fbpx

Skillyogi – Video Lectures In English & Bangla

Bharat Er Praktitik Paribesh - ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ

Chapter 5 GEOGRAPHY ভূগোল WBBSE Madhyamik Class 10

Here you will learn the basics of ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ in a simple language it is for Bengali medium students who are studying under West Bengal Board of Secondary Education and preparing for their Madhyamik exam (Class 10 WBBSE) Here you will find all necessary and important WBBSE Madhyamik Suggestions, notes, solved sample question paper in Bangla along with video lectures from expert teachers

You will learn the basics and the foundation of this chapter in English medium from an expert teacher this module has been organised in four segments

  • In the first segment you are going to learn the foundation and basics of this chapter
  • In the second module you are going to learn the multiple choice questions that is MCQ or high order thinking skills question of 1 marks
  • In the third segment you are going to learn the short answers and questions which is typically asked from the chapter in your examination which is explained in very easy and simple method
  • The fourth segment comprises of long answers and questions which is typically of 5 to 6 marks which will help you prepare well for your examination you also get sample questions and sample paper for better preparation

If you have any questions please feel free to contact our team for details and help

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে  আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে 
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  •  তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  •  চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

এখানে আপনি Basic Terms, Definitions, Solved Short, Long Answers & Questions and MCQ's নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করলে পেয়ে যাবেন

সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারিহয়েছে করা হয়েছে সাবস্ক্রাইব করুন সব ভিডিও লেকচার, স্টাডি মেটেরিয়াল এবং সাজেশন পেতে

বাংলা বিষয়- পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ শিক্ষা পরিষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য যারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য এটা সাহায্য কর হবে এখানে আমরা আপনাকে এক Marks er MCQ  এবং Suggestion পেয়ে যাবেন যেটা আপনাকে সাহায্য করবে কম সময়ের মধ্যে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে এবং ভালো মাল আনতে নিজের মাধ্যমিক পরীক্ষা

VIDEO LECTURES BY EXPERT TEACHERS FOR EASY LEARNING

FOUNDATION - BASICS OF THE CHAPTER

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

MCQ QUESTIONS - 1 MARKS

SHORT QUESTIONS ANSWER - 3/4 MARKS

LONG QUESTIONS ANSWER - 5/6 MARKS

Definition, Important Terms, Explanation in Simple Words for Fast Learning

ভারত (প্রাকৃতিক)

ভারতবর্ষ তথা ভারত হলো আমাদের জন্মভূমি, যা বহু ভাষাভাষী এবং ধর্মাবলম্বী মানুষের সমন্বয়ে গঠিত। এই ভারতবর্ষের একদিকে রয়েছে গগনচুম্বী পর্বতমালা এবং অন্যদিকে সুনীল জলরাশি। আবার কোথাও নদীকেন্দ্রিক বিস্তীর্ণ সমভূমি আবার কোথাও রুক্ষ কঠিন মরুভূমি। এই ভারতবর্ষেরই কোন প্রান্তে রয়েছে গ্রীষ্মের তাপদাহ আবার কোথাও প্রচন্ড শীতের প্রকোপ। এই সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা ভারতবর্ষ হল প্রকৃতির এক বৈচিত্র্যপূর্ণ লীলা। এই দেশে রয়েছে বিভিন্ন জাতির ধর্ম এবং বর্ণের মানুষ তাই এই দেশের মূল মন্ত্র হলো “বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য”।

অবস্থান এবং প্রশাসনিক বিভাগঃ
ভৌগলিক অবস্থানঃ
ভারতবর্ষের ভৌগোলিক অবস্থানকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করে থাকি। যথা-
অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের নিরিখেঃ অক্ষাংশ অনুসারে ভারত উত্তর গোলার্ধের অন্তর্গত এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থান করে। ভারতের মূল ভূখণ্ডটি দক্ষিণে 8 ডিগ্রি 4 মিনিট উত্তর অক্ষাংশ অর্থাৎ কন্যাকুমারিকা থেকে উত্তরে 37 ডিগ্রি 6 মিনিট উত্তর অক্ষাংশ অর্থাৎ লাদাখের উত্তর সীমা পর্যন্ত বিস্তারিত। দ্রাঘিমার নিরিখে ভারতবর্ষ পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত। পশ্চিমে আটষট্টি ডিগ্রী সাত মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমা অর্থাৎ গুজরাটের পশ্চিম সীমানা থেকে শুরু করে পূর্বে 97 ডিগ্রী 25 মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমা অর্থাৎ অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সীমা পর্যন্ত ভারতবর্ষ অবস্থিত।

সমুদ্রের সাপেক্ষে অবস্থানঃ ভারতবর্ষ তিন দিক থেকে সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় একে উপদ্বীপ বলা হয়ে থাকে। ইহার পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর, এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত। এই দেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম উপদ্বীপ।

https://banglacareerofficial.blogspot.com/2019/08/blog-post_20.html
ভারতবর্ষের বিস্তার এবং আয়তনঃ
উত্তর থেকে দক্ষিনে ভারতের মোট বিস্তার প্রায় 3214 কিলোমিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ইহার বিস্তার প্রায় 2933 কিলোমিটার। এই দেশে মোট আয়তন প্রায় 32 লক্ষ 87 হাজার 263 বর্গ কিলোমিটার। আয়তনের নিরিখে ভারত পৃথিবীর সপ্তম বৃহত্তম দেশ।

সীমানাঃ
ভারতের উত্তরে অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালা, চীন নেপাল ভুটান ইতালি দেশ। উত্তর-পশ্চিমে পাকিস্তান এবং আফগানিস্থান, পশ্চিম পাকিস্তান ও আরব সাগর, পূর্বে বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং বঙ্গোপসাগর, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ পূর্বে শ্রীলংকা এবং বঙ্গোপসাগরের অবস্থান। ভারতের দক্ষিণতম স্থলবিন্দু ইন্দিরা পয়েন্ট।

স্বাধীনতার পরে ভারতের রাজ্যগুলির বিন্যাস এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ
1947 সালের, 15 ই আগস্ট ভারতবর্ষ ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। 1950 সালের 26 শে জানুয়ারি ভারত নিজেকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করে এবং কমনওয়েলথ অফ নেশনসের অন্তর্ভুক্ত হয়।

স্বাধীনতা লাভ করার ঠিক পরবর্তী সময়ে ভারতবর্ষের অন্তর্গত রাজ্যের সংখ্যা ছিল যথাঃ নটি রাজ্যপাল শাসিত প্রদেশ, 550 টি দেশীয় রাজ্য এবং পাঁচটি চিফ কমিশনার দ্বারা শাসিত প্রদেশ। 1950 খ্রিস্টাব্দে ছাব্বিশে জানুয়ারি পূর্ব ভারতে মোট 28 টি অঙ্গরাজ্য এবং একটি রাষ্ট্রক্ষেত্র অর্থাৎ টেরিটোরি ছিল। 1953 সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য পুনর্গঠন এর উদ্দেশ্যে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠন করা হয়।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী মূলত ভাষাকে ভিত্তি করে 1956 সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিনে বিভিন্ন রাজ্যের পুনর্গঠন হয়। ওই সময় চৌদ্দটি রাজ্যপাল শাসিত রাজ্য ও নয়টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। এরপর বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির নানারূপে, নানাভাবে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে 2019 সালের জুলাই পর্যন্ত এই দেশে 29 টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ছিল। তবে বর্তমানে ভারতে 28 টি অঙ্গরাজ্য এবং নটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রয়েছে।

রাজ্য

রাজধানী

অঙ্গরাজ্য

 

অন্ধপ্রদেশ

(হায়দ্রাবাদ) বর্তমানে অমরাবতী

অরুণাচল প্রদেশ

ইটানগর

অসম

দিসপুর

গোয়া

পানাজি

বিহার

পাটনা

হরিয়ানা

চন্ডিগড়

গুজরাট

গান্ধীনগর

কর্ণাটক

বেঙ্গালুরু

হিমাচল প্রদেশ

সিমলা

কেরল

তিরুবনন্তপুরম

মধ্যপ্রদেশ

ভোপাল

মনিপুর

ইম্ফল

মহারাষ্ট্র

মুম্বাই

মিজোরাম

আইজল

মেঘালয়

শিলং

নাগাল্যান্ড

পূর্ণিমা

পাঞ্জাব

চন্ডিগড়

উড়িষ্যা

ভুবনেশ্বর

সিকিম

গ্যাংটক

রাজস্থান

জয়পুর

ত্রিপুরা

আগরতলা

তামিলনাড়ু

চেন্নাই

পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতা

উত্তর প্রদেশ

লখনউ

উত্তরাখণ্ড 

দেরাদুন

তেলেঙ্গানা

হায়দ্রাবাদ

ঝাড়খন্ড

রাচি

কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল 

 

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

পোর্ট ব্লেয়ার

দাদরা ও নগর হাভেলি

সিলভাসা

চন্ডিগড়

চন্ডিগড়

দমন ও দিউ

দমন

দিল্লি ( জাতীয় রাজধানী) 

নতুন দিল্লি 

পন্ডিচেরি

পন্ডিচেরি

লাক্ষাদ্বীপ

কালরাত্তি

জম্মু ও কাশ্মীর

শ্রীনগর 

লাদাখ

লেহ (leh)

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0_%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%AF_%E0%A6%93_%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A4_%E0%A6%85%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B9

ভারতঃ প্রাকৃতিক পরিবেশ

ভারতের ভূপ্রকৃতিঃ
বৈচিত্র্যময় ভারতের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো ভূ-প্রাকৃতিক গত বৈচিত্রতা। উত্তরেরপার্বত্য অঞ্চল থেকে শুরু করে দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল ভূখণ্ডের কোথাও পর্বতশ্রেণী কোথাও সমভূমি অথবা কোথাও মরুভূমি বা মালভূমি অবস্থিত।

ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক বিভাগসমূহঃ
ভূ প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের নিরিখে ভারতকে আমরা পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করে থাকি যথাঃ
উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল,
উত্তরের সমভূমি অঞ্চল
উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল
উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল
দ্বীপপুঞ্জ

https://www.google.com/imgres?imgurl=https%3A%2F%2F1.bp.blogspot.com%2F-pQTFaKSPjbA%2FXpxD-g_NVcI%2FAAAAAAAACXk%2FtNHN_IkClykDEye4hSHq-sDFso-dZGGfQCLcBGAsYHQ%2Fs640%2FPhysiographic%252BDivisions%252Bof%252BIndia%252B.JPG&imgrefurl=https%3A%2F%2Fwww.prepareexams.in%2F2020%2F04%2Fphysiographic-divisions-of-india.html&tbnid=z3xdvGfPFQzhAM&vet=12ahUKEwikqrKW5qnwAhVzh-YKHaQVA9oQMygAegUIARCyAQ..i&docid=OZDomGkfNBONBM&w=562&h=422&q=%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0%20%E0%A6%AD%E0%A7%82-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%95%20%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97&ved=2ahUKEwikqrKW5qnwAhVzh-YKHaQVA9oQMygAegUIARCyAQ

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলঃ
প্রফেসর এস পি চ্যাটার্জী এই অঞ্চলটিকে প্রধানত দুটি অংশে ভাগ করেছে যথাঃ
১) হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল এবং
২) উত্তর-পূর্বের শৈলশ্রেণী।

হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলঃ
অবস্থান এবং বিস্তারঃ ভারতের উত্তর-পশ্চিমে, পামির গ্রন্থি থেকে নির্গত হয়ে, পশ্চিমের নাঙ্গা পর্বত শৃঙ্গ থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারয়া পর্যন্ত হিমালয় পর্বত শ্রেণী বিস্তৃত। উত্তর-দক্ষিণে হিমালয় পর্বতের বিস্তার প্রায় 250 থেকে 400 কিলোমিটার। পৃথিবীর নবীনতম ভঙ্গিল পর্বত শ্রেণীর মধ্যে হিমালয় পর্বত হলো একটি অন্যতম হিমালয়।

হিমালয় পর্বতের গঠন ভিত্তিক শ্রেণীবিন্যাস
প্রাকৃতিক গঠনের উপর ভিত্তি করে হিমালয় পর্বতে দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রস্থ বরাবর চারটি সমান্তরাল শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। যথাঃ

শিবালিক বা বহিঃ হিমালয়ঃ হিমালয়ের এই ভাগটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত। এই পর্বতমালার উচ্চতা 600 থেকে 1500 মিটার হয়। ইহার দক্ষিণভাগ যথেষ্ট খাড়া হলেও, ইহার উত্তর ঢাল ক্রমশ ঢালু হয়ে বিভিন্ন উপত্যকার রূপ নিয়েছে। এই জাতীয় উপত্যকাকে আমরা দুন বলে থাকি। যেমন দেরাদুন, কোটা।

হিমাচল বা মধ্য হিমালয়ঃ শিবালিক এবং হিমাদ্রি হিমালয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত অঞ্চলকে আমরা হিমাচল বা মধ্য হিমালয় বলে থাকি। ইহার গড় বিস্তার 60 থেকে 80 কিলোমিটার পর্যন্ত। এই পর্বতমালার অন্যতম পর্বত শৃঙ্গ গুলি হল মুসৌরি, পিরপাঞ্জাল, ধওলাধর।

হিমাদ্রি হিমালয়ঃ হিমাচল হিমালয়ের উত্তর-পশ্চিম থেকে পূর্বে হিমাদ্রি হিমালয় অবস্থিত। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয়ের এই অংশে অবস্থিত।

ট্রান্স বা টেথিস হিমালয়ঃ হিমালয়ের এই অংশটি হিমাদ্রি পর্বতশ্রেণীর উত্তরে সিন্ধু সাংপো উপত্যকা এবং উত্তরে তিব্বত মালভূমিতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। এই অংশের গড় উচ্চতা 3000 থেকে 5000 মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

https://www.examprepp.in/2020/08/blog-post_14.html
হিমালয় পর্বতের আঞ্চলিক বিভাগঃ
আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের নিরিখে দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতেকে, আমরা তিন ভাগে ভাগ করে থাকি। যথা পশ্চিম হিমালয়, মধ্য হিমালয় এবং পূর্ব হিমালয়।

পশ্চিম হিমালয়ঃ লাদাখের দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং জম্মু-কাশ্মীরের উত্তরাংশ থেকে শুরু করে পূর্বে নেপালের কালী নদী পর্যন্ত পশ্চিম হিমালয় বিস্তৃত। সমগ্র জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড নিয়ে এই অংশটি গঠিত হয়েছে। পশ্চিম হিমালয় কে আমরা আবার তিনটি ভাগে ভাগ করে থাকি। যথা কাশ্মীর হিমালয়, হিমাচল হিমালয়, এবং কুমায়ুন হিমালয়।

মধ্য হিমালয়ঃ পশ্চিমে কালী নদী থেকে শুরু করে, পূর্বে সিঙ্গালিলা পর্বত শ্রেণী পর্যন্ত এবং সমগ্র নেপাল দেশের মধ্য দিয়ে হিমালয় বিস্তার লাভ করেছে। এখানে শিবালিক পর্বত শ্রেণী চুরিয়া মুরিয়া নামে এবং হিমাচল পর্বতশ্রেণী মহাভারত লেখ পর্বতশ্রেণী নামে পরিচিত।

পূর্ব হিমালয়ঃ পশ্চিমে সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণী থেকে শুরু করে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত পূর্ব হিমালয় বিস্তৃত। সমগ্র পূর্ব হিমালয় কে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা দার্জিলিং সিকিম হিমালয়, ভুটান হিমালয়ে, অরুণাচল হিমালয়।

https://www.prepareexams.in/2020/04/Indian-physiography-northern-mountains-of-india.html
উত্তর-পূর্বের শৈলশ্রেণীঃ
অবস্থান এবং বিস্তারঃ উত্তর-পূর্বের শৈলশ্রেণি মূলত পূর্ব হিমালয়ের অংশ বিশেষ। এই অংশটির উত্তরে অবস্থান করছে চীন, পূর্বে মায়ানমার, উত্তর-পশ্চিমে ভুটান এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে বাংলাদেশ। উত্তরপূর্ব শৈলশ্রেণীকে আমরা মূলত দুই ভাগে ভাগ করে থাকি। যথা

পূর্বাচলঃ উত্তরপূর্ব ভারতের পার্বত্য অংশে ভারত এবং মায়ানমার সীমান্ত বরাবর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত সমান্তরাল শৈলশ্রেণীকে আমরা পূর্বাচল বলে থাকি। এই পর্বতশ্রেণী মধ্যে অন্যতম হলো মিশমি পাহাড় নাগা পাহাড় ত্রিপুরা পাহাড় ইত্যাদি|

মেঘালয় মালভূমিঃ মেঘালয় প্রদেশ গারো খাসি জয়ন্তিকা এবং মিকিরের পাহাড়ি অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়েছে মেঘালয় মালভূমি। যাহা প্রকৃতপক্ষে দাক্ষিণাত্য মালভূমি বিভিন্ন অংশসমূহ।
উত্তরের সমভূমি অঞ্চলঃ

https://www.prepareexams.in/2020/04/northern-plains-of-india.html
অবস্থান এবং বিস্তারঃ
হিমালয় পর্বত শ্রেণী এবং দক্ষিণের উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের মধ্যবর্তী অংশে গঙ্গা এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে সৃষ্ট সমভূমি অঞ্চল। এই সুবিশাল সমভূমি অঞ্চল 2500 কিলোমিটার দীর্ঘ ও উত্তর দক্ষিণে প্রায় 240 থেকে 320 কিলোমিটার প্রসস্থ। মোট সমভূমির আয়তন প্রায় 6 লক্ষ 52 হাজার বর্গ কিলোমিটার। উত্তরের সমভূমি অঞ্চলকে ভূ-প্রাকৃতিক এবং আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করে থাকি। যথাঃ

পশ্চিমের সমভূমি অঞ্চলঃ
ভারতের পশ্চিমে রাজস্থান রাজ্যে, আরাবল্লী পর্বতের পশ্চিমে এবং পাঞ্জাবের দক্ষিণে থর মরুভূমির অংশে ভারতের পশ্চিমের সমভূমি অঞ্চল অবস্থিত। ইহা 640 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 1.75 লক্ষ্য বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। ভূ-প্রাকৃতিক তারতম্যের ওপর নির্ভর করে আমরা এই অঞ্চলের পাঁচটি ভাগে ভাগ করতে পারি। যথাঃ
মরুস্থলিঃ মরু অঞ্চলের পশ্চিম প্রান্তে বালি পূর্ণ শুষ্ক মরু অঞ্চল হল মরুস্থলি। এই অঞ্চলে সারিবদ্ধ ভাবে কিছু স্থায়ী বালিয়াড়ির মধ্যে লবণাক্ত হ্রদ সমূহ ধান্দ নামে পরিচিত। ইহা একটি উদ্ভিদ বিহীন অঞ্চল।
বাগার অঞ্চলঃ আরাবল্লী পর্বতের পাদদেশে মরুভূমি পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই অঞ্চলটি স্বল্প বালুকাময়। এই অংশে কিছু প্লায়া হ্রদ দেখা যায়।
রোহীঃ বাগার অঞ্চলের পশ্চিমে উর্বর পলি গঠিত সমভূমিকে আমরা রোহী বলে থাকি।
হামাদাঃ ক্ষুদ্র মরু অঞ্চলে পশ্চিম দিকে বালিময় নরম শিলা দ্বারা গঠিত পাথূরে অঞ্চলকে আমরা হামাদা বলি।

সিন্ধু সমভূমির অথবা পাঞ্জাব সমভূমিঃ রাজস্থান হরিয়ানা পাঞ্জাব দিল্লী এবং উত্তর প্রদেশ জুড়ে অবস্থান করছে সুন্দর সমভূমি অঞ্চল, যাকে আমরা পাঞ্জাব সমভূমি বা সিন্ধু সমভূমি বলি। এই সমভূমির উচ্চতা প্রায় 200 থেকে 300 মিটার। শতদ্রু বিপাশা, বিতস্তা, এবং ইরাবতী নদীর পল্লী সঞ্চয়ের ফলে এই অঞ্চলটি গড়ে উঠেছে। পাঞ্জাব সমভূমি মধ্য স্থানে অবস্থিত পলি গঠিত উচ্চভূমিকে দোয়াব বলা হয়।

গাঙ্গেয় সমভূমিঃ পশ্চিমে যমুনা নদী থেকে শুরু করে পূর্বের ভারত বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর, বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রায় তিন লক্ষ 75 হাজার বর্গ কিলোমিটার স্থান জুড়ে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মধ্য দিয়ে এই সমভূমি অঞ্চলটি বিস্তৃত। এই অঞ্চলকে আমরা তিন ভাগে ভাগ করে থাকিঃ
উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমিঃ যমুনা নদীর বামদিক থেকে শুরু করে এলাহাবাদ পর্যন্ত এই সমভূমি বিস্তৃত। ইহার গড় উচ্চতা 100 মিটার এবং ইহা প্রায় 630 কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই অঞ্চলের প্রাচীন পলিমাটির ভাঙ্গর এবং নবীন পলিমাটি দ্বারা খাদার অঞ্চল গড়ে উঠেছে।
মধ্য গাঙ্গেয় সমভূমিঃ পশ্চিমে এলাহাবাদ থেকে শুরু করে পূর্বে রাজমহল পাহাড় পর্যন্ত প্রায় 650 কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই অঞ্চলটি বিস্তৃত। এই সমভূমির অন্তর্গত জলাভূমিকে আমরা চাউল এবং তাল নামে চিনি।
নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমিঃ রাজমহল পাহাড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের মধ্যবর্তী অংশে প্রায় 81 হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তীর্ণ এই নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চল। এই অঞ্চলের গড় উচ্চতা 30 মিটার এই অঞ্চল কে আবার আমরা চার ভাগে ভাগ করে থাকি। যথা
তরাই ও ডুয়ার্স
বরেন্দ্রভূমি
রাঢ় সমভূমি
বদ্বীপ অঞ্চল

ব্রহ্মপুত্র সমভূমিঃ গাঙ্গেয় সমভূমির পশ্চিম দিকে, অসম রাজ্যে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং তাহার বিভিন্ন উপনদী দ্বারা পলি সঞ্জয়ের ফলে এই ব্রহ্মপুত্র সমভূমির উৎপত্তি। ইহা প্রায় 700 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 80 কিলোমিটার প্রসস্থ। এই সমভূমির গড় উচ্চতা 50 থেকে 100 মিটার হয়ে থাকে। নিম্ন অসমে বম্মপুত্র নদী সৃষ্ট বালুচর মাজুলী হল ভারত তথা পৃথিবীর বৃহত্তম নদী গঠিত দ্বীপ।

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%80#/media/%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0:Majuli_Island.jpg

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল

https://www.prepareexams.in/2020/04/the-central-indian-highlands-of-india.html
অবস্থান এবং বিস্তারঃ উত্তরের সমভূমি দক্ষিণে ত্রিভুজ আকৃতির উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল অবস্থান করে। এই অঞ্চল উত্তর-পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বত থেকে শুরু করে পূর্বে রাজমহল পাহাড় এবং দক্ষিণে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় 13.5 লক্ষ্য বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
উৎপত্তিঃ উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল কি অতি প্রাচীন ভূখণ্ড গনডোয়ানাল্যান্ড’ এর অংশবিশেষ। ভূ আন্দোলনে ফাটলের ফলে, বিভিন্ন খাত বাঁ গ্রস্থ উপত্যকার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এদের মধ্যে শোন, তাপ্তি, নর্মদা ইত্যাদি নদী উপত্যকার খাতগুলি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

শ্রেণীবিন্যাসঃ ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চল কে আমরা দুই ভাগে ভাগ করে থাকি। যথাঃ ১) মধ্য এবং পূর্ব ভারতের উচ্চভূমি এবং ২) দাক্ষিণাত্যের মালভূমি।

১) মধ্য এবং পূর্ব ভারতের উচ্চভূমিঃ উত্তর-পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বত থেকে শুরু করে দক্ষিনে নর্মদা উপত্যকা পর্যন্ত এবং পূর্বে রেওয়া মালভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্য ভারতের উচ্চভূমি। এই অঞ্চলের প্রধান প্রাকৃতিক অংশগুলি হলঃ আরাবল্লী পর্বত, পূর্ব রাজস্থান উচ্চভূমি, মধ্য ভারত মালভূমি, বুন্দেলখন্ড মালভূমি, মালব মালভূমি, রেওয়া মালভূমি, বিন্ধ পর্বত, এবং নর্মদা উপত্যকায। পূর্ব ভারতের উচ্চভূমিটি শোন নদীর অববাহিকার দক্ষিণ-পূর্বে এবং মহাকাল পর্বতের পূর্বে অবস্থিত। এই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক অংশ সমূহ হলোঃ ছোটনাগপুরের মালভূমি, বাঘেলখন্ড মালভূমি, মহানদী অববাহিকা, দণ্ডকারণ্য এবং গড়জাত পাহাড়।

২) দাক্ষিণাত্যের মালভূমিঃ

https://www.prepareexams.in/2020/04/peninsular-plateau-of-india.html
উত্তর এবং উত্তর-পূর্ব সাতপুরা, মহাদেব, মহাকাল পর্বত, পশ্চিমে পশ্চিমঘাট এবং পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতের মধ্যে দাক্ষিণাত্যের মালভূমি সুবিশাল অংশ নিয়ে অবস্থান করে। তিন দিক সমুদ্রবেষ্টিত এই উপদ্বীপীয় মালভূমির মোট আয়তন প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। উত্তর-পূর্বের সনি রংস মেঘালয় মালভূমিও দাক্ষিণাত্য মালভূমির অংশবিশেষ। ইহা গারো খাসি জয়ন্তিকা পর্বতশ্রেণী নিয়ে গঠিত। ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে আমরা দাক্ষিণাত্যের মালভূমিকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করে থাকি।

পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা সহ্যাদ্রিঃ আরব সাগরে পূর্ব উপকূল বরাবর উত্তর দক্ষিণে প্রায় 1600 কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা নিয়ে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা অবস্থিত। পশ্চিমঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম আনাইমুদি এবং এই পর্বতের অন্যতম অন্যান্য শৃঙ্গ গুলি হল মহাবালেশ্বর, কূলসুবাই, নীলগিরি, দোদাবেতা।
পূর্বঘাট পর্বতমালা মলয়াদ্রিঃ পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বে ভারতের পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত পূর্বঘাট পর্বতমালা। ইহার গড় উচ্চতা 450 মিটার থেকে 600 মিটার। এই পর্বতশ্রেণীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল আর্মাকোন্ডা। এছাড়াও পচামালাই এবং পলকোন্ডা হল এই পর্বতের অন্যতম পর্বতশৃঙ্গ।
সাতপুরা পর্বতঃ ভারতের দক্ষিণের নর্মদা ও তাপ্তি নদীদ্বয়ের গ্রস্ত উপত্যকার মধ্যে অবস্থিত সাতপুরা পর্বত এই পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল ধূপগড়।
মহারাষ্ট্র মালভূমিঃ দাক্ষিণাত্যের মালভূমির উত্তর পশ্চিম অংশে লাভা দ্বারা গঠিত মহারাষ্ট্র মালভূমি ধাপে ধাপে পশ্চিম থেকে পূর্বে ভালো হয়ে নেমে গেছে। এই অঞ্চল কে আমরা ডেকানট্রাপ বলে থাকি।
কর্ণাটক মালভূমিঃ মহারাষ্ট্র মালভূমি দক্ষিনে অবস্থিত কর্ণাটক মালভূমি নিস এবং গ্রানাইট শিলা দ্বারা গঠিত। এই মালভূমির পশ্চিম অংশ মালনাদ এবং পূর্বাংশ ময়দান নামে বিখ্যাত।
তেলেঙ্গানা মালভূমিঃ এই মালভূমি অঞ্চল তেলেঙ্গানা রাজ্য অবস্থিত এবং ইহার প্রধান পাহাড় হল সাতমালা।

পশ্চিমঘাট পর্বত এবং পূর্বঘাট পর্বতের মধ্যে মূল পার্থক্যসমূহঃ

বিষয়

পশ্চিমঘাট পর্বত

পূর্বঘাট পর্বত

অবস্থান

ইহা আরব সাগরের উপকূল বরাবর অবস্থিত।

ইহা বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর অবস্থিত।

উচ্চতা

উচ্চতার নিরিখে পশ্চিমঘাট পর্বতের উচ্চতা পূর্বঘাট পর্বতে তুলনায় বে…

উচ্চতা পশ্চিমঘাট পর্বতের তুলনায় কম।

ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

এই অঞ্চলটি সিঁড়ির মত  ধাপে ধাপে গঠিত।

এই অঞ্চলটিকে কোন ধাপ সৃষ্টি হয়নি।

বিচ্ছিন্নতা

ইহা অবিচ্ছিন্নভাবে গড়ে উঠেছে।

এই পর্বতশ্রেণী বিভিন্ন নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন।

স্বাভাবিক উদ্ভিদ এবং বৃষ্টিপাত

এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি এবং গভীর  বনভূমি অবস্থিত।

এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম তাই বনভূমি তুলনামূলক কম অবস্থিত।

উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলঃ

https://www.prepareexams.in/2020/04/coastal-plains-of-india.html

অবস্থান এবং আয়তনঃ
দাক্ষিণাত্যের মালভূমি পূর্বে এবং পশ্চিমে উপসাগরীয় উপকূল বরাবর বৃস্তিত সংকীর্ণ সমভূমি অঞ্চলকে আমরা উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল বলে থাকি। এই অঞ্চলের মোট দৈর্ঘ্য 3 হাজার 100 কিলোমিটার। উৎপত্তি এবং ভূ-প্রাকৃতিক তারতম্যের নিরিখে উপক্রমণিকা বা দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

পূর্ব উপকূলীয় সমভূমিঃ উড়িষ্যা রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিনে কন্যাকুমারী কা পর্যন্ত প্রায় 15 কিলোমিটার দীর্ঘ স্থান জুড়ে পূর্ব উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল টি অবস্থিত। এই সমভূমি অঞ্চল কে আবার আমরা দুই ভাগে ভাগ করি। যথা- ১)উত্তর সরকার উপকূলঃ উড়িষ্যার সুবর্ণরেখা নদীর মোহনা থেকে শুরু করে দক্ষিনে কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপের পূর্বভাগ পর্যন্ত সমভূমি অঞ্চলকে উত্তর সরকার উপকূল বলা হয়।

এই উপকূলীয় সমভূমি প্রায় 400 কিলোমিটার দীর্ঘ এবং 80 কিলোমিটার প্রসস্থ। উত্তর সরকার উপকূলের উত্তরভাগ উড়িষ্যা উপকূল নামে পরিচিত এবং এর দক্ষিণাংশ অন্ধ্র উপকূল নামে পরিচিত।

করমন্ডল উপকূলঃ কৃষ্ণা নদীর থেকে শুরু করে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূল ভাগ কে করমন্ডল উপকূল বলা হয়। এই উপকূলে অবস্থিত বালিয়ারির গড় উচ্চতা প্রায় 35 থেকে 65 মিটার হয়ে থাকে এদের থেরিস বলা হয়।

পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমিঃ ভারতের দক্ষিণ পশ্চিমের পশ্চিম দিকে আরব সাগরের উপকূলে এই সমভূমির উত্তরের নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত ভারুচ বন্দর থেকে দক্ষিনে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় 16০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে এই অঞ্চলকে আবার আমরা 6 টি ভাগে ভাগ করে থাকিঃ

কচ্ছ উপদ্বীপঃ গুজরাটের উপকূলের উত্তরে কচ্ছ উপদ্বীপ অবস্থিত। কচ্ছ কথার অর্থ হল জলাময় দেশ।

কাথিয়াবাড় উপদ্বীপঃ ইহা গুজরাট উপকূলে দক্ষিণ অংশে অবস্থিত এবং এটি একটি লাভা গঠিত মালভূমি।

গুজরাট সমভূমিঃ পূর্বনির্ধারিত উপদ্বীপের দক্ষিনে অবস্থিত সতী নর্মদা প্রভৃতি নদীর পলি সঞ্চয়ের ফলে, গুজরাট সমভূমির সৃষ্টি হয়েছে।

কোঙ্কন উপকূলঃ উপকূল উত্তরে সুরাট থেকে দক্ষিনে গোয়া পর্যন্ত প্রায় 45 থেকে 75 কিলোমিটার প্রসস্থ স্থানে অবস্থিত।

কর্ণাটক উপকূলঃ কর্ণাটক রাজ্যের এই উপকূল 225 কিলোমিটার দীর্ঘ স্থান দখল করে অবস্থিত।

মালাবার উপকূলঃ ব্যাঙ্গালোর থেকে শুরু করে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীকা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলকে আমরা মালাবার উপকূল বলে থাকি।

পূর্ব উপকূল ও পশ্চিম উপকূলের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনাঃ

বিষয়

পূর্ব উপকূল

পশ্চিম উপকূল

অবস্থান

ভারতের পূর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর অবস্থিত।

ভারতের পশ্চিম দিকে আরব সাগরের উপকূল বরাবর ইহা অবস্থিত।

ভূপ্রকৃতি

পূর্ব উপকূলের প্রশস্ত এবং সমতল।

পশ্চিম উপকূলের বিভাগ এবং উঁচু-নিচু।

বিস্তৃতি

এই উপকূলের বিস্তার 100 কিলোমিটারের থেকে বেশি।

এই উপকূলের বিস্তার 50 থেকে 80 কিলোমিটার।

কৃষি এবং পরিবহন

  এই উপকূল ভাগের কৃষিকাজ এবং পরিবহন ব্যবস্থা উন্নত।

এই অঞ্চলে  কৃষি কাজ এবং পরিবহন ব্যবস্থা অনুন্নত।

বদ্বীপ

নদীর মোহনা গুলিতে বিশাল বদ্বীপ গড়ে উঠেছে।

নদীর মোহনায় বদ্বীপ গড়ে ওঠে…

উচ্চতা ও  ভগ্নতা

ইহার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কম এবং ভঙ্গুর প্রকৃতির।

ইহার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক বেশি এবং তুলনামূলকভাবে কম ভগ্ন।

বালিয়াড়ি

  এই উপকূলের প্রায় সর্বত্র বালিয়াড়ি দেখা যায়।

এই উপকূলে মালাবার ছাড়া কোথাও বালিয়াড়ি দেখা যায় না।

শিল্প

খনিজ সম্পদে  সমৃদ্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলটি শিল্পসমৃদ্ধ অঞ্চল।

এই অঞ্চলের খনিজ তেল পাওয়া গেলও শিল্প তেমন ভাবে গড়ে ওঠেনি।

দ্বীপপুঞ্জঃ ভারতের দ্বীপপুঞ্জ কে আমরা দুটি ভাগে ভাগ করে থাকি।

বঙ্গোপসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জঃবঙ্গোপসাগরে ভারতের বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ রয়েছে। ছোট-বড় মোট 265 টি দ্বীপ নিয়ে আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ গঠিত। ইহার মোট আয়তন 8293 বর্গ কিলোমিটার।

https://www.viswayan.com/archive/samudramanthan8.htm

আরবসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জঃ আরব সাগরের বুকে ভারতবর্ষের কমবেশি প্রায় 25 টি ক্ষুদ্র দ্বীপ রয়েছে। এদের একত্রে আমরা লাক্ষাদ্বীপ বলে থাকি।

ভূ প্রাকৃতিক বিভাগ সমূহের গুরুত্বসমূহঃ

উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বঃ ভারতবাসীর জীবনে উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্ব অপরিসীম। যেমন – জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, বহিঃশত্রূর আক্রমণ প্রতিরোধ, নদ-নদী সৃষ্টি, পর্যটন শিল্প।

উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের গুরুত্বঃ ভারতবর্ষের জনজীবনে উত্তরের সমভূমি অঞ্চলের গুরুত্বও অপরিসীম। যেমন- কৃষির উন্নতিতে, লোকবসতি সৃষ্টিতে, শিল্পের উন্নতি এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে।

উপদ্বীপীয় মালভূমি অঞ্চলের গুরুত্বঃ এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো- এই অঞ্চল থেকে প্রচুর পরিমাণ বনজ সম্পদ পাওয়া যায়। খনিজ সম্পদও এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে অবস্থিত ফলত এই অঞ্চলে শিল্পন্নতি খুব সহজেই ঘটেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লোকবসতি বিস্তারে এই অঞ্চলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

উপকূলীয় সমভূমি গুরুত্বঃ উপকূলীয় সমভূমির গুরুত্বও ভারতবাসীর জীবনে অপরিসীম। এই অঞ্চলে বহু বন্দর গড়ে ওঠায়, ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সুদৃঢ় হয়েছে। এই অঞ্চলের মাধ্যমে ভারতের মৎস্য শিল্প এক নতুন দিশা পেয়েছে। এই অঞ্চলের কৃষি এবং শিল্পের প্রচুর উন্নতি ঘটেছে।

দ্বীপপুঞ্জের দূরত্বঃ কৃষির উন্নতি, মৎস্য সংগ্রহ, লোকবসতি বিস্তার এবং পর্যটন শিল্পে এই দ্বীপপুঞ্জের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ভারতের জল সম্পদঃ

নদ-নদী সমূহঃ উৎস স্থল, মোহনার অবস্থান এবং প্রবাহিত অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে ভারতের নদনদীকে মূলত দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়।
১) হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল থেকে উৎপন্ন নদনদীসমূহ বা উত্তর ভারতের নদনদী,
২) উপদ্বীপ অঞ্চলের দক্ষিণ ভারতের নদনদী।
ভারতের কতগুলি উল্লেখযোগ্য নদী সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলোঃ

https://bn.maps-india-in.com/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A6%A6%E0%A7%80#&gid=1&pid=1
গঙ্গাঃ
উৎপত্তিস্থলঃ কুমায়ুন হিমালয় চৌখাম্বা শৃঙ্গের নিকটবর্তী গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি। ভারতবর্ষের প্রধান এবং দীর্ঘতম নদী হল গঙ্গা। ইহার মোট দৈর্ঘ্য 2510 কিলোমিটার যাহার মধ্যে ভারতবর্ষে অবস্থিত 2071 কিলোমিটার।

প্রবাহ বা গতিপথঃ উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর সমগ্র গতিপথকে আমরা তিনটি ভাগে ভাগ করে থাকিঃ

উচ্চ গতি বা পার্বত্যপ্রবাহঃ গঙ্গা নদীর গতিপথে গঙ্গোত্রী থেকে হরিদ্দার পর্যন্ত প্রবাহকে এই অংশের ভেতর রাখা হয়। গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে ভাগীরথী নামে উৎপন্ন হয়ে সংকীর্ণ গিরিখাত এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় দক্ষিণের কাছে এসে অলকানন্দা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।। ভাগীরথী এবং অলকানন্দা মিলিত প্রবাহ গঙ্গা নামে শিবালিক পর্বত অতিক্রম করে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে হরিদ্দারের কাছে এসে সমভূমিতে পতিত হয়েছে।

মধ্যগতি বা সমভূমি প্রবাহঃ হরিদ্বার থেকে রাজমহল পর্যন্ত গঙ্গা নদীর প্রবাহকে এই অংশের ভেতর রাখা হয়। হরিদ্দার এর পর গঙ্গা নদী প্রথমে দক্ষিণ-পূর্বে এবং পরে পূর্বদিকে অসংখ্য সৃষ্টি করে উত্তর প্রদেশ এবং বিহারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এরপর ঝাড়খণ্ডের রাজমহল পাহাড় এর কাছে এসে দক্ষিণ মুখী হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে।

নিম্ন গতি বা বদ্বীপ প্রবাহঃ রাজমহল থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহন্ত গঙ্গা নদীর গতিপথ কে এই অংশের ভেতর রাখা হয়। পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার পর মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এর কাছে ভগবানগোলায় গঙ্গা নদী ভাগীরথী এবং পদ্মা নামে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়েছে। এই নদীর প্রধান শাখা টি প্রথমে পদ্মা নামে এবং পরে মেঘনা নামে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বঙ্গোপসাগরের মিশেছে এবং অর্থাৎ অপ্রধান শাখাটি ভাগীরথী হুগলি নামে দক্ষিণমুখী হয়ে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরদ্বীপের কাছে এসে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। মোহনার কাছে এসে গঙ্গা নদী পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সুন্দরবন সৃষ্টি করেছে।

গঙ্গা নদীর উপনদী সমূহঃ গঙ্গা নদীর ডান তীরে এবং বাম তীরে বহু উপনদী অবস্থিত। এই নদীর ডান তীরের অন্যতম উপনদী হল যমুনা এবং সোন। ঘর্ঘরা,মহানন্দা, গোমতী, কোশি ইত্যাদি হল গঙ্গা নদীর বাম তীরের উপনদী সমূহ।

শাখা নদী: পদ্মা এবং ভাগিরতি এই দুই নদী হল গঙ্গা নদীর প্রধান শাখা নদী। এছাড়াও ভৈরবী বিদ্যাধরী মাথাভাঙ্গা চূর্ণী রায়মঙ্গল জলঙ্গি ইত্যাদি হল গঙ্গা নদীর অন্যতম শাখা নদী সমূহ।

ব্রহ্মপুত্র:
উৎস এবং উৎপত্তিস্থল: তিব্বতের বর্তমান চীনের মানস সরোবর এর নিকটবর্তী কৈলাস পর্বত এর অন্তর্গত চুমাইউং দুং হিমবাহ থেকে এই নদের উৎপত্তি। ইহা দৈর্ঘ্য প্রায় 2900 কিলোমিটার এবং ভারতবর্ষের মধ্যে ইহার প্রবাহপথ 855 কিলোমিটার।

প্রবাহ বা গতিপথ: উৎস স্থল থেকে প্রথমে সাংপো নামে তিব্বতের মালভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পড়বে প্রায় 1695 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পর নামচাবারয়ার এর কাছে এসে সংকীর্ণ এবং গভীর গিরিখাত এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ বাঁকে প্রবাহিত হয় ডিহং নামে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের প্রবেশ করেছে। এই অংশে ডিবং এবং লোহিত উপনদী দুটি, দিহং এর সাথে মিলিত হয়েছে। তিনটি নদীর মিলিত স্রোত ধারা অসমের সাদিয়ার কাছে ব্রহ্মপুত্র নাম নিয়ে অসম উপত্যকার মধ্য দিয়ে পশ্চিমে প্রায় 750 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে, দক্ষিণ মুখী হয়ে যমুনা নামে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই ব্রহ্মপুত্র নদের বক্ষেই গঠিত হয়েছে মাজুলী দ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম নদী দ্বীপ।

উপনদী সমূহ: তিস্তা, মানস, সুবর্ণ সিরি ইত্যাদি হল ডান তীরের এবং কিপিন, বুড়িডিহং ইত্যাদি হল বাম তীরের উপনদী সমূহ।

সিন্ধু নদ:

উৎস এবং উৎপত্তিস্থল: তিব্বতের মানস সরোবরের 100 কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত সিঙ্গি খাবাব হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে সিন্ধু নদ যাহার মোট দৈর্ঘ্য 2880 কিলোমিটার এবং ভারতবর্ষে এর প্রবাহপথ মাত্র 709 কিলোমিটার।

প্রবাহ বা গতিপথ: উৎস স্থল থেকে এই নদী উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়ে ভারতবর্ষের লাদাখ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। ওই রাজ্যের লাদাখ এবং জাস্কর পর্বতের মধ্য দিয়ে 709 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার সময় বুঞ্জি শহরের কাছে গভীর গিরিখাত সৃষ্টি করে নাঙ্গা পর্বত এর কাছে দক্ষিণের দিকে প্রায় 90 কিলোমিটার পথ যাওয়ার পর পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। সেই দেশের ওপর দিয়ে প্রায় 2 হাজার 200 কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অবশেষে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে আরব সাগরে পড়েছে। এই নদীর মোহনায় বদ্বীপ দেখা যায়।

উপনদী: এই নদীর বাম তীরের পাঁচটি উপনদী সমূহ হলো শতদ্রু ইরাবতী চন্দ্রভাগা বিতস্তা এবং বিপাশা। গিলগিট, সিগার শিয়ক ইত্যাদি হল এই নদীর ডান তীরের উপনদী সমূহ।

দক্ষিণ ভারতের নদনদীগুলিকে সারণির দ্বারা নিম্নে আলোচনা করা হল:

 

নদীর নাম

উৎসস্থল

গতিপথ

উপনদী

পশ্চিম বাহিনী নদী

তাপী/তাপ্তী (দৈর্ঘ্য 730) কিমি) 

মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার মহাদেব পাহাড়ের মূলতাই উচ্চভূমি।

মূলতাই উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে সাতপুরা ও অজন্তা পাহাড়ের মধ্যবর্তী গ্রস্ত উপত্যকা অতিক্রম করে খাম্বাত উপসাগরে পতিত হয়েছে এই নদী।

ডানতীরঃপাটকি, পুনা, মোর, বেটুল, ইত্যাদি। বামতীরঃ গিরনা, কেরি, শিপ্রা ইত্যাদি।

নর্মদা (দৈর্ঘ্য 1310 কিমি)

মধ্যপ্রদেশের মহাকাল পর্বতের অমরকণ্টক শৃঙ্গ।

অমরকণ্টক শৃঙ্গ থেকে উৎপত্তি লাভ করে বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খাম্বাত উপসাগরে পড়েছে।

ডানতীরঃকোলার, হিরণ, বর্ণা, ইত্যাদি। বামতীরঃ শের, বুরনের,বানজার, শাক্কর, ইত্যাদি।

পূর্ব বাহিনী নদী

মহানদী (দৈর্ঘ্য 857 কিলোমিটার 

ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার দক্ষিাংশের সিওয়া উচ্চভূমি। 

সিওয়া উচ্চভূমি (442 মি) থেকে উৎপত্তি লাভ করে প্রথমে ছক্তিশগড় ও পরে ওড়িশার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

মান্দ, ব্রাঘণী, ইব, বৈতরণী, ইত্যাদি।

কৃষ্ণা (দৈর্ঘ্য 1400  কিলোমিটার)

পশ্চিমঘাট পর্বতের মহাবালেশ্বরের উত্তরের উচ্চভূমি। 

মহাবালেশ্বরের কাছে উচ্চভূমি থেকে উৎপত্তি লাভ করে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

তুঙ্গভদ্রা, ভীনা, মুসি, ঘাটপ্রভা, প্রভৃতি।

গোদাবরী (দৈর্ঘ্য 1465  কিলোমিটার)

মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার পশ্চিমঘাট পর্বতের ত্রিম্বক উচ্চভূমি।

ত্রিম্বিক উচ্চভূমি (1600 মি) থেকে উৎপত্তি লাভ করে, মহারাষ্ট্র ও অস্ত্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

মন্ত্রিরা, ইন্দ্রাবতী, প্রাণহীতা, ইত্যাদি।

কাবেরী (দৈর্ঘ্য 850 কিলোমিটার)

কর্ণাটক রাজ্যের কুর্গ  জেলায় পশ্চিমঘাট পর্বতের বঙ্গভূমি পাহাড়ের তালা কাবেরী উচ্চভূমি। 

তালাকাবেরী উচ্চভূমি (1341 মি) থেকে উৎপত্তি লাভ করে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

অমরাবতী, লক্ষ্ণণতীর্থ,হেমবর্ত,  সুবর্ণমতী, ইত্যাদি।

নর্মদা (দৈর্ঘ্য 1310 কিমি)

মধ্যপ্রদেশের মহাকাল পর্বতের অমরকণ্টক শৃঙ্গ।
অমরকণ্টক শৃঙ্গ থেকে উৎপত্তি লাভ করে বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খাম্বাত উপসাগরে পড়েছে।

ডানতীরঃকোলার, হিরণ, বর্ণা, ইত্যাদি। বামতীরঃ শের, বুরনের,বানজার, শাক্কর, ইত্যাদি।

পূর্ব বাহিনী নদী
মহানদী (দৈর্ঘ্য 857 কিলোমিটার
ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার দক্ষিাংশের সিওয়া উচ্চভূমি।
সিওয়া উচ্চভূমি (442 মি) থেকে উৎপত্তি লাভ করে প্রথমে ছক্তিশগড় ও পরে ওড়িশার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
মান্দ, ব্রাঘণী, ইব, বৈতরণী, ইত্যাদি।
কৃষ্ণা (দৈর্ঘ্য 1400 কিলোমিটার)
পশ্চিমঘাট পর্বতের মহাবালেশ্বরের উত্তরের উচ্চভূমি।

মহাবালেশ্বরের কাছে উচ্চভূমি থেকে উৎপত্তি লাভ করে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
তুঙ্গভদ্রা, ভীনা, মুসি, ঘাটপ্রভা, প্রভৃতি।
গোদাবরী (দৈর্ঘ্য 1465 কিলোমিটার)
মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার পশ্চিমঘাট পর্বতের ত্রিম্বক উচ্চভূমি।
ত্রিম্বিক উচ্চভূমি (1600 মি) থেকে উৎপত্তি লাভ করে, মহারাষ্ট্র ও অস্ত্রপ্রদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
মন্ত্রিরা, ইন্দ্রাবতী, প্রাণহীতা, ইত্যাদি।
কাবেরী (দৈর্ঘ্য 850 কিলোমিটার)
কর্ণাটক রাজ্যের কুর্গ জেলায় পশ্চিমঘাট পর্বতের বঙ্গভূমি পাহাড়ের তালা কাবেরী উচ্চভূমি।
তালাকাবেরী উচ্চভূমি (1341 মি) থেকে উৎপত্তি লাভ করে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
অমরাবতী, লক্ষ্ণণতীর্থ,হেমবর্ত, সুবর্ণমতী, ইত্যাদি।

নদনদীর গুরুত্বসমূহঃ
ভারতের প্রাচীন সভ্যতাগুলি (মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা, নীলনদে তীরে মিশরীয় সভ্যতা ইত্যাদি) নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল কারণ নদীগঠিত উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের পক্ষে অনুকূল।
নদীগুলি থেকে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে মৎস্য আহরণ করা হয়ে থাকে।
জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, জলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নদীকেন্দ্রিক শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে নদনদী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

উত্তর এবং দক্ষিণ ভারতের নদ নদীর মধ্যে মূল পার্থক্যসমূহঃ

  •  

বিষয়

উত্তর ভারতের নদ নদী সমূহ

দক্ষিণ ভারতের নদ নদী সমূহ

উৎস

অধিকাংশ নদী হিমালয় পর্বতমালা থেকে সৃষ্টি লাভ করেছে।

অধিকাংশ নদীই উপদ্বীপীয় মালভূমি থেকে সৃষ্টি লাভ করেছে।

বয়স

এই নদীগুলি মূলত নবীন।

এই নদী গুলির বয়স অপেক্ষাকৃত প্রাচীন

দৈর্ঘ্য

এই নদী গুলো সাধারণত দৈর্ঘ্যের বড় হয়।

এই নদীগুলি দৈর্ঘ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট

জলের যোগান

বরফ গলা জল এবং বৃষ্টির জল হল এই জাতীয় নদী গুলির জলের  উৎস।

এই জাতীয় নদী গুলি মূলত বৃষ্টির জলে পুষ্ট।

অববাহিকার আয়তন

এই নদীর অববাহিকার আয়তন অপেক্ষাকৃত বেশি হয়ে থাকে।

এই নদী অববাহিকার আয়তন অপেক্ষাকৃত কম।

হ্রদ সমূহ: ভারতবর্ষের জলসম্পদের একটি অন্যতম উৎস হল এখানকার হ্রদসমুহ। ভারতের হ্রদগুলিকে জলের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে মূলত দুইটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ

লবণাক্ত জলের হ্রদঃ ভেম্বানাদ (কেরল), প্যাংগং (লাদাখ), চিল্কা (ওড়িশা), কালিভেলি (তামিলনাড়ু), সম্বর (রাজস্থান), ইত্যাদি।

স্বাদু জলের হ্রদঃ লোকটাক (মণিপুর), ডাল (শ্রীনগর), ভোজ (ভোপাল),কোলেরু (অন্ধ্রপ্রদেশ), রূপকুণ্ড (উত্তরাখণ্ড), সাততাল, প্রভৃতি।

হ্রদের গুরুত্ব : ১) ভারতের স্বাদুজলের হ্রদগুলি থেকে সেচের মাধ্যমে জল সংগ্রহ করে কৃষিকাজ করা হয়ে থাকে। ২) হ্রদ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আরামদায়ক জলবায়ু ওই অঞ্চলে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে বিপুল সাহায্য করেছে। যেমনঃ চিল্কা হ্রদ, উলার হ্রদ, ইত্যাদি। ৩) মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে এই হ্রদগুলি বিশেষত ওড়িশার চিল্কা হ্রদ বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

জলাশয় : ভারতবর্ষের যে সকল স্থানের ভূমি কঠিন ও শিলাময় এবং কূপ খনন সম্ভব নয়, সেই সকল স্থানে বাঁধের দ্বারা কৃত্রিম জলাধার সৃষ্টি করে বৃষ্টিপাতের জল বা নদীর জল ধরে রাখা হয়। একেই আমরা জলাশয় বলে থাকি। সাধারনত দুইধরনের জলাশয় আমরা তৈরি করে থাকি। যথা—ক্ষুদ্র জলাশয় এবং বৃহৎ জলাশয়। নদী উপত্যকার সমতল অঞ্চলে নদীর ওপর বাঁধ তৈরি করে সুবিশাল আয়তনের জলাশয় নির্মাণ করা হয়ে থাকে।

বণ্টনঃ দাক্ষিণাত্য মালভূমির নদী উপত্যকার মাঝে মাঝে বাঁধ তৈরি করে জলসেচ করা হয়ে থাকে। ইহার মধ্যে অন্ধপ্রদেশের নাগার্জুন সাগর জলাধার, কর্নাটকের তুঙ্গভদ্রা জলাধার, ওড়িশার হীরাকুদ জলাধার প্রভৃতি হল উল্লেখযোগ্য। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জলাধারগুলির মধ্যে রাজস্থানের রাণাপ্রতাপ সাগর জলাধার,পাঞ্জাবের ভাকরা জলাধার, নাঙ্গাল জলাধার,তিলাইয়া জলাধার, জওহরসাগর জলাধার, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার সীমানায় মাইথন জলাধার, পাঞেৎ জলাধার,প্রভৃতি হল উল্লেখযোগ্য।

● জলাশয়ের গুরুত্বঃ
ভারতের মোট কৃষিজমির প্রায় 17% কৃষিজমিতে জলাশয়ের সাহায্যে জলসেচ করা হয়ে থাকে।
দক্ষিণ ভারতের অবনমিত অঞ্চলে বা নদী উপত্যকায় বাঁধ দিয়ে বর্ষার অতিরিক্ত জল আটকে আটক করে জলাশয় নির্মাণ করার যথেষ্ট সুবিধা বিদ্যমান।

খাল :
বর্তমানে ভারতের অধিকাংশ কৃষিজমিতে খাল দ্বারা জলসেচ করা হয়ে থাকে। মোট সেচসেবিত কৃষিজমির 40% কষিজমিতে খালের মাধ্যমে জলসেচ করা হয়ে থাকে। ভারতবর্ষের খালগুলি কে প্রধানত দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা- প্লাবন খাল এবং নিত্যবহ খাল।

খালের গুরুত্বসমূহঃ ১) খালের মাধ্যমে জলসেচ করলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণের কৃষি জমিতে সেচ করা যায়। ২) বন্যা নিয়ন্ত্রণের এইসকল খাল বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। ৩) মাটির আর্দ্রতার স্থায়িত্ত রক্ষায় এই পদ্ধতি সবচেয়ে সুবিধাজনক।

  •  

রাজ্য

খালসমূহ

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা

বিকানীর খাল, সিরহিন্দ খাল, পশ্চিম যমুনা খাল, বারিদোয়াব খাল।

রাজস্থান

ওট্ট খাল, বিকানীর খাল, রাজস্থান গঙ্গানগর খাল।

পশ্চিমবঙ্গ

ওড়িশা উপকূল খাল, মেদিনীপুর খাল, প্রভৃতি।

বিহার

আরা খাল,চৌসা খাল, বক্সার খাল,পাটনা খাল।

উত্তরপ্রদেশ

পূর্ব যমুনা খাল, নিম্ন গঙ্গা খাল, উচ্চ গঙ্গা খাল, প্রভৃতি। 

ওড়িশা

উপকূল খাল, মহানদী খাল।

দক্ষিণ ভারত

গোদাবরী বদ্বীপ খাল, কৃষ্বা বদ্বীপ খাল, কাবেরী বদ্বীপ খাল, তুঙ্গভদ্রার কুড্ডাপ্পা-কুর্নুল খাল।

জলসেচের বিভিন্ন পদ্ধতিসমূহঃ

নলকূপ এবং কূপঃ ভূগর্ভস্থ জল কে সেচের কাজে ব্যবহার করার নিরিখে কূপ ও নলকূপের পদ্ধতিই সবচেয়ে সহজ এবং শ্রেয়। থেকে পারসিক চাকা, কপিকল, গরু টানা যন্ত্র, অথবা হাতে টেনে ও কূপ থেকে জল তুলে সেচের কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ভারতের বিহার পশ্চিমবঙ্গ তামিলনাড়ু উত্তর প্রদেশ প্রতিটি রাজ্যের সবচেয়ে বেশি এই পদ্ধতির মাধ্যমেই জলসেচ করা হয়।

খালঃ ভারতবর্ষের মোট জলসেচের প্রায় 40% এই খালের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। নদীতে জলের পরিমাণ বেশি থাকলে বেশি পরিমাণে জল জলসেচ করতে ব্যবহার করা যায়। মূলত দুই ধরনের খালের মাধ্যমে জলসেচ করা হয়ে থাকে। যথা –
১) নিত্যবহ খাল, বরফগলা জলে পুষ্ট থাকে। এই জাতীয় খালের মাধ্যমে পাঞ্জাব হরিয়ানা পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর প্রদেশে জলসেচ করা হয়।
২) বর্ষার জলে পুষ্ট নদী থেকে নির্দিষ্ট উচ্চতায় দীর্ঘকাল কেটে দূরবর্তী কৃষিজমিতে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকে। এই ধরনের পদ্ধতির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধপ্রদেশ, উড়িষ্যা এবং তামিলনাড়ুতে জলসেচ করা হয়।
Vedio link: https://www.youtube.com/watch?v=z3IzJQbbe0M

জলসেচের গুণাবলীঃ
সুবিধাসমূহ:
স্বল্প ব্যয়ে বৃষ্টিহীন অঞ্চলে এই ধরনের সেচের মাধ্যমে জলকে ব্যবহার করে কৃষি কাজ করা যায়।
শীতকালে রবি শস্য উৎপাদনের জন্য জল সেচের মাধ্যমে কৃষি কাজ করা হয়ে থাকে।
মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ জলসেচ করে বাড়ানো সম্ভব।

অসুবিধাসমূহ
কাদামাটি এবং পলিমাটি যুক্ত অঞ্চল প্রয়োজনাতিরিক্ত জলসেচ করা হলে জল মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে না, যা ফসল উৎপাদনের পক্ষে ক্ষতিকারক।
অতিরিক্ত জল সেচ করলে কৃষি জমি লবণাক্ত হয়ে পড়ে এবং জমির উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
অতিরিক্ত জলসেচের ফলে মাটির গ্রন্থগুলি জলপূর্ণ থাকে ফলে ঠিকমতো অক্সিজেনের সরবরাহ থাকে না।

বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা:
যে পরিকল্পনার বা পদ্ধতির সাহায্যে নদীতে বাঁধ দিয়ে নদীর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাকে বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে রূপান্তরিত করা হয়, যেমন—বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, জলসেচ, জলপথ পরিবহণ, বনসৃজন, মাটি সংরক্ষণ, মৎস্য উৎপাদন, চিত্ত বিনোদন, পানীয় জল সরবরাহ প্রভৃতি এবং নদী অববাহিকা অঞ্চলের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি সাধিত হয়, সেই পরিকল্পনাকে বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা বলে। উদাহরণ—দামোদর নদী উপত্যকা পরিকল্পনা, ভাকরা-নাঙ্গাল পরিকল্পনা ইত্যাদি।

ভারতের উল্লেখযোগ্য বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনাসমূহঃ

নদী উপত্যকা পরিকল্পনার নামসমূহ

নদীর নাম

দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা

দামোদর, বরাকর এবং কোনার নদী

ভাকরানাগাল পরিকল্পনা\

শতদ্রু নদী

মহানদী পরিকল্পনা (হীরাকুদ প্রকল্প) 

মহানদী

নাগার্জুন সাগর পরিকল্পনা

কৃষ্ণা নদী 

তুঙ্গভদ্রা পরিকল্পনা

তুঙ্গভদ্রা

রামপদ সাগর পরিকল্পনা

গোদাবরী

ময়ূরাক্ষী পরিকল্পনা

ময়ূরাক্ষী নদী

গঙ্গা বাঁধ বা ফারাক্কা বাঁধ পরিকল্পনা

গঙ্গা নদী

বিপাশা পরিকল্পনা

বিপাশা নদী

কোশী পরিকল্পনা

কোশী নদী

দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC): দামোদর নদ পশ্চিমবঙ্গের ‘দুঃখের নদ’ নামে পরিচিত। 1943 সালের প্রবল বন্যার পর এই নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘টেনেসি ভ্যালি অথরিটি’ (T.V.A.)-র অনুকরণে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী 1948 সালের জুন মাসে স্বাধীন ভারতে দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা বা D.V.C. গঠিত হয়। এই পরিকল্পনাটি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ভারত সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে।

https://www.facebook.com/roysujan26/photos/pcb.157909706012465/157909676012468/

পরিকল্পনা রূপায়ণ:

বন্যা নিয়ন্ত্রণঃ বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন নদীতে মোট আটটি বাঁধ যথা—তিলাইয়া, কোনার, মাইথন, পাঞেৎ। ও বেলপাহাড়ি, বার্মো ও আয়ার নির্মাণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এবং পরবর্তীকালে তেনুঘাট বাঁধের নির্মাণ করা হয়।

জলসেচঃ 1955 সালে দুর্গাপুরে একটি সেচ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এই ব্যারেজ থেকে বাম দিকে 136 কিমি দীর্ঘ ও ডান দিকে 88 কিমি দীর্ঘ দুটি খাল কাটা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি, হাওড়া প্রভৃতি জেলায় কৃষিতে জলসেচ করা হয়।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনঃ সুলভ জলবিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করতে মাইথন, তিলাইয়া ও পাঞ্চেৎ নামক তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই অঞ্চলের কয়লার জন্য চট্টপুরা, দুর্গাপুর, এবং বোকারোতে তিনটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যাহাকে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ব্যবহৃত করা হচ্ছে।

মৎস্য চাষ : তিলাইয়া, মাইথন, পাঞ্চেত প্রভৃতি বাঁধের দ্বারা সৃষ্ট জলাশয়ে মৎস্য চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবহণঃ দুর্গাপুর ব্যারেজের দুটি খাল এবং অন্যান্য শাখা খালের মাধ্যমে জলপথে যাতায়াত করে কয়লা ও শিল্পজাত দ্রব্যাদি আদান প্রদান করা হয়।

জল সংরক্ষণঃ
সংরক্ষণ’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ হল বিশেষ উদ্দেশ্যে বিচার বিবেচনা প্রসূত রক্ষণ। অর্থাৎ, জলসম্পদ সংরক্ষণের প্রকৃত অর্থ হল–জলের পরিমিত ব্যবহার, অপচয় নিবারণ, এবং অবৈজ্ঞানিক ও যথেচ্ছ ব্যবহার কমানো।
জল সংরক্ষণের গুরুত্ব ঃ জলসম্পদ সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম।
পৃথিবীতে প্রাকৃতিক ব্যবস্থা রক্ষার্থে বিশেষত বিপন্ন প্রজাতিদের রক্ষার উদ্দেশ্যে সমুদ্র, নদী, হ্রদ ইত্যাদির জল সংরক্ষণ করা খুবই প্রয়োজনীয়।
জল সংরক্ষণ করলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জলের চাহিদা মেটানোর জন্য নদী বাঁধ নির্মাণ সম্ভবপর হবে।
জল সংরক্ষণের ফলে ভৌমজল স্তরের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

জল সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ জলসম্পদ সংরক্ষণের পদ্ধতি জলের অপচয় রোধ এবং জলের বিকল্প উৎসসমূহ ব্যবহারের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। আগামী প্রজন্মের জন্য জলসম্পদকে সুরক্ষিত করতে সুসংহত জল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন এবং তার জন্য আবশ্যিক সঠিক পরিকল্পনা। জলসম্পদকে সংরক্ষণের জন্য যে সমস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে সেগুলি হল—

জলবিভাজিকা উন্নয়নঃ
ভূমি ও জল সম্পদের বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের কাম্য উৎপাদন ও সুষ্ঠু বণ্টন করাই হল জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনা বা উন্নয়ন। জলবিভাজিকা ব্যবস্থাপনার সাহায্যে (1) অববাহিকায় নদী বাঁধের সাহায্যে জলাধারের জলকে ধরে রেখে, সেই জলকে কংক্রিট দ্বারা নির্মিত নালা পথে, ভূ-অভ্যস্তর পাইপের মাধ্যমে পাঠিয়ে মূল নদীর প্রবাহপথকে স্থানান্তরিত করা সম্ভব। এভাবে উদবৃত্ত জলকে জলাভাবযুক্ত স্থানে স্থানান্তরিত করলে জলের কার্যকারিতা ও উপযোগিতা উভয়ই বৃদ্ধি পায়।ফলত জলের সংরক্ষণ হয়।

বৃষ্টির জল সংরক্ষণঃ

https://bengali.krishijagran.com/agripedia/water-conservation-and-integrated-water-management/
বৃষ্টির জলকে সঠিকভাবে ধরে রেখে ব্যবহার করার সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করলে জলসম্পদকে রক্ষা করা সম্ভব।
(১) বৃষ্টির জলকে সরাসরি ভূগর্ভে প্রবেশ করিয়ে ভূগর্ভস্থ জলসম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি সম্ভব।
(২) বাড়ির ছাদে যে বৃষ্টির জল পড়ে তাকে পাইপের মাধ্যমে নামিয়ে নিয়ে কোনো জলাধারে সংরক্ষিত ও পরিশোধন করে গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
(৩) ছোট বা বড় পুকুর তৈরি করে আশপাশের অঞ্চলের বৃষ্টির জলকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়ে এসে পুকুরে সংগ্রহ করে এবং স্থানীয় অঞ্চলে সেচের কাজে লাগানো যেতে পারে।
(৪) ভূগর্ভস্থ জলাধারের মেঝে কংক্রিটের না বানিয়ে বৃষ্টির জমা জলকে কাজে লাগিয়ে ডৌমজলের ভাণ্ডারকে পরিপুরণ করা যায়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, প্রভৃতি স্বপ্ন বৃষ্টিপাতযুক্ত জেলাগুলিতে এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভারতের জলবায়ু
ভারতীয় জলবায়ুর বৈচিত্রসমূহ:
ভারত এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশ অবস্থিত একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ। অক্ষাংশগত অবস্থানের নিরিখে এই দেশ প্রধানত ক্রান্তীয় অঞ্চলে এবং ইহার উত্তর দিকের অংশ উপক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। ঋতুগত বায়ুচাপের বৈপরীত্যজনিত কারণে ভারতে মূলত মৌসুমি জলবায়ুর প্রাধান্য দেখা যায়। দুরত্বগত বিস্তার, তিনদিকে সমুদ্রের অবস্থান, উত্তরে বিশাল হিমালয় পর্বতশ্রেণীর অবস্থান, সমুদ্র থেকে দূরত্ব, ইত্যাদি কারণে ভারতে আঞ্চলিক জলবায়ুতে বিশাল বৈচিত্র্য দেখা যায়।

এই দেশের একদিকে রয়েছে বৃষ্টিবহুল মৌসিনরাম-চেরাপুঞ্জি অন্যদিকে অবস্থান করছে থর মরু অঞ্চল। উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু থাকে অন্যদিকে সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। এই দেশে গ্রীষ্মকালে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয় অন্যদিকে শীতকালে শুষ্ক শীতল উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়ে থাকে।

ভারতের জলবায়ুর নিয়ন্ত্রকসমুহঃ
ভারতবর্ষের জলবায়ু খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং ইহা বিভিন্ন ভৌগোলিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে।
হিমালয় পর্বতের ভূমিকাঃ ভারতের উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত ফলত(১) আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে (২) উত্তরে মধ্য এশিয়ার শীতল কনকনে বাতাস ভারতে প্রবেশ করতে পারে না এবং ওই অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা বেশি থাকে।

অবস্থান ও অক্ষাংশগত বিস্তৃতিঃ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে 8 ডিগ্রী 4 মিনিট থেকে শুরু করে 37 ডিগ্রী 6 মিনিট উত্তর অক্ষাংশের মধ্যবর্তীস্থানে ভারতবর্ষ অবস্থান করে। এই দেশের প্রায় মাঝখান বরাবর কর্কটক্রান্তি রেখা প্রসারিত হওয়ায় দক্ষিণে উষ্ণ ও ক্রান্তীয় জলবায়ু দেখা যায়। আবার উত্তর দিকে উপক্রান্তীয় বা উষ্ণ নাতিশীতোয় জলবায়ুর দেখা মেলে।

ভূপ্রকৃতি : ভারতের ভূপ্রকৃতি জলবায়ুকে প্রচন্ডভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখে। যেমন—দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও অধিক উচ্চতার কারণে উটি বা অন্যান্য উঁচু অঞ্চলের তাপমাত্রা কম। পশ্চিম উপকূলে পশ্চিমঘাট পর্বতের অবস্থানের জন্য পশ্চিম দিকে বৃষ্টিবহুল এবং পূর্বদিকে বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুঃ ভারতবর্ষের জলবায়ুর অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক মৌসুমি বায়ু। এই দেশে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে শীতল শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়ে থাকে। মৌসুমি বৃষ্টির অনিশ্চয়তার জন্যই এই দেশে খরা ও বন্যার প্রাদুর্ভাব ঘটে থাকে।

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত এবং পশ্চিমীঝঞ্ঝা:
(১) বঙ্গোপসাগর এবং আরব সাগরে মে-জুন মাসে লম্ব সূর্যকিরণে এবং অক্টোবর নভেম্বর মাসে মৌসুমী বায়ুর কারণে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
(২) শীতকালে বায়ুর চাপ বলয় দক্ষিণে 5 ডিগ্রি থেকে 10 ডিগ্রী সরে যাওয়ার ফলপ্রসূ উত্তর পশ্চিম ভারত পশ্চিমা বায়ুর অন্তর্গত হয়ে পড়ে। ফলে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত আর্দ্র পশ্চিমাবায়ু দুর্বল ঘূর্ণবাত বা Depression -এর সৃষ্টি করে থাকে এবং মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি ও পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত ঘটিয়ে থাকে। ইহাকেই আমরা পশ্চিমীঝঞ্ঝা বলে থাকি।

সমুদ্র সান্নিধ্যঃ ভারতের দক্ষিণাংশ তিনদিক সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় জলবায়ু সমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয়। অন্যদিকে, সমুদ্র থেকে দূরে দেশের অভ্যন্তরের জলবায়ু প্রধানত চরমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।

লা-নিনার প্রভাবসমূহঃ ইহা একটি উত্তরমুখী অতি শীতল সমুদ্রস্রোত। এই লা-নিনার প্রভাবে ভারত মহাসাগর থেকে উয় আর্দ্র বায়ুর ব্যাপক ঊর্ধ্ব গমন ঘটে থাকে যাহা ভারতবর্ষে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

জেট বায়ু : ভারতীয় স্থলভাগের উচ্চ অঞ্চলে জেট বায়ু প্রবাহিত হয়ে থাকে, যাহা ভারতীয় জলবায়ুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে থাকে। (১) শীতকালে উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিমী জেট বায়ু তীব্র গতিতে প্রবাহিত হওয়ার কারণে ভারতবর্ষতে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার আগমন ঘটে থাকে। (২) এই দেশে মে-জুন মাসে সূর্যের উত্তরায়ণের সময় জেট বায়ুর প্রবাহের গতির দিক পরিবর্তিত হয়ে পূর্বমুখী হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমন ঘটে থাকে।

এল-নিনোর প্রভাবসমূহঃ একটি দক্ষিণমুখী অস্থির উষ্ণ সমুদ্রস্রোত হল এল নিনোর। যাহার সামনে দক্ষিণ এশিয়ায় জেট বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলত, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে থাকে। তাই মৌসুমিয় বায়ুর ভারতে আসতে দেরি হয় এবং ইহা কম বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষরার সৃষ্টি করে।
মৌসুমি বায়ু এবং ভারতবর্ষের ঋতুবৈচিত্র্যঃ

মৌসুমী বায়ুঃ 1833 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী এডমান্ড হ্যালি সর্বপ্রথম ‘মৌসুমি’ শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি আরবি শব্দ মৌসিম (Mousim) বা মালয়ালম শব্দ মনসিন (Monsin) থেকে সৃষ্টি লাভ করেছে যার অর্থ হল ঋতু। তাই বায়ুর চাপ এবং উষ্ণতার পার্থক্য গ্রীষ্ম এবং শীত ঋতু ভেদে দিক পরিবর্তনকারী ও বিপরীত দিক থেকে নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে প্রবাহিত সাময়িক বায়ুপ্রবাহ মৌসুমি বায়ু নামে পরিচিত। ইহা হল একটি স্থলবায়ু এবং সমুদ্র বায়ুর বৃহত্তর ও ঋতুগত সংস্করণ। ভারতের জলবায়ুতে মৌসুমি বায়ুর সুবিশাল প্রভাব রয়েছে — মূলত এই কারণের জন্যই ভারতবর্ষকে মৌসুমী বায়ুর দেশ বলা হয়ে থাকে।

ভারতের ঋতুবৈচিত্র্য : ঋতু বলতে আমরা বুঝি কোনো দেশের সারা বছরের বিভিন্ন অংশের আবহাওয়ার সামঞ্জস্য জনিত ভাগ। ঋতু পরিবর্তন হলো ভারতীয় জলবায়ুর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। আবহাওয়াবিদ গণ মৌসুমি বায়ুর আগমন ও প্রত্যাগমনের নিরিখে ভারতবর্ষের জলবায়ুকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন। যথা –

1. গ্রীষ্মকাল [মার্চ থেকে মে] :
উষ্ণতা: 21 মার্চ সূর্যের উত্তরায়ণের সাথে সাথেই ভারতবর্ষের তাপমাত্রা পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গ্রীষ্মকালে পশ্চিম ভারতের তাপমাত্রা প্রায় 48 ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে এই তাপমাত্রা 27 থেকে 30 ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।

বায়ু প্রবাহ এবং বায়ুচাপঃ
অধিক উষ্ণতার কারণবশত ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ছোট ছোট স্থানীয় চাপ বলয় তৈরি হয়। অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে ঝড়-বৃষ্টির উৎপত্তি ঘটে।
গ্রীষ্মকালের বিকেলে মাঝে মাঝে অসম পশ্চিমবঙ্গ এবং বিভিন্ন রাজ্যে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এমনকি শিলা বৃষ্টিও হয়ে থাকে। ইহাকে আমরা কালবৈশাখী বলে থাকি।
গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ভারতেরউত্তর-পশ্চিম প্রান্তের সমান্তরালে যে উষ্ণ এবং শুষ্ক বায়ুর পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে তাকে আমরা লূ বলে থাকি।
গ্রীষ্মকালে উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতবর্ষে যে প্রবল ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয় তাকে আঁধি বলা হয়।

বৃষ্টিপাতঃ
ভারতবর্ষে গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখীর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ এবং অসংলগ্ন অঞ্চলে গড়ে প্রায় 15 থেকে 40 সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়ে থাকে।
কেরল এবং কর্ণাটক উপকূলে অম্ল বৃষ্টির প্রভাব, 15 থেকে 25 সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টি তামিলনাড়ুতে কফি বৃষ্টি নামেও পরিচিত।

https://www.researchgate.net/figure/Map-of-India-showing-average-annual-rainfall_fig3_257155103

মৌসুমী বায়ুর আগমন কাল বা বর্ষা কাল ( জুন থেকে সেপ্টেম্বর):

গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড উত্তাপের ফলপ্রসূ ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশজুড়ে এক গভীর নিম্নচাপ বলয় এর উৎপত্তি হয়। যার ফলে দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু ওই নিম্নচাপের আকর্ষনে ধেয়ে আসে। এবং নিরক্ষ রেখা অতিক্রম করে ডান দিকে বেঁকে ভারতে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু রুপে প্রবাহিত হয়ে থাকে। মৌসুমী বায়ুর আগমনের সাথে সাথে ভারতবর্ষে বর্ষাকালের সূচনা হয়। এই বায়ুর প্রতিবছর প্রায় 5 ই জুন তারিখে চলে এসে পৌঁছায় এবং 15 ই জুলাই এর আগে সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়ে।

https://www.pinterest.com/pin/223983781438097754/

উষ্ণতাঃ বর্ষাকালে সমগ্র ভারতবর্ষের গড় তাপমাত্রা কুড়ি থেকে ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতর বিচরণ করে।

বায়ুচাপ এবং বায়ু প্রবাহঃ
গ্রীষ্মকালের পর প্রচন্ড উত্তাপের ফলে ভারতে প্রচন্ড উত্তাপ বিচরন করে যার ফলে সৃষ্টি হয় গভীর নিম্নচাপ। গঙ্গা নদীর অববাহিকা বরাবর এই গভীর দীর্ঘ চাপ বলয় তৈরি হয়।

দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মূলত দুইটি শাখা আছে। সাহা দুটি হল আরব সাগরের শাখা এবং বঙ্গোপসাগরীয় শাখা।

মৌসুমী ও বায়ুর আরব সাগরের শাখাঃ
আরব সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পশ্চিমঘাট পর্বতের বাধাপ্রাপ্ত হয় প্রবল বৃষ্টি ঘটায়। পর্বতের পূর্ব ঢালে ইহা একটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল সৃষ্টি করে থাকে।
দ্বিতীয় শাখাটি মহারাষ্ট্রের প্রবেশ করে উচ্চভূমির অভাবে মৌসুমী বায়ু বাধা পায় না বলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম হয়ে থাকে।
তৃতীয় শাখাটি আরাবল্লী পর্বতের সমান্তরালে রাজস্থানে প্রবাহিত হয় খুব কম বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে থাকে।

মৌসুমী বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখাঃ
ইহার প্রথম শাখাটি বাংলাদেশ অতিক্রম করে মেঘালয়ের গারো খাসি জয়ন্তিকা পাহাড়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পড়ে ফলে ওই অঞ্চলে এই বায়ু বৃষ্টিপাত ঘটায়। মেঘালয় চেরাপুঞ্জি এই বায়ু দ্বারা বছরে গড়ে প্রায় 11 সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে। চেরাপুঞ্জি থেকে 16 কিলোমিটার দূরে মৌসিনরাম এ এই বায়ু দ্বারা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় বারোশো পঞ্চাশ থেকে চৌদ্দশ সেন্টিমিটার। এই অঞ্চল পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থান নামে খ্যাত। শিলং বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল এ অবস্থিত হওয়ায় ওই অঞ্চলে বছরে বৃষ্টির পরিমাণ মাত্র 200 সেন্টিমিটার।
এই বায়ুর অপর একটি শাখা মায়ানমারের আরাকানয়োমা প্রচুর ঘটিয়ে থাকে।
সীমা অতিক্রম করে এই বায়ু উত্তরে যেতে পারে না বলে, ইহার প্রধান অংশ দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পূর্বদিকে বম্মপুত্র উপত্যকায় এবং অপর সংখ্যাটি পশ্চিমদিকে উত্তর প্রদেশ বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে থাকে। এই বায়ু পশ্চিম দিকে এগোয় ইহার জলীয়বাষ্পের পরিমাণতুই কমতে থাকে। ইহা যখন রাজস্থানে পৌঁছায় তখন এই বায়ুর বৃষ্টিপাত ঘটাবার সামর্থ্য খুবই কম থাকে। তাই আজ রাজস্থানের মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে।

মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তন বা শরৎকাল (অক্টোবর থেকে নভেম্বর):
বার্ষিক আপাত গতি অনুসারে এই নির্দিষ্ট সময়ে সূর্য বিষুব রেখা অতিক্রম করে মকর ক্রান্তি রেখা দিকে প্রত্যাবর্তন করে থাকে। তাই এই ঋতুকে মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তন কাল বলা হয়ে থাকে। অগ্রসর হওয়ার সময়কাল পাঞ্জাব এবং রাজস্থানে এই বায়ুর উচ্চচাপ অঞ্চলের সৃষ্টি করে থাকে।

উষ্ণতাঃ এই ঋতুতে আকাশ মেঘমুক্ত হয় ফলে, বিভিন্ন অংশে দিনের উষ্ণতা কোন বাড়তে থাকে এবং রাতের উষ্ণতা আরামদায়ক হয়। পূর্ব ভারতের গড় উষ্ণতা এই সময়ে থাকে প্রায় 30 ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজস্থানে উষ্ণতা থাকে প্রায় 36 ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বায়ুর চাপ এবং বায়ুপ্রবাহঃ এই সময়কালে পাঞ্জাবে উচ্চচাপ যুক্ত বায়ু সঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সংঘর্ষের ফলে ঘূর্ণবাতের সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণাবর্তকে আমরা, আশ্বিনের ঝড় বলে থাকি। এর প্রভাবে তামিলনাড়ু তথা পূর্ব উপকূলে যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টি হয়ে থাকে।

বৃষ্টিপাতঃ মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তন এর ফলে আকাশ মেঘমুক্ত থাকে তাই এই সময়ে বেশি বৃষ্টিপাত ঘটে না। তবে, বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবার সময় কিছু পরিমাণ জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে এই বায়ু করমন্ডল এবং অন্ধ্র উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে থাকে। তাই তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী অঞ্চলে বছরে দুবার বর্ষাকাল হয়ে থাকে। এই শরৎকালে ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলে মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড় ও বৃষ্টি হয়ে থাকে।

শীতকাল ( ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি):
ডিসেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে, মকরক্রান্তির নিকটবর্তী অঞ্চলে লম্বভাবে, কিরণ দেওয়ায় ভারতবর্ষে উষ্ণতার পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়। সুতরাং এই সময় সমগ্র উত্তর গোলার্ধে শীত ঋতু বিরাজ করে। এই সময় মেঘমুক্ত আকাশ উত্তর থেকে প্রবাহিত শীতল বাতাস এবং উষ্ণতা কম থাকে।

উষ্ণতাঃ এই সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করায় ভারতে সূর্যকিরণ তীর্যকভাবে পতিত হয় তাই সমগ্র ভারতবর্ষের উষ্ণতা কম থাকে। তামিলনাড়ুতে শীতকালের তাপমাত্রা প্রায় 25 থেকে 26 ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং উত্তর ভারতে এই শীতকালের তাপমাত্রা থাকে 13 থেকে 18 ডিগ্রী সেলসিয়াস। শীতকালে উত্তর ভারতের পার্বত্য অঞ্চলের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায়।

বায়ুচাপ এবং বায়ু প্রবাহঃ অল্প উষ্ণতার জন্য ভারতে সর্বদাই উচ্চচাপ বিরাজ করে থাকে। গঙ্গা উপত্যকাতে বায়ুপ্রবাহপশ্চিম উত্তর পশ্চিম দিক থেকে এবং উত্তরপূর্ব ভারত এবং বঙ্গোপসাগরে, বায়ুপ্রবাহ উত্তর-পূর্ব দিকে হয়।

বৃষ্টিপাতঃ শীতকালে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জন্য উত্তর ভারতে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এই পশ্চিমীঝঞ্ঝার জন্যই আমরা হিমালয় অঞ্চলে তুষারপাত দেখতে পাই। শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুরু করে এবং এই সময় দিল্লির ঘর বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় 53 মিলিমিটার হয়।

মৌসুমী ও বৃষ্টিপাতের প্রভাব সমূহঃ
মৌসুমী বায়ু ভারতীয় অর্থনীতি এবং জনজীবনে এক অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে থাকে।

কৃষির ওপর প্রভাব সমূহঃ ভারতবর্ষে কৃষি কাজ মূলত বৃষ্টিপাত এবং উষ্ণতার উপর পুরোপুরিভাবে নির্ভরশীল। পরিমিত বৃষ্টিপাত ভারতবর্ষে যে সকল প্রান্তে হয়ে থাকে সেই সকল প্রান্তে ধানের চাষ খুব ভালো হয় তেমনি শুষ্ক অঞ্চলে মিলেট জাতীয় দ্রব্যের চাষ ভালো হয়।

স্বাভাবিক উদ্ভিদের ওপর প্রভাবঃ মৌসুমী বায়ুর প্রভাব স্বাভাবিক উদ্ভিদের ওপর স্পষ্টভাবে লক্ষ্যযোগ্য। এই বায়ুর জন্যই পশ্চিমঘাট পর্বত, হিমালয় প্রভৃতি পার্বত্য অঞ্চলে চিরহরিৎ, পর্ণমোচী এবং সরলবর্গীয় বনভূমির উৎপত্তি হয়েছে।

মৃত্তিকার উপর প্রভাব সমূহঃ ভারতবর্ষের মৃত্তিকার গুণাবলী বহুলাংশে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। অধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা দেখতে পাওয়া যায় আবার স্বল্প বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলে জলসেচ করার ফলে, মাটির লবণাক্ততার বৃদ্ধি। আবার শুষ্ক অঞ্চল বৃষ্টির অভাবে মাটি অনুর্বর হয়ে পড়ে।

খরাঃ খরা হল ভারতে দুর্বল মৌসুমী বায়ু ফল। মৌসুমী বায়ুর আগমন দেরিতে হলে, বা নিষ্ক্রমণ মৌসুমী বায়ুর আবির্ভাবে বৃষ্টিপাত কার্যত হয় না। ফলত ওই সকল অঞ্চলে খরা দেখা দেয়। ভারতের দক্ষিণ পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব সীমানা বরাবর খরা বহুলাংশে লক্ষ্য করা যায়।

বন্যাঃ দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্বারা সৃষ্ট অত্যাধিক বৃষ্টি বা ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতই হল ভারতে বন্যার কারণ। উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য যেমন, উত্তরপ্রদেশ হরিয়ানা বিহার, পাঞ্জাব পশ্চিমবঙ্গ অসম ইত্যাদি। অপরদিকে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু উড়িষ্যা অন্ধপ্রদেশের মহারাষ্ট্র প্রভৃতি হলো অত্যধিক বন্যাপ্রবণ রাজ্য সমূহ।

ভারতের মৃত্তিকা
ভারতবর্ষের মৃত্তিকার শ্রেণীবিভাগ সমূহঃ
এই দেশকে আমরা প্রধানত মৌসুমি জলবায়ুর দেশ বলে গণ্য করলেও এই দেশে বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক জলবায়ু, স্বাভাবিক উদ্ভিদ, ভূমির ঢাল এবং শিলার পার্থক্যের কারণবশত বিভিন্ন ধরনের মৃত্তিকা অবস্থান রয়েছে। NATMO 1957 সালে, ভারতবর্ষের মৃত্তিকাকে মূলত 6 টি ভাগে এবং 11 টি উপ ভাগে বিভক্ত করেছে। ইহার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মৃত্তিকা সমূহ হলোঃ
পলি মৃত্তিকাঃ

https://www.educostudy.in/2019/04/Geography-Indian-soil-system.html

এই জাতীয় মৃত্তিকা মূলত নদীর অববাহিকা লক্ষ্য করা যায়।

উপাদান্ সমূহঃ নুড়ি, কাদা, পলি ইত্যাদি হল এই জাতীয় মৃত্তিকার প্রধান উপাদান। এই জাতীয় মৃত্তিকায় নয় এবং জৈব পদার্থের পরিমাণ খুবই কম থাকে।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
পলল মাটি সাধারণত দোআঁশ প্রকৃতির হয়ে থাকে।
এই মাটির রং হালকা বাদামি বা হালকা ধূসর হয়ে থাকে আবার কখনো কখনো ইহা হলুদ রঙের হয়।
কোন বৃষ্টিপাত এবং উচ্চ উষ্ণতা যুক্ত অঞ্চলে এই জাতীয় মৃত্তিকা বেশি দেখা যায়। এই ধরনের মাটি উর্বর এবং এতে জল ধারণ ক্ষমতা কম। ইহাতে যথেষ্ট পরিমাণে ফসফরাস পটাশিয়াম চুন এবং ক্ষারকীয় পদার্থ উপস্থিত থাকে।
পাট, গম, শাকসবজি, যব এবং ভুট্টা, ইত্যাদি চাষের জন্য এই মৃত্তিকা খুব উপযোগী। এছাড়া এই জাতীয় মাটিতে, ডাল, ধান ইত্যাদিও চাষ করা হয়ে থাকে।
আঞ্চলিক বন্টনঃ পলি মৃত্তিকা ভারতবর্ষের সিন্ধু গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র, মহানদী গোদাবরী কৃষ্ণা কাবেরী ইত্যাদি নদীর অববাহিকায় এবং বদ্বীপ ও উপকূলবর্তী অঞ্চলে সাধারণভাবে লক্ষ্য করা যায়।

কৃষ্ণ মৃত্তিকাঃ
এই জাতীয় মৃত্তিকার রং সাধারণভাবে কালো হয়ে থাকে এবং ইহা তুলা উৎপাদন পড়ার জন্য খুবই উপযোগী তাই নিহাকে কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা কালো তুলা মাটি বলে অভিহিত করা হয়।
উপাদানসমূহঃ এই জাতীয় মৃত্তিকা লাভা এবং ব্যাসল্ট শিলা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে বলেই ইহার রং কালো হয়ে থাকে। এই জাতীয় মাটিতে কাদার পরিমাণ 30% থেকে 80% হয়ে থাকে। এই মাটি প্রচন্ডভাবে জৈব পদার্থ দ্বারা সমৃদ্ধ।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
এই মাটির রং কালো হবার পেছনে মূল কারণ হলো টিটানিফেরাম ম্যাগনেসিয়াম এর আধিক্য।
এই জাতীয় মৃত্তিকা ভারী এবং গ্রন্থ যুক্ত হয়ে থাকে।
ক্যালসিয়াম, পটাশিয়া্‌ম, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, ইত্যাদি খনিজ পদার্থ দ্বারা এই মাটি সমৃদ্ধ।
এই জাতীয় মাটির জল ধারণ ক্ষমতা অসাধারণ তাই গরম গান তুলা জোয়ার সূর্যমুখী ফুল বিভিন্ন শাক সবজি তিসি জোয়ার ইত্যাদি চাষের জন্য মাটি খুবই উপযোগী।
আঞ্চলিক বন্টনঃ পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, এবং অন্ধপ্রদেশের বহু অংশে এই জাতীয় মৃত্তিকা লক্ষ্য করা যায়।

লোহিত মৃত্তিকাঃ
এই জাতীয় মৃত্তিকায় লৌহের পরিমাণ বেশি থাকায় এই জাতীয় মৃত্তিকার রং লাল হয়ে থাকে।

https://www.educostudy.in/2019/04/Geography-Indian-soil-system.html

উপাদানঃ গ্রানাইট, নিস জাতীয় প্রাচীন শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে লোহিত মাটির সৃষ্টি করে। এই জাতীয় মাটিতে কম এবং বালির ভাগ বেশি হয়ে থাকে।
বৈশিষ্ট্যঃ
এই জাতীয় মাটির রং লাল হলেও কোথাও কোথাও ইহাকে হরিদ্রাভ দেখা যায়।
এই জাতীয় মৃত্তিকা অন্যান্য বেশিরভাগ মাটি থেকে সামান্য পরিমাণে ভারী হয়ে থাকে।
অ্যালুমিনিয়াম এবং লোহার আধিক্য এই মাটিতে দেখা যায় এছাড়াও ইহাতে ফসফরাস ক্যালসিয়াম পটাশিয়ামের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।
এই জাতীয় মাটি কম উর্বর।
জলসেচের দ্বারা এই জাতীয় মাটিতে চিনাবাদাম, তুলা, তিসি, ধান, কলাই, এবং আখের চাষ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও পাহাড়ের ঢালে এই জাতীয় মাটিতে দারচিনি, কফি, চা ইত্যাদি চাষ করা হয়।
আঞ্চলিক বন্টনঃ দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক তামিলনাড়ু, পশ্চিম ভারতের রাজস্থান মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের কিছু অংশ, পূর্ব ভারতের ঝারখন উড়িষ্যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কিছু কিছু অংশে এই জাতীয় মৃত্তিকার অবস্থান।

ল্যাটেরাইট মৃত্তিকাঃ
এই জাতীয় মৃত্তিকার রং ইটের মতো লাল হওয়ায় ইহাকে আমরা ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা বলে থাকি।

ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা

বৈশিষ্ট্য সমূহঃ
নিস গ্রানাইট সিস্ট ইত্যাদি লৌহ দ্বারা গঠিত শিলা থেকে এই জাতীয় মৃত্তিকা তৈরি হয়েছে। বলতো এই জাতীয় মাটিতে চুন, টিটানিয়াম অক্সাইড, ইত্যাদি প্রয়োজন পদার্থ পাওয়া যায়।
এই জাতীয় মাটি মুলত হাল্কা প্রকৃতির হয়ে থাকে।
রাসায়নিক সার এবং জলসেচ দ্বারা আখ, জয়ার, ধান, সয়াবিন, ভুট্টা ইত্যাদি এবং যে সকল স্থানে, বৃষ্টি বেসি হয়ে থেকে সে সকল স্থানে, এই মাটিতে কোকো, কাজুবাদাম, কফি, কাজুবাদাম ইত্যাদি চাষ করা হয়ে থাকে।
আঞ্চলিক বন্টনঃ ভারতবর্ষের অধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল এলাকায় ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও তামিলনাড়ু উড়িষ্যা, অন্ধপ্রদেশের পার্বত্য অঞ্চল, পশ্চিমঘাট পর্বতের পার্বত্য অঞ্চল প্রভৃতি অঞ্চলে এবং ছোটনাগপুর মালভূমি পূর্ব অংশে এই জাতীয় মৃত্তিকা লক্ষ্য করা যায়।

মরু মৃত্তিকাঃ
এই জাতীয় মাটি অপেক্ষাকৃত হালকা এবং গ্রন্থ যুক্ত হয়ে থাকে।

https://www.educostudy.in/2019/04/Geography-Indian-soil-system.html

উপাদানসমূহঃ এই জাতীয় মাটিকে আমরা বেলে মাটি বলেও অভিহিত করি। এই মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ খুবই কম থাকে। এবং এ জাতীয় মাটি অনুর্বর।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
এই মাটির রং হালকা ধূসর বাদামি বা হলুদ হয়ে থাকে।
এই মাটি অপেক্ষাকৃত হালকা হওয়ায় ইহার জল ধারণ ক্ষমতা খুবই কম।
এই জাতীয় মৃত্তিকায় ম্যাগনেসিয়াম ফসফেট সোডিয়াম ক্যালসিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে উপস্থিত থাকে।
অধিক জলসেচের দ্বারা এই জাতীয় মাটিতে ডাল, বার্লি, মিলেট, ইত্যাদি চাষ করা হয়ে থাকে।
আঞ্চলিক বন্টনঃ দক্ষিণ হরিয়ানা, পশ্চিম রাজস্থান, সৌরাষ্ট্র এবং কচ্ছ অঞ্চলে, দক্ষিণ-পশ্চিম পাঞ্জাব ইত্যাদি জায়গায় এই জাতীয় মৃত্তিকার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

পার্বত্য মৃত্তিকাঃ
উপাদানসমূহঃ এই জাতীয় মৃত্তিকা সাধারণত কাদা পাথর, দোআঁশ বা পাথুরে প্রকৃতির হয়ে থাকে। তরাই অঞ্চলে বিভিন্ন নদীর দ্বারা বাহিত সঞ্চিত হয়ে বালুকাময় দোআঁশ মাটি সৃষ্টি করে থাকে; এই জাতীয় মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।

https://www.pexels.com/photo/man-standing-on-hill-3222402/
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
এই জাতীয় মৃত্তিকার রং সাধারণভাবে বাদামী বাদামী হয়ে থাকে।
সিলিকা অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এবং লোহার উপস্থিতি এই জাতীয় মৃত্তিকায় দেখা যায়।
এই জাতীয় পার্টিতে গম ভুট্টা আলু চাষ করা হয়ে থাকে।
আঞ্চলিক বন্টনঃ হিমালয় ছত্রিশগড় মধ্যপ্রদেশ নীলগিরি পর্বত ইত্যাদি পার্বত্য অঞ্চলে এবং বিভিন্ন পর্বতের ঢালে এই জাতীয় মাটির সহজেই লক্ষণীয়।

https://3.bp.blogspot.com/-ilIiRxXPcYU/Xso1f5DE2XI/AAAAAAAAANg/f_32I-lIv0wFv2C8m5uArmC-JX3TsEdQgCNcBGAsYHQ/s1600/soil-classification-of-india.jpg

মৃত্তিকা ক্ষয়ঃ
বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণবশত মৃত্তিকার উপরিস্তরের ধীরে ধীরে অপসারণের ঘটনাকে আমরা মৃত্তিকা ক্ষয় বলে থাকি। মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়।

মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ সমূহঃ
মৃত্তিকা ক্ষয় এর মূল কারণ গুলি কে আমরা দুইটি ভাগে ভাগ করে থাকি। যথা-
প্রাকৃতিক কারণঃ
বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা মাটির আস্তরনের ঘটলে তাকে ভূতাত্ত্বিক ক্ষয় বলা হয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের দ্বারা এই জাতীয় ক্ষয় হয়ে থাকে।
প্রবাহমান জল প্রবাহঃ প্রবাহমান জলরাশি দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের মৃত্তিকা ক্ষয় হয়ে থাকে। যথাঃ চাদর ক্ষয়, নালি ক্ষয়, প্রণালী ক্ষয়, গালি ক্ষয় ইত্যাদি।
বায়ুপ্রবাহঃ প্রধানত শুষ্ক অঞ্চলে এই পদ্ধতিতে মৃত্তিকা ক্ষয় হয়ে থাকে।
ভূপ্রকৃতিঃ ভূমির ঢাল এবং তার প্রকৃতি ভূমিক্ষয় এর অন্যতম কারণ।
বৃষ্টিপাতের প্রকৃতিঃ প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় বৃষ্টির কনাগুলি মাটিতে সজোরে আঘাত করে থাকে। ফলত মৃত্তিকা ক্ষয় ঘটে থাকে।

https://www.abvrp.com/2020/06/what-is-gully-erosion-cause-effect.html

মানুষ দ্বারা সৃষ্ট কারণসমূহঃ
মানুষ দ্বারা সৃষ্ট মৃত্তিকা ক্ষয়ের অন্যতম কারণ সমূহ হলো- জনসংখ্যার চাপ, অবৈজ্ঞানিক খনন প্রক্রিয়া, অনিয়ন্ত্রিত পশুপালন, ভূমিধ্বস, বৃক্ষচ্ছেদন ইত্যাদি।

ভারতবর্ষে মৃত্তিকা ক্ষয় অঞ্চলসমূহঃ

জায়গার নাম
মৃত্তিকা ক্ষয়ের কারণ সমূহ
পাঞ্জাব, হরিয়ানা
অরণ্য ধ্বংস এবং প্রবাহমান জলধারা।
হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল
হিমবাহের দ্বারা।
অন্ধপ্রদেশ রাজস্থান মধ্যপ্রদেশের কম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থান
পশুচারণ এবং কম বৃষ্টিপাত
ভারতের উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল সমূহ
সমুদ্র তরঙ্গের দ্বারা
অরুণাচল, অসমের কিছু অংশ এবং মণিপুর
স্থানান্তর চাষবাস
উত্তর প্রদেশ বিহার রাজস্থান
প্রবাহমান জলধারা দ্বারা।
মহানদী গোদাবরী এবং কাবেরী নদীর অববাহিকা
প্রবাহমান জলধারা দ্বারা।
মধ্যপ্রদেশের কিছু অংশ এবং রাজস্থান
প্রবাহমান জলধারার কারণে

মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলাফলসমূহঃ
মৃত্তিকা ক্ষয়ের ফলে মানুষ এবং প্রকৃতি বিভিন্নভাবে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে। যেমন-
১) উর্বর মৃত্তিকার উপরিস্থলের অপসরণ,
২) ভৌম জলের উষ্ণতা হ্রাস এবং মাটির আর্দ্রতার পরিমাণ হ্রাস,
৩) মরু অঞ্চলের বিস্তার,
৪) বন্যা এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভূমিধসের সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি।

ভূমিক্ষয় রোধ এবং সংরক্ষণঃ

jhum cultivation bangla bhugol class 10 madhyamik

Images Source 

কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করে আমরা সহজেই মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করতে পারি। যেমন- বৃক্ষরোপণ, ফালি চাষ, ঝুম চাষ রোধ, সমন্বিত রেখা বরাবর চাষ, গালিচাষ, ইত্যাদি।

জুম চাষ | Jhum Cultivation

ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ
প্রাকৃতিক জলবায়ুতে মাটির উপর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদের আমরা স্বাভাবিক উদ্ভিদ বলে থাকি। ভারতের জলবায়ু এবং মৃত্তিকার তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে, বিভিন্ন ধরনের স্বাভাবিক উদ্ভিদ লক্ষ্য করা যায়। ভারতবর্ষে বনভূমির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ অনেকটা কম ইহার মান মাত্র 21.05%।

স্বাভাবিক উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগঃ ভূ-প্রাকৃতিক তারতম্যের নিরিখে, বিজ্ঞানী পুরী, লেগ্রিস এবং চ্যাম্পিয়ন স্বাভাবিক উদ্ভিদ কে প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন। এছাড়াও ষোলটি অপ্রধান ভাগও বর্তমান।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমিঃ
ভারতবর্ষে যে সকল অঞ্চলে বছরে গড়ে 200 সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হয় এবং যে সকল অঞ্চলের উষ্ণতা 25 থেকে 27 ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে বিচরণ করে, সেই সকল অঞ্চলে আমরা সহজেই ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি দেখতে পাই।
আঞ্চলিক বন্টনঃ আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল, হিমালয়ের পাদদেশে তরাই অঞ্চল, প্রভৃতি স্থানে এইজাতীয় বনভূমি লক্ষ্য করা যায়।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
এই বনভূমিতে খুব দীর্ঘ প্রকৃতির উদ্ভিদ লক্ষ্য করা যায়।
অতিবৃষ্টি, আদ্রতা এবং অধিক উচ্চতার কারণে এই বনভূমির গাছগুলি সর্বদা চিরহরিৎ থাকে।
এই বনভূমির উদ্ভিদ গুলির কাঠ খুব ভারী এবং শক্ত হয়।
ক্রান্তীয় পর্ণমোচী অরণ্যঃ
ভারতবর্ষের অর্ধেকেরও বেশি ভাগ বনভূমি অঞ্চলে এই জাতীয় অরণ্য লক্ষ্য করা যায়। এই অরণ্যে গড় বৃষ্টিপাত বার্ষিক 60 থেকে 150 সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এই অঞ্চলের উষ্ণতা 26 থেকে 30 দিনের মধ্যে বিতরণ করে।
আঞ্চলিক বন্টনঃ উচ্চ, মধ্য এবং নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি, পশ্চিমঘাট পর্বতের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল, শতদ্রু সমভূমি, এবং ব্রহ্মপুত্র সমভূমি তে এই জাতীয় অরণ্য লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান উদ্ভিদঃ অর্জুন, শাল, শিমুল, পলাশ, কাঁঠাল, বট, সেগুন, যাম, ইত্যাদি
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
এই জাতীয় বনভূমিতে খুব দীর্ঘ প্রকৃতির উদ্ভিদ লক্ষ্য করা যায় না।
এই বনভূমিতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করে।
গাছগুলির কাঠ অত্যন্ত শক্ত এবং ভারী হয়ে থাকে।
বসন্তকালে এই অরন্যের গাছগুলি তাদের পাতা ঝরিয়ে দেয়।
ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদঃ
ভারতবর্ষের যে সকল স্থানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বছরে গড়ে 25 থেকে 50 সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং উষ্ণতা 35 থেকে 40 ডিগ্রি সেলসিয়াসে ভেতর বিচরণ করে এবং যে সকল স্থানে স্বল্প আদ্রতা বিচরণ করে, সেই সকল স্থানে ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ লক্ষ্য করা যায়।
আঞ্চলিক বন্টনঃ পশ্চিম পাঞ্জাব এবং পশ্চিম হরিয়ানার কিছু অংশ, পশ্চিম রাজস্থানের মরু অঞ্চল, কচ্ছ এবং কাথিয়াবাড় উপদ্বীপের কিছু অংশে এই জাতীয় উদ্ভিদ লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান উদ্ভিদসমূহঃ খেজুর, ফনিমনসা,বাবলা, জুলিফ্লোরা, ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
অধিক উষ্ণতা এবং অল্প বৃষ্টিপাতের জন্য এই জাতীয় গাছ গুলি কাঁটাযুক্ত এবং ঝোপ জাতীয় হয়ে থাকে।
এই জাতীয় উদ্ভিদের শেখড় মাটির গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করে থাকে জলের উদ্দেশ্যে।
উদ্ভিদ গুলি বহু দুরে দুরে বিক্ষিপ্তভাবে বিচরণ করে।
এই জাতীয় উদ্ভিদের কান্ড মোমাবৃত থাকে।
পার্বত্য উদ্ভিদঃ
আঞ্চলিক বন্টনঃ বিভিন্ন বৃষ্টি উষ্ণতা উচ্চতার তারতম্যের ফলে পার্বত্য উদ্ভিদের মধ্যে বৈচিত্রতা লক্ষ্য করা যায়। ভারতের পার্বত্য বনভূমিকে, মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের পার্বত্য বনভূমিঃ দক্ষিণ ভারতে নীলগিরি, পশ্চিমঘাট ইত্যাদি পর্বত এবং মধ্য ভারতের মহাকাল, মহাদেব এবং সাতপুরা পাহাড়ের পার্বত্য অঞ্চলে পার্বত্য বনভূমি লক্ষ্য করা যায়। এই সকল অঞ্চলে এক হাজার থেকে দেড় হাজার মিটার উচ্চতায় চিরহরিৎ অরণ্য এবং দেড় হাজার মিটারের অধিক উচ্চতায় আদ্র নাতিশীতোষ্ণ অরণ্য লক্ষ্য করা যায়।
উদ্ভিদঃ দেওদার, রডোডেনড্রন, ম্যাগ্নোলিয়া ইত্যাদি।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
পার্বত্য অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত অল্প তাপমাত্রা এবং অধিক আর্দ্রতা যুক্ত স্থানে চিরহরিৎ বনভূমি লক্ষ্য করা যায়।
মরুভূমি তলদেশে এবং পরজীবী উদ্ভিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

https://www.prepareexams.in/2020/05/natural-vegetation-of-india.html
হিমালয়ের পার্বত্য বনভূমিঃ
হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে, উচ্চতার তারতম্যের সাথে বৃষ্টিপাত এবং উষ্ণতারও তারতম্য ঘটে। তাই স্বাভাবিক উদ্ভিদের মধ্যেও এই তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
সরলবর্গীয় বনভূমির গাছগুলির উচ্চতা সাধারণত 30 মিটার হয়ে থাকে।
এই প্রজাতির উদ্ভিদ গুলির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জন্মগ্রহণ করে।
এই বনভূমির উদ্ভিদগুলির কান্ড নরম এবং হালকা হয়ে থাকে।
ম্যানগ্রোভ বনভূমিঃ
আঞ্চলিক বণ্টনঃ গঙ্গা, কৃষ্ণা, কাবেরী, গোদাবরী নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে, এবং আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের উপকূলবর্তী অঞ্চলে এই জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে থাকে।

https://www.istockphoto.com/photo/red-mangrove-forest-and-shallow-waters-in-a-tropical-island-gm171574670-21495516?utm_campaign=srp_photos_noresults&utm_content=https%3A%2F%2Fwww.pexels.com%2Fsearch%2Fmanograve%2F&utm_medium=affiliate&utm_source=pexels&utm_term=manograve
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
এই জাতীয় উদ্ভিদ গুলি সারাবছর চিরহরিৎ প্রকৃতির হয়ে থাকে।
কাদা এবং বালি যুক্ত আলগা মাটিতে ভিন্নভাবে আটকে থাকার জন্য, এই জাতীয় উদ্ভিদ স্তম্ভ মূল এবং ঠেসমূলের ব্যবহার করে থাকে।
এই জাতীয় উদ্ভিদ দ্বারা সৃষ্ট বনভূমি খুব ঘন প্রকৃতির হয়ে থাকে।
এই জাতীয় উদ্ভিদের শ্বাসমূল দেখা যায়।

ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের ব্যবহারসমূহঃ
ভারতবর্ষের বিভিন্ন বৈচিত্রের জন্য বিভিন্ন রকমের স্বাভাবিক উদ্ভিদ লক্ষ্য করা যায় এবং এই সকল উদ্ভিদ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয় যেমনঃ

শিল্পজ কাঠ হিসেবেঃ প্যাকিং বাক্স, দেশলাই, আসবাবপত্র, গৃহের বিভিন্ন কাজে, নৌকা, জাহাজ, প্রভৃতির তৈরির কাজে কাঠই হল কাঁচামাল।

জ্বালানি কাঠ হিসাবেঃ জ্বালানি কাঠ হিসাবে বিভিন্ন গাছ যেমন সুন্দরী বাবলা, ইত্যাদির কাঠ এবং শুকনো ডালপালা ব্যবহৃত হয়।

উপজাত দ্রব্যসমূহঃ ভারতের বনভূমি থেকে বিভিন্ন ধরনের উপজাত দ্রব্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। যেমন- মোম, রেশম কীট, আঠা, ইত্যাদি যা নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়াও ওষুধ তৈরিতে, পশুদের খাদ্য যোগানে এবং প্রোটিন খাদ্য ভান্ডার হিসেবে ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদসমূহ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

অরণ্য সংরক্ষণঃ
যে কোন জিনিসের সংরক্ষণ বলতে আমরা বুঝি, তাহার অপব্যবহার বন্ধ করে সুপরিকল্পিতভাবে, তাহার সঠিক ব্যবহার। তাই এই অমূল্য সম্পদের সংরক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরী। অরণ্য কে সঠিকভাবে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ব্যবহার করাই হল অরণ্য সংরক্ষণ।

অরণ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি সমূহঃ
বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে আমরা অরণ্য সংরক্ষণ করে থাকি। যেমন- অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃক্ষচ্ছেদন রোধ করে, অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করে দিয়ে, কাঠের জ্বালানির পরিবর্তে অন্য কোন বিকল্পকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে, রাসায়নিক এবং জৈবিক উপায় বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ করে, দাবানল থেকে অরণ্য কে রক্ষা করে, অরণ্যে পশুচারণ নিয়ন্ত্রিত রেখে এবং সর্বশেষে বনসৃজন এবং পুনবনসৃজনের ব্যবহারে।

সামাজিক বনসৃজনঃ
সামাজিক বনসৃজন হল সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে প্রধানত ভারতীয় গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে, দরিদ্র এবং অনুন্নত আদিবাসীদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নতি সাধনের উদ্দেশ্যে নতুন করে গাছ লাগিয়ে অরণ্য তৈরি করা। বর্তমানে এই জাতীয় বনসৃজনের দ্বারা সড়ক পথ, রেললাইন, নদী ইত্যাদির দুপাশে এবং শিল্পাঞ্চলের ফাঁকা স্থানে বহু গাছ লাগিয়ে কৃত্রিম অরণ্য সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। এই জাতীয় বনসৃজনের মূল উদ্দেশ্য হলো, কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের আর্থিক উন্নতি ঘটানো, বিভিন্ন উপজাত দ্রব্য, কাঠ, এবং পশু খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা, বাস্তুতন্ত্র কে রক্ষা করা এবং পরিবেশের সামঞ্জস্য এবং ভারসাম্য বজায় রাখা।

http://bengaliessays.blogspot.com/2021/01/bengali-essay-on-forestry-project-paragraph-writing-for-class-iii-vi.html

কৃষি বনসৃজনঃ
Video: https://www.youtube.com/watch?v=2JkOu51HlbA
এই জাতীয় বনসৃজনে কৃষকরা, তাদের কৃষি জমির পাশে, অব্যবহৃত স্থানে বৃক্ষ এবং অন্যান্য শস্যের চাষ করে থাকে। এই জাতীয় বনসৃজনে ব্যবহৃত, মূল উদ্ভিদসমূহ হলঃ বাসক, তুলসী, নয়ন তারা, আকাশমনি, কালমেঘ প্রভৃতি। কৃষি বনসৃজনের মূল উদ্দেশ্য হলো, কৃষি জমিতে জৈব সারের পরিমাণ বৃদ্ধি করা, ভূমিক্ষয় রোধ করা এবং প্রাকৃতিক সামঞ্জস্য অর্থাৎ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা।

MCQ SHort Questions (1 Marks)

Chapter- 5.1 ভারত

1.কোনটা ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা?
৮২°২২’ পূর্ব
৮২°২৯ পূর্ব
৮২°৩০’ পূর্ব
৮২°৩২’ পূর্ব
Ans-3

2.অক্ষাংশগত হিসেবে ভারত কোন গোলার্ধে অবস্থিত ?
উত্তর
দক্ষিণ
পূর্ব
পশ্চিম
Ans-3

3.গুজরাটের কচ্ছের রণ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত ভারতের প্রস্থ কতটা?
২৯৩৩ কিমি
২৯৬২ কিমি
৩৪১৪ কিমি
২১২৬ কিমি
Ans-1

4.আয়তন হিসেবে ভারত পৃথিবীর কত নম্বর স্থানে আসে?
সপ্তম
অষ্টম
পঞ্চম
দশম
Ans

5. ভারতবর্ষে মােট কটি অঙ্গ রাজ্য ছিল ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালের আগে ?
২৫
২৮
২৭
২১
Ans-2

6. কীসের ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন করা হয়েছিল?
সীমানা
শিক্ষা
ভাষা
জাতি
Ans- 3

7.১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠনের সময় ভারতবর্ষের রাজ্যপাল শাসিত রাজ্য (অঙ্গরাজ্য) কত গুলো ছিল?
১৪
১২
১৬
১১
Ans – 1

8.কর্নাটক রাজ্যের আগের নাম কি ছিল ?
ম্যাঙ্গালোরে
কুর্গ
ইউনাইটেড প্রভিন্স
মাইসোর
Ans – 4

9.বর্তমানে ভারতের মোট রাজ্য সংখ্যা কতগুলি ?
২১
২৪
২৯
৩২
Ans – 3

10.মধ্যপ্রদেশ রাজ্য ভাগ হওয়ার পরে নতুন রাজ্যটি নাম কি?
ছত্তিশগড়
উত্তরাখণ্ড
বিহার
নয়ডা
Ans – 1

11. বর্তমান সময়ে ভারতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা কত?




Ans – 2

12. কোন শহরের উপর দিয়ে ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমারেখা গেছে ?
এলাহাবাদ
লাদাখ
চন্ডিগড়
দিল্লি
Ans – 1

13. ভারতের মূল ভূখণ্ডের, দক্ষিণতম বিন্দু কোনটি ?
ইন্দিরা পয়েন্ট
আন্দামান
কোচিন
কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ
Ans – 1

14.ভারত ও পাকিস্তানের সীমারেখার নাম কী?
ম্যাকমােহন লাইন
রাডক্লিফ লাইন
প্রিন্সেপ লাইন
কোনােটাই নয়
Ans – 2

15.ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে কি অবস্থিত?
১০° চ্যানেল
পক্ প্রণালী
সুয়েজ ক্যানেল
ইংলিশ চ্যানেল
Ans- 2

16.আয়তন অনুযায়ী ভারতের কোন রাজ্য বৃহত্তম ?
1.মধ্য প্রদেশ
2.উত্তর প্রদেশ
3.রাজস্থান
4. গুজরাট
Ans. 1

17.কত সালে ভারতে “রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন” স্থাপিত হয়?
১৯৫৩ সালে
১৯৪৭ সালে
১৯৫৫ সালে
১৯৫৬ সালে
Ans- 4

18.ঝাড়খণ্ডের রাজধানীর নাম কি ?
জামসেদপুর
রায়পুর
পাটনা
রাঁচি
Ans- 4


সত্য মিথ্যা যাচাই করুন
সবচেয়ে বেশি ভারতে জলসেচযুক্ত কৃষিজমি রয়েছে পাঞ্জাবে।
Ans. সত্য

পাঞ্জাবে উৎপাদিত হয় ভারতের মােট গম উৎপাদনের প্রায় 13%, ধান উৎপাদনের প্রায় 11% কার্পাস উৎপাদনের প্রায় 7% ।
Ans. সত্য

প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যােজনা 2013 সালে সরকার ঘােষণা করেছে ।
Ans. সত্য

কার্পাসবয়ন শিল্প ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যময় একক বৃহত্তম শিল্প।
Ans. সত্য

কার্পাস বা তুলাে হলাে কার্পাসবয়ন শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ।
Ans. সত্য

সর্বাধুনিক পেট্রোরসায়ন কেন্দ্র ন্যাশনাল অরগ্যানিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড 1968 সালে বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত হয় ।
Ans. সত্য

কোম্পানি ভারতের 35 শতাংশেরও বেশি আইটি বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত।
Ans. সত্য

চেন্নাই হলাে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র ।
Ans. সত্য

ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র হলাে হায়দরাবাদ ।
Ans. সত্য

আমেরিকায় 1790 সালে আধুনিক কালে প্রথম আদমশুমারি হয় ।
Ans. সত্য

ভারতে 1881 সাল থেকে প্রথম প্রথাগতভাবে |
Ans. সত্য

ভারতে এখন পর্যন্ত (2011) 14 বার আদমশুমারি হয়েছে।
Ans. সত্য

ভারতে বর্তমানে মৃত্যুহার প্রতি হাজারে 7,3 জন।
Ans. সত্য

সমগ্র পৃথিবীর জনসংখ্যার 17.5 শতাংশ মানুষ ভারতে বসবাস করে।
Ans. সত্য

“আমাদের জনগণনা আমাদের ভবিষ্যৎ” 2011 সালের আদমশুমারির স্লোগান ছিল |
Ans. সত্য

উত্তরপ্রদেশের কানপুর পাঁচটি জাতীয় জলপথ ও রেলপথের মধ্যে অবস্থিত।
Ans. সত্য

‘ভারতে সড়কপথের মােট দৈর্ঘ্য = 48.85 লক্ষ কিমি 2013 সালের হিসাব অনুযায়ী ।
Ans. সত্য

ভারতে 2014 সালের 31 মার্চ পর্যন্ত জাতীয় সড়ক পথের দৈর্ঘ্য – 92851 কিমি।
Ans. সত্য


5.2 ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ

1.হিমালয়-হল একটি
নবীন ভঙ্গিল পর্বত
প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত
সঞ্চয়জাত পর্ব
স্তূপ পর্বত
Ans- 1

2.ট্রান্স হিমালয় নিম্নলিখিত কোন পর্বতশ্রেণী কে বলা হয় ?
জার পর্বতশ্রেণি
পীরপানজাল পর্বতশ্রেণি
কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি
লাডাক পর্বতশ্রেণি
Ans- 3

3. হিমালয় পর্বতের বিস্তার পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় কত কিলোমিটার ?
২৪০০ কিমি
২৫০০ কিমি
২৬০০ কিমি।
২৭০০ কিমি
Ans- 1

4.এদের মধ্যে কোনটি হিমালয় পর্বতের ২য় উচ্চতম শৃঙ্গ?
মাউন্ট এভারেস্ট
কাঞ্চনজঙ্ঘা
K2 বা গডউইন অস্টিন
নাঙ্গা পর্বত
Ans- 2

5. সিয়াচেন হিমবাহ কোথায় অবস্থিত?
জম্মু ও কাশ্মীরে
পাকিস্তানে
হিমাচল প্রদেশে
তিব্বতে
Ans- 1


6.কোন দেশে মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত ?
ভারত
ভূটান
নেপাল
চিন
Ans- 3

7.হিমালয় পূর্বদিকে কতদূর বিস্তৃত ?
নাঙ্গা পর্বত
খাসি পাহাড়
নামচাবারােয়া
শিবালিক
Ans- 3

8. কোন পর্বতে সিয়াচেন হিমবাহ অবস্থিত ?
লাদাখ
কারাকোরাম
হিমালয়
পীরপানজাল
Ans- 2

9 .কোন রাজ্যকে পঞ্চ নদের দেশ বলা হয়?
অপ্রদেশ
পাঞ্জাব
জম্মু ও কাশ্মীর
উত্তরাখণ্ড
Ans- 2

10.কোন মালভূমি গারাে, খাসি, জয়ন্তিয়া, মিকির প্রভৃতি পাহাড় দিয়ে ঘেরা?
তিব্বত
লাডাক
মেঘালয়
ছােটোনাগপুর
Ans- 3

11. কোন রাজ্যে নাগা ও কোহিমা পাহাড় দেখা যায় ?
অরুণাচল প্রদেশ
মিজোরাম
নাগাল্যান্ড
মণিপুর
Ans- 3

12. মুম্বাই ও পুনের মধ্যে অবস্থিত গিরিপথটির নাম কি ?
পালঘাট
থলঘাট
ভোরঘাট
হলদিঘাট
Ans- 3

13. নবীন পলিমাটি দিয়ে তৈরী উচ্চ গঙ্গা সমভূমি অঞ্চলকে কি বলে?
ভাঙ্গার
ভাবর
খাদার
ভুর
Ans -3

 

14. কী জাতীয় পর্বত বিন্ধ্য পর্বত?
ভঙ্গিল পর্বত
সঞ্চয়জাত পর্বত
স্তুপ পর্বত
ক্ষয়জাত পর্ব
Ans- 3

15. কোন্ পর্বতের উল্লেখ যোগ্য শৃঙ্গ আর্মাকোন্ডা ?
পূর্বঘাট
শিবালিক
পশ্চিমঘাট
আরাবল্লী
Ans- 1

16.নিচের তালিকার কোনটি পশ্চিমঘাটের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ?
সালহের
কুদ্রেমুখ
ভাভুলমালা
কলসুবাই
Ans- 3

17. কোন্ নদীর থেকে গেরসােপ্পা জলপ্রপাত উৎপন্ন হয়েছে?
সবরমতী
সরাবতী
নর্মদা
তাপ্তি
Ans- 2

18.এদের মধ্যে কোনটি মালাবার উপকূলের দীর্ঘতম কয়াল ?
1. অষ্টমুদি
2.কায়মকুলম
3. ভেম্বানাদ
4.পুশমীকোটা
Ans- 3

19. ভারতের কোন রাজ্যে বেশিরভাগ মরুভূমি অবস্থিত?
গুজরাট
পাঞ্জাব
রাজস্থান
হরিয়ানা
Ans- 3

20. রাজস্থানে যে শুষ্ক হ্রদ পাওয়া তাকে কি বলে?
1. হামাদা
2.রণ
3. ধান্দ
4.বাগার
Ans- 3

21. কোন রাজ্যে মালাবার উপকূল অবস্থিত?
(ক) মহারাষ্ট্র রাজ্যে
খ) কেরালা রাজ্য
গ) ওড়িশা রাজ্যে
ঘ) তামিলনাড়ু রাজ্যে
Ans- 2

22. এদের মধ্যে ভারতের পূর্ব উপকূলের বৃহত্তম হ্রদ কোনটি ?
চিল্কা
কোলেরু
ভেম্বানাদ
পুলিকট
Ans- 1

23.এদের মধ্যে কোনটি দক্ষিণ ভারতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ?
ভাবুলমালা
দোদাবেতা
আনাইমুদি
নীলগিরি
Ans- 3

24.’বসুন্ধরা ধবলশীর্ষ’ নামে কোন পর্বত পরিচিত?
কারাকোরাম
পামির
মাউন্ট এভারেস্ট শৃঙ্গ
হিমান্ত্রি হিমালয়
Ans- 1

25.এদের মধ্যে কোনটি আন্দামান ও নিকোবরের সর্বোচ্চ শৃঙ্গা?
ব্যারেন
গিরনার
নারকোন্ডাম
স্যাডলপিক
Ans- 4



5.3 ভারতের জলসম্পদ

1.ভারতে গঙ্গা নদীর মােট দৈর্ঘ্য কত ?
২০৭৫
২৫২৫
২০৭১
২৫০০
Ans- 3

2. তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদ কে কী নামে ডাকা হয় ?
ডিহং
সাংপাে
লােহিত
দিবং
Ans – 2
3.ভারতের দীর্ঘতম উপনদী কোনটি ?
শতদ্রু
যমুনা
শােন
হুগলী
Ans- 2

5. গঙ্গার উচ্চগতি উৎপত্তিস্থল থেকে কতদূর?
হরিদ্বার
দেবপ্রয়াগ
বিহার
মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান
Ans – 1

6. এর মধ্যে কোনটি গঙ্গার বামতীরের উপনদী?
যমুনা
চম্বল
সোন
গোমতী
Ans – 4

7.হাওড়া ও কলকাতা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় গঙ্গা কে নামে ডাকা হয় ?
গঙ্গা
হুগলী
ভাগীরথী
সুবর্ণরেখা
Ans- 2

8.ভারতে সবথেকে বেশি পরিমান জল বহনকারী নদীটির নাম কি ?
ব্রৰ্ম্মপুত্র
গঙ্গা
সিন্ধু
যমুনা
Ans -1

9.কোন্ নদী থর মরুভূমির মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে ?
নর্মদা
লুনি
তাণ্তি
মহানদী
Ans – 2

10.অলকানন্দা নদী কোথায় গঙ্গায় এসে মিলিত হয়েছে?
দেবপ্রয়াগ
গােমুখগুহা
এলাহাবাদ
বিহার
Ans – 1

11.লুনি নদী কোথায় এসে মিশেছে?
কচ্ছ উপসাগরে
খাম্বাত উপসাগর
কাম্বে উপসাগর
কচ্ছের রণে
Ans – 4

12.তাপ্তী নদী কোথায় এসে মিশেছে?
খাম্বাত উপসাগরে
কাম্বে উপসাগরে
আরব সাগরে
কচ্ছের রণে
Ans- 1

13.কোন নদীর উপর হিরাকুদ বাঁধ দেওয়া হয়ছে?
মহানদী
কৃয়া
সুবর্ণরেখা
কাবেরী
Ans- 1

14. নর্মদা নদীটি কোন দিকে বয়ে গেছে ?
পশ্চিমবাহিনী
দক্ষিণবাহিনী
পূর্ববাহিনী
উত্তরবাহিনী
Ans- 1

15.কোন নদীকে দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বলা হয়?
নর্মদা
কাবেরী
কৃয়া
গোদাবরী
Ans- 4

16.উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের জলবিভাজিকা কোনটি ?
সাতপুরা পর্বত
আরাবল্লী পর্বত
বিন্ধ্য পর্বত।
হিমালয় পর্বত
Ans – 3

17.গােদাবরী নদীর উৎস কি ?
মহারাষ্ট্রের মহাবালেশ্বর
পশ্চিমঘাট পর্বতের ব্লগিরি পাহাড়
ট্রিম্বক মালভূমি
দণ্ডকারণ্য
Ans- 3

18. কোন্ নদীর ওপর শিবসমুদ্রম জলপ্রপাতটি অবস্থিত?
গােদাবরী
সিন্ধু
নর্মদা
কাবেরী
Ans – 4

19.নিচের তালিকায় দেওয়া কোন্ নদীর মােহনায় ব-দ্বীপ নেই?
নর্মদা
মহানদী
ক্রিয়া
গােদাবরী
Ans- 1

20.ভারতের দুটি পশ্চিমবাহিনী নদী নাম কি ?

গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র
মহানদী ও মাহী
নর্মদা ও তাপ্তী।
কৃষ্ণা ও কাবেরী
Ans- 4

21.সবরমতী নদীর তীরে কোন বিখ্যাত শহর অবস্থিত?
সুরাট
পােরবন্দর
গান্ধীনগর
আমেদাবাদ
Ans- 3

22. কোন নদীর ওপর হুড্রু জলপ্রপাতটি অবস্থিত?
1.সুবর্ণরেখা
2. দামােদর
3.সোরাবতী
4. কাবেরী
Ans- 1

23. কোনটি ভারতের বৃহত্তম উপহ্রদ?
1.ভেম্বানাদ
2.কোলেরু
3.চিল্কা
4.কাবেরী
Ans- 3

24. কোথা দিয়ে নর্মদা ও তাপ্তি নদী দুটি প্রবাহিত হয়েছে?
হিমবাহ উপত্যকা
সমভূমি
গ্রস্থ উপত্যকা
গিরিখাত
Ans- 3

25.কোথায় লােকটাক হ্রদ অবস্থিত?
মণিপুর
ত্রিপুরা
নাগাল্যান্ড
মিজোরাম
Ans- 1

26. কোন নদীর তীরে হরিদ্বার ও বারাণসী শহর দুটি অবস্থিত?
যমুনা
শােন
গঙ্গা
ঘরে ঘরে
Ans- 3

27) কোন্ রাজ্যে গঙ্গা নদীর দৈর্ঘ্য সবথেকে বেশি ?
1.উত্তরাখণ্ড
2.উত্তরপ্রদেশ
3.পশ্চিমবঙ্গ
4.বিহার
ANS- 1

28.কোন নদীর তীরে গুয়াহাটি অবস্থিত?
1.গঙ্গা
2.তিস্তা
3.ব্রহ্মপুত্র
4.সিন্ধু
ANS- 3

29. নিচের কোন নদী বিন্ধ্য ও সাতপুরা পর্বতের মাঝে অবস্থিত ?
তাপ্তী
নর্মদা
সরাবতী
মাহী
ANS- 2
30. ডিহং, ডিবং, লােহিত মিলিত হয়ে কোন নদী সৃষ্টি করেছে ?
ব্ৰষ্মপুত্র
যমুনা
সুবর্ণরেখা
মাহী।
ANS- 1

31. এর মধ্যে কোনটি বিশ্বের উচ্চতম লবণাক্ত জলের হ্রদ?
কালিভেলি
প্যাংগং
সল্টলেক
উলার।
ANS- 2

32.এর মধ্যে কোনটি ভারতের স্বাদু জলের হ্রদ?
অষ্টমুদী
পুলিকট
কোলেরু
চিল্কা
ANS- 3

33. প্লায়া কোন্ অঞ্চলের লবণাক্ত জলের হ্রদকে বলে?
উত্তরপ্রদেশ
গুজরাট
রাজস্থান।
অন্ধ্রপ্রদেশ
ANS- 3

34. কোন নদীর ওপর নাগার্জুন সাগর জলাশয় নির্মিত?
গােদাবরী
যমুনা
গঙ্গা
কৃষ্ণা
ANS- 4

35.দুর্গাপুরে দামােদর নদের ওপর কি নির্মিতকরা হয়েছে ?
তিলাইয়া।
পাঞ্চেৎ
মাইথন
কোনার
ANS- 2

36. কোন নদী পরিকল্পনা স্বাধীন ভারতের প্রথম বহুমুখী নদী পরিকল্পনা?
1.DVC
2.ভাকরা- নাঙ্গাল
3. নাগার্জুন সাগর
4.তুঙ্গভদ্রা
Ans-1

37. কোন্ রাজ্যে হীরাকুঁদ প্রকল্প অবস্থিত ?
1.বিহার
2.ওড়িশা
3.ছত্তিশগড়
4.ঝাড়খন্ড
Ans- 2

38. কোন নদীর ওপর ভাক্রা-নাঙ্গাল নির্মিত পরিকল্পনা?
1. ইরাবতী
2.শতদ্রু
3. চন্দ্রভাগা
4.বিতস্তা
Ans- 2

39.কোন্ নদীকে পশ্চিমবঙ্গের “দুঃখের নদী” বলা হয় ?
1.দামােদর
2. সুবর্ণরেখা
3.তিস্তা
4.কংসাবতী
Ans- 1

40. কোন নদীর শাখানদী বরাকর , বোকারো ও কোনার ?
সুবর্ণরেখা
দামোদর
শতদ্রু
মহানদী
Ans- 2

41.ভারতের মধ্যে কোন্ রাজ্যে জলসেচ প্রদ্ধতি সবথেকে বেশি উন্নত?
পাঞ্জাব
হরিয়ানা
উত্তরপ্রদেশ
পশ্চিমবঙ্গ
ANS- 1

42. কোন্ নদীর উপনদী ইরাবতী নদী?
সিন্ধু
ব্রম্মপুত্র
গঙ্গা
ভাগীরথী
ANS- 1

43.গঙ্গা-নদীর প্রধান শাখা নদীটি কি ?
যমুনা
হুগলি
পদ্মা
গােদাবরী
ANS- 3

44) ব্রহ্মপুত্র নদের বৃহত্তম উপনদী কোনটি ?
মানস
তিস্তা
লােহিত
তাের্সা
ANS- 1

45) কোন নদীতে ভারতের বৃহত্তম নদী-দ্বীপ মাজুলী গড়ে উঠেছে?
1.ব্রহ্মপুত্র
2.গঙ্গা
3.সিন্ধু
4.গােদাবরী
ANS- 1



5.4 ভারতের জলবায়ু
1.কোন ঋতুতে কালে উত্তর ভারতের তাপমাত্রা সবথেকে বেশী হয়?
গ্রীষ্ম
শরৎ
বর্ষা
শীত
ANS- 1

2. ভারতের দুটি চরমভাবাপন্ন জলবায়ুযুক্ত শহর কোনগুলি?
কলকাতা ও কটক
গর্দিল্লী ও অমৃতসর
চেন্নাই ও মুম্বাই
ব্যাঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদ
ANS- 2

3.ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য কি?
1.ঋতু পরিবর্তন
2.অত্যধিক উয়তা
3.অত্যধিক বৃষ্টিপাত
4.ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রভাব
ANS- 1

4.কোন বায়ুপ্রবাহ ভারতের জলবায়ু কে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে?
মৌসুমি বায়ু
পশ্চিমা বায়ু
মেরুবায়ু আয়ন বায়ু

ANS- 1

5.ভারতের বৃষ্টিপাত অধিকাংশই কিভাবে হয়?
1.পরিচলন পদ্ধতিতে
2.ঘূর্ণবাত পদ্ধতিতে
3.শৈলােৎক্ষেপ পদ্ধতিতে
4.সংঘর্ষ পদ্ধতিতে
ANS- 3

6.কোন পর্বতের প্ৰভাবে ভারতের জলবায়ুর প্রভাবিত হয়?
পশ্চিমঘাট
হিমালয়
পূর্বঘাট
আরাবল্লী
ANS- 2

7. ভারতে মৌসুমি বায়ু কোন্ মাসে উপস্থিত হয়?
মে
জুলাই
জুন
আগস্ট
ANS- 3

8. ভারতের একটি স্থানীয় বায়ুর নাম করো?
লু
মৌসুমি বায়ু
আশ্বিনের ঝড়
পশ্চিমি ঝঞ্জা
ANS- 1

9. পশ্চিমবঙ্গে গ্রীষ্মের প্রথম ভাগে বিকেলের দিকে যে ঝড় বৃষ্টি হয় তাকে কি বলে?
আশ্বিনের ঝড়
আবৃষ্টি
কালবৈশাখী
বরদৈছিলা
ANS- 3

10.শীতল ও শুঙ্ক প্রকৃতির মৌসুমী বায়ু কোনটি?
দক্ষিণ-পশ্চিম
উত্তর-পূর্ব
উত্তর-পশ্চিম
দক্ষিণ-পূর্ব
ANS- 2

11. ভারতের কোন অংশে লু বায়ু প্রবাহিত হয় ?
উত্তর-পূর্ব
উত্তর
উত্তর-পশ্চিম
দক্ষিণ
ANS-3

12.ভারতের কোন্ রাজ্যে আঁধি দেখা যায়?
পশ্চিমবঙ্গ
কেরালা
জম্মু ও কাশ্মীর
রাজস্থান
ANS- 4

13.সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূমির উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা কি ভাবে পরিবর্তন হয়?
1.বাড়তে থাকে
2.অপরিবর্তিত থাকে
3. কমতে থাকে
4. দ্বিগুন বাড়তে থাকে
Ans- 3

14.নিচের গুলির মধ্যে ভারতের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলগুলির সারাবছরের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি?
1. প্রচণ্ড গরম।
2.প্রবল শুষ্কতা
3.প্রবল বৃষ্টিপাত
4.প্রবল শৈত্য
Ans- 4

15. ————ভারতে মৌসুমি বায়ুর স্থায়িত্বকাল সবচেয়ে কম থাকে ।
1.দক্ষিণ-পূর্ব
2.দক্ষিণ-পশ্চিম
3. উত্তর-পূর্ব
4.উত্তর-পশ্চিম
Ans- 3

16. কি প্রকৃতির জলবায়ু সমুদ্রের কাছে হয়?
1. উষ্ণ ও আর্দ্র
2. চরমভাবাপন্ন
3.সমভাবাপন্ন
4.শীতল ও শুষ্ক
Ans- 3

17. ভারতের কোন অংশে শীতল পার্বত্য জলবায়ুর প্রভাব দেখা যায়?
উত্তর
পূর্ব
দক্ষিণ
পশ্চিম
ANS- 1

18.ভারতে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস কোন ঋতু?
গ্রীষ্মকাল।
শরৎকাল
বর্ষাকাল
শীতকাল
ANS- 2

19. কোন্ উপকূলে প্রবল শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত ঘটায় আরবসাগরীয় মৌসুমি বায়ু ?
মালাবার
করমণ্ডল।
কোঙ্কণ
উত্তর সরকার
ANS- 1

20. কোন তাপমণ্ডলের অন্তর্গত ভারতের উত্তর অংশ?
ক্রান্তীয়
নাতিশীতোষ্ণ
হিমমণ্ডল
উয়ুমণ্ডল
ANS- 2

21.পশ্চিমবঙ্গে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় কী নামে পরিচিত?
কালবৈশাখী
পশ্চিমি ঝঞ্জা
আশ্বিনের ঝড়
বরদৈছিলা
ANS- 3

22. কোন শাখার প্রভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বৃষ্টিপাত হয় ।?
আরবসাগরীয়
বর্ঙ্গোপসাগরীয়
ভারত মহাসাগরীয়
কোনােটিই নয়
ANS- 2

23.দক্ষিণ ভারতের উল্লেখযােগ্য বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল কি?
লাদাখ
মালনাদ
শিলং
ছােটোনাগপুর মালভূমি
Ans- 2

২4. ভারতকে কোন পর্বতশ্রেণী উত্তরের রাশিয়া ও চিনের তীব্র শৈত্য প্রবাহ থেকে রক্ষা করে
1.কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি
2. হিমালয়
3.আরাবল্লী
4.বিন্ধ্য পর্বত
Ans-2

25. কোন ঋতুতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়?
1.বর্ষাকালে
2.গ্রীষ্মকালে
3.শরৎকালের শেষে
4.সারাবছর
Ans- 1

26.ভারতের একটি অত্যধিক বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলের নাম কি?
দাক্ষিণাত্য মালভূমি
কচ্ছের রণ
পূর্ব হিমালয় ও তরাই অঞ্চল
জম্মু কাশ্মীরের লাদাখ
ANS- 3

27.ভারতের একটি অতি অল্প বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চলের নাম কি?
পশ্চিম উপকূল
পশ্চিমবঙ্গ
গুজরাট
রাজস্থান
ANS- 4

28.ভারতের কোন উপকূলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়?
করমণ্ডল
উত্তর সরকার
মালাবার
কোঙ্কণ
ANS- 1

29.কর্ণাটকে আম্রবৃষ্টি কী নামে পরিচিত?
1.কালবৈশাখী
2.মৌসুমি বৃষ্টি
3.বরদৈছিলা
4.Cherry Blossom
Ans- 4


30.এর মধ্যে কোনটি ভারতের একটি শীতল মরু মালভূমি?
1. লাদাখ
2.মেঘালয়
3.ছোটনাগপুর
4. কালাহারি
Ans- 1



5.5 ভারতের মৃত্তিকা
1. তুলাে চাষ ভালাে হয় কোন মাটিতে?
1.কৃষ্ণ
2.পলি
3.লােহিত মৃত্তিকা
4.ল্যাটেরাইট
ANS- 1

2.কোন্ ধরনের মাটি ভারতের সমভূমি অঞ্চলে aaমূলত দেখা যায়?
কৃয় মৃত্তিকা
মরু মৃত্তিকা
লােহিত মৃত্তিকা
পাললিক মৃত্তিকা
ANS- 4

3. নবীন পলি দিয়ে নদীর প্লাবনভূমিতে কোন্ মাটি তৈরী হয়??
খাদার
ভুর
ভাঙ্গার
উষর
ANS- 1

4. উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমির নিচের এলাকায় বালিমিশ্রিত কোন্ মাটি দেখা যায়?
এঁটেল।
ভুর
ভাঙ্গার
কালার
ANS- 2

5.দাক্ষিণাত্যের লাভাগঠিত মালভূমি অঞ্চলে কি ধরণের মৃত্তিকা দেখা যায়?
লােহিত মৃত্তিকা
উষর মৃত্তিকা
কৃষ্ণ মৃত্তিকা
ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
ANS- 3

6.ভারতের মরুভূমি গবেষণা কেন্দ্র কোথায় রয়েছে?
দিল্লিতে
আমেদাবাদে
জয়পুরে
যােধপুরে
ANS- 4

7. কি সৃষ্টি হয় গ্রানাইট ও নিস্ শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ?
ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
কৃয় মৃত্তিকা
লােহিত মৃত্তিকা
রেগুর মৃত্তিকা
ANS- 3

8.কোন মৃত্তিকার জলধারণের ক্ষমতা কম বালির ভাগ বেশি থাকার ফলে?
পাললিক
লােহিত
কৃষয়
এঁটেল
ANS- 2

9.পরিপূর্ণভাবে বিশ্লিষ্ট জীবদেহবিশেষ যা সেমৃত্তিকায় মেশানো থাকে তা কী নামে পরিচিত?
হিউমাস
কালার
পিট
উষর
ANS- 1

10.মরু মৃত্তিকা কী প্রকৃতির হয়?
লবণাক্ত
অম্লধর্মী
ক্ষারধর্মী
কোনােটাই নয়
ANS- 3

11.লাল মাটিতে কীসের পরিমাণ বেশি থাকে?
হিউমাস
পটাশিয়াম
অ্যালুমিনিয়াম
লােহা
ANS- 4

12. কোন মাটির স্থানীয় নাম ‘সারাম’?
ল্যাটেরাইট
বেলেমাটি
লােহিত
ভুর
ANS- 1

13. কোথায় পদসল মৃত্তিকা দেখতে পাওয়া যায়।
আরাবল্লী পর্বতে
সাতপুরা পর্বতে
নীলগিরি পর্বতে
বিন্ধ্য পর্বতে
ANS- 3

14.কোন্ মৃত্তিকায় হিউমাসের পরিমাণ বেশি ?
সিরাজেম
পড়সল
পাললিক
কৃয়
ANS- 2

15. কোন ধরনের মৃত্তিকা আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাওয়া যায়?
1.লােহিত মৃত্তিকা
2.পাললিক মৃত্তিকা
3.ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
4,লােহিত মৃত্তিকা
Ans- 1

16.কি ধৌত প্রক্রিয়ায় উষ্ণ আর্দ্র জলবায়ুতে সৃষ্টি হয়—
1. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
2. পডসল মৃত্তিকা
3. পিট মৃত্তিকা
4.রেগুর মৃত্তিকা
Ans- 1

17. উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলের নদী উপত্যকার পুরােনাে পলিমাটিকে কি বলে?
1.ভুর
2. ভাঙ্গার
3.বেট
4. খাদার
ANS- 2

18. তরাই অঞ্চলের মৃত্তিকার অপর নাম কি ?
1. খাদার
2.ভাবর
3. ভাঙ্গার
4. ঊষার
Ans- 2

19. কৃষ্ণ মৃত্তিকায় জলধারণ ক্ষমতা কেমন?
1. খুব কম
2. মাঝারি
3.কম
4.খুব বেশি
ANS- 4

20. কোন মৃত্তিকায় ধৌত প্রক্রিয়া দেখা যায়?
পলি
ল্যাটেরাইট
পড়ল
রেগুর
ANS- 2

21. কোন মৃত্তিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় কৃষিতে?
পলি মৃত্তিকা
কৃষ্ণ মৃত্তিকা
লােহিত মৃত্তিকা
মরু মৃত্তিকা
ANS- 1

22. ইটের মতাে শক্ত ও লাল রঙের মৃত্তিকা কোনটি
1.কৃষ্ণ মৃত্তিকা
2.ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
3.লােহিত মৃত্তিকা
4,পডসল মৃত্তিকা
Ans- 2

23. কি ক্ষয়ের ফলে র‍্যাভাইন সৃষ্টি হয় ?
1.গালি
2. রিল
3. চাদর
4. নালি
Ans- 4

24. কোন মাটিতে মিলেট জাতীয় শস্য ভালো চাষ হয় ?
ল্যাটেরাইট
পার্বত্য অঞ্চলের
মরু
লবণাক্ত
Ans- 3

25. কোন মাটি চা ও কফি উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত?
1.পার্বত্য অঞ্চলের মাটি
2 .মরু মাটি
3.লোহিত মাটি
4. নদীতীরের মাটি
Ans- 1

26. নদী অববাহিকার সমভূমি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কোন মাটি দেখতে পাওয়া যায়?
1. কাদামাটি
2. পলিমাটি
3. লালমাটি
4. কাকরযুক্ত মাটি
Ans- 2

27. ভারতবর্ষে কোন মাটির প্রাধান্য বেশি?
ল্যাটেরাইট
পড়সল
কৃষি
পাললিক
ANS- 4

28. ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা পশ্চিমবঙ্গের কোন অঞ্চলে পাওয়া যায়?
হাওড়া
পুরুলিয়া
দার্জিলিং
বাঁকুড়া
ANS- 2

29. কোন্ রাজ্যে বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে মৃত্তিকা ক্ষয় সবথেকে বেশি দেখা যায়?
রাজস্থান
মধ্যপ্রদেশ
উত্তরপ্রদেশ
মহারাষ্ট্র
ANS- 1

30.পাহাড়ের ঢালু জমিতে সমান উচ্চতায় আড়াআড়ি ভাবে জমি কর্ষণ করে চাষ করাকে কি বলে?
ধাপ চাষ
ফালি চাষ
সমােন্নতি রেখা চাষ
ঝুম চাষ
ANS- 3



5.6 ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদ


১. যে অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমান ২০০ সেমি-এর বেশি, সেই অঞ্চলে কী জাতীয় বৃক্ষ দেখা যায়?
ক) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ
খ) আর্দ্র পর্ণমােচী
গ) সরলবর্গীয় উদ্ভিদ
(ঘ) ম্যানগ্রোভ
Ans ক

২. চিরহরিৎ অরণ্যের একটি উদ্ভিদের নাম চিহ্নিত করো-
(ক) রডােডেনড্রন গ। রােজউড।
(খ) ওয়ালনাট
(গ) রোজউড
(ঘ) গরান
Ans গ

৩.কোন্ অঞ্চলে গড়ে ৩৫-৪৫ মিঃ উঁচু বৃক্ষ পাওয়া যায় ?
ক) চিরহরিৎ
খ) পর্ণমােচী
গ) ম্যানগ্রোভ
(ঘ) আল্পীয়
Ans. ক

৪. কোথায় চিরহরিৎ বৃক্ষ পাওয়া যায়?
ক) পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্বঢালে ।
খ) গুজরাট
গ) পশ্চিমঘাট পর্বতের পশ্চিম ঢালে
ঘ) তামিলনাড়ু
Ans. গ

৫. রবার গাছের চাষ ভারতের কোন্ রাজ্যে সর্বাধিক হয় ?
(ক)কেরল
(খ)মহারাষ্ট্র
(গ) পশ্চিমবঙ্গ
(ঘ) উত্তরাখণ্ড
Ans. ক

৬. কোন্ অরণ্যের পরিমাণ ভারতে সবচেয়ে বেশি?
ক) আর্দ্র পর্ণমােচী
খ) শুষ্ক পর্ণমােচী
গ) চিরহরিৎ
ঘ) ম্যানগ্রোভ
Ans. ক

৭. সাধারণত ঘাস, গুল্ম এবং ছােটো ছােটো পাতাঝরা গাছকে এক কথায় কি বলে
ক)মরু উদ্ভিদ
খ) শুঙ্ক পর্ণমােচী।
গ) মিশ্র অরণ্য
ঘ) কোনােটাই নয়
Ans. খ

৮. কোন্ ধরণের উদ্ভিদ হিমালয়ের পাদদেশের তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়?
(ক) পর্ণমােচী
(খ) সরলবর্গীয়
(গ) ম্যানগ্রোভ
(ঘ) চিরহরিৎ
Ans. ক

৯. হিমালয়ের ৪০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় কোন ধরণের অরণ্য পাওয়া যায় ?
ক) সরলবর্গীয়
খ) আল্পীয়
গ) পাইন।
ঘ) চিরহরিৎ
Ans. ঘ

১০. কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদ যেটি মরু অঞ্চলে পাওয়া যায় তাকে কি বলে ?
ক) হ্যালােফাইট
খ) মেসোফাইট
গ) জেরােফাইট
ঘ) হেলিওফাইট
Ans. গ

১১.কোথায় মরু জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়?
ক) রাজস্থানের মরুপ্রান্তে
থ) ছােটোনাগপুর মালভূমিতে
গ) গ্রস্ত উপত্যকায়
(ঘ) তামিলনাড়ুর পশ্চিম দিকে
Ans. ক

১২. কোন উদ্ভিদ ভারতের মরু অঞ্চলে জন্মায়?
ক) ফণীমনসা
(খ) স্প্রুস
গ) ফার
ঘ) খয়ের
Ans. ক

১৩.কোন্ অরণ্যে রডােডেনড্রন, নাকস ভমিক্যা, জুনিপার ইত্যাদি উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়?
ক) সরলবর্গীয়
খ) আল্পীয়
গ) মিশ্র
(ঘ) চিরহরিৎ
Ans. খ

১৪. কী ধরনের বৃক্ষ পশ্চিমঘাট পর্বতের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়?
(ক) গুল্ম ও তৃণ
(খ) চিরহরিৎ
(গ) সরলবর্গীয়
(ঘ) ম্যানগ্রোভ
Ans. ক

১৫. যে অঞ্চলে চিরহরিৎ গাছ দেখা যায় সেই অঞ্চলে মাটির অবস্থা সারাবছর কেমন থাকে ?
ক) শুষ্ক
খ) জলমগ্ন
গ)আর্দ্র
ঘ) পাথুরে
Ans. গ

১৬.কোন গাছটি হুগলি নদীর মােহানায় বেশি দেখা যায়?
ক) পাইন
খ) শিশু
গ) ক্যাকটাস
ঘ)সুন্দরী
Ans. ঘ

১৭. কোন অঞ্চলে লম্বা ও ছুঁচালাে প্রকৃতির গাছ দেখতে পাওয়া যায়?
ক)সমভূমি অঞ্চলে।
খ) মরু অঞ্চলে
গ) পার্বত্য অঞ্চলে
ঘ) সুন্দরবন অঞ্চলে
Ans. গ

১৮.কোন্ মৃত্তিকায় সরলবর্গীয় উদ্ভিদ ভালাে জন্মায়?
ক) পডসল
খ) সিরোজেম
গ) লবণাক্ত
ঘ) কৃষ্ণ
Ans. ক

১৯. সুন্দরবনের নাম কোন গাছের নাম থেকে করা হয় ?
ক) সিঙ্কোনা
খ) সুন্দরী
গ) হেতাল
ঘ) গরান
Ans. খ

২০. ঠেসমূল যুক্ত গাছ ভারতের কোন অরণ্যে দেখা যায় ?
ক) পর্ণমােচী
খ) ম্যানগ্রোভ
(ঘ) মিশ্র
গ) আল্পীয়
Ans. খ

২১ অরণ্যের বিন্যাস সবথেকে কম কোন্ রাজ্যে?
ক) হরিয়ানা
খ) রাজস্থান
ঘ) পাঞ্জাব
গ) বিহার
Ans. ঘ

২২.কীসের প্রভাব ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের ওপর সবথেকে বেশি?
ক) মৃত্তিকা
খ)জলবায়ু
গ) ভূ-প্রকৃতি
ঘ) মানুষ
Ans. খ

২৩. কোন বদ্বীপে ভারতের সবথেকে বড় ম্যানগ্রোভ অঞ্চলটি অবস্থিত ?
ক) গােদাবরী বদ্বীপে
খ) গঙ্গা বদ্বীপে
গ) কাবেরী বদ্বীপে
ঘ) মহানদী বদ্বীপে।
Ans. খ

২৪. বনভূমি ভারতের কত শতাংশ অঞ্চলে পাওয়া যায় ?
ক) ২১.০৫%
(খ) ৩১.০৫%
গ) ৪১.০৫%
(ঘ) ৫১.০৫%
Ans. ক

২৫. কী জাতীয় সম্পদ অরণ্য ?
ক) প্রবাহমান
খ) ক্ষয়মান
গ) পুনর্ভব
ঘ) অপুনর্ভব
Ans. গ

২৬. ‘মৌসুমি অরণ্য’ ভারতের কোন অরণ্যে পরিচিত?
ক) চিরহরিৎ
খ) পর্ণমােচী
গ) ম্যানগ্রোভ
ঘ) সরলবর্গীয়
Ans. খ

২৭.কোন্ উদ্ভিদের চাষকৃষি বনসৃজনে করা হয় ?
ক) ইউক্যালিপটাস
খ) রডােডেনড্রন
গ) হেতাল
ঘ) ফণীমনসা
Ans. ক

২৮. বনসংরক্ষন আইন ভারতে কবে চালু করা হয় ?
ক) ১৯৭৫ সালে
খ) ১৯৭০ সালে
গ) ১৯৮০ সালে
ঘ) ১৯৮৫ সালে
Ans. গ

২৯. কোন প্রকৃতির উদ্ভিদ পশ্চিমবঙ্গে বেশিরভাগ পাওয়া যায় ?
ক) চিরহরিৎ প্রকৃতির
খ) আর্দ্র পর্ণমােচী প্রকৃতির
গ) ম্যানগ্রোভ প্রকৃতির হেক্টর প্রতি কত শতাংশ গাছ
(ঘ) সরলবর্গীয় প্রকৃতির
Ans. খ

৩০. কত শতাংশ হেক্টর প্রতি গাছ থাকলে অরণ্য বলা যায় ?
ক) ৫ শতাংশ
(খ) ১০ শতাংশ
গ) ১৫ শতাংশ
(ঘ) ২০ শতাংশ
Ans. ক



1 MARKS QUESTIONS
1.ভারতের কৃষিকাজের প্রকৃতি হল ?
ব্যাপক কৃষি
জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি
মিশ্র কৃষি
বাণিজ্যিক কৃষি।

2. একটি খারিফ শস্যের উদাহরণ হল –
গম
যব
ধান
তৈল বীজ
উত্তর : c) ধান।

3. একটি রবি শস্যের উদাহরণ হল –
পাট
ইক্ষু
তুলো
গম
উত্তর : d) গম।

4. একটি জায়িদ শস্য হল –
আউশ ধান
আমন ধান
রবার
যব
উত্তর : a) আউশ ধান।

5. একটি বাগিচা ফসল হল –
কার্পাস
চা
ভূট্টা
ডাল
উত্তর : b) চা।

6. ভারতের একটি অর্থকরী ফসল হল –
ধান
গম
পাট
জোয়ার
উত্তর : c) পাট।

7. রবি শস্য চাষ হয় –
গ্রীষ্মকালে
বর্ষাকালে
শরৎকালে
শীতকালে
উত্তর : d) শীতকালে।

8. “ তৃষ্ণার্ত ফসল “ হল –
পাট
ইক্ষু
ধান
গম
উত্তর : c) ধান।

9.ভারতে সর্বাধিক জলসেচ এর প্রয়োজন হয় যে ফসল উৎপাদনে –
পাট
তুলো
গম
ধান
উত্তর : c) গম।

10. ভারতের হেক্টর প্রতি গম উৎপাদনে যে রাজ্য প্রথম –
পাঞ্জাব
উত্তর প্রদেশ
বিহার
রাজস্থান
উত্তর : a) পাঞ্জাব।

11.সোনালিকা হল একধরনের উচ্চফলনশীল –
ধান বীজ
গম বীজ
পাট বীজ
কার্পাস বীজ
উত্তর : b) গম বীজ।

12. টেরারোসা জাতীয় লাল মাটিতে ভালো জন্মায় –
ইক্ষু
কার্পাস
কফি
মিলেট
উত্তর : c) কফি।

13.ভারতে কফি উৎপাদনে প্রথম –
কেরল
তামিলনাড়ু
কর্ণাটক
পাঞ্জাব
উত্তর : c) কর্ণাটক।

14.বীজ তন্তু বলা হয় –
পাটকে
কার্পাসকে
মিলেটকে
বাজরাকে
উত্তর : b) কার্পাসকে।

15.পিঙ্ক বোল – ওয়ার্ম যে চাষের প্রধান শত্রু –
ধান
গম
চা
কার্পাস
উত্তর : d) কার্পাস।

16.ভারতের সর্বাধিক ইক্ষু চাষের জমি রয়েছে –
উত্তরপ্রদেশ
বিহারে
গুজরাটে
পশ্চিমবঙ্গে
উত্তর : a) উত্তরপ্রদেশে।

17.হেক্টর প্রতি ইক্ষু উৎপাদনে প্রথম –
অন্ধ্রপ্রদেশ
বিহার
কর্ণাটক
তামিলনাড়ু
উত্তর : d) তামিলনাড়ু।

18.কষ্টসহিষ্ণু ফসল হল –
ধান
গম
মিলেট
কফি
উত্তর : c) মিলেট।

19.একটি বিশুদ্ধ কাঁচামাল হল –
তুলো
ধান
কয়লা
লোহা
উত্তর : a) তুলো।

20. ভারতে হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকারী রাজ্যটি হল –
পশ্চিমবঙ্গ
উত্তরপ্রদেশ
পাঞ্জাব
অন্ধ্রপ্রদেশ
উত্তর : a) পশ্চিমবঙ্গ।

21.ভারতে জোয়ার উৎপাদনে প্রথম স্থানাধিকারী রাজ্যটি হল –
মহারাষ্ট্র
উত্তরপ্রদেশ
বিহার
পশ্চিমবঙ্গ
উত্তর : a) মহারাষ্ট্র।

22.ভারতে ডাল জাতীয় শস্য চাষ করা হয় –
গ্রীষ্মকালে
বর্ষাকালে
শীতকালে
বর্ষাকালে ও শীতকালে।
উত্তর : d) বর্ষাকালে ও শীতকালে।

23. একটি অবিশুদ্ধ কাঁচামাল হল –
তুলো
পাট
আকরিক লোহা
লৌহ ইস্পাত

উত্তর : c) আকরিক লোহা।


24.একটি খনিজ ভিত্তিক শিল্প হল –
চা শিল্প
পশম শিল্প
বয়ন শিল্প
অ্যালুমিনিয়াম শিল্প
উত্তর : d) অ্যালুমিনিয়াম শিল্প।

25.একটি কৃষিজ কাঁচামাল ভিত্তিক শিল্প হল –
চিনি শিল্প
কাষ্ঠ শিল্প
পশম শিল্প
রেয়ন শিল্প
উত্তর : a) চিনি শিল্প।

26.একটি প্রাণীজ সম্পদ ভিত্তিক শিল্প হল –
বিস্কুট শিল্প
পশম শিল্প
বস্ত্রবয়ন শিল্প
ফার শিল্প
উত্তর : b) পশম শিল্প।

27.একটি বনজ সম্পদ ভিত্তিক শিল্প হল –
কাগজ শিল্প
পাট শিল্প
চর্ম শিল্প
কোনোটিই নয়
উত্তর : a) কাগজ শিল্প।

28.লৌহ – ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল –
হেমাটাইট
বক্সাইট
টিন
ক্রায়োলাইট
উত্তর : a) হেমাটাইট।

29.ভারতের বৃহত্তম লৌহ ইস্পাত শিল্প কেন্দ্র হল –
বোকারো
ভিলাই
দূর্গাপুর
রৌরকেল্লা
উত্তর : b) ভিলাই।

30.ভারতের একটি বন্দর কেন্দ্রিক লৌহ ইস্পাত শিল্প কেন্দ্র হল –
ভিলাই
রৌরকেল্লা
দূর্গাপুর
বিশাখাপত্তনম
উত্তর : d) বিশাখাপত্তনম।

31.ভারতের অধিকাংশ লৌহ ইস্পাত শিল্প কেন্দ্র যে সংস্থার অধীনস্থ –
SAIL
IISCO
HSL
TISCO
উত্তর : a) SAIL।

32.কার্পাস বস্ত্র উৎপাদনে পৃথিবীতে ভারতের স্থান –
চতুর্থ
তৃতীয়
প্রথম
দ্বিতীয়
উত্তর : c) প্রথম।

33.ভারতে প্রথম যন্ত্র চালিত কাপড়ের কল স্থাপিত হয় –
ঘুষুড়িতে
আমেদাবাদ
মুম্বাইতে
কোয়েম্বাটুরে
উত্তর : a) ঘুষুড়িতে।


34.ভারতের প্রথম পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠে –
জাম নগরে
থানেতে
ট্রম্বতে
ভোদোদরা তে
উত্তর : c) ট্রম্বেতে।

35.ইনফোসিস সংস্থাটি যে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত –
কার্পাস
তথ্য প্রযুক্তি
পর্যটন
ইলেকট্রনিকস
উত্তর : b) তথ্য প্রযুক্তি।

36.হরিয়ানার গুরগাঁও এ গড়ে উঠেছে –
মোটরগাড়ি শিল্প
তথ্য প্রযুক্তি শিল্প
কার্পাস বয়ন শিল্প
পেট্রো রসায়ন শিল্প
উত্তর : a) মোটরগাড়ি শিল্প।

37. পশ্চিমবঙ্গে পেট্রো কেমিক্যাল শিল্প কেন্দ্র অবস্থিত –
জুন পুটে
কোলকাতায়
শংকরপুর
হলদিয়ায়
উত্তর : d) হলদিয়ায়।

38. লৌহ ইস্পাত শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হল –
আকরিক লোহা
কয়লা
ম্যাঙ্গানিজ
সবগুলি প্রযোজ্য
উত্তর : d) সবগুলি প্রযোজ্য।

39.কফি উৎপাদনে ভারত বিশ্বে –
তৃতীয়
চতুর্থ
পঞ্চম
ষষ্ঠ স্থানের অধিকারী।
উত্তর : d) ষষ্ঠ।

40ভারতে নোট ছাপার কাগজ তৈরী হয় কোথায় ?
ভদ্রাবতী
নেপানগর
হোসঙ্গাবাদ
কোরাপুট
উত্তর : c) হোসঙ্গাবাদ।


1.বর্তমানে ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার
(a) দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী
(b) ধীরে ধীরে উধ্বমুখী
(c) নিম্নমুখী
(d) স্থিতিশীল

উত্তরঃ (c) নিম্নমুখী


2. জনঘনত্বের বিচারে রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম
(a) উত্তরপ্রদেশ
(b) বিহার
(c) কেরল
(d) পশ্চিমবঙ্গ

উত্তরঃ (b) বিহার


3. ভারতের জনঘনত্ব কম
(a) সিকিমে
(b) গােয়াতে
(c) রাজস্থানে
(d) অরুণাচল প্রদেশে

উত্তরঃ (d) অরুণাচল প্রদেশে


4. ভারতে জনগণনা হয় প্রতি
(a) 5 বছর অন্তর
(b) 10 বছর অন্তর
(c) 15 বছর অন্তর
(d) 20 বছর অন্তর

উত্তরঃ (b) 10 বছর অন্তর


5. ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
(a) লাক্ষাদ্বীপে
(b) চণ্ডীগড়ে
(c) দিল্লি-তে
(d)পণ্ডিচেরী-তে

উত্তরঃ (c) দিল্লিতে


6.2011 খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারি অনুসারে ভারতের জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে
(a) 340 জন
(b) 362 জন
(c) 324 জন
(d) 382 জন

উত্তরঃ (d) 382 জন


7. বর্তমান ভারতে প্রতি হাজার পুরুষে নারীর সংখ্যা
(a) 940 জন
(b) 950 জন
(c) 933 জন
(d) 1,040 জন

উত্তরঃ (a) 940 জন


8. প্রতি হাজার পুরুষে মহিলার সংখ্যা সর্বাধিক যে রাজ্যে
(a) পশ্চিমবঙ্গে
(b) বিহারে
(c) কেরলে
(d) অসমে

উত্তরঃ (c) কেরলে


9. ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য হল
(a) বিহার
(b) পশ্চিমবঙ্গ
(c) উত্তরপ্রদেশ
(d) কেরল

উত্তরঃ (c) উত্তরপ্রদেশ


10. ভারতের সর্বাধিক সাক্ষর রাজ্য হল
(a) বিহার
(b) কেরল
(c) কর্ণাটক
(d) মহারাষ্ট্র

উত্তরঃ (b) কেরল


12. এজেন্ডা 21 যে খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়
(a) 1982
(b) 1976
(c) 1992
(d) 2002

উত্তরঃ (c) 1992


13. বর্তমানে ভারতে মহানগরের সংখ্যা
(a) 63টি
(b) 53টি
(c) 35টি
(d) 43টি

উত্তরঃ (b) 53টি


14. ভারতের একটি শিক্ষাকেন্দ্রিক শহর হল
(a) গান্ধিনগর
(b) মীরাট
(c) শান্তিনিকেতন
(d) পাটনা

উত্তরঃ (c) শান্তিনিকেতন


15. ভারতের প্রাচীনতম পরিবহণ মাধ্যম হল
(a) জলপথ
(b) সড়কপথ
(c) রেলপথ
(d) রজ্জুপথ

উত্তরঃ (b) সড়কপথ


16. সবচেয়ে সুলভ পরিবহণ মাধ্যম হল
(a) রেলপথ
(b) জলপথ
(c) আকাশপথ
(d)পাইপলাইন

উত্তরঃ (b) জলপথ


17. পরিবহণ ব্যয় সর্বাধিক হয়
(a) সড়কপথে
(b) রেলপথে
(c) আকাশপথে
(d)রজ্জুপথে

উত্তরঃ (c) আকাশপথে


18. ভারতে বর্তমানে জাতীয় সড়কপথের সংখ্যা
(a) 50টি
(b) 45টি
(c) 60টি
(d) 55টি

উত্তরঃ d) 55টি


19. ভারতে দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হল
(a) NH-1
(b) NH-2
(c) NH-7
(4) NH-6

উত্তরঃ (c) NH-7


20. দিল্লি থেকে অমৃতসর হয়ে পাকিস্তানের সীমান্তপর্যন্ত বিস্তৃত জাতীয় সড়কপথটির নাম হল
(a) NH-1
(b) NH-2
(C) NH-6
(4) NH-7

উত্তরঃ (a) NH-1


21. সড়কপথের দৈর্ঘ্যে বর্তমানে ভারত পৃথিবীতে
(a) প্রথম
(b) দ্বিতীয়
(c) তৃতীয়
(d) চতুর্থ

উত্তরঃ (c) তৃতীয়


22. ভারতে প্রথম শ্রেণির বন্দরের সংখ্যা
(a) 10টি
(b) 15টি
(c) 12টি
(d) 13টি

উত্তরঃ (d) 13টি


23. ভারতের বৃহত্তম বন্দর হল
(a) কলকাতা
(b) দিল্লি
(c) মুম্বাই
(d) মার্মাগাঁও

উত্তরঃ (c) মুম্বাই


24. ভারতের একটি নদী বন্দর হল
(a) কোচি
(b) পারাদ্বীপ
(c) কলকাতা
(d) চেন্নাই

উত্তরঃ (c) কলকাতা


25. ভারতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা
(a) 12টি
(b) 16টি
(c) 15টি
(d) 20টি

উত্তরঃ (b) 16টি

26. পৃথিবীর দীর্ঘতম রজ্জুপথ হল
(a) দার্জিলিং রজ্জুপথ
(b) অমরকণ্টক রজ্জুপথ
(c)মুসৌরি রজ্জুপথ
(d) ঝরিয়া কয়লাখনির রজ্জুপথ

উত্তরঃ (d) ঝরিয়া কয়লাখনির রজ্জুপথ

27. ভারতে প্রথম মেট্রোরেল চলা শুরু হয়
(a) নিউদিল্লিতে
(b) বেঙ্গালুরুতে
(c) মুম্বাইয়ে
(d)কলকাতায়

উত্তরঃ (d) কলকাতায়

28. ভারতে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয়
(a) 1911 খ্রিস্টাব্দে
b) 1912 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1921 খ্রিস্টাব্দে
(d)1931 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ (a) 1911 খ্রিস্টাব্দে

29. ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়
(a) 1856 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1853 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1854খ্রিস্টাব্দে
(d) 1858 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ (b) 1853 খ্রিস্টাব্দে

30. ভারতের কম্পিউটারচালিত বন্দর হল
(a) এন্নোর বন্দর
(b) মুম্বাই বন্দর
(c) চেন্নাই বন্দর
(d)জওহরলাল নেহরু বন্দর

উত্তরঃ (d) জওহরলাল নেহরু বন্দর

31. ভারতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ আদমশুমারি হয় –
a)1872 খ্রিস্টাব্দে
b)1881 খ্রিস্টাব্দে
c)1901 খ্রিস্টাব্দে
d)1951 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ (b) 1881 খ্রিস্টাব্দে

32. বর্তমানে ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার –
a)উর্দ্ধমুখী
b)স্থির
c)নিম্নমুখী
d)শুন্য

উত্তরঃ c) নিম্নমুখী

33. ভারতে শহরের ন্যূনতম জনঘনত্ব (প্রতি বর্গকিমি) হওয়া চাই) –
a)400 জন
b)500 জন
c)600 জন
d)382 জন

উত্তরঃ a) 400জন

34. ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিবহন মাধ্যম হল ?
a) সড়কপথ
b)বিমানপথ
c)রেলপথ
d)জলপথ

উত্তরঃ a)সড়কপথ

35. ‘ ভারতের জীবন রেখা ‘ বলা হয় –
a)রেলপথকে
b) জলপথকে
c) স্থলপথকে
d) আকাশপথকে

উত্তরঃ a) রেলপথকে

36. ভারতের ‘ সোনালি চতুর্ভূজ ‘ – এর মোট দৈর্ঘ্য –
a)5846 কিমি
b)4119 কিমি
c)1684 কিমি
d)6416 কিমি

উত্তরঃ a)5846 কিমি

37. ভারতে ঋনাত্মক জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল কোন আদমশুমারিতে?
a)1911 খ্রিস্টাব্দে
b)1921 খ্রিস্টাব্দে
c)1931 খ্রিস্টাব্দে
d)1941 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ d)1941 খ্রিস্টাব্দে

38. ‘ উন্নয়নের জীবন রেখা ‘ বলে –
a) জলপথকে
b)স্থলপথকে
c)রজ্জুপথকে
d)বিমানপথকে

উত্তরঃ a)জলপথকে

39. ভারতে প্রথম রেলপথ স্থাপন করা হয় –
a) কলকাতা থেকে দূর্গাপুর
b) দিল্লী থেকে আগ্রা
c)মুম্বাই থেকে থানে
d)পাটনা থেকে লখনউ পর্যন্ত

উত্তরঃ c)মুম্বাই থেকে থানে

40. ভারতের কেন্দ্রশাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে যে রাজ্যের জনঘনত্ব সবথেকে কম –
a)অরুণাচল প্রদেশ
b)বিহার
c)আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
d) চণ্ডীগড়

উত্তরঃ c)আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

 

 

 

 

 

 

 

 

 

1.বর্তমানে ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার
(a) দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী
(b) ধীরে ধীরে উধ্বমুখী
(c) নিম্নমুখী
(d) স্থিতিশীল

উত্তরঃ (c) নিম্নমুখী


2. জনঘনত্বের বিচারে রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম
(a) উত্তরপ্রদেশ
(b) বিহার
(c) কেরল
(d) পশ্চিমবঙ্গ

উত্তরঃ (b) বিহার


3. ভারতের জনঘনত্ব কম
(a) সিকিমে
(b) গােয়াতে
(c) রাজস্থানে
(d) অরুণাচল প্রদেশে

উত্তরঃ (d) অরুণাচল প্রদেশে


4. ভারতে জনগণনা হয় প্রতি
(a) 5 বছর অন্তর
(b) 10 বছর অন্তর
(c) 15 বছর অন্তর
(d) 20 বছর অন্তর

উত্তরঃ (b) 10 বছর অন্তর


5. ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মধ্যে জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়
(a) লাক্ষাদ্বীপে
(b) চণ্ডীগড়ে
(c) দিল্লি-তে
(d)পণ্ডিচেরী-তে

উত্তরঃ (c) দিল্লিতে


6.2011 খ্রিস্টাব্দের আদমশুমারি অনুসারে ভারতের জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিমিতে
(a) 340 জন
(b) 362 জন
(c) 324 জন
(d) 382 জন

উত্তরঃ (d) 382 জন


7. বর্তমান ভারতে প্রতি হাজার পুরুষে নারীর সংখ্যা
(a) 940 জন
(b) 950 জন
(c) 933 জন
(d) 1,040 জন

উত্তরঃ (a) 940 জন


8. প্রতি হাজার পুরুষে মহিলার সংখ্যা সর্বাধিক যে রাজ্যে
(a) পশ্চিমবঙ্গে
(b) বিহারে
(c) কেরলে
(d) অসমে

উত্তরঃ (c) কেরলে


9. ভারতের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য হল
(a) বিহার
(b) পশ্চিমবঙ্গ
(c) উত্তরপ্রদেশ
(d) কেরল

উত্তরঃ (c) উত্তরপ্রদেশ


10. ভারতের সর্বাধিক সাক্ষর রাজ্য হল
(a) বিহার
(b) কেরল
(c) কর্ণাটক
(d) মহারাষ্ট্র

উত্তরঃ (b) কেরল


12. এজেন্ডা 21 যে খ্রিস্টাব্দে স্থাপিত হয়
(a) 1982
(b) 1976
(c) 1992
(d) 2002

উত্তরঃ (c) 1992


13. বর্তমানে ভারতে মহানগরের সংখ্যা
(a) 63টি
(b) 53টি
(c) 35টি
(d) 43টি

উত্তরঃ (b) 53টি


14. ভারতের একটি শিক্ষাকেন্দ্রিক শহর হল
(a) গান্ধিনগর
(b) মীরাট
(c) শান্তিনিকেতন
(d) পাটনা

উত্তরঃ (c) শান্তিনিকেতন


15. ভারতের প্রাচীনতম পরিবহণ মাধ্যম হল
(a) জলপথ
(b) সড়কপথ
(c) রেলপথ
(d) রজ্জুপথ

উত্তরঃ (b) সড়কপথ


16. সবচেয়ে সুলভ পরিবহণ মাধ্যম হল
(a) রেলপথ
(b) জলপথ
(c) আকাশপথ
(d)পাইপলাইন

উত্তরঃ (b) জলপথ


17. পরিবহণ ব্যয় সর্বাধিক হয়
(a) সড়কপথে
(b) রেলপথে
(c) আকাশপথে
(d)রজ্জুপথে

উত্তরঃ (c) আকাশপথে


18. ভারতে বর্তমানে জাতীয় সড়কপথের সংখ্যা
(a) 50টি
(b) 45টি
(c) 60টি
(d) 55টি

উত্তরঃ d) 55টি


19. ভারতে দীর্ঘতম জাতীয় সড়ক হল
(a) NH-1
(b) NH-2
(c) NH-7
(4) NH-6

উত্তরঃ (c) NH-7


20. দিল্লি থেকে অমৃতসর হয়ে পাকিস্তানের সীমান্তপর্যন্ত বিস্তৃত জাতীয় সড়কপথটির নাম হল
(a) NH-1
(b) NH-2
(C) NH-6
(4) NH-7

উত্তরঃ (a) NH-1


21. সড়কপথের দৈর্ঘ্যে বর্তমানে ভারত পৃথিবীতে
(a) প্রথম
(b) দ্বিতীয়
(c) তৃতীয়
(d) চতুর্থ

উত্তরঃ (c) তৃতীয়


22. ভারতে প্রথম শ্রেণির বন্দরের সংখ্যা
(a) 10টি
(b) 15টি
(c) 12টি
(d) 13টি

উত্তরঃ (d) 13টি


23. ভারতের বৃহত্তম বন্দর হল
(a) কলকাতা
(b) দিল্লি
(c) মুম্বাই
(d) মার্মাগাঁও

উত্তরঃ (c) মুম্বাই


24. ভারতের একটি নদী বন্দর হল
(a) কোচি
(b) পারাদ্বীপ
(c) কলকাতা
(d) চেন্নাই

উত্তরঃ (c) কলকাতা


25. ভারতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংখ্যা
(a) 12টি
(b) 16টি
(c) 15টি
(d) 20টি

উত্তরঃ (b) 16টি

26. পৃথিবীর দীর্ঘতম রজ্জুপথ হল
(a) দার্জিলিং রজ্জুপথ
(b) অমরকণ্টক রজ্জুপথ
(c)মুসৌরি রজ্জুপথ
(d) ঝরিয়া কয়লাখনির রজ্জুপথ

উত্তরঃ (d) ঝরিয়া কয়লাখনির রজ্জুপথ

27. ভারতে প্রথম মেট্রোরেল চলা শুরু হয়
(a) নিউদিল্লিতে
(b) বেঙ্গালুরুতে
(c) মুম্বাইয়ে
(d)কলকাতায়

উত্তরঃ (d) কলকাতায়

28. ভারতে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয়
(a) 1911 খ্রিস্টাব্দে
b) 1912 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1921 খ্রিস্টাব্দে
(d)1931 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ (a) 1911 খ্রিস্টাব্দে

29. ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়
(a) 1856 খ্রিস্টাব্দে
(b) 1853 খ্রিস্টাব্দে
(c) 1854খ্রিস্টাব্দে
(d) 1858 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ (b) 1853 খ্রিস্টাব্দে

30. ভারতের কম্পিউটারচালিত বন্দর হল
(a) এন্নোর বন্দর
(b) মুম্বাই বন্দর
(c) চেন্নাই বন্দর
(d)জওহরলাল নেহরু বন্দর

উত্তরঃ (d) জওহরলাল নেহরু বন্দর

31. ভারতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ আদমশুমারি হয় –
a)1872 খ্রিস্টাব্দে
b)1881 খ্রিস্টাব্দে
c)1901 খ্রিস্টাব্দে
d)1951 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ (b) 1881 খ্রিস্টাব্দে

32. বর্তমানে ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার –
a)উর্দ্ধমুখী
b)স্থির
c)নিম্নমুখী
d)শুন্য

উত্তরঃ c) নিম্নমুখী

33. ভারতে শহরের ন্যূনতম জনঘনত্ব (প্রতি বর্গকিমি) হওয়া চাই) –
a)400 জন
b)500 জন
c)600 জন
d)382 জন

উত্তরঃ a) 400জন

34. ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিবহন মাধ্যম হল ?
a) সড়কপথ
b)বিমানপথ
c)রেলপথ
d)জলপথ

উত্তরঃ a)সড়কপথ

35. ‘ ভারতের জীবন রেখা ‘ বলা হয় –
a)রেলপথকে
b) জলপথকে
c) স্থলপথকে
d) আকাশপথকে

উত্তরঃ a) রেলপথকে

36. ভারতের ‘ সোনালি চতুর্ভূজ ‘ – এর মোট দৈর্ঘ্য –
a)5846 কিমি
b)4119 কিমি
c)1684 কিমি
d)6416 কিমি

উত্তরঃ a)5846 কিমি

37. ভারতে ঋনাত্মক জনসংখ্যা বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল কোন আদমশুমারিতে?
a)1911 খ্রিস্টাব্দে
b)1921 খ্রিস্টাব্দে
c)1931 খ্রিস্টাব্দে
d)1941 খ্রিস্টাব্দে

উত্তরঃ d)1941 খ্রিস্টাব্দে

38. ‘ উন্নয়নের জীবন রেখা ‘ বলে –
a) জলপথকে
b)স্থলপথকে
c)রজ্জুপথকে
d)বিমানপথকে

উত্তরঃ a)জলপথকে

39. ভারতে প্রথম রেলপথ স্থাপন করা হয় –
a) কলকাতা থেকে দূর্গাপুর
b) দিল্লী থেকে আগ্রা
c)মুম্বাই থেকে থানে
d)পাটনা থেকে লখনউ পর্যন্ত

উত্তরঃ c)মুম্বাই থেকে থানে

40. ভারতের কেন্দ্রশাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে যে রাজ্যের জনঘনত্ব সবথেকে কম –
a)অরুণাচল প্রদেশ
b)বিহার
c)আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
d) চণ্ডীগড়

উত্তরঃ c)আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Short Answers & Questions (3-4 Marks)


দুন কী ?
দুন কথার অর্থ হলাে ‘পার্বত্য অঞ্জলের উপত্যকা’। সংকীর্ণ পর্বতের মাঝে অবস্থিত নিম্নস্থানকে দুন বলা হয়। যেমন দেরাদুন।

ভাঙ্গার ও খাদার কী ?
প্রাচীন পলিমৃত্তিকা দিয়ে গঠিত উচ্চভূমিকে বলা হয় ভার। এই মৃত্তিকা কৃষিকার্যের জন্য ততটা সহায়ক নয়। খাদার বলা হয় নবীন পলিগঠিত নিম্নভূমিকে। এইপ্রকার মুক্তিকা খুবই উর্বর। উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে এইপ্রকার মৃত্তিকা দেখা যায়।

কাকে বাগর ও রােহি অঞ্চল বলে ?
রাজস্থানের মরু অঞ্চলের পূর্বদিকে ‘আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশে অল্প বালুকাময় যে স্থান আছে | তাকে বাগর বলে। | এই অঞ্চলের পশ্চিমে আরাবল্লি পর্বত থেকে উদ্ভূত ছােটো ছােটো নদীর সঞ্চয়ের কার্যের ফলে সৃষ্ট প্লাবনভূমিকে রােহি বলা হয় ।

 

ডুয়ার্স ও তরাই কাকে বলে ?
তিস্তা নদীর পূর্বতীর থেকে শুরু করে তরাইয়ের অবশিষ্ট অংশকে বলা হয় ডুয়ার্স। পশ্চিমবঙ্গের হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলের স্যাতস্যাতে ও অরণ্যময় সমভূমিকে তরাই বলে।

কাকে ডেকান ট্রাপ বলে ?
ভূঅভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের উপরে ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ধাপে ধাপে সিড়ির মতাে নেমে গেছে। একে ডেকান ট্রাপ বলে। ডেকান শব্দের অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং ট্রাপ শব্দের অর্থ সিঁড়ি।

ময়দান ও মালনাদ কাকে বলে?
ময়দান’ শব্দের অর্থ হলাে অনুচ্চ ভূমিভাগ। অর্থাৎ কর্নাটক মালভূমির পুর্বে মৃদু | ঢেউ খেলানাে সময়ভূমিকে বলা হয় ময়দান। “মালদ’ শব্দের অর্থ হলাে উঁচু-নীচু ভূমি। অর্থাৎ কর্নাটক মালভূমির পশ্চিমাংশে | যে উঁচু-নীচু ঢেউ খেলানাে ভূমিভাগ রয়েছে, তাকে বলা হয় মালনাদ।

 


কয়াল কাকে বলে ?
কেরলের মালাবার উপকূলে ভূআলােড়নের প্রভাবে ভূউত্থান ও নিমজ্জনের ফলে অসংখ্য জলাভূমি বা উপহ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, এগুলিকে কেরলের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় কয়াল। যেমন—ভেম্বনাদ (বৃহত্তম), অষ্টমুদি ইত্যাদি।

বরেন্দ্রভূমি কাকে বলে ?
বরেন্দ্র ভূমি তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের গঙ্গা নদীর বাম তীরের সমভূমিকে বলা হয় । অনেকে মনে করেন, সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন কোনাে অগভীর হ্রদে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল থেকে বয়ে আনা পলি সঞ্জয়ের ফলে এই অঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।

কাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে ?
নদীতে বাঁধ নির্মাণ করেযে পরিকল্পনার সাহায্যে নদীর জলকে সমাজকল্যাণের বিভিন্ন উদ্দেশ্যে জলসেচ, যথা-বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মৎস্য চাষ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, পানীয় জলের জোগান প্রভৃতির উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়, তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে।

 

কেন ভারতকে মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয় ?
ক্রান্তীয়-উপক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্গত এক সুবিশাল বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হলো ভারত। সামগ্রিকভাবে মৌসুমি বায়ু দ্বারা ভারতবর্ষের জলবায়ু প্রভাবিত। যথা-উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্বারা ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। তাই ভারতকে মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয়।

কোন কোন অঞ্চলে ভারতের বছরে দু’বার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ?
ভারতের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত করমণ্ডল উপকূলে শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর এবং গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

কাকে পশ্চিমি ঝঞা বলে ?
শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পশ্চিম দিক থেকে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশে প্রবেশ করে বেশ কয়েকদিন প্রচুর ঝড়ঝঞা ও তুষারপাত ঘটায়, একেই পশ্চিমিঝঞ্চা বলে।

 

কাকে কচ্ছের রণ অঞল বলে?
“রণ’ শব্দের অর্থ জলময় দেশ। কচ্ছের রণ বলা হয় গুজরাটের কচ্ছ উপদ্বীপের উত্তর ও পূর্বের অগভীর লবণাক্ত জলাভূমিকে। কচ্ছের রণের দক্ষিণ অংশকে বলা হয় ক্ষুদ্র রণ এবং উত্তর অংশকে বলায় বৃহ রণ ।

কাকে মরুথলী বলে ?
ভারতের আরাবল্লি পর্বতের পশ্চিম দিকে অবস্থিত রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চলে প্রায় সমতল বালুকাময় অখুলকে মরুথলী যা মৃতের দেশ বলা হয়। ‘মরুস্থলি’ শব্দের অর্থ মৃতের দেশ।

কাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে ?
মে-জুন মাসে উত্তর-পশ্চিম ভারতে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগর থেকে বয়ে আনা এই জলীয় বাষ্পের ফলে ঘন মেঘ বা ঝড় মুষলধারে হঠাৎ প্রচণ্ড আকারে বৃষ্টিপাত ঘটায়, একে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে।

 

কাকে আশ্বিনের ঝড় বলে ?
মকরক্রান্তীয় অঞ্চলে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। তখন প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ুও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সংঘর্ষে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়। যেহেতু আশ্বিন মাসে এই ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় তাই একে আশ্বিনের ঝড় বলে।

কাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে ?
কোনাে নদী দেশের অভ্যন্তরের কোনাে কোনাে উচ্চভূমি, পাহাড় বা পর্বত থেকে উৎপত্তি লাভ করে যখন সেই দেশের কোনাে হ্রদ বা জলাশয়ে এসে মিলিত হয়, তখন তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে। যেমন—লুনি, রূপনগত্ন নদী।

কাকে সামাজিক বনসৃজন বলে?
আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে গ্রামীণ পরিবেশের সুস্থতা, জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষা, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে নদীর তীরবর্তী এলাকায়, রেললাইনের ফাঁকা জমিতে, রাস্তার দু’ধারে, পতিত জমিতে বৃক্ষরােপণের উদ্যোগকে বলা হয় সামাজিক বনসৃজন।


কাকে কৃষি বনসৃজন বলে ?
কৃষক তার নিজের জমিতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কাঠ, ফলমূল, জৈব সার, ওষুধ প্রভৃতি পাওয়ার জন্য কৃষিজমির চারিদিকে অব্যবহূত বা পতিত জমিতে গাছ লাগিয়ে যে বনভূমি গড়ে তােলে তাকে, কৃষি বনসৃজন বলে।

বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বলতে কী বােঝো?
বৃষ্টির জল সংরক্ষণ হল বাড়ির ছাদে পড়া বৃষ্টির জলকে জলাধারে সঞ্চিত করে, পুকুর ও নালা খুঁজে বৃষ্টির জল ধরে রেখে, খােলা জায়গায় গর্ত করে বৃষ্টির জল ধরে রেখে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে ব্যবহার করা।

আঁধি কী ?
গ্রীষ্মকালে রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চলে এপ্রিল-মে মাসে বিকালের দিকে যে প্রবল ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয় তাকে স্থানীয় ভাষায় অধি বলে।

কাকে আবৃষ্টি বলে ?
তামিলনাড়ু ও অন্ধপ্রদেশে গ্রীষ্মকালে স্থানীয় নিম্নচাপের প্রভাবে বিকালের দিকে যে ঝড় বৃষ্টি হয় তাকে আবৃষ্টি বলে।
কাকে মৌসুমি বৃষ্টিচ্ছেদ বলে?
বর্ষাকালে জুলাই-আগস্ট মাসে মৌসুমি বৃষ্টি একটানা না হয়ে ধাপে ধাপে হয়ে থাকে। মাঝখানে বেশ কিছুদিন বৃষ্টির বিরতি লক্ষ করা যায়, তাকে মৌসুমি বৃষ্টিচ্ছেদ বলে।

নালি ও প্রণালী ক্ষয় কাকে বলে?
বৃষ্টির জলের দ্বারা মৃত্তিকার উপরিস্তরে ক্ষয়ের ফলে সরু লম্বা নালার সৃষ্টি হলে, তাকে নালি ক্ষয় বলে। এই নালি ক্ষয়গুলি পরস্পর যুক্ত হলে তাকে প্রণালী ক্ষয় বলে।

কাকে মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলে ?
মৃত্তিকার ক্ষয়রােধ করে ভূমির উর্বরাশক্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে, জমির। কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাকে মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলে।

ঝুমচাষ কী ?
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীরা পর্বতের ঢালে বনজঙ্গাল পুড়িয়ে চাষাবাদ করে। পরবর্তীতে জমি অনুর্বর হয়ে পড়লে অন্য স্থানে একইভাবে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। একে স্থানান্তর কৃষি বা উত্তর-পূর্ব ভারতে ঝুমচাষ বলে।

শস্যাবর্তন কাকে বলে?
শস্যাবর্তন হল একই জমিতে এক বা একাধিক ফসল উৎপাদনের ফলে জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পায়। মৃত্তিকার গুণগত মান সঠিক রাখার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে ফসলের চক্রাকারে চাষ করা হয়।

কেন নর্মদা ও তাপ্তি নদীতে ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়নি ?
তাপ্তি ও নর্মদা নদী গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মােহনায় ঢাল খুব বেশি হওয়ায় সেখানে কোনােক্রমেই পলি সঞ্চিত হয় না। ফলে নর্মদা ও তাপ্তি নদীতে ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়নি।

কেন মৌসিনরাম-চেরাপঞ্জি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি হয় ?
বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে মৌসুমি বায়ু যাওয়ার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের মেঘালয় মালভূমিতে এসে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়।

 


কেন মরু অঞলের মৃত্তিকা লবণাক্ত ?
মরুভূমি অঞ্চলে বাষ্পীভবনের মাত্রা অধিক কিন্তু বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই সামান্য । অধিক বাস্পীভবনের ফলে ভূঅভ্যন্তরের লবণ ক্রমাগত ভূপৃষ্ঠের উপরে উঠে এসে সঞ্চিত হওয়ায় মরু অঞ্চলের মৃত্তিকা লবণাক্ত হয়।

গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কী?
কলকারখানা, বড়াে শহর ও নগরের আবর্জনা, কৃষিক্ষেত্র থেকে বিষাক্ত কীটনাশক, রাসায়নিক সার ধুয়ে এসে গঙ্গার জলে মিশে দূষিত করেছে। গঙ্গার দূষণ রোধ করা জন্য 1985 সালে Central Ganga Authority স্থাপন করে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তত্ত্বাবধানে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান নামের কার্যকরী পরিকল্পনাটি গৃহীত হয়।

সামাজিক বনসৃজনের উদ্দেশ্য লেখ?
i) শিল্পের প্রয়ােজনীয় কাঁচামালের সরবরাহ ii) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা অব্যাহত রেখে। iii) পতিত জমি ভূমিক্ষয় রােধ ও পুনরুদ্ধার করা । iv) গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি কাঠ, পশুখাদ্য প্রভৃতির জোগান বাড়ানাে।


কৃষি বনসৃজনের উদ্দেশ্য লেখ?
i) মানুষের প্রয়ােজনীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করা। ii) কৃষিজমিতে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বৃক্ষরােপণ করা iii) অব্যবহৃত ও পতিত জমিকে চাষযােগ্য করে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান লাভ করা। iv) কৃষিজমিতে ভূমিক্ষয় রােধ করা |

ব্যাখ্যা ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর - Long Answers & Questions (5-6 Marks)

re

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

re

WEST BENGAL BOARD Related Links

Shopping Cart
Open chat