুকভরা অফুরন্ত স্নেহের কথা বলেছেন। 

  1. 4. বাংলা মায়ের দেহ কোন্ কোন্ ফুলে ভূষিত?

উত্তর বাংলা মায়ের দেহ অতসী ও অপরাজিতা ফুলে ভূষিত। তাঁর বামহাতে কমলার ফুল আর চরণে পদ্ম শোভা পায়। 

  1. 5. সাগর কেমন করে বঙ্গভূমির বন্দনা করে?

উত্তর: বঙ্গভূমির দক্ষিণতম প্রান্তে থাকা বঙ্গোপসাগর অনবরত অজস্র ঢেউয়ের আছড়ে পড়ার মধ্য দিয়ে তার বঙ্গভূমির বন্দনা করে। 

  1. 6. বাঙালি জাতি কীসের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে?

উত্তর বাংলার দক্ষিণে অবস্থিত সুন্দরবনের গভীর অরণ্যে হিংস্র বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঙালি বেঁচে থাকে।

 7.“আমরা হেলায় নাগেরে খেলাই”—কবি কেন বলেছেন?

উত্তর বাংলার নদী-খাল-বিলে অসংখ্য সাপের বাস । সাপখেলাদেখানো কিছু বাঙালির পেশা, তাই কবি একথা বলেছেন।

 ৪. নাগের মাথায় কে নেচেছিলেন?

উত্তর পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে শ্রীকৃষ্ণ কালিয় নাগের মাথা অর্থাৎ ফণার উপর নেচেছিলেন।

  1. 9. চতুরঙ্গ কী?

উত্তর হাতি, ঘোড়া, রথ ও পদাতি এই চারটি শাখাবিশিষ্ট সেনাবাহিনীকে চতুরঙ্গ বলে। 

  1. 10. কবির মতে বাঙালি সেনা কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল?

উত্তর: কবির মতে বাঙালি সেনা রাবণজয়ী রামচন্দ্রের প্রপিতামহ রঘুর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। 

  1. 11. কোন্ বাঙালি লঙ্কা জয় করেছিলেন?

উত্তর রাঢ় বাংলার সিংহপুরের রাজপুত্র বাঙালি বিজয়সিংহ লঙ্কাদ্বীপ জয় করে সেখানে রাজত্ব ও রাজবংশ প্রতিষ্ঠা । করেন। 

  1. 12. সিংহল নামের মধ্য দিয়ে কোন্ বাঙালি নিজের শৌর্যের পরিচয় রেখেছেন?

উত্তর বাঙালি বিজয়সিংহ লঙ্কা জয় করে সিংহল নামের মধ্য দিয়ে নিজের শৌর্যের পরিচয় রেখেছেন। 

  1. 13. কবির মতে কাদের হুকুমে দিল্লিন্থকে হঠতে হয়েছিল?

উত্তর কবির মতে বাংলার বিখ্যাত বারোভুঁইয়ার অন্যতম চাঁদরায় ও প্রতাপাদিত্যের হুকুমে দিল্লিনাথকে হঠতে হয়েছিল। 

14.‘আদিবিদ্বান্কাকে বলা হয়েছে?

উত্তর বৈদিক ঋষি, সাংখ্যদর্শন প্রণেতা মহামুনি কপিলকে আদিবিদ্বান্ বলা হয়েছে।

  1. 15. তিব্বতে জ্ঞানের দীপ কে জ্বেলেছিলেন?

উত্তর বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর বা দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান তিব্বতে জ্ঞানের দীপ জ্বেলেছিলেন তথা বৌদ্ধধর্মের প্রচার করেছিলেন।

16.‘পক্ষঘরের পক্ষশাতনবলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর বাঙালি পণ্ডিত রঘুনাথ শিরোমণির মিথিলার মহাপণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রকে বিতর্কসভায় পরাজিত করাকে কবি পক্ষধরের পক্ষশাতনবলেছেন।

  1. 17. অজন্তা কেন বিখ্যাত?

উত্তরখ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে বুদ্ধদেব ও জাতকের কাহিনি নিয়ে আঁকা গুহাচিত্রগুলির জন্য অজন্তা বিখ্যাত।

  1. 18. বাঙালি কোন্ গানে তার হৃদয়ের গোপন দ্বার খুলে দিয়েছে?

উত্তর বাঙালি তার একান্ত নিজস্ব কীর্তন আর বাউলগানে হৃদয়ের গোপন দ্বার খুলে দিয়েছে।

  1. কারা মন্বন্তরে মরেনি?

উত্তর বাঙালি জাতি মরেনি । মন্বন্তরে বহু মানুষের মৃত্যু হলেওবাঙালি জাতি শেষপর্যন্ত তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।

20.‘মারী নিয়ে ঘর করি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর বাংলায় বহুবার বিভিন্ন রোগে মহামারি দেখা দিয়েছে।তাই কবি বলেছেন আমরা মারী নিয়ে ঘর করি

  1. মন্বন্তর এবং মহামারির পরেও বাঙালি কীভাবে বেঁচেছে?

উত্তর কবির মতে বিধাতার আশীর্বাদে বাঙালি অমৃতের টিকাপরে মন্বন্তর এবং মহামারির পরেও নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখেছে।

  1. আকাশে প্রদীপ জ্বালা হয় কেন?

উত্তর বাঙালি হিন্দুরা স্বর্গগত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে কার্তিক মাসের সন্ধ্যায় বাঁশের ডগায় প্রদীপ জ্বেলে দেয়।

  1. ‘মানুষের ঠাকুরালি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর- নিজের কর্মগুণে রক্তমাংসের মানুষের দেবত্বে উত্তীর্ণ হওয়াকেই কবি ‘মানুষের ঠাকুরালি’ বলেছেন।

  1. ‘বাঙালির হিয়া অমিয় মথিয়া’ কে কায়া ধরেছেন?

উত্তর- বাঙালির হৃদয়-অমৃত মন্থন করে নিমাই তথা শ্রীচৈতন্যদেব মানব মূর্তি ধারণ করেছেন।

  1. কার বাণী জগৎময় ছুটেছে?

উত্তর- সন্ন্যাসী বিবেকানন্দের বাণী জগৎময় ছুটেছে অর্থাৎ তাঁর মতাদর্শ সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

  1. ‘জড়ের সাড়া’ কে পেয়েছিলেন?

উত্তর- বাঙালি বিজ্ঞানসাধক আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, মানুষের কাছে আপাতদৃষ্টিতে জড়পদার্থ গাছের মধ্যে প্রাণের সাড়া পেয়েছিলেন।

  1. শব-সাধনা কী?

উত্তর-সদ্যোমৃত পুরুষের শবের উপর ঘোড়ায় চড়ার ভঙ্গিতে বসে তান্ত্রিক সাধনাকেই শব-সাধনা বলা হয়।

  1. বিষম ধাতুর মিলন কে ঘটিয়েছেন?

উত্তর- বিষম অর্থাৎ ভিন্ন ধর্মবিশিষ্ট ধাতুর রাসায়নিক । সংযোগ ঘটিয়েছেন বাঙালি বিজ্ঞানী, রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়।

  1. জগতে মহামিলনের গান কে গেয়েছেন?

উত্তর- বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জগতে মহামিলনের গান গেয়েছেন।

  1. বাঙালি কার মুখের প্রশ্ন কেড়ে নিয়েছে?

উত্তর-‘আমরা’ কবিতায় কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের মতে বাঙালি বেতালের মুখের প্রশ্ন কেড়ে নিয়েছে।

  1. শ্মশানের বুকে আমরা কী রোপণ করেছি?

উত্তর- শ্মশানের বুকে আমরা পঞ্চবটী অর্থাৎ বট, বেল, অশ্বত্থ, অশোক, আমলকী—এই পাঁচটি বৃক্ষ রোপণ করেছি।

  1. ‘আমরা’ কবিতায় পঞ্চবটীর ছায়ায় বাঙালি কী করবে বলে কবি বলেছেন?

উত্তর- পঞ্চবটীর ছায়ায় বাঙালি জগতের শতকোটি মানুষের মধ্যে মিলন ঘটাবে।

  1. ‘আমরা’ কবিতায় বিধাতার বরে কী হবে বলে কবি মনে করেছেন?

উত্তর- বিধাতার বরে অর্থাৎ আশীর্বাদে সারা পৃথিবী বাঙালির গৌরবে ভরে উঠবে বলে কবি আশা করেন।

  1. ভুবন কেমন করে বাঙালির গৌরবে ভরে উঠবে?

উত্তর- বিধাতার আশীর্বাদে এবং বাঙালির প্রতিভা ও তপস্যাবা সাধনায় পৃথিবী তার গৌরবে ভরে উঠবে।

  1. আমরা কীভাবে দেব-ঋণে মুক্ত হব?

উত্তর- সারা পৃথিবীর মানুষকে মিলনের মহামন্ত্রে দীক্ষিত করে আমরা বাঙালিরা ‘দেব-ঋণে’ মুক্ত হব।

multiple choice questions – 1 marks of আমারা- (Aamra)

1.‘’—-গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে’’—
A. যুক্তবেণীর B. মুক্তবেণীর C. ত্রিবেণীর D. পঞ্চবেণীর
উত্তর:-মুক্তবেণীর
2.বঙ্গমাতার বাম হাতে কার ফুল?
A. দুর্গার B. কালীর C. লক্ষ্মীর D. শ্বেতার
উত্তর:-লক্ষ্মীর
3.“ভালে_________শৃঙ্গ-মুকুট”—
A. রৌপ্য B. তাম্র C. হীরক D. কাঞ্চন
উত্তর:-কাঞ্চন
4.বঙ্গমাতার চরণে কোন্ ফুল?
A. পদ্ম B. গোলাপ C. জবা D. চাঁপা
উত্তর:-পদ্ম
5.“আমরা বাঙালি বাস করি সেই- ভূমি বঙ্গে।”_________
A. অবাঞ্ছিত B. বাঞ্ছিত C. বঞ্চিত D. লাঞ্ছিত
উত্তর:-বাঞ্ছিত
6.আমরা কীসের সঙ্গে যুদ্ধ করেবেঁচে আছি?
A. বাঘ B. সিংহ C. হাতি D. সাপ
উত্তর:-বাঘ
7.“আমাদের সেনা যুদ্ধ করেছে সজ্জিত_________’’
A. অন্তরঙ্গে B. বহিরঙ্গে C. চতুরঙ্গে D. পঞ্চরঙ্গে
উত্তর:-চতুরঙ্গে
8.আমাদের কোন্ ছেলে লঙ্কা জয় করেছিলেন?
A. অজয়সিংহ B. বিজয়সিংহ C. সুজয়সিংহ D. জয়সিংহ
উত্তর:-বিজয়সিংহ
9.“একহাতে মোরা _________রুখেছি, মোগলেরে আর-হাতে”
A. বাঘেরে B. শকেরে C. মগেরে D. ঠগেরে
উত্তর:-মগেরে
10.‘আদিবিদ্বান্’ কাকে বলা হয়েছে?
A. বশিষ্ঠকে B. পুলহকে C. পুলস্ত্যকে D. কপিলকে
উত্তর:-কপিলকে
11.“বাঙালি_________লঙ্ঘিল গিরি তুষারে ভয়ংকর”
A. অতীশ B. সতীশ C. যতীশ D. শ্রীশ
উত্তর:-অতীশ
12.দীপঙ্কর কোথায় জ্ঞানের দীপ জ্বেলেছিলেন?
A. নেপালে B. ভুটানে C. তিব্বতে D. চিনে
উত্তর:-তিব্বতে
13.“কিশোর বয়সে _________ পক্ষশাতন করি”
A. গদাধরের B. গিরিধরের C. ধ্বজাধরের D. পক্ষধরের
উত্তর:-পক্ষধরের
14.বাংলার রবি কোন্ কবিকে বলা হয়েছে?
A. রবীন্দ্রনাথকে B. জয়দেবকে C. কালিদাসকে D. নজরুলকে
উত্তর:-জয়দেবকে
15.‘শ্যাম _________’ওঙ্কার-ধাম’,-মোদেরি প্রাচীন কীর্তি।”
A. অম্বুজে B. গম্বুজে C. কম্বোজে D. খাম্বাজে
উত্তর- কম্বোজে
16. “বিটপাল আর _________-যাদের নাম অবিনশ্বর।”
A. শ্ৰীমান B. বিমান C. ইমান D. ধীমান
উত্তর-ধীমান
17.আমাদের পট কোথায় অক্ষয় হয়ে আছে?
A. অজন্তায় B. ইলোরায় C. বাঘগুহায় D. বাদামিগুহায়
উত্তর-অজন্তায়
18. “কীর্তনে আর_________গানে আমরা দিয়েছি খুলি”
A. ভাটিয়ালির B. টপ্পার C. বাউলের D. আউলের
উত্তর-বাউলের
19.দেবতাকে আমরা কী মনে করি?
A. প্রভু B. বন্ধু C. অনাত্মীয় D. আত্মীয়
উত্তর- আত্মীয়
20.ঘরের ছেলের চক্ষে আমরা কীসের ছায়া দেখেছি?
A. বিশ্বভূপের B. বিশ্বরূপের C. বিশ্বজগতের D. বিশ্বসংসারের
উত্তর-বিশ্বভূপের
21.“বাঙালির ছেলে_________বৃষভে ঘটাবে সমন্বয়।”
A. সিংহে B. ব্যাঘ্ৰে C. হস্তীতে D. সৰ্পে
উত্তর-ব্যাঘ্ৰে
22.তপের প্রভাবে বাঙালি সাধক কীসের সাড়া পেয়েছে?
A. ঝড়ের B. ভরের C. জড়ের D. শবের
উত্তর- জড়ের
23.“_________ধাতুর মিলন ঘটায়ে বাঙালি দিয়াছে বিয়া”
A. সম B. অসম C. সুষম D. বিষম
উত্তর-বিষম
24.“বাঙালির কবি গাহিছে জগতে_________গান“
A. মহামিলনের B. মহাভাঙনের C. মহাসমরের D. মহাপ্লাবনের
উত্তর-মহামিলনের
25.“বিধাতার কাজ সাধিবে বাঙালি_________আশীর্বাদে“
A. দাতার B. ধাতার C. পিতার D. মাতার
উত্তর- ধাতার

short questions – 2-3 marks of আমারা- (Aamra)

  1. মুক্তবেণীর গঙ্গা যেথায় মুক্তি বিতরে রঙ্গে”—পঙ্কতিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতায় “মুক্তবেণী” শব্দটি একটি অবাধ জলপ্রবাহকে নির্দেশ করে। গঙ্গা নদী গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উত্থিত হয় এবং বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হওয়ার আগে অনেক অন্যান্য নদীর সাথে মিলিত হয়, তবুও এটি পুরো সময় তার স্বতন্ত্র নদীগর্ভ ধরে রাখে। তাই তার নাম মুক্তবেনী। হিন্দুরা মনে করে গঙ্গার জল মানুষকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করে। তাই কবির দাবি, এই বাংলায় মুক্ত গঙ্গা আমাদের আনন্দে মুক্তি দেয়।

  1. আমরা বাঙালি বাস করি সেই তীর্থেবরদ বঙ্গে”–এই পঙ্কতিটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তরউদ্ধৃত পঙক্তিটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

কবি বঙ্গভূমির বর্ণনা দিতে গিয়ে এই কথাটি প্রকাশ করেছিলেন। বাংলায় রয়েছে অসংখ্য তীর্থস্থান। মানুষের ধারণা তীর্থযাত্রায় গিয়ে তারা পূর্ণ অর্জন করবে এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাবে। বাঙালিরা এমন একটি দেশে বসবাস করার জন্য সৌভাগ্যবান যার মাটি তাদের অসংখ্য তীর্থযাত্রার পুণ্য করার সুযোগ দেয়।

  1. সাগর যাহার বন্দনা রচে শত তরঙ্গ ভঙ্গে”—একথা বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর:উদ্ধৃত পঙক্তিটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে সংকলিত।

ভৌগোলিকভাবে, বাঙলার দক্ষিণদিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগর । কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কল্পনায় বাংলামায়ার পা ছুঁয়ে যাচ্ছে সমুদ্র। বাঙালি সংস্কৃতিতে একজন সম্মানিত ব্যক্তির পা স্পর্শ করে প্রণাম করা হয়। তাই কবির মতে, সাগর তার উপকূলে আছড়ে পড়া অসংখ্য ঢেউয়ের মধ্যে দিয়ে বাংলামায়ের কাছে শ্রদ্ধাভরে প্রণাম করছে, আর ঢেউয়ের গর্জন তৈরি করছে মায়ের বন্দনাগান ।

  1. বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করিয়া আমরা বাঁচিয়া আছি”—কবি কেন একথা বলেছেন?

উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

বাংলার দক্ষিণে অবস্থিত সুন্দরবনে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সমাহার ঘটেছে। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। কিন্তু এই হিংস্র প্রাণীটি প্রায়শই এই এলাকার স্থানীয়দের উপর যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য কাঠ, মধু, মাছ ইত্যাদি সংগ্রহ করতে বনে যায় তাদের আক্রমণ করে। তাই কবির মতে বাঙালিরা বাঘের সাথে লড়াই করে বেঁচে আছে। 

  1. সিংহল নামে রেখে গেছে নিজ শৌর্যের পরিচয়।”–পঙ্কতিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:উদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

পালি ভাষায় লিখিত সিংহলি দীপবংশ এবং মহাবংশ পুরাণ অনুসারে, প্রাচীন বাংলার রাঢ় দেশের সিংহপুরের শাসক বিজয়সিংহ তন্বপন্নি দেশের লঙ্কা নামক জায়গায় শ্রীলঙ্কার রাজ্য এবং রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত করেছেন খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম বা ষষ্ঠ শতাব্দীতে। তাঁর নামানুযায়ী লঙ্কার জন্য “সিংহল” নামটি ঠিক করা হয়। কবির দাবি, এই জ্ঞানের ভিত্তিতে সিংহল নামে বাঙালি বিজয়সিংহের বীরত্বের পরিচয় নিহিত রয়েছে।

  1. চাঁদ-প্রতাপের হুকুমে হঠিতে হয়েছে দিল্লিনাথে।”–এখানে কবি কোন্ ঘটনার কথা বলেছেন?

উত্তর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতায় পূর্বোক্ত লাইনটি রয়েছে, যা বাংলা রাজ্যের বারোজন জমিদারকে নির্দেশ করে। আকবর ও জাহাঙ্গীর যখন মুঘল সম্রাট ছিলেন, তখন বাংলায় বারোজন শক্তিশালী ভূঁইয়া বা জমিদার সম্রাটদের শাসন না মেনে নিজস্ব সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এদের মধ্যে বিক্রমপুরের চাঁদ রায় ও যশোরের প্রতাপাদিত্য উল্লেখযোগ্য। তাদের শেষ করার জন্য মুঘল সম্রাটের যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়েছিল। প্রতাপাদিত্য শেষ পর্যন্ত হেরে যান, কিন্তু তিনি মুঘল আক্রমণকে কিছু সময়ের জন্য বিলম্বিত করতে সক্ষম হন। এই কারণে কবি উদ্ধৃত অংশটি উল্লেখ করেন।

  1. কপিল সাঙ্খ্যকার / এই বাংলার মাটিতে গাঁথিল সূত্রে হীরক-হার।”—পঙ্কতিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতার এই পঙক্তিটি বৈদিক ঋষি এবং সাংখ্যদর্শনের প্রণেতা, কপিলমুনিকে ইঙ্গিত করে। দর্শনশাস্ত্রে তাঁকে আদিপুরুষ এবং ভাগবত পুরাণে তাঁকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত গঙ্গাসাগরে কপিলমুনির একটি আশ্রম রয়েছে। তাই কবির ধারণা সাংখ্যদর্শন রচনাও হয় এই বাংলাতেই। সত্যেন্দ্রনাথের প্রচেষ্টায় শুধু বাংলায় জন্মগ্রহণকারীরাই নয়, যারা বাংলার কাছাকাছি ছিলেন বা বাঙালিদের প্রিয় ছিলেন তারাও বাংলার গৌরবগাথার অংশ হিসেবে বিবেচিত হন।

  1. জ্বালিল জ্ঞানের দীপ তিব্বতে বাঙালি দীপঙ্কর।”– পঙ্কতিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরউদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

বাংলার প্রখ্যাত বৌদ্ধপণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল যুগে শীলভদ্রের ছাত্র অতীশ দীপঙ্করকে বিক্রমশীলা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মনোনীত করা হয়। পাল রাজবংশের সময়ে তিনি বরফে ঢাকা দুর্গম হিমালয় পেরিয়ে তিব্বতে গিয়ে মহাযান বৌদ্ধধর্ম ছড়িয়ে দিন। তিনি সেখানে ধর্মপ্রচারের পাশাপাশি শিক্ষাদান ও গ্রন্থ রচনা করেন। অতীশ দীপঙ্করের কৃতিত্ব বাংলার মানুষের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। 

  1. পক্ষধরের পক্ষশাতন করি’ / বাঙালির ছেলে ফিরে এল দেশে যশের মুকুট পরি”—পঙ্কতিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরউদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

‘বাঙালির ছেলে’ বলতে এখানে পঞ্চদশ শতাব্দীর নবদ্বীপের একজন সুপরিচিত আইনজীবী রঘুনাথ শিরোমণিকে বোঝানো হয়েছে। তিনি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের সমসাময়িক ছিলেন। একটি বিতর্কের সময়, কিশোর রঘুনাথ মিথিলার একজন বিশিষ্ট আইনজীবী পক্ষধর মিশ্রের বিরুদ্ধে তর্কে বিজয়ী হন। অতএব, আধুনিকতাবাদের বাস্তবায়নে নবদ্বীপ প্রাধান্য লাভ করে। কবি পক্ষধর মিশ্রের পরাজয়কে “পক্ষধরের পক্ষশাতন” বা পক্ষধরের ডানা ছিন্ন করা বলে উল্লেখ করেছেন। এই ঘটনার সুবাদে বাঙালির সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

  1. 10. “করেছে সুরভি সংস্কৃতের কাঞ্চন-কোকনদে।”—এই পঙ্কতিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘আমরা’ কবিতার উদ্ধৃত অংশটিতে কবি জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্যের কথা ইঙ্গিত করেছেন।

সেন রাজবংশের চূড়ান্ত শাসক লক্ষ্মণসেনের দরবারী কবি জয়দেব, রাধাকৃষ্ণের প্রেমের উপর ভিত্তি করে তাঁর ‘গীতগোবিন্দ’ কাব্য রচনা করেছিলেন। তাঁর এই কাব্য অভিব্যক্তিপূর্ণ ভাষা দিয়ে সংস্কৃত সাহিত্যকে উন্নত করেছে। ‘গীতগোবিন্দ’ ভারত জুড়ে অবিশ্বাস্যভাবে সকলের প্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলস্বরূপ, সত্যেন্দ্রনাথের মতে, ‘গীতগোবিন্দ’, সংস্কৃত সাহিত্যের স্বর্ণপদ্মকে সুগন্ধি দিয়েছেন।

  1. স্থপতি মোদের স্থাপনা করেছে বরভূধরেরভিত্তি’—পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরযে পঙক্তিটি উদ্ধৃত করা হচ্ছে তা সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে এসেছে।

খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে (বর্তমান ইন্দোনেশিয়া) শৈলেন্দ্র রাজবংশের অধীনে জাভাদ্বীপে বরভূধর নামে একটি বিশাল বৌদ্ধ স্তূপ নির্মিত হয়েছিল। প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলার বাণিজ্যিক যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই অঞ্চলের স্থাপত্যে পাল-সেন আমলের প্রভাব লক্ষনীয়। এই উৎসের উপর ভিত্তি করে সম্ভবত কবি দাবি করেছিলেন যে বরভূধর স্তূপটি বাঙালি সৃষ্ট। 

  1. শ্যাম-কম্বোজে ওঙ্কার-ধাম’,—মোদেরি প্রাচীন কীর্তি।”—পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর উদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

‘ওঙ্কার-ধাম’ বা আঙ্করভাট হল একটি মন্দির যা কম্বোজে (আধুনিক কম্বোডিয়া) দ্বাদশ শতাব্দীতে খমের বংশোদ্ভূত রাজা সূর্যবর্মণের রাজত্বকালে একটি হিন্দু মন্দির এবং তারপর এটি বৌদ্ধ মন্দির হিসাবে নির্মিত হয়েছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাচীন বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল এবং স্থাপত্যে পাল-সেন যুগের প্রভাব সম্পর্কে জানা যায় । সম্ভবত এই তথ্য কবির দাবির ভিত্তি যে “ওঙ্কার-ধাম” মন্দিরটি বাঙালির সৃষ্টি। 

13.ধেয়ানের ধনে মূর্তি দিয়েছে আমাদের ভাস্কর”—এই পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বলতে চেয়েছেন?

উত্তরউদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

ভাস্কর হলেন একজন শিল্পী যিনি ধাতু, পাথর ইত্যাদি দিয়ে মূর্তি তৈরি করেন। শিল্পী তার ধ্যানের সময় বা তীব্র মানসিক প্রতিফলনের মাধ্যমে চিত্র বা ভাস্কর্যকে রূপ দেন। বাঙালি ভাস্কর্য তার সুন্দর কমনীয়তা এবং হৃদয়ের অভিব্যক্তির জন্য পরিচিত। বিটপাল ও ধীমান ছিলেন পাল যুগে বাংলার দুই বিশিষ্ট ভাস্কর। কবির দাবি, এই ভাস্কররা বাঙালির কল্পনাকে মূর্তির রূপ দিয়েছেন । 

  1. বিটপাল আর ধীমানযাদের নাম অবিনশ্বর।। বিটপাল আর ধীমানের নাম অবিনশ্বর কেন?

উত্তর বাংলার পাল রাজবংশ দুই বিখ্যাত ভাস্কর বিটপাল এবং ধীমান।

ভাস্করের হাতে মনের কল্পনার চিত্র রূপ পায় । ধাতু বা পাথরের বুকে, তারা হাতুড়ি এবং ছেনি ব্যবহার করে শিল্পের চমৎকার কাজগুলি খোদাই করে। বিটপাল এবং ধীমান, দুই ভাস্কর, পালবংশী শাসকদের যুগে বাঙালির এরকম কল্পনাকেই রূপ দিয়েছিলেন। এগুলি অলঙ্ঘনীয় কারণ তারা বাঙালি সংস্কৃতি ও স্থাপত্য তাদের হাত ধরেই উন্নতির শিখরে পৌঁছে ছিল তাই তারা অবিনশ্বর।

  1. আমাদের পট অক্ষয় করে রেখেছে অজন্তায়।”—একথাবলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তরউদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

অজন্তার সতেরো নম্বর গুহাতে দুটি চিত্রে যুবরাজ বিজয়সিংহকে এবং সিংহলের রাজা হিসেবে বিজয়সিংহের রাজ্যাভিষেক দেখানো হয়েছে। এই বিজয়সিংহ, শ্রীলঙ্কার দীপবংশ এবং মহাবংশ পুরাণ অনুসারে, রাঢ় দেশের সিংহপুরের রাজপুত্র ছিলেন। অনেকেই তাকে বাঙালি বলে দাবি করেন। তাই, সত্যেন্দ্রনাথ বলেছিলেন যে বাঙালি পটুয়া বা চিত্রশিল্পী অজন্তা গুহায় বাঙালি পট সংরক্ষণ করেছিলেন।

  1. আমরা দিয়েছি খুলি’ / মনের গোপনে নিভৃত ভুবনে দ্বার ছিল যতগুলি”—কবির বক্তব্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতার উদ্ধৃতাংশে  কীর্তনগান ও বাউলগানে বাংলার ব্যতিক্রমী প্রাচুর্যের উল্লেখ রয়েছে। বাউলগান হল বাউল সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক সঙ্গীত, ধর্মীয় সংস্কার ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত, আর কীর্তন হল রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা গান। এসব গানের মাধ্যমে সংবেদনশীল বাঙালি তাদের দুঃখ-বেদনা, ভালোবাসা, সকল ধর্মের ঐক্যের কথা তুলে ধরেছে। তাই কবির দাবি, কীর্তনগান ও বাউলগানের মাধ্যমে বাঙালি তার মনের দরজা খুলে দিয়েছে।

  1. মন্বন্তরে মরিনি আমরা মারী নিয়ে ঘর করি”–পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তরউদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

বাংলায়, দুর্ভিক্ষ, মহামারী ইত্যাদি এসেছে । দুর্ভিক্ষের তীব্র খাদ্য সংকটের কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারায় । সংক্রামক রোগের মহামারী গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংস করে দিয়েছে। তবু বাঙালি জাতি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। সকল বাধা-বিপত্তি জয় করে বিশ্বে বাঙালি নিজের অস্তিত্ব রেখেছে ।

  1. আমাদেরি এই কুটিরে দেখেছি মানুষের ঠাকুরালি”–পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরউদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

ঠাকুরালী হল দেবতাদের মতো মহিমা। বাঙালি পরিবারের এমন ছেলেদের সংখ্যা খুবই কম যারা নিজেদের কর্মের মাধ্যমে ঈশ্বরের মতো মহিমা অর্জন করেছে। তবে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব তাদের মধ্যে একজন যিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। নিজের যোগ্যতায় তিনি তাঁর জীবদ্দশায় ঐশ্বরিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাঙালিরা এই ঈশ্বরতুল্য ব্যক্তিদের দেবতাজ্ঞানে পুজোও করেছে।

  1. ঘরের ছেলে চক্ষে দেখেছি বিশ্বভূপের ছায়া”—একথা বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তরউদ্ধৃতাংশটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। 

বক্তব্যে বোঝা যায় বাঙালি তার ঘরের ছেলেকে বিশ্ব সম্রাট হিসেবে দেখেছে। নিঃসন্দেহে কবি মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের কথাই উল্লেখ করছেন। শুধুমাত্র ভূখণ্ড এবং ক্ষমতা থাকলেই রাজা হিসেবে পরিচিত হওয়া যায় না। ব্রাহ্মণ ও চন্ডালসহ সকল সামাজিক স্তরের প্রতি ভালোবাসা দেখিয়ে শ্রী চৈতন্যদেব মানুষের হৃদয়ে রাজার পদে উন্নীত হন। তার ভালোবাসার ধারণা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তাই কবি এভাবে মন্তব্য করেছেন।

long questions – 5 marks of আমারা- (Aamra)

  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতাটির নামকরণ কতদূর সার্থক আলোচনা করো।

উত্তর- সাহিত্যে, নামকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কবিতায় ব্যঞ্জনামূলক নামকরণ প্রায়শই বিষয়ভিত্তিক বা ভাবভিত্তিক হয়।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ‘আমরা’ কবিতাটি বাঙালির বর্ণাঢ্য ইতিহাস বলে। কবি, যিনি কেবল জন্মগতভাবে বাঙালি নন, তেমন শ্রীকৃষ্ণ ও কপিলমুনির মতো বাঙালিদেরও ভক্তি করেছেন, তিনি তাঁদেরকে বাংলার গৌরবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কবি মনে করেছিলেন বাঙালির কৃতিত্ব হল কম্বোজের “ওঙ্কার-ধাম” মন্দির এবং বরভূধরের বৌদ্ধ স্তূপ।

প্রাচীন ও মধ্যযুগে বাংলায় যারা বীরত্ব, শিক্ষা, লেখালেখি এবং ইতিহাস ও লোককাহিনী ভিত্তিক শিল্পের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করেছেন কবি তাদের সবাইকে সম্মানিত করেছেন। তিনি তাঁর সময়কার কৃতি বাঙালিদের সম্মান করার কথাও স্মরণ করেছিলেন।

এর পাশাপাশি কবি বাঙালি সংস্কৃতির মূলসুরেও গুরুত্ব দিয়েছেন। এই সুর মানুষ এবং মানুষের মধ্যে ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করে।  বাঙালি জাতি দেবতা এবং মানুষ সহ সবাইকে তাদের আত্মার সঙ্গী হিসাবে দেখে। কেউ তার সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায় না কারণ এটির কাছাকাছি আসতেই সে তাকে আলিঙ্গন করে নেয়। কীর্তন এবং বাউলগান যেখানে এই প্রেমের গান ধ্বনিত হয়। বাঙালি একদিন প্রশ্নাতীতভাবে বিশ্বসমাবেশে শ্রেষ্ঠত্বের স্তর অর্জন করবে এই প্রত্যাশা কবি ব্যক্ত করেন।

কবিতাটি আমাদের, বাঙালীদের নিয়ে, তাই ‘আমরা’ শব্দটি প্রাসঙ্গিক এবং উপযুক্ত।

  1. ‘আমরা’ কবিতাতে কবি বঙ্গভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের যে বর্ণনা করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর- কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘আমরা’ কবিতায় বঙ্গভূমিকে শুধু ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতায় ঘেরা জায়গার বদলে মা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

মুক্তধারা গঙ্গা নদী সাগরে মিলিত হওয়ার আগে বাংলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। কবি বলেছেন, যে গঙ্গা এই এদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় আনন্দময়ী ছিল এবং এর পবিত্র জলের স্পর্শে বাসিন্দাদের মুক্তি দিয়েছে।

কবির দৃষ্টিতে বাংলা মা তার বাম হাতে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর পদ্মফুল ধারণ করছে, আর ডান হাতে রয়েছে একদল মধুলোভী মধুকর। বাংলার উত্তরে তুষারাবৃত হিমালয় সূর্যের রশ্মিতে মায়ের মাথায় সোনার মুকুটের মতো ঝলমল করে। মুকুট থেকে নেমে আসা আলো বিশ্বকে আলোকিত করে। 

কবি বাংলার দিগন্ত বিস্তৃত সোনালী ধানখেতকে বাংলামায়ের “কোলভরা সোনার ধান” বলে উল্লেখ করেছেন। মায়ের শরীর সাজাতে ব্যবহার করা হয় অতসী-অপরাজিতা ফুল। দক্ষিণাঞ্চলের বঙ্গোপসাগর যেন তীরে ধেয়ে আসা ঢেউয়ের মধ্যে দিয়ে বাংলামার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এবং ঢেউয়ের গর্জন মায়ের বন্দনা গীতি তৈরি করে। এভাবেই সকল মানুষের “বাঞ্ছিত ভূমি” বাংলাকে কবি চিত্রিত করেছেন।

  1. ‘আমরা’ কবিতাটিতে কবির জাতীয়তাবাদী মানসিকতার যে প্রকাশ ঘটেছে তা আলোচনা করো।

উত্তর: ‘আমরা’ কবিতায় সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জাতীয়তাবাদী মানসিকতা তাঁর জাতীয় গর্ববোধ এবং ঐতিহ্যের প্রতি গর্ব দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে।

লেখক গানের প্রথম স্তবকে মাতৃভূমি বাংলার সৌন্দর্য বর্ণনা করে এবং সর্বত্র মানুষের বাঞ্ছিত ভূমি হিসাবে উল্লেখ করে তার জন্মভূমি বাংলার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

কবি পরের স্তবকে বাঙালি জাতির গৌরব গাথা রচনা করা কালীন শ্রীকৃষ্ণের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি অবাঙালি ছিলেন। কিন্তু বাঙালি শ্রীকৃষ্ণকে তার আত্মার সঙ্গী হিসাবে ভালবাসে, তাই তাকে স্বজাতীতে অন্তর্ভুক্ত করতে কবির কোন দ্বিধা হয়নি । আবার, কবি বাংলাকে তাঁর কর্মভূমি বলে গর্ববোধ করেছেন, গঙ্গাসাগরে সাংখ্যদর্শন লেখক কপিলমুনির আশ্রম থাকায় ।

কবির মতে বাঙালিরা রামচন্দ্রের প্রপিতামহ রঘুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল। আবার, কবি দাবি করেছেন যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থাপত্যে পাল-সেন যুগের ইমারতের প্রভাবের কারণে ‘বরভূধর’ স্তূপ এবং ‘ওঙ্কার-ধাম’ মন্দির বাঙালিরা তৈরি করেছিলেন। এই অনুভূতির উদ্দীপনা তাদের স্বজাতির প্রতি একজন ব্যক্তির গভীর ভালবাসার প্রমাণ।

প্রাচীনকাল থেকে  তাঁর সময় পর্যন্ত প্রায় সমস্ত কৃতির কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে কবি তাঁর আশা ব্যক্ত করেছেন যে বাঙালি একদিন বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান পাবে। এটা জোর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যে সত্যেন্দ্রনাথের জাতীয়তাবাদ অন্যান্য জাতি বা জাতির প্রতি শত্রুতা বা কুসংস্কার মুক্ত ছিল। তাঁর বিশ্বাস ছিল বাঙালি মেধা ও অধ্যবসায় দিয়ে বিশ্বে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করবে।

  1. ‘আমরা’ কবিতায় কবি বাঙালির কৃতিত্বকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালীর গৌরব গাথা রচনা করেছেন।

জঙ্গল ও জলে ঢাকা বাংলায় বাঙালি বাঘ এবং সাপের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকে। বাঙালি বিজয়সিংহের লঙ্কা জয়ের ফলে তার নামানুযায়ী লঙ্কার সিংহল নামকরণ করা হয়। দিল্লির মুঘল সম্রাটের, বারোভূইয়ার চাঁদ রায় প্রতাপাদিত্যের সাথে লড়াই করে তাকে হারাতে  যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়।

অতীশ দীপঙ্কর নামক এক বাঙালি পণ্ডিত বৌদ্ধধর্ম প্রচার ও শিক্ষাবিস্তারের জন্য তিব্বত ভ্রমণ করেন। মিথিলা পণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রের নবদ্বীপের রঘুনাথ শিরোমণির কাছে বিতর্ক সভায় পরাজয় বাংলার প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেছিল। বাঙালি কবি জয়দেবের কাব্য ‘গীতগোবিন্দ’ সংস্কৃত সাহিত্যের একটি অমূল্য সংগ্রহ।

বাঙালিরা ভাস্কর্য, স্থাপত্য এবং শিল্পেও কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে। পাল যুগের সবচেয়ে সুপরিচিত দুজন ভাস্কর ছিলেন বিটপাল ও ধীমান। বাঙালি আধ্যাত্মিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব এবং শ্রীরামকৃষ্ণদেবের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য অবদান পেয়েছেন। স্বামী বিবেকানন্দের বার্তায় বিশ্ববাসী মুগ্ধ হয়। বাংলার বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু আবিষ্কার করেছিলেন যে গাছে জীবনের স্পন্দন রয়েছে। রসায়নের ক্ষেত্রে ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র রায় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতায় মানুষের ঐক্য নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সবশেষে কবি আশা প্রকাশ করেন বাঙালি একদিন তার প্রতিভা ও নিষ্ঠার জন্য বিশ্বের সেরা হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

  1. “আমরা বাঙালি বাস করি সেই তীর্থে বরদ বঙ্গে;” – বঙ্গের বাঙালিদের যে কীর্তিগাথা কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘আমরা’ কবিতায় তুলে ধরেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালি জাতির কীর্তিকাহিনী এক অসাধারণ প্রাকৃতিক পটভূমিতে তুলে ধরার জন্য ইতিহাস ব্যবহার করেছেন। বাঙালি বংশোদ্ভূত বিজয় সিং লঙ্কা জয় করেন এবং তার বীরত্বের ছাপ রেখে যান। বারো ভূঁইয়াদের চাঁদ সদাগর এবং প্রতাপাদিত্য মুঘল সম্রাটদেরও পালাতে বাধ্য করেন। এখানে কপিল মুনি দ্বারা সাংখ্যদর্শন প্রবর্তন করা হয়েছে। তিব্বতে, অতীশ দীপঙ্কর বাঙালির জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন। রঘুনাথ শিরোমণি তর্কশাস্ত্রে বাঙালির বিজয় পতাকা উড়িয়েছিলেন। জয়দেব ‘গীতগোবিন্দ’ রচনা করে সংস্কৃত সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। বিটপাল ও ধীমান বাংলা স্থাপত্যের সাথে বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দেন। কীর্তন ও বাউল গান অগণিত বাঙালির হৃদয় ছুঁয়েছে। সেই বাঙালি চেতনার প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছেন চৈতন্যদেব। স্বামী বিবেকানন্দ সারা বিশ্বে বাঙালি সচেতনতার বার্তা প্রচার করেছিলেন। বাঙালিরা জীববিজ্ঞান বা রসায়নে দক্ষতা দেখিয়েছে। রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে ঐক্যের গান শোনা গেছে। এভাবেই ‘আমরা’ কবিতায় কবি বাঙালির গৌরবের গুণগান গেয়েছেন।

  1. “বাঙালির হিয়া অমিয় মথিয়া নিমাই ধরেছে কায়া।”–নিমাই-এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। ‘বাঙালির হিয়া অমিয় মথিয়া’ নিমাই কীভাবে কায়া ধারণ করেছেন বুঝিয়ে দাও।

উত্তর- ১৪৮৬ খ্রিস্টাব্দে নিমাই নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন। এরপর তিনি ঈশ্বরপুরীর কাছে দীক্ষা নেন এবং শ্রীচৈতন্য নাম ধারণ করেন। গৌড়ীয় বৈষ্ণব চিন্তাধারার প্রতিনিধি হিসেবে চৈতন্য সমগ্র ভারতে কৃষ্ণনাম ছড়িয়ে দেন। চৈতন্যের জীবনের শেষ 24 বছর পুরীতে কেটেছে।

চৈতন্যদেব বাঙালিদের আত্ম-উন্নতির শিক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর প্রচারিত কৃষ্ণপ্রেম হলো মানবজাতির প্রেমের অনুশীলন। কৃষ্ণনামকে সাথে নিয়ে তিনি শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি দিয়েছেন। বাঙালিরা দেবতাকে যেমন কাছে টেনে নিয়েছে তেমনি তাদের প্রিয়জনকে ঈশ্বরের স্থান দিয়েছে। এভাবেই নির্মিত হয়েছে ‘মানুষের ঠাকুরালী’। চৈতন্যদেবের দর্শনে বাঙালি মানবতার নতুন পথ আবিষ্কার করেছে। মানবপ্রেমের সেই নিবিড় প্রবাহের মুখে সকল বিভেদ ও ব্যক্তিস্বার্থ মুছে দিয়ে তিনি একজন আদর্শ নেতার মতো বাঙালিকে পথ দেখিয়েছেন। বাঙালিরা তাঁর মধ্যে মহাবিশ্বের ছায়া উপলব্ধি করেছে। তাই নিমাই বা শ্রীচৈতন্য বাঙালির আত্মীক প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

  1. “বিফল নহে এ বাঙালি জনম বিফল নহে এ প্রাণ”—এই উক্তির আলোকে বাঙালি সম্পর্কে কবির গর্ববোধের কারণ লেখো।

উত্তর- কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর ‘আমরা’ কবিতায় বাঙালিদের মহৎ কৃতিত্বের উপর জোর দিয়েছেন, যাদেরকে প্রকৃতির বাঁকের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছিল। বিজয়সিংহ নামে একজন বাঙালি লঙ্কাকে জয় করেন এবং এর নাম দেন সিংহল। চাঁদ রায় এবং প্রতাপাদিত্যের মতো বাঙালি জমিদারদের দ্বারা মুঘল সম্রাট পালাতে বাধ্য হন। অতীশ দীপঙ্কর বাঙালির জ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছেন সুদূর তিব্বতে। নবদ্বীপের রঘুনাথ শিরোমণি একটি বিতর্কসভায় মিথিলার পণ্ডিত পক্ষধর মিশ্রকে পরাজিত করেছিলেন। জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ’ সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কালজয়ী রচনা। পালযুগের প্রখ্যাত শিল্পী বিটপাল এবং ধীমান স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে বাংলার ইতিহাসকে সুরভিত করেছেন। মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব এবং শ্রীরামকৃষ্ণ দ্বারা বাঙালিরা আধ্যাত্মিক ও সামাজিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছিল। স্বামী বিবেকানন্দের মন্তব্য বিশ্বব্যাপী বিপ্লবের জন্ম দেয়। উদ্ভিদের জীবনের স্পন্দন আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু দ্বারা আবিষ্কৃত হয়েছিল। রসায়নের ক্ষেত্রে ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র রায় অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কবিতায় মানুষের ঐক্য প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। বাঙালির এই সমস্ত কৃতিত্বে কবি গর্বিত হন। এ কারণে কবি ‘আমরা’ কবিতাটি তার গর্ববোধ প্রকাশের জন্য রচনা করেন ।

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে