Chapter 03- পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্নয় Prithibiprishthe Kono Sthaner Abosthan Nirnoi Geography Bhugol Subject WBBSE Class 9

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা

পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা : পৃথিবীর পৃষ্ঠের কোনো  স্থানের অবস্থান নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । যেমন –

  1. আমরা পৃথিবীর কোথায় বাস করি তার সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন ।
  2. পৃথিবীপৃষ্ঠের দুটি স্থানের মধ্যে দূরত্ব পরিমাপ করার আগে, দুটি স্থানের অবস্থান জানতে হবে ।
  3. জলবায়ুর প্রকৃতি এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠের যে কোনও স্থানের  জলবায়ু অঞ্চল নির্ধারণের জন্য সেই স্থানের অবস্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন ।
  4. ভূ-পৃষ্ঠে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন গাছপালা, মাটি ইত্যাদির নির্দিষ্ট অবস্থান জানতে হলে এর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে হবে ।
  5. বিশ্বের বিভিন্ন সম্পদ  আহরন করতে  হলে প্রথমেই আগে সঞ্চিত সম্পদের অবস্থান নির্ণয় করতে
    হবে ।
  6. পর্যটন, পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি ।
  7. মানুষের সামাজিক, আর্থিক  এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে একটি স্থানের অবস্থান নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ । সর্বোপরি, পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য, কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করতে হবে ।

অক্ষাংশের ধারণা

অক্ষাংশের ধারণা : যে কাল্পনিক রাখা গোলাকার পৃথিবীর  কেন্দ্র দিয়ে গিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত ভেদ করেছে, সেই কাল্পনিক রেখাটি পৃথিবীর অক্ষ বা মেরুরেখা নামে পরিচিত ।

পৃথিবীর অক্ষের উত্তর প্রান্তের উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ  প্রান্তের দক্ষিণ  মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে বৃত্তাকার কাল্পনিক রেখা পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করেছে, তাকে নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে ।

বিষুবরেখা পৃথিবীকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করেছে । নিরক্ষরেখার  উত্তর অংশটি  উত্তর গোলার্ধ এবং নিরক্ষরেখার দক্ষিণ অংশটি দক্ষিণ গোলার্ধ নামে পরিচিত ।

অক্ষাংশ : পৃথিবীর নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত  পৃথিবীপৃষ্ঠের  যেকোনো স্থানবিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত অঙ্কিত সরলরেখা ও নিরক্ষীয় তলের দ্বারা উৎপন্ন কোণকে সেই স্থানের অক্ষাংশ
বলে । অর্থাৎ বিষুবরেখা থেকে পৃথিবীর উত্তর বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের অক্ষাংশ বলে ।
নিরক্ষরেখার উত্তরে অবস্থিত অক্ষাংশকে উত্তর অক্ষাংশ এবং নিরক্ষরেখার দক্ষিণে অবস্থিত অক্ষাংশকে দক্ষিণ অক্ষাংশ হিসাবে উল্লেখ করা হয় ।

অক্ষাংশের কৌণিক পরিমাপ : অক্ষাংশের কৌণিক পরিমাপ নির্ধারণ করতে, পৃথিবী হিসাবে একটি গোলক ব্যবহার করা হয় । গোলকের কেন্দ্র যদি Q  হয় তবে QR হল বিষুবরেখা বা নিরক্ষীয় রেখা । উত্তর গোলার্ধে পৃথিবীর পৃষ্ঠের একটি স্থান হলো P বিন্দু । P বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রে (Q) পর্যন্ত টানা সরলরেখা পৃথিবীর নিরক্ষীয় তলের (QR) সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করবে সেই পরিমাপই হবে P স্থানের অক্ষাংশ ।

এক্ষেত্রে <PQR = ৬০°.সুতরাং স্থানবিন্দুটির অক্ষাংশ হল ৬০° উঃ ।

কলকাতা অক্ষাংশের  কৌণিক পরিমাপ : কলকাতা পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত । যেহেতু কলকাতা থেকে ভূ-কেন্দ্র পর্যন্ত টানা সরলরেখা নিরক্ষীয়তলের সাথে ২২°৩৪’ কোণ উৎপন্ন করে সেক্ষেত্রে কলকাতার অক্ষাংশ হল ২২°৩৪’  উঃ ।

অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা কী?

নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তর ও দক্ষিণে  সমান অক্ষাংশবিশিষ্ট স্থানবিন্দুগুলিকে যোগ করে যে কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখাগুলি পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে আছে, তাদের অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে ।

নিরক্ষরেখার উত্তরদিকের অক্ষরেখা গুলিকে উত্তর অক্ষরেখা  এবং দক্ষিণদিকের  অক্ষরেখাগুলিকে দক্ষিণ অক্ষরেখা বলে । নিরক্ষরেখা পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে পৃথিবীকে পূর্ব -পশ্চিমে বেষ্টন করে থাকে নিরক্ষরেখা হল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অক্ষরেখা ।

বিষুবরেখাকে 0°  ধরে রেখে, বিষুবরেখার সমান্তরালে, উভয় গোলার্ধে 1° ব্যবধানে 89টি বৃত্তাকার রেখা কল্পনা করা হয় । পৃথিবীর দুটি মেরুতে অবস্থিত 90° অক্ষরেখা যথাক্রমে সুমেরু বিন্দু এবং কুমেরু বিন্দু  হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে । সুতরাং পৃথিবীর উভয় গোলার্ধে  1° ব্যবধানে মোট ৮৯ + ৮৯ + ১ (নিরক্ষরেখা) = ১৭৯ টি  অক্ষরেখা কল্পনা করা হয়েছে ।

অক্ষরেখার বৈশিষ্ট্য :

  1. প্রতিটি অক্ষ একটি সম্পূর্ণ পূর্নবৃত্ত যা বিষুবরেখার সমান্তরালে অবস্থান  করে ।
  2. অক্ষরেখাগুলির পরিধি বিষুবরেখার উত্তর বা দক্ষিণে ক্রমশ ছোটো হতে হতে উভয় মেরুতে গিয়ে বিন্দুতে পরিণত হয়েছে ।
  3. অক্ষরেখাগুলির পরিধি সর্বত্র সমান থাকে না । বিষুবরেখা হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিধিযুক্ত  অক্ষরেখা । তাই বিষুব রেখাকে মহাবৃত্ত বলা হয় ।
  4. যেহেতু অক্ষগুরেখাগুলি পরস্পর সমান্তরাল, তাই তাদের মধ্যে রৈখিক দূরত্ব সর্বদা সমান ।
  5. একই অক্ষরেখায় অবস্থিত স্থানগুলি  একে অপরের পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থান করে ।
  6. অক্ষরেখাগুলি পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে আছে বলে একই অক্ষরেখায় অবস্থিত সকল স্থানে  সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত  একই সময়ে হয় না, আগে বা পরে হয় ।
  7. দিন এবং রাতের দৈর্ঘ্য, সেইসাথে জলবায়ুরপ্রকৃতি, একই অক্ষ বরাবর বিভিন্ন স্থানে প্রায় অভিন্ন । কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন অক্ষরেখাভেদে ঘটে থাকে ।

পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা : পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা হল নিরক্ষরেখা । কারণ নিরক্ষরেখা হল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অক্ষরেখা যা পৃথিবীকে  দুটি সমান গোলার্ধে বিভক্ত করে । বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখা মান 0° । এছাড়া অন্যান্য অক্ষরেখাগুলি হল- কর্কটক্রান্তিরেখা (২৩ ½ °  উঃ অক্ষরেখা), মকরক্রান্তি রেখা (২৩ ½° দঃ অক্ষরেখা) সুমেরু বৃত্তীয়রেখা (66 ½° উঃ অক্ষরেখা), কুমেরু বৃত্তীয়রেখা (66  দঃ অক্ষরেখা½°) ।

 অক্ষরেখার ব্যবহার : 

  1. পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো স্থানের অবস্থান নির্নয় করা যায় নিরক্ষরেখা ও অন্যান্য অক্ষরেখাগুলির সাহায্যে ।
  2. অক্ষরেখাভেদে সূর্যরশ্মির পতন কোণের তারতম্য ঘটে । সেক্ষত্রে নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তরে বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, ততই সূর্যরশ্মি তির্যকভাবে পড়ে । তাই পৃথিবীর কোনো অঞ্চলের জলবায়ুর প্রকৃতি অক্ষরেখার সাহায্যে জানা যায় ।
  3. অক্ষরেখার সাহায্যে অনেকসময় কোনো অঞ্চল বা দেশের সীমানা নির্ধারণ করা হয় ।যেমন-৪৮ ° উত্তর অক্ষরেখা বরাবর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দেশের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে অক্ষরেখার সাহায্যে পৃথিবীকে উষ্ণমন্ডল, নাতিশীতোষ্ণ ও হিমমন্ডল -প্রধানত এই তিনটি তাপমন্ডলে ভাগ করা হয়েছে ।

পৃথিবীর তাপবলয় : 

পৃথিবীরপৃষ্ঠ জুড়ে তাপমাত্রা পরিবর্তিত হয় । এই তাপমাত্রার পার্থক্য দ্বারা অক্ষাংশের উপর ভিত্তি করে পৃথিবীকে  প্রধানত তিনটি  তাপমন্ডলে বিভক্ত করা যায় । যথা-

  1. উষ্ণমন্ডল : যেহেতু সূর্যের রশ্মি নিরক্ষরেখার (0°) উত্তরে কর্কটক্রান্তি রেখা ( ২৩ ½° উঃ) এবং নিরক্ষরেখার দক্ষিণে মকরক্রান্তি রেখার (২৩ ½° দঃ) মধ্যবর্তী অংশে লম্বভাবে কিরণ দেয়, তাই এই অঞ্চলে বায়ুর উষ্ণতা সবসময়ই বেশি থাকে । ফলে নিরক্ষরেখার উভয় পাশের ২৩ ½° উত্তর ও দক্ষিণের অঞ্চলটি উষ্ণমন্ডল নামে পরিচিত ।
  2. নাতিশীতোষ্ণমন্ডল : উত্তর গোলার্ধে কর্কটক্রান্তি রেখা থেকে সুমেরু বৃত্তরেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে মকরক্রান্তি রেখা থেকে কুমেরু বৃত্তরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে সূর্যরশ্মির মধ্যম প্রকৃতির পতনকোণের কারণে সারা বছর উষ্ণতা মাঝারি প্রকৃতির হয়ে থাকে । তাই উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের ২৩ ½° – ৬৬ ½° অক্ষরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল নাতিশীতোষ্ণমন্ডলের অন্তর্গত । উভয় গোলার্ধে ২৩ ½° – ৪৫ ° অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে উষ্ণতার পরিমান কিছুটা বেশি থাকে বলে, এই দুই অঞ্চলকে উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণমন্ডল এবং উভয় গোলার্ধে ৪৫° – ৬৬ ½° অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে উষ্ণতার পরিমান কিছুটা কম থাকে বলে ,অঞ্চল দুটিকে শীতল নাতিশীতোষ্ণমন্ডল  বলা হয় ।
  3. হিমমণ্ডল : উত্তর গোলার্ধে সুমেরু বৃত্তরেখা (৬৬ ½° উঃ) থেকে সুমেরু বিন্দু (৯০ °উঃ) এবং দক্ষিণ  গোলার্ধে কুমেরু বৃত্তরেখা (৬৬ ½° দঃ) থেকে কুমেরু বিন্দু (৯০ °দঃ)  পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে অতি তির্যক সূর্যরশ্মির কারণে সারা বছর প্রচন্ড শীত থাকে । তাই উভয় গোলার্ধে  ৬৬ ½° – ৯০° পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে হিমমন্ডল বলে ।

দ্রাঘিমাংশ বা দ্রাঘিমার ধারণা

দ্রাঘিমাংশ বা দ্রাঘিমার ধারণা : যে কাল্পনিক রেখা উত্তরে উত্তর সুমেরু বিন্দু  এবং দক্ষিণে কুমেরু বিন্দুকে সংযুক্ত করে, লন্ডনের গ্রিনিচ শহরের মানমন্দিরের মধ্য দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত, সেই কাল্পনিক রেখাকে মূল মধ্যরেখা বা দ্রাঘিমারেখা বলে । মূল মধ্যরেখা দ্বারা পৃথিবী দুটি সমান দু-ভাগে বিভক্ত । মূল মধ্যরেখার পূর্ব অংশ হলো পূর্ব গোলার্ধ এবং পশ্চিম অংশটি পশ্চিম গোলার্ধ ।

দ্রাঘিমাংশ : মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর পূর্ব বা পশ্চিমে ভূ-পৃষ্ঠে অবস্থিত কোনো স্থান পৃথিবীর কেন্দ্রের সঙ্গে যে কোণ  উৎপন্ন করে, সেই কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বা দ্রাঘিমাংশ বলে ।

মূল মধ্যরেখার পূর্বদিকে অবস্থিত কোনো  স্থানের দ্রাঘিমাকে পূর্ব দ্রাঘিমা এবং পশ্চিমদিকে অবস্থিত কোনো স্থানের দ্রাঘিমাকে পশ্চিম দ্রাঘিমা বলে ।

দ্রাঘিমাংশের কৌণিক পরিমাপ : 

একটি অবস্থানের দ্রাঘিমাংশের কৌণিক পরিমাপ নির্ধারণ করতে মূল মধ্যরেখা বা প্রধান দ্রাঘিমাংশ রেখা ব্যবহার করা হয় । পৃথিবীর পৃষ্ঠের পূর্ব বা পশ্চিম গোলার্ধে যেকোন স্থানবিন্দু থেকে নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত একটি সরলরেখা দ্বারা মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সরলরেখার যে কোণ উৎপন্ন হয়, সেই কৌণিক পরিমাপ হলো ওই স্থানের দ্রাঘিমাংশ  ।

কলকাতার দ্রাঘিমাংশের কৌণিক পরিমাপ কত?

পৃথিবীর পূর্ব গোলার্ধে অবস্থিত কলকাতা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত অঙ্কিত সরলরেখা এবং মূল মধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সরলরেখা মিলিত হয়ে ৮৮°৩০’ কোণ উৎপন্ন করে । সেক্ষেত্রে কলকাতার দ্রাঘিমার কৌণিক পরিমাপ হল ৮৮°৩০’ পূর্ব ।

দ্রাঘিমারেখা : যে কাল্পনিক অর্ধবৃত্তাকার রেখা মূল মধ্যরেখার পূর্ব ও পশ্চিমে সুমেরুবিন্দু ও কুমেরুবিন্দুকে যোগ করে সমান দ্রাঘিমাংশ স্থানগুলির উপর দিয়ে পৃথিবীকে উত্তর থেকে দক্ষিণে বেষ্টন করে আছে, সেই কাল্পনিক রেখাকে দ্রাঘিমারেখা বলে ।

মূল মধ্যরেখা বা প্রধান দ্রাঘিমারেখাকে 0° ধরে 1°  অন্তর পূর্ব দিকে এবং পশ্চিমদিকে ১৮০ টি করে দ্রাঘিমারেখা কল্পনা করা হয়েছে । তবে 180° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা একই রেখায় মিলিত হয়ে তা মূল মধ্যরেখার সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহত্তম রেখায় পরিণত হয়েছে । এই পূর্ণ বৃত্তাকার রেখাটি পৃথিবীকে সমান দুটি অংশে বিভক্ত করেছে বলে এই রেখাটিকে মহাবৃত্ত বলে ।

দ্রাঘিমারেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য :

  1. প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা অর্ধবৃত্তাকার এবং পৃথিবীকে উত্তর থেকে দক্ষিণে বৃত্তাকারে বেষ্টন করে আছে ।
  2. প্রতিটি দ্রাঘিমারেখার পরিধি সমান হলেও তারা পরস্পর সমান্তরাল নয় ।
  3. মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে দ্রাঘিমারেখার মান ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে । দ্রাঘিমারেখার সর্বনিম্ন মান 0° এবং সর্বোচ্চ মান 180°
  4. দ্রাঘিমারেখাগুলির মধ্যে পারস্পরিক রৈখিক দূরত্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলে সর্বাধিক এবং উভয় মেরুতে মিলিত হয় ।
  5. প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে ৪ মিনিট করে সময়ের পার্থক্য হয়ে থাকে ।
  6. একই দ্রাঘিমারেখার ওপর অবস্থিত সকল স্থানে একই সময়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত হয় ।
  7. একই দ্রাঘিমারেখার ওপর অবস্থিত সকল স্থানে জলবায়ুর মধ্যে বিশাল পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় ।

গুরুত্বপূর্ণ দ্রাঘিমারেখা সমূহ : পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্রাঘিমারেখা হল মূলমধ্যরেখা (0°)  । কারণ মূল মধ্যরেখা পৃথিবীকে দুই ভাগে ভাগ করে, পূর্ব ও পশ্চিম । মূল মধ্যরেখার বিপরীতে 180° দ্রাঘিমারেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখরেখা নামে পরিচিত ।

দ্রাঘিমারেখার ব্যবহার :

  1. পৃথিবীপৃষ্ঠের কোনো স্থান মূলমধ্যরেখা থেকে কতটা পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থিত তা দ্রাঘিমারেখার সাহায্যে জানা যায় ।
  2. মূলমধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর পূর্ব বা পশ্চিমে অবস্থিত স্থানসমূহের সময় নির্ণয় করা হয় ।
  3.  পৃথিবীতে 180° দ্রাঘিমারেখা তারিখ বিভাজনের কাজ করে দিনের সামঞ্জস্য বজায় রাখে বলে 180° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বলে ।
  4. কোনো দেশের বা প্রদেশের সীমানা চিহ্নিত করতে দ্রাঘিমারেখা ব্যবহৃত হয় ।

দ্রাঘিমার সঙ্গে সময়ের সম্পর্ক

  1. পৃথিবী প্রতি 24 ঘন্টায় একবার পূর্ণ আবর্তন করে বা 360° কৌণিক দূরত্ব অতিক্রম করে । সুতরাং প্রতি 1° দ্রাঘিমায় 4 মিনিটের পার্থক্য এবং প্রতি 15° দ্রাঘিমায় 1 ঘন্টা সময়ের পার্থক্য রয়েছে ।
  2. যেহেতু পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে তাই মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্ব দিকে গেলে সময় বাড়ে এবং পশ্চিম দিকে গেলে সময় কমে । এই ভাবেই পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে গেলে সময় বাড়ে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে গেলে সময় কমে ।
  3. সূর্য যখন কোনো দ্রাঘিমায় ঠিক মাথার উপরে থাকে, তখন সূর্যের সর্বোচ্চ উন্নতির সময় দুপুর ১২ টা ধরে দিনের বাকি সময়ের হিসাব করা হয় ।
  4. কোনো দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য থেকে তাদের মধ্যে সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা যায় ।
  5. কোনো দুটি স্থানের সময়ের পার্থক্য থেকে সেই দুটি স্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য নির্ণয় করা যায় ।

দ্রাঘিমার ভিত্তিতে সময় নির্ণয় : 

স্থানীয় সময় : পৃথিবীর একটি সম্পূর্ণ আবর্তনের সময়, অর্থাৎ প্রতি 24 ঘন্টায় পৃথিবীর প্রতিটি দ্রাঘিমারেখা একবার করে সূর্যের সামনে আসে । সূর্য যখন কোনো দ্রাঘিমায় ঠিক মাথার ওপর আসে তখন সূর্যের সর্বোচ্চ উন্নতির সময় ১২টা ধরা হয় এবং সেই অনুযায়ী দিনের অবশিষ্ট সময় হিসাব করা হয় ।  এইভাবে মধ্যাহ্ন সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থান অনুসারে কোনো স্থানের যে সময় নির্ণয় করা হয় তাকে স্থানীয় সময় বলে ।

যেমন- কলকাতায় (৮৮°৩০’পূঃ) সূর্যের সর্বোচ্চ  উন্নতির সময় কলকাতার স্থানীয় সময় দুপুর ১২ টা ।

a.m. ও p.m.  :  কোনো স্থানে বেলা ১২ টা থেকে পরের দিন বেলা ১২ টা পর্যন্ত সময়কে  দুটি ভাগে ভাগ করা যায় । p.m.  বা post meridian হলো বেলা ১২ টা বা মধ্যাহ্ন থেকে মধ্যরাত্রি ১২ টা পর্যন্ত সময়কাল এবং a.m বা ante meridian হলো মধ্যরাত্রি ১২ টা থেকে পরবর্তী বেলা ১২ টা পর্যন্ত সময়কাল ।

প্রমাণ  সময় : একাধিক দ্রাঘিমাংশ একটি দেশ বা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত হয় । দ্রাঘিমাংশের পরিবর্তনের ফলে  স্থানীয় সময়ের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়, যার ফলে একটি দেশ বা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে স্বতন্ত্র স্থানীয় সময় হয় ।

ফলস্বরূপ, ট্রেন, বিমান চলাচল এবং ডাক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রচুর অসুবিধার সৃষ্টি হয় । এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য, সেই দেশ বা অঞ্চলের মধ্যবর্তী কোনো দ্রাঘিমারেখার সময়কে প্রমাণ সময় ধরে সমগ্র দেশ বা অঞ্চলের সময় নির্ধারণ করা হয় । এই নির্দিষ্ট সময়কে প্রমাণ সময় বলা হয় ।

ভারতের প্রমাণ সময় : ভারতের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত এলাহাবাদ শহরের কাছে কোকোনদের উপর দিয়ে বিস্তৃত ৮২°৩০’ পূঃ দ্রাঘিমার সময় অনুসারে সারা ভারতের সময় নির্ধারিত হয় । তাই ৮২°৩০’ পূঃ দ্রাঘিমাকে ভারতের প্রমাণ সময় বলে ।

একাধিক প্রমাণ সময় : পূর্ব-পশ্চিমে বেশি বিস্তৃত কোনো দেশ বা অঞ্চলে প্রমাণ সময় হিসাবে একটি নির্দিষ্ট দ্রাঘিমাংশ ব্যবহার করার সময় অসংখ্য সমস্যা দেখা দেয় । তারপরে দেশ বা অঞ্চলকে কয়েকটি সময় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়, তাদের মধ্যে দ্রাঘিমার সময়কে প্রমাণ সময় হিসাবে ধরা হয় ।

উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারটি দ্রাঘিমার প্রমাণ সময় রয়েছে : যেমন- ৭৫° পশ্চিম, ৯০° পশ্চিম, ১০৫° পশ্চিম এবং ১২০° পশ্চিম । ফলস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চারটি সময় অঞ্চলে বিভক্ত ।

পৃথিবীর সময় অঞ্চল : আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে, ১৮৮৪ সালে পৃথিবীর  দুই দেশের মধ্যে  প্রমাণ সময়ের পার্থক্য নির্ধারিত হয়  30 মিনিট এবং সর্বনিম্ন প্রমাণ দ্রাঘিমার পার্থক্য ৭°৩০’ ধরা হয় । তাই পৃথিবীর ছোটো দেশগুলিকে একই সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তিকে শর্ত হিসেবে ধরে, সমগ্র পৃথিবীকে 15-ডিগ্রী ব্যবধানে 24টি সময় অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে ।

গ্রিনিচ সময় : দ্রাঘিমার কারণে সময়ের পরিবর্তন হয়, ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সময়ের ব্যাপকভাবে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় । সেজন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সময়ের সমতা বিধানের জন্য মূলমধ্যরেখার ( ০° ) স্থানীয় সময়কে পৃথিবীর প্রমাণ সময় হিসেবে ধরা হয় । মূলমধ্যরেখাটি লন্ডনের গ্রিনিচ শহরের উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে বলে পৃথিবীর প্রমাণ সময়কে গ্রিনিচ প্রমাণ সময় বলা হয় । ভারত এবং গ্রিনিচ-এর মধ্যে প্রমাণ সময়ের পার্থক্য হল 5 ঘন্টা 30 মিনিট ।

ভূ -জালকের সাহায্যে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়

ভূ -জালকের সাহায্যে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় : পৃথিবী পৃষ্ঠে, বিষুবরেখার সমান্তরালে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে ঘিরে থাকা অক্ষরেখাগুলি এবং নিরক্ষরেখার সমান্তরালে বিশ্বের উত্তর-দক্ষিণে বেষ্টিত দ্রাঘিমারেখাগুলি একটি জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে ৷ একে ভূ-জালক বলে ।

ভূ-জালকে দ্রাঘিমারেখা অক্ষরেখাকে সমকোণে ছেদ করে সেক্ষত্রে দ্রাঘিমারেখা ও অক্ষরেখার পারস্পরিক ছেদবিন্দুর দ্বারাই ভূপৃষ্ঠের যে কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয় করা যায় ।

উদাহরণস্বরূপ, যেহেতু কলকাতার অক্ষাংশ  ২২°৩৪’ উঃ এবং দ্রাঘিমা ৮৮°৩০’ পূঃ সেক্ষেত্রে কলকাতা ২২°৩৪’ উঃ অক্ষরেখা এবং  ৮৮°৩০’ পূঃ দ্রাঘিমারেখার ছেদবিন্দুতে অবস্থিত স্থান । তাহলে ভূপৃষ্ঠে কলকাতার  সঠিক অবস্থান হল ২২°৩৪’ উঃ ও ৮৮°৩০’ পূঃ ।

মহাবৃত্ত : যে পূর্ণ বৃত্তরেখা পৃথিবীকে সমান দুটি অংশে  ভাগ করে, সেই বৃত্তটিই হল মহাবৃত্ত । পৃথিবীপৃষ্ঠে  দুটি প্রধান মহাবৃত্ত রয়েছে । যেমন-

  1. নিরক্ষরেখা পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থিত সবচেয়ে বড় বৃত্তাকাররেখা । নিরক্ষরেখার কেন্দ্র এবং পৃথিবীর কেন্দ্র উভয়ই একই বিন্দুতে অবস্থিত । নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে দুটি সমান ভাগে ভাগ করে : উত্তর এবং দক্ষিণ গোলার্ধ । তাই নিরক্ষরেখাকে মহাবৃত্ত বলা হয় ।
  2. মূল মধ্যরেখা  (0°) এবং 180° দ্রাঘিমারেখা আবার মিলিত হয়ে একটি বৃত্তাকার দ্রাঘিমারেখায় পরিণত হয়েছে । দ্রাঘিমার কেন্দ্র এবং পৃথিবীর কেন্দ্র উভয়ই একই বিন্দুতে অবস্থিত । এই রেখাটি পৃথিবীকে পূর্ব গোলার্ধ ও পশ্চিম  গোলার্ধ এই দু-ভাগে বিভক্ত করেছে ।

প্রতিপাদস্থান : পৃথিবী পৃষ্ঠের ওপর অবস্থিত যেকোনো স্থান বা বিন্দু থেকে যে কাল্পনিক ব্যাস পৃথিবীর কেন্দ্রকে ভেদ করে এবং বিপরীত পৃষ্ঠের যে স্থান বা বিন্দুকে স্পর্শ করে তাকে প্রথম স্থানটির প্রতিপাদস্থান  বলে । কোনো স্থান এবং প্রতিপাদস্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য পার্থক্য হল 180° ।

অক্ষাংশের ভিত্তিতে প্রতিপাদস্থান নির্ণয় : কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদস্থানের অক্ষাংশের মান এক হলেও স্থান দুটি একে অপরের বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে ।

উদাহরণস্বরূপ, কলকাতার অক্ষাংশ 22°34′ উত্তর, তাই কলকাতার প্রতিপাদস্থানের অক্ষাংশ হবে 22°34′ দক্ষিণ, যা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে অবস্থিত ।

দ্রাঘিমার ভিত্তিতে প্রতিপাদস্থান নির্ণয় : কোনো স্থান ও তার প্রতিপাদস্থানের দ্রাঘিমারেখার পার্থক্য হল 180° এবং তারা পরস্পরের বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে ।

উদাহরণস্বরূপ, কলকাতার দ্রাঘিমা ৮৮°৩০’ পূর্ব । ফলস্বরূপ, কলকাতার প্রতিপাদস্থানের দ্রাঘিমা হবে  ১৮০° – ৮৮°৩০’ পূর্ব = 91°30’ পশ্চিম ।

প্রতিপাদস্থানের সময়ের পার্থক্য : 1° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের ব্যবধান 4 মিনিট এবং একটি স্থান ও  তার প্রতিপাদস্থাপনের মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হল 180° । সুতরাং একটি স্থান এবং এর প্রতিস্থাপনের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হল 180° x 4 মিনিট = 720 মিনিট = 12 ঘন্টা ।

আন্তর্জাতিক তারিখরেখা : প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে যে কাল্পনিক রেখা প্রায় ১৮০° দ্রাঘিমারেখাকে অনুসরণ করে পৃথিবীর পূর্ব পশ্চিম গোলার্ধের মধ্যে তাইক বিভাজনের কাজ করে, তাকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা বলে ।

পৃথিবীর তারিখ এই রেখা থেকে শুরু বা শেষ হয় । ১১৮৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াংশিটনে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক দ্রাঘিমা সম্মেলনে’ ১৮০° দ্রঘিমারেখাটিকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা রূপে চিহ্নিত করা হয় ।

আন্তর্জাতিক তারিখরেখা গুরুত্ব :  মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্বদিকে 1°  দ্রাঘিমা অন্তর 4 মিনিট সময় বাড়ে এবং পশ্চিমে 4 মিনিট সময় কমে । এইভাবে ক্রমাগত পূর্বদিকে গিয়ে ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমায় ১২ ঘন্টা সময় বেড়ে যায় এবং 180 ° পশ্চিম দ্রাঘিমার সময় 12 ঘন্টা সময় হ্রাস পায় ।

180° পূর্ব এবং পশ্চিম দ্রাঘিমাগুলি একত্রিত হয়ে একটি একক 180° দ্রাঘিমারেখা তৈরি করে, যার ফলে এই রেখার উভয় পাশে 24 ঘন্টা বা ১ দিনের পার্থক্য হয় । ফলস্বরূপ, পৃথিবীতে দিন, বার ও তারিখ নিয়ে সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয় ।

এই সমস্যা দূর করতে, 180° দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা হিসেবে ধরা হয়েছে । পৃথিবীতে দিন, সময় এবং তারিখের মধ্যে অভিন্নতা বজায় রাখার জন্য পূর্ব গোলার্ধ থেকে পশ্চিম গোলার্ধে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা অতিক্রম করলে ১ দিন বিয়োগ করতে হয় এবং পশ্চিম গোলার্ধ থেকে পূর্ব গোলার্ধে গেলে ১ দিন যোগ করতে হয় ।

গাণিতিক সমাধান সূত্র :

  1. 1° দ্রাঘিমার পার্থক্যের কারণে সময়ের পার্থক্য হয় 4 মিনিট, 15 °  দ্রাঘিমার পার্থক্যের কারণে সময়ের পার্থক্য হয় ১ ঘন্টা । ১’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ সেকেন্ড এবং ১’’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে ১/১৫  সেকেন্ড সময়ের পার্থক্য হয় ।

পৃথিবী তার মেরুরেখার চারিদিকে একবার ঘুরতে অর্থাৎ ৩৬০° পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় প্রায় ২৪ ঘন্টা বা ১৪৪০ মিনিট । সুতরাং ৩৬০° ঘোরে  ১৪৪০ মিনিটে । তাই ১° ঘোরে  ১৪৪০/৩৬০  = ৪ মিনিটে । এই হিসাবে ১’ ও ১’’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য নির্ণয় করা হয় ।

  1. পৃথিবীর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে সময় বাড়ে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে  সময় কমে ।
  2. কোনো একটি স্থানের সময় অন্য আরেকটি স্থানের সময়ের চেয়ে বেশি হলে প্রথম স্থানটি অন্য স্থানের পূর্বে এবং সময় কম হলে পশ্চিমে অবস্থান করবে ।
  3. দ্রাঘিমার পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে একই গোলার্ধে অবস্থিত দুটি স্থানের দ্রাঘিমার মান বিয়োগ করে  এবং দুটি স্থান একে অপরের বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করলে দুটি স্থানের দ্রাঘিমার মান যোগ করে দ্রাঘিমার পার্থক্য নির্ণয় করতে হবে ।

দ্রাঘিমা নির্ণয়ের গাণিতিক সমাধান :

গ্রিনিচ সময় অনুসারে  বিকেল ৪ টে ৩০ মিনিটে যদি কোনো স্থানে মধ্যাহ্ন হয়, তবে সেই স্থানের দ্রাঘিমা কত?

সমাধান : গ্রিনিচের সময় যখন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট তখন উক্ত স্থানটির সময় হল মধ্যাহ্ন বা বেলা
১২ টা ।

অর্থাৎ স্থানটি গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত ।

গ্রিনিচ ও স্থানটির মধ্যে সময়ের পার্থক্য হল বেলা ১২টা – বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট = ২৭০মিনিট ।

৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ১°

১ মিনিট সময়ের পার্থক্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ১°/৪

২৭০ মিনিট সময়ের পার্থক্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ২৭০°/৪ = ৬৭ °৩০’

যেহেতু উক্ত  স্থানটি গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত, সুতরাং উক্ত স্থানটির দ্রাঘিমা হল ৬৭°৩০’ পশ্চিম ।

  1. গ্রিনিচ থেকে পাঠানো মধ্যাহ্ন সময় সংকেত কোনো স্থানে গ্রিনিচ সময় অনুসারে বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে পাওয়া গেল । যদি সময় সঙ্কেত ওই স্থানে পৌঁছাতে ২ মিনিট সময় নেয় তবে ওই স্থানের দ্রাঘিমা কত?

সমাধান :  গ্রিনিচের মধ্যাহ্ন সময় বেলা ১২টায় পাঠানো সময় সংকেতটি উক্ত স্থানে পৌঁছায় বিকেল ৫টা ৩২ মিনিট এবং সময় সংকেতটি পৌঁছাতে সময় নেয় ২ মিনিট ।

সুতরাং সময় সংকেতটি উক্ত স্থানে পৌঁছায় – ৫টা ৩২ মিনিট – ২ মিনিট = বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ।

সুতরাং, গ্রিনিচ ও উক্ত স্থানটির সময়ের পার্থক্য হল- দুপুর ১২টা – বিকেল ৫ টা ৩০ মিনিট = ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট = ৩৩০ মিনিট ।

৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ১°

১ মিনিট সময়ের পার্থক্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় ১°/ ৪

৩৩০ মিনিট সময়ের পার্থক্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য হয় 330°/৪ = ৮২°৩০’
গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা উক্ত স্থানটির সময় এগিয়ে রয়েছে । সুতরাং স্থানটি গ্রিনিচের পূর্বদিকে অবস্থিত হবে ।

উক্ত স্থানটির দ্রাঘিমা হল ০°+ ৮২°৩০’ = ৮২°৩০’ পূর্ব ।

সময় নির্ধারণের সমাধান : 

  • যদি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় (90° পূর্ব) একটি এশিয়া কাপের ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয় সকাল 10 টায়), তবে ভারতের সেই ক্রিকেট ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার কখন শুরু হয় কবে?

সমাধান :  ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমা ৮২°৩০’ পূর্ব । তাই ঢাকা ও ভারতের প্রমাণ দ্রাঘিমার পার্থক্য হল –

৯০°পূর্ব – ৮২°৩০’ পূর্ব ৭°৩০’ ।

সুতরাং,

১০° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট

৭° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ x ৭ = ২৮ মিনিট

আবার, ১’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ সেকেন্ড

৩০’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ x ৩০ = ১২০ সেকেন্ড = ২ মিনিট।

সুতরাং, ভারতের সময় ও বাংলাদেশের ঢাকার সময়ের মোট পার্থক্য হল = (২৮ + ২) মিনিট = ৩০ মিনিট ।

যেহেতু, ভারত ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত, তাই ঢাকার সময়ের থেকে ভারতের সময় পিছিয়ে থাকবে ।

সুতরাং, তখন ভারতের সময় হবে (বেলা ১০টা – ৩০ মিনিট) = সকাল ৯ টা ৩০ মিনিট ।

অর্থাৎ, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের ক্রিকেট ম্যাচটির সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ।

  1. কলকাতা থেকে একটি বিমান  (৮৮°৩০’পূর্ব) রাত্রি ৮ টার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলের   (127° পূর্ব) উদ্দেশ্যে যাত্রা করল । বিমান যেতে যদি ৫ ঘন্টা সময় লাগে তবে বিমানটি কখন সিওলে পৌঁছাবে?

সমাধান : কলকাতা ও সিওলের দ্রাঘিমার পার্থক্য হল=  ১২৭°পূর্ব – ৮৮°৩০’ পূর্ব =  ৩৮°৩০’

১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট

৩৮° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ x ৩৮ = ১৫২ মিনিট।

আবার,

১’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ সেকেন্ড

৩০° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় (৪ x ৩০) = ১২০ সেকেন্ড = ২ মিনিট ।

সুতরাং, কলকাতার সময় ও সিওলের সময়ের মোট পার্থক্য হল = (১৫২ + ২) মিনিট = ১৫৪ মিনিট = ২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট । যেহেতু সিওল কলকাতার পূর্বে অবস্থিত, তাই কলকাতার সময়ের থেকে সিওলের সময় এগিয়ে থাকবে ।

সুতরাং,  কলকাতার সময় যখন রাত ৮টা তখন সিওলের সময় হবে (রাত ৮টা + ২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট)  রাত ১০টা ৩৪ মিনিট ।

আবার সিওলে পৌঁছাতে সময় লাগে ৫ ঘণ্টা । ফলে সিউলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ৫ ঘণ্টা লাগবে ।

এর অর্থ হল বিমানটি পরের দিন রাত ১০টা ৩৪মিনিট – 5 ঘন্টা = পরের দিন ভোর ৩ টে ৩৪ মিনিটে পৌঁছাবে ।

সুতরাং, রাত ৮টায় কলকাতা থেকে যাত্রা করা বিমানটি পরের দিন সকাল ৩টা ৩৪ মিনিটে (উত্তর) দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে পৌঁছাবে ।

অধিবর্ষ সম্পর্কিত গাণিতিক সমাধান :

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন (৭৭°পশ্চিম) থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০১২ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে একখানি টেলিগ্রাম এলাহাবাদে (৮২°৩০’পূর্ব)পাঠানো হল । টেলিগ্রামটি আসতে ৫ মিনিট সময় লাগলে কত তারিখে, কোন সময়ে সেটি এলাহাবাদে পৌছাবে ।

সমাধান :  ওয়াশিংটন ও এলাহাবাদের দ্রাঘিমার পার্থক্য (৭৭° পশ্চিম + ৮২°৩০’ পূর্ব) = ১৫৯° ৩০,

১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট

১৫৯° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ x ১৫৯ = ৬৩৬ মিনিট

আবার,

১’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ সেকেন্ড

৩০’ দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ x ৩০ = ১২০ সেকেন্ড =২ মিনিট।

সুতরাং, ওয়াশিংটন ও এলাহাবাদের মধ্যে মোট সময়ের পার্থক্য হল (৬৩৬ + ২) = ৬৩৮ মিনিট = ১০ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট । এলাহাবাদ ওয়াশিংটনের পূর্ব দিকে অবস্থিত । সুতরাং এলাহাবাদের সময় ওয়াশিংটনের সময়ের থেকে এগিয়ে থাকবে । আবার টেলিগ্রামটি পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ৫ মিনিট ।

অর্থাৎ, টেলিগ্রামটি এলাহাবাদে পৌঁছাবে ৪ টা ৩০ মিনিট + ১০ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট + ৫ মিনিট = পরের দিন ভোর ৩টা ১৩ মিনিটে ।

২০১২ সাল হল অধিবর্ষ । সুতরাং ওয়াশিংটন থেকে পাঠানো টেলিগ্রামটি এলাহাবাদে পৌঁছাবে পরের দিন অর্থাৎ ২৯ ফেব্রুয়ারি, বুধবার, ২০১২ সালের ভোর ৩টা ১৩ মিনিটে ।

প্রতিপাদস্থান সম্পর্কিত গাণিতিক সমাধান :

  • স্থানীয় সময় ১ মার্চ, ২০১২, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায়, কলকাতার (২২°৩৪ ‘উত্তর এবং ৮৮°৩৪ পূর্ব) প্রতিপাদস্থানের সময়, বার এবং তারিখ কী হবে?

 সমাধান : একটি স্থান এবং তার প্রতিপাদস্থানের দ্রাঘিমার পার্থক্য হল ১৮০°

কলকাতার দ্রাঘিমা হল ৮৮°৩০’ পূর্ব, তাই এর প্রতিপাদস্থানের দ্রাঘিমা হবে, ১৮০° – ৮৮°৩০’ পূর্ব) = ৯১°৩০’ পশ্চিম ।

আবার, কোনো স্থান এবং এর প্রতিপাদস্থানের মধ্যে সময়ের পার্থক্য হল (১৮০° x ৪) = ৭২০ মিনিট = ১২ ঘন্টা । কলকাতার প্রতিপাদস্থানটি  কলকাতার পশ্চিমে অবস্থিত, তাই সেখানের সময় কলকাতার থেকে ১২ ঘন্টা পিছিয়ে থাকবে ।

তাই কলকাতার প্রতিপদস্থানের সময় হবে : সকাল ৯ টা – ১২ ঘন্টা = আগের দিন রাত ৯ টা ।

২০১২ সাল হল একটি অধিবর্ষ ।

ফলস্বরূপ, কলকাতায় প্রতিপাদস্থানের সময়, বার এবং তারিখ হবে- ৯ টা,  বুধবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সাল ।

  • অষ্ট্রেলিয়ার সিডনির দ্রাঘিমা ১৫১° পূর্ব  এবং হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের হনলুলুর দ্রাঘিমা ১৫৬°
    পশ্চিম । হনলুলুর স্থানীয় সময় যখন বেলা ১২ টা তখন সিডনির স্থানীয় সময় কত?

সমাধান : অস্ট্রেলিয়ার সিডনি এবং হাওয়াই দ্বীপপূঞ্জের হনলুলুর মধ্যে অবস্থিত ১৮০° দ্রাঘিমারেখা ।

তাই অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও ১৮০° দ্রাঘিমার পার্থক্য হল- (১৮০° – ১৫১° পূর্ব) = ২৯° এবং হনলুলু ও ১৮০°

দ্রাঘিমার পার্থক্য হল – (১৮০° – ১৫৬° পশ্চিম) = ২৪°

সুতরাং, সিডনি ও হনলুলুর দ্রাঘিমার মোট পার্থক্য = ২৯° + ২৪° = ৫৩°

১° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট

৫৩° দ্রাঘিমার পার্থক্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ x ৫৩ = ২১২ মিনিট = ৩ ঘন্টা ৩২ মিনিট।

পশ্চিম গোলার্ধের হনলুলু থেকে আন্তর্জাতিক গোলার্ধ অতিক্রম করে পূর্ব গোলার্ধের সিডনি পর্যন্ত আসার ফলে ১ দিন যোগ হবে ।

তাই সিডনিতে সময় হবে – (দুপুর ১২টা – ৩ ঘণ্টা ৩২ মিনিট) + ১ দিন = পরের দিন সকাল ৮ টা ২৮ মিনিটে

সুতরাং, যদি হনলুলুতে স্থানীয় সময় ১২টা হয়, সিডনির স্থানীয় সময় হবে পরের দিন সকাল ৮ টা ২৮ মিনিট ।

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্নয়

1 MARKS QUESTIONS of পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্নয়

1. মূলমধ্যরেখা কোন শহরের মধ্যে দিয়ে প্রসারিত?
Ans. গ্রিনিচ শহর।

2. পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুর নাম কী?
Ans. কুমেরু।

3. কোনো স্থান এবং তার প্রতিপাদ স্থানের মধ্যে দ্রাঘিমার পার্থক্য কত?
Ans. 180°

4. ______ অক্ষাংশ দিয়ে কর্কটক্রান্তিরেখা আঁকা যায়। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. 23.5° উত্তর

5. অক্ষাংশের মান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অক্ষরেখাগুলির পরিধি ______ পায়। (শূন্যস্থান পূরন করো)
Ans. হ্রাস

multiple choice questions – 1 marks of পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্নয়

1. কলকাতা ও এলাহাবাদের মধ্যে স্থানীয় সময়ের পার্থক্য হয়—
A. 20 মিনিট B. 22 মিনিট C. 24 মিনিট D. 26 মিনিট
Ans. C

2. কোনো স্থানের দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করার জন্য যে রেখার সাহায্য নেওয়া হয়, সেটি হল—
A. মূলমধ্যরেখা B. 180° দ্রাঘিমারেখা C. নিরক্ষরেখা D. কোনোটাই নয়
Ans. A

3. দুপুর 12 টাকে প্রকাশ করা হয়—
A. 12 pm B. 12 am C. 12 D. কোনোটিই নয়
Ans. A

4. কলকাতা ও গ্রিনিচের প্রমাণ সময়ের পার্থক্য –
A. 5 ঘণ্টা B. 5 ঘণ্টা 30 মিনিট C. 6 ঘণ্টা B. 6 ঘণ্টা 30 মিনিট
Ans. B

5. পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ভাগ করেছে—
A. নিরক্ষরেখা B. কর্কটক্রান্তিরেখা C. মকরক্রান্তিরেখা D. মেরুবৃত্তরেখা
Ans. A

6. উত্তর অক্ষরেখায় অবস্থিত স্থানের প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ –
A. 180° B. 0° C. 45° দক্ষিণ D. 45°30″ পশ্চিম
Ans. C

7. দিন ও রাতের মধ্যে উষ্ণতার প্রসর সর্বাপেক্ষা কম যে অক্ষরেখা বরাবর –
A. নিরক্ষরেখা B. কর্কটক্রান্তিরেখা C. মকরক্রান্তিরেখা D. কুমেরুবৃত্তরেখা
Ans. A

8. আন্তর্জাতিক তারিখরেখা অ্যালুসিয়ান দ্বীপপুঞ্জের কাছে বাঁকানো হয়েছে—
A. 11° পূর্বে B. 11° পশ্চিমে C. 7° পূর্বে D. 7° পশ্চিমে
Ans. D

9. সুমেরুতে ধ্রুবতারার উন্নতি কোণ—
A. 0° B. 90° উত্তর C. 90° দক্ষিণ D. 180°
Ans. B

10. সর্বোচ্চ অক্ষাংশের মান—
A. 90° B. 100° C. 175° D. 180°
Ans. A

short questions – 2-3 marks of পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্নয়

  1. নিরক্ষরেখাকে মহাবৃত্ত (Great Circle) বলে কেন?

উত্তর- পৃথিবীর ওপর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর মাঝ বরাবর ও সমদূরত্বে পূর্ব-পশ্চিমে যে রেখাটি কল্পনা করা হয়েছে, তাকে রক্ষরেখা বলে। এটি একটি পূর্ণবৃত্ত এবং সবচেয়ে বড়াে পরিধির বৃত্ত। সেইজন্য নিরক্ষবৃত্তকে মহাবৃত্ত বলে। মহাবৃত্ত বরাবর পৃথিবীকে কাল্পনিকভাবে কাটলে পৃথিবী সমান দুইভাগে বিভক্ত হবে। মহাবৃত্তের অক্ষাংশ ০° ।

  1. নিরক্ষরেখার অপর নাম বিষুবরেখা কেন?

উত্তর- বিষুব’ কথাটির অর্থ সমান। নিরক্ষরেখার ওপর বছরের প্রতিটি দিন সূর্যরশ্মি লম্বভাবে বা প্রায় লম্বভাবে পড়ে বলে দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। তার্থাৎ, 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত্রি সেই কারণে এই রেখাটির অপর এক নাম বিষুবরেখা।

  1. সমাক্ষরেখা কাকে বলে?

উত্তর- ভূগােলকের ওপর একই অক্ষাংশবিশিষ্ট স্থান বিন্দুগুলিকে পরপর যুক্ত করে যে রেখাটির সৃষ্টি হয়, তাকে সমাক্ষরেখা বলে। অর্থাৎ, সমান অক্ষাংশবিশিষ্ট রেখাকে সমাক্ষরেখা বলা হয় এবং একই

সমাক্ষরেখার ওপর অবস্থিত প্রতিটি স্থানের অক্ষাংশ একই (সমান)।

4.অক্ষাংশ (Latitude) কাকে বলে? 

উত্তর- উভয় গােলার্ধে নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে পৃথিবীর কোনাে স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের অক্ষাংশ বলে। অর্থাৎ, নিরক্ষরেখার উত্তর বা দক্ষিণে অবস্থিত কোনাে স্থান পৃথিবীর নিরক্ষরেখা কেন্দ্রে নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে যে কোণ উৎপন্ন করে, তাকে অক্ষাংশ বলে। উদাহরণস্বরূপ- কলকাতার অক্ষাংশ 22°34′ উত্তর বলতে বােঝায় কলকাতা নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে 22°34′ কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত।

  1. দ্রাঘিমা (Longitude) কাকে বলে?

উত্তর- মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও সুমেরু পশ্চিমে কোনাে স্থানের নিরক্ষীয়তল বরাবর কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা (Longitude) বলে। অর্থাৎ, পৃথিবীর কেন্দ্রে মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্বে ও পশ্চিমে কোনাে স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের দ্রাঘিমা বলে। উদাহরণস্বরূপ- কুমেরু কলকাতার দ্রাঘিমাংশ ৪৪°30′ পূর্ব কৌণিক দূরত্বের বলতে বােঝায় কলকাতা নিরক্ষীয় সাহায্যে দ্রাঘিমা নির্ণয় তল বরাবর মূলমধ্যরেখা থেকে পূর্বে ৪৪°30′ কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত।

  1. 180° পূর্ব ও 180° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখাকে কেন একই দ্রাঘিমারেখা বলা হয়? 

উত্তর- 180° পূর্ব ও 180° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা দুটি একই স্থানে অবস্থিত বলে এই দ্রাঘিমারেখা দুটিকে একই দ্রাঘিমারেখা বলে পৃথিবীর আয়তাকার মানচিত্রে এই রেখা দুটি অঙ্কন করা যায়, কিন্তু ভূ-গােলকে একটি দ্রাঘিমারেখার দ্বারাই উভয় রেখাদ্বয়কে বােঝানাে হয়।

  1. রৈখিক দূরত্ব (Linear Distance) কাকে বলে?

উত্তর- কোনাে সমতল জায়গায় দুটি স্থানের দূরত্ব সােজাসুজি ফিতে বা দড়ি দিয়ে মাপার পর ওই মাপটিকে সেন্টিমিটার, মিটার, কিলােমিটার ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এইভাবে দূরত্ব প্রকাশ করাকে রৈখিক দূরত্ব (Linear Distance) বলে।

  1. কলকাতার অক্ষাংশ 22°34’ উত্তর বলতে কী বােঝায় ?

উত্তর- কলকাতার অক্ষাংশ 22°34′ উত্তর বলতে বােঝায় কলকাতা পৃথিবীর কেন্দ্র ও নিরক্ষীয় তলের সঙ্গে 22°34′ কোণ উৎপন্ন করে এবং কলকাতা উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।

  1. কলকাতার দ্রাঘিমা ৪৪°30° পূর্ব বলতে কী বােঝায়? 

উত্তর কলকাতা থেকে নিরক্ষীয় তল বরাবর পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত অঙ্কিত সরলরেখা, মূলমধ্যরেখা থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত সরলরেখার সঙ্গে ৪৪°30′ কোণ উৎপন্ন করে এবং কলকাতা পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত।

  1. ক্রোনােমিটার (Chronometre) কী ? 

উত্তর : ক্রোনােমিটার হল সময় নির্ণয়কারী এক বিশেষ ধরনের ঘড়ি, যা জাহাজের নাবিকদের কাজে লাগে। এই ঘড়ি গ্রিনিচের সময়কেই সূচিত করে, তবে এটি যে-কোনাে দ্রাঘিমারেখার স্থানীয় সময় অনুসারে ঠিক করা যায়। সাধারণত নাবিকরা এর সাহায্যে গ্রিনিচের সময় জেনে জাহাজের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন।

  1. সেক্সট্যান্ট কী?

উত্তর : সেক্সট্যান্ট হল সূর্যের সর্বোচ্চ উন্নতি কোণ অর্থাৎ, মধ্যাহ্ন (দুপুর 12টা) নির্ণয়কারী অক্ষাংশ পরিমাপক যন্ত্র। এই যন্ত্রে একটি শক্তিশালী দূরবিন লাগানাে থাকে। কোনাে স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে হলে ধ্রুবতারা (উত্তর গােলার্ধ) বা হ্যাডলির অকট্যান্ট (দক্ষিণ গােলা) নক্ষত্রের অভিমুখে রাখা হয়। এই দুই নক্ষত্রের উন্নতি কোণ নির্দিষ্ট স্থানটির অক্ষাংশগত অবস্থান নির্দেশ করে।

  1. একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত জায়গাগুলির স্থানীয় সময় এক হয় কেন?

উত্তর : পৃথিবী 24 ঘণ্টায় একবার সূর্যকে পশ্চিম থেকে পূর্বে আবর্তন করে। তাই প্রতিটি দ্রাঘিমারেখাই 24 ঘন্টায় একবার করে সূর্যের সামনে আসে। সূর্য যখন যে দ্রাঘিমারেখার উপর অবস্থান করে তখন সেখানে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং সেই দ্রাঘিমার সর্বত্র মধ্যাহ্ন সূচিত হয়। এই মধ্যাহ্ন অনুসারে ওই দ্রাঘিমার স্থানীয় সময় সূচিত হয়। তাই একই দ্রাঘিমারেখায় অবস্থিত জায়গাগুলির স্থানীয় সময় এক হয়। 

  1. পৃথিবীতে মােট কটি অক্ষরেখা আছে?

উত্তর : নিরক্ষরেখা থেকে এর সমান্তরালে উত্তর ও দক্ষিণ গােলার্বে 1° অন্তর মােট ৪9 + 89 = 178টি ও নিরক্ষরেখাকে ধরে 178 +1=179টি অক্ষরেখা পৃথিবীতে কল্পনা করা হয়েছে। উভয় গােলার্ধে 90° হল বিন্দু। উত্তর গােলার্ধে এটি সুমেরু বিন্দু ও দক্ষিণ গােলার্ধে কুমেরু বিন্দু বলে একে রেখা হিসেবে ধরা হয় না।

long questions – 5 marks of পৃথিবীপৃষ্ঠে কোনো স্থানের অবস্থান নির্নয়

  1. পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখাগুলির পরিচয় দাও ও তাদের ব্যবহার লেখাে। 

উত্তর- 

সমাক্ষ রেখা /অক্ষরেখা : পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গােলার্ধের সমান অক্ষাংশবিশিষ্ট স্থানগুলিতে পূর্ব-পশ্চিমে বৃত্তাকার যে-সমস্ত রেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাদের অক্ষরেখা বলে।

পৃথিবীতে যতগুলি অক্ষরেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অক্ষরেখাকে পৃথকভাবে নামকরণ করা হয়েছে। এই অক্ষরেখাগুলি হল-

নিরক্ষরেখা : পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরুবিন্দু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে কল্পিত বৃত্তাকার রেখাকে নিরক্ষরেখা বলে। এর অক্ষাংশ 0° |

গুরুত্ব / ব্যবহার : 

  • পৃথিবীকে সমান দুটি গােলার্ধে ভাগ করেছে। যথা – উত্তর গােলার্ধ ও দক্ষিণ গােলার্ধ। 
  • কোনাে স্থান উত্তর গােলার্ধে কতটা উত্তরে বা দক্ষিণ গােলার্ধে কতটা দক্ষিণে। অবস্থিত তা নিরক্ষরেখার সাহায্যে ওই স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয়ের মাধ্যমে জানা যায়। 
  • নিরক্ষরেখায় সারা বছর সূর্য প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে, এখানে যেমন দিন-রাত্রি সমান হয়, তেমনি উন্নতা বেশি হওয়ায় উষ্ণমণ্ডল সৃষ্টি হয়েছে।

কর্কটক্রান্তিরখা : নিরক্ষরেখার উত্তরে 23.5°কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত যে কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে রয়েছে, তাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলে। এর মান 23%° উত্তর।

গুরুত্ব / ব্যবহার : 

  • 21 জুন এই রেখায় সূর্যের উত্তরায়ণ শেষ হয়, অর্থাৎ সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ সীমা হিসেবে কর্কটক্রান্তি রেখার গুরুত্ব অপরিসীম। 
  • উত্তর গােলার্ধে উষ্ণমণ্ডল ও নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলের মধ্যে সীমারূপেও কর্কটক্রান্তি রেখা গুরুত্বপূর্ণ। 

মকরক্রান্তিরখা (Tropic of Capricorn) : নিরক্ষরেখার দক্ষিণে 23.5° কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত যে কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে রয়েছে, তাকে মকরক্রান্তিরেখা বলে। এর মান 23.5°দক্ষিণ ।

গুরুত্ব / ব্যবহার : 

  • 22 ডিসেম্বর এই রেখায় সূর্যের দক্ষিণায়ন শেষ হয়। অর্থাৎ, সূর্যের দক্ষিণায়নের শেষ সীমারূপে মকরক্রান্তিরেখার গুরুত্ব অপরিসীম। 
  • দক্ষিণ গােলার্ধে উষ্ণ মণ্ডল ও নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলের মাঝের সীমারূপেও এই রেখা গুরুত্বপূর্ণ।

সুমেরু বৃত্ত (Arctic Circle) : নিরক্ষরেখার উত্তরে 66.5° কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত যে কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে রয়েছে, তাকে সুমেরু বৃত্ত বলে। এর অক্ষাংশ 66.5° উত্তর।

গুরুত্ব/ ব্যবহার : 

  • উত্তর গােলার্ধে এই বৃত্তে নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল শেষ হয় এবং হিমমণ্ডল শুরু হয়। 
  • প্রতিবছর 21 জুন থেকে 22 ডিসেম্বর সুমেরু বৃত্ত থেকে সুমেরু বিন্দু পর্যন্ত অঞ্চল সর্বদা আলােকিত থাকে এবং 23 ডিসেম্বর থেকে 20 জুন এই অঞ্চল সর্বদা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে।

কুমেরু বৃত্ত (Antarctic Circle) : নিরক্ষরেখার দক্ষিণে 66.5° কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত যে কাল্পনিক বৃত্তাকার রেখা পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে রয়েছে, তাকে কুমেরু বৃত্ত বলে। এর অক্ষাংশ 66.5° দক্ষিণ ।

গুরুত্ব / ব্যবহার :

  • দক্ষিণ গােলার্ধে এই বৃত্তে নাতিশীতোষ্ণমণ্ডল শেষ হয় এবং হিমমণ্ডল শুরু হয়। 
  • প্রতিবছর 23 ডিসেম্বর থেকে 20 জুন কুমেরু বৃত্ত থেকে কুমেরু বিন্দু পর্যন্ত অঞ্চল সর্বদা আলােকিত থাকে এবং 21 জুন থেকে 22 ডিসেম্বর এই অঞ্চল সর্বদা অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে।

সুমেরু বিন্দু (Arctic Region) : নিরক্ষরেখা থেকে উত্তরে 90° কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত মেরুবিন্দুকে সুমেরু বিন্দু বলে। অন্যান্য অক্ষরেখার ন্যায় এটি রেখা নয়, এটি পৃথিবীর অক্ষের উত্তর বিন্দু স্বরূপ।

গুরুত্ব / ব্যবহার : 

  • এখানে বছরে 6 মাস দিন ও 6 মাস রাত বিরাজ করে। 
  • সুমেরু বিন্দুর মাথার উপর 90° কোণে অবস্থিত ধ্রুবতারার সাহায্যে যেমন উত্তর দিক নির্ণয় করা যায়, তেমনি উত্তর গােলার্ধের কোনাে স্থানের অক্ষাংশও নির্ণয় করা যায়।
  • পৃথিবীর উত্তরের শেষপ্রান্ত, জীবমণ্ডলের শেষ সীমারূপেও গুরুত্বপূর্ণ।

কুমেরুবিন্দু (Antarctic Region) : নিরক্ষরেখা থেকে দক্ষিণে 90° কৌণিক দূরত্বে অবস্থিত মেরুবিন্দুকে কুমেরু বিন্দু বলে। এটিও অক্ষরেখা নয়, পৃথিবীর অক্ষের দক্ষিণ বিন্দু স্বরূপ।

গুরুত্ব / ব্যবহার : 

  • এখানে বছরে 6 মাস দিন ও 6 মাস রাত থাকে। 
  • কুমেরু বিন্দুর মাথার উপর 90° কোণে অবস্থিত হ্যাডলির অকট্যান্ট নামক নক্ষত্রের সাহায্যে দক্ষিণ দিক নির্ণয় করা যায় এবং দক্ষিণ গােলার্ধের কোনাে স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। 
  • পৃথিবীর দক্ষিণের শেষপ্রান্ত, হিমমণ্ডলের শেষ সীমারূপে গুরুত্বপূর্ণ। 
  1. অক্ষাংশের ভিত্তিতে পৃথিবীর প্রধান প্রধান তাপ বলয়গুলি চিহ্নিত করে তা আলােচনা করাে। *

উত্তর- পৃথিবীতে যাবতীয় তাপের প্রধান উৎস হল সূর্য। বিভিন্ন অক্ষাংশে সূর্যরশ্মির তাপের তারতম্য ঘটে বলে পৃথিবীতে তিনটি স্থায়ী তাপবলয় গড়ে উঠেছে। 

উষ্ণমন্ডল (Torrid Zone):

অবস্থান : নিরক্ষরেখা 0° থেকে 23.5° উত্তর এবং 23.5° দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে উষ্ণমণ্ডল অবস্থিত।

বৈশিষ্ট্য : 

  • নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে। 
  • দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারা বছরই 12 ঘণ্টা দিন ও 12 ঘণ্টা রাত্রি বিরাজ করে। 
  • উষ্ণমণ্ডলের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা 27°C। 
  • এখানে ঋতুবৈচিত্র্য দেখা যায় না, কারণ সারাবছর একটিই ঋতু (গ্রীষ্ম) বিরাজ করে।

নাতিশীতােষ্ণমণ্ডল (Temperate Zone) :

অবস্থান : পৃথিবীর উভয় গােলার্ধের 23.5° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে শুরু করে 66.5° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে নাতিশীতােষ্ণমণ্ডল অবস্থিত।

বৈশিষ্ট্য : 

  • সূর্যরশ্মির পতন নাতিশীতােষ্ণমণ্ডলে সূর্যরশ্মি মাঝারি তির্যকভাবে (10° 20° কোণে) পড়ে।
  • নাতিশীতােষ্ণমণ্ডলের ক্রান্তীয় অঞল থেকে 45° অক্ষাংশ পর্যন্ত অঞ্চল কিছুটা উষ্ণ প্রকৃতির হলেও, 45° থেকে 66.5° অক্ষাংশীয় অঞ্চল শীতল প্রকৃতির হয়ে থাকে। 
  • নাতিশীতােষ্ণমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা থাকে 27° – 0° সেন্টিগ্রেডের মধ্যে। 
  • নাতিশীতােষ্ণ মণ্ডল দুই প্রকার, যথা – উষ্ণ নাতিশীতােষ্ণমণ্ডল (23.5°° উ:/দ: -45° উ: দ:) এবং শীতল নাতিশীতােষ্ণমণ্ডল (45° উ:/দ; – 66.5°° উ: দ:)।

হিমমণ্ডল (Frigid Zone):

অবস্থান : পৃথিবীর উভয় গােলার্ধের 66.5° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ থেকে 90° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে হিমমণ্ডল অবস্থিত।

বৈশিষ্ট্য : 

  • হিমমণ্ডলে সারাবছর সূর্য অতি তির্যকভাবে কিরণ দেয়। 
  • এখানের কোনাে কোনাে স্থানে সারা বছর 6 মাস দিন ও 6 মাস রাত্রি থাকে। 
  • হিমমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা 0°C-এরও নীচে থাকে।
error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে