fbpx

Skillyogi – Video Lectures In English & Bangla

ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ Bharater Orthonoitik Poribesh

Geography Bhugol Subject WBBSE Madhyamik Class 10

Here you will learn the basics of ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ (Economic environment of India) in a simple language it is for Bengali medium students who are studying under West Bengal Board of Secondary Education and preparing for their Madhyamik exam (Class 10 WBBSE)
Here you will find all necessary and important WBBSE Madhyamik Suggestions, notes, solved sample question paper in Bangla along with video lectures from expert teachers

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে  আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে 
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  •  তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  •  চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

এখানে আপনি Basic Terms, Definitions, Solved Short, Long Answers & Questions and MCQ's নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে পেয়ে যাবেন

সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারিহয়েছে করা হয়েছে সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

বাংলা বিষয়- পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা পরিষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য এটা সাহায্য কর হবে এখানে আমরা আপনাকে এক Marks er MCQ  এবং Suggestion পেয়ে যাবেন যেটা আপনাকে সাহায্য করবে কম সময়ের মধ্যে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে এবং ভালো মাল আনতে নিজের মাধ্যমিক পরীক্ষা

VIDEO LECTURES BY EXPERT TEACHERS FOR EASY LEARNING

FOUNDATION - BASICS OF THE CHAPTER

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

SHORT QUESTIONS ANSWER - 3/4 MARKS

LONG QUESTIONS ANSWER - 5/6 MARKS

Definition, Important Terms, Explanation in Simple Words for Fast Learning

ভারত 

ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ

 

  • ভারতের কৃষি

ভারত একটি কৃষি প্রধান দেশ এ দেশের শতকরা প্রায় 64 জন মানুষ কৃষি কার্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে এবং ভারতের কৃষি যোগ্য 18.10 কোটি হেক্টর জমির মধ্যে 17.15 কোটি হেক্টর জমি কৃষি কাজ সম্ভব হয়েছে I

  • ভারতীয় কৃষির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য :
    1. ভারতের মতো জনবহুল দেশের কৃষির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল জীবিকা সত্ত্বা ভিত্তিক।
    2. ভারতীয় কৃষিতে জলের বেশিরভাগটাই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর দ্বারা বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে
    3.ভারতীয় কৃষি ক্ষেত্রে জমি কর্ষণ এর ক্ষেত্রে গরু, বলদ প্রভৃতি শক্তিকে কাজে লাগানো হয়
    4.এই দেশে স্বল্প পরিমাণ জমি থেকে সর্বাধিক উৎপাদনের কারণে কৃষকরা অপরিমিত এবং অনিয়ন্ত্রিত হাড়ে রাসায়নিক সার  এবং কীটনাশক ব্যবহার করে।
  •  ভারতীয়  কৃষিজ ফসলের শ্রেণীবিভাগ সমূহ           

          

বিষয়

ফসল

ব্যবহার অনুযায়ী

a. খাদ্য ফসল- ধান, গম, যব

b. তন্তু ফসল- পাট, তুলা

c. বাগিচা ফসল- চা, কফি

ঋতু অনুযায়ী

a.  খারিফ শস্য- গ্রীষ্মের  শেষে বপন এবং শীতকালে উত্তোলন

b. রবি শস্য-শীতের শুরুতে বপন এবং শীতের শেষে উত্তোলন

c. জায়িদ শস্য- প্রাক বর্ষায় চাষ হয়

  • প্রধান প্রধান কৃষিজ ফসলের উৎপাদন ও বন্টন

 ধান 

ধান হল ভারতের প্রধান খাদ্যশস্য ধান উৎপাদনে ভারত পৃথিবীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে চীনের পরে। ভারতে মোট 104.32 কোটি টন ধান উৎপাদিত হয়।

    • ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ :

      বৃষ্টিপাত- 100 থেকে 200 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত যুক্ত এলাকায় ধান চাষ করা হয়
      তাপমাত্রা- বীজতলা তৈরি 10 ডিগ্রি থেকে 21 ডিগ্রি C এবং কাটার সময় 35 ডিগ্রি থেকে 37 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা থাকলে ধান চাষের জন্য ভালো
      মৃত্তিকা- নদী অববাহিকা অঞ্চলে দোআঁশ মাটি এবং উর্বর পলি মাটিতে  ধান চাষ করা হয় এবং এর জন্য সমতল ভূমি বিশেষ উপযুক্ত
      শ্রমিক- ধান চাষের জন্য, জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, তথ্য সংগ্রহ, চারা রোপন  এবং আগাছা পরিষ্কার করতে প্রচুর দক্ষ এবং শ্রমিকের প্রয়োজন হয়
      উচ্চ ফলনশীল বীজ- উচ্চ ফলনশীল ধান চাষের জন্য প্রচুর পরিমাণ জল এর প্রয়োজন হয় এছাড়াও মূলধন চাহিদা, কীটনাশক, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, আধুনিক কৃষি এবং যন্ত্রপাতি দরকার হয়
  • বন্টন-
    1.পশ্চিমবঙ্গ: পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ধান উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে এই রাজ্যের বর্ধমান পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা হুগলি জেলায় ধান উৎপাদিত হয়। 

        2.উত্তর প্রদেশ- এই  রাজ্য ধান উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এই রাজ্যের মূলত ফরিদাবাদ, লক্ষ্মীপুর, গোরখপুর প্রভৃতি জেলাগুলিতে ধান চাষ করা হয়।

  1. পাঞ্জাব- এই রাজ্য ধান উৎপাদনে ভারতের তৃতীয় স্থান অধিকারী রাজ্য। জলন্ধর, পাটিয়ালা, অমৃতসর প্রভৃতি জেলাগুলিতে ধান উৎপাদিত হয়। 

        4.ওড়িশা-এই রাজ্যের সম্বলপুর, কটক, বালেশ্বর ও পুরি প্রভৃতি স্থানে ধান উৎপাদিত হয়

  1. বিহার- এই রাজ্যের পূর্ণিয়া, দ্বারভাঙ্গা  এবং গয়া প্রভৃতি স্থানে ধান উৎপন্ন হয় এছাড়া তামিলনাড়ু, ছত্রিশগড় এবং অসম এই রাজ্যের ও কিছু স্থানে ধান উৎপন্ন হয়।

রাজ্য ভিত্তিক ধান উৎপাদন(2015-16)

রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গ 

উত্তরপ্রদেশ 

পাঞ্জাব

উৎপাদন (কোটি টন)

15 .75

12.51

11.82

মোট উৎপাদনের শতকরা পরিমাণ

15.10%

11.99%

11.33%

  • বাণিজ্য- পূর্ব মায়ানমার, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশগুলোর থেকে চাল, ভারতবর্ষে আমদানি করলেও সামান্য পরিমাণ চাল রাশিয়া বাংলাদেশ ইতালি দেশ গুলিকে রপ্তানি করে।

গম

উৎপাদনের দিক থেকে এবং খাদ্য শস্য হিসাবে ভারতের ধানের পরেই  গমের স্থান এই গম রবিশস্য রূপে শীতকালে চাষ করা হয় যা ভারতে মোট কৃষি জমির শতকরা 14 ভাগ জমিতে চাষ করা হয়।লাল গমের চাষ বেশি হয় আমাদের দেশে।গম উৎপাদনে ভারতবর্ষের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এবং ভারতবর্ষের মোট 93.50 কোটি টন গম উৎপাদিত।

  •  গম চাষের  অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ:

    বৃষ্টিপাত- গম চাষের জন্য 50 সেমি থেকে 100 সেমি বৃষ্টিপাত আদর্শ এবং শীতকালীন গম চাষের জন্য জলের গুরুত্ব খুব বেশি।

    উষ্ণতা-গমের চারা বৃদ্ধির সময় 15° থেকে 16° সেন্টিগ্রেড এবং পাকার সময় যে তাপমাত্রা দরকার হয় তা 18° থেকে 20° সেলসিয়াস।

    অনুকূল অবস্থা- গম চাষের প্রথম অবস্থায় আর্দ্র এবং শীতল আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়, শীষ বেরোনোর সময় শুষ্ক এবং উষ্ণ আবহাওয়ায় প্রয়োজন হয় আর পাকার সময় রোদ ঝলমলে শুষ্ক আবহাওয়ার প্রয়োজন।

    মৃত্তিকা- মৃদু অম্লধর্মী বেলে দোআঁশ, এটেল দোআঁশ এবং উর্বর মাটি ও কৃষ্ণ মৃত্তিকা গম চাষের পক্ষে বিশেষ উপযোগী।

    শ্রমিক- আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি নির্ভর হলেও সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন আছে।

    জলসেচ- কেবলমাত্র উন্নত সেচ সেবিত অঞ্চলের ভারতবর্ষে গম চাষ হয়ে থাকে।এছাড়াও নানা রকম উন্নত বীজ, কীটনাশক, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি গম চাষের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করে।

বন্টন: ভারতের গম উৎপাদক রাজ্য গুলি হলঃ
উত্তর প্রদেশ-উত্তরপ্রদেশ গম উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে এই রাজ্যের মুজফফরনগর, মোরাদাবাদ, গোরক্ষপুর এবং মিরাট প্রভৃতি স্থানে প্রচুর গম উৎপন্ন হয়।
মধ্যপ্রদেশ-ভারতের দ্বিতীয় স্থান অধিকারী রাজ্য টির মধ্যে জব্বলপুর,ভোপাল, ইন্দোর,গোয়ালিয়র এবং ছত্রপুর প্রভৃতি স্থানে গম চাষ করা হয়।
পাঞ্জাব- এই রাজ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করে গম উৎপাদনে, এই রাজ্যের লুধিয়ানা,জলন্ধর,পাটিয়ালা,ভাটিণ্ডা এবং অমৃতসর প্রভৃতি স্থানে প্রচুর গম উৎপন্ন হয়।
হরিয়ানা- গম উৎপাদনে চতুর্থ স্থান অধিকারী রাজ্য টির মধ্যে আম্বালা,হিশার,কুরুক্ষেত্র এবং গুরগাঁও প্রভৃতি স্থানে গম চাষ করা। রাজস্থান পঞ্চম স্থান অধিকারী এই রাজ্যের শ্রীগঙ্গানগর, জয়পুর, ভরতপুর চিতোরগড় এবং কোটা প্রভৃতি স্থানে গম উৎপন্ন হয় এছাড়াও বিহার গুজরাট পশ্চিমবঙ্গ এবং মহারাষ্ট্র গম উৎপাদনে হয়। 

ভারতের প্রধান তিনটি গম উৎপাদক রাজ্যের নাম উল্লেখ করা হলোঃ

ভারতের রাজ্য ভিত্তিক গম উৎপাদন(2015-16)

রাজ্য

উত্তর প্রদেশ (প্রথম)

মধ্যপ্রদেশ (দ্বিতীয়)

পাঞ্জাব( তৃতীয়)

উৎপাদন কোটি টন

26.87

17.69

16.08

মোট উৎপাদনের শতকরা পরিমাণ

28.74%

18.92%

17.20%

  • বাণিজ্য- ভারত সামান্য পরিমাণে গম বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে রপ্তানি করে থাকে।

মিলেট

উষ্ণ ও শুষ্ক এলাকায় যে সমস্ত ঘাস জাতীয় নিকৃষ্ট শ্রেণীর ক্ষুদ্রাকার দানাশস্য উৎপন্ন হয় তাদের একত্রে মিলেট বলে।ভারতের মোট কৃষি জমির 29% মিলেট উৎপাদন হয়। জোয়ার,বাজরা ও রাগী হল প্রধান মিলেট।

  •  মিলেট চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ

ফসল

রাজ্য

স্থান

উৎপাদক অঞ্চল

উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ

জোয়ার

মহারাষ্ট্র

প্রথম

বুলদানা,ওসমানাবাদ,আকুলা অমরাবতী প্রভৃতি।

জলবায়ু-বর্ষাকালের 27 ডিগ্রি থেকে 32 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এবং শীতকালে 16 ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড এর বেশি গড় মাসিক উষ্ণতা এবং 30 থেকে 65 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। মাটি- উর্বর পলিমাটি এবং রেগুর মাটি আদর্শ। ভূমি- উত্তম জল নিকাশের ব্যবস্থা যুক্ত সমতল ও মৃদু ঢালু জমি চাষের জন্য আদর্শ এবং উচ্চতার প্রয়োজন  1200 মিটার।

 

কর্ণাটক

দ্বিতীয়

চিত্রদুর্গ, মহীশূর, বিজাপুর  প্রভৃতি।

 

মধ্যপ্রদেশ

তৃতীয়

রাজগড়,শিবপুরি,সাজাপুর প্রভৃতি।

 

রাজস্থান

চতুর্থ

কোটা,মাধবপুর,জয়পুর সোয়াই।

 

অন্ধ্রপ্রদেশ 

পঞ্চম

নালগণ্ডা,গুন্টুর, আদিলাবাদ প্রভৃতি।

 

তামিলনাড়ু

ষষ্ঠ

কোয়েম্বাটুর,তিরুচিরাপল্লী মাদুরাই, ধর্মপুরী প্রভৃতি 

বাজরা

রাজস্থান

প্রথম

যোধপুর,বিকানের জয়সালমীর,কোটা প্রভৃতি।

জলবায়ু- বাজরা চাসে 25 ডিগ্রি থেকে 30 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা এবং 40 থেকে 50 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত আদর্শ। মাটি- হালকা বেলে মাটি ও গভীর কালো ও লাল উচ্চভূমি পাথরে মাটি আদর্শ। জমি- জল নিকাশের সুবিধা যুক্ত সমতল অল্প ঢালু জমি চাষের জন্য আদর্শ। বাজরা ক্ষেতের জল সেচ করার প্রয়োজন হয়।

 

উত্তরপ্রদেশ 

দ্বিতীয়

আগ্রা,আলীগড়,মথুরা।

 

গুজরাট

তৃতীয়

ভাবনগর,সুরেন্দ্রনগর জামনগর,জুনাগর প্রভৃতি

 

মহারাষ্ট্র

চতুর্থ

নাসিক,সাতারা,পুনে সলাপুর প্রভৃতি।

 

হরিয়ানা

পঞ্চম

রোটাক,মহেন্দ্রগড়,গুরগাঁও হিসার প্রভৃতি।

রাজি

কর্ণাটক

প্রথম

কুলার,হাসান,তুমকুর বেঙ্গালুরু,মাইসোর প্রভৃতি।

উষ্ণতা- 20-30 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃষ্টিপাত- রাগী শুষ্ক অঞ্চলের ফসল হাওয়াই 50 থেকে 100 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন মৃত্তিকা- লাল বা হালকা কালো বেলে দোআঁশ এবং পলি দোআঁশ মাটি আদর্শ জমি- জল নিকাশি ব্যবস্থা যুক্ত সমতল বা অল্প ঢালু জমি আদর্শ 

 

তামিলনাড়ু 

দ্বিতীয় 

কোয়েম্বাটোর,সালেম উত্তর-দক্ষিণ আর্কোট, মাদুরাই,ধর্মপুরী প্রভৃতি

 

অন্ধ্রপ্রদেশ

তৃতীয়

বিশাখাপত্তনম,অনন্তপুর,চিত্তর প্রভৃতি

 

উত্তরাখণ্ড

চতুর্থ

আলমোড়া,নৈনিতাল,তেহরি,দেবপ্রয়োগ প্রভৃতি

 

মহারাষ্ট্র

পঞ্চম

রত্নগিরি,কোলাপুর,খানে রাইগাদ প্রভৃতি

মিলেট উৎপাদনে বর্তমানে পৃথিবীতে প্রথম স্থান অধিকার করে ভারতবর্ষ এই দেশে 100.30   লক্ষ টন মিলেট  উৎপন্ন হয় যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় 40% 

  • বাণিজ্য- উৎপাদিত মিনিটের অধিকাংশই স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হয় কিন্তু কিছু পরিমাণ মিলের অন্ত রাজ্য বাণিজ্য হয় এবং কিছু পরিমাণ মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপের দেশসমূহ পূর্ব আফ্রিকা রপ্তানি হয়।

ফসল

জমির পরিমাণ

উৎপাদন

হেক্টর প্রতি উৎপাদন

জোয়ার

150.5  লক্ষ হেক্টর

60.3 লক্ষ টন

954 কেজি

বাজরা

86 লক্ষ হেক্টর

100 লক্ষ টন

1156 কেজি

রাগি

14.22 লক্ষ হেক্টর

28.31 লক্ষ টন

1990 কেজি

ইক্ষু

ইক্ষু হলো একটি শর্করা জাতীয় অর্থকরী ফসল যাহা উৎপাদনে পৃথিবীতে ভারতবর্ষ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। এই দেশে ইক্ষু উৎপাদনের পরিমাণ হল 34.9 কোটি মেট্রিক টন।

  •  ইক্ষু চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ-
    ভারতের ইক্ষু চাষের অনুকূল অবস্থা গুলি হলঃ
    উষ্ণতা- সাধারণভাবে 20 ডিগ্রি – 27 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উষ্ণতায় ভালো হয়।
    বৃষ্টিপাত- ভারতের বার্ষিক গড় 150 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের ইক্ষু চাষের উপযোগী, এর থেকে কম বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল জল সেচের মাধ্যমে ইক্ষু চাষ করা হয়।
    কুয়াশা- তুহিন ও  কুয়াশা ইক্ষুর পক্ষে ক্ষতিকর।
    মৃত্তিকা-ভারতের উপকূলবর্তী সমভূমি লবণ মিশ্রিত মৃত্তিকা এবং নদী অববাহিকার জল নিকাশি ব্যবস্থা যুক্ত কাদা মিশ্রিত দোআঁশ মাটি এবং কৃষ্ণ মৃত্তিকা ইক্ষু চাষের উপযোগী।
    ভূমির অবস্থা- উত্তম জল নিকাশি যুক্ত ঈষৎ ঢালু জমি ইক্ষু চাষের পক্ষে আদর্শ।
    শ্রমিক- গাছ লাগানো, পরিচর্যা করা, জমি পরিষ্কার করা এবং গাছ কাটা প্রভৃতি কাজের জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয় এছাড়াও জমিতে নিয়মিত জল সেচের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত মূলধন থাকলে উৎপাদন বারে।
  • ইক্ষু উৎপাদন- ভারতের ইক্ষু উৎপাদক অঞ্চল 10 ডিগ্রি থেকে প্রায় 28 ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত এবং 2015 অনুযায়ী ভারতে 352.16 কোটি টন ইক্ষু চাষ হয়েছে।

রাজ্য

উৎপাদন (কোটি টন)

উৎপাদক অঞ্চল সমূহ(2015-16)

উত্তর প্রদেশ

145.39

আলীগড়, বারানসি মোরাদাবাদ, শাজাহানপুর প্রভৃতি 

মহারাষ্ট্র

72.26

সাতারা, কোলাপুর, সোলাপুর, নাসিক, পুনে আহ্মেদনগর প্রভৃতি

কর্ণাটক

38.48

শিমোগা, কলার, বেলারি, বেলগাঁও প্রভৃতি

বাণিজ্য- অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভারত ব্রাজিল, কিউবা প্রভৃতি দেশ থেকে কিছু পরিমাণ চিনি আমদানি করে।

কার্পাস

কার্পাস একটি গুরুত্বপূর্ণ তন্তুজাতীয় বাণিজ্যিক ও অর্থকারী ফসল যা ভারত বর্ষ বিশ্বের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে উৎপাদনে।

  •  উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ- তুলা চাষের জন্য নিম্নলিখিত ভৌগলিক অবস্থার বিশেষ প্রয়োজনীয়ঃ
    1.উষ্ণতা- কার্পাস চাষের জন্য 20-35 ডিগ্রি মনে সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা প্রয়োজন হয়।
    2.বৃষ্টিপাত- 50 থেকে 100 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের ভালো।
    3.সামুদ্রিক বায়ু-সামুদ্রিক বাতাসে তুলা চাষ ভালো হয়।
    4.মৃত্তিকা- চুন ও লবণ মিশ্রিত উর্বর কৃষ্ণ মৃত্তিকা এবং উর্বর দোআঁশ মৃত্তিকা সবচেয়ে ভালো হয়।
    5.ভূমির প্রকৃতি- উর্বর জল নিকাশি সুবিধাযুক্ত সমতল জমি বা সামান্য ঢালু জমিতে চাষ করা হয়।
    6.শ্রমিক-গাছের পরিচর্যা করা, গাছ লাগানো প্রভৃতি কাজের  জন্য প্রচুর দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
    7. সার-তুলা চাষের জন্য জমির উর্বরতা খুব তাড়াতাড়ি কমে যায় এজন্য জমিতে পরিমিত রাসায়নিক ও জৈব সার দিতে হয়।
    8.কীটনাশক- তুলা গাছের প্রায় পোকা লাগে যেমন বলউইভিল নামে এক ধরনের পোকা তুলা চাষের পক্ষে ক্ষতিকর এজন্য তুলা চাষে কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।
    9.মূলধন– আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক সার জলসেচ ব্যবস্থা ও কীটনাশক ঔষধ, শ্রমিকের মজুরি এবং উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ আর্থিক মূলধনের প্রয়োজন হয়।

কার্পাস উৎপাদন এবং বাণিজ্য-

ভারতের তুলা চাষ প্রধানত দাক্ষিণাত্য মালভূমির কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চল দেখা যায়। ভারতের কৃষি মন্ত্রণালয় সমীক্ষা অনুযায়ী (2015-16)  সালে ভারতের 3.5 কোটি টন তুলা চাষ হয়েছে। পরিমাণের দিক থেকে তুলা উৎপাদনে ভারত স্বাবলম্বী হলেও ভারতের দীর্ঘ আঁশযুক্ত উৎকৃষ্ট শ্রেণীর তুলো উৎপাদন কম হওয়ায় ভারতকে  মিসর,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,সুদান  প্রভৃতি দেশ থেকে  আমদানি করতে হয় অন্যদিকে ভারত, শ্রীলংকা, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং জাপান প্রভৃতি দেশে রপ্তানি করে।

রাজ্য

উৎপাদন (কোটি টন)

উৎপাদক অঞ্চল সমূহ(2015- 16)

গুজরাট 

9.7

সুরেন্দ্রনগর, আমেদাবাদ, বরোদা, সুরাট, ব্রোচ প্রভৃতি

মহারাষ্ট্র

6.5

জলগাঁও, আকুলা, নাগপুর, ধুলা, অমরাবতী প্রভৃতি

অন্ধ্রপ্রদেশ

3.86

বিশাখাপত্তনম, কুর্ণুল, অনন্তপুর, গুন্টুর প্রভৃতি

চা 

চা মৃদু উত্তেজক হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে আসছে। সস্তা মূল্যের এই চিরহরিৎ গুল্ম জাতীয় বৃক্ষ প্রধানত মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে জন্মায়।

  • চা চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ- চা চাষের জন্য
    উষ্ণতা- 21 ডিগ্রি-29 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা প্রয়োজন।
    বৃষ্টিপাত- সার্বিক বার্ষিক গড় 200 থেকে 250 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
    মৃত্তিকা- জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ অম্লধর্মী মৃত্তিকায় চা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী তবে যে মাটিতে চা চাষ করা হয় সেই মাটির উর্বরতা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায় বলে নাইট্রোজেন জাতীয় সার মাটিতে প্রয়োগ করতে হয়।
    ভূপ্রকৃতি- পাহাড়ের ঢালে 1000-2000 মিটার উচ্চতায় চা চাষ করা হয়।
    ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ- চায়ের চারাগাছ প্রখর সূর্যকিরণ সহ্য করতে পারে না তাই বাগিচার মধ্যে এই ধরনের বৃক্ষ লাগানো অতি আবশ্যক।
    শ্রমিক-চা গাছ থেকে বছরের বিভিন্ন সময়ে হাত দিয়ে নৈপুণ্য সঙ্গে দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তুলতে হবে বলে প্রচুর সুলভ ও দক্ষ মহিলার প্রয়োজন হয়।
    মূলধন- চায়ের গুণগত মান বজায় রাখা,পর্যবেক্ষণ, শ্রমিকের মজুরি, চা গাছের পরিচর্যা, বিপণন ব্যবস্থা প্রভৃতির  জন্য প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন।
    পরিবহন- দেশীয় এবং বহির্দেশীয় বাণিজ্যের প্রয়োজনে পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্ব অসীম
  • চা উৎপাদনে- বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থান হেক্টর প্রতি 1705 কেজি চা উৎপাদন হয়। ভারতবর্ষের প্রধান চা উৎপাদিত রাজ্য গুলি হলঃ
    1.অসম– চা উৎপাদনে ভারতের প্রথম স্থান অধিকার করে, ভারতের মোট উৎপাদনের 51.2% বা 5.1 লক্ষ টন এই রাজ্যের লক্ষিম্পুর, কামরুপ, ডিব্রুগড়, কাছাড়া, নওগাঁও, তেজপুর প্রভৃতি স্থানে উৎপন্ন হয়।
    2.পশ্চিমবঙ্গ উৎপাদনে গুরুত্ব পূর্ণ রাজ্য হল পশ্চিমবঙ্গ এই রাজ্যের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার দিনাজপুর প্রভৃতি স্থানে চা উৎপাদিত হয়।
    3.তামিলনাড়ু- চা উৎপাদনে তৃতীয় স্থান অধিকারী রাজ্যটি মোট উৎপাদনের প্রায় 16.3 % উৎপাদিত হয়, কন্যাকুমারী, মাদুরাই নীলগিরি, টিরুনেলভেলি, কোয়েম্বাটোর প্রভৃতি। এছাড়াও কর্ণাটক, উত্তরাঞ্চল, হিমাচল প্রদেশ প্রতিটি রাজ্যের বিভিন্ন অংশে চা চাষ করা হয়।
  • বাণিজ্য- ভারত চতুর্থ স্থান অধিকার করে চা রপ্তানিতে সেই উৎপাদিত চায়ের 45% চা কলকাতা বন্দর দিয়ে রাশিয়া, ব্রিটেন, সুদান, আফগানিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ রপ্তানি করা হয়।

কফি 

কফি একটি অন্যতম পানীয় ও বাগিচা ফসল, ভারতবর্ষে 1833 খ্রিস্টাব্দে কর্ণাটক রাজ্যে প্রথম কফি চাষ শুরু হয়।

  • কফি চাষের অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশ- কফি ক্রান্তীয় অঞ্চল উচ্চভূমিতে চাষ করা  হয়, যে ধরনের ভৌগলিক পরিবেশ দরকার সেগুলি হল
    উষ্ণতা- সাধারণত 20 ডিগ্রি-30 ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা।
    বৃষ্টিপাত- 100 থেকে 250 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
    মৃত্তিকা- লাল দোআঁশ মাটি এবং লাভা সৃষ্ট উর্বর মাটি কফি চাষের জন্য ভালো।
    জমির প্রকৃতি- পর্বতের পাদদেশে ঢালু উচ্চভূমি।
    ছায়া প্রদানকারী বৃক্ষ-প্রখর সূর্যের রশ্মি থেকে ছোট অবস্থায় বাঁচানোর জন্য কলা ভুট্টা প্রভৃতি ছায়া প্রদানকারী গাছ লাগানো হয়।
    শ্রমিক- গাছ লাগানো, পরিচর্যা ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রচুর দক্ষ এবং সুলভ শ্রমিক প্রয়োজন হয় এছাড়াও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং প্রচুর মূলধন প্রয়োজন।
  • কফি উৎপাদনে- বর্তমানে কফি উৎপাদনে পৃথিবীর মধ্যে ভারত বর্ষ সপ্তম স্থান অধিকার করে। পৃথিবীর মোট উৎপাদনের মাত্র 3.6 শতাংশ ভারতে উৎপাদিত হয় এবং প্রায় 4 লক্ষ হেক্টর জমিতে চাষ হয় নিচে সারণির মাধ্যমে কফি উৎপাদক অঞ্চল গুলির সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো:

রাজ্য

উৎপাদন (হাজার টন)

উৎপাদন হার

জমি

(লক্ষ হেক্টর)

স্থান

উৎপাদক জেলা(2012) 

কর্ণাটক

22.10

70%

2

প্রথম

হাসান, কদাগু, চিকমাগালুর মহীশূর প্রভৃতি। 

কেরালা

6.81

22%

1

দ্বিতীয়

পালঘাট,কুইলন,ওয়ানার, মাল্লাপুরাম প্রভৃতি। 

তামিলনাড়ু 

1.84

6%

0.5

তৃতীয়

কোয়েম্বাটোর, নীলগিরি, সালেম, মাদুরাই, টিরুনেলভেলি প্রভৃতি।

অন্ধ্রপ্রদেশ

0.60

2%

0.25

চতুর্থ

বিশাখাপত্তনম জেলার আরাকু উপত্যকা 

বাণিজ্য- অভ্যন্তরীণ চাহিদা (40%) থাকায় ভারতের অধিকাংশ কফি দাক্ষিণাত্যের ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই, কোচিন, কালিকট বন্দর দিয়ে প্রধানত রাশিয়া, ব্রিটেন,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, অস্ট্রেলিয়া, নাগাল্যান্ড প্রভৃতি দেশে প্রেরিত হয়। 2011 খ্রিস্টাব্দে 1.57 লক্ষ টন কফি রপ্তানি করে ভারত 2032 কোটি টাকা উপার্জন করে।

  •  ভারতীয় কৃষি সমস্যা ও সমাধান

বিষয়

সমস্যা

সমাধান

হেক্টর প্রতি শস্যের উৎপাদন

ভারতের একটি সমস্যা হল হেক্টর প্রতি শস্যের কম উৎপাদন।এই অবস্থার জন্য পর্যাপ্ত জলের অভাব, জমির উর্বরতা শক্তির অভাব,স্যার ও উৎকৃষ্ট বীজের অভাব, নিকৃষ্ট মানের কৃষি জমি বন্টনের অবস্থা এবং কৃষকদের শিক্ষার অভাব ও দারিদ্রতা প্রধানত দায়ী। 

বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও সরকারের বিভিন্ন কর্মপন্থা গ্রহণের ফলে ভারতের হেক্টর প্রতি ফলন এর উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে 

মাথা কৃষি কৃষি জমির অপ্রতুলতা

ভারতে জনবসতি, পরিবারপিছু কৃষিজমির পরিমাণ অত্যন্ত কম যথাক্রমে 0.42  এবং 2.06 হেক্টর।

দেশে সমবায় পদ্ধতিতে চাষ করলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমি একত্রীকরণ এবং উৎকৃষ্ট মানের বীজ ও সার সংগ্রহের সুবিধা হবে

ভূমিক্ষয়

বনভূমি ধ্বংসের ফলে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মৃত্তিকায় জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।ভূমিক্ষয়ের ফলে ভারতে প্রায় 1.2হেক্টর জমি কৃষি অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

ভূমিক্ষয় রোধে সরকারি উদ্যোগ বিক্ষোভ বিজ্ঞান এবং অত্যধিক অত্যাচার নিষিদ্ধকরণ করতে হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

মৌসুমী বায়ুর খামখেয়ালীপনার ফলে কখনো অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা,খরা প্রভৃতি বিপর্যয় কৃষি কাজের যথেষ্ট ক্ষতি হয়।

বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা দূর করতে জল সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষার প্রসার

ভারতীয় কৃষকদের শিক্ষার অভাবে বর্তমানে বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃষি কার্যের সম্বন্ধে অর্থাৎ যথাযথ পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগ, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, কীটনাশক প্রভৃতি বিষয়ে তাদের ধারণা প্রায় নেই বললেই চলে।

কৃষির উন্নতির জন্য বর্তমানে ভারতের প্রতিটি রাজ্যের একটি করে এবং মহারাষ্ট্রের ও উত্তরপ্রদেশের একাধিক কৃষি মহাবিদ্যালয় ও 93 কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে এছাড়াও 73 কৃষি গবেষণাগার আছে যাতে কৃষির উন্নতির জন্য সর্বদা কাজ চলেছে। 

  • ভারতের কৃষি উন্নত অঞ্চল পাঞ্জাব, হরিয়ানা কৃষির উন্নতির কারণ :

Indian Council Of Agricultural Research শস্যের প্রকৃতি, কৃষি পদ্ধতি এবং বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ভারতের কৃষি অঞ্চল কে চিহ্নিত করে। এই অঞ্চলের কৃষি উন্নতির কারণ গুলি হল-
বিস্তীর্ণ সমভূমি ও উর্বর মৃত্তিকা- সিন্ধু নদের পাঁচটি উপনদী শতদ্রু, ইরাবতী বিপাশা, চন্দ্রভাগা বিস্তীর্ণ সমভূমি এবং উর্বর মৃত্তিকা প্রচুর পরিমাণে চাষ হয়।
ভাকরা নাঙ্গাল প্রকল্প- ভাকরা নাঙ্গাল প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে 14.6 লক্ষ হেক্টর কৃষি জমিতে জলসেচ সম্ভব হয়েছে।
উচ্চ ফলনশীল বীজ- পাঞ্জাব ও হরিয়ানা ব্যবহৃত উচ্চ ফলনশীল গম বীজ হল কল্যান সোনা, সোনার 64 ইত্যাদি।
আধুনিক কৃষি পদ্ধতি- পাঞ্জাব,হরিয়ানা সবুজ বিপ্লবের পর থেকেই আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, মহিষ ও লাঙ্গল এর পরিবর্তে উন্নতমানের ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করার ফলে সময় সাশ্রয় হচ্ছে।
রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহার- কৃষি জমিতে উন্নত মানের রাসায়নিক সার যেমন নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম এবং ফসফেট এর ব্যবহার জমির উর্বরতা অব্যাহত রেখেছে এছাড়াও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে পোকার আক্রমণ প্রতিহত করেছে এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করেছে।
শ্রমিক- দুটি রাজ্যের জনসংখ্যা মধ্যম প্রকৃতির হওয়া দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক যোগান আছে। মানুষের খাদ্য হিসাবে গমের ব্যবহার বেশি তাই অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা রয়েছে এছাড়াও কঠোর পরিশ্রমই মনোভাব, মূলধনের প্রাচুর্য, আর্থিক সহায়তা এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।

ভারতের শিল্প

ভারতের অর্থনৈতিক ক্রিয়া-কলাপ শুরু হয় কৃষিকাজ কে কেন্দ্র করে এবং অগ্রগতি ঘটেছে শিল্পের মধ্য দিয়ে।

  • শিল্প স্থাপনের কারণ সমূহ:
  •  প্রাকৃতিক কারণ :
    কাঁচামালের গুরুত্ব- যে সমস্ত প্রাথমিক দ্রব্য অধিক ব্যবহারের উপযোগী বস্তুতে রূপান্তরিত করে শিল্পের গড়ে তোলা হয় তাকে কাঁচামাল বলে। কাঁচামালের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী শিল্পে নির্বাচন করা হয়।
    জল- শিল্পের শ্রমিকদের নিত্য প্রয়োজনে শিল্প কেন্দ্রিক কাঁচামালের পরিষ্কার হেতু বয়ন শিল্পে বস্ত্র ও ডাই প্রভৃতি কাজে প্রচুর বিশুদ্ধ জলের প্রয়োজন হয়। বিপুল পরিমাণ জলের চাহিদা পূরণের জন্য শিল্পকেন্দ্র নদী হদ এবং বড় জলধর এর নিকটে গড়ে ওঠে যেমন জামশেদপুর (খরকাই-সুবর্ণরেখার) সংযোগস্থলে, দুর্গাপুর (দামোদর নদ), রূঢ় শিল্পাঞ্চল (রাইন নদী)।
    বিদ্যুৎ- শক্তির নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ শিল্প উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। এইগুলি সহজলভ্যতার শিল্প কেন্দ্রের অবস্থান কে প্রভাবিত করে। যেমন দুর্গাপুর আসানসোল এর কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
  • অর্থনৈতিক কারণ :
    পরিবহন- কারখানায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বহন শক্তি সম্পদের যোগান উৎপাদিত শিল্পজাত দ্রব্য কে বন্দরে বাজারে প্রেরণের জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার একান্ত আবশ্যক।
    শ্রমিক- শিল্প স্থাপন ও বিকাশে ও অন্যান্য উৎপাদনের সঙ্গে অদক্ষ শ্রমিক এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
    বাজার- দেশের শিল্পের বিকাশের উপর উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক চাহিদা নির্ভরশীল, উন্নত দেশগুলোর জনবহুল অঞ্চল অতি উন্নত বাজার ব্যবস্থার জন্য অধিক শিল্পের সমাবেশ ঘটেছে।
    মূলধন- যে কোন শিল্প স্থাপনে, জমি ক্রয়, কারখানা তৈরি, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সংগ্রহ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শ্রমিকদের মজুরি, উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রচুর মূলধনের প্রয়োজন এছাড়া অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বিদ্যা জলবায়ু সরকারি নীতি প্রভৃতি বিষয় শিল্প স্থাপনকে প্রভাবিত করে।

 প্রকৃতি অনুসারে কাঁচামাল প্রধানত দুই প্রকারের; যথা- 

1.বিশুদ্ধ কাঁচামাল- যে সকল কাঁচামাল শিল্পজাত দ্রব্য পরিণত করলে ওজনের তারতম্য ঘটে না তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে। যেমন তুলো, রেশম প্রভৃতি।

2.অবিশুদ্ধ কাঁচামাল-যে সকল কাঁচামাল শিল্পজাত দ্রব্য পরিণত করলে তার ওজন হ্রাস পায় এইসব কামালকে অবিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে যেমন লোহা আকরিক, বক্সাইট, কয়লা,তামা প্রভৃতি।

  • কাঁচামালভিত্তিক শিল্পের শ্রেণীবিভাগ-  প্রকৃতি অনুসারে শিল্পকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয় যেমন-
    1.কৃষিজ শিল্প- চা শিল্প, কার্পাস বস্ত্র বয়ন শিল্প ইত্যাদি
    2.প্রাণিজ শিল্প- ডেয়ারি শিল্প, রেশম, লাক্ষা শিল্প, পশম বয়ন শিল্প।
    3. বনজ শিল্প-দেশ্লাই, কাগজ, মধু, মোম, প্লাইউড, আসবাবপত্র নির্মাণ শিল্প।
    4.খনিজ শিল্প- লৌহ ইস্পাত, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, স্বর্ণ-রৌপ্য শিল্প প্রভৃতি।
  • ভারতের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শিল্প

 লৌহ ইস্পাত শিল্প

বিকাশ 1884 খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের কোনটিতে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রথম লোহা উৎপাদন শুরু হয় স্বাধীনতার পূর্বে তিনটি লৌহ ইস্পাত শিল্প কেন্দ্র হল এক বানপুর কুলটি 2 জামশেদপুর 3 ভদ্রাবতী স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কয়েকটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানা গড়ে তোলা যেমন রাউলকেল্লা উড়িষ্যা ছত্রিশগড় দুর্গাপুর পশ্চিমবঙ্গ বিশাখাপত্তনম অন্ধ্রপ্রদেশ বোকারো ঝারখন এ ছাড়াও কয়েকটি সংকর ইস্পাত কেন্দ্র মিনিস্ট্রি প্লান্ট ফামিলি কারখানা গড়ে উঠেছে বেশিরভাগ লোহা ইস্পাত কারখানা পূর্ব মধ্য ভারতের কেন্দ্রীয় রয়েছে নিচে কয়েকটি বৃহৎ লৌহ ইস্পাত শিল্প কেন্দ্র উল্লেখ করা হলো।

1.TISCO- বিহারের হাতে যা বর্তমানে জামশেদপুরে হাজার 906 খ্রিস্টাব্দে জামসেদজী টাটা প্রচেষ্টায় এই ইস্পাত কারখানা টি গড়ে ওঠে এই ইস্পাত কারখানা টি গড়ে ওঠার পেছনে উড়িষ্যার থেকে  লৌহ আকরিক রানীগঞ্জ এবং সুবর্ণ নদী অপূর্ব ও পূর্ব ও দক্ষিণ দক্ষিণ পূর্ব রেল পথ এবং হলদিয়াসুবিধা থাকায় এখানে শিল্প গড়ে উঠেছে।

  1. দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট– বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে এই কারখানা টি গড়ে ওঠার পেছনে উড়িষ্যার আকরিক লোহা উন্নত মানের রানীগঞ্জের কয়লা দামোদর নদ ও দুর্গাপুর থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল এবং পূর্ব রেল সড়ক পথ কলকাতা হলদিয়া বন্দরের সুবিধা থাকায় এখানে লোহা ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে।

3.রাউলকেল্লা স্টিল প্লান্ট– উড়িষ্যার সুন্দর্গড় জেলায় ব্রাহ্মণী নদীর তীরে রাউরকেল্লা লৌহ ইস্পাত কারখানা গড়ে উঠেছে এর পিছনে ময়ূরভঞ্জ ও লোহার আকরিক ঝরিয়া রানীগঞ্জের কয়লা বির্মিত্রাপুর থেকে চুনাপাথর ব্রাহ্মণী নদীর জল হিরাকুদ প্রকল্পের জলবিদ্যুৎ রাউরকেল্লা তাপবিদ্যুৎ থাকায় এখানে শিল্প কেন্দ্র গড়ে উঠে…

4.বোকারো স্টিল প্লান্ট– ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার বোকারো তে বোকারো স্টিল প্লান্ট হাজার 1964 সালে স্থাপিত হয় এই স্টিল প্লান্ট এর পিছনে ঝরিয়া অঞ্চলের কয়লা উড়িষ্যার আকরিক লোহা বির্মিত্রাপুর চুনাপাথর ও ম্যাঙ্গানিজ এবং দামোদর নদের পর্যাপ্ত জল থাকায় এখানে লৌহ ইস্পাত শিল্প গড়ে উঠেছে

পূর্ব ও মধ্য ভারতের লৌহ ইস্পাত শিল্প গড়ে ওঠার কারণ- লোহা ইস্পাত শিল্প ও বিশুদ্ধ কাঁচামাল ভিত্তিক শিল্প হওয়ায় এই শিল্প কাঁচামাল উৎপাদক অঞ্চল গড়ে ওঠে

কাঁচামাল প্রাপ্তিস্থান-
ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা, ছত্রিশগড় থেকে উচ্চ মানের লৌহ আকরিক পাওয়া যায় কয়লা পর্যাপ্ত উৎকৃষ্ট শ্রেণীর কয়লা পাওয়া যায় দামোদর অববাহিকা এবং মহান ব্রাহ্মণী অঞ্চল থেকে অন্যান্য মধ্যপ্রদেশ জায়গার চুনাপাথর ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায় জল দামোদর সুবর্ণরেখা ব্রাহ্মণী বরাকর মহানদী জলাধারে থেকে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছ জল পাওয়া যায় বিদ্যুৎ দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা চিল্লাইয়া মাইথন পাঞ্চেত এবং মহানদী পরিকল্পনায় হিরাকুদ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ শক্তির যোগান পাওয়া যায় পরিবহন পূর্ব পূর্ব মধ্য ও দক্ষিণ পূর্ব রেলপথের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় রাজ্যে সড়কপথের বন্দরের নিকটস্থ অবস্থানের জন্য কাঁচামালের আমদানি ও ইস্পাত পরিবহনের সুবিধা রয়েছে শ্রমিক লোহা ইস্পাত শিল্প কার্য পরিচালনায় প্রচুর প্রয়োজন হয় বাজার দূর্গাপুর হলদিয়া শিল্পাঞ্চল এর ব্যাপক চাহিদা ও বিদেশের বাজারে স্থান ইস্পাত শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে মূলধন ভারত সরকার জামসেদজী টাটা কোম্পানি বিভিন্ন সরকারী এবং বেসরকারী ইস্পাত শিল্প যথেষ্ট মূলধন বিনিয়োগ আছে।

কার্পাস বয়ন শিল্প 

বিকাশ ও অগ্রগতি-
ভারতের কার্পাস বয়ন শিল্প কেন্দ্র প্রথম গড়ে ওঠে কলকাতার ঘুসুড়ি তে বর্তমানে ভারতের একক বৃহত্তম বৃহত্তম কৃষিভিত্তিক শিল্প। কার্পাস বস্ত্র উৎপাদনে ভারত বর্ষ বিশ্বের প্রথম রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

গড়ে ওঠার কারণসমূহ:  
কাঁচামালের সহজলভ্যতা-দক্ষিণ আত্ম মালভূমির বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কার্পাস উৎপন্ন হওয়ায় মধ্য ও পশ্চিম ভারতে নানা জায়গায় এই শিল্প গড়ে উঠেছে।
জলবায়ু- পশ্চিম ভারতের মুম্বাই আহমেদাবাদ অঞ্চলে উপকূলীয় আর্দ্র আবহাওয়ায় সুবিধা পাওয়া যায় এটি এই শিল্পের অনুকূল।
পণ্য পরিবহনের সুবিধা- যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা থাকলে কাঁচামাল কেন্দ্র থেকে উৎপাদন কেন্দ্রে তা থেকে বাজারে পরিবহনের সুবিধা হয়।
মূলধন- সমগ্র ভারতে আর্থিক এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির সুযোগ সুবিধা থাকায় মূলধন এর অভাব নেই।
বিদ্যুতের যোগান- সারা ভারতবর্ষে কার্পাস শিল্পের প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান আসে জল বিদ্যুৎ ও তাপ বিদ্যুৎ থেকে।
বাজার- ভারতীয় বস্ত্র বয়নের বিরাট অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাজার আছে। সৌদি ভারত ভারতীয় সুতি বস্ত্রের প্রচুর চাহিদা আছে।

বন্টন- ভৌগলিক অবস্থান অনুসারে এই শিল্পকে 5 অঞ্চল ভাগ করা হয় 1.পশ্চিমাঞ্চল 2.মধ্যাঞ্চল 3.দক্ষিণাঞ্চল 4.উত্তরাঞ্চলের 5.পূর্বাঞ্চল।

1.পশ্চিমাঞ্চল- বস্ত্র বয়ন শিল্প কেন্দ্র গুলি হল মুম্বাই, নাগপুর, পুনে, নাসিক, আমেদাবাদ গুজরাট, সুরাট, ভারুচ। আমেদাবাদ এই রয়েছে 72 টি কাপড় কল এই আমেদাবাদ কে ভারতের ম্যানচেস্টার বলা হয়।

2.মধ্যাঞ্চল- ভোপাল, ইন্দোর, গোয়ালিয়র, উজ্জয়িনী, বিলাসপুর।

3.দক্ষিণাঞ্চল- তামিলনাড়ু, কোয়েম্বাটুর, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল, গোয়া এবং পন্ডিচেরি।  

4.উত্তরাঞ্চল- উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার প্রভৃতি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠেছে এখানকার উল্লেখযোগ্য শিল্প কেন্দ্র গুলি।

5.পূর্বাঞ্চল- পশ্চিমবঙ্গ ঝাড়খন্ড বিহার উড়িষ্যা এবং ছবিটি রাজ্যে ভারতের পূর্বাঞ্চলের কার্পাস বয়ন শিল্প কেন্দ্র গুলো গড়ে উঠেছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প

ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, দস্তা প্রভৃতি ধাতব পদার্থ এবং রাবার, প্লাস্টিক, কাঠ প্রভৃতি অধাতব পদার্থ কে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত করে যে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে শিল্পে নানারকম ভারী এবং হালকা যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করা হয় তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে।

শ্রেণীবিভাগ- দ্রব্যের ওজন ও আয়তন অনুসারে এই শিল্প দুই প্রকার-
1.ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প।
2.হালকা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প।

ভারতের কয়েকটি প্রধান ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প কেন্দ্র:

শিল্প

শিল্পকেন্দ্র

রেল ইঞ্জিন

জামশেদপুর,চিত্তরঞ্জন,বারানসি।

রেলওয়ে বগি

ব্যাঙ্গালোর,দমদম।

রেল ওয়াগন

দমদম,ভরতপুর।

ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি

চেন্নাই,ভোপাল-বৈদ্যুতিক মোটর কলকাতা মুম্বাই তিরুচিরাপল্লী- ট্রান্সফরমার হরিদ্দার টারবা…

যন্ত্রশিল্পী ভারী  যন্ত্রপাতি

রাচি- ইস্পাত শিল্পের যন্ত্রপাতি, ত্রিবেণী- বিদ্যুৎ পরিবাহী, বিশাখাপত্তনম-খনিজ তেল ও বিভিন্ন শিল্পে যন্ত্রপাতি।

কৃষি যন্ত্রপাতি

পিঞ্জর-ট্রাক্টর, আজমির-পাম্প মেশিন, হায়দ্রাবাদ- পাওয়ার টিলার।

জাহাজ নির্মাণ

বিশাখাপত্তনম, মুম্বাই, কচি, গার্ডেনরিচ।

বিমান নির্মাণ 

বেঙ্গালুরু-যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান, কানপুর, কোরাপুট, নাস্তিক ও হায়দ্রাবাদ- মিগ বিমান।

খনি যন্ত্রপাতি

দুর্গাপুর।

গড়ে ওঠার কারণ সমূহ:

অবস্থান-ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প লৌহ ইস্পাত, কয়লা, তামা অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ভারী বস্তুর প্রয়োজন হওয়ায় এই শিল্প কেন্দ্র গুলি লোহা ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রের নিকটবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে।

কাঁচামালের সহজলভ্যতা- কাঁচামাল হিসেবে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, রবার ইত্যাদি সহজপ্রাপ্যতা আছে।

বিদ্যুৎ শক্তির সহজপ্রাপ্যতা-ভারতের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, আণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির সহজ লভ্যতা আছে।

উন্নত কারিগরি বিদ্যা- বিংশ শতাব্দীর পর থেকেই প্রযুক্তি ও কারিগরি বিদ্যায় যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছে।

দক্ষ শ্রমিক- ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের জন্য উচ্চ মেধা সম্পন্ন মানবসম্পদের সহজলভ্যতা আছে।

উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা- ভারতের সড়কপথ, রেলপথ, জনপথের মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি করার সুবিধা আছে।

উপযুক্ত বাজারের চাহিদা- ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বৃহৎ বাজার এবং পরিকাঠামোর দ্রুত উন্নতি সাধিত হয়েছে।

পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প

যে শিল্প-কারখানায় উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক শিল্প পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিভিন্ন উপজাত দ্রব্য কে কাঁচামাল রূপে ব্যবহার করে বা অনুসারী শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ পণ্য উৎপন্ন করে তাকে পেট্রোরসায়ন শিল্প বলে।পেট্রোরসায়ন শিল্পের শিল্পজাত দ্রব্য কে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে অসংখ্য শিল্প গড়ে উঠেছে একে আধুনিক শিল্প দানব বলে অন্যদিকে এই শিল্পের বৈচিত্র পরিমাণ ব্যবহারিক গুরুত্ব অধিক ও অতি দ্রুত গতিতে বিকাশ ঘটেছে তাই এই শিল্পকে আমরা সূর্যোদয়ের শিল্প ও বলে থাকি।

বিকাশ ও অগ্রগতি- 1980 খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রের ট্রমবে ভারতের সর্বপ্রথম আধুনিক বৃহৎ আয়তন পেট্রো রাসায়নিক কারখানা টি স্থাপিত হয় এরপর খানে, ভদোদরা, তুতিকোরিন, চেন্নাই, জামনগর এবং হলদিয়াতে এই পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠে।

পেট্রোরসায়ন শিল্পের বন্টন- বারোটি বৃহৎ কোম্পানি ভারতবর্ষের চারটি অঞ্চলে পেট্রো রাসায়নিক শিল্প গড়ে তুলেছে।
a.পশ্চিমাঞ্চল- ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেড, 2.থানে- ন্যাশনাল আর্গন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, 3.ভোদোদরা-ইন্ডিয়ান পেট্রোকেমিক্যাল কর্পোরেশন লিমিটেড, 4.কোয়ালি, 5.হাজিরা-রিলায়েন্স পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড।

b.দক্ষিণাঞ্চল- তুতিকোরিন,চেন্নাই,তামিলনাড়ু

c.পূর্বাঞ্চল- হলদিয়া, বাউরীন

d.উত্তর-পূর্বাঞ্চল- বঙ্গাইগাও

গড়ে ওঠার কারণ:  ভারতের এই শিল্প গড়ে ওঠার কারণ গুলি হল কাঁচামালের প্রাচুর্য- পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাট, আমেদাবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় ও দক্ষিণ ভারতের উপকূল প্রভৃতি স্থানে থেকে খনিজ তেল ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানিকৃত খনিজ তেল এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। খনিজ তেল শোধনাগার এর অবস্থান- ট্রমবে, জামনগর, বঙ্গাইগাও, হলদিয়া প্রভৃতি 17 টি খনিজ তেল শোধনাগার থেকে উপজাত দ্রব্য তথা কাঁচামালের সহজলভ্যতা রয়েছে। বন্দরের অবস্থান- মুম্বাই,হলদিয়া,চেন্নাই প্রভৃতি প্রথম শ্রেণীর বন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি আমদানি রপ্তানি সুবিধা রয়েছে। বিদ্যুৎ শক্তি- পশ্চিমঘাট এর জলবিদ্যুৎ এবং কোলাঘাটের তাপবিদ্যুৎ থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ শক্তির যোগান। জল সম্পদের প্রাচুর্য- তাপ্তি, নর্মদা, ব্রহ্মপুত্র ও বিভিন্ন জলাধার থেকে প্রচুর জল পাওয়া যায়। উন্নত পরিবহন- ভারতে রেলপথ ও রাজ্য সড়ক দ্বারা বিভিন্ন অংশের সঙ্গে যুক্ত। মূলধনের প্রাচুর্য- দেশীয় শিল্পপতি, বড় বড় কোম্পানি, বহুজাতিক সংস্থা এই শিল্পে যথেষ্ট মূলধন বিনিয়োগ করেছে। চাহিদা ও বাজার- দেশজুড়ে এবং প্রতিবেশী দেশ গুলিতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের বৃহৎ বাজার রয়েছে এছাড়াও দক্ষ কারিগর উন্নত প্রযুক্তি বিদ্যা ছবিটি এই শিল্পে উন্নতি ঘটিয়েছে।

অটোমোবাইল নির্মাণ শিল্প

এই শিল্পটি লৌহ ইস্পাত ইঞ্জিনিয়ারিং ও রাসায়নিক শিল্পের উপর নির্ভরশীল। যন্ত্রাংশ এবং টায়ার টিউব হোম প্লাস্টিক তার নানা উপকরণ সংযোজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ফল নির্মাণকে অটোমোবাইল শিল্প বলে।

বিকাশ ও অগ্রগতি- স্বাধীনতার পূর্বে বহুজাতিক কিছু কোম্পানির আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ জুড়ে ভারতবর্ষে কারখানা গড়ে ওঠে এবং পরবর্তী সময়ে 1947 খ্রিস্টান প্রিমিয়ার অটোমোবাইল লিমিটেড তৈরি কুরলা তে এবং 1948  খ্রিস্টাব্দে খ্রীষ্টাব্দে উত্তর পাড়ায়  হিন্দুস্তান মোটর লিমিটেড কোম্পানির কারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে এর প্রকৃত উন্নতির সূচনা হয়। এই শিল্পের টার্নিং পয়েন্ট হল 1983 খ্রিস্টাব্দে হরিয়ানায় মারুতি উদ্যোগ লিমিটেড কারখানা স্থাপন।বর্তমান এটি ভারত উদীয়মান শিল্প। যানবাহন উৎপাদন ভারত পৃথিবীর ষষ্ঠ, ট্রাক্টর প্রথম, দ্বিচক্রযান তৈরি দ্বিতীয় এবং বাণিজ্য যানবাহন তৈরিতে পঞ্চম স্থান অধিকার করে।

বন্টন- বেঙ্গালুরু ,গুরগাঁও, চেন্নাই, ফরীদাবাদ, মুম্বাই, পুনে, কানপুর কে কেন্দ্র করে এই মোটর গাড়ি নির্মাণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে 

1.যাত্রীবাহী জান- মারুতি উদ্যোগ লিমিটেড: গুরগাঁও 

প্রিমিয়ার অটোমোবাইল লিমিটেড: মুম্বাই 

মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা কোম্পানি: নাসিক 

টাটা মোটরস লিমিটেড: জামশেদপুর 

2.পণ্যবাহী যান- টাটা ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড লোকোমোটিভ কোম্পানি: ট্রাক ম্যাটাডোর 

অশোক লেল্যান্ড কোম্পানি: ট্রাক 

বাজাজ টেম্পু লিমিটেড- ম্যাটাডোর, টেম্প প্রভৃতি 

3.দ্বিচক্র ও ত্রিচক্রযান- বাজাজ অটো লিমিটেড: পুনে 

এনফিল্ড ইন্ডিয়া লিমিটেড: চেন্নাই 

হোন্ডা মটরস লিমিটেড: উত্তরপ্রদেশের বৃহত্তর নয়ডা

4.প্রতিরক্ষা যান- মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জার্মানির MAN এর সহযোগিতায় ভারী ও অধিক শক্তিশালী ট্রাক।

গড়ে ওঠার কারণ- এই শিল্প ও অতি দ্রুত গতিতে উন্নতি হয়েছে এর কারণ গুলি হল:
ইস্পাতের সহজলভ্যতা- এই শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হলো উচ্চ মানের ইস্পাত যা ভারতের চারটি বৃহদায়তন কারখানা থেকে সহজলভ্য হয়। 

কাঁচামালের প্রাচুর্য- সম্প্রতি ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্পের যথেষ্ট উন্নতি লাভ করায় এই শিল্প থেকে প্লাস্টিক, পিভিসি, টিউব, টায়ার সহজলভ্য হয়েছে। 

মূলধন- দেশীয় শিল্পপতি গোষ্ঠী এবং হোন্ডা, ফোর্ড প্রভৃতি কোম্পানিগুলো বিপুল মূলধন বিনিয়োগ করে। 

সমৃদ্ধ বাজার- 30 বছরে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সাথে গাড়ির বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে। 

পরিকাঠামোর উন্নতি- সোনালী চতুর্ভুজ, ইস্ট ওয়েস্ট করিডর, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রভৃতি নির্মাণ ও উন্নতি হওয়ায় মানুষ বেশি যানবাহন ব্যবহার করছে। তাছাড়া উন্নত পরিবহন কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত দ্রব্যের রপ্তানি সহজ হয়েছে অন্যান্য কারণ হিসাবে কারিগরি প্রযুক্তিবিদ্যা দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক বিদ্যুৎ এর সহজলভ্যতা দক্ষিণ-পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে পরিকল্পিত অটোমোবাইল নির্মাণ, এই শিল্পের দ্রুত গতিতে উন্নয়ন ঘটিয়েছে। 

তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প

 

মানুষের প্রয়োজন ভিত্তিক নানান তথ্য বিভিন্ন উপায়ে মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে দেবার কৌশলী হলো তথ্যপ্রযুক্তি। এই তথ্য প্রযুক্তি পরিষেবা সংক্রান্ত কাজকর্ম কে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বলে।

বন্টন-বেঙ্গালুরু ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র হল ব্যাঙ্গালোরের আইডি শিল্পের উন্নতির কারণ এ বেঙ্গালুরু কে Silicon Valley Of India বলে। T.C.S,Wipro,Infosys,Tech Mahindra প্রভৃতি ভারতের I.T. শিল্পের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের 35% দখল করে। চেন্নাই- ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের দ্বিতীয় বৃহত্তম কেন্দ্র হল চেন্নাই, এখানে বিশ্বমানের I.T. পরিকাঠামো রয়েছে। Cognizant,TCS,Wipro এর মত শীর্ষ স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এখানে রয়েছে। হায়দ্রাবাদ- ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম আইটি হাব হল হায়দ্রাবাদ এখানে মাইক্রোসফট কোম্পানির বৃহত্তম সফটওয়্যার ডেভলপার সেন্টার রয়েছে। কলকাতা- সল্টলেক, রাজারহাট, নিউটাউন প্রভৃতি স্থানে I.T. শিল্পের কেন্দ্রীভবন্। এখানে রয়েছে T.C.S,Wipro,ITC Infotech,Tech Mahindra।

গড়ে ওঠার কারণ: 

মানব সম্পদ- মানুষের জ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের মূল সম্পদ।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র- সারা ভারত জুড়ে রয়েছে অসংখ্য তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের উচ্চমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ভারতে মোট 16 টি IIT  প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলি নিউ দিল্লি, কানপুর, বারানসি, পাটনা, খড়গপুর, চেন্নাই, মুম্বাই প্রভৃতি স্থানে অবস্থিত এবং ব্যাঙ্গালুরুতে Indian Institute Of Science Education and Research আছে।
উন্নত পরিকাঠামো- কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রতিটি রাজ্য সরকার এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে পরিকাঠামোর সুযোগ করে দিচ্ছে।
বিপুল চাহিদা বাজার- ভারত সহ প্রতিবেশী দেশ গুলিতে এর বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে।
মূলধনের প্রাচুর্য- উদারীকরণ ও বিশ্বায়নের মধ্যে দিয়ে ভারত এই উদীয়মান শিল্প টিকে বহুজাতিক সংস্থা গুলি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে শিল্পটিকে বিকাশ ঘটিয়েছে।

  • ভারতের জনসংখ্যা 

লোক গণনা বা Census এর অর্থ হলো মূল্য নির্ধারণ করা বা কর নির্ধারণ করা। জাতিসংঘের ভাষায় লোক গণনা হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট অঞ্চলে জনসংখ্যার তাত্ত্বিক, আর্থিক এবং সামাজিক তথ্য সংগ্রহ, সংকলন, মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ এবং প্রকাশনার একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া। প্রতি 10 বছর অন্তর জনগণনা করা হয়। 2011 খ্রিস্টাব্দে জনগণনা ভারতের 15 তম জনগণনা এবং স্বাধীন ভারতের সপ্তম জনগণনা। জনগণনা অনুযায়ী 2011 সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল 121.02 কোটি। 

ভারতের জনসংখ্যা সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য

মোট জনসংখ্যা

1210193422 জন  

মহিলা সাক্ষরতার হার

65.46%

মোট পুরুষ

623724248 জন  

কর্মে নিযুক্ত জনসংখ্যা

73.85কোটি

মোটা মহিলা

586469174 জন  

প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল

67.74%

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার 

17.64%

কন্যা সন্তান পাঁচ বছরের নিচে মৃত্যুর হার

64.10%

বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার

1.76%

পুত্র সন্তান পাঁচ বছরের নিচে মৃত্যুর হার

58.80%

প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা

1046091423 জন  

প্রাথমিক ক্ষেত্রে নিযুক্ত জনসংখ্যার পরিমাণ

31.7%

অপ্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যা

164478150 জন  

গৌণ ক্ষেত্রে নিযুক্ত জনসংখ্যার পরিমাণ

20%

নির্ভরশীল জনসংখ্যা

48.04কোটি

প্রগৌণ ক্ষেত্রে নিযুক্ত জনসংখ্যার পরিমাণ

25.4%

সাক্ষরতার হার

74.04%

অন্যান্য ক্ষেত্রে

22.9%

পুরুষ সাক্ষরতার হার 

82.14%

  

জনসংখ্যা বৃদ্ধি:

 

ভারত বর্ষ একটি জনবহুল দেশ হাজার 1901 সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল 3.84 কোটি যা 2011 খ্রিস্টাব্দে বেড়ে দাঁড়ায় 11.02 কোটি। ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির 110 বছর থেকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়:

  1. প্রথম পর্যায় বা নিশ্চল অবস্থা-1901-21 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল নিশ্চল। উচ্চ জন্মহার এবং উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় মাত্র 1.29 কোটি।
  2. দ্বিতীয় পর্যায় বা ধীরে বৃদ্ধি অবস্থা-1921-51এই 30 বছরে জনসংখ্যা ধীর গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে 27.90 কোটি থেকে 36.11কোটি হয়।
  3. তৃতীয় পর্যায় বা জনবিস্ফোরণ-1951 খ্রিস্টাব্দের 36.11 কোটি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে 1981 খ্রিস্টাব্দে দাঁড়ায় 68.33কোটি অর্থাৎ 32.22 কোটি জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
  4. চতুর্থ পর্যায় বা ক্রমহ্রাসমান বৃদ্ধি- 1981 খ্রিস্টাব্দের পর থেকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী গতি নিম্নমুখী হতে থাকে এই বৃদ্ধির হার ছিল 24.66%। যা 2011 সালে কমে দাঁড়ায় 17.64%। এই 30 বছরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে 52.69কোটি।

খ্রিস্টাব্দ

1901

1911

1921

1931

1941

1951

1961

1971

1981

1991

2001

          2011

মোট জনসংখ্যা (কোটি)

23.84

25.21

25.13

27.90

31.87

36.11

43.92

54.82

68.33

84.64

102.87

121.02

জনসংখ্যা বৃদ্ধি (কোটি)

 

1.37

-0.08 

2.77

3.97

4.24

7.81

10.89

13.51

16.31

18.23

18.31

বৃদ্ধির হার(%)

 

+5.75

-0.31

+11.00

+14.22

+13.31

+21.64

24.80

+24.66

+23.87

+21.54

+17.64

ধারা যোগ্য উন্নয়ন বা স্থিতিশীল উন্নয়ন:

পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি  পাচ্ছে সম্পদ ব্যবহার। নিজে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থে পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে এক সামঞ্জস্যপূর্ণ এক দীর্ঘমেয়াদী মানব উন্নয়ন ব্যবস্থা হল ধারণযোগ্য উন্নয়ন। অর্থাৎ যে উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুন্ন রেখে দেশ ও দেশের সার্বিক মঙ্গল করা যায় তাকেই স্থিতিশীল উন্নয়ন বা ধারণযোগ্য উন্নয়ন বলে। Bruntland এর মতে স্থিতিশীল উন্নয়ন হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সার্বিক প্রয়োজন মেটানোর প্রচেষ্টায় কোন বাধা সৃষ্টি না করা।1992 খ্রিস্টাব্দে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে বসুন্ধরা সম্মেলন এই স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য 21 দফা কর্মসূচি গৃহীত হয় এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি কর্মসূচি হলো 1.বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা 2.জনবসতির উন্নয়নে বন্দোবস্ত 3.জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ 4.দারিদ্র দূরীকরণ 5.জনসংখ্যা সম্পর্কিত উন্নয়ন ইত্যাদি। 

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনগণের তারতম্যের কারণ:

ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে জনসংখ্যা বন্টন সমান নয় তার প্রাকৃতিক ও আর্থ সামাজিক তারতম্যের কারণে 

  •      প্রাকৃতিক কারণ-ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদ-নদী, মৃত্তিকা এবং ভৌগলিক অবস্থান প্রভৃতি প্রাকৃতিক কারণ গুলি জনসংখ্যার বণ্টনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
    1.ভূপ্রকৃতি- পার্বত্য অঞ্চল মালভূমি অঞ্চলের তুলনায় সমভূমিতে কৃষিকার্য, শিল্পকার্য, পরিবহন ব্যবস্থার প্রভৃতি কারণে লোক বসতির পরিমাণ বেশি।
    2.জলবায়ু- উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, আর্দ্রতা বিষয়গুলো মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক, জীবিকা প্রভৃতি কে প্রভাবিত করে। উষ্ণ আদ্র মৌসুমী জলবায়ু তে কৃষি ব্যবস্থার অধিক উন্নতি ঘটায় এই সব অঞ্চলের জনবসতি দেখা যায় আবার অন্যদিকে উষ্ণ ও শুষ্ক মরু অঞ্চল এবং হিমালয়ের হিমশীতল জলবায়ুর কারণে এই অঞ্চল গুলি জনবিরল।
    3.নদ-নদী-ভারতের গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, সিন্ধু, মহানদী, কৃষ্ণা, গোদাবরী প্রভৃতির নদী অববাহিকায় কৃষি ক্ষেত্রে জল সেচ ও পানীয় জল, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, মৎস্য সংগ্রহ ক্রিয়া-কলাপ এর সুযোগ সুবিধা কারণে জনবসতি অধিক।
    4.মৃত্তিকা- দোআঁশ পলি রেগুর মাটি কৃষি কাজের আদর্শ তাই এই সমস্ত নদী অববাহিকা উপকূলীয় সমভূমি প্রভৃতি অঞ্চলে জনবসতি অধিক অন্যদিকে অনুর্বর মৃত্তিকা জনবসতি প্রতিকূল।
    5.ভৌগলিক অবস্থান- সমুদ্র উপকূলের সমভাবাপন্ন জলবায়ু থেকে স্থলভাগের অভ্যন্তরে ভাগে চরমভাবাপন্ন জলবায়ুতে জনবসতি ক্রমশ হ্রাস পায়।
    6.বনভূমি- ঘন অরণ্য অঞ্চলের জনবিরল এবং কোন অঞ্চলে মূল্যবান ভেষজ ও মম মধু প্রভৃতি এবং মূল্যবান বৃক্ষ বিক্ষিপ্ত জনবসতি স্থাপনে সাহায্য করে।
    7.খনিজ দ্রব্য খনিজ সম্পদ উত্তোলন কেন্দ্র গুলিতে অধিক জনঘনত্ব দেখা যায় যেমন ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল।
  •  অর্থনৈতিক কারণ সমূহ- 
    1.কৃষি- কৃষির মাধ্যমে ভারতের কর্মসংস্থান অধিক হয়েছে তাই কৃষিকাজের পক্ষে অনুকূল অঞ্চলের জনঘনত্ব অধিক উদাহরণ গঙ্গা সিন্ধু নদীর অববাহিকা অঞ্চলে।
    2.শিল্প- শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় জনঘনত্ব বেশি হয় উদাহরণ হুগলি শিল্পাঞ্চল, দুর্গাপুর, আসানসোল, আমেদাবাদ প্রভৃতি.
    3.পরিবহন ব্যবস্থা- উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা জীবনযাত্রায় অনুকূল প্রভাব বিস্তার করে।
  •  সামাজিক ও সংস্কৃতি কারণ সমূহ-
    1.ধর্ম- ধর্মীয় আচার আচরণ কে কেন্দ্র করে ধর্মীয় তীর্থস্থান গুলোতে নিবিড় জনবসতি গড়ে উঠেছে উদাহরণ তিরুপতি,আজমির,বারানসি।
    2.শিক্ষা ও সংস্কৃতি শিক্ষাদীক্ষা, শিল্পকলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চর্চা যেখানে বেশি সেখানেই জনঘনত্ব বৃদ্ধি পায় উদাহরণ কলকাতা, মুম্বাই, শান্তিনিকেতন, আলীগড়, নালন্দা।

জনঘনত্বের ধারণা :

প্রতি বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বসবাসকারী মোট জনসংখ্যা কে জনঘনত্ব বলে ভারতের জনঘনত্ব 2011 সালে ছিল 121.02 কোটি/3166414 বর্গ কিলোমিটার=382 জন অর্থাৎ ভারতের প্রতি বর্গ কিমিতে 382 জন মানুষ বসবাস করে। 

1.অত্যাধিক জনঘনত্ব যুক্ত অঞ্চল (800 জন এর বেশি): উত্তর প্রদেশ, বিহার,পশ্চিমবঙ্গ, পন্ডিচেরি, দমন ও দিউ, লাক্ষাদ্বীপ এই অঞ্চলের অন্তর্গত।

2.অধিক জনঘনত্ব যুক্ত অঞ্চল (401-800 জন)- পাঞ্জাব, ঝাড়খন্ড, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু এবং দাদরা ও নগর হাভেলি।

3.মধ্যম জনঘনত্ব যুক্ত অঞ্চল (201-400 জন)-ওড়িশা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম এই অঞ্চলের অন্তর্গত। 

4.বিরল জনঘনত্ব যুক্ত অঞ্চল(101-200 জন)- ছত্রিশগড়, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মনিপুর, নবগঠিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ এবং জম্মু কাশ্মীর হিমাচলপ্রদেশ এই অঞ্চলের অন্তর্গত।

5.অতি বিরল জনঘনত্ব যুক্ত অঞ্চল (100 জনের কম)- সিকিম, মিজোরাম, অরুণাচল প্রদেশ, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এই অঞ্চলের অন্তর্গত। 

নগরায়ন:

নগরায়ন হল এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে কোন গ্রাম ক্রমশ শহরে পরিণত হয়। জীবনযাত্রা সবরকম উপাদান কেন্দ্রীভূত হতে থাকলে গ্রামীণ বসতি তার প্রকৃত চরিত্র হারিয়ে শহর বসতিতে পরিণত হওয়ার পন্থায় হল নগরায়ন।

জীবন ধারণের উপযোগী অনুকুল পরিবেশে জনসমাবেশের ফলে শহর নগর গড়ে ওঠার কারণ:

1.সমভূমির অবস্থান- কৃষি-শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা শাস্ত্র প্রভৃতির অধিকাংশই সুযোগ সুবিধা থাকায় ভারতের অধিকাংশ শহর সমভূমি তে গড়ে উঠেছে। অনুকূল নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু মানুষের বসবাস ও কর্মের উপযুক্ত হাওয়াই ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের এবং নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমিতে অধিকাংশ শহর গড়ে উঠেছে।
জলের প্রাপ্যতা- স্বাদু জলের প্রাচুর্য শহর গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ।
উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা- উন্নত পরিবহন এর সুবিধা যুক্ত অঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।
ব্যবসা বাণিজ্য কেন্দ্র- যেসব অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এই অঞ্চলে কর্মসংস্থানের কারণে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে।
শিল্প- কোন অঞ্চলে বৃহদায়তন শিল্প বা অসংখ্য ছোট ছোট বা অনুসারী শিল্পকে কেন্দ্র করে জনসমাগম বৃদ্ধি পায়।
পর্যটন কেন্দ্র- প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য মনোরম হাস্যকর জলবায়ু প্রভৃতি উপভোগ করার জন্য বহু পর্যটক সমাগম ঘটে।

ভারতের নগরায়নের সমস্যা : 

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় ভারতের নগরায়ন কম এবং ধীরগতি সম্পন্ন হলেও ছোট-বড় বিভিন্ন শহরে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
1.অপরিকল্পিত নগরায়ন- গ্রাম থেকে বড় শহর মুক্তির পরিব্রাজন এর ফলে শহরতলীর ক্ষেত্রমান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের সূচনা ঘটেছে।
2.মানুষের শহর মুখি প্রবণতা- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, বিনোদন, কর্মসংস্থান প্রভৃতি সুযোগ গ্রহণ করার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষের শহরে বাস করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
3.পরিকাঠামোর অভাবঃ
a.বসতি- গ্রাম থেকে মানুষ রোজগারের খোঁজে শহরে বসবাস করে এবং নিম্ন বিত্ত অঞ্চলে বস্তিতে তাদের বাসস্থান গড়ে তোলে।
b.পরিবহন- নগরায়নের ফলে ভারতের বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
c.স্বাস্থ্য- অনিয়ন্ত্রিত ও অনিয়মিত ভাবে শহরের বৃদ্ধি শহরগুলির পরিবেশ দূষিত করছে।
d.শিক্ষার সমস্যা- শহরের আয়তন বৃদ্ধির ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষাজনিত নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
e.বিদ্যুৎ সমস্যা- জনসংখ্যা, বিনোদন, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে।
f.জল নিকাশি ব্যবস্থা- ভারতে নগরায়নের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে দূষিত জল নিষ্কাশন এর ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়েছে। 

ভারতের পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা

পরিবহন ও যোগাযোগ- স্থানান্তর যোগ্য দ্রব্যসামগ্রী  এবং যাত্রীকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করে নিয়ে যাওয়া কে পরিবহন বলে। এর সঙ্গে যুক্ত পথ, যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম-কানুনকে একত্রে পরিবহন ব্যবস্থা এবং তথ্য আদান প্রদানকে যোগাযোগ ব্যবস্থা বলে।

পরিবহনের গুরুত্ব:

দেশের আর্থ সামাজিক সাংস্কৃতিক জীবনের পরিবহনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই পরিবহনের গুরুত্ব 4 ভাগে ভাগ করা হয় 

a.অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
কৃষির উন্নতি- কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং কৃষিজাত পণ্যের বাজারজাত করনের জন্য প্রয়োজন হয় উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার।
শিল্প সম্প্রসারণ- কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য বাজারে পাঠানোর জন্য উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজন।
বাণিজ্যিক প্রসার- দেশের পরিবহন ব্যবস্থা যত উন্নত হবে সেই দেশ তত অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উন্নতি হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি- পরিবহনের মাধ্যমে যুক্ত হয় বহু মানুষের কর্মসংস্থান, এছাড়াও জাতীয় আয় এর বৃদ্ধি, পরিব্রাজন প্রভৃতি ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

b.রাজনৈতিক গুরুত্ব:
দেশের প্রতিরক্ষা- সীমান্তে সেনা, অস্ত্রশস্ত্র, খাদ্য, সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিবহনের অপরিসীম।
জাতীয় ঐক্য ও সংহতির স্থাপন- উন্নত পরিবহন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষা ও ধর্ম অবলম্বনে লোকের এক সূত্রে গ্রথিত করে।
ত্রাণ ও উদ্ধারকার্য- বন্যা ভূমিকম্প প্রভৃতি অঞ্চলে দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী ও পীড়িতদের উদ্ধারে উন্নত পরিবহন খুবই জরুরী। 

c.সামাজিক গুরুত্ব-
শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিস্তার শহর ও নগর এবং জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন প্রভৃতি সামাজিক গুরুত্ব পরিবহন ব্যবস্থার ভূমিকা কে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

পরিবহনের বিভিন্ন মাধ্যম- ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে পৃথিবীর যাবতীয় পরিবহন মাধ্যম কে পাঁচটি  শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয় স্থল পথ, জলপথ, পাইপ লাইন, রজ্জুপথ ও আকাশ পথ।

স্থলপথ এর পরিবহন ব্যবস্থায় রেলপথ সড়ক পথের গুরুত্ব:

রেলপথ: অধিক পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মাঝারি দূরত্বের মধ্যে রেল পরিবহন হলো স্থলপথ এর সর্বশ্রেষ্ঠ পরিবহন।রেলপথের দৈর্ঘের বিচারে এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ভারত।

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রেলপথের গুরুত্ব: 

কম ব্যয় পরিবহন- রেলগাড়ি দ্রুতগামী এবং এর পরিবহন ব্যয় ও কম হওয়ায় দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার জন্য ও ভারি পণ্যদ্রব্য প্রেরণের জন্য রেলপথ হল শ্রেষ্ঠ পরিবহন।
কৃষির উন্নতি- কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সার, বীজ, কীটনাশক, ওষুধ ভিন্ন রাজ্য থেকে অন্যান্য পরিবহনের মাধ্যম এর চেয়ে কম ব্যয় রেল পথে আনা যায়।
শিল্পের উন্নতি- ভারতের শিল্পাঞ্চল গুলিতে শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি এবং উৎপাদিত শিল্পদ্রব্য রেলপথের মাধ্যমে বাজারে পাঠানো হয়।
খনিজ দ্রব্য পরিবহন- ভারতে কয়লা, আকরিক লোহা প্রভৃতি খনিজ দ্রব্য রেলপথে সরবরাহ করা হয়।
প্রতিরক্ষা- দেশের অভ্যন্তরে দ্রুত যুদ্ধের সরঞ্জাম পাঠানোর ক্ষেত্রে রেল পরিবহন এর উপর নির্ভর করা হয়।

সড়কপথ: সড়কপথ পরিবহন সবথেকে প্রাচীন। পৃথিবীর সড়কপথ গুলি কে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় 1.প্রধান রাজপথ 2.শাখা রাজপথ 3.গ্রাম্য পথ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত করতে ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে 64639 কোটি টাকা ব্যয়ে 14279 কিলোমিটার জাতীয় সড়কপথে চার লেন ও ছয় লেন বিশিষ্ট পথে উন্নত করতে তিনটি National Highway Development Project গ্রহণ করেছে। 

1.সোনালী চতুর্ভুজ-দেশের বৃহত্তম চারটি মেট্রোপলিটন শহর দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতা কে প্রায় 5846 কিমি দীর্ঘ ছয় চ্যানেল বিশিষ্ট জাতীয় সড়ক দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে এটি চতুরভুজ আকার আকৃতি বিশিষ্ট। চেন্নাই-কলকাতা বাহু সর্বাধিক দৈর্ঘ্যযুক্ত এবং মুম্বাই চেন্নাই বাহু সর্বনিম্ন দৈর্ঘ্যযুক্ত 2 উত্তর দক্ষিণ ও পূর্ব পশ্চিম করিডোর উত্তরের শ্রীনগর থেকে দিল্লি-আগ্রা-নাগপুর-হায়দ্রাবাদ- বেঙ্গালুর-মাদুরাই হয়ে সর্ব দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত 4000 কিমি এবং পূর্বে শিলচর থেকে গুয়াহাটি-শিলিগুড়ি-মুজাফফর-গোরক্ষপুর-কানপুর-উদয়পুর পালানপুর হয়ে পশ্চিমে পোরবন্দর পর্যন্ত 3300 কিমি এবং সর্বমোট 7300 দীর্ঘ জাতীয় সড়ক পথকে 6 চ্যানেল বিশিষ্ট করা হয়। জাতীয় সড়কপথ-কেন্দ্রীয় সরকার পরিবহন মন্ত্রীর তথ্য অনুসারে ভারতের জাতীয় সড়ক দৈর্ঘ্য 9285105 কিলোমিটার। ভারতের দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হলো NH7 এটি উত্তর বারানসি থেকে নিজামাবাদ হায়দ্রাবাদ ও বেঙ্গালুরু কে যুক্ত করে তামিলনাড়ু কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত।  ভারতের ক্ষুদ্রতম জাতীয় সড়ক হলো NH47A যেটা এর্নাকুলাম থেকে কোচি বন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। লে- লাসা সড়কপথ ভারতের উচ্চতম এবং শের শাহ সুরি হল প্রাচীনতম সড়কপথ। 
রাজ্য সড়ক পথ- যে সড়কপথ গুলি রাজ্য সরকার দ্বারা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাকে রাজ্য সড়ক পথ বলে। 

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সড়ক পথের গুরুত্ব:

1.সড়কপথ অতি দ্রুত গতিতে স্বল্প দূরত্বে এবং সহজ ভাবে পরিবহন করা যায় 2.দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এর গুরুত্ব বেশি।
3.সড়কপথ অন্যের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম এটির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ রেলপথের তুলনায় কম।

https://www.researchgate.net/figure/Major-road-networks-in-India_fig2_260907457

 

আকাশপথ:

সুনির্দিষ্ট বিমানবন্দর  থেকে এরোপ্লেন, সুপারসনিক জেট, হেলিকপ্টার বায়ুস্তর এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দূরত্বে নির্দিষ্ট পথে অতি দ্রুতগামী ও সর্বাধুনিক যে পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য স্থানান্তর এবং সামরিক প্রয়োজন পূরণ হয় তাকে আকাশ পথ বলে। ভারতের বিমানবন্দর গুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে 1.জাতীয় বিমানবন্দর
2.আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

1.কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

2.গুয়াহাটির গোপীনাথ বরদলৈ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

3.অমৃতসরের রাজা সানসি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

4.দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

5.আমেদাবাদের সরদার বল্লভ ভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

6.জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

7.নাগপুরের ডঃ আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

8.মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

9.হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

10.বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

11.চেন্নাইয়ের আন্না আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

12.কচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

13.তিরুবন্তপুরম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

14.কোঝিকোড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

15.শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 

রাজ্য

বিমানবন্দর 

অন্ধ্রপ্রদেশ

তিরুপতি বিমানবন্দর

অন্ধ্রপ্রদেশ

বিজয়ওয়ারা বিমানবন্দর

অসম

ডিব্রুগড় বিমানবন্দর

অসম

তেজপুর বিমানবন্দর 

বিহার

মুঙ্গের বিমানবন্দর

ছত্রিশগড়

স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দর

দিও

দিও বিমানবন্দর

গুজরাট

ভদোদরা বিমানবন্দর

গুজরাট

সুরাট বিমানবন্দর

হরিয়ানা

হিসার বিমানবন্দর

হিমাচল প্রদেশ

সিমলা বিমানবন্দর

জম্মু ও কাশ্মীর

জম্মু বিমানবন্দর

ঝাড়খন্ড

সোনারি বিমানবন্দর

মধ্যপ্রদেশ

দেবী অহল্যাবাই বিমানবন্দর

ত্রিপুরা

আগরতলা বিমানবন্দর

অন্যান্য পরিবহনের ব্যবস্থা: 

  • রজ্জুপথ- দুর্গম অঞ্চল অথবা পার্বত্য অঞ্চলে পরিবহনের ক্ষেত্রে রজ্জুপথ অত্যন্ত উপযোগী কারণ এই পথে পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই পথ অতিক্রম করতে হয় না এবং শ্রম, সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। ভারতবর্ষের কালিংপং, চেরাপুঞ্জি, দার্জিলিং বিভিন্ন স্থানে রজ্জুপথ আছে।

Video link: https://economictimes.indiatimes.com/news/politics-and-nation/guwahati-indias-longest-river-ropeway-becomes-operational-over-brahmaputra/videoshow/77740636.cms

 

  • পাইপলাইন –বর্তমান যুগে তেলের খনি থেকে তেল ও স্বাভাবিক গ্যাস তেল শোধনাগার গুলো পাঠানোর জন্য এবং সেখান থেকে শোধন করে বন্দর বা শিল্প কেন্দ্র গুলিতে পাঠানোর জন্য পাইপলাইন ব্যবহৃত হয়। ভারতের প্রথম খনিজ তেল পাইপ লাইন স্থাপিত হয় 1906 খ্রিস্টাব্দে ডিগবয় থেকে তিনসুকিয়া পর্যন্ত যা 28 কিমি দীর্ঘ।
  • পাতাল রেল- ভারতের ভূগর্ভে পরিবহনের ক্ষেত্রে ভারতীয় রেল অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কলকাতা মেট্রো রেল পৃথিবীর 75তম পাতাল রেল এবং ভারত প্রথম।এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার একটা সিংহভাগ কে যানজট মুক্ত পরিবহন ব্যবস্থায় প্রতিদিন গন্তব্যস্থলে নির্বিঘ্নে পৌঁছে দেবে, পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে, আবহাওয়া প্রভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত অবস্থায় ভ্রমণ সম্ভব হবে এবং দৈনন্দিন দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে।

আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা:

যোগাযোগ হল এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে আঙ্গিক, বাচনিক ও লিখিত ভাষার মাধ্যমে ঘটনা দৃষ্টিভঙ্গি ও আবেগের আদান-প্রদান ঘটানো হয় এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বোধগম্য বার্তা, তথ্য, মতামত, নির্দেশ, উপদেশ ও পরামর্শ প্রেরণ ও গ্রহণ করা হয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা মূলক কাজ।

  • সেলফোন-এটি একটি তারবিহীন উপগ্রহ নেটওয়ার্ক চালিত উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন অত্যাধুনিক চলমান টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এটি 1985 খ্রিস্টাব্দে সর্বপ্রথম চালু হয়।
  • ইন্টারনেট- ইন্টারনেট যার অর্থ হলো অন্তর্জাল, এটি কম্পিউটার গুলোকে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে এক সূত্রে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা। সমগ্র বিশ্বজুড়ে পরস্পর-সংযুক্ত যাবতীয় কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ন।
  •  ই-মেইল- এর অর্থ হলো বৈদ্যুতিক বার্তা এটি একটি উচ্চ পর্যায়ের সফটওয়্যার প্যাকেজ যা ব্যবহারকারীকে তথ্য, ছবি, চিত্র,পাঠ্যলিপি ইত্যাদি ব্যক্তি কে পাঠাতে সাহায্য করে।
  • ওয়েবসাইট-ওয়েবসাইট হল কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থা তৈরি ওয়েব পেজ গুলির সংগ্রহ বা সমাবেশ।আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যান্য মাধ্যম গুলি হল সাইবারস্পেস, ডিজিটাল যোগাযোগ,GPS, GIS।

MCQ SHort Questions (1 Marks)

 এককথায় উত্তর দাও। 

  • কোথায় ভারতীয় টি’ বাের্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত?

কলকাতায়।

 

  • কোথায় ভারতীয় কফি বাের্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত? 

বেঙ্গালুরুতে।  

 

  • ভারত পৃথিবীতে চা রপ্তানিতে কততম স্থান অধিকার করেছে ? 

চতুর্থ স্থান।

 

  • কত রকমের চা চাষ পৃথিবীতে হয়ে থাকে? 

চার রকমের। (কালো চা–ভারত, সবুজ চা-চিন ও জাপান, ইস্টক চা – রাশিয়া এবং ওলং চা— তাইওয়ান)। 

 

  • কত রকমের কফি পৃথিবীতে উৎপন্ন হয়?

চার রকমের। (আরবীয় কফি—ব্রাজিল ও ভারত, রােস্টা কফি–পশ্চিম আফ্রিকা, লাইবেরিয়া কফি, জামাইকা কফি)।

 

  • কাকে বিশুদ্ধ কাচামাল বলে? 

যেসকল কাচামাল শিল্পজাত করার পর উৎপন্ন দ্রব্যের ওজন এক থাকে তাকে বশুদ্ধ কাচামাল বলে।

 

  • কাকে অবিশুদ্ধ কাচামাল বলে? 

যেসকল কঁচামাল শিল্পজাত করার পর উৎপন্ন দ্রব্যের ওজন কমে যায় তাকে বিশ্ব কাচামাল বলে।

 

  • ভারতের কোথায় প্রথম ইস্পাত কারখানা স্থাপিত হয় ? 

1830 সালে তামিলনাড়ুর পাের্টোনােভােতে।

 

  • ভারত লৌহ-ইস্পাত উৎপাদনে পৃথিবীতে কততম স্থান অধিকার করে। 

পঞম (চিন প্রথম)। 

 

  • ভারত বক্স উৎপাদনে ও রপ্তানিতে পৃথিবীতে কততম স্থান অধিকার করে?  

উৎপাদনে—প্রথম এবং রপ্তানিতে দ্বিতীয়। 

 

  • হাওড়ার ঘুসুড়িতে (ফোর্ট গ্লাস্টার) কত সালে ভারতের প্রথম কার্পাস শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠে?  

1818 সালে। 

 

  • কাকে ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার বলে? 

আমেদাবাদকে। (উত্তর ভারতের কানপুরকে, দক্ষিণ ভারতের কোয়েম্বাটোরকে)। 

 

  • কাকে ভারতের বয়নশিল্পের রাজধানী বলে?

মুম্বইকে। 

  • কোনটি ভারতের বৃহত্তম ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের নাম ? 

বিশাখাপত্তনম (হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড)।

 

  • ভারতে পৃথিবীর মােট জনসংখ্যার কত শতাংশ বসবাস করে? 

17:5% (চিন 19:4%)।

 

  • ভারতের কোন রাজ্যে লিঙ্গ অনুপাত বেশি 2011 সালের সেন্সাস অনুযায়ী? 

অরুণাচল প্রদেশে।

 

  • 5 হাজারের বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট অঞ্চলকে কী নামে পরিচিত?

শহর

 

  • কোনাে শহরের জনসংখ্যা ১ লক্ষের বেশি হলে, তা কী নামে পরিচিত? 

নগর। 

 

  • কোনাে শহরের জনসংখ্যা 10 লক্ষের বেশি হলে, তা কী নামে পরিচিত? 

মহানগর। 

 

  • কোন মহানগরের জনসংখ্যা 1 কোটির বেশি হলে তা কী নামে পরিচিত? 

মেগাসিটি।  

 

  • ভারতে মেগাসিটির সংখ্যা কটি 2011 সালের সেন্সাস অনুযায়ী ?

চারটি (কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাই)। 

 

  • কোথায় ভারতে প্রথম রেলপথ স্থাপিত হয়? 

1853 সালের 16 এপ্রিল বােম্বাই থেকে থানে (336 কিমি)।

 

  • কোনটি ভারতের বৃহত্তম বন্দর? 

মুম্বই (ভারতের প্রবেশদ্বার)। 

 

  • কোনটি ভারতের একটি করমুক্ত বন্দর। 

কাণ্ডালা (গুজরাট)।

 

  • কোনটি ভারতের একটি আধুনিক প্রযুক্তির বন্দর।

জওহরলাল নেহরু বন্দর বা নভসেবা বন্দর (মুম্বই)। 

 

  • কোন বন্দর ভারতের লৌহ রপ্তানিতে বিখ্যাত? 

মার্মাগাঁও (গােয়া)। 

 

  • কোন বন্দর ভারতের কফি রপ্তানিতে বিখ্যাত? 

নিউ ম্যাঙ্গালোের (কর্ণাটক)। 

 

  • কোনটি ভারতের শ্রেষ্ঠ মৎস্য বন্দর? 

কোচি (কেরল)। একে আরব সাগরের রানি বলা হয়।

  • কোনটি পূর্ব ভারতের বৃহত্তম বন্দর ? 

কলকাতা-হলদিয়া (পশ্চিমবঙ্গ)।

 

  • কোনটি ভারতের গভীরতম বন্দর ?

পারাদ্বীপ (ওড়িশা)। 

  1. কোনটি ভারতের একটি স্বাভাবিক বন্দর। 

বিশাখাপত্তনম (অল্পপ্রদেশ)।

  • কোন বন্দরটি হলাে ভারতের একমাত্র কর্পোরেট বন্দর?

এরাের (তামিলনাড়ু)।

 

  • দক্ষিণ ভারতের গভীরতম বন্দরের নাম কী ? 

চেন্নাই (তামিলনাড়ু)।

  • কোনটি ভারতের একটি নবগঠিত বন্দর। 

পাের্ট ব্লেয়ার (আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ)। 

  • ভারতে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয় কত সালে ? 

1911 সালে। (এলাহাবাদ ও নৈনির মধ্যে 10 কিমি)।

  • মােট কয়টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে ভারতে? 

16টি।

  • কোনটি ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দর? 

ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (দিল্লি)।

  • কোথায় ভারতের প্রথম পাতালরেল চালু হয়? 

1986 সালের 28 এপ্রিল কলকাতায় (প্রাচীনতম)। 

  • কোনটি ভারতের দীর্ঘতম মেট্রোরেল?

কলকাতা।


শূন্যস্থান পূরণ করো 

  • সাধারণত চা-কে _________ বলা হয়।

Ans. সোনালী পানীয় 


  • __________ শহরে ভারতের কার্পাস গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। 

Ans.  মহারাষ্ট্রের নাগপুর


  • ভারত পৃথিবীতে লৌহপিণ্ড ও স্পঞ্জ লােহা উৎপাদনে _________  ইস্পাত উৎপাদনে__________ স্থান অধিকার করে। 

Ans. পঞ্চম, অষ্টম 


  • লৌহ-ইস্পাত শিল্পকে সকল শিল্পের ________ বলে। 

Ans. মেরুদন্ড


  • ভারতের বৃহত্তম শিল্প হলাে ________  শিল্প । 

Ans.  কার্পাসবয়ন 


  • _________  শিল্পকে মােটরগাড়ি নির্মাণ শিল্প বলে।

Ans. সংযোজনভিত্তিক


  • ভারতের সম্ভাবনাময় শিল্প হলো ________ শিল্প।

Ans. তথ্যপ্রযুক্তি


  • ভারতের ইস্পাত নগরী বলা হয় __________। 

Ans.  জামশেদপুরকে


  • ভারতে ________ শতাংশ মানুষ শহরে ও _________ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে।

Ans. প্রায় 31.2,  প্রায় 68.8


  • ________ শতাংশ পৃথিবীর মােট স্থলভাগের ভারতে রয়েছে।

 Ans. 2.4


  • ভারতে 2011 সালের সেন্সস অনুযায়ী মােট শহরের সংখ্যা ________ টি। 

Ans. 7935


  • ________ ভারতের বৃহত্তম রেলপথ ও _________ ক্ষুদ্রতম রেলপথ। 

Ans. উত্তর,  দক্ষিণ-পূর্ব মধ্য


  • _________ হলো পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সদর দপ্তর |

Ans. কলকাতা


  • স্থলপথের শ্রেষ্ঠতম পরিবহণ মাধ্যম হলো _________ ।

Ans.  রেলপথ

  • ভারতের জীবনরেখা (lifeline of | India) বলে ___________।

Ans.  ভারতীয় রেলকে


সত্য মিথ্যা যাচাই করুন 

  • সবচেয়ে বেশি ভারতে জলসেচযুক্ত কৃষিজমি রয়েছে পাঞ্জাবে। 

Ans. সত্য 


  • পাঞ্জাবে উৎপাদিত হয় ভারতের মােট গম উৎপাদনের প্রায় 13%, ধান উৎপাদনের প্রায় 11% কার্পাস উৎপাদনের প্রায় 7% । 

Ans. সত্য 


  • প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যােজনা 2013 সালে সরকার ঘােষণা করেছে । 

Ans. সত্য 


  • কার্পাসবয়ন শিল্প ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যময় একক বৃহত্তম শিল্প। 

Ans. সত্য 


  • কার্পাস বা তুলাে হলাে কার্পাসবয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল । 

Ans. সত্য 


  • সর্বাধুনিক পেট্রোরসায়ন কেন্দ্র ন্যাশনাল অরগ্যানিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড 1968 সালে বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হয় । 

Ans. সত্য


  • কোম্পানি ভারতের 35 শতাংশেরও বেশি আইটি বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত। 

Ans. সত্য 


  • চেন্নাই হলাে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র । 

Ans. সত্য 


  • ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র হলাে হায়দরাবাদ । 

Ans. সত্য 


  • আমেরিকায় 1790 সালে আধুনিক কালে প্রথম আদমশুমারি হয় ।

Ans.  সত্য 


  • ভারতে 1881 সাল থেকে প্রথম প্রথাগতভাবে |

Ans. সত্য 


  • ভারতে এখন পর্যন্ত (2011) 14 বার আদমশুমারি হয়েছে। 

Ans. সত্য 


  • ভারতে বর্তমানে মৃত্যুহার প্রতি হাজারে 7,3 জন। 

Ans. সত্য 


  • সমগ্র পৃথিবীর জনসংখ্যার 17.5 শতাংশ মানুষ ভারতে বসবাস করে। 

Ans. সত্য 


  • “আমাদের জনগণনা আমাদের ভবিষ্যৎ” 2011 সালের আদমশুমারির স্লোগান ছিল |

Ans. সত্য 


  • উত্তরপ্রদেশের কানপুর পাঁচটি জাতীয় জলপথ ও রেলপথের মধ্যে অবস্থিত। 

Ans. সত্য 


  • ‘ভারতে সড়কপথের মােট দৈর্ঘ্য = 48.85 লক্ষ কিমি 2013 সালের হিসাব অনুযায়ী । 

Ans. সত্য 

  • ভারতে 2014 সালের 31 মার্চ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক পথের দৈর্ঘ্য – 92851 কিমি।

Ans. সত্য 

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Short Answers & Questions (3-4 Marks)


  • জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি কাকে বলে ? 

যে কৃষিব্যবস্থায় কৃষক তার নিজ পরিবারের খাদ্যের প্রয়ােজন মেটানাের উদ্দেশ্যে খাদ্যশস্যের চাষ করে, তাকে জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি বলে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই চাষের প্রাধান্য বেশি। 


  • নিবিড় বা প্রগাঢ় কৃষি কাকে বলে ?

যে কৃষিব্যবস্থায় প্রচুর শ্রম ও পুঁজি বিনিয়ােগ করে একই জমিতে বছরে বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হয়, তাকে নিবিড় বা প্রগাঢ় কৃষি বলে। অধিক জনসংখ্যা হওয়ায় এই কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠে।


  • বাগিচা কৃষি কাকে বলে ? 

বৈদেশিক মুলধন ও সংগঠনের সহায়তায় প্রধানত দেশীয় শ্রমশক্তির সাহায্যে যে কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে বাগিচা কৃষি বলে। উৎপাদিত ফসলগুলি হলাে চা, কফি, রবার, নারকেল, কলা, তামাক, মশলা ইত্যাদি।


  • খারিফ, রবি ও জায়িদ শস্য কাকে বলে ? 

যেসব ফসল জুন-জুলাই মাসে রােপণ করা হয় এবং নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ফসল তােলা হয়, তাকে খারিফ শস্য বলে। যেসব ফসল অক্টোবর-নভেম্বর মাসে রােপণ করা হয় এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে ফসল তােলা হয়, তাকে রবি শস্য বলে। যেসব ফসল গ্রীষ্মকালে চাষ করে বর্ষার শুরুতে ফসল কাটা হয়, তাদের জায়িদ শস্য বলে। 


  • সবুজ বিপ্লব কাকে বলে ? 

1960 সালে ভারতে উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার, ভৌগােলিক পরিবেশ অনুযায়ী কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন, রাসায়নিক সার ব্যবহার, ‘অঞ্চল্পমেয়াদি ফসল, কৃষিঋণের সহজলভ্যতা, সেচের সুবিধা ইত্যাদি দ্বারা কৃষিক্ষেত্রে যে ব্যাপক অগ্রগতি হয়, তাকেই সামগ্রিকভাবে সবুজ বিপ্লব বলে।  


  • অর্থকরী ফসল কাকে বলে ? 

যেসব ফসল বাজারে বিক্রি করে বা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়, তাদের অর্থকরী ফসল বলে। যেমন – চা, পাট, তামাক ইত্যাদি।


  • তদ্ভুজাতীয় ফসল কী?

যেসব চুল আঁশ বা তন্তু সংগ্রহের জন্য বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়, তাদের জাতীয় ফসল বলে। যেমন—পাট, তুলা ইত্যাদি। 


  • হর্টিকালচার শস্য কাকে বলে ? 

যে বড়ো বড়াে শহর, নগর ও মহানগরের দৈনন্দিন শাকসবজি, ফলমূলের চাহিদা মেটানাের জন্য শহরতলি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে যে চাষাবাদ করা হয়, তাকে হর্টিকালচার বলে।



  • সােনালি পানীয় কাকে বলে ? 

ক্রান্তীয় ও উপক্ৰান্তীয় পার্বত্য অঞ্চলে চা উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে তা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়, তাই একে সােনালি পানীয় বলে।


  • বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ কাচামাল কাকে বলে ? 

যে সমস্ত কাচামালের ওজন ও উৎপন্ন শিল্পজাত দ্রব্যের ওন সমান থাকে, তাদের বিশুদ্ধাচামাল বলে। যেমন—তুলাে, পাট, পশম ইত্যাদি। যে-সমস্ত কঁাচামালের ওজন ও উৎপন্ন শিল্পজাত দ্রব্যের ওজন সমান থাকে না, হ্রাস পায়, তাদের অবিশুদ্ধ কাচামাল বলে। যেমন-লােহা, তামা, আখ, চা ইত্যাদি।


  • পণ্যসূচক কী? 

কোনাে শিল্প ব্যবহৃত কাঁচামালেয় শুভন ও উৎপাদিত শোয়া ওজনের | অনুপাতকে বলা হয় পণাসূচক। পণ্যসূচকের মান 1-এর কম হলে বিশুদ্ধ আর 1-এর বেশি হালে অবিশুদ্ধ হয়।


  • ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প কী ? 

যেসকল শিল্পে লৌহ-ইস্পাতকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি, কলকবজা, যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয়, তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে।



  • অনুসারী শিল্প কাকে বলে ? 

কোনাে বহদায়তন শিল্পের উপর ভিত্তি করে যখন পাশাপাশি অসংখ্য ছােটো শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে অনুসারী শিল্প বলে। যেমন—পেট্রোরসায়ন শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যের উপর ভিত্তি করে হলদিয়াতে অনেক অনুসারী শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। 


  • উদীয়মান শিল্প কাকে বলে ? 

বর্তমানে পেট্রোরসায়ন শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদা হু হু করে বেড়েই চলেছে। এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাই এই শিল্পকে উদীয়মান শিল্প বলে। খনিজ তেল শােধনাগারের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অসংখ্য শিল্পের বিকাশ একসাথে হয় বলে এদের আধুনিক শিল্পের দানব বলে।


  • আমেদাবাদকে ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার কেন বলা হয় ? 

ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার শহরের ম্যাখ্রেস্টারে আমদানিকৃত তুলার উপর ভিতি করে অসংখ্য বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে। ঠিক তেমনি ভারতের গুজরাট রাজ্যের ‘আমেদাবাদ শহারে স্থানীয় তলার উপর ভিত্তি করে অসংখ্য বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে। তাই আমেদাবাদকে বলা হয় ভারতের ম্যাঞ্চেস্টার। 





  • দুর্গাপুরকে ভারতের রুঢ় বলা হয় কেন?

জার্মানির রাইন নদীর উপনদী বুঢ় উপত্যকায় উন্নতমানের কয়লার উপর ভিত্তি করে লৌহ-ইস্পাত শিল্প, ইভিনিয়ারিং শিল্প গড়ে উঠেছে। ঠিক তেমনি ভারতের দামােদর নদের তীরে রানিগঞ্জ ও ঝরিয়া কয়লাখনির উপর ভিত্তি করে অসংখ্য লৌহ-ইস্পাত শিক্ষা, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গড়ে উঠেছে। তাই রুঢ় শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করে দুর্গাপুরকে বলা হয় ভারতের রূঢ়। 


  • Foot Loose Industry বা শিকড় আলগা শিল্প কী ?

কার্পাসবয়ন শিল্পকে শিকড় আলগা শিল্প বলে। এই শিল্পের মুখ্য কাঁচামাল হলাে বিশুদ্ধ প্রকৃতির। এর পণ্যসূচকের মান 1। এই শিল্প উৎপাদক অঞ্চল ও বাজারের মধ্যবর্তী। সুবিধামতাে যেকোনাে জায়গায় গড়ে উঠতে পারে। তাই এই শিল্পকে বলা হয় শিকড় আলগা শিল্প। 


  • SAIL কী?

1973 সালে ভারত সরকার লৌহ-ইস্পাত শিল্পের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে Steel Autliority of India Limited নামক সংস্থা স্থাপন করে। এই সংস্থার সদর দপ্তর কলকাতা (পূর্ব ভারতের), দিল্লি (সমগ্র ভারতের)


  • আউট সাের্সিং কাকে বলে ? 

এ সস্তা, সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে বহুজাতিক সংস্থাগুলির ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় আউট সাের্সিং। 

  • বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি কেন বলা হয় ?

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টা ক্লারা ভ্যালি অঞ্চলে সিলিকন | ভিত্তিক ইলেকট্রনিকের সর্বাধিক বিকাশ ঘটেছে। ঠিক তেমনি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে সিজি বতে সিলিকনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সর্বাধিক সমাবেশ দেখা যায়, তাই লালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয়। 


  • জনঘনত্ব কাকে বলে ? 

কোনাে দেশের মােট জনসংখ্যাকে সেই দেশের মােট জমির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায়, তাকেই বলা হয় জনঘনত্ব। এটি একটি দ্বিমাত্রিক ধারণা। 


  • জনসংখ্যা অভিক্ষেপ কাকে বলে ? 

বিগত বছরগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান পর্যালােচনার দ্বারা বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে দাড়াবে তার পূর্বাভাস দেওয়া যায়। এইরুপ জনসংখ্যা বৃদ্ধির পর্যালােচনার মধ্য দিয়ে জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের আগাম পূর্বাভাস দেওয়াকে বলা হয় জনসংখ্যা অভিক্ষেপ। 


  • শূন্য বা স্থিতিশীল জনসংখ্যা কাকে বলে ? 

দীর্ঘদিন ধরে কোনো দেশ বা অঞ্চলের জনসংখ্যা যখন বাড়েও না নমেও না, তখন জনসংখ্যার সেই অপরিবর্তিত অবস্থাকে বলা হয়। শুন্য জনসংখ্যা বা চিশতিশীল জনসংখ্যা। 


  • জনবিস্ফোরণ বলতে কী বােঝো? 

মার কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অতিদ্রুত হারে হলে একসময় দেশের মোট জনসংখ্যা তার কার্যকরী সম্পদের অনুপাতের অধিক হয়। তার ফলে জাতীয় মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ কমে যায়, দেশে বেকারি, অপুষ্টি, দারিদ্র্য ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়। জনসংখ্যার এই অস্বাভাবিক বৃম্পিকে বলা হয় জনবিশেফারণ। 


  • পরিব্রাজন কাকে বলে ? 

ডেল থায়ী বা সাময়িকভাবে নতুন স্থানে বসবাস করার উদ্দেশ্যে ভৌগােলিক সীমারেখা দ্বারা নির্দিষ্ট কোনাে অঞ্চল থেকে অন্য কোনাে অঞ্চলে বাসস্থান পরিবর্তনকে বলা হয় পরিরাজন। 


  • শহর কাকে বলে ? 

সক ভারতের কোনাে অঞ্চলের জনসংখ্যা 5000 বা তার বেশি, জনঘনত্ব 400 জন/বর্গ কিমি, বাসিন্দাদের 75 শতাংশের বেশি দ্বিতীয় স্তরের কর্মের সঙ্গে যুক্ত হলে তখন তাকে বলা হয় শহর।


  • নগর কাকে বলে ? 

শহরের কার্যাবলি যখন নিবিড় থেকে নিবিড়তর ও বিস্তৃত হয়, বসতির ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পায়, পৌর কাজকর্মের পরিধি আরও বিস্তৃত হয় এবং পৌর পরিষেবা অঞ্চলের আয়তন বৃদ্ধি পায়, তখন তাকে নগর বলে।



  • মহানগর কাকে বলে ? 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে যখন নগরগুলি বৃহৎ আকার ধারণ করে অর্থাৎ ভারতে 10 লক্ষের বেশি জনসংখ্যা বিশিষ্ট নগরকে বলা হয় মহানগর। 


  • ধারণযােগ্য উন্নয়ন (Sustainable Development) কী ? 

সে যে উন্নয়ন বা পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদের চাহিদা অটুট রেখে বর্তমান প্রজন্মের সম্পদের চাহিদা মেটানাে হয়, তাকে ধারণযােগ্য উন্নয়ন বা Sustainable Development ! 


  • মিলেট কাকে বলে ? 

ফিল উয় ও শুষ্ক অঞ্চলে যেখানে জলসেচের সুবিধা খুব কম সেখানে যে নিম্নমানের ক্ষুদ্রাকৃতির দানাশস্য দেখা যায়, তাদের একত্রে মিলেট বলে। যেমন—জোয়ার, বাজরা ও রাগি হলাে মিলেট।

 

  • সােনালি চতুর্ভুজ কী ?

ভারতের চারটি মহানগরকে যথা—দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও চেন্নাইকে 4-5 লেনের সাথে সড়কপথে যুক্ত করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তাকে সােনালি চতুর্ভুজ বলে। এই সড়কপথের মােট দৈর্ঘ্য হলাে 5846 কিমি।

  • হীরক চতুর্ভুজ কী ? 

ভারতের চারটি মহানগর যথা—দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা ও চেন্নাইকে যুক্ত করার জন্য দ্রুতগামী রেল যােগাযােগ তৈরির যে পরিকল্পনা সম্প্রতি নেওয়া হয়েছে, তা ইরিক। চুতুর্ভূজ নামে পরিচিত।




ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Long Answers & Questions (5-6 Marks)

  • সংক্ষেপে ভারতীয় কৃষির সমস্যা ও সমাধান লেখাে। 

সমস্যা : 

  1. i) উন্নত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অভাব।
  2. ii) কৃষি প্রশিক্ষণ ও গবেষণার অভাব। 

iii) মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর অধিক নির্ভরশীলতা। 

  1. iv) উন্নতমানের বীজ ও রাসায়নিক সারের অভাব। 
  2. v) জলসেচের সুবন্দোবস্তের ‘অভাব। 

সমাধান :

  1. i) বেশি করে কৃষি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। 
  2. ii) কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। 

iii) সরকারি উদ্যোগে কৃষিজ দ্রব্য বাজারজাত ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। 

  1. iv) উন্নতমানের সার ও বীজের ব্যবহার বাড়াতে হবে। 







  • কেন ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প এত উন্নত হলাে ?

ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প উন্নত, কারণ— 

  1. i) ভারতে এই শিল্পের অতিদ্রুত উন্নতি  হওয়ায় দেশ ও বিদেশে চাহিদা অত্যন্ত বেড়েছে।
  2. ii) কম্পিউটারে দক্ষ মেধাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বেশি। 

iii) এই শিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযােগ থাকায় সরকার সংস্থাগুলিকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে। 

  1. iv) সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 
  2. v)  এই শিল্পে প্রয়ােজনীয় শ্রমিকের জোগানের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।


  • সড়কপথের ও রেলপথ গুরুত্ব ও সুবিধা কী ?

সড়কপথের গুরুত্ব ও সুবিধা :  

  1. i) খুব দ্রুত ও সুলভ পরিবহণ ব্যবস্থা। 
  2. ii) স্বল্প দূরত্বে খুব সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানাে সম্ভব। 

iii) বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে যাতায়াতের সুবিধা। 

  1. iv) নিরাপদ ভ্রমণ, আর্থিক সমৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে এই পথের গুরুত্ব অপরিসীম।

রেলপথের গুরুত্ব ও সুবিধা :

  1. i) একসঙ্গে বহু পণ্য পরিবহণ করা সম্ভব। খুব | 
  2. ii) পুত ও সহজেই পরিবহণ করা যায়। 

iii) ভ্রমণ অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য। 

  1. iv) পণ্য মত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে।


  • জনঘনত্বে বৈশিষ্ট্যগুলি কী ? 

জনঘনত্ব হলাে কোনাে দেশের মােট জনসংখ্যাকে সেই দেশের মোট জমির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায় । 

এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো – 

  1. i) এর থেকে কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান সহজে বােঝা যায়। 
  2. ii) এটি কোনাে অঞ্চলের জনসংখ্যার আধিক্য বা স্বল্পাহাকে সূচিত করে। 

iii) জনঘনত্ব সর্বদা পূর্ণমানে প্রকাশ করা হয়।


  • ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাগুলি কী ? 

ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাগুলি হলাে— 

  1. i) শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির উপর প্রতিকুল প্রভাব পড়ে। 
  2. ii) বেকারত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পায়। 

iii) জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে খাদ্যের সমস্যা দেখা দেয়। 

  1. iv)  জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জমির উপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ে। 
  2. v) জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু উৎপাদন কম হয়। 
  3. vi) অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশ পিছিয়ে পড়ে। 

vii) জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জমির উপর ক্রমাগত চাপ বাড়ে। 


  • গুরুত্ব লেখাে – বহুমুখী নদী পরিকল্পনা । 

নদীকে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য যে পরিকল্পনা করা হয়। তাকে বহুমুখী বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে। 

এই পরিকল্পনার গুরুত্ব হলাে- 

  1. i) খারিফ শস্য ও রবি শস্যের মধ্যে পার্থক্য লেখাে।
  2. ii) জলবিদ্যুৎ উৎপাদন 

iii) পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তােলা ইত্যাদি। 

  1. iv) জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি, ও মাছ চাষ, ও জলপথে পরিবহণ 
  2. v) ভূমিক্ষয় রােধ 
  3. vi) পানীয় জল সরবরাহ  

vii)  বন্যা নিয়ন্ত্রণ |





  • রবি শস্য ও খারিফ শস্যের মধ্যে পার্থক্য লেখ |

 

বিষয়

রবি শস্য

খারিফ 

উৎপাদন

হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বেশি

হেক্টরপ্রতি উৎপাদন কম

সময়কাল

অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চাষ হয়

জুন-জুলাই মাসে চাষ হয়

জলসেচ 

জল সেচের ওপর নির্ভর

মৌসুমী বায়ুর উপর নির্ভর

উৎপাদিত ফসল

গম,  বোরো ধান, সরিষা  ইত্যাদি

আমন ধান,  পাট, কার্পাস,  ইত্যাদি 




  • যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য লেখ |

 

বিষয়

যোগাযোগ

পরিবহন

সময়

দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব

সময় অনেক লাগে

সংস্থা

এক  স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য আদান-প্রদান কে বলা হয় যোগাযোগ |

যাত্রী  ও পণ্যদ্রব্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরকে পরিবহন বলে |

মাধ্যম

চিঠিপত্র,  টেলিফোন,  কম্পিউটার,  টিভি,  ইত্যাদি

বাস,  ট্রেন,  জাহাজ  ইত্যাদি 




  • অশুদ্ধ কাঁচামাল ও বিশুদ্ধ কাঁচামাল এর মধ্যে পার্থক্য লেখ |

 

বিষয়

অশুদ্ধ কাঁচামাল

বিশুদ্ধ

শিল্পের অবস্থান

অশুদ্ধ কাঁচামাল শিল্প কাঁচামাল এর কাছে গড়ে উঠতে পারে

বিশুদ্ধ কাঁচামাল শিল্প  যেকোনো জায়গায়  গড়ে উঠতে পারে

ওজন

কাঁচামালের ওজন শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যের  ওজন অপেক্ষা  কম হয়

কাঁচামালের ওজন শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যের  ওজন  এর সমান হয়

পণ্য সূচক

এরপর সূচক এর মান 1 এর বেশি হয়

এর পণ্য সূচক এর মান 1 এর কম হয়





  • ভারতের কয়েকটি মোটর গাড়ি নির্মাণ সংস্থার নাম লেখ | 

 

সংস্থা

কেন্দ্র

যানবাহন

টাটা মোটরস লিমিটেড

জামশেদপুর

ট্রাক,  টেম্পো, বাস,  মালগাড়ি |

মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা কোম্পানি লি.

মুম্বাই

ট্রাক, জীব,  মটর গাড়ি| 

অশোক লেল্যান্ড লিমিটেড

চেন্নাই

লেল্যান্ড কার্মট, জাম্বাে, হিপাে।

মারুতি উদ্যোগ লিমিটেড

গুরগাঁও ( বৃহত্তম)

অল্টো, ওয়াগন, ভার্সা, জিপসি।

প্রিমিয়ার অটোমোবাইলস লিমিটেড

মুম্বাই

দেগােন্তে ফার্গো, প্রিমিয়ার রােডমাস্টার ট্রাক

স্বরাজ মাজাদা লিমিটেড

সুজাপুর (  উ. প্র.)

ছােটো ট্রাক

  ভলভো ইন্ডিয়া লিমিটেড

বেঙ্গালুরু

ভারী ট্রাক

  এনফিল্ড ইন্ডিয়া লিমিটেড

চেন্নাই

বুলেট, ক্ৰশেডার মােটর সাইকেল।

হিরো মোটকরপ লিমিটেড

ধারেহেরা

মােটর সাইকেল, স্কুটার, মােপেড।

হোন্ডা ( ইন্ডিয়া)  লি.

  মেনেসর

মােটর সাইকেল।

ইয়ামাহা  এস্কর্ট 

সুরজপুর

মােটর সাইকেল।


  • ভারতের মধ্যে অবস্থিত কয়েকটি বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প শিল্প কেন্দ্রের নাম লেখ | 

 

ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প

শিল্প কেন্দ্র

রেল ইঞ্জিন

পশ্চিমবঙ্গের চিত্তরঞ্জন (ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন-বৃহত্তম), উত্তরপ্রদেশের বারাণসী (ডিজেল ইঞ্জিন-বৃহত্তম)।

রেলওয়ে কোচ

তামিলনাড়ুর পেরাম্বুর, পাঞ্জাবের কাপুরথালা।

রেল ওয়েগান

বিহারের মুজাফফরপুর, পশ্চিমবঙ্গের দমদম।

জাহাজ নির্মাণ শিল্প

অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম (বৃহত্তম), খিদিরপুর (প.ব.), কেরলের কোচি।

বিমানপোত নির্মাণ শিল্প 

বেঙ্গালুরু (কর্নাটক), মহারাষ্ট্রের নাসিক।

খনি যন্ত্রপাতি নির্মাণশিল্প

পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর।



  • ভারতীয় কৃষির বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখাে।

 

ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ। ভারতের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ভারতের কৃষির কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য আছে। যথা –

 

জনসংখ্যার চাপ : কৃষিজমির তুলনায় জনসংখ্যার চাপ অত্যধিক হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য কৃষির উপর চাপ বেড়েই চলেছে।

 

কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার : অধিক ফসল উৎপাদনের ক্ষ্যে জমিতে অত্যধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়ােগ করার ফলে জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে।

 

জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি : ভারত পৃথিবীর দ্বিতীয় জনবহুল দেশ। এদেশের অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার কৃষি শ্রমনিবিড়। অত্যধিক জনসংখ্যার বিপুল চাপ থাকায় এখানে কেবলমাত্র খাদ্যশস্যের চাষ হয়, ফলে উদ্বৃত্ত ফসল অল্প পরিমাণে বাজারে বিক্রি করে অন্যান্য চাহিদা পুরণ করা হয়।

 

মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরতা : ভারতে কৃষিজ ফসলের চাষ ও উৎপাদন | অধিকাংশই মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে কৃষিকাজ করা হয় এবং শীতকালে বৃষ্টিপাতের অভাবে জলসেচের মাধ্যমে কৃষিকাজ করা হয়।

 

অন্যান্য :

  1. i) পশুখাদ্যের অভাব। 
  2. ii) জলসেচের ব্যবহার। 

iii) ক্ষুদ্রাকৃতির জমিজোত। 

  1. iv) পশুখাদ্যের অভাব। 
  2. v) কৃষিজমিতে পশুশক্তির প্রাধান্য। 
  3. vi) মাথাপিছু কৃষিজ উৎপাদনের হার কম। 

vii) খাদ্যশস্যের প্রাধান্য। 

viii) বহুশস্যের উৎপাদন।



  1. পূর্ব ও মধ্যভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করাে।  

 

পূর্ব ও মধ্যভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণগুলি হলাে –

 

বন্দরের সুবিধা ও বাজারে চাহিদা : কলকাতা, হলদিয়া, পারাধীপ প্রভৃতি।  বন্দরের সুবিধা থাকায় আর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাজারে বিপুল চাহিদা থাকায় এই শিল্প গড়ে উঠেছে। 

 

সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক : পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড় প্রভৃতি রাজ্য থেকে প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের জোগান থাকায় এই শিল্প গড়ে উঠেছে।

 

জল ও বিদ্যুৎশক্তির জোগান : দামােদর, সুবর্ণরেখা, মহানদী প্রভৃতি নদীর এল পাওয়ার সুবিধা থাকায় এবং দামােদর ও হিরাকুন্দের জলবিদ্যুৎ পাওয়ার সুবিধা ও | ফারাক্কা, দুর্গাপুর, বােকারাে কেন্দ্র প্রভৃতি থেকে তাপবিদ্যুৎ পাওয়ার সুবিধা।

 

উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা : পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথ, উন্নত সড়কপথের সুবিধা থাকায় শিল্পের প্রয়ােজনীয় কাঁচামালের জোগান ও উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাত করতে সুবিধা হয়।

 

কাঁচামালের সহজলভ্যতা : বিহারের সিংভূম, ছত্তিশগড়ের বাইলাডিলা, এডিশার ময়ূরভঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলের ম্যাগনেটাইট ও হেমাটাইট জাতীয় লৌহ-আকরিকের | সবিধা এবং ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া, বােকারাে পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ, ওড়িশার তালচের থেকে প্রচুর কয়লা পাওয়ার সুবিধা।



  1. ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গড়ে ওঠার কারণ কী? 

 

যে শিল্পে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কলাকৌশল দ্বারা ইস্পাত ব্যবহার করে যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি, পরিবহণ সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়, তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে। 

 

ইঙ্গুিনিয়ারিং শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি হলাে –

 

শিল্প সমাবেশ : যে সমস্ত অঞ্চলে পূর্ব থেকে অসংখ্য শিল্পের মাৰেশ লক্ষ করা যায় সেই সমস্ত স্থানেই এই শিল্প গড়ে উঠেছে।

 

ধাতব দ্রব্যের জোগান : সাধারণত ইস্পাত, তামা ও ‘অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ধাতব দ্রব্যের উপর নির্ভর করে এই শিল্প গড়ে ওঠে।

 

অতিসুদক্ষ শ্রমিকের জোগান : হাওড়া, বেঙ্গালুরু প্রভৃতি অঞ্চল থেকে – প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মেধাবী সুদক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকের জোগান থাকায় প্রধানত এই শিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে। 

 

বিদ্যুৎ শক্তির জোগান : এই শিল্পে হাই ও লাে ভােল্টেজসম্পন্ন বিদ্যুতের প্রয়ােজন। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জোগান এই শিল্প গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

 

অন্যান্য দ্রব্যের জোগান : এই শিল্পের জন্য প্রয়ােজনীয় রবারের দ্রব্য, রং, প্লাস্টিক প্রভৃতির প্রয়ােজন যা বিভিন্ন পেট্রোরসায়ন শিল্পের অনুসারী শিক্ষাকেন্দ্র থেকে পাওয়া যায়। 

 

  1. পশ্চিম ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠার কারণ কী ? 

 

যে শিল্প খনিজ তেলের উপজাত দ্রব্যকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠে, তাকে পেট্রোরসায়ন শিল্প বলে। পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি হলাে – 

 

শিল্প কাঠামাে : সড়কপথ, জলপথ পশ্চিম ও পূর্ব ভারতে বেশ উন্নত থাকায় এই শিল্প স্থাপনে সুবিধা হয়েছে। 

 

কাচামালের জোগান : ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থিত তৈল শােধনাগার যথা —ট্রন্থে, জামনগর, কয়ালি প্রভৃতি থেকে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় কঁাচামাল সহজেই পাওয়া যায়।

 

দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক : এই অঞ্চল জলবহুল হওয়ায় শিক্ষিত, দক্ষ সুলভ ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকের জোগান থাকায় এই শিল্প গড়ে উঠতে সুবিধা হয়েছে।

 

মূলধনের জোগান ও ঢাহিদা : টাটা, রিলায়েন্সের মতাে শিল্পগােষ্ঠী থাকায়। মূলধনের কোনাে অসুবিধা হয় না এবং এই দেশ জলবহুল বলে চাহিদা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ফলে এই শিল্প গড়ে উঠতে বিশেষ সহায়ক হয়েছে। 

 

বিদ্যুৎ শক্তির জোগান : কায়না জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তারাপুর, কাকড়াপাড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই শিল্পের প্রয়ােজনীয় বিদ্যুৎ খুব সহজে পাওয়া যায়।

 

বন্দরের সুবিধা : মুম্বই, কাল্ডালা প্রভৃতি বন্দরের মাধ্যমে খনিজ তেল, যন্ত্রপাতি, উৎপাদিত দ্রব্য আমদানি ও রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়। 

 

16.ভারতে নগর বা শহর গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করাে। 

 

অর্থনৈতিক পরিবেশ :

ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র : ভারতের যে সমস্ত স্থান ঐতিহাসিক নিদর্শনের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ সেই স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। যেমন—আগ্রার তাজমহল, দিল্লির লালকেল্লা ইত্যাদি। 

 

শিল্প ও শিক্ষাকেন্দ্রের অবস্থান : ভারতের যেসব স্থানে উন্নতমানের শিল্প। এ উন্নতমানের শিক্ষাকেন্দ্র অবস্থান করে সেইসব স্থানে জনবসতির ক্রমাগত আধিক্য। লক্ষ করা যায়। ফলে নগর বা শহর গড়ে ওঠে।

 

উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা : ভারতের যেসব স্থানে পরিবহণ ও যােগাযােগের সুযােগ বেশি সেখানে জনসমাবেশ বেশি ঘটে বলে শহর বা নগর গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।

 

প্রাকৃতিক কারণ : কৃষিজাত ও খনিজ দ্রব্য উৎপাদক অল : ভারতের যেসব অঞ্চলে ফসল অধিক পরিমাণে উৎপাদন হয় কিংবা যেখানে খনিজ সম্পদের আধিক্য রয়েছে সেখানে জনবসতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, ফলে নগর বা শহর গড়ে ওঠে।

 

মনােরম জলবায়ু : ভারতের যে সমস্ত অম্মলের জ্বলবায়ু সমভাবাপন্ন ও মনােরম প্রকৃতির সেখানে শহর বা নগর গড়ে ওঠে। যেমন – দার্জিলিং, সিমলা, দেরাদুন ইত্যাদি।

ভৌগােলিক কারণ : সমুদ্র বা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে, সমভূমি অঞ্চলে পানীয় ব সুবিধা, মনােরম পরিবেশ, খনিজ সম্পদের আধিক্য থাকায় ক্রমাগত জনসংখ্যা খি গায়, ফলে নগর বা শহর গড়ে ওঠে।

  1. ভারতের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের কারণ কী তা সংক্ষেপ আলোচনা করে।

ভারতের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের কারণগুলি হলাে—

নদনদী : ভারতের বিভিন্ন নদনদী অববাহিকা খুবই উর্বর এবং জলসেচ, জলবিদ্যুৎ, পানীয় জল, ফসল উৎপাদন প্রভৃতির সুবিধা থাকায় সেখানে জনসংখ্যা অধিক লক্ষ যায়।

জলবায়ু : জনসংখ্যার স্থানীয় বণ্টনে জলবায়ু বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কারণ বৃষ্টিহীন এলাকায় অর্থাৎ যেখানে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে সেখানে জনসংখ্যা অতিনগণ্য। কিন্তু যেসব অঞ্চলে মনােরম জলবায়ু বিরাজ করে সেই সমস্ত অঞ্চলে জনসংখ্যা অধিক।

ভূপ্রকৃতি : সাধারণত জনবসতি গড়ে উঠে ভূমির উচ্চতা, বন্ধুরতা প্রভৃতি উপাদানের উপর ভিত্তি করে। যেমন—পার্বত্য অঞ্চলে বিশেষ কোনাে সুবিধা না থাকায় সেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে খুবই কম। কিন্তু সমভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা যাতায়াত, মনােরম পরিবেশ প্রভৃতি থাকায় জনবসতি অধিক লক্ষ করা যায়।

  1. ভারতের ইক্ষু চাষের অনুকূল পরিবেশের বর্ণনা দাও | 

 

বিষয়

অর্থনৈতিক পরিবেশ

প্রাকৃতিক পরিবেশ

ইক্ষু 

পরিবহণ : আখ কাটার ২ ঘন্টার মধ্যেই রস নিষ্কাশন করতে হয় তাই দ্রুত ইক্ষুকে শিল্প কেন্দ্রে পৌঁছাতে পরিবহণ ব্যবস্থা খুব ভালাে হওয়া প্রয়ােজন।


শ্রমিক : আখ চাষ অত্যন্ত শ্রমনিবিড়। তাই এই চাযের জন্য দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক প্রয়ােজন হয়।

 

উন্নত সার, বীজ, যন্ত্রপাতি: অতিরিক্ত আখ উৎপাদনের লক্ষ্যে উন্নতমানের সার, বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। 



মৃত্তিকা : চুন ও লবণ সমৃদ্ধ দোআঁশ মৃত্তিকা ও রেগুর মৃত্তিকা ইক্ষু উৎপাদনের পক্ষে আদর্শ।


উন্নতা : ইক্ষু চাষের জন্য 20°-27° সেন্টিগ্রেড উন্নতার। প্রয়ােজন হয়। 


বৃষ্টিপাত : ইক্ষু চাষের জন্য গড় বৃষ্টিপাত 100-150 সেমি প্রয়ােজন হয়। 





  1. ভারতের গম  ও ধান চাষের অনুকূল পরিবেশ সম্পর্কে লেখ |

 

বিষয়

অর্থনৈতিক পরিবেশ

প্রাকৃতিক

গম

উন্নত বীজ, সার ও যন্ত্রপাতি : অতিরিক্ত ফসল ফলানাের উদ্দেশ্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হয়। 


শ্রমিক : গম চাষের জন্য ধান চাষের মতােই দক্ষ ও সুলভ শ্রমিকের প্রয়ােজন |


মূলধন : উন্নতমানের সার, বীজ, কীটনাশক ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরির জন্য মূলধনের প্রয়োজন হয়।


জলসেচ : শীতকালে গম চাষ করা হয়, তাই গম চাষের জন্য জলসেচ করা হয়। 

বৃষ্টিপাত : গম চাষের জন্য গড় বৃষ্টিপাত 50-100 সেমি প্রয়ােজন হয়।


উয়তা : গম চাষের জন্য গড়ে  15°-20° সেন্টিগ্রেড উত্নতার প্রয়ােওনি। 


ভূপ্রকৃতি : অতিমৃদু ঢালু সমতল  ভূমিতে গম চাষ ভালাে হয়।

মৃত্তিকা : মৃদু অম্লধর্মী উর্বর দোআঁশ, বেলে-দোআঁশ মৃত্তিকা গম চাষের পক্ষে আদর্শ। 

ধান 

মূলধন : উন্নতমানের বীজ, সার, কীটনাশক ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরির জন্য যথেষ্ট মূলধনের প্রয়ােজন হয়।


শ্রমিক : জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, রােপণ, আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়ােগ, ফসল কাটা, তােলা প্রভৃতির জন্য প্রচুর শ্রমিকের প্রয়ােজন।


 উন্নত সার, বীজ, কীটনাশক : ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত ফসল ফলানাের উদ্দেশ্যে উন্নতমানের সার, বীজ ও কটিনাশক

ব্যবহার করা হয়। 


জলসেচ : বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তার

কারণে শুষ্ক অঞ্চলে জলসেচের মাধ্যমে ধান চাষ করা হয়। 

ভূপ্রকৃতি : নদী উপত্যকা বা নীচু জমিতে যেখানে জল দাঁড়াতে পারে সেখানে ধান চাষ ভালাে হয়।


উয়তা : ধান চাষের জন্য গড়। উন্নতা 20-30° সেন্টিগ্রেড প্রয়ােজন হয়।


মৃত্তিকা : নদী উপত্যকায় উর্বর পলিযুক্ত দোআঁশ মৃত্ত্বিকা, এঁটেল মাটি ধান চাষের পক্ষে আদর্শ। 


বৃষ্টিপাত : ধান চাষের জন্য। বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 100-200 সেমি প্রয়ােজন হয়




WEST BENGAL BOARD Related Links

Shopping Cart
Open chat