আকাশের সাতটি তারা- (Akasher Saat Ti Tara) Bangla Literature Subject WBBSE Class 9

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

সারসংক্ষেপ

একজন শিল্পী যেমন রং দিয়ে ছবি তৈরি করেন, তেমনি জীবনানন্দ দাশ কলমের আঁচড়ে শব্দের প্রতিচ্ছবি তৈরি করেন । কবিতার শব্দ নির্বাচনে তিনি অত্যন্ত নিপুণ । জীবনানন্দ তার “আকাশে সাতটি তারা” কবিতায় একটি শান্তিপূর্ণ বাংলার নীল সন্ধ্যাকে চিত্রিত করেছেন। সাতটি  তারাকে সম্মিলিতভাবে উল্লেখ করার সময় কবি যে সপ্তর্ষি-মণ্ডলের কথা বলছেন তা স্পষ্ট। সূর্যাস্তের সময় মেঘ যখন পাকা কামরাঙ্গার ফলের মতো লাল হয়ে মেঘগুলি দিগন্তের জলে ডুবে গেছে বলে মনে হয় তখনই তরঙ্গের রঙ একইভাবে লাল হয়ে যায় । কবি তখন মনে করেন  যে, একটি মৃত মনিয়া পাখির রক্ত ​​জলকে লাল করে দিয়েছে। সূর্যের অন্তিম আভা যখন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়, এবং আঁধার নামার আগে অর্থাৎ দিন ও রাত্রির ঠিক সন্ধিক্ষণে বাংলার শান্ত নীল সন্ধ্যা আসে।  

ঠিক সেই মুহূর্তে কবি কল্পনা করেন এক এলোকেশী মেয়ে সেই আকাশে দেখা দিয়েছে। এখানে কবির এই কল্পনার মেয়েটি হলো আসলে সান্ধ্য বাংলা। তার কালো চুলের মতোই ধীরে ধীরে মাটিকে ঢেকে দেয় কালো অন্ধকার। কবির মুগ্ধ চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসায়, সে তার চুলের স্পর্শ অনুভব করে। কবিই একমাত্র যিনি ‘বাংলার মুখ’ দেখেছেন। 

কোন পথ, অর্থাৎ কোন অবস্থানই, প্রকৃতির এত সুন্দর রূপ দেখেনি । সেই এলোকেশীর চুলের ছোঁয়ায় রাত্রি এসে হিজল-কাঁঠাল-জামের পাতা ছুঁয়েছে। রূপসী বাংলার মতো সন্ধ্যার মধুর গন্ধ পৃথিবীর আর কোথাও নেই। 

বাংলার সন্ধ্যের আমেজ তৈরী হয় ধান গাছ, কলমি শাক, ভেজা হাঁসের পালক, মৃদু শরতের ঘ্রাণ, মনোরম পুকুরের ঘ্রাণ, মাছের ঘ্রাণ, কিশোরীর চালধোয়া ঠাণ্ডা হাতের ঘ্রাণ, বট ফলের হালকা ঘ্রাণ দ্বারা । এই সহজসরল গ্রামীণ পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে কবি তার রূপসী বাংলাকে খুঁজে পান ।

নামকরণের তাৎপর্য 

অন্য যেকোনো সাহিত্যকর্মের মতোই কবিতার নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । কবিতায় ব্যঞ্জনাময় নামকরণ সাধারণত বিষয়বস্তু বা ভাব অনুযায়ী করা হয়।

কবির মৃত্যুর পর ‘রূপসী বাংলা’ কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। এই সংকলনের কোনো কবিতার নাম কবি দেননি। কবিতার প্রথম লাইন অনুসারে “আকাশে সাতটি তারা” নামটি সংকলকরা প্রদান করেছেন। “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার জন্য লেখক দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিয়েছেন। 

কবি মনে করেন, তাঁর প্রিয় রূপসী বাংলা তাঁর ভাবনার রূপকে ভাষার শক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সূর্যাস্তের পরপরই আকাশে দেখা দেয় সপ্তর্ষিমণ্ডল। তখন অস্তরাগের চূড়ান্ত আলোয় লাল মেঘটি ধীরে ধীরে সমুদ্রে অদৃশ্য হয়ে যায়। 

কবির মনে হয় দিনরাত্রির সন্ধিক্ষণে যেন একটি সুন্দরী মেয়ে বাংলার সন্ধ্যার নীল আকাশে মিশে গেছে। 

মাটির ধীরে ধীরে ঘেরা অন্ধকার মেয়েটির লম্বা কালো চুলের মতো। কবির ইন্দ্রিয়ের দ্বারা সেই আসন্ন আঁধারকে উপলব্ধি করে। তিনি বিশ্বাস করেন যে, পৃথিবীর কোন স্থান বা পথ কখনো এমন মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাক্ষী হয়নি। 

চুঁইয়ে পড়া রাত যেন হিজল-কাঁঠাল-জামের পাতা ছুঁয়েছে। কবি রাতকে শুধুমাত্র চোখ ও ত্বক দিয়েই নয়, তার ঘ্রাণশক্তি দিয়েও অনুভব করেন। 

অসংখ্য বৈচিত্র্যময় পরিবেশগত গন্ধের মিশ্রণ সন্ধ্যাকে একটি অনন্য ঘ্রাণ দেয়। ধানগাছের মৃদু ঘ্রাণ, কলমী শাকসবজি, জলে ভেজা হাঁসের পালক, শর ইত্যাদির মিশ্রণে, পুকুরের মিষ্টি ঘ্রাণ, মাছের আঁশের ঘ্রাণ, কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাসের ঘ্রাণ, কিশোরীর চালধোয়া ঠাণ্ডা হাতের ঘ্রাণ, বট ফলের হালকা ঘ্রাণে তৈরি হয়েছিল বাংলার এক অনন্য সন্ধ্যা। এভাবেই কবি গন্ধ, স্পর্শ ও রঙের মধ্য দিয়ে বাংলাকে অনুভব করেন। 

যে সন্ধ্যায় আকাশে সাতটি তারা দেখা দেয় তাই হলো কবিতার মূল বিষয়বস্তু। “আকাশে সাতটি তারা” নামের দ্বারা সেই ধারণাটি বোঝানো হয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কবিতার নামকরণ যথার্থ হয়েছে ।

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of আকাশের সাতটি তারা (Akasher Saat Ti Tara)

1 MARKS QUESTIONS of আকাশের সাতটি তারা (Akasher Saat Ti Tara)

  1. কবি কোথায় বসে সন্ধ্যার রূপ দেখেন?

উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ ঘাসের উপর বসে সন্ধ্যার রূপ দেখেন।

  1. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি বাংলার সন্ধ্যা সম্পর্কে কী কী বিশেষণ ব্যবহার করেছেন?

উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় কবি বাংলার সন্ধ্যা সম্পর্কে ‘শান্ত’, ‘অনুগত’ ও ‘নীল’ — এই তিনটি বিশেষণ ব্যবহার করেছেন।

  1. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় সন্ধ্যার আকাশে কে এসেছে বলে কবির মনে হয়েছে?

উত্তর: ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় বাংলার সন্ধ্যার আকাশে এক কেশবতী কন্যা এসেছে বলে কবি জীবনানন্দ দাশের মনে হয়েছে।

  1. কামরাঙা-লাল মেঘের ডুবে যাওয়াকে কবি কীসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?

উত্তর: কামরাঙা-লাল মেঘের সাগরজলে ডুবে যাওয়াকে কবি মৃত মনিয়া পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন।

  1. পৃথিবীর কোনো পথ কাকে দেখেনি বলে কবির মনে হয়? 

উত্তর: বাংলার সন্ধ্যার আকাশের কেশবতী কন্যাকে পৃথিবীর কোনো পথ দেখেনি বলে কবির মনে হয়।

  1. কবির ‘চোখের’ পরে’, ‘মুখের’ পরে’ কী ভাসে?

উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশের ‘চোখের’ পরে’, ‘মুখের’ পরে’ বাংলার নীল সন্ধ্যার চেহারায় আসা কেশবতী কন্যার চুল ভাসে।

  1. কী রঙের বট ফলের উল্লেখ রয়েছে কবিতায়?

উত্তর: জীবনানন্দ দাশ তাঁর ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় লাল রঙের বট ফলের উল্লেখ করেছেন।

multiple choice questions – 1 marks of আকাশের সাতটি তারা (Akasher Saat Ti Tara)

1. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত—
A) সাতটি তারার তিমির B) মহাপৃথিবী C) রূপসী বাংলা D) ধূসর পাণ্ডুলিপি
উত্তর: C) রূপসী বাংলা
2. ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়—
A) ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে B) ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে C) ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে D) ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর: D) ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে
3. ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি—
A) ‘মহাপৃথিবী’ পর্যায়ের শেষের দিকের ফসল
B) ‘সাতটি তারার তিমির’ পর্যায়ের শেষের দিকের ফসল
C) ‘ঝরা পালক’ পর্যায়ের শেষের দিকের ফসল
D) ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ পর্যায়ের শেষের দিকের ফসল
উত্তর: D) ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ পর্যায়ের শেষের দিকের ফসল
4. ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের মোট কবিতার সংখ্যা—
A) ৫৪টি B) ৫১টি C) ২১টি D) ৬১টি
উত্তর: D) ৬১টি
5. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের—
A) ৩ সংখ্যক কবিতা B) ৬ সংখ্যক কবিতা
C) ৭ সংখ্যক কবিতা D) ১৩ সংখ্যক কবিতা
উত্তর: B) ৬ সংখ্যক কবিতা
6. আকাশে যখন সাতটি তারা ফুটে উঠেছে, তখন কবি—
A) মনিয়া পাখিকে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যেতে দেখেছেন
B) কামরাঙা-লাল মেঘকে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যেতে দেখেছেন
C) এক কেশবতী কন্যার মুখোমুখি বসেছেন
D) হিজল, কাঁঠাল আর জাম বনে বসেছিলেন
উত্তর: B) কামরাঙা-লাল মেঘকে গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে যেতে দেখেছেন
7. “কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে”— কবির এমন মনে হওয়ার কারণ—
A) আকাশ জুড়ে ঘন কালো মেঘ করেছে
B) দিনের আলো নিভে গিয়ে সন্ধ্যা নেমেছে
C) মেঘ যেন আকাশে এক নারীমূর্তি রচনা করেছে
D) রূপকথার জগতে এরকম ঘটনা অহরহ ঘটে চলে
উত্তর: B) দিনের আলো নিভে গিয়ে সন্ধ্যা নেমেছে
৪. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”—পৃথিবীর কোনো পথে এই কন্যাকে দেখতে পাওয়া যায় না, কেননা—
A) এই কন্যা শুধুমাত্র আকাশপথে বিচরণ করে
B) এই কন্যা প্রকৃতপক্ষে কবির কল্পনা
C) রাতের নিভৃত অন্ধকারেই এই কন্যার যাতায়াত
D) সে অশরীরী রূপ ধারণ করে পথ চলে
উত্তর: B) এই কন্যা প্রকৃতপক্ষে কবির কল্পনা
9. “ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা”—ব্যথিত গন্ধ আছে
A) সন্ধ্যার মেঘে
B) গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে
C) কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাসে আর বটের লাল ফলে
D) চাঁদা-সরপুঁটিদের মৃদু ঘ্রাণে
উত্তর: C) কিশোরের পায়ে দলা মুথা ঘাসে আর বটের লাল ফলে
10. ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় পক্তিসংখ্যা—
A) ৮ B) ১১ C) ১২ D) ১৪
উত্তর: D) ১৪
11. “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ”—বাংলার প্রাণশক্তি নিহিত—
A) সন্ধ্যার তারাভরা আকাশের সৌন্দর্যে B) কামরাঙা-লাল মেঘে
C) কবির মনে D) বাংলার পরমাসুন্দরী প্রকৃতিরাজ্যে
উত্তর: D) বাংলার পরমাসুন্দরী প্রকৃতিরাজ্যে
12. “….আমি পাই টের।”— কবি টের পান—
A) তার পরিচিত মনিয়া পাখিটি আর নেই
B) আকাশে এক কেশবতী কন্যার আবির্ভাব ঘটেছে
C) হিজলে কাঁঠালে জামে অন্ধকার নেমে আসছে
D) বাংলার প্রাণশক্তি লুকিয়ে রয়েছে তার পল্লি প্রকৃতিতে
উত্তর: D) বাংলার প্রাণশক্তি লুকিয়ে রয়েছে তার পল্লি প্রকৃতিতে
13. “শীত হাতখান” কিশোরীর হাত শীতল, কারণ—
A) সে পুকুরের জলে হাত ধুয়েছে B) সে সেই হাতে চাল ধুয়েছে
C) শীতকাল চলছে D) কিশোরীটি মৃত
উত্তর: B) সে সেই হাতে চাল ধুয়েছে
14 “আকাশে তারা যখন উঠেছে ফুটে”—
A) তিনটি B) পাঁচটি C) সাতটি D) নয়টি
উত্তর: C) সাতটি
15. আকাশে সাতটি তারা যখন ফুটে ওঠে কবি কোথায় বসে থাকেন?
A) মাঠে B) ঘাটে C) ঘরে D) ঘাসে
উত্তর: D) ঘাসে
16. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো ঢেউয়ে ডুবে গেছে”—
A) গঙ্গাসাগরের B) বঙ্গোপসাগরের C) আরব সাগরের D) লোহিত সাগরের
উত্তর: A) গঙ্গাসাগরের
17. কবি বাংলার সন্ধ্যার কী রং উল্লেখ করেছেন?
A) লাল B) নীল C) ধূসর D) কাল
উত্তর: B) নীল
18.” _______কন্যা যেন এসেছে আকাশে;”
A) রূপবতী B) গুনবতী C) কেশবতী D) দয়াবত
উত্তর: C) কেশবতী
19. “পৃথিবীর কোনো পথ এ ______ দেখে নি কো”
A) কন্যারে B) মাতারে C) পিতার D) ভ্রাতারে
উত্তর: A) কন্যারে
20. কবির ‘চোখের’ পরে’, ‘মুখের’ পরে’ কেশবতী কন্যার কী ভাসে?
A) ছবি B) আঁচল C)মুখ D) চুল
উত্তর: D) চুল
21. “অজস্র চুলের চুমা হিজলে কাঁঠালে_______ঝরে অবিরত,”
A) আমে B) জামে C) গমে D) ধানে
উত্তর: B) জামে
22. রূপসির কীসের বিন্যাসে স্নিগ্ধ গল্প ঝরে?
A) দুলের B) ফুলের C) চুলের D) মালার
উত্তর: C) চুলের
23. কীরকম ধানের গন্ধ কবি পান?
A) নরম B) গরম C) কঠিন D) ঠাণ্ডা
উত্তর: A) নরম
24. “কলমীর ঘ্রাণ, _______পালক, শর, পুকুরের জল,”
A) মুরগির B) হাঁসের C) কাকের D) ময়ূরের
উত্তর: B) হাঁসের
25. সরপুঁটি ছাড়া আর কোন্ মাছের মৃদু ঘ্রাণের কথা কবি বলেছেন?
A) মৌরলা B) পুঁটি C) চাঁদা D) খলসে
উত্তর: C) চাঁদা
26. “কিশোরীর _______ ভিজে হাত”—
A) চালধোয়া B) ডালধোয়া C) হাতধোয়া D) কাপড়ধোয়া
উত্তর: A) চালধোয়া
27. কিশোরের পায়ে দলা কোন্ ঘাসের কথা কবি বলেছেন?
A) মুগা B) মুথা C) শটি D) সাবাই
উত্তর: B) মুথা
28. কোন গাছের লাল ফলের কথা বলা হয়েছে?
A) হিজল B) তমাল C) অশ্বত্থ D) বট
উত্তর: D) বট

short questions – 2-3 marks of আকাশের সাতটি তারা (Akasher Saat Ti Tara)

  1. “কামরাঙা-লাল মেঘ যেন মৃত মনিয়ার মতো গঙ্গাসাগরের ঢেউয়ে ডুবে গেছে”— পঙক্তিটির মধ্য দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি জীবনানন্দ দাশের “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার অংশ। 

জীবনানন্দ এই কবিতায় বাংলায় সূর্যাস্তের একটি সুন্দর ছবি এঁকেছেন। সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আকাশের মেঘগুলো সূর্যের বিবর্ণ আলো থেকে বিভিন্ন বর্ণ ধারণ করে। কবি পাকা কামরাঙ্গার সঙ্গে লাল মেঘের তুলনা করেছেন। যখন দিগন্তের মেঘও জলে মিলিয়ে যায় তখন কবির মনে হয় মৃত মনিয়া পাখির রক্ত সাগরে ছড়িয়ে দিয়ে ডুবে গেছে ।

  1. “আসিয়াছে শান্ত অনুগত বাংলার নীল সন্ধ্যা”—কবি বাংলার সন্ধ্যাকে ‘শান্ত’, ‘অনুগত’, ‘নীল’ কেন বলেছেন?

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি জীবনানন্দ দাশের “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার অংশ।

গ্রামের থেকে শহরের কোলাহল বেশি তাই গ্রামের জীবনযাত্রা শান্ত। অর্থাৎ গ্রামবাংলার সন্ধ্যাও শান্তভাবে নেমে আসে। 

গ্রামের পরিবেশ অনুসারী হলো পল্লীবাংলার সন্ধ্যা। তাই সেই সন্ধ্যা অনুগত। 

কবিতার ছন্দ কবির বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিতে আলোকপাত করে। দিনের আলো আর সন্ধ্যার অন্ধকার মিশে যে আবছায়ার সৃষ্টি হয় তার সাথে গাছের সবুজ মিশলে সন্ধ্যা নীল হয়। 

  1. “কেশবতী কন্যা যেন এসেছে আকাশে”—পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করো। 

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি জীবনানন্দ দাশের “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার অংশ। 

এখানে কবি নিজের মতো করে পল্লীবঙ্গের সন্ধ্যাকে বর্ণনা করেছেন। সূর্যাস্তের পর অন্ধকার হয়ে এলে কবির মনে হয় আকাশে কোনো কেশবতী কন্যা এসেছে। তার কালো চুলের মতোই ধীরে ধীরে মাটিকে ঢেকে দেয় কালো অন্ধকার। কবির চোখে এরকম কাব্যিক রূপেই ধরা দেয় পল্লীবাংলার সন্ধ্যা।

  1. “আমার চোখের ‘পরে আমার মুখের ‘পরে চুল তার ভাসে”—পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি জীবনানন্দ দাশের “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার অংশ।

সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে আকাশে তারা বেরিয়ে আসে, সেই মুহূর্তে কবি ঘাসে বসে তার ঘ্রাণ, বর্ণ এবং স্পর্শের মাধ্যমে পল্লীবাংলার সন্ধ্যার বাতাস গ্রহণ করেন। তিনি মনে করেন সূর্যাস্তের সময় এলোকেশী একটি মেয়ে আকাশের সন্ধ্যায় দেখা দেয় । তার লম্বা কালো চুলের মতোই ধীরে ধীরে আঁধার ঘনিয়ে আসে । তিনি সেই কাল্পনিক মেয়ের চুল চোখ ও মুখে অনুভব করেন অর্থাৎ অন্ধকারের স্পর্শ অনুভব করেন।

  1. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো”— কবির বক্তব্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি জীবনানন্দ দাশের “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার অংশ।

কবি ঘাসের উপর বসে পল্লীবাংলার দিনরাত্রির মাঝের সন্ধ্যাকে পুরোপুরি অনুভব করেন। তিনি কল্পনা করেন যে সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় একটি এলোকেশী মেয়ে বাংলার আকাশে  আবির্ভূত হয়।  তার ছড়ানো চুল দিয়েই অন্ধকার নামে।  কবির এই কাল্পনিক কন্যা হল পল্লীবঙ্গের সান্ধ্য প্রকৃতি। রূপসী বাংলার সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই তাই এই মেয়েটিকে আর কেউ দেখেনি।

  1. “অজস্র চুলের চুমা হিজলে কাঁঠালে জামে ঝরে অবিরত” -পঙক্তিটি মধ্যে দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি জীবনানন্দ দাশের “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার অংশ।

জীবনানন্দের দৃষ্টিতে পল্লীবাংলার সন্ধ্যার সৌন্দর্য ধরা পড়েছে । সূর্য ডুবে গেলে এক কাল্পনিক এলোকেশী মেয়ে বাঙালির আকাশে দেখা যায় । আকাশ থেকে তার ছড়ানো কালো চুলকে ছুঁয়ে নেমে আসে অন্ধকার । হিজল-কাঁঠাল-জামের পাতায় অন্ধকারের স্পর্শ যেন মনে হয় রূপসীর চুল চুম্বন করেছে।

  1. “এরই মাঝে বাংলার প্রাণ”—পঙক্তিটি তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: উদ্ধৃতাংশটি জীবনানন্দ দাশের “আকাশে সাতটি তারা” কবিতার অংশ।

জীবনানন্দের কাছে বাংলা হলো এক প্রাণময়ী মূর্তি। শব্দ, ঘ্রাণ, রঙ এবং স্পর্শের দ্বারা কবি বাংলাকে অনুভব করেন । তিনি এই কবিতাটিতে সন্ধ্যার অপূর্ব রূপ বর্ণনা করেছেন। বাংলার ধানগাছ, কাঁঠাল গাছ, বটগাছ, কলমি শাক, মুথা ঘাস, পুকুর, মাছ, কিশোর-কিশোরী, এই সব কিছু নিয়েই হলো বাংলার পরিপূর্ণ প্রকৃতি । কবি এই প্রাকৃতিক জগতে বাংলার জীবন্ত সত্তাকে উপলব্ধি করেন ।

long questions – 5 marks of আকাশের সাতটি তারা (Akasher Saat Ti Tara)

  1. “আকাশে সাতটি তারা” কবিতায় কবির দেখা বাংলার রূপ নিজের ভাষায় বর্ণনা করো। 

উত্তর: প্রকৃতিপ্রেমী কবি জীবনানন্দ তাঁর “আকাশে সাতটি তারা” কবিতায় রূপসী বাংলার সন্ধ্যাবেলার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছেন ।

ঠিক যখন সূর্য অস্ত যায় তখনকার মেঘ কামরাঙ্গা ফলের মতো লাল হয়ে ওঠে। আবার কিছুক্ষণ পরে সেই মেঘ ধীরে ধীরে দিগন্তরেখায় বিলীন হয়ে যায় এবং আকাশে সাতটি তারা ফুটে ওঠে। এখানে কবি যে সাতটি তারার কথা বলেছে তা আসলে সপ্তর্ষিমণ্ডল। দিনরাত্রির এই সন্ধিক্ষণে সৃষ্ট সান্ধ্যকালীন  সৌন্দর্য পৃথিবী আর অন্য কোথাও দেখা যায় না। কবি অনুভব করেন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আকাশে এক এলোকেশী কন্যার দেখা মেলে। সেই মেয়েটির ছড়িয়ে পড়া কালো চুলের মতই সন্ধ্যার আকাশে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে আসে।  আর সেই অন্ধকার যখন হিজল কাঁঠাল জাম ইত্যাদি গাছের পাতা ছুঁয়ে নেমে আসে তখন যেন মনে হয় তা রূপসীর চুলের সোহাগ চুম্বন। 

কবি প্রকৃতিকে গন্ধ, বর্ণ ও স্পর্শের দ্বারা অনুভব করেন। আর তাই বাংলার সন্ধ্যার রূপকে তিনি শুধুমাত্র চোখেই দেখেননি গন্ধেও তা অনুভব করেছেন। ধান গাছ, কাঁঠাল গাছ, কলমি শাক, মুথা ঘাস, ভেজা হাঁসের পালক – সবকিছুর গন্ধ মিলেই বাংলার গন্ধ তৈরি হয়। 

কবি এই ভাবেই তাঁর রূপসী বাংলাকে খুঁজে পেয়েছিলেন। 

২. “পৃথিবীর কোনো পথ এ কন্যারে দেখে নি কো” এখানে কোন্ কন্যার কথা বলা হয়েছে? পৃথিবীর কোনো পথ তাকে দেখেনি কেন? অথবা, ‘এ কন্যা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? কবির এরূপ ভাবনার কারণ কী?

উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ‘আকাশে সাতটি তারা’ কবিতায় বাংলার সন্ধ্যার রূপ বর্ণনা করতে গিয়ে যে কাল্পনিক এলোকেশী কন্যার অনুভব করেছেন, এখানে তার কথাই বলা হয়েছে। 

জীবনানন্দ শুধুমাত্র চোখ দিয়েই বাংলার সৌন্দর্যকে দেখেননি, বর্ণ এবং স্পর্শের দ্বারা অনুভব করেছেন। 

কবি যখন সূর্যাস্তের পরে আকাশে সপ্তর্ষিমণ্ডল দেখতে পান ঠিক তখনই এক কাল্পনিক এলোকেশী কন্যার অনুভব করেন। সেই কাল্পনিক কন্যার কালো চুলের মত রাতের আকাশ ধীরে ধীরে অন্ধকারে ঢেকে যায়। অন্ধকার যখন হিজল-কাঁঠাল- জামের পাতা ছুঁয়ে নেমে আসে তখন যেন মনে হয় তা সেই সুন্দরী কন্যার চুলের সোহাগ চুম্বন ।

এই কাল্পনিক কন্যার চুলের যে গন্ধ রয়েছে তা কবিকে মুগ্ধ করে আসলে এই গন্ধ হলো ধান গাছ, কাঁঠাল গাছ, কলমি শাক, মুথা ঘাস, ভেজা হাঁসের পালক, মাছ, মানুষ – এর মিলিত গন্ধ অর্থাৎ বাংলার সান্ধ্যকালীন গন্ধ।

কবি বাংলার এই সন্ধ্যার অপরূপ রূপ বোঝাতে গিয়ে এক কাল্পনিক কন্যাকে আবির্ভাব করেছেন। আসলে সেই কন্যায় হলো জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না।

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে