fbpx

Chapter 04- ভূমি রূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভুমি রূপ Bumirup Gothonkari Prokriya O Prithibir Bivinno Bhumirup Geography Bhugol Subject WBBSE Class 9

ভূমিরূপ প্রক্রিয়া :

যে সকল প্রক্রিয়ায় ভূ-অভ্যন্তর ও ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ভূমিরূপের সৃষ্টি, পরিবর্তন ও বিবর্তন ঘটে চলেছে তাদের ভূমিরূপ প্রক্রিয়া বলা হয় ।

ভুমিরূপ প্রক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগ :  ভূমিরূপ প্রক্রিয়া দুটি ভাগে বিভক্ত :

ক) পার্থিব প্রক্রিয়া

খ) মহাজাগতিক প্রক্রিয়া

ক) পার্থিব প্রক্রিয়া :

যে সকল প্রক্রিয়ার অবিরাম সংঘর্ষের ফলে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে ও ভূ-অভ্যন্তরে ভূমিরূপের উদ্ভব হয়, তাদের পার্থিব প্রক্রিয়া বলে । পার্থিব প্রক্রিয়াকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায় । যথা – অন্তর্জাত প্রক্রিয়া এবং বহির্জাত প্রক্রিয়া ।

  • অন্তর্জাত প্রক্রিয়া : যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ শক্তি ভূত্বককে পরিবর্তন করে ভূ-পৃষ্ঠে  প্রাথমিক ভূমিরূপ তৈরি করে, তাকে অন্তর্জাত প্রক্রিয়া বলে । এই পদ্ধতি আবার দুটি বিভাগে বিভক্ত, যথা – ভূ-বিপর্যয় বা ধীর ভূ-আলোড়ন এবং  আকস্মিক ভূ-আলোড়ন ।
    • ভূ-বিপর্যয় বা ধীর ভূ-আলোড়ন : যে সকল ভূ-আলোড়ন দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত ধীরে ধীরে ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটায়, তাদের ভূ-বিপর্যয় বা ধীর ভূ-আলোড়ন বলে । ভূ-গাঠনিক আলোড়ন, সমস্থিতিক ভারসাম্যের পরিবর্তনজনিত আলোড়ন এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উত্থান – পতনজনিত আলোড়ন ইত্যাদি ।
    • আকস্মিক ভূ -আলোড়ন : যে প্রক্রিয়ায় প্রবল ভূ-অভ্যন্তরীণ শক্তি ভূমিরূপের আকস্মিক পরিবর্তন ঘটায় তাকে আকস্মিক ভূ -আলোড়ন বলে । যেমন – ভূমিকম্প, অগ্ন্যুদ্গম
  • বহির্জাত প্রক্রিয়া : যে সকল বাহ্যিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া ভূ-ত্বকের ক্ষয় ও নগ্নীভবনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকারের ভূমিরূপ গঠন করে, তাদের বহির্জাত প্রক্রিয়া বলে । যেমন – আবহবিকার, নদী, বায়ু, হিমবাহ, সমুদ্রতরঙ্গ ইত্যাদি ।

খ) মহাজাগতিক প্রক্রিয়া : 

এই প্রক্রিয়ায় প্রধানত উল্কাপাতের মাধ্যমে ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটে । পৃথিবীর অভিকর্ষজ টানে মহাকাশ থেকে ছুটে আসা উল্কা ভূ-পৃষ্ঠে পড়ে বিশাল ও ‌গভীর খাদের সৃষ্টি হয় ।

যেমন – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের আমেরিকা ব্যারিঞ্জার খাদ ।

ভূ – গাঠনিক আলোড়ন : ভূ – গাঠনিক আলোড়ন হল কঠিন ভূত্বকের ধীরগতির পরিবর্তন যার ফলে ভূ-ত্বকের ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে ভূমিরূপের গঠন সাধিত হয় । এই আলোড়নের ফলে শিলাস্তরে  ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়, শিলা ভেঙ্গে চ্যুতির সৃষ্টি হয়ে স্তূপ পর্বত গঠন এবং মালভূমি ও সমভূমি সৃষ্টি হয়ে থাকে । প্রকৃতি অনুযায়ী ভূ-গাঠনিক আলোড়ন দু ধরনের হয়-মহিভাবক আলোড়ন এবং) গিরিজনি আলোড়ন ।

  1. মহিভাবক  আলোড়ন : মহিভাবক বা Epeirogenic কথার অর্থ  মহাদেশের গঠন । যে আলোড়নের ফলে মাহাদেশ গঠিত হয় তাকে মহীভাবক আলোড়ো বলে । এই কম্পন ভূ-পৃষ্ঠের উপর উল্লম্ব ভাবে কাজ করে । এই আন্দোলনের ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠের অংশবিশেষ খাড়াভাবে উঠে পড়ে বা নীচে বসে  পড়ে । মহাদেশ, মালভূমি, চ্যুতি, স্তুপ পর্বত, গ্রস্থ উপত্যকা প্রভৃতি ভূমিরূপ এই আলোড়নের  ফলে গঠিত হয়।
  2. গিরিজনি আলোড়ন : গিরিজনি বা Orogenic একটি শব্দ যার অর্থ “পর্বত গঠন” । যে আলোড়নের ফলে শিলাস্তরে ভাঁজ পড়ে ভঙ্গিল পর্বতের  সৃষ্টি হয়, তাকে গিরিজনি আলোড়ন বলে । আলোড়নের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে অনুভুমিকভাবে কাজ করে বলে ভু-ত্বকের কোথাও সংনমনের ফলে  সংকোচন আবার কোথাও টানের ফলে প্রসারনের সৃষ্টি হয় । এই আলোড়োনের  ফলে শিলাস্তরে  ভাঁজ পড়ে  ভঙ্গিল পর্বতের  সৃষ্টি হয় .
মহীভাবক আলোড়নগিরিজনি আলোড়ন
এই আলোড়ন মহাদেশ বা মহাদেশের অংশবিশেষ গঠনের আলোড়নএই  আলোড়ন ভাঁজ যুক্ত ভঙ্গিল পর্বত গঠনের আলোড়ন
এই আলোড়ন মাহাদেশীয় বা স্থাণীয় এলাকা জুড়ে ঘটে থাকেএই  আলোড়ন ভূ-পৃষ্ঠের বিশাল অংশ জুড়ে ঘটে
এই আলোড়ন ভূ-পৃষ্ঠে উল্লম্ব ভাবে কাজ করেএই আলোড়ন ভূ-পৃষ্টে অনুভূমিক ভাবে কাজ করে
এই  আলোড়নের ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠের অংশবিশেষ খাড়াভাবে উঠে  ওপরে বা নীচে বসে যায়।এই আলোড়নের কারণে ভূত্বক কোথাও সংককুচিত আবার কোথাও প্রসারিত ।
এই আলোড়নের ফলে মহাদেশ, মালভূমি , চ্যুতি, স্তুপ পর্বত,গ্রস্ত উপত্যকা প্রভৃতি ভূমিরূপ গঠিত হয়।ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয়।

পৃথিবীর প্রধান ভূমিরূপসমূহ :

ভূমিরূপ বিশেষজ্ঞরা পর্যায়ক্রমিক গঠন এবং আকৃতির উপর ভিত্তি করে সকল প্রকার ভূমিরূপকে 10টি দৈশিক ক্রমে শ্রেণীবদ্ধ করেন । প্রথম থেকে তৃতীয় ক্রমগুলি আন্তর্জাত প্রক্রিয়ার ফলে গঠিত হয়, যেখানে চতুর্থ থেকে দশম ক্রমগুলি বহির্জাত প্রক্রিয়ার ফলে গঠিত হয় । পৃথিবীর  প্রধান ভূমিরূপগুলি হলো –

  • প্রথম ক্রমপর্যায়ের ভূমিরূপ : পৃথিবীর প্রাথমিক ভূমিরূপ হলো মহাদেশ, মহাসাগর, পাত
    ইত্যাদি ।
  • দ্বিতীয় ক্রমপর্যায়ের ভূমিরুপ : প্রাথমিক ভূমিরূপের উপর গড়ে ওঠা পৃথিবীর প্রধান  ভূমিরূপগুলি হল -পর্বত, মালভূমি, সমভূমি, ঢাল, এবং আরও অনেক কিছু।
  • তৃতীয় ক্রমপর্যায়ের ভূমিরূপ :  ভাঁজ, চ্যুতি, আগ্নেয়গিরি প্রভৃতি হল মাঝারি আকারের ভূমিরূপের  উদাহরণ ।
  • চতুর্থ ক্রমপর্যায় থেকে দশম ক্রমপর্যায়ের ভূমিরুপ :  গিরিখাত, ডেল্টা, ঝুলন্ত উপত্যকা, ড্রামলিন, দুন ইত্যাদি ক্ষুদ্র আকারের ভূমিরূপের উদাহরণ

পর্বত :  

সমদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে প্রায় ৯০০ মিটারের বেশি উঁচু, বহুদূর বিস্তৃত, বহু শৃঙ্গবিশিষ্ট, খাড়াঢালযুক্ত, বন্ধুর, শিলাময় ভুমিরূপকে পর্বত বলে । যেমন – হিমালয়, সাতপুরা, নারকোন্ডাম প্রভৃতি ।

পর্বতের প্রকারভেদ : পর্বতের উৎপত্তি, গঠন ও ভূমিরূপের পার্থক্য অনুসারে পর্বত চার ভাগে বিভক্ত, যথা-                                                                                                    

ক) ভঙ্গিল পর্বত : যে পর্বত প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে নরম পাললিক শিলার উপর ভাঁজ পড়ে গঠিত হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে । যেমন- হিমালয়, আল্পস প্রভৃতি ।

খ) আগ্নেয় পর্বত : আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের উপর  আগ্নেয় পদার্থ জমা হওয়ার ফলে যে পর্বতের সৃষ্টি হয় তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে । যেমন – ফুজিয়ামা, ভিসুভিয়াস, নারকোন্ডাম এবং অন্যান্য আগ্নেয়গিরি পর্বত ।

গ) স্তুপ পর্বত : তীব্র ভূ-আলড়োনের ফলে যখন দুটি ফাটলের মাঝখানের অংশ খাড়াভাবে উঠে পর্বত গঠন করে তখন তাকে স্তুপ পর্বত বলে । যেমন – সাতপুরা, ভোজ, ব্ল্যাক ফরেস্ট ইত্যাদি ।

ঘ) ক্ষয়জাত পর্বত : যখন পৃথিবীর উচ্চভূমি প্রাকৃতিক কারণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং অপেক্ষাকৃত কম নীচু অবশিষ্ট পর্বতে পরিণত হয়, তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে । যেমন – আরাবল্লি, সিয়েরা নেভাদা, অ্যাপালেচিয়ান প্রভৃতি ।

ভঙ্গিল পর্বত

ভঙ্গিলপর্বত শব্দের অর্থ হলো ভাঁজযুক্ত । প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে নরম পাললিক শিলার উপর ভাঁজ পড়ে, এবং তা ভাঁজে ভাঁজে উপরে উঠে যে পর্বত গঠিত হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে ।  যেমন- হিমালয়, আল্পস এবং আন্দিজ প্রভৃতি  ।

ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি : পাত-সংস্থান তত্ত্বের মাধ্যমে ভঙ্গিল পর্বতমালার উৎপত্তির সর্বাধুনিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় । ভূবিজ্ঞানী উইলসন, ১৯৬৫  সালে প্রথম ভূত্বক-গঠনকারী শিলাকে ‘প্লেট’ বা ‘পাত’ নামে অভিহিত  করেন ।

পরবর্তীকালে অন্যান্য  বিজ্ঞানীরা যেমন ম্যাকেঞ্জি, পার্কার, মরগান এই তত্ত্বের ভিত্তি স্থাপিত করেন । ১৯৬৮ সালে বিজ্ঞানী লি পিঁচো পাত সংস্থান তত্ত্বটিকে সরলীকরণ করেন ।

পাতসংস্থান তত্ত্বের আলোকে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি :

ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি সম্পর্কে পাত সংস্থান তত্বের মূল বিষয় গুলি হল-

  1. পাত : পৃথিবীর ভূত্বক বিভিন্ন আকার এবং আয়তনের শিলা দ্বারা গঠিত, যার প্রতিটিকে একটি প্লেট  বা পাত হিসাবে উল্লেখ করা হয় । প্রধানত মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় পাত দ্বারা ভূ-ত্বক গঠিত হয় । মহাদেশীয় পাতগুলি সিলিকা এবং অ্যালুমিনিয়াম সমৃদ্ধ । বিপরীতে, মহাসাগরীয় পাতগুলি সিলিকা এবং ম্যাগনেসিয়াম দ্বারা গঠিত ।
    পাতগুলির গড় গভীরতা মহাদেশের তলদেশে প্রায় 150 কিমি এবং সমুদ্রের তলদেশে প্রায় 60 কিমি ।
  2. পাতের  প্রকারভেদ : তত্ত্ব অনুসারে পৃথিবীর ভূত্বক সাতটি প্রধান বা বড় পাত, ২০ টি মাঝারি পাত  এবং অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পাত নিয়ে গঠিত ।
  3. পাতের চালিকা শান্তি : ভূত্বক এবং গুরুমন্ডলের মাঝের অংশটি উষ্ণ এবং অর্ধ-গলিত সান্দ্র ম্যাগমা দ্বারা গঠিত । এই স্তরটিকে অ্যাস্থেনোস্ফিয়ার বলা হয় । পাতগুলি অ্যাথেনোস্ফিয়ার স্তরের উপরে ভাসমান ।
    অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের উপরের এবং নীচের অংশের উষ্ণতার তারতম্যের ফলে সৃষ্ট পরিচলন তাপস্রোতের দ্বারা অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান পাতগুলি পরস্পরের দিকে বা পরস্পরের থেকে দূরে চলতে শুরু করে । অর্থাৎ, অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের পরিচলন তাপস্রোতই পাতগুলির সঞ্চারণের মূল চালিকা শক্তি ।
  4. পাতের সঞ্চারণ : যখন পাতগুলি একে অপরের দিকে চালিত হয়, তখন সেই পাতকে অভিসারী পাত বলে এবং যখন পাটগুলি একে অপরের থেকে দূরে সরে যায়, তখন তাকে প্রতিসারী পাত বলা হয়
  5. পাত সীমান্ত : পাতগুলির অভিসারী চলনের ফলে অভিসারী পাতসীমান্ত, প্রতিসারী চলনের ফলে প্রতিসারী পাতসীমান্ত এবং পার্শ্ব চলাচলের ফলে  নিরপেক্ষ পাতসীমান্ত সৃষ্টি হয় ।

পাত সঞ্চারনের ফলে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি :

পৃথিবীর প্লেট বা পাতগুলি অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের  উপরে ভাসমান । অ্যাস্থেনোস্ফিয়ারের পরিচলন স্রোতের ফলে ভাসমান অবস্থায় থাকা পাতগুলি একে অপরের দিকে বা দূরে সরে যায় ।

পাতগুলি যখন  পরস্পরের অভিমুখে  চালিত হয়, সেই অভিসারী পাতসীমান্ত বরাবর যদি পলি সঞ্চয় ঘটে এবং তখন  অভিসারী পাতসীমান্তে পরস্পর অভিমুখী দুটি মহাদেশীয় পাত অথবা মহাদেশীয় পাত ও মহাসাগরীয় পাতের প্রবল চাপে অগভীর সমুদ্রে সঞ্চিত পলিরাশি ও পাললিক শিলাস্তর ভাঁজ খেয়ে বা ওপরে উঠে ভঙ্গিল পর্বতের সৃষ্টি হয় ।

হিমালয় ও পৃথিবীর অন্যান্য ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি : 

  1. ইউরেশীয় প্লেট এবং ভারতীয় উপদ্বীপের পাতসীমানা বরাবর অগভীর টেথিস সাগরে সঞ্চিত পলিরাশি এই দুই পাতের প্রবল পার্শ্বচাপে ভাঁজ খেয়ে ওপরে উঠে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে ।
  2. ইউরেশীয় পাত এবং আফ্রিকা পাতের চাপের কারণে তাদের মধ্যে জমা হওয়া সঞ্চিত পলিরাশি ভাঁজ খেয়ে আল্পস পর্বত সৃষ্টি  হয় ।
  3. প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত ও  উত্তর আমেরিকা উপকূলে জমে থাকা পলির ভাঁজ দ্বারা গঠিত হয় রকি পর্বতমালা ।
  4. দক্ষিণ আমেরিকা প্লেট এবং নাজকা মহাসাগরীয় প্লেটের মাঝে সংগৃহীত পলি ভাঁজ খেয়ে ওপরে উঠে সৃষ্টি হয়েছে আন্দিজ পর্বতমালা ।

ভঙ্গিল পর্বতের মূল বৈশিষ্ট্য :

  1. ভঙ্গিল পর্বত প্রধানত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত হয় ।
  2. সমুদ্রের পাললিক শিলা ভাঁজ হয়ে ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টি হয় তাই ভঙ্গিল পর্বতে জীবাশ্ম পাওয়া যায় ।
  3. ভঙ্গিল পর্বতে ঊর্ধ্বভঙ্গ ও অধোভঙ্গ সহ বিভিন্ন ধরনের ভাঁজ দেখা যায় ।
  4. ভঙ্গিল পর্বতের দৈর্ঘ্য প্রস্থের তুলনায় যথেষ্ট বেশি । তাই এই পর্বতগুলি শ্রেণী হিসেবে অবস্থিত ।
  5. ভাঙ্গিল পর্বত উঁচু এবং বন্ধুর প্রকৃতির । এই পর্বতে অনেকগুলি সূচালো গিরিশৃঙ্গ ও গভীর গিরিখাত দেখা যায় ।
  6. নবীন ভঙ্গিল পর্বতগুলির গঠনকাজ এখনও চলছে, এই পার্বত্য অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হয় ।

প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত ও নবীন ভঙ্গিল পর্বত :

পৃথিবীর সমস্ত ভঙ্গিল পর্বত একই সময়ে গঠিত হয়নি তাই ভঙ্গিল পর্বতকে বয়সের ভিত্তিতে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় ।

(ক) প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত :  পৃথিবীর যে ভঙ্গিল পর্বতগুলি ২৭-৩০ কোটি বছর আগে, আর্কিয়ান যুগ থেকে শুরু করে  ১০ কোটি  বছর আগে ক্রিটেসিয়াস উপযুগে গঠিত হয়েছে, তাদের প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত বলে । এই পর্বতগুলির সম্পূর্ণরূপে গঠিত ।

প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতগুলির  উদাহরণ হল  আর্কিয়ান যুগের আরাবল্লী,  ক্যালিডোনিয়ান উপযুগের স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের পর্বতমালা এবং কার্বোনিফেরাস যুগের ইউরাল এবং অ্যাপালেশিয়ান ।

(খ) নবীন ভঙ্গিল পর্বত :  যে সকল ভঙ্গিল পর্বতগুলি সবেমাত্র গঠিত হয়েছে এবং এখনো গঠন কার্য চলছে  তাদের নবীন ভঙ্গিল পর্বত বলে । এই পর্বতগুলির উৎপত্তি ১০ কোটি বছর আগে ক্রিটেসিয়াস উপযুগ থেকে শুরু হয়ে বর্তমানকাল অর্থাৎ টার্সিয়ারি যুগেও অব্যাহত রয়েছে । নবীন ভঙ্গিল পর্বতের উদাহরণ হল হিমালয়, আল্পস, রকি এবং আন্দিজ প্রভৃতি ।

আগ্নেয় পর্বত

যখন ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত গলিত উপাদান বা ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের ফাটল বা দুর্বল স্থানের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে এসে লাভারূপে সঞ্চিত হয়ে যে পর্বত গঠিত করে, তাকে আগ্নেয় পর্বত বলে ।

ভূ-পৃষ্ঠে আগ্নেয় পদার্থ বা লাভা সঞ্চিত হয়ে এই পর্বতের সৃষ্টি হয় বলে একে সঞ্চয়জাত পর্বত ও বলা হয় । যেমন – হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনালোয়া, ভারতের ব্যারেন এবং নারকোন্ডাম, জাপানের ফুজিয়ামা, ইতালির ভিসুভিয়াস এবং চিলির চিম্বোরাজো আগ্নেয় পর্বত প্রভৃতি ।

আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি :

অগ্ন্যুৎপাত দ্বারা আগ্নেয় পর্বতের গঠন নির্ধারিত হয় । পাত সংস্থান তত্ত্বের ভিত্তিতে আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখা করা যায় ।

  1. অভিসারী পাতসীমান্তে  আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি :  অভিসারী পাতসীমান্তে যখন দুটি পাত পরস্পরের অভিমুখে মিলিত হয়, তখন দুটি পাতের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং একটি পাত অন্য পাতের  নীচে প্রবেশ করে । পৃথিবীর প্রচন্ড তাপে এই নিমজ্জিত প্লেট গলে ম্যাগমায় পরিণত হয় । ফলস্বরূপ, ভূগর্ভে  প্রচুর পরিমাণে চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশ ফেটে যায় । প্রশান্ত মাহাসাগরকে ঘিরে একাধিক অভিসারী পাতসীমানা থাকায় সেখানে অনেকগুলি আগ্নেয় পর্বত গড়ে উঠেছে ।
  2. প্রতিসারী পাতসীমান্তে আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি : প্রতিসারী পাতসীমান্তে দুটি পাত পরস্পর থেকে দূরে সরে গেলে ভূ -পৃষ্ঠে ফাটলের সৃষ্টি হয় । তখন ভূ-গর্ভের উত্তপ্ত সান্দ্র পদার্থের ওপরকার চাপ কমে গেলে তা গলে গিয়ে তরল পদার্থে পরিণত হয় । এর ফলে ভূ-গর্ভে প্রচন্ড চাপের সৃষ্টি হয় ও ভূ-গর্ভের ম্যাগমা ভূ-পৃষ্ঠের  ফাটল দিয়ে উপরে উঠে এসে আগ্নেয় পর্বত গঠন করে । মধ্য আটলান্টিক শৈলশিরা বরাবর প্রতিসারী পাতসীমান্তে এভাবে আগ্নেয় পর্বত গঠিত হয়েছে ।
  3. আন্তঃপাত অঞ্চলে আগ্নেয় পর্বতের উৎপত্তি :  পৃথিবীর পৃষ্ঠের কোনো কোনো পাতের মধ্যে কিছু এলাকার উত্তাপ তার চারপাশের অঞ্চলের তুলনায় বেশি হয় । এই জায়গাগুলিকে  হট স্পট বলা হয় । ভূতাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন যে, একটি উত্তপ্ত অঞ্চলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বিকিরণে ম্যাগমার ঊর্ধ্বপ্রবাহ ঘটে । ভূ-গর্ভের ম্যাগমার এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহকে প্লিউম বলে ।অনেক সময় প্লিউম-এর  ঊর্ধ্বমুখী চাপে ভূ-পৃষ্ঠের দুর্বল অংশ ফেটে যায় । ভূগর্ভের উত্তপ্ত গলিত ম্যাগমা তখন ফাটল পথ থেকে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে আসে এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠে জমা হয়, যার ফলে আগ্নেয়পর্বত সৃষ্টি হয় । যেমন- উত্তর আমেরিকার পাতের মধ্যে গড়ে উঠেছে মেক্সিকোর পারিকুটিন আগ্নেয় পর্বত ।

আগ্নেয় পর্বতের বৈশিষ্ট্য : 

  1. আগ্নেয় পর্বত শঙ্কু বা মোচাকৃতির হয়ে থাকে ।
  2. আগ্নেয় পর্বতে একটি প্রধান এবং অনেকগুলি অপ্রধান জ্বালামুখ থাকে ।
  3. এই পর্বতের উচ্চতা খুব বেশি না হলেও, ঢাল অল্প থেকে খাড়াই হতে পারে ।
  4. ক্ষারকীয় লাভা দিয়ে গঠিত আগ্নেয় পর্বতগুলি চ্যাপ্টা ও অল্প ঢালু হয় ।
  5. অগ্ন্যুৎপাতের সময় আগ্নেয় পর্বতের চারপাশে নিক্ষিপ্ত প্রস্তরখন্ড বা পাইরোক্লাস্ট, ছাই প্রভৃতি ছড়িয়ে থাকে ।
  6. আগ্নেয় পার্বত্য অঞ্চলগুলি ভূমিকম্পপ্রবণ হয় ।

আগ্নেয় পর্বতের প্রকারভেদ :

প্রকৃতি অনুসারে আগ্নেয়পর্বত তিন ভাগে বিভক্ত, যথা-

(ক) জীবন্ত আগ্নেয়গিরি : যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হয়ে আগ্নেয় পর্বতের গঠন কাজ এখনো চলছে, তাদের জীবন্ত আগ্নেয় গিরি বলে । এই আগ্নেয়গিরির মধ্যে যেগুলি থেকে অনবরত অগ্ন্যুৎপাত হয়ে আগ্নেয় পর্বত গঠিত হচ্ছে, তাদের অবিরাম আগ্নেয় গিরি বলে । যেমন- ইটালির স্ট্রোম্বলি

কিছুদিন অন্তর অন্তর যে আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত হয়ে, ধীরে ধীরে পর্বতের গঠনকার্য চলছে, তাদের সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে । যেমন – ইটালির ভিসুভিয়াস ।

(খ) সুপ্ত আগ্নেয়গিরি : যে আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত আপাতত বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু ভবিষ্যতে যে কোনো সময় পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু হতে পারে, তাদের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলে । যেমন- জাপানের ফুজিয়ামা আগ্নেয়গিরি ।

(গ)  মৃত আগ্নেয়গিরি : যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অতীতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে কিন্তু ভবিষ্যতে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই অর্থাৎ আগ্নেয় পর্বতের গঠন কাজ শেষ হয়ে গেছে তাদের মৃত আগ্নেয়গিরি বলে । যেমন-মায়ানমারের পোপো আগ্নেয়গিরি ।

পৃথিবীপৃষ্ঠে আগ্নেয় পর্বত বা আগ্নেয়গিরির অবস্থান :

পৃথিবীপৃষ্ঠে অধিকাংশ আগ্নেয় পর্বত প্রধানত দুটি আগ্নেয়গিরি বলয়ে অবস্থান করে । যেমন-

১) প্রশান্ত মহাসাগরীয় বলয় : প্রশান্ত মহাসাগর বিশ্বের ৮০% এর বেশি আগ্নেয়গিরির আবাসস্থল। এই আগ্নেয়গিরি বলয়টি দক্ষিণে হর্ন অন্তরীপ থেকে শুরু করে আন্দিজ পর্বতমালা পর্যন্ত, তারপর মধ্য আমেরিকার পর্বতমালা হয়ে উত্তরে রকি পর্বত পর্যন্ত বিস্তৃত ।

তারপরে এটি পশ্চিমদিকে বেঁকে অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, কামচাটকা, জাপান ও ফিলিপিনস দ্বীপপুঞ্জ হয়ে  পুর্ব ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে । প্রশান্ত মাহাসাগরকে ঘিরে থাকা এই আগ্নেয়গিরি বলয়টি ‘প্রশান্ত মাহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ নামে পরিচিত ।

২) মধ্য আটলান্টিক বলয় : উত্তরে আইসল্যান্ড দ্বীপ থেকে দক্ষিণে অ্যাজোর্স ও কেপ ভার্দে দ্বীপের মধ্য দিয়ে দক্ষিণে গিনি উপসাগর পর্যন্ত এই আগ্নেয়গিরি বলয়টি বিস্তৃত । এর একটি শাখা পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে এশিয়া পর্যন্ত, অন্যটি পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত গেছে ।

এছাড়া পূর্ব আফ্রিকার বিশাল গ্রস্ত উপত্যকা অঞ্চলে রুয়েঞ্জারি, কিলিমাঞ্জারো এবং হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মৌনালোয়া প্রভৃতি পৃথিবীর বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি ।

স্তূপ পর্বত

যখন প্রবল চাপে দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূ-ভাগ বা পার্শ্বস্থ অংশ স্তুপের মতো ওপরে উঠে পর্বতের আকার ধারণ করে, তাকে স্তুপ পর্বত বলে । বিশ্বের অধিকাংশ স্তুপ পর্বত রয়েছে পূর্ব আফ্রিকার বিশাল গ্রস্ত  উপত্যকা অঞ্চলে ।

উত্তর আমেরিকার বৃহৎ উপত্যকা শ্রেণী অঞ্চলেও অনেক স্তুপ পর্বত দেখা  যায় । তা ছাড়া ফ্রান্সের ভোজ, জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ভারতের বিন্ধ্য, সাতপুরা, নীলগিরি এবং অন্যান্য স্তুপ পর্বত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।

হোর্স্ট : যখন দুটি প্রায় সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূমি তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাড়াভাবে ওপরে উঠে গিয়ে যে উচ্চভুমি গঠন করে তাকে হোর্স্ট বলে । হোর্স্ট পর্বতের আকার ধারণ করে স্তুপ পর্বতে পরিণত হয় । তাই সকল স্তুপ পর্বত হোর্স্ট হলেও সকল হোর্স্ট  স্তুপ পর্বত নয় । ভারতের শিলং উচ্চভূমি হোর্স্ট এর উদাহরণ ।

গ্রস্ত উপত্যকা :  অনেক ক্ষেত্রে, দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূমি উপরে না উঠে নীচে নেমে যায়, এই বসে যাওয়া বা অবনমিত ভূমিকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে । পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রস্ত উপত্যকা হলো পূর্ব আফ্রিকার বৃহৎ গ্রস্ত উপত্যকা । এছাড়াও জার্মানির রাইন নদী উপত্যকা, ভারতের নর্মদা প্রভৃতি হলো গ্রস্থ উপত্যকা ।

গ্রাবেন : দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূভাগ নীচে বসে গিয়ে অথবা চ্যুতির দুপাশের ভূমি ওপরে উঠে গেলে  তার মাঝখানে যে অবনমিত ভূমিভাগের সৃষ্টি হয়, তাকে গ্রাবেন বলে । গ্রাবেন উপত্যকায় পরিণত হলে তা গ্রস্ত উপত্যকা রূপে অবস্থান করে । আবার অনেক ভূ-বিজ্ঞানী ক্ষুদ্র আয়তনের গ্রস্ত উপত্যকাকে গ্রাবেন রূপে চিহ্নিত করেন । যেমন – জার্মানির রাইন নদী উপত্যকা হল গ্রাবেন ।

স্তূপ পর্বতের উৎপত্তি :  

ধীর ভূ-গাঠনিক আলোড়নের প্রভাবে স্তুপ পর্বতের উৎপত্তি ঘটে । প্রবল গিরিজনি আলোড়নের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে সংকোচন ও প্রসারণের সৃষ্টি হয় । ক্রমাগত সংকোচন ও প্রসারণের ফলে শিলাস্তরে প্রচন্ড পীড়নের সৃষ্টি হয় । এই পীড়নের ফলে শিলাস্তর খাড়াভাবে গভীর হয়ে ফেটে গিয়ে কতকগুলি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে ।

পরবর্তী ক্ষেত্রে, মহীভাবক আলোড়নের প্রভাবে সমান্তরাল দুটি ফাটলের একদিকের অংশ অপর অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন  হয়ে ওঠা নামা করলে চ্যুতির সৃষ্টি হয় । দুটি সমান্তরাল চ্যুতি নানাভাবে স্তুপ পর্বতের উৎপত্তি ঘটিয়ে থাকে । যেমন-

  1. প্রবল চাপের ফলে দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূ-ভাগ খাড়াভাবে উঠে স্তুপ পর্বত গঠন করে ।
  2. দুটি সমান্তরাল চ্যুতির দুই পার্শ্বস্থ ভূমিভাগ প্রবল চাপে ওপরে উঠে স্তুপ পর্বতে পরিণত হয় ।
  3. প্রবল চাপে দুটি সমান্তরাল চ্যুতির দুই পার্শ্বস্থ ভূমিভাগ খাড়াভাবে নীচে বসে গেলে মাঝখানে ভূমিভাগ উঁচু হয়ে উঠে স্তুপ পর্বতের সৃষ্টি করে ।
  4. দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূমিভাগ নীচে অবনমিত হলে তার পার্শ্বস্থ ভূমি উঁচু হয়ে উঠে স্তুপ পর্বতের সৃষ্টি করে ।

স্তূপ পর্বতের  বৈশিষ্ট্য :

  1. স্তুপ পর্বতগুলি স্তুপের আকারে অবস্থিত তাই এর চারপাশের ঢাল বেশ খাড়া প্রকৃতির হয় ।
  2. এই পর্বতের চূড়া বা শীর্ষদেশ চ্যাপ্টা প্রকৃতির হয় এবং উপরিভাগ প্রায় সমতল হয় ।
  3. স্তূপ পর্বত আকার ও আয়তনে অপেক্ষাকৃত ছোটো হয় ।
  4. স্তূপ পর্বতের উচ্চতাও  অপেক্ষাকৃত কম ।
  5. স্তুপ পর্বতের মাঝে বহু চ্যুতি পরিলক্ষিত হয় ।
  6. এই পর্বতগুলি প্রায়শই আগ্নেয় এবং রূপান্তরিত শিলা দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে
  7. স্তূপ পর্বতের পাশে সর্বদা গ্রস্ত উপত্যকা অবস্থান করে ।

হোর্স্ট ও স্তুপ পর্বতের মধ্যে পার্থক্য :

হোর্স্ট স্তুপ পর্ব্ত
যখন দুটি প্রায় সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী ভূমি তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাড়াভাবে ওপরে উঠে গিয়ে যে উচ্চভুমি গঠন করে তাকে হোর্স্ট বলেহোর্স্ট পর্বতের আকার ধারণ করে স্তুপ পর্বতে পরিণত হয়
হোর্স্ট প্রধানত মহীভাবক আলোড়নের ফলে গঠিত হয়স্তুপ পর্বত প্রধানত মহীভাবক আলোড়ন ও প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কাজের ফলে গঠিত হয়
প্রাথমিকভাবে হোর্স্ট-এর শীর্ষদেশ  মালভূমির মতো চ্যাপ্টা হয়নদনদীর ক্ষয়কাজের ফলে স্তুপ পর্বতের শীর্ষদেশ চূড়ার আকার ধারণ করে এবং এক পাশের ঢাল খাড়া এবং অপর পাশে মৃদু ঢাল যুক্ত হয়
ভারতের শিলং উচ্চভূমি হোর্স্ট-এর  উদাহরণভারতের সাতপুরা ও বিন্ধ্য পর্বত স্তুপ পর্বতের উদাহরণ

ক্ষয়জাত পর্বত

যখন ভূপৃষ্ঠে বিভিন্ন আকারের পর্বত ও উচ্চ মালভূমিসমূহ দীর্ঘকাল ধরে নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয় হয় এবং স্বল্প উঁচু অবশিষ্ট পর্বতের আকার ধারণ করে তখন তাকে ক্ষয়জাত পর্বত বলে । যেমন – ভারতের আরাবল্লী পর্বত, উত্তর আমেরিকার অ্যাপালেশিয়ান এবং ইউরোপের সিয়েরা নেভাদা প্রভৃতি ।

ক্ষয়জাত পর্বতের উৎপত্তি :  প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ায় ক্ষয়জাত পর্বতের উৎপত্তি হয়ে থাকে । যেমন-

  1. শিলাগঠনের অসমতা :  কঠিন বা নরম শিলার আধিক্য শিলাস্তরের ক্ষয় প্রতিরোধী ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে । অসংখ্য প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়ের দ্বারা কোমল শিলাস্তর সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় কিন্তু কঠিন শিলাগঠিত অংশটি অপেক্ষাকৃত কম ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অবশিষ্ট পর্বতের আকার ধারণ  করে ।
  2. পাললিক শিলাস্তরে উদবেধী আগ্নেয় শিলার প্রবেশ : পাললিক শিলাস্তরের মধ্যে অনেক সময়  আগ্নেয় উদ্ভেদ প্রবেশ করে ভূ-ত্বকের নীচে সঞ্চিত হয় এবং  বিশাল উঁচু স্তুপের সৃষ্টি করে । পরবর্তীকালে সেই স্তুপের উপরকার শিলার আচ্ছাদন প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে অপসারিত হলে অভ্যন্তরের উদবেধী আগ্নেয় শিলাস্তুপ ভূ-পৃষ্ঠে উন্মুক্ত হয় এবং ক্ষয়জাত পর্বতের আকারে আত্মপ্রকাশ করে । যেমন –  ভারতের প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত আরাবল্লী দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয় পেয়ে ক্ষয়জাত পর্বতে পরিণত হয়েছে ।

ক্ষয়জাত পর্বতের  বৈশিষ্ট্য : 

  1. ক্ষয়জাত পর্বতগুলিকে গম্বুজের মতো দেখতে হলেও এদের উচ্চতা অনেক কম হয় ।
  2. ক্ষয়জাত পর্বতগুলির আকার এবং আয়তন প্রায়শই যথেষ্ট ছোট হয় ।
  3. দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার ফলে এই পর্বতের ঢাল বেশ কম হয় ।
  4. এই পর্বতের উপরিভাগের বন্ধুরতা কম ও উঁচু-নীচু কম হয় ।
  5. ক্ষয়জাত পর্বতগুলি প্রাথমিকভাবে কঠিন আগ্নেয় এবং রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত ।
  6. ক্ষয়জাত পর্বত থেকে প্রাচীন শিলাগুলির গুণাবলী, শিলার বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা যেতে পারে এবং তাদের বয়স অনুমান করা যেতে পারে ।

আগ্নেয় ( সঞ্চয়জাত ) পর্বত ও ক্ষয়জাত পর্বতের পার্থক্য : 

আগ্নেয় ( সঞ্চয়জাত ) পর্বতক্ষয়জাত পর্বতে
অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে ভূ-পৃষ্ঠে আগ্নেয় পদার্থ সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বতের সৃষ্টি হয় ।বাহ্যিক প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কার্যের প্রভাবে ক্ষয়জাত পর্বত গঠিত হয়
আগ্নেয়ে পদার্থ সঞ্চিত হয়ে এই পর্বত সৃষ্টি হয় বলে একে সঞ্চয় জাত পর্বত বলেপর্বত ও উচ্চ মালভূমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এই পর্বতের সৃষ্টি হয় বলে একে নগ্নীভূত পর্বত বলে
আগ্নেয়  পর্বতে একটি প্রধান ও অনেকগুলি অপ্রধান জ্বালামুখ থাকেক্ষয়জাত পর্বতে জ্বালামুখ থাকে না
আগ্নেয় পর্বতগুলি কঠিন আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিতক্ষয়জাত পর্বতগুলি অবশিষ্ট আগ্নেয়  ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত হয়
আগ্নেয় পর্বতের আকৃতি অনেকটা শঙ্কু বা মোচাকৃতি হয়ক্ষয়জাত পর্বতের আকৃতি চ্যাপ্টা মাথা অনুচ্চ গম্বুজের মতো
আগ্নেয় পর্বত বয়সে অপেক্ষাকৃত নবীনক্ষয়জাত পর্বতগুলি বয়সে অত্যন্ত প্রাচীন
আগ্নেয় পর্বত অপেক্ষাকৃত বন্ধুর, উঁচু -নীচু এবং এর ঢাল বেশ খাড়া হয়ক্ষয়জাত পর্বতের বন্ধুরতা অনেক কম ও এর ঢাল খুব কম হয়
আগ্নেয় পার্বত্য অঞ্চল খনিজ দ্রব্যে সমৃদ্ধ হয়ক্ষয়জাত পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়

পর্বতের গুরুত্ব : 

পর্বত ও পার্বত্য অঞ্চল বিভিন্ন প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে ।

  1. উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল বায়ুপ্রবাহকে প্রতিহত করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে ।
    যেমন- হিমালয় পর্বতের উত্তর ঢালে তীব্র শীতল সাইবেরীয় বায়ু প্রতিহত হয়ে ভারতকে শৈত্যপ্রবাহ থেকে রক্ষা করে । আবার হিমালয় পর্বতের দক্ষিণ ঢালে আর্দ্র জলবায়ু বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মেঘালয় অঞ্চলে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে থাকে ।
  2. উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে বরফ গলে নদীর সৃষ্টি হয় । হিমবাহ গলা জলে পুষ্ট নদীগুলোতে সারা বছরই জল থাকে । এই সমস্ত চিরপ্রবাহী নদী উর্বর পলিমাটি প্রদান করে । উত্তর ভারতের নদীগুলি, হিমালয় পর্বতের বরফগলা জলে পুষ্ট হয়ে উর্বর সমভূমি গঠন করেছে ।
  3. পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের গাছের বনভূমি গড়ে ওঠে, এই বনভূমি থেকে মূল্যবান কাঠ, বিভিন্ন ধরনের বনজ সম্পদ এবং ঔষধি গাছ পাওয়া যায় । যেমন – দক্ষিণ ভারতের নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান বনজ সম্পদ ও ঔষধি পাওয়া যায় ।
  4. পার্বত্য অঞ্চলের বন্ধুর জমি, শীতল জলবায়ু, অনুর্বর মাটি ইত্যাদি প্রতিকূল প্রাকৃতিক উপাদান কৃষি ও শিল্প বিকাশে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে । ফলস্বরূপ, পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দারা প্রাথমিক  অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন ধাপ চাষ, পশুপালন এবং কাঠ ও বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে ।
  5. পার্বত্য অঞ্চল চা, কফি, কোকো এবং অন্যান্য ফল (কমলা, আপেল, আঙ্গুর এবং নাশপাতি) বাগিচা ফসল চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত । নীলগিরি পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে চা, কফি, কোকো প্রভৃতি ফসলের চাষ হয় ।
  6. পার্বত্য অঞ্চলে জনবসতি কম কারণ পাহাড়ি ভূমি বন্ধুর প্রকৃতির, অনুর্বর মাটি, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, দুর্বল কৃষি ও শিল্প ব্যবস্থা । এই এলাকায় যারা বসবাস করে তারা অত্যন্ত পরিশ্রমী । ভারতের পার্বত্য অঞ্চল  অরুণাচল প্রদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম ।
  7. সুউচ্চ এবং বিস্তীর্ণ পর্বতশ্রেণী একটি প্রাকৃতিক বাধার প্রাচীর গঠন করে যা দেশকে বহিরাগত আক্রমণকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে । হিমালয় পর্বতশ্রেণী  ভারতকে উত্তর ও পশ্চিম দিক থেকে বিদেশী শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে ।
  8. পর্যটকরা পাহাড়ি অঞ্চলের শান্ত ও মনোরম পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ইত্যাদির প্রতি আকৃষ্ট হয় । ফলে পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠে পর্যটন ও স্বাস্থ্যনিবাস । দার্জিলিং, সিমলা, ডালহৌসি, উটি এবং অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।

মালভূমি

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে ৩০০ মিটারের বেশি উঁচু, বহুদূর বিস্তৃত, চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত, ঢেউ খেলানো শিলাময় ভুমিরূপকে মালভূমি বলে । মালভূমির উপরিভাগ প্রায় সমতল বা সামান্য ঢেউ খেলানো এবং এর চারপাশ খাড়াঢালযুক্ত হয় বলে মালভূমিকে দেখতে অনেকটা টেবিলের মতো হয় । তাই, মালভূমিকে  ‘টেবিলল্যান্ড’ বলা হয় ।

মালভূমির মূল বৈশিষ্ট্য : 

  1. বিস্তীর্ন উচ্চভূমি হলো মালভূমি ।
  2. মালভূমির উপরিভাগ, তরঙ্গায়িত বা মৃদু ঢেউ খেলানো হয় ।
  3. মালভূমির চারপাশ খাড়াঢালযুক্ত হয় ।
  4. অধিকাংশ মালভূমির বিশেষ করে খনিজ সমৃদ্ধ হয় ।

মালভূমির শ্রেনীবিভাগ : 

উৎপত্তির কারণ  ও গঠনগত বৈচিত্র্য অনুসারে ভূ-পৃষ্ঠের মালভূমিকে প্রধাণত চার ভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

  1. ভূগাঠনিক  মালভূমি
  2. সঞ্চয়জাত মালভূমি
  3.  ক্ষয়জাত মালভূমি
  4.  অন্যান্য মালভূমি

পৃথিবীর সকল প্রকার মালভূমির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল –

  1. পর্বতবেষ্টিত মালভূমি
  2. লাভা মালভূমি
  3. ব্যবচ্ছিন্ন  মালভূমি
  4. মহাদেশীয় মালভূমি বা শিল্ড

পর্বতবেষ্টিত মালভূমি : যে মালভূমির চারিদিক পর্বত দ্বারা বেষ্টিত, তাদের পর্বত বেষ্টিত মালভূমি  বলে । যেমন- যেমন ইরানের মালভূমি, পন্টিক ও টরাস পর্বতের মাঝে অবস্থিত আনাতোলিয়া মালভূমি প্রভৃতি ।

লাভা মালভূমি : আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা লাভা ভূ-পৃষ্ঠে ক্রমে ক্রমে সঞ্চিত হয়ে উঁচু হয়ে উঠে যে মালভূমি গঠন করে তাকে লাভা মালভূমি  বলে । প্রচণ্ড ভূ-আলোড়নের ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো দুর্বল স্থানে ফাটলের সৃষ্টি হয়, তখন উত্তপ্ত গলিত পদার্থ বা ম্যাগমা, ধোঁয়া, ছাই এবং অন্যান্য পদার্থ বেরিয়ে আসে এবং ফাটলের চারপাশে লাভারূপে ছড়িয়ে পড়ে । লাভা ধীরে ধীরে ভূ-পৃষ্ঠে জড়ো হয় এবং ক্রমাগত উঁচু হয়ে মালভূমি গঠন করে । যেমন- উত্তর আমেরিকার মালভূমি কলম্বিয়া মালভূমি,  আফ্রিকার ইথিওপিয়া মালভূমি প্রভৃতি ।

ব্যবচ্ছিন্ন  মালভূমি : যখন পৃথিবী পৃষ্ঠের বিভিন্ন পর্বত এবং মালভূমি প্রাকৃতিক শক্তির কারণে ক্ষয়জাত মালভূমিতে পরিণত হয়, তখন তা ছোট ছোটো নদী এবং উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যে মালভূমি গঠন করে, তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে ।

যখন সূর্যের তাপ, বৃষ্টিপাত, বাতাস, নদী, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন ধরণের পর্বত এবং উচ্চভূমির নরম শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন তারা ক্ষয়প্রাপ্ত মালভূমি তৈরি করে । ফলস্বরূপ, এই ধরণের মালভূমিতে বেশ কয়েকটি ছোট নদী তৈরি হয় এবং মালভূমিটি নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয় ।
ভারতে ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুর মালভূমি এবং ভারতের কর্ণাটকের মালনাদ অঞ্চল, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ওয়েলস মালভূমি প্রভৃতি 

মহাদেশীয় মালভূমি বা শিল্ড : ভূ-গাঠনিক আলোড়নের ফলে সৃষ্ট, প্রায় মহাদেশের মতো বিশাল আয়তনের মালভূমিগুলিকে মহাদেশীয় মালভূমি বলে । অত্যন্ত প্রাচীন শিলা দ্বারা সৃষ্ট ভূত্বকের এই শক্ত, স্থায়ী অংশগুলি শিল্ড মালভূমি নামে পরিচিত ।

মালভূমির গুরুত্ব : 

  1. যেহেতু মালভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচুতে অবস্থিত, তাই এই অঞ্চলে উষ্ণতা যথেষ্ট কম । যেমন – ব্রাজিল উষ্ণমন্ডলে অবস্থিত, তবে এর রাজধানী ব্রাসিলিয়া মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত, তাই এখানে তাপমাত্রা মোটামুটি কম । মালভূমি অঞ্চল বৃষ্টিপাত ঘটাতেও সহায়তা করে ।
  2. মালভূমি অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি কিছুটা উঁচু-নীচু হওয়ায় এই অঞ্চলের নদীগুলো খরস্রোতা হয় । এই খরস্রোতা নদীগুলি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাহায্য করে ৷ দাক্ষিণাত্য মালভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির ওপরে অসংখ্য জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি স্থাপিত হয়েছে ।
  3. মালভূমির অবস্থান, বিশেষ করে প্রাচীন মালভূমি অঞ্চল, মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ । ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল এবং উত্তর আমেরিকার কানাডীয় শিল্ড অঞ্চল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ।
  4. কঠিন শিলা দ্বারা গঠিত মালভূমি অঞ্চলগুলি কৃষির জন্য অনুপযুক্ত ।
  5. মালভূমিগুলো উল্লেখযোগ্য খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়ায় সেখানে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মাণ করে উচ্চমানের শিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে । ভারতের ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে উপলব্ধ লৌহ আকরিকের উপর ভিত্তি করে, জামশেদপুর এবং বোকারোতে উন্নতমানের লোহা ও ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে ।
  6. মালভূমি অঞ্চলে বসবাসকারী  মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অনিশ্চিত । সেখানকার বাসিন্দারা বেশিরভাগই অনুন্নত কৃষি, পশুপালন এবং কাঠ ও খনিজ সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে ।
  7. অনুন্নত যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে, মালভূমি অঞ্চল সাধারণত কম জনবহুল হয় । অন্যদিকে খনিজ সম্পদ সংগ্রহ ও পর্যটন কেন্দ্রগুলি অত্যন্ত জনবহুল হয়ে উঠেছে । দার্জিলিং, পশ্চিমবঙ্গ, সিমলা, হিমাচল প্রদেশ এবং জামশেদপুর, ঝাড়খণ্ড সবই অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ শহর ।

সমভূমি

সমুদ্রপৃষ্ঠের সঙ্গে প্রায় একই সমতলে অবস্থিত বিস্তীর্ণ, বৈচিত্র্যহীন অত্যন্ত মৃদু ঢালু নিম্ন সমতলভূমিকে সমভূমি বলে । এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি সমভূমি রয়েছে, যেখানে আফ্রিকায় সবচেয়ে কম ।

 সমভূমির  বৈশিষ্ট্য :

  1. সমভুমি হল বহুদূর বিস্তৃত, সমতল নিম্নভূমি ।
  2. সমভূমির গড় উচ্চতা 300 মিটারের কম হওয়া সত্ত্বেও, বেশিরভাগ সমভূমি কার্যত সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় সমতলে অবস্থান করে ।
  3. সমভূমি মৃদুঢালযুক্ত হয় ।
  4. সমভূমির উপরিভাগ সমতল এবং বৈচিত্র্যহীন ।
  5. সমভূমি সাধারনত ক্ষয়প্রাপ্ত নরম শিলা দিয়ে গঠিত হয় ।
  6. কখনো কখনো  সমভুমি সামান্য তরঙ্গায়িত হয়ে থাকে ।

সমভূমির শ্রেনীবিভাগ : পৃথিবীর সব ধরণের সমভূমিকে তাদের উৎপত্তি এবং গঠনের ভিত্তিতে তিনটি প্রধান গোষ্ঠীতে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়

(ক) ভূ-গঠনগত সমভূমি

(খ) ক্ষয়প্রাপ্ত সমভূমি

(গ) সঞ্চিত সমভূমি

ভূ-গাঠনিক সমভূমি : 

প্রবল ভূ-আলোড়নে যখন উঁচু ভূভাগ নীচে বসে গিয়ে অথবা অগভীর সমুদ্রের অংশ উত্থিত হয়ে যে সকল সমভূমি গঠন করে, তাদের ভূ-গাঠনিক সমভূমি বলে । উৎপত্তি অনুসারে এই সমভূমির তিনটি ভাগ রয়েছে

  1. স্বাভাবিক সমভূমি : এশিয়া এবং ইউরোপের উত্তরের সমভূমি ।
  2. উন্নত সমভূমি : ভারতের করমন্ডল উপকূল বরাবর সমভূমির অন্তর্ভুক্ত ।
  3. অবনত সমভূমি : মধ্য এশিয়ার, তুরানের নিম্নভূমি অবনত সমভূমির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ।

ক্ষয়জাত সমভূমি :

প্রাকৃতিক শক্তি যেমন সূর্যের তাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ু, নদী, হিমবাহ ইত্যাদি দ্বারা ভূপৃষ্ঠের উচ্চভূমি ও মালভূমিসমূহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমভূমির সৃষ্টি করে । ক্ষয়প্রাপ্ত সমভূমি দুটি ভাগে বিভক্ত, যথা –

  1. সমপ্রায় ভূমি : দীর্ঘদিন ধরে ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত মালভূমি ও উচ্চভূমি প্রাকৃতিক শক্তি যেমন সূর্যের তাপ, বৃষ্টিপাত, বায়ু, নদী, হিমবাহ ইত্যাদির প্রভাবে সময়ের সাথে সাথে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি করে তাদের সমপ্রায় ভূমি বলে ।সমপ্রায় ভূমির মাঝে মাঝে অবশিষ্ট কঠিন শিলায় গঠিত কিছু টিলা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় । এদের মোনাডনক বলে । যেমন – ভারতের রাঁচি সমভূমি, ফিনল্যান্ডের দক্ষিণ সমভূমি ।
  2. পাদদেশীয় সমভূমি : বায়ু এবং সাময়িকভাবে সৃষ্টি হওয়া জলপ্রবাহের মিলিত ক্ষয়কাজ ও সঞ্চয়কার্যের ফলে মরু অঞ্চলে পর্বতের পাদদেশে যে প্রায় সমতল প্রস্তরময় ঢালু সমভূমি সৃষ্টি হয়, তাকে পাদদেশীয় সমভূমি বলে ।

সঞ্চয়জাত সমভূমি : 

নদী, বায়ুপ্রবাহ , হিমবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা বাহিত পলিরাশি ভূ-পৃষ্ঠের নিম্নভূমি বা অবনমিত অংশে অথবা অগভীর সমুদ্রে সঞ্চিত হয়ে যে সকল সমভুমি সৃষ্টি হয়েছে তাদের সঞ্চয়জাত সমভূমি বলে ।

পৃথিবীর সঞ্চয়জাত সমভূমিগুলিকে আটটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, যথা –

  1. পলিগঠিত সমভূমি : নদীর উভয় তীরের নিম্নভূমিতে নদীর নুড়ি, বালি, কাদা, পলি এবং অন্যান্য উপাদান সঞ্চিত হয়ে ও পরবর্তীকালে ভরাট হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে পলিগঠিত সমভূমি বলে । যেমন – উত্তর ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি বিশ্বের বৃহত্তম পলিগঠিত সমভূমি, পাকিস্তানের সিন্ধু উপত্যকা অববাহিকা, চীনের ইয়াং সিকিয়াং অববাহিকা এবং টাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস অববাহিকা ।
  2. প্লাবন সমভূমি : নদীর তলদেশে নুড়ি, বালি, পলি, কাদা এবং অন্যান্য উপাদানে নদীগর্ভ ভরাট হয়ে যায় । বর্ষাকালে নদীতে অতিরিক্ত জল এসে পড়লে নদী তা ধরতে না পেরে নদীর দু-কূল ছাপিয়ে দুপাশের নিম্নভূমিতে বন্যার সৃষ্টি করে । পরে, বন্যার বর্ষার জল কমলে সেখানে পলি জমা হয়। বছরের পর বছর বন্যার সময় নদীর উভয় পাশের নীচু জমিতে পলি জমে প্লাবন সমভূমির সৃষ্টি হয় । যেমন – গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র এবং সিন্ধু প্রভৃতি নদীর তীরে প্লাবন সমভূমি দেখা যায় ।
  3. বদ্বীপ সমভূমি :  মোহনার কাছাকাছি নদীতে জলের স্রোত খুবই কম হওয়ায় নদীবাহিত পলি, বালি, কাদা নদীর মুখে জমা হতে থাকে । এই পলিরাশি জোয়ারের লবনাক্ত জলে জোটবদ্ধ হয়ে নদীর মুখ ভরাট করে এক ভূ-খন্ডের সৃষ্টি করে । তখন নদীস্রোত বিভক্ত হয়ে ওই ভূ-খন্ডের দু পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়ার ফলে নদীর মুখে একাধিক ত্রিকোনাকার ভূ-খন্ডের সৃষ্টি হয় । এই ত্রিকোণাকার ভূ-খন্ডগুলি নদীবক্ষে মাত্রাহীন বাংলা ব-এর মতো হয় । একে বদ্বীপ বলে । সময়ের সাথে সাথে তাদের চারপাশে আরও পলি জমা হয় এবং ব-দ্বীপের আকার বৃদ্ধির সাথে সাথে তারা মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযোগ স্থাপন করে একটি সমভূমি তৈরি করে, একে ব-দ্বীপ সমভূমি বলে । যেমন – সুন্দরবন বদ্বীপ, যা  গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র মোহনার মুখে গঠিত, এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ সমভূমি । ইয়াংসি কিয়াং, হোয়াং  হো, নীল নদ, মিসিসিপি-মিসৌরি প্রভৃতি বৃহৎ নদীর মোহনায় ব-দ্বীপ সমভূমি
  4. লাভা সমভূমি : ভূগর্ভের উত্তপ্ত গলিত লাভা বা ম্যাগমা বিস্ফোরিত না হয়েই ভূ-পৃষ্ঠের ফাটল বা গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে নিম্নভূমিকে ভরাট করে, যে সমভূমির সৃষ্টি করে তাকে লাভা সমভূমি বলে । যেমন – গুজরাটের দক্ষিণে এবং কোঙ্কন উপকূলে গঠিত হয়েছে ।
  5. লোয়েশ সমভূমি : ’লোয়েশ’ শব্দটি হল একটি জার্মান শব্দ যার অর্থ সূক্ষ্ম পলি । মরু অঞ্চলের অতি সূক্ষ্ম বালুকণা প্রবল বায়ুপ্রবাহের দ্বারা অপসারিত ও বহু দূরে পরিবাহিত হয়ে কোনো নদী অববাহিকার নিম্নভূমি অঞ্চলে সঞ্চিত ও ভরাট হয়ে যে সমভূমি গড়ে তোলে, তাকে লোয়েশ সমভূমি বলে । যেমন – মধ্য এশিয়ার গোবি মরুভূমি থেকে প্রচুর পরিমাণে বালি উড়ে চিনের হোয়াং হো বেসিনের কোয়াং তুং অঞ্চলে জমা হয়ে হলুদ রঙের লোয়েশ সমভূমি তৈরি করেছে ।
  6. হিমবাহ সমভূমি : কুমায়ুন পাদদেশে এবং পশ্চিম সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ সমভূমি বিদ্যমান ।
  7. হ্রদ সমভূমি :  উত্তর আমেরিকার গ্রেট বেসিন এবং ম্যানিটোবা অঞ্চলের পাশাপাশি আফ্রিকার চাদ অঞ্চলে হ্রদ সমভূমি গড়ে উঠেছে ।
  8. উপকূলীয় সমভূমি : এই ধরনের সমভূমি ভারতের পূর্ব এবং পশ্চিম উপকূলে, সেইসাথে ইউরোপের উপকূলে দেখতে পাওয়া যায় ।

সমভূমির গুরুত্ব :

  1. সমভূমি অঞ্চলে প্রবাহিত নদীগুলি সেচ, পানীয় জলের সরবরাহ এবং খাল পরিবহনে সহায়তা করে ।
  2. নদীর উর্বর পলি পৃথিবীর অধিকাংশ সমভূমি গঠন করে, যেখানে উন্নতমানের চাষাবাদ হয়ে থাকে ।
  3. সমভূমি অঞ্চল সমতল হওয়ায় উন্নত পরিবহন, যাতায়াত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে ।
  4. অনুকূল পরিবেশ এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার বিকাশের ফলে সমভূমিতে ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্পের বিকাশ ঘটেছে ।
  5. মানুষের বাসস্থান এবং জীবিকা নির্বাহের উচ্চ সম্ভাবনার কারণে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে থাকে বলে সাহিত্য, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশ ঘটেছে ।
  6. আধুনিক শিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের অগ্রগতির ফলে পৃথিবীর সমভূমি অঞ্চলগুলি অত্যন্ত উন্নত হয়েছে ।

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of ভূমি রূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভুমি রূপ

1 MARKS QUESTIONS of ভূমি রূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভুমি রূপ

1. এশিয়ার দুটি পর্বতগ্রন্থির নাম লেখো।
Ans. পামির গ্রন্থি ও আর্মেনীয় গ্রন্থি।

2. গ্রাবেন কোথায় দেখা যায়?
Ans. দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী নিম্নস্থানে।

3. একটি প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বতের নাম লেখো।
Ans. উত্তর আমেরিকার ক্যালেডোনিয়ান।

4. ভারতের দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কোনটি?
Ans. কাঞ্চনজঙ্ঘা।

5. মহাকাল ও মহাদেব কী ধরনের পর্বত?
Ans. ক্ষয়জাত পর্বত।

6. পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ কোনটি?
Ans. গঙ্গাব্ৰত্মপুত্র নদীর বদ্বীপ।

7. একটি ভূগাঠনিক সমভূমির উদাহরণ দাও।
Ans. তুরানের নিম্নভূমি।

8. তিব্বতীয় পাত ও ভারতীয় পাতের সংযোগরেখাকে কী বলে?
Ans. সিন্ধু সিবনরেখা।

9. ভারতের একটি স্তূপ পর্বতের নাম লেখো।
Ans. সাতপুরা।

10. সমপ্রায় সমভূমির মধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত অবশিষ্টাংশকে কী বলে?
Ans. মোনাডনক।

multiple choice questions – 1 marks of ভূমি রূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভুমি রূপ

1. আলফ্রেড ওয়েগনার ‘মহীসঞ্চরণ’ মতবাদের ব্যাখ্যা দেন—
A. 1914 সালে B. 1896 সালে C. 1922 সালে D. 1912 সালে
Ans. D

2. জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট প্রকৃতপক্ষে একটি –
A. বনভূমি B. স্তূপ পর্বত C. কৃষ্ণ মৃত্তিকা অঞ্চল D. বৃক্ষহীন অঞ্চল
Ans. B

3. গ্রস্ত উপত্যকার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে—
A. সিন নদী B. রাইন নদী C. ভিলা নদী D. গোদাবরী নদী
Ans. B

4. টেবিলল্যান্ড বলা হয়ে থাকে—
A. পর্বতকে B. মালভূমিকে C. পাহাড়কে D. সমভূমিকে
Ans. B

5. শিলাস্তরে ভাজ পড়ে সৃষ্টি হয়—
A. ভঙ্গিল পর্বত B. স্তূপ পর্বত C. আগ্নেয় পর্বত D. সঞ্চয়জাত পর্বত
Ans. A

6. পৃথিবীর উচ্চতম আগ্নেয় পর্বত –
A. ফুজিয়ামা B. কটোপাকসি C. ওজোস ডেল সালাডো D. মাউন্ট হেলমস
Ans. C

7. মহাদেশীয় পাতের ঘনত্ব প্রতি ঘনসেমিতে—
A. 270 গ্রাম B. 290 গ্রাম C. 260 গ্রাম D. 310 গ্রাম
Ans. A

8. ঝাড়খণ্ডের রাজমহল একটি –
A. স্তূপ পর্বত B. ক্ষয়জাত পর্বত C. ভঙ্গিল পর্বত D. আগ্নেয় পর্বত
Ans. B

9. পাকিস্তানের সল্টরেঞ্জ একটি—
A. ভঙ্গিল পর্বত B. আগ্নেয় পর্বত C. স্তূপ পর্বত D. ক্ষয়জাত পর্বত
Ans. C

10. ‘টেল’ ভূমিরূপ গঠিত হয়—
A. নদীর সঞ্চয়কার্যের ফলে B. হিমবাহের নুড়ি ও কাদা সঞ্চয়ের ফলে C. উপকূলের বালি সঞ্জিত হয়ে D. বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে
Ans. B

short questions – 2-3 marks of ভূমি রূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভুমি রূপ

  1. অ্যাসথেনােস্ফিয়ার বা ক্ষুধমণ্ডল কাকে বলে?

উত্তর- Asthenosphere’ শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ Asthenica থেকে, যার অর্থ দুর্বল’ এবং ‘Sphere’-এর অর্থ মণ্ডল। অর্থাৎ, অ্যাসথেনােস্ফিয়ার হল দুর্বলমণ্ডল।

ভূত্বকের নীচে গড়ে 150 – 200 কিমি পুরু ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডলের অন্তর্গত সান্দ্র, দুর্বল ও নমনীয় প্রকৃতির পরিবর্তনশীল স্তরকে অ্যাসথেনােস্ফিয়ার বলে। পাতগুলি এই স্তরের উপর ভাসমান অবস্থায় আছে। এখানকার ম্যাগমার পরিচলন স্রোতের কারণে পাতের চলন ঘটে, অগ্ন্যুৎপাত হয়, ভূমিকম্প হয়। তাই এই স্তরকে ক্ষুন্ধমণ্ডল বলে।

  1. সমস্থিতিক আলােড়ন (Isostatic Movement) বলতে কী বােঝাে? 

উত্তর- গ্রিক শব্দ ‘lso’ = সম এবং Static = স্থির। অর্থাৎ, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত বিভিন্ন উঁচু-নিচু স্থান যেমন পর্বত, মালভূমি, সমভূমি প্রভৃতি পরস্পরের মধ্যে উচ্চতাগত সাম্য অবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করে, তাকে সমস্থিতিক আলােড়ন বলে।

  1. ইউস্ট্যাটিক আলােড়ন (Eustatic Movement) বলতে

উত্তর. সমুদ্রবক্ষের জলধারণ ক্ষমতার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে সমুদ্রপৃষ্ঠের যে উত্থান ও অবনমন ঘটে, তাকেই সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন বা ইউস্ট্যাটিক আলােড়ন বলে। যেমন-প্রতিসারী পাতসীমান্তে সমুদ্রবক্ষের বিস্তার ঘটে ও জলধারণ ক্ষমতা বেড়ে যায়, ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ নেমে যায়। আবার, অভিসারী পাতসীমান্তে সমুদ্রবক্ষ

সংকুচিত হওয়ায় জলধারণ ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সমুদ্রবক্ষ উত্থিত হয়। 

  1. পাত (Plate) কী ? 

উত্তর- অ্যাসথেনােস্ফিয়ারের উপর ভাসমান ও চলনশীল শিলামণ্ডলের শক্ত ও কঠিন খণ্ডগুলিকে পাত বলে। 1956 খ্রিস্টাব্দে কানাডার ভূ-পদার্থবিদ জে. টি. উইলসন প্রথম পাত বা Plate শব্দটি ব্যবহার করেন। ভূত্বকে 7টি বড়াে পাত, ৪টি মাঝারি পাত ও 20টিরও বেশি ছােটো পাত আছে।

উদাহরণ :ইউরেশীয় পাত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত প্রভৃতি।

  1. অপসারী বা প্রতিসারী পাতসীমানা কাকে বলে ?

উত্তর- যে সীমানা বরাবর দুটি পাত পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকে, তাকে অপসারী বা প্রতিসারী পাতসীমানা বলে। এই পাতসীমানায় নতুন ভূমিরূপের উৎপত্তি হয় বলে একে গঠনকারী পাতসীমানা বলা হয়।

  1. অভিসারী পাতসীমানা কাকে বলে ?

উত্তর- যে সীমানা বরাবর দুটি পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে, তাকে অভিসারী পাতসীমানা বলে। এই পাতসীমানায় ভূত্বকের কিছুটা অংশ ধ্বংস হয় বলে একে ধ্বংসাত্মক পাতসীমানা বলা হয়।

উদাহরণ : উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকান পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত সীমানা।

  1. চ্যুতি কাকে বলে ?

উত্তর- প্রবল মহীভাবক ও আলােড়নের ফলে শিলাস্তরে সৃষ্ট যে ফাটল বরাবর একদিকের শিলাপ অপরদিকের শিলাপের তুলনায় উল্লম্ব বা অনুভূমিক বা তির্যকভাবে উর্থিত বা অবনমিত হয়, তাকে চ্যুতি বলে।

  1. পামির মালভূমিকে ‘পৃথিবীর ছাদ’ বলে কেন?

উত্তর- উপরিভাগ কিছুটা সমতল ও চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত মালভূমিগুলির গড় উচ্চতা 300 মিটারের সামান্য বেশি হলেও পামির মালভূমির উচ্চতা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় 4,873

মিটার। এত উঁচুতে অবস্থিত হওয়ার জন্য পামিরকে পৃথিবীর ছাদ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

  1. ডেকাট্রাপ (Decantrap) কী ? 

উত্তর- ‘ডেকান’ (Deccan) শব্দের অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং সুইডিশ শব্দ ট্রাপ’ (Trap)-এর অর্থ সিঁড়ির ধাপ। ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি বিভিন্ন পর্যায়ে লাভা জমে সৃষ্টি হওয়ার ফলে এবং পরবর্তী

কালে অসম ক্ষয়কার্যের কারণে সিঁড়ির মতাে ধাপযুক্ত মালভূমিতে। পরিণত হয়েছে তাই দাক্ষিণাত্য মালভূমিকে ডেকাট্রাপ বলা হয়।

  1. লাভা মালভূমি কাকে বলে ?

উত্তর- ভূত্বকের কোনাে ফাটল বা ছিদ্রপথ দিয়ে ভূগর্ভের উত্তপ্ত ম্যাগমা বিদার অগ্ন্যুৎপাতের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ভূপৃষ্ঠের বাইরে বেরিয়ে এসে লাভারূপে শীতল ও কঠিন হয়ে যে মালভূমি গঠিত হয়, তাকে লাভা মালভূমি বলে। যেমন – দাক্ষিণাত্য মালভূমি।

  1. ভঙ্গিল পর্বতের বৈশিষ্ট্য লেখাে। 

উত্তর- 

সৃষ্টি : পৃথিবীর যাবতীয় ভঙ্গিল পর্বত গিরিজনি আলােড়নে সৃষ্ট অনুভূমিক পার্শ্বচাপের ফলে পলিস্তরে ভাঁজ খেয়ে সৃষ্টি হয়েছে।

শিলা : প্রধানত পাললিক শিলা দ্বারা ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়। তবে অনেকসময় ম্যাগমা অনুপ্রবেশের ফলে আগ্নেয়শিলা এবং প্রবল চাপের কারণে কিছু রূপান্তরিত শিলাও দেখা যায়।

ভাজ : প্রবল পার্শ্ব চাপের কারণে এই পর্বতে তিসম ভাজ, অপ্রতিসম ভাজ, ন্যাপ প্রভৃতি ভাজ দেখা যায়।

উচ্চতা : অন্যান্য পর্বত অপেক্ষা ভঙ্গিল পর্বতের উচ্চতা বেশি। এই পর্বতে অসংখ্য সুউচ্চ শৃঙ্গ দেখা যায়।

বিস্তৃতি : সুবিশাল অঞ্চল জুড়ে এই পর্বত বিস্তৃত। এর প্রস্থ অপেক্ষা দৈর্ঘ্য অনেক বেশি।

জীবাশ্ম : পাললিক শিলা দ্বারা সৃষ্টি হওয়ায় ভঙ্গিল পর্বতে জীবাশ্ম দেখা যায়।

বিভাগ : সময়কাল অনুসারে ভঙ্গিল পর্বত দুই প্রকার। যথা – প্রাচীন ভঙ্গিল পর্বত (আরাবল্লি) ও নবীন ভঙ্গিল পর্বত (হিমালয়)।

ভূমিকম্প : নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞল ভূমিকম্প প্রবণ।

  1. আগ্নেয় পর্বতের বৈশিষ্ট্য লেখাে। 

উত্তর :

সৃষ্টি : মূলত পাতের সঞ্চালন, ভূ-আলােড়ন কিংবা ভূপৃষ্ঠের ফাটল সৃষ্টির দ্বারা ভূ-অভ্যন্তরীণ গলিত পদার্থ উৎক্ষিপ্ত হয়ে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয়।

অবস্থান : ভূপৃষ্ঠের দুর্বল অংশ বা পাতসীমানা বরাবর আগ্নেয় পর্বত দেখা যায়।

গাঠনিক উপাদান : আগ্নেয়শিলা, ভস্ম, সিন্ডার প্রভৃতি দ্বারা এই পর্বত গঠিত হয়।

আকৃতি : আগ্নেয় পর্বত সাধারণত শঙ্কু বা মােচাকৃতির হয়। তবে গম্বুজাকৃতিরও হয়ে  থাকে। 

জ্বালামুখ : এই পর্বতে এক বা একাধিক ম্যাগমা নির্গমন পথ বা জ্বালামুখ থাকে ।

উচ্চতা : উচ্চতা মাঝারি প্রকৃতির। তবে সক্রিয় আগ্নেয় পর্বতের উচ্চতা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

ঢাল : এই পর্বতের চারপাশের ঢাল বেশ খাড়া হয়।

ভূমিকম্প : অগ্ন্যুৎপাতের সময় আগ্নেয় পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

  1. প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ বলতে কী বােঝাে? 

অথবা, প্রশান্ত মহাসাগরের উভয়পাশে বা মহাসাগরকে ঘিরে আগ্নেয়গিরি অবস্থান করছে কেন?

উত্তর : ‘মেখলা’ শব্দের অর্থ কোমর বন্ধনী। প্রশান্ত মহাসাগরকে বলয় বা কোমর বন্ধনীর মতাে ঘিরে পৃথিবীর প্রায় 70% আগ্নেয়গিরি অবস্থান করছে। তাই একে ‘প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা’ বলে।

বিস্তার : এই আগ্নেয় মেখলা বা বলয়টি প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণে হর্ন অন্তরীপ থেকে শুরু করে আন্দিজ ও রকি পর্বতমালা হয়ে আলাস্কার মধ্য দিয়ে বেঁকে পশ্চিম উপকূল বরাবর কামচাটকা, শাখালিন, জাপান, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ ও ইন্দোনেশিয়া হয়ে দক্ষিণে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত।

সৃষ্টির কারণ : মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূল বরাবর অভিসারী পাত সীমান্তের অবস্থানের জন্য এই আগ্নেয় মেখলা সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব উপকূলে আমেরিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের সংঘর্ষের কারণে এবং পশ্চিম উপকূলে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পাতের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের সংঘর্যের কারণে আগ্নেয়গিরিগুলি গড়ে উঠেছে।

উল্লেথযাগ্য আগ্নেয়গিরি : প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের উল্লেখযােগ্য আগ্নেয়গিরিগুলি হল আকোনকাগুয়া, কটোপ্যাক্সি, পিলি, ওরিজাবা প্রভৃতি এবং পশ্চিম উপকূলের উল্লেখযােগ্য আগ্নেয়গিরিগুলি হল ফুজিয়ামা, বাটুর, ক্রাকাতােয়া, কিলাউইয়া, ইরেবাস প্রভৃতি।

  1. স্তুপ পর্বতের বৈশিষ্ট্য লেখাে। 

উত্তর : দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ উত্থিত হলে কিংবা, দুটি সমান্তরাল চ্যুতির দুই পার্শ্বস্থ অংশ বসে গেলে স্তুপ পর্বত সৃষ্টি হয়।

প্রযুক্ত বল : স্তুপ পর্বত গঠনে অনুভূমিক ও উল্লম্ব বল পরস্পর কাজ করে।

পর্বত শীর্ষ : স্তুপ পর্বতের শীর্ষভাগ চ্যাপটা প্রকৃতির হয়ে থাকে।

উচ্চতা : স্তুপ পর্বতের উচ্চতা মাঝারি হয়।

ঢাল : প্রায় প্রতিটি স্তুপ পর্বত খাড়া ঢালবিশিষ্ট হয়।

বিস্তৃতি : স্তুপ পর্বত দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত হয় না। এজ উপত্যকা ও U উপত্যকা টান বা প্রসারণের ফলে সৃষ্ট দুটি সমান্তরাল স্বাভাবিক চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গিয়ে গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয়। কিন্তু অপর দিকে সংকোচন বা সংনমনের ফলে সৃষ্ট দুটি বিপরীত চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ বসে গিয়ে র্যাম্প উপত্যকা সৃষ্টি হয়। যেমন: ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা, গ্রজ উপত্যকা ও গ্রাবেন, গ্রস্ত উপত্যকাকে জার্মানিতে গ্রাবেন (Graben) বলে। তবে, সৃপ পর্বতের যে-কোনো পাশেই সৃষ্ট উপত্যকা গ্রস্ত উপত্যকা, কিন্তু গ্রাবেন হল দুটি স্তুপ পর্বতের মাঝে সৃষ্ট উপত্যক। গ্রস্ত উপত্যকার তুলনায় গ্রাবেন-এর গভীরতা কম।

  1. ক্ষয়জাত পর্বত বা অবশিষ্ট পর্বতের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখাে। *

উত্তর :

গঠন : বহির্জাত বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির ক্ষয়কার্যের ফলে এই পর্বত গঠিত হয়।

গঠনকারী শিলা : প্রধানত প্রাচীন ও কঠিন আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা দ্বারা এই পর্বত গঠিত।

উচ্চতা : এই পর্বতের উচ্চতা বেশি হয় না। ক্ষয়কার্যের ফলে এর উচ্চতা ক্রমশ হ্রাস পায়।

শীর্ষদেশ : এই পর্বতের শীর্ষদেশ ছুঁচোলাে বা তীক্ষ নয়, অনেকটা গােলাকার বা গম্বুজের ন্যায়।

বয়স : ক্ষয়জাত পর্বতগুলি বয়সে প্রাচীন। ঢাল ও বন্ধুতা পর্বতের চারপাশের ঢাল ও পার্বত্য

ভূমির বন্ধুৱতা কম হয়।

  1. মালভূমির বৈশিষ্ট্য লেখাে। *

উত্তর :

উচ্চতা : মালভূমি সাধারণত সমুদ্রতল থেকে 300 মিটারের বেশি উচু হয়, তবে পর্বতবেষ্টিত মালভূমির উচ্চতা অনেক বেশি হয়। যেমন – পামির মালভূমির উচ্চতা প্রায় 4,873 মিটার।,

ঢাল : মালভূমি চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়।

শীর্ষদেশ : মালভূমির শীর্ষদেশ বা উপরিভাগ অসমতল তরকায়িত প্রকৃতির হয়।

আকৃতি : মালভূমির আকৃতি অনেকটা টেবিলের মতাে। তাই একে ‘টেবিল ল্যান্ড’ বলে।

বিস্তাব : মালভূমিগুলি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অবস্থান করে।

গঠনকারী শিলা : মালভূমিগুলি সাধারণত আগ্নেয় ও রুপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত হয়। ও পাহাড় । অনেক মালভূমির উপরে ছােটো ছােটো পাহাড় দেখা যায়। যেমন – ছােটোনাগপুর মালভূমির পরেশনাথ পাহাড়।

খনিজ সম্পদ : অধিকাংশ মালভূমি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হয়।

  1. সমভূমির বৈশিষ্ট্যগুলি লেখাে।

উত্তর :

উচ্চতা : সমভূমি সাধারণত সমুদ্র সমতল থেকে 300 মিটারের কম উচ্চতাবিশিষ্ট হয়।

বিস্তার : বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সমভূমিগুলি অবস্থান করে। পৃথিবীর স্থলভাগের অর্ধেকের বেশি অংশ সমভূমির অন্তর্গত।

ও বন্ধুবতা : সমভূমি বন্ধুর প্রকৃতির নয়। এর উপরিভাগ সমতল প্রকৃতির।

ঢাল : সমভূমি মৃদু ঢালযুক্ত হয়। সমভূমি ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে সমুদ্রতলের সঙ্গে মিশে যায়।

গঠন : পৃথিবীর অধিকাংশ সমভূমি পলি সঞ্জয়ের ফলে গঠিত হলেও ভূ-আন্দোলন ও ক্ষয়কার্যের ফলেও কিছু সমভূমি গঠিত হয়েছে।

পরিলক্ষিত অঞল : পৃথিবীর অধিকাংশ সমভূমি অঞল নদী অববাহিকা অথবা সমুদ্র উপকূলে বিরাজ করছে।

প্রবল পার্শ্বচাপ : প্রবল পার্শ্বচাপে পাললিক শিলায় ভাজ পড়ার সময় শিলার স্থিতিস্থাপকতা বিনষ্ট হলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়।

চ্যুতি সৃষ্টি ; প্রবল পার্শ্বচাপে পর্বতের শিলায় ফাটল ধরে চ্যুতি সৃষ্টির সময় ভূমিকম্প হয়।

ধস ও হিমানী সম্প্রপাত : সুউচ্চ পর্বতে ধস নামার সময় এবং হিমবাহ থেকে বরফের চাই খসে পড়ার সময় ভূমিকম্প ঘটে।

  1. ছােটোনাগপুর মালভূমিকে ভারতের খনিজ ভাণ্ডারবলা হয়। 

উত্তর- ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল হল ছােটোনাগপুর মালভূমি। এখানকার আর্কিয়ান ও টার্শিয়ারি যুগের শিলাস্তরে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন খনিজ সম্পদ রয়েছে, যার পরিমাণ

ভারতের মােট সঞ্চিত খনিজ সম্পদের প্রায় 40%। খনিজতেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস ছাড়া প্রায় সমস্ত ধরনের খনিজ সম্পদ, যেমন কয়লা, অভ্র, তামা, বক্সাইট, আকরিক লােহা, গ্রাফাইট, চুনাপাথর, ম্যাঙ্গানিজ, ইউরেনিয়াম, ডলােমাইট, সিসা, ক্রোমাইট, চিনামাটি, ফেলসপার, ফায়ার ক্লে, অ্যামাটাইট, কায়নাইট প্রভৃতি যথেষ্ট পরিমাণে ছােটোনাগপুর অঞলে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ভারতের মােট সঞয়ের প্রায় 70% কয়লা, 95% তামা, 52% অভ্র, 50% বক্সাইট এই অঞলে সঞ্চিত আছে এবং ভারতের মােট উৎপাদনের প্রায় 40% কয়লা, 90% অভ্র, 50% তামা, 30% বক্সাইট, 34% গ্রাফাইট, 15% আকরিক লােহা এই অঞ্চল থেকে উত্তোলিত হয়। এই কারণেই ছােটোনাগপুর মালভূমিকে ‘ভারতের খনিজ ভাণ্ডার’ বলে।

  1. গ্রস্ত উপত্যকা কাকে বলে ?

উত্তর- দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ নীচে বসেগিয়ে যে অবনত ভূমির সৃষ্টি করে, তাকে  গ্রস্ত উপত্যকা বলে। 

সৃষ্টির কারণ : প্রবল ভূ-আলােড়নের ফলে সৃষ্ট টান ও সংকোচনের জন্য শিলাস্তরে ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হয়। এরূপ দুটি সমান্তরাল চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ মহীভাবক আলােড়নের কারণে নীচে বসে গেলে গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয় এবং পাশের অংশদুটি স্থূপ পর্বত রূপে বিরাজ করে।

উদাহরণ : রাইন নদী উপত্যকা হল গ্রস্ত উপত্যকা।

long questions – 5 marks of ভূমি রূপ গঠনকারী প্রক্রিয়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন ভুমি রূপ

  1. পর্তসংস্থান তত্ত্বের (Plate Tectonic Theory) ভিত্তিতে ভঙ্গিল পর্বতের উৎপত্তি আলােচনা করাে। 

উত্তর- 

পাতসংস্থান তত্ত্ব আবিষ্কার : ভূবিজ্ঞানী জে টি উইলসন (J T Wilson) 1965 খ্রিস্টাব্দে প্রথম পাত’ (Plate) শব্দটি ব্যবহার করেন। এরপর ম্যাকেঞ্জি, পার্কার, মান প্রমুখ বিজ্ঞানীগণ এই তত্ত্বের অবতারণা করলেও ফরাসি বিজ্ঞানী লা পিচো (Le Pichon) প্রথম পাত তত্ত্বের সর্বাধুনিক ব্যাখ্যা দেন।

তত্ত্বের মূল বক্তব্য – পৃথিবীর ভূত্বক অনেকগুলি খণ্ডের সমষ্টি। প্রতি খণ্ডকে পাত বলে। ভূত্বকে এই ধরনের 7টি বড়াে পাত, ৪টি মাঝারি ও 20টিরও বেশি ছােটো পাত আছে।

অ্যাস্থেনােস্ফিয়ারের উপর ভাসমান পাতগুলি তাপের পরিচলন স্রোতের কারণে সারিত হয়। এই পাত সঞ্চারণ পরস্পরের দিকে অর্থাৎ, অভিসারী পরস্পরের বিপরীত দিকে অর্থাৎ, প্রতিসারী এবং পাশাপাশি অর্থাৎ, নিরপেক্ষ – এই তিনভাবে হয়ে থাকে এবং বিভিন্ন ভূমিরূপ গঠন করে, যার মধ্যে উল্লেখযােগ্য হল ভঙ্গিল পর্বত।

পাত সঞ্চারণ ও ভঙ্গিল পর্বতের উত্থান :

অভিসারী পাত সীমান্তে ভঙ্গিল পর্বতের উত্থান : অভিসারী পাত সীমান্তে চলমান দুটি পাত পরস্পরের অভিমুখে এসে ধাক্কা খায় এবং সংঘর্ষ সীমান্তে ভঙ্গিল পর্বতসহ নানা ধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়। অভিসারী পাত সীমান্ত মহাদেশীয়-মহাদেশীয়, মহাসাগরীয়-মহাসাগরীয়(ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয় না) মহাদেশীয়-মহাসাগরীয়, পাত সীমান্তে ভঙ্গিল পর্বত। 

উৎপত্তি : সাধারণত দুটি মহাদেশীয় পাতের মাঝখানে থাকে একটি অপ্রশস্ত, অগভীর সমুদ্র। একে মহীখাত বা Geosyncline বলে। নদনদীর মাধ্যমে আসা পলি সঞ্জিত হয়ে এই মহীখাত ভরাট হয়।

এদিকে মহাদেশীয় পাত দুটি যত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে, ততই মহীখাত সংকীর্ণ হয় ও পলিরাশি ভাজপ্রাপ্ত হয়ে ওপরে উঠে ভঙ্গিল পর্বত (Fold Mountain) গঠন করে।

উদাহরণ : ইউরেশীয় পাত ও ইন্দো-অস্ট্রেলিয়া পাতে পরবে। কাছে আসন্ন হলে টেথিস মহীতে গতি পরিশি ও ‘পড়ে। হিমালয় পর্বত উথিত হয়। ইউরেশীয় ও আফ্রিকান পাতের সংঘর্গে

পলিশি ভাজপ্রাপ্ত হয়ে আল্পস পর্বতের উত্থান হয়েছে। 

মহাদেশীয় মহাসাগরীয় পাত সীমান্তে ভঙ্গিল পর্বতের উত্থান : যখন একটি মহাদেশীয় পাত ও মহাসাগরীয় পাত পরস্পরের দিকে এগিয়ে আসে তখন অপেক্ষাকৃত ভারী শিলাগঠিত মহাসাগরীয় পাতটি হালকা মহাদেশীয় পাতের নীচে প্রবেশ করে, ফলে মহাদেশীয় পাতের প্রান্তে সঞ্চিত পলিরাশি ভাজ খেয়ে উপরের দিকে উঠে ভঙ্গিল পর্বত গঠন করে।

উদাহরণ : উত্তর আমেরিকা পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের মাঝে রকি পর্বতের উত্থান ঘটেছে। দক্ষিণ আমেরিকা (মহাদেশীয়) ও নাজকা (মহাসাগরীয়) পাতের মাঝে আন্দিজ।

পর্বত-এর উত্থান, অস্ট্রেলিয়া পাত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাতের। মাঝে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ-এর উত্থান ঘটেছে।

  1. মানবজীবনের ওপর পর্বতের কী প্রভাব দেখা যায় ? 

উত্তর- 

জলবাযুর পর প্রভাব : সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি কোনাে অঞ্চলের জলবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যেমন- ভারতের উত্তরে হিমালয় । শীতল বাতাসের ভারতে প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

নদনদীর উৎস : বরফাবৃত পর্বতমালা নদনদীর উৎস হিসেবে কাজ করে এবং নদীতে সারা বছর জলের জোগান দেয়।

বনজ সম্পদ : পার্বত্য অঞ্চলের স্বাভাবিক উদ্ভিদ থেকে প্রচুর কাঠ, ভেষজ ওষুধ, ফল, মধু, মােম পাওয়া যায়।

পশুচারণ ক্ষেত : পার্বত্য অঞ্চলের তৃণভূমিতে পশুচারণ করে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন।

ধাপ চাষ : পার্বত্য অঞ্চলে কৃষি অনুন্নত হলেও পর্বতের গায়ে ধাপ কেটে চা, কফি, ধান প্রভৃতির চাষ করা হয়।

শিল্প : বনজ ও কৃষিজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বন্ধুর ভূপ্রকৃতিতেও চা শিল্প, কাগজ শিল্প, প্লাইউড শিল্প গড়ে উঠেছে।

পর্যটন শিল্প : পার্বত্য অঞ্চলের মনােরম জলবায়ু ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করে থাকে।

জলবিদ্যুতৰ জোগান : পার্বত্য অঞ্চলে নদীগুলি খরস্রোতা হওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

বহিঃশত্রুর আক্রমণ রােধ : দুর্গম পর্বতমালা প্রাচীরের মতাে অবস্থান করে দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

  1. মানবজীবনে মালভূমির প্রভাব বা গুরুত্ব আলােচনা করাে।

উত্তর – 

যেমন খনিজ সম্পদ ভাণ্ডারস্বরূপ : মালভূমি অঞ্চলগুলি প্রচুর পরিমাণ খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ থাকে। এখানে সাধারণত কয়লা, আকরিক লােহা, ম্যাঙ্গানিজ, নিকেল, তামা, অভ্র, চুনাপাথর প্রভৃতি

মূল্যবান খনিজ সম্পদ থাকে, যার অর্থনৈতিক গুরুত্ব যথেষ্ট বেশি। খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের কারণে ভারতের ছােটোনাগপুর মালভূমি অঞ্চলকে ভারতের খনিজ ভাণ্ডার’ বলা হয়।

শিল্প স্থাপন : শিল্প গড়ে ওঠার প্রয়ােজনীয় কাঁচামাল (খনিজ বা কৃষিজাত) সহজে পাওয়া যায় বলে এখানে বৃহদায়তন লৌহ ইস্পাত শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, কার্পাস বয়ন শিল্প গড়ে উঠেছে।

কৃষিকাজ : মালভূমি অঞ্চলের বন্ধুর ভূপ্রকৃতি ও স্বল্প বৃষ্টিপাত কৃষিকাজের অনুপযােগী হলেও এখানকার নদী উপত্যকার উর্বর মাটিতে তুলাে, ধান, পেঁয়াজ, আখ চাষ করা হয়। আবার, মালভূমির খাড়া ঢালে চা, কফি, রবার চাষ করা যায়। যেমন – ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির কৃয়মৃত্তিকায় প্রচুর তুলাে চাষ হয়।

জলবিদ্যুতের প্রাচুর্য : বন্ধুর ভূপ্রকৃতির জন্য মালভূমি অঞলের নদীগুলি খরস্রোতা হয় বলে সহজেই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। যেমন। দক্ষিণ ভারতের প্রায় সব নদী থেকেই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

বনজ  সম্পদ : মালভূমি অঞলে উৎপন্ন স্বাভাবিক উদ্ভিদ থেকে প্রচুর মূল্যবান বনজ সম্পদ পাওয়া যায়।

পর্যটন শিল্পকেন্দ্র : মালভূমি অঞলের মনােরম প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে পর্যটন শিল্পকেন্দ্র গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

  1. মানবজীবনে সমভূমির প্রভাব আলােচনা করাে। 

উত্তর- 

কৃষিকাজ : সমভূমি অঞ্চল উর্বর পলিমাটি দিয়ে গঠিত বলে পৃথিবীর অধিকাংশ কৃষিকাজ সমভূমি অঞলেই হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, তৈলবীজ, পাট, ডালজাতীয় শস্য, আখ, আলু, শাকসবজির চাষ হয়ে থাকে। এখানকার অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। যেমন- গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ সমভূমি কৃষিকাজে উন্নত।

পশুপালন : কৃষিকাজের পাশাপাশি এখানকার অধিবাসীদের অপর জীবিকা পশুপালন। তাঁরা সাধারণত গবাদিপশু, গােরু, মােষ, ছাগল প্রভৃতি গবাদী পশু পালন করে থাকেন এবং দুধ, চামড়া ও অন্যান্য পশুজাত দ্রব্য বিক্রয় করে অর্থ উপার্জন করেন। যেমন— ওশিয়ানিয়ার মারে-ডার্লিং সমভূমিতে পশুপালন খুবই উন্নত।

শিল্প : শিল্পের প্রয়ােজনীয় কাঁচামালের সহজলভ্যতা, উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা, ঘনবসতি, চাহিদাযুক্ত বাজার সমভূমি অঞ্চলে থাকায় এখানে ধাতব এবং কৃষিভিত্তিক উভয় প্রকার শিল্পই স্থাপিত হতে দেখা যায়। যেমন- জাপানের কান্টো সমভূমিতে টোকিও-ইয়ােকোহমা শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে।

উন্নত পরিবহণ ও যােগাযােগ ব্যবস্থা : অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে সমভূমি অঞলে উন্নতমানের সড়কপথ ও রেলপথসহ জলপথ ও বিমানপথ গড়ে উঠেছে। ফলে, সহজেই দেশ-বিদেশের সঙ্গে যােগাযােগ রক্ষা করা যায়। যেমন- উত্তর আমেরিকার হ্রদ অঞ্চলটিতে পরিবহন ও যােগাযােগ ব্যবস্থার বিশেষ সুবিধা আছে।

জীবনধারণের জন্য অনুকূল পরিবেশ : পৃথিবীর প্রায় 90% লােক জীবনধারণের পক্ষে অনুকূল প্রাকৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ থাকার জন্য সমভূমি অঞ্চলে বাস করে।

শহর পত্তন : সুদূর অতীতকাল থেকেই ব্যাবসাবাণিজ্যের সুবিধাসহ অন্যান্য সুযােগসুবিধা মানুষকে সমভূমি অঞলে শহর পত্তনে উৎসাহী করেছে। যেমন— কলকাতা, বারাণসী, এলাহাবাদ প্রভৃতি।

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে