বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ Bingsho Shotabdwite Europe Class 9 History WBBSE Notes

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

রাশিয়া – রাজতন্ত্র থেকে সমাজতন্ত্র

রাশিয়ান সম্রাট “জার” নামে পরিচিত ছিলেন। জারবাদ বলতে রাশিয়ান রাজতন্ত্রকে বোঝায়, যা ঐশ্বরিক অধিকারের ধারণায় বিশ্বাসী। অন্যদিকে সমাজতন্ত্র বলতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বোঝায়। মার্কস এবং এঙ্গেলসের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের মতবাদ থেকে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের উদ্ভব হয়েছিল।

তারা কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো গ্রন্থে মানব সভ্যতার বিবর্তনের কয়েকটি পর্যায়ের বিবরণ দিয়েছিলেন । এর চূড়ান্ত তিনটি স্তর ছিল সামন্তবাদ, পুঁজিবাদ এবং সমাজতন্ত্র। যারা রাজনীতিতে মার্কসীয় তত্ত্বকে যান্ত্রিকভাবে প্রয়োগ করাকে সমর্থন করে তারা বিশ্বাস করে যে শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে একটি সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব শুধুমাত্র সামন্তবাদের অবসান এবং শিল্পায়ন ও বুর্জোয়া বিপ্লবের মাধ্যমে পুঁজিবাদের বিকাশের পরেই গড়ে উঠতে পারে।

তবে, রাশিয়ায় লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টি পুঁজিবাদের চূড়ান্ত বিকাশের জন্য অপেক্ষা না করে জারবাদ থেকে বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। জারবাদ থেকে সমাজতন্ত্রে রাশিয়ার উত্তরণের কয়েকটি পর্যায় ঐতিহাসিকরা চিহ্নিত করেছেন।

জারবাদের বিরুদ্ধে প্রথম বিপ্লব ঘটেছিল 1905 সালে। তারপর, 1917 সালের মার্চ মাসের বিপ্লবে  জারবাদের পতন ঘটে। তা সত্ত্বেও সমাজতন্ত্রীরা নিয়ন্ত্রণ দখল করতে পারেনি। সরকারী সোভিয়েত ইউনিয়নের ব্যাখ্যায়  ছিল যে বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমে বুর্জোয়ারা মার্চ মাসে ক্ষমতা লাভ করে। সমাজতান্ত্রিক বলশেভিক দল তখন একই বছরের নভেম্বর মাসের বিপ্লবে ক্ষমতা দখল করে। রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র গড়ে ওঠে।

রুশ বিপ্লব

বিশাল আকার এবং সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাশিয়া ছিল ইউরোপের অন্যতম একটি পিছিয়ে পড়া দেশ । ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনতে রাশিয়ায় বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়িত হয়েছিল। তবে, জাতির অভ্যন্তরে রক্ষণশীল শক্তিগুলি তখন বেশ সক্রিয় ছিল।

ফলস্বরূপ, রাশিয়ান সমাজে, সংস্কারবাদী এবং সংস্কার বিরোধী সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘাত ছিল । এই পরিস্থিতিতে  রাশিয়ার শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের চাপ সামলানো সম্ভব ছিল না । সুপরিচিত ইতিহাসবিদ স্টিফেন জে .লি.-এর মতে, এর ফলে রাশিয়ায় বিপ্লব ঘটেছিল। তিনি তার ‘ইউরোপিয়ান ইতিহাসের দিক’ বইয়ে এটি উল্লেখ করেছেন।

রুশ বিপ্লবের সামাজিক কারণ

কৃষকদের দুরবস্থা :

  • রাশিয়ানদের অধিকাংশই ছিল কৃষক। জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সাহায্যে 1861 সালে দাসপ্রথা বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা সামন্ত প্রভুদের দ্বারা শোষিত হয়েছিল। ভূমিদাস বিলুপ্ত হলেও কৃষকদের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
  • 1861 খ্রিস্টাব্দে সংস্কারের সময়, এই সমস্ত কৃষকদের জমি প্রদান করা হয়েছিল। তারা অবশ্য এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিপূরণের বোঝায় জর্জরিত ছিল। তাদের রাজ্য, জমিদার ও মীরদের বিভিন্ন কর দিতে হতো। মীরদের সম্মতি ছাড়া কৃষকরা গ্রাম ছেড়ে যেতে পারতনা ।
  • জমিদারের বদলে তারা মীরদের গোলামে পরিণত হয়। এদিকে, সামন্ত প্রভুদের দ্বারা কৃষকদের প্রদত্ত সমস্ত জমি অনুর্বর বা কম উৎপাদনশীল ছিল। জমিতে বিনিয়োগ করতে এবং কৃষি ব্যবস্থাকে আরও দক্ষতার সাথে চালানোর জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাব ছিল।

ফলে তারা গ্রামীণ বিত্তশালী ও ধনী গোষ্ঠীর কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। কৃষকদের অবস্থানের দ্রুত উন্নতি হয়নি কারণ এই সমস্ত গ্রামীণ জমির মালিকরা নতুন স্বায়ত্তশাসিত কৃষক জমিগুলির নিয়ন্ত্রণ লাভ করেছিল।  তাই ১৮৬১ সালের পর কৃষকরা বার বার বিদ্রোহ করতে শুরু করে । কৃষকরা রাজতন্ত্রের প্রতি আস্থা হারায় ।

শ্রমিকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ : 

  • কম মজুরি, একটি অপ্রীতিকর কাজের পরিবেশ এবং দীর্ঘ সময় ধরে কাজ শ্রমিকদের রোষ আরো বাড়িয়ে তুলেছিল । রাশিয়ান শিল্পে বিদেশী অর্থের পরিমাণ 1900 সালে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছিল। মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল 900 মিলিয়ন রুবেল। ফলে রাশিয়ার জাতীয় ঋণ অনেক পরিমানে বেড়ে যায় ।
  • জার সরকার বিদেশী পুঁজিপতিদের স্বার্থের প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল এবং শ্রমিকদের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন ছিল। এই শোচনীয় পরিস্থিতির পাশাপাশি, জারবাদী কর্তৃপক্ষ যে কোনো ধরনের শ্রম সংগঠন নিষিদ্ধ করেছিল। তাদের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন হয়ে পড়েছিল । শ্রমিকরা বুঝতে পেরেছিল যে তাদের অবস্থার উন্নতির একমাত্র উপায় হল জারতন্ত্রকে উৎখাত করা।

ফলস্বরূপ, 1905 এবং 1917 সালের বিপ্লবের সময়, রাশিয়ান শ্রমিকরা ধারাবাহিক ধর্মঘটের মাধ্যমে জারবাদের পতনের ভিত্তি স্থাপন করেছিল।

শিক্ষিত ও বুদ্ধিজীবী শ্রেণির ভূমিকা : রাশিয়ার শিক্ষিত এবং বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় উনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপে জন্ম নেওয়া এবং ছড়িয়ে পড়া জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক এবং উদার চেতনাকে ভাগ করে নিয়েছিল । তবে, পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলির মতো তাদের রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের অধিকার ছিল না। অন্যদিকে, পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় রাশিয়ার শিল্পায়ন ধীরগতির হওয়ায় তারা তাদের কর্মসংস্থান বা পেশাগত প্রতিভার মাধ্যমে জীবিকা অর্জনে অক্ষম ছিল।
ফলে ঐতিহ্যগত ব্যবস্থার প্রতি তাদের অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে, রাশিয়ায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন শুরু হয়, তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়নি। ফলস্বরূপ, তারাও ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক ব্যবস্থার অবসানে অংশগ্রহণ করেছিল ।

সামাজিক কাঠামো : প্রাক-বিপ্লবী রাশিয়ার সামাজিক অবস্থা ছিল ভয়াবহ। রাশিয়ান সমাজ সে সময় তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল –

  • জার এবং অভিজাত সম্প্রদায়
  • মধ্যবিত্ত
  • কৃষক ও শ্রমিক শ্রেণী

জার এবং আভিজাতরা ছিল বিলাসিতার মধ্যে চূড়ান্ত, যেখানে কৃষক এবং শ্রমিক শ্রেণী বাস্তবে সর্বহারা ছিল। এই দুই জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছিল মধ্যবিত্ত, যা তখন প্রায় অস্তিত্বহীন ছিল। ফলস্বরূপ, মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার অভাব, নৈতিক অবক্ষয়, মদ্যপান এবং অন্যান্য খারাপ অভ্যাস, নিরক্ষরতা ইত্যাদি শক্তিশালী আকার ধারণ করে, যা রাশিয়ান সমাজকে চূড়ান্ত পতনের দিকে নিয়ে যায়।

রুশ বিপ্লবের অর্থনৈতিক কারণ

  • ঊনবিংশ শতাব্দীতে রাশিয়ার অর্থনীতি পিছিয়ে ছিল। এই অর্থনীতির প্রধান উপাদান ছিল কৃষির উপর এর অত্যধিক নির্ভরতা।  কৃষিতে , দীর্ঘ সময় ধরে ভূমি দাসপ্রথা থাকার জন্য নতুন প্রযুক্তি এবং অনুশীলনগুলি ব্যবহার করে উন্নতি করা সম্ভব হয়নি। ভূমিদাসপ্রথা বিলোপের পর, রাশিয়ায় ধীরে ধীরে শিল্পায়ন শুরু হয় ।
  • তবে পুঁজির স্বল্পতার কারণে শিল্পায়নের হার শুরুতে মন্থর ছিল। পরবর্তীতে, জার তৃতীয় আলেকজান্ডারের শাসনকালে (1881-1894 খ্রিস্টাব্দ), তার অর্থমন্ত্রী  কাউন্ট উইটির তৎপরতায় দ্রুত শিল্পায়ন শুরু হয়।
  • রাশিয়ার শিল্পে পুঁজির বিনিয়োগ ঘটে বিদেশী মূলধন দ্বারা ।  প্রথমে জার্মানি এবং পরে ফ্রান্স থেকে ব্যাপক পরিমাণ পুঁজি রাশিয়ায়  বিনিয়োগ শুরু করে । জার দ্বিতীয় নিকোলাসের শাসনকালে, মন্ত্রী স্টোলিপিন ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের জমির নিঃশর্ত মালিকানা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এতে সমস্যার সমাধান হয়নি। বিপরীতে, কৃষকদের সম্পত্তির পূর্ণ মালিকানা পাওয়ার পর গ্রামীণ জোতদার গোষ্ঠীর কাছে জমি বিক্রি করার জন্য কৃষিতে শ্রেণী বৈষম্য আরও বাড়ে ।
  •  এই সময় শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে । ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন হওয়া সত্ত্বেও, রাশিয়ার অর্থনীতি বিদেশী ঋণের উপর অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । 1914 সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়ে । সৈন্যদের খাদ্য এবং রসদ সরবরাহ করতে, কোষাগার শূন্য হয়ে যায় । শহরগুলি খাদ্য ও পেট্রোলের সংকটের সম্মুখীন হয় । এদিকে, যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে নাগরিকদের ওপর করের বোঝা বেড়ে যায় । ফলস্বরূপ, এই সার্বিক সংকটের মধ্যে রাশিয়ার শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভাঙন শুরু হয় ।

রুশ বিপ্লবের রাজনৈতিক কারণ

রুশ বিপ্লবের আগে রাশিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো দৃঢ়ভাবে রক্ষণশীল ছিল। চূড়ান্ত রাজনৈতিক ক্ষমতা ছিল জার বা সম্রাটের হাতে । ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের মতো রাশিয়াতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত আইনসভার অভাব ছিল। ফলস্বরূপ, রাশিয়ার শাসন ব্যবস্থায় জার এর ক্ষমতাই সর্বশ্রেষ্ঠ ছিল।

জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ( ১৮৫৫- ৮১ খ্রিস্টাব্দ):

বিভিন্ন সংস্কারের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থ- সামাজিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন দ্বিতীয় আলেকজান্ডার । কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর এই প্রচেষ্টা শুধুমাত্র স্থানীয় শাসনব্যবস্থার মধ্যেই রয়ে গেছিল । কেন্দ্রীয় শাসনে জারের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা তিনি কমান নি । শেষ অবধি তিনি মারা যান রাজনৈতিক পরিবর্তনকামী নিহিলিস্ট বিপ্লবীদের হাতে  ।

জার তৃতীয় আলেকজান্ডার (১৮৮১ – ৯৪ খ্রিস্টাব্দ):  

  • তৃতীয় আলেকজান্ডার, দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের পুত্র,  তার বাবার চেয়েও অনেক বেশি রক্ষণশীল এবং স্বৈরাচারী ছিলেন। “এক জার, এক গীর্জা ও এক রাশিয়া” রাশিয়ার এই মূলমন্ত্রকে সম্বল করে, তিনি সমস্ত জারতন্ত্রবিরোধী শক্তির অবসান ঘটাতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে জার দ্বিতীয়  আলেকজান্ডারের উদারনৈতিক প্রকল্পগুলির ব্যাপারেও তিনি  উদাসীন ছিলেন । তিনি কৃষিতে সামন্ত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন ।
  • তিনি স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত পরিষদের বদলে  গ্রামের জমিমালিকদের এবং তার মনোনীত সদস্যদের নিয়ে  আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করেছিলেন। সর্বোপরি, তিনি পোল, ফিনস এবং ইহুদিদের মতো সংখ্যালঘুদের দমন করে রাশিয়ার বহুজাতিক সাম্রাজ্য রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
  • তিনি জারবাদী রাশিয়ায় বিদ্যমান অনেক জাতিগত সম্প্রদায়কে ” রুশীকরন” করার একটি কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ জমি  দখলের মাধ্যমে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর রাশিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন । তার রুশ নীতির বিরুদ্ধে ঐ সব জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয় ।

জার দ্বিতীয় নিকোলাস (1894-1917 খ্রিস্টাব্দ) :
জার  দ্বিতীয় নিকোলাস তার পিতার মতোই, একজন সেচ্ছাচারী  ছিলেন। তিনি আসলে একজন দুর্বল শাসক এবং তার স্ত্রী জারিনা আলেকজান্দ্রার পাশাপাশি গ্রেগরি রাসপুটিন নামে একজন ভণ্ড জর্জিয়ান সন্ন্যাসী দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

  • সম্রাজ্ঞী এবং রাসপুটিনের সম্মিলিত প্রভাব শাসন, নিয়োগ এবং এমনকি যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তার শাসনকালেই, গণতান্ত্রিক দর্শন দ্বারা অনুপ্রাণিত শিক্ষাবিদরা রাজনৈতিক অধিকারের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তার শাসনকালে একটি বড় আর্থ-সামাজিক সংকট দেখা দেয়, যা 1905 সালে একটি বিদ্রোহের জন্ম দেয়।

1905 খ্রিস্টাব্দের বিপ্লব :

  • সেন্ট পিটার্সবার্গের শ্রমিকরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে 3 জানুয়ারী, 1905 তারিখে ধর্মঘট  শুরু করে । জারবাদী পুলিশ একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালিয়ে এক হাজারেরও বেশি শ্রমিককে হত্যা করে এবং আরও অনেককে আহত করে। এটি রক্তাক্ত রবিবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
  • ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংস আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের সাথে কৃষকরা ও এই আন্দোলনে যোগ দেয় । 1905 সালের জুন মাসে রাশিয়ান নাবিকরা বিদ্রোহ করে। সেই বিপ্লবের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রমিকরা। তারা দেশের বিভিন্ন অংশে “সোভিয়েত” সংগঠিত করে এবং ব্যাপক ধর্মঘট শুরু করে।
  • জার দ্বিতীয় নিকোলাস অবশেষে একটি আপোষমূলক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ায়  শাসনতান্ত্রিক .সংস্কারের চেষ্টা করেন।  তিনি রাশিয়ান জাতীয় পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ’ডুমা’ নামে পরিচিত। এই সভার  জার আইন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডুমারের হাতে তুলে দিতে চাননি।
  • ডুমার সিদ্ধান্তে মনোনীত না হওয়ায় তিনি ডুমা ভেঙে দেন। জার দ্বিতীয় নিকোলাস একইভাবে পররাষ্ট্রনীতিতেও ব্যর্থ ছিলেন । 1904 সালের রুশ-জাপান যুদ্ধে রাশিয়ার জাপানের কাছে পরাজয় সেই দেশের জনগণের কাছে তাঁর সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

সন্ত্রাসের শাসন : 1905 সালের বিদ্রোহের ব্যর্থতার পর, জার নিকোলাসের প্রধানমন্ত্রী পিটার স্টোলিপিন রাশিয়ায় একটি সন্ত্রাসী শাসন জারি করেন। অনেক বিপ্লবীকে সাইবেরিয়ায় সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে পাঠানো হয় । কুখ্যাত অপরাধীদের জেল থেকে বেছে নিয়ে ব্ল্যাক হান্ড্রেড নামে দল তৈরি করা । স্টোলিপিনের নির্দেশে তারা রাশিয়ায় সন্ত্রাসের রাজত্ব শুরু করে। ফলস্বরূপ,  জারবাদী শাসনের প্রতি সাধারণ জনগণের কোন ভালবাসা ছিল না।

দার্শনিক ও সাহিত্যিকদের প্রভাব

ফরাসি বিপ্লবের মত রুশ বিপ্লবের সময়েও বিপ্লবের আদর্শ প্রচারে দার্শনিক এবং লেখকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন । গোর্কি, দস্তয়েভস্কি, তুর্গেনিভ, টলস্টয়, পুশকিন এবং গোগল  প্রমুখর রচনা দেশবাসীর কাছে স্বৈরাচারী জারতন্ত্রের প্রকৃত রূপ তুলে ধরেছিল । নৈরাজ্যবাদী নেতা বাকুনিনের তত্ত্ব এবং সেইসাথে মার্ক্সের সমাজতান্ত্রিক মতবাদ জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-এর প্রত্যক্ষ কারণ

এই পরিস্থিতিতে জারবাদী সরকার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করায় জনগণের ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছায় । সংঘাতের খরচ বহন করার অক্ষমতা সত্ত্বেও রাশিয়া যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। এর ফলে রাশিয়া চূড়ান্ত অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে । কৃষকদের জোর করে সৈন্যদের সাথে নিয়োগ করায়, কৃষি উৎপাদন কমে যায় এবং খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয় ।

ফলে খাদ্য ও অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায় । উপরন্তু, শুধুমাত্র সামরিক উদ্দেশ্যের জন্য রেলপথের ব্যবহার খনিজ উৎপাদনে একটি বড় হ্রাসের কারণ হয়ে দেখা দেয় । অর্থনৈতিক সংকটের ফলে রাশিয়ায় অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। একই সঙ্গে রাশিয়ার ক্ৰমাগত হার এবং বহু সেনার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে তোলে । সাধারণ মানুষ জারবাদী শাসনের প্রতি তীব্রভাবে বিমুখ হয়ে পড়ে ।

রুশ বিপ্লবের সূচনা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণ : জার দ্বিতীয় নিকোলাস বাস্তবতা, জনসাধারণের অনুভূতি এবং জনপ্রিয় বলশেভিক দলের মতামতকে অস্বীকার করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগদান করেন । যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার সামরিক বাহিনী বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। সেখানে প্রচুর রুশ সৈন্য নিহত হয়। জার্মানরা ইউক্রেন এবং ক্রিমিয়া জয় করে।

বলশেভিক দলের যুদ্ধবিরোধী প্রচার : বলশেভিক দল শুরু থেকেই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল । লেনিনের মতে এই যুদ্ধ ছিল পুঁজিবাদের অনিবার্য ফল। বলশেভিক দলের সদস্যরা সেনাবাহিনীর সর্বত্র গুজব ছড়িয়েছিল যে জার ব্যক্তিগত লাভের জন্য সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে জড়িত। বলশেভিক দল ক্ষমতা গ্রহণের সাথে সাথে তারা লড়াই বন্ধ করবে। বলশেভিক দলের  প্রতিশ্রুতি সেনাবাহিনীর মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তাকে শক্তিশালী করেছিল।

শ্রমিক ও কৃষকের অসন্তোষ : যুদ্ধের ফলে করের হার এবং কাজের চাপ বৃদ্ধি পায়। তবে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দেয় । ফলে সাধারণ কর্মজীবী ​​মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে ।

মার্চ মাসে ধর্মঘট : 1917 সালের মার্চ মাসে, বলশেভিকরা পেট্রোগ্রাড শহরের কারখানাগুলিতে শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেয়। সৈন্যরা ধর্মঘট তুলতে জারের হুকুম অস্বীকার করে। পেট্রোগ্রাড এবং অন্যান্য অঞ্চল শ্রমিকদের নেতৃত্বে স্বশাসিত পরিষদ বা সোভিয়েত তৈরি করে । পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে জার নিকোলাস চতুর্থ ডুমা বা জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকতে বাধ্য  হয়। চতুর্থ ডুমার নির্দেশনায় একটি অস্থায়ী প্রজাতন্ত্রী সরকার গঠনের জন্য দশ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয় । এই প্রজাতন্ত্রী সরকারের কেরেনেস্কি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

এপ্রিল থিসিস : কেরেনস্কির সরকারও জনগণের আবেগ এবং সামরিক মনোভাবকে অগ্রাহ্য করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময়কালে, লেনিন নির্বাসন থেকে ফিরে আসেন এবং তার বিখ্যাত “এপ্রিল থিসিস” জারি করেন। এতে বলা হয় যে বুর্জোয়া বিপ্লব সফল হয়েছে এবং একটি  চলমান এবং অবিচ্ছিন্ন বিপ্লবের মাধ্যমে একটি সমাজতান্ত্রিক সরকার গড়ে তুলতে হবে।
কর্নিলভের জুলাই বিদ্রোহ : বলশেভিক দলের  আমন্ত্রণে, রাশিয়ার আশেপাশের স্বায়ত্তশাসিত গভর্নিং কাউন্সিল বা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা পেট্রোগ্রাডে একটি সম্মেলনে যোগ দেন । বৈঠকে সোভিয়েতদের ক্ষমতা দখলের জন্য আহ্বান জানানো হয়। কেরেনস্কি সোভিয়েতের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেন নি । তবে, কর্নিলভ নামে এক সেনাপতি তার বাহিনী নিয়ে কেরেনেস্কির সরকার এবং সোভিয়েতদের উৎখাত করার চেষ্টা করেন । অন্যদিকে কর্নিলভ এর সেনাবাহিনীর সেনারা বলশেভিক প্রচারে বিশ্বাসী হওয়ায় প্রজাতন্ত্রী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

নভেম্বর বিপ্লব : কর্নিলভের বিদ্রোহের ব্যর্থতার পরে, এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে রাশিয়ান সেনাদের সহানুভূতি বলশেভিক দলের প্রতিই রয়েছে। অক্টোবর  মাসে, পেট্রোগ্রাড  সোভিয়েত একটি আদেশ জারি করে যাতে সেনাবাহিনীদের সোভিয়েতদের প্রতি অনুগত থাকতে বলা হয়। সেনাবাহিনীর সাহায্যে শ্রমিকদের অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। অবশেষে,6 নভেম্বর মধ্যরাতে সরকারী অফিসগুলি সোভিয়েতের নেতাদের দখলে চলে গেলে, নভেম্বর বিপ্লবের সূচনা হয় ।

সমকালীন বিশ্বের সমাজ, রাজনৈতিক ও অর্থনীতিতে রুশ বিপ্লবের প্রভাব

রাজনৈতিক প্রভাব :  রাশিয়ান বিপ্লবের রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে। 1917 সালে রাশিয়ান বিপ্লবের জয়ের পর, 1918-19 সালে জার্মানি এবং হাঙ্গেরিতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায় । এই বিপ্লব অবশ্য জার্মানিতে সফল হয়নি। যদিও হাঙ্গেরীয় সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র হাঙ্গেরিতে অল্প সময়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

তবে, বলশেভিক বিপ্লব পরোক্ষভাবে বিশ্বের অনেক দেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সাহায্য করেছিল। এমনকি পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলি যেমন ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং বেলজিয়াম যেখানে কমিউনিস্টরা কখনই ক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি, সেখানেও, বলশেভিক বিপ্লবের সাফল্য কমিউনিস্ট পার্টিগুলিকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

অর্থনৈতিক প্রভাব : সমাজতান্ত্রিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকল্প। একটি ভিন্ন ধরনের সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির  ওপর জোর দেওয়া, যা ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে সাম্প্রদায়িক মালিকানা ও শোষণের পরিবর্তে সহযোগিতায় বিশ্বাসী। রুশ বিপ্লবই প্রথম দেখায় যে সমাজতন্ত্রের অর্থনীতি  একটি তত্ত্বের চেয়েও বেশি, যা বাস্তবে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

বিপ্লবের পর রাশিয়ায় একটি পরিকল্পিত অর্থনীতি গ্রহণ করা হয় । সমগ্র বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে, রাশিয়ার অর্থনীতি  অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির সমকক্ষ হয়ে ওঠে । পরিকল্পিত অর্থনীতির এই রূপটি ভারতের মতো দেশগুলিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে, যারা রাশিয়ার মতো পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে  অর্থনীতির উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করে চলেছে ।

সামাজিক প্রভাব : সর্বোপরি বলশেভিক বিপ্লব ছিল একটি সামাজিক বিপ্লব। মার্কস এবং এঙ্গেলস প্রথম যারা সামাজিক অসাম্যের মূল কারণগুলিকে মোকাবেলা করার জন্য বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা দেখেছিলেন। পরবর্তীতে, রুশ বিপ্লবের সময়, লেনিন এই ধারণার প্রসার ঘটান এবং এটি কার্যকর করেন। এই বিপ্লবটি দেখিয়েছিল যে সামাজিক বিপ্লবের তত্ত্বটি কেবল একটি বিমূর্ত আদর্শ নয়; এটি বাস্তবে প্রয়োগ করা ও যেতে পারে|

স্বাভাবিকভাবেই এই বিপ্লব বিশ্বের সামাজিক বৈসম্যে  নিপীড়িত শ্রেণির মুক্তির নমুনা হয়ে ওঠে। রুশ বিপ্লব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এমনকি ইউরোপ জুড়ে আর্থ-সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগঠিত সংগ্রামের জন্য অনুপ্রেরণা প্রদান করে। একই সময়ে, পুঁজিবাদী কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে অবাধ সামাজিক শোষণ রাষ্ট্রে একটি বৈপ্লবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ, তারা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হন ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল আধুনিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। নেপোলিয়ন যুগ থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইতিহাসের শান্তির যুগ ছিল এই শতাব্দী কাল। কারণ এই সময় জুড়ে সংঘটিত যুদ্ধগুলি কয়েকটি বড় রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল স্থল, সমুদ্র এবং বায়ুতে একটি ভয়ঙ্কর এবং বিপর্যয়কর যুদ্ধ যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।

যদিও বহু মহাদেশের অনেক রাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জড়িত হলেও এই যুদ্ধে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জার্মানি, ইতালি ইত্যাদি রাষ্ট্র । ইউরোপীয় দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থই ছিল এই যুদ্ধের প্রধান কারণ | তবে অস্বীকার করা যায় না যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পেছনে একাধিক কারণ ছিল। ইতিহাসবিদ ডেভিড থমসন একে ” আন্তর্জাতিক নৈরাজ্যের যুগ” বলে অভিহিত করেছেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় 

দুই প্রধান পক্ষ :  প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দুটি ইউরোপীয় দেশ দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল। একদিকে ছিল ত্রিশক্তি মৈত্রী, যার মধ্যে ছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং ইতালি, এবং অন্য দিকে ছিল ত্রিশক্তি আঁতাত, যার অন্তর্ভুক্ত ছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং রাশিয়া। অন্যদিকে ইতালি শেষ পর্যন্ত মিত্রশক্তিকে পরিত্যাগ করে আঁতাত পক্ষের  যুদ্ধে যোগ দেয়। পরে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সমর্থনে তুরস্ক, বুলগেরিয়া এবং অন্যান্য দেশ যুদ্ধে যোগ দেয়। অন্যদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়ার সঙ্গে  যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, পর্তুগাল, গ্রিস সহ অন্যান্য দেশ যোগ দেয়। পরবর্তীতে, মিত্রপক্ষ নাম হয় আঁতাত শক্তির, এবং তাদের প্রতিপক্ষ শক্তির নাম হয়  অক্ষ শক্তি বা কেন্দ্রীয় শক্তি বলা হয়।

আনুষঙ্গিক তথ্য : যুদ্ধে জড়িত দেশ ও তাদের মিত্রদেশের সামগ্রিক সংখ্যা ছিল ২৭ টি। যুদ্ধ কার্যত প্রতিটি মহাদেশে প্রসারিত হয়েছিল। ফলে লড়াইয়ের পরিধি ছিল বিস্তৃত। ৬৫ মিলিয়ন যোদ্ধা উভয় পক্ষে যুদ্ধ করে। মিত্রশক্তির কাছে ছিল প্রায় ৪২ মিলিয়ন, যেখানে অক্ষশক্তির কাছে ছিল ২২  মিলিয়নেরও বেশি।

যুদ্ধের সূচনা :

  • 26শে জুলাই, 1914 সালে, সেরাজেভো হত্যাকাণ্ডের পর অস্ট্রিয়া সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়(আগের অধ্যায় দেখুন)। চুক্তি ও জোটের রাজনীতির বাধ্যবাধকতার কারণে এই বিশ্বযুদ্ধে আসলে তিনটি বড় যুদ্ধ হয়েছিল, যেগুলো মিলে এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করেছিল |
  • এই তিনটি সংঘাতের মধ্যে প্রথমটি ছিল অস্ট্রিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষ। এই যুদ্ধে জয়ী হলে বলকানে অস্ট্রিয়ার প্রভাব বেড়ে যেত। ফলস্বরূপ, রাশিয়া অস্ট্রিয়ার উপর আক্রমণ শুরু করে। অস্ট্রিয়ার মিত্র জার্মানি অস্ট্রিয়ার সাথে যোগ দেয় এবং রাশিয়ার জার ও ফরাসি সম্রাটকে দুটি চরম পত্র পাঠায়।
  • কিন্তু, কোনো পক্ষই শোনেনি বলে, জার্মানি রাশিয়া ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ফলে দ্বিতীয় যুদ্ধ ছিল অস্ট্রিয়া-জার্মানি ও ফ্রান্স- রাশিয়ার মধ্যে |
  • জার্মানির উদ্দেশ্য ছিল  ফ্রান্সকে  হারিয়ে পূর্বসীমান্তে রাশিয়ার মুখোমুখি হওয়া। ফলস্বরূপ,  নিরপেক্ষ বেলজিয়াম হয়ে ফ্রান্সকে আক্রমণ করলে ব্রিটেন যুদ্ধে যোগ দেয়। তাহলে  ব্রিটেন ও জার্মানির মধ্যকার সংঘর্ষকে তৃতীয় মহাযুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে।

অগ্রগতি 

পশ্চিম সীমান্ত : পশ্চিম দিকে, জার্মান সৈন্য এবং ফরাসি ও ব্রিটিশ বাহিনীর মধ্যে চার বছর ধরে পরিখার লড়াই চলছিল। উভয় দলই উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হলেও, কেউই অপরকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করতে পারেনি। জার্মানি এই সংঘর্ষে প্রথম বিষাক্ত গ্যাস এবং ব্রিটিশ বাহিনী  প্রথম ব্যবহার করে ট্যাঙ্ক । এগুলো যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে প্রথম ব্যবহার করা হলেও যুদ্ধের ফলাফলে এদের কোনো ভূমিকা ছিল না।

পূর্ব সীমান্ত : রাশিয়া পূর্ব সীমান্তে কিছু প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু বিপর্যয় শুরু হয় 1916 সালে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অবস্থা ছিল বৈপ্লবিক। 1917 সালে বলশেভিক বিপ্লব ঘটলে রাশিয়া যুদ্ধ প্রত্যাহার করে নেয়। যুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণ 2 মার্চ, 1918 সালে জার্মানির সাথে ব্রেস্টলিটভস্ক চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয় । সার্বিয়া ও রোমানিয়া আগেই আত্মসমর্পণ করেছিল।

ইউরোপের বাইরে : প্রথম বিশ্বযুদ্ধ উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ায় সংঘটিত হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে, তুরস্ক জার্মানির সাথে বাহিনীতে যোগ দেয় এবং ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের উপনিবেশগুলি দখল করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের লক্ষ্য ছিল আরব জাতীয়তাবাদকে উস্কে দেওয়া এবং অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙ্গে দেওয়া।

অন্যদিকে ব্রিটেন ইহুদিদের সমর্থনের বিনিময়ে প্যালেস্টাইনে একটি রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। একদিকে আরব জাতীয়তাবাদ এবং অন্যদিকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র গঠন এই দুটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চাকাঙ্ক্ষার উস্কানির ফলে পশ্চিম এশিয়া আজও আরব-ইহুদি দ্বন্দ্বে জর্জরিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যোগদান ও যুদ্ধের পরিণতি

  • যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের জন্য রসদ এবং খাদ্য  সরবরাহ করেছে। অবশেষে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বিশাল সামরিক শক্তির সাথে সরাসরি মিত্রবাহিনীর সাথে যোগ দেন, তখন অক্ষ জাতিগুলি যুদ্ধে পরাজিত হয়। এই সময়ে জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ায় অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেখা দেয়।
  • 1918 সালের সেপ্টেম্বরে, বুলগেরিয়া আত্মসমর্পণ করে। অক্টোবরে, অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে। অস্ট্রিয়ান সম্রাট 12ই নভেম্বর পদত্যাগ করেন। অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের অসংখ্য জাতি, বিশেষ করে চেক, পোল, হাঙ্গেরিয়ান এবং যুগোশ্লাভরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। 3 নভেম্বর জার্মানিতে সম্রাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।
  • জার্মান কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম, 6 নভেম্বর সম্রাট পদ ত্যাগ করেন এবং হল্যান্ডে পালিয়ে যান। 11 নভেম্বর জার্মান প্রজাতন্ত্রী সরকার দখল করে এবং  প্রজাতন্ত্র গঠন করে। 11 নভেম্বর, সকাল 11 টায় জার্মানি আত্মসমর্পণ করলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয় |

বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের কারণ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিশাল সেনাবাহিনী, সেনাদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা এবং উচ্চতর অস্ত্রসজ্জা সত্ত্বেও, জার্মানি পরাজিত হয়। জার্মানির পরাজয়ের কারণগুলি নিম্নরূপ –

  • যুদ্ধ দুটি জোটের মধ্যে হয়েছিল, শুধুমাত্র জার্মানি এবং অন্য কোন দেশের মধ্যে নয়। কারণ জার্মানির অন্যান্য মিত্র দেশগুলি তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল, তাই বেশিরভাগ দায়িত্ব  ছিল জার্মানির উপর , তাই তারা বেশিদিন মিত্র শক্তির সাথে মোকাবিলা করতে পারেনি।
  • জার্মানির কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যক আধুনিক অস্ত্র ছিল, কিন্তু অ্যাংলো-ফরাসিদের চেয়ে তা ছিল অনেক কম।
  • ইঙ্গ-ফরাসি জোটের বিশ্ব- উপনিবেশগুলি  প্রয়োজনীয় তহবিল, সৈন্য এবং সরবরাহ সংগ্রহ করায় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালাতে তারা সক্ষম ছিল। অন্যদিকে অস্ট্রো-জার্মান জোটের উপনিবেশগুলি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের উপকরণ সংগ্রহে অক্ষম ছিল ।
  • জার্মানির নৌবাহিনী ইংল্যান্ডের তুলনায় অনেক নিকৃষ্ট ছিল। এই যুদ্ধে জার্মানি সর্বপ্রথম সাবমেরিন  ব্যবহার করেছিল। জার্মানি যখন সাবমেরিন ব্যবহার করে মিত্রবাহিনীর জাহাজ ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল, তখন মিত্ররা সাবমেরিন-বিরোধী অস্ত্র তৈরি করেছিল, যা সাবমেরিনগুলির ধ্বংসাত্মক সম্ভাবনাকে হ্রাস করেছিল। অ্যাংলো-ফরাসি জোট গতি লাভ করে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবেশ করে।
  • জার্মানির আত্মরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ছিল। রাশিয়ার মতো বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অভাবে জার্মানির পক্ষে পশ্চাৎমুখী যুদ্ধ করা অসম্ভব ছিল।
  • জার্মানির ওপর ছিল অক্ষ শক্তির প্রধান দায়িত্ব । জার্মানিকে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় রণাঙ্গনে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হয়েছিল। অন্যদিকে এই চাপ  মিত্রপক্ষের কোনো রাষ্ট্রের ওপর ছিল না।
  • কূটনৈতিক ব্যর্থতাও জার্মানির পরাজয়ের একটি কারণ ছিল। জার্মানির কূটনীতি জোট ভাঙার ক্ষেত্রে অকার্যকর ছিল, কিন্তু মিত্রশক্তির কূটনীতির ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ইতালি অ্যাংলো-ফরাসি জোটে যোগ দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তির সদস্য হয়।

সমসাময়িক প্রযুক্তিগত অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও এবং সামরিকভাবে শক্তিশালী হওয়া সত্ত্বেও উপরে উল্লিখিত কারণগুলির জন্য জার্মানি প্রথম  বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং উড্রো উইলসন ও চোদ্দো দফা নীতির প্রেক্ষিত

যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ঘটছিল, তখন জার্মানি এবং এর অক্ষ মিত্রদের উপর  ক্ষতিপূরণ সহ বেশ কয়েকটি শর্ত বা দাবি আরোপ করার বিষয়ে আলোচনা করছিল মিত্রপক্ষরা। এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন তার চোদ্দো-দফা নীতি জারি করেন।

তার নীতির লক্ষ্য ছিল পৃথিবীতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি গড়ে তোলা এবং বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা দূর করা। গোপন চুক্তি, ক্ষমতার জন্য শক্তিশালী দেশগুলির আকাঙ্ক্ষা, স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা ইত্যাদিকে তিনি যুদ্ধের জন্য দায়ী করেন | তার নীতিতে জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি ইত্যাদির উপর জোর দেওয়া হয় ।

তার চোদ্দো-দফা পরিকল্পনায়, তিনি রাজ্যগুলির মধ্যে বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ, অস্ত্রশস্ত্র হ্রাস এবং পরাজিত রাজ্যগুলি থেকে সৈন্য প্রস্থানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্বতন্ত্র জাতিগত রাষ্ট্র এবং স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে যুদ্ধের সম্ভাবনাকে দূর করার জন্য আন্তর্জাতিক শান্তি  এবং জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোর দেন।

ভার্সাই চুক্তির অর্থনৈতিক সমীকরণ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে প্যারিসে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে 32টি বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও  ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং জাপানের কাছে ছিল আসল ক্ষমতা । এই সম্মেলনে পরাজিত জার্মানিকে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি । তদুপরি, জার্মানির সাথে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়েছিল এবং জার্মান প্রতিনিধিদের  যুদ্ধবন্দী হিসেবে রাখা হয়েছিল।

প্যারিস সম্মেলনে নেওয়া ভার্সাই চুক্তি যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ইউরোপের পুনর্গঠনের আহ্বান জানায় এবং জার্মানির উপর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক বিধিনিষেধ আরোপ করে। ভার্সাই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য ছিল জার্মানিকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা। এবং মিত্রশক্তির অর্থনৈতিক শর্তগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল জার্মানির জাতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করা ।

  • যুদ্ধের সমস্ত দায় জার্মানির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানিকে 66.6 বিলিয়ন  দিতে বাধ্য করা হয় ।
  • সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে জার্মানি ইতালি, ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামকে প্রয়োজনীয় কাঠ, রাবার, কয়লা এবং লোহা সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে।
  •  জার্মানির শিল্প ও বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করা হয়।
  •  ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স জার্মানির অধিকাংশ বন্দর দখল করে।
  • ফ্রান্সের কয়লা খনির ক্ষতির জন্য, জার্মানির কয়লা সমৃদ্ধ সার উপত্যকাকে 15 বছরের জন্য ফরাসি প্রশাসনের অধীনে রাখা হয় ।
  • পোল্যান্ডের অধীনে, জার্মানির 11টি সীসার খনি, 16টি দস্তা খনি এবং 53টি কয়লা খনি নিয়ে নেওয়া হয়। জার্মানি যাতে এই শর্তাবলী মেনে চলে তার জন্য জার্মানির ওপর লক্ষ্য রাখা হয়েছিল এবং রাইন নদীর বাম তীর 15 বছরের জন্য সম্মিলিত শাসনের অধীনে চলে গেছিল।

ভার্সাই চুক্তি দ্বারা জার্মানির উপর আরোপিত ব্যাপক ক্ষতিপূরণের বোঝা জার্মানির আর্থিক পুনর্গঠনকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। তবে, আর্থিক পুনর্গঠন ছাড়া, জার্মানির পক্ষে এই ক্ষতিপূরণের ভার বহন করা অসম্ভব ছিল ।

মূল্যায়ন :

  • বিভিন্ন ইতিহাসবিদ ভার্সাই চুক্তির নীতি এবং বিজয়ী রাষ্ট্রবর্গের আচরণ নিয়ে পক্ষ এবং বিপক্ষ উভয় দৃষ্টিভঙ্গিতেই আলোচনা করেছেন । চুক্তির বিষয়বস্তু সমগ্র জার্মানবাসীকে .সম্পূর্ণ হতাশার মধ্যে ফেলে দেয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মান মন্ত্রিসভা নিরুপায় হয়ে চুক্তিটি অনুমোদন করতে বাধ্য হয় ।
  • ফলস্বরূপ, চুক্তিটি ছিল প্রতিটি জার্মানির কাছে জাতীয় অপমানের প্রতীক । ভার্সাই চুক্তি ন্যায্যতা এবং পারস্পরিক সুবিধার নীতিগুলি অনুসরণ করেনি । তদুপরি, জার্মানির উপর আরোপিত বিশাল ক্ষতিপূরণ বোঝা অবাস্তব ছিল। ভার্সাই চুক্তির শর্ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে, মিত্রশক্তির প্রতিনিধিরা সুদূরপ্রসারী বিবেচনার দ্বারা প্রভাবিত হননি |

শেষ পর্যন্ত, মিত্র শক্তি জার্মানিকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করতে গিয়ে জার্মান জাতীয়তাবাদকে অস্বীকার করতে চেয়েছিল । জার্মানরা ভার্সাই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়ে অনড় ছিল। চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পূর্ণরূপে জার্মানদের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল ছিল । অন্যদিকে ভার্সাই চুক্তি যে কোনো মূল্যে জার্মানিকে দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল। এই স্ব-বিরোধিতাই  অবশেষে ভার্সাই চুক্তিকে অপার্থিব এবং মূল্যহীন করে তোলে।

জাতিসংঘ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এবং ব্রিটিশ সরকার মনে করেছিলেন যে বিশ্বের শান্তি স্থায়ীভাবে রক্ষা করার  জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজন। তাই যুদ্ধ শেষ হবার পর, 1920 সালের 10 জানুয়ারি জাতিসংঘ গড়ে ওঠে । এটি ছিল বিশ্বশান্তির জন্য গড়ে ওঠা প্রথম আন্তর্জাতিক সংগঠন ।

এর প্রধান লক্ষ্য ছিল যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নিরস্ত্রীকরণের দ্বারা যুদ্ধের সম্ভাবনাকে প্রতিরোধ করা। এই সংস্থা 1946 সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গড়ে ওঠা অবধি কার্যকর ছিল । প্রাথমিকভাবে কিছু সফলতা পেলেও, স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছিল ।

1929-এর মহামন্দা এবং সময়কালীন ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রভাব

1929 থেকে 1939 সাল, এই দশ বছর বিশ্বের অর্থনৈতিক ইতিহাস  এক ভয়ংকর বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় যা অর্থনৈতিক মন্দা নামে পরিচিত । যদিও এই বিপর্যয়ের শুরু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছিল, কিন্তু তা ক্রমশ বিশ্বের সমগ্র শিল্পজগতে ছড়িয়ে পড়ে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ব্যতীত, কার্যত প্রতিটি দেশই বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। এই অর্থনৈতিক মন্দা ছিল একটি অভূতপূর্ব ঘটনা যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি।

এই অর্থনৈতিক মন্দা আমেরিকা থেকে ইউরোপ ও এশিয়ায় ভূমিকম্পের মতো ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের মুদ্রা ছিল ডলারের দামে বাঁধা । ব্রিটেন, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশ  বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করত ।জার্মানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঋণ নিয়ে তার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছিল।  মার্কিন  ঋণগ্রস্ত দেশগুলির এই অর্থনৈতিক মন্দার ফলে ভীষণ ক্ষতি হয়েছিল । এর মধ্যে জার্মানির অবস্থা ছিল সবচেয়ে খারাপ।

আমেরিকায় মহামন্দার কারণ :
1920-এর দশকে মার্কিন অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই এক দশকে আমেরিকানদের মোট সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল । ফলস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার বাজার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছিল । দ্রুত মুনাফার লোভে  সেখানে জড়ো হয়েছিল ফাটকাবাজরা । কোম্পানিগুলির উৎপাদন এবং লভ্যাংশের তুলনায় শেয়ারের দাম বেড়েছিল অনেক বেশি ।

1920-এর দশকের শেষের দিকে কৃষিক্ষেত্রে সংকটের কারণে শিল্পজাত পণ্যের চাহিদা হ্রাস পেতে থাকে। এতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং একসাথে তাদের শেয়ার বিক্রি করার চেষ্টা করে। এর ফলে শেয়ার বাজারে ধস নামে । শিল্পজাত পণ্যের চাহিদা দ্রুত হ্রাস পেতে থাকায় শিল্পসংস্থাগুলিরও উৎপাদন হ্রাস পায় । দেখা দেয় বেকারত্ব ফলে অর্থনীতি আরও খারাপ হয় ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকেই মিত্রপক্ষের দেশগুলি মার্কিন ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে । জার্মানির কাছ থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণই ছিল তাদের ঋণশোধ এবং যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের একটি প্রধান উৎস।  আবার জার্মানি ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য মার্কিন ঋণের ওপর নির্ভরশীল ছিল ।

অর্থনৈতিক মন্দার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দিলে ইউরোপ জুড়ে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রধান ইউরোপীয় দেশগুলি পারস্পরিক সহযোগিতার বদলে বিচ্ছিন্নতার নীতি  বেছে নেওয়ায় সংকট আরও বাড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মার্কিন রাষ্ট্রপতি হার্বার্ট হুভারের  নেতৃত্বে কয়েকটি পদক্ষেপ  নেওয়া হয় যা হুভার মোরাটোরিয়াম নামে পরিচিত ।

ইউরোপে মন্দার কারণ :
ইতিহাসবিদরা ইউরোপীয় মহামন্দার কারণ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। ইউরোপীয় অর্থনীতিবিদরা ইউরোপীয় মন্দার কতগুলি নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করেছেন। কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে যখন সোনার  জোগানে ঘাটতি দেখা দেয়, তখন পণ্যের দাম হ্রাস পায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে  বিপর্যয় দেখা দেয়।

আবার অনেকেই বিশ্বাস করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার জোগান বৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ে। তবে এটি নিঃসন্দেহে বলা যায় যে এই দুই  অর্থনীতিবিদদের পরস্পর বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি একে অপরের পরিপূরক ছিল। ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সংকটের অন্যান্য কারণগুলি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। কারণগুলি হল-

  • মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন কারণে প্রাক্তন উদারনৈতিক ধনতন্ত্র  ভেঙ্গে পড়ে।
  • প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে মিত্র দেশগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যখন কমিউনিস্ট রাশিয়া প্রাক্তন জারবাদী প্রশাসনের নেওয়া ঋণ বাতিল করেছিল।
  • বিশ্ববাজারে সোনার জোগান কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • কৃষি পণ্যের মূল্য হ্রাসের কারণে, কৃষকরা শিল্পপণ্য ক্রয়  করতে সক্ষম ছিল না।
  • প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে কায়িক শ্রমের চাহিদা হ্রাস পায় এবং শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ে।
  • শিল্পে অনুন্নতশীল দেশগুলি বিদেশী পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ করে দেওয়ায় শিল্পোন্নত দেশগুলি অসুবিধায় পড়ে। 1933 সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলন ও এই সব সমস্যার সমাধান করতে পারেনি।

প্রভাব :
অর্থনৈতিক মহামন্দা সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ফলে ছাঁটাই, বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার মান চূড়ান্তভাবে হ্রাস পায়। অর্থনীতির সামগ্রিক প্রসারণ বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে যত্ন সহকারে লালন-পালন করেছিল । মহামন্দার প্রভাবে এই মূল্যবোধ ও ব্যক্তিস্বতন্ত্র্যবাদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় | ইউরোপে সমাজতান্ত্রিকতার  আদর্শ এবং তার বিপরীতে একনায়কতন্ত্রী ফ্যাসিবাদের মতবাদ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইউরোপের পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসাবে উত্থান

অর্থনৈতিক মন্দা প্রতিরোধে ব্যর্থ হলে, আমেরিকায় রিপাবলিকান শাসনের পরিবর্তে ডেমোক্রেটিক দলের শাসন প্রতিস্থাপিত হয়। এই দলের প্রার্থী ফ্র্যাঙ্কলিন ডিলানো রুজভেল্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হন।

তিনি দেশের আসন্ন অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠিক করার জন্য কয়েকটি নতুন কৌশল প্রণয়ন করেন। এই নতুন পরিকল্পনাগুলিকে একসাথে” নিউ ডিল” হিসেবে উল্লেখ করা হয়৷ এই পরিকল্পনাগুলির মধ্যে ছিল রাস্তা, বাঁধ এবং সেতু প্রভৃতি নির্মাণে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা। ফলে আরও কর্মসংস্থান বাড়ে এবং অর্থনৈতিক উন্নতি হয় ।

রুজভেল্ট 1935 সালে সামাজিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করেন, যা বার্ধক্যভাতা এবং বেকার বীমা প্রতিষ্ঠা করে। রুজভেল্টের নতুন ব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক সংকটের একটি বড় অংশ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। 1933 সালে ইউরোপে  বিশ্ব অর্থনীতি সম্মেলন ব্যর্থ হলে, বিশ্বে একটি নতুন অর্থনৈতিক পরিকাঠামো গঠিত হয়।

আমেরিকা তার অর্থনৈতিক সংকট জয় করার পর ইউরোপে পুনরায় প্রভাব বাড়াতে শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী হলেও অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাশ্চাত্য জগতের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহন করে ।

উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারের ক্ষেত্রে ভার্সাই সন্ধির শর্তাবলীর ভুমিকা

  • কিছু শিক্ষাবিদদের মতে, ভার্সাই চুক্তি ছিল একটি জোরপূর্বক শান্তি চুক্তি। ভার্সাই-এর শর্তাবলী জার্মানির সাধারণ জনগণ এবং রাজনীতিবিদদের একটি বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভার্সাই চুক্তির বিরুদ্ধে জার্মানির বক্তব্য  সম্পূর্ণ অযৌক্তিক নয়।
  • জার্মানির মতে, যখন তারা আত্মসমর্পণ করেছিল, তখন তারা আশা করেছিল যে উইলসনের চোদ্দো দফা শর্ত অনুসরণ করে শান্তি চুক্তিটি প্রণীত হবে। সেই অনুসারে জার্মানিকে কোনো ধরনের অযৌক্তিক ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে না। এ ছাড়া পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি চুক্তি সম্পাদন করা হবে। কিন্তু, আসলে দেখা যায় জার্মানির ওপর বিশাল ক্ষতিপূরণের বোঝা চাপানো হয়েছে ৷
  • এমনকি জার্মানির শিল্প ও খনিজ সম্পদ মিত্রপক্ষের দ্বারা এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল যে জার্মানির পক্ষে ক্ষতিপূরণের দাবি পূরণ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। জার্মান উপনিবেশগুলি জার্মানির  দখলের বাইরে চলে যায় এবং তাদের সমরসজ্জাকে ব্যাপকভাবে হ্রাস করতে বাধ্য হয় । আর একতরফাভাবেই এইসব কিছু করা হয়। তা ছাড়া, জার্মান প্রতিনিধিদলকে ভার্সাই চুক্তিতে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
  • স্বাভাবিকভাবেই, জার্মানি ভার্সাই চুক্তিকে তার জাতীয় মর্যাদার অবমাননা হিসেবে দেখেছিল। এটি মনে রাখা ভালো যে  জার্মানির জাতীয় ঐক্য আন্দোলন  মাত্র অর্ধ শতাব্দী (1871) আগেই সফল পরিণতিতে পৌছেছিল।
  • প্রথাগত জাতি রাষ্ট্রগুলির চেয়ে জার্মানির জাতীয় মর্যাদাবোধ ছিল অনেক বেশি। জাতীয় অমর্যাদার ফলস্বরূপ, উগ্র জাতীয়তাবাদী সচেতনতা জার্মানিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ভার্সাইয়ের নিয়ম লঙ্ঘনের মাধ্যমেই জার্মানি যেন জাতীয় গর্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ।

মহামন্দার ফলে অর্থনৈতিক সংকট এবং ইতালি ও জার্মানিতে ফ্যাসিবাদী ও নাতসিবাদী শক্তির উত্থান

1929 সাল  এবং তার পরবর্তী মন্দাজনিত পরিস্থিতি শুধু অর্থনীতিতে নয়, রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মানুষ গণতন্ত্রের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে । গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে একনায়কতন্ত্রী শক্তিগুলির বিকাশ হয়। এই সময়ে জার্মানি এবং ইতালিতে একনায়কতন্ত্র দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মুসোলিনির নেতৃত্বে ইতালিতে ফ্যাসিবাদ  এবং হিটলারের  নেতৃত্বে জার্মানিতে নাতসিবাদ বিকাশলাভ করে।

ইতালিতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান : সর্বপ্রথম ইতালিতে একনায়কতন্ত্রী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় । বেনিটো মুসোলিনি ছিলেন একনায়কতন্ত্রী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার রূপকার । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরের অনন্য পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদের উদ্ভব হয়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একজন সৈনিক হিসাবে যোগ দেবার পর, তিনি “ইল পপলো দ্য ইতালিয়া” নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে তাঁর আদর্শ প্রচার করা শুরু করেন। যুদ্ধ শেষ হবার পর, তিনি মিলান শহরে “ফ্যাসি দ্য কম্বাটিমেন্টো” নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেন। এই দলের সদস্যরা ফ্যাসিস্ট নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন । মুসোলিনি বলেন  যে, রাষ্ট্র একটি স্বাধীন জৈবিক সত্তা যার নিজস্ব ইচ্ছা, উদ্দেশ্য এবং ব্যক্তিত্ব  রয়েছে। এই প্রসঙ্গে, তাঁর বিখ্যাত উক্তি হল যে, রাষ্ট্রের মধ্যেই সব কিছু, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু নয়, রাষ্ট্রের  বাইরেও কিছু নয় । তিনি দলের লক্ষ্য  হিসেবে যেগুলি  ঘোষণা করেছিলেন সেগুলি  হল-

  • রাষ্ট্রের মর্যাদা বৃদ্ধি করা,
  • ইতালির মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করা,
  • গণতন্ত্রী এবং সমাজতন্ত্রীদের প্রভাব থেকে জাতিকে রক্ষা করা, এবং
  • ব্যক্তিগত ধনসম্পত্তি  রক্ষা করা।

এর জন্য তিনি ফ্যাসিস্ট সদস্যদের কুচকাওয়াজ এবং শৃঙ্খলাপরায়ণতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছিলেন। ফ্যাসিস্টরা খুব দ্রুত নিজেদের একটি নিয়মিত বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ফ্যাসিস্টদের সাথে যোগ দেয় ফিউমের বিজয়ী বিখ্যাত কালো কোর্তা বাহিনী । তখন থেকেই ফ্যাসিস্টরা কালো পোশাক পরতে শুরু করে। তারা সমাজতান্তিক ও কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালাতে থাকে। এই নীতি পরিচিত হয় স্কোয়াড্রিজম নামে ।

কিছুটা ভয়ে, এবং কিছুটা আনুগত্যে ফ্যাসিস্টদের কর্তৃত্ব সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে । এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, এই দলটি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। মুসোলিনি তখন সর্বোচ্চ ক্ষমতা দখলের জন্য রাজা ভিক্টর ইম্যানুয়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তার নির্দেশে কালো কোর্তা বাহিনী  দ্বারা রোম অবরোধ করা হয়। ইম্যানুয়েল  মুসোলিনিকে একটি মন্ত্রীসভা গঠনের জন্য আহ্বান জানাতে বাধ্য হন। মুসোলিনির নেতৃত্বে 1922 সালের 30 অক্টোবর একটি ফ্যাসিস্ট  মন্ত্রীসভা গঠন করেন। মুসোলিনি প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত হন।

ফ্যাসিবাদের প্রভাব বৃদ্ধিতে মহামন্দাজনিত পরিস্থিতির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য । এই সময় ইতালি অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। শিল্পে পিছিয়ে থাকার জন্য, ইতালির ওপর মহামন্দার প্রভাব ছিল নেতিবাচক ।শিল্প ও বাণিজ্যিক উভয় অর্থনীতিই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জনসাধারণের আর্থিক অবস্থা ছিল শোচনীয় । বেকারত্ব দ্রুত বাড়তে থাকে । ইতালীয় মুদ্রা “লিরা”-র মূল্য হ্রাস পায় । জনগণের জীবনযাত্রার মান হয় নিম্নমুখী ।

যুদ্ধের পরে ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য ব্যাপারের জন্য ইতালি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। তবে, মহামন্দার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তার প্রভাব ইতালির ওপরেও পড়ে । এর সাথে ছিল ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি, উৎপাদন হ্রাস এবং শিল্প বন্ধ হবার প্রবণতা । সর্বোপরি  ছিল, বিশাল পরিমাণে বাজেটের ঘাটতি।

এমন একটি কঠিন পরিস্থিতিতে, ইতালিতে মুসোলিনি ও তার ফ্যাসিস্ট পার্টির নেতৃত্বে ইতালির একনায়কতন্ত্রী  সরকার সমস্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে । 1922 সালের 30 অক্টোবর মুসোলিনি একটি ফ্যাসিবাদী সরকার গঠন করেন। মুসোলিনি প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং তাকে “ইল দ্যুচে” উপাধি গ্রহণ করেন।

জার্মানিতে নাতসিবাদের উত্থান : বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে হিটলারের নেতৃত্বে নাতসি একনায়কতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হল বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলির মধ্যে একটি । তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ছিল নাতসিবাদ প্রতিষ্ঠার পেছনে অন্যতম কারণ। এর প্রধান কারণ ছিল মহামন্দা। এর ফলে জার্মানির প্রচণ্ড অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং জনগণের অভাবনীয় আর্থিক দুর্দশা দেখা দেয়। জার্মানির কাঁধে একটি বিশাল ক্ষতিপূরণের বোঝা ছিল। বিদেশী ঋণের উপর জার্মানির প্রজাতন্ত্রের সম্পূর্ণ নির্ভরতা দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙ্গে দিয়েছিল। মহামন্দার পর, পশ্চিমি দেশগুলি জার্মানিকে ঋণ দিতে অস্বীকার করে। জার্মান সরকার তখন সম্পূর্ণভাবে জনসমর্থন হারিয়ে ফেলে ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার  তার অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন এবং “আয়রন ক্রস” লাভ করেন । এরপর  তিনি “জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি” -তে যোগ দেন। 1920 সালের মার্চ মাসে দলের নতুন নাম  হয় “ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টি” বা নাতসি দল।

সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা প্রজাতন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রচার চালায়, এবং জার্মানির সংকটের জন্য প্রজাতন্ত্রী সরকারকে দায়ী করে। ফলে হিটলারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় । জার্মান জনগণের একটি বিশাল অংশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল।ফলে, হতাশ শ্রমিক, কৃষক, বেকার সৈনিক এবং যুবকরা নাতসি সংগঠনগুলির আশ্রয় নেয় ।

হিটলারের মধ্যে, তারা একজন যোগ্য নেতা খুঁজে পেয়েছিল। জার্মান জনগণের সাধারণ অবস্থা বুঝতে পেরে হিটলার এবং নাতসি দল জনসমাবেশে, মিছিলে, পত্রপত্রিকায় এবং বক্তৃতায় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করে।1932 সালে নাতসি দল নির্বাচনে জয়ী হলে হিটলার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তবে, কয়েক দিন পরে, এই সরকারের আমলে দেশের অচলাবস্থা দেখা দেয় এবং পুনঃনির্বাচন পরিচালিত হয়। সেখানে নাতসি  দল আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 1934 সালে হিটলার একই সাথে জার্মানির রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তাকে জার্মানির সর্বাধিনায়ক বা “ফ্যুয়েরার“ নাম দেওয়া হয়। ভাইমার প্রজাতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রতিষ্ঠা পায় নাতসি দলের একনায়কতন্ত্র ।

স্পেনের গৃহযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ফ্যাসিবাদী বনাম বিরোধী আদর্শের সংঘাত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে, স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ ছিল বিশ্বরাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনাগুলির মধ্যে একটি। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে স্পেনে প্রতিষ্ঠিত ছিল নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র । বুরবোঁ রাজবংশের ত্রয়োদশ অ্যালফানসোর শাসনামলে স্প্যানিশ রাজনীতি ও সমাজে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় । এই পরিস্থিতিতে, ক্যাটালোনিয়ার সামরিক শাসক, প্রাইমো-ডি-রিভেরা, 1923 সালে দেশে একটি সামরিক একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তবে, 1930 সালে তাঁর স্বৈরশাসনে দেশব্যাপী বিক্ষোভের শুরু হলে তাকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয় ।

তারপর, 1931 সালের ডিসেম্বরে, আলকালা জামোরার নেতৃত্বে স্পেনের ক্ষমতায় আসে প্রজাতন্ত্রী সরকার। শিল্পসংগঠনগুলির রাষ্ট্রায়ত্তকরণ, চার্চের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ ইত্যাদি  সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করলেও পুঁজিপতি, জমির মালিক এবং ক্যাথলিকরা এর বিরোধিতা করেছিল। ফলস্বরূপ, জামোরা পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ডানপন্থীরা 1933 সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে। তবে, প্রশাসকদের প্রতিক্রিয়াশীল শাসনের ফলে সারা দেশে বিদ্রোহ শুরু হয়। এই অবস্থায়, জামোরা 1936 সালে পুনরায় নির্বাচনের ডাক দেন ।

1936 সালের নির্বাচনে, সমাজতন্ত্রী, প্রজাতন্ত্রী এবং কমিউনিস্টরা পপুলার ফ্রন্ট নামে জোট গঠন করে । স্যান্টিয়াগো ক্যাসারিস হন প্রধানমন্ত্রী, আর ম্যানুয়েল আজানা হন রাষ্ট্রপতি। ডানপন্থীরা এই প্রশাসনের বিরোধিতা করতে থাকলে সরকার দেশদ্রোহিতার ভিত্তিতে অনেক সামরিক কর্মকর্তাকে পদত্যাগ করতে এবং অবসর নিতে বাধ্য করে । ফলস্বরূপ, জেনারেল স্যাঞ্জুরাজুর নেতৃত্বে বিদ্রোহ শুরু হয়। তিনি দুর্ঘটনায় নিহত হলে, জেনারেল ফ্রাঙ্কো বিদ্রোহের নেতৃত্ব করেন।

বিদ্রোহ দেশ জুড়ে বিস্তৃত হওয়ার সাথে সাথে স্পেনীয়রা দু’ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রজাতন্ত্রী প্রশাসন শ্রমিক, কৃষক এবং কমিউনিস্টদের দ্বারা সমর্থিত হয় এবং অন্যদিকে জেনারেল ফ্রাঙ্কো রাজতন্ত্র, ফ্যাসিস্ট এবং সামরিক বাহিনী দ্বারা সমর্থিত হয়। এইভাবে প্রজাতন্ত্রী প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

বিদ্রোহের ফলে স্পেনের রাষ্ট্রপতি  আজানা প্যারিসে পালিয়ে যান। এই গৃহযুদ্ধে জার্মানি এবং ইতালি বিদ্রোহীদের সমর্থন জানায়। তারা বিদ্রোহীদের সেনা ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করতে থাকে । যদিও ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি । 1939 সালের 4 এপ্রিল, জেনারেল ফ্রাঙ্কো তিন বছরের গৃহযুদ্ধের পর স্পেনে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা  করেন। ফলস্বরূপ, স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

গুরুত্ব : স্পেনের গৃহযুদ্ধ তার সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। জেনারেল ফ্রাঙ্কোর স্পেনে একনায়কতন্ত্রের গঠন হিটলার এবং মুসোলিনির জোটকে আরো দৃঢ় করে। ফলস্বরূপ, ফ্যাসিবাদী এবং নাতসিবাদী  প্রভাব বৃদ্ধি পায় । এই যুদ্ধ ছিল জাতিসংঘের  একটি ব্যর্থতা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এতে জড়িয়ে পড়ে । ফলে অনেকেই এই যুদ্ধকে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া’ বলে উল্লেখ করেছেন।

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ BINGSHO SHOTABDWITE EUROPE

1 MARKS QUESTIONS of বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ BINGSHO SHOTABDWITE EUROPE

1. ফুয়েরার নামে কে পরিচিত হন?
Ans. হিটলার ‘ফুয়েরার’ নামে পরিচিত হন।

2. “সংযুক্ত সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র” রূপে রাশিয়া কবে সংগঠিত হয়?
Ans. “সংযুক্ত সোভিয়েত, সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র” রূপে রাশিয়া সংগঠিত হয় 1924 খ্রিস্টাব্দে।

3. সেন্ট জার্মায়েন-এর সন্ধি কার সঙ্গে সম্পাদিত হয়?
Ans. অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সঙ্গে এই সন্ধি সম্পাদিত হয়।

4. কমিন্টার্ন কী?
Ans. 1919 খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে মস্কোতে তৃতীয় আন্তর্জাতিক বা কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল গঠিত হয়। এই সংগঠন কমিন্টার্ন নামে পরিচিত।

5. ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
Ans. ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন ফ্রেডারিক ইবার্ট।

6. মিত্রপক্ষের সঙ্গে জার্মানির সম্পাদিত চুক্তির নাম কী?
Ans. মিত্রপক্ষের সঙ্গে জার্মানির সম্পাদিত চুক্তির নাম হল ভার্সাই সন্ধি।

7. জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব কে ছিলেন?
Ans. জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব ছিলেন স্যার এরিক ড্রামন্ড।

8. প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে জার্মানির সম্রাট কে ছিলেন?
Ans. প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে জার্মানির সম্রাট ছিলেন কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম।

9. জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
Ans. জাতিসংঘের প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর ছিল জেনেভা শহরে।

10. ‘ইল-দু চে’ উপাধি কে গ্রহণ করেন?
Ans. ‘ইল-দু চে’ উপাধি গ্রহণ করেন বেনিতো মুসোলিনি।

Multiple Choice Questions – 1 Marks of বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপ BINGSHO SHOTABDWITE EUROPE

1. জার্মানির সার অঞ্চলের কয়লা খনিগুলির উপর ফ্রান্সের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় –
A. 15 বছরের জন্য B. 16 বছরের জন্য C. 17 বছরের জন্য D. 18 বছরের জন্য
Ans. A

2. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জন্য গ্লাইফেন পরিকল্পনা করেছিল যে দেশ তা হল –
A. অস্ট্রিয়া B. সার্বিয়া C. জার্মানি D. রাশিয়া
Ans. C

3. চোদ্দো দফা নীতি ঘোষণা করেছিলেন—
A. উড্রো উইলসন B. লয়েড জর্জ C. ক্লিমেশো D. ভিত্তোরিও অর্লান্ডো
Ans. A

4. হিটলারের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছিল –
A. 1920 খ্রিস্টাব্দে B. 1922 খ্রিস্টাব্দে C. 1923 খ্রিস্টাব্দে D. 1925 খ্রিস্টাব্দে
Ans. D

5. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে মিত্রপক্ষে যোগ দেয় –
A. 1914 খ্রিস্টাব্দে B. 1915 খ্রিস্টাব্দে C. 1916 খ্রিস্টাব্দে D. 1917 খ্রিস্টাব্দে
Ans. D

6. ত্রিশক্তি আঁতাত-এ রাশিয়া যোগ দেয়—
A. 1904 খ্রিস্টাব্দে B. 1906 খ্রিস্টাব্দে C. 1907 খ্রিস্টাব্দে D. 1908 খ্রিস্টাব্দে
Ans. C

7. রক্তাক্ত রবিবার কবে ঘটেছিল?
A. 1903 খ্রিস্টাব্দে B. 1904 খ্রিস্টাব্দে C. 1905 খ্রিস্টাব্দে D. 1906 খ্রিস্টাব্দে
Ans. C

8. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়—
A. 1913 খ্রিস্টাব্দে B. 1914 খ্রিস্টাব্দে C. 1915 খ্রিস্টাব্দে D. 1916 খ্রিস্টাব্দে
Ans. B

9. 1915 খ্রিস্টাব্দে ট্যালেনবার্গের যুদ্ধে পরাজিত হয়—
A. জার্মানি B. অস্ট্রিয়া C. সার্বিয়া D. রাশিয়া
Ans. D

10. রাশিয়ার শাসকদের কী উপাধি ছিল?
A. সম্রাট B. কাইজার C. শাহ D. জার
Ans. D

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে