আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

বিষয়সংক্ষেপ

লেখিকা বেগম রােকেয়া হিমালয় পর্বতের গা ঘেঁষে ছোটো আকারের হিমালয়ান রেলগাড়ি চড়ে হিমালয় রেল রােড দিয়ে শিলিগুড়ি থেকে কার্সিয়াং যাচ্ছিলেন। কখনো অরণ্যের বুক চিরে আবার কখনো পর্বত ডিঙিয়ে যাত্রাপথে বিশালকায় জলপ্রপাত কিংবা সবুজ চা বাগান লেখিকার সঙ্গী । পর্বতের বিভিন্ন রূপে যেমনমেঘ রোদ্দুরের খেলা, সূর্যের অস্ত যাওয়া লেখিকাকে আনন্দ দেয়। লেখিকা তাঁর ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটিতে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।

কার্সিয়াং যাবার পথে জলপ্রপাত গুলির রূপে মুগ্ধ লেখিকা জাহ্নবীর উৎসের জলপ্রপাতটি কল্পনা করে অবাক হয়ে যান। ট্রেনটি একটি বড়াে জলপ্রপাতের কাছে জল পরিবর্তনের জন্য থামে, তখন লেখিকা প্রাণভরে তার সৌন্দর্য উপভােগ করেন ।।

লেখিকাদের বাসা ছিল ৪৮৬৪ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত কার্সিয়াং স্টেশনের কাছেই।  সেই সময় পর্বতের আবহাওয়া ছিল বসন্তকালের মতো ই মনােরম। পর্বতের সৌন্দর্যে আপ্লুত লেখিকা প্রবন্ধটিতে জলপ্রপাত ও  কুয়াশার রূপ অনুধাবনের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। লেখিকা সূর্যাস্তের আলােয় বায়ু ও মেঘের সৌন্দর্যে প্রকৃতির রূপ দেখেই সময় কাটাতেন। 

পাহাড়ি অঞ্চলের সামান্য সৌন্দর্যও তার মন ভরিয়ে তােলার জন্য যথেষ্ট।  এখানে ২০-২৫ ফিট লম্বা চেঁকি গাছ দেখে অবাক হলেন লেখিকা। 

লেখিকা পাহাড়ি অরণ্যের পথে ঘুরে বেড়ানোর সময়  দু-তিনবার জোঁকের কবলে পড়েন। জোঁকের বিষয়ে লেখিকা উল্লেখ করেছেন ভালুর কথা। ভালু হল লেখিকার চাকরানী, জাতিতে ভুটিয়া। পাহাড়ি অঞ্চলের মহিলারা খুবই সাহসী ও পরিশ্রমী হয়।

বেগম রােকেয়া ছিলেন নারী স্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃত।  তাই এই অসম্ভব পরিশ্রমী মহিলাদের ক্ষমতা কে তিনি পুরুষের থেকেও বেশি গুরুত্ব দিতেন। এঁদের প্রসঙ্গে তিনি  শ্রমশীলা, কার্যপ্রিয়, সাহসী ও সত্যবাদীর মতাে শব্দগুলি ব্যবহার করেছেন। যদিও তিনি মনে করেন সমতলবাসীর বা  সংসর্গে এঁদের সদগুণ হারিয়ে যাচ্ছে। লেখিকা প্রকৃতির সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বঙ্গোপসাগর তার সমুদ্রদর্শনের সাধ মিটালেও পর্বতের সৌন্দর্য  তার দেখার ইচ্ছা আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি ঈশ্বর সৃষ্ট পৃথিবীর বৈচিত্র্যকে প্রাণ ভরে অনুভব করেছেন এবং বারবার ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন.

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of হিমালয় দর্শন (HIMALAY DORSHON)

1 MARKS QUESTIONS of হিমালয় দর্শন (HIMALAY DORSHON)

1.‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির রচয়িতা কে?

 উত্তর:) ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির রচয়িতা হলেন বেগম রােকেয়া।

  1. ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশটি কোন্ নামে কোথায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল? 

উত্তর:) ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশটি কূপমণ্ডুকের ‘হিমালয় দর্শন’ নামে ১৩১১ বঙ্গাব্দে ‘মহিলা’ পত্রিকার কার্তিক সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। 

  1. ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে লেখিকার আলােচ্য বিষয়টি কী?

উত্তর:) “হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে লেখিকা বেগম রােকেয়ার আলােচ্য বিষয় তাঁর কার্সিয়াং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।

  1. “যথা সময় যাত্রা করিয়া শিলিগুড়ি স্টেশনে আসিয়া পহুঁছিলাম।”—লেখিকা কোন্ উদ্দেশ্যে শিলিগুড়ি স্টেশনে এসে পৌঁছেছেন? 

উত্তর:) লেখিকা বেগম রােকেয়া কার্সিয়াং যাওয়ার জন্য শিলিগুড়ি স্টেশনে এসে পৌঁছেছেন। 

  1. হিমালয় রেল রােড কোথা থেকে আরম্ভ হয়েছে? 

উত্তর:) হিমালয় রেল রােড শিলিগুড়ি থেকে আরম্ভ হয়েছে | 

  1. ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি ও ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি—এই দুটির মধ্যে কোন্‌টি ছােটো ও কোনটি বড়াে? 

উত্তর:) ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি বড়াে এবং ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি ছােটো।

  1. “হিমালয়ান রেলগাড়ি আবার তাহার অপেক্ষাও ছােটো”—কার অপেক্ষা ছােটো?

উত্তর:) হিমালয়ান রেলগাড়ি ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ির অপেক্ষা আকারে ছােটো।

৪. “বেশ সুন্দর দেখায়।”—“হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে লেখিকা কোন্ জিনিসটিকে বেশ সুন্দর দেখায় বলে মন্তব্য করেছেন? 

উত্তর:) লেখিকা বেগম রােকেয়া ছােটো ছােটো হিমালয়ান রেলগাড়িগুলিকে খেলনা গাড়ির মতাে সুন্দর দেখায় বলে মন্তব্য করেছেন।

  1. ক্ষুদ্র গাড়িগুলিকে কীসের মতাে দেখতে লাগে? 

উত্তর:) হিমালয়ান রেলের ক্ষুদ্র গাড়িগুলিকে খেলনাগাড়ির মতাে সুন্দর দেখতে লাগে।

  1. হিমালয়ান রেলগাড়ির দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।

উত্তর:) ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে উল্লিখিত হিমালয়ান রেলগাড়ির দুটি বৈশিষ্ট্য হল—

গাড়িগুলি খুব ছােটো এবং গাড়িগুলি অত্যন্ত নীচু৷ 

  1. “যাত্রীগণ ইচ্ছা করিলে অনায়াসে উঠিতে নামিতে পারেন।”—যাত্রীরা কোথা থেকে ওঠা-নামা করতে পারেন? 

উত্তর:) আয়তনে বেশ ক্ষুদ্র এবং খেলনাগাড়ির মতাে দেখতে হিমালয়ান রেলগাড়ি থেকে ইচ্ছানুসারে যাত্রীরা ওঠানামা করতে পারেন। 

  1. “পথের দুইধারে মনােরম দৃশ্য”—মনােরম দৃশ্যটি কী? 

উত্তর:) শিলিগুড়ি থেকে কার্সিয়াং যাবার পথের দুদিকে কোথাও অতি উচ্চ পর্বতশৃঙ্গ আবার কোথাও নিবিড় অরণ্য দেখা যায়।

  1. “এখনও শীত বােধ হয় না।”—সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কত উপরে উঠেও লেখিকা শীতবােধ করেননি? 

উত্তর:) কার্সিয়াং যাত্রাকালে বেগম রােকেয়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফিট উপরে উঠেও শীতবােধ করেননি। 

  1. “মেঘের ভিতর দিয়া চলিয়াছি।”—কখন লেখিকা মেঘের ভিতর দিয়ে চলেছেন? 

উত্তর:) রেলগাড়িতে কার্সিয়াং যাত্রাকালে সমুদ্র থেকে ৩০০০ ফিট উচ্চতায় লেখিকার মনে হয়েছে তিনি মেঘের ভিতর দিয়ে চলেছেন। 

  1. “সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে।”—কাকে নদী বলে ভুল হয়? 

উত্তর:) কার্সিয়াং যাত্রাকালে ৩০০০ ফিট উচ্চতা থেকে নীচের উপত্যকার সাদা কুয়াশা দেখে লেখিকার নদী বলে। ভুল হয়েছে।

  1. “সকলই মনােহর।”—কীসের কথা বলা হয়েছে? উত্তর:) কার্সিয়াং যাওয়ার পথে গাছ, লতা, ঘাস, পাতা সমস্ত কিছুকেই লেখিকার মনােহর বলে মনে হয়েছে।
  2. “….প্রাকৃতিক শােভা আরও শতগুণ বৃদ্ধি করিয়াছে।”— কীসের জন্য প্রাকৃতিক শােভা আরও শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে?

উত্তর:) লেখিকার মতে সবজ চায়ের খেতগুলির জন্য পার্বত্য অঞ্চলের প্রাকৃতিক শােভা যেন আরও শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

  1. “দূর হইতে সারি সারি চারাগুলি বড়াে সুন্দর বােধ হয়।”কীসের চারাকে বড়াে সুন্দর দেখায়? 

উত্তর:) দূর থেকে সবুজ রঙের চা গাছের সারিবদ্ধ চারাগুলিকে বড়াে সুন্দর দেখায়। 

  1. “ধরণীর সীমন্তের ন্যায় দেখায়!”—কাকে ধরণির সীমন্তের মতাে দেখায়? 

উত্তর:) দুর থেকে সারিবদ্ধ চা গাছের মধ্যে দিয়ে মানুষের চলার সংকীর্ণ পথগুলিকে ‘ধরণীর সীমন্ত’ বলে মনে হয়। 

  1. “ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।”—কার সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর:) হিমালয়ান রেলপথ ধরে কার্সিয়াং যাবার সময় লেখিকা অনেকগুলি জলপ্রপাত দেখেছিলেন যার সৌন্দর্যকে তিনি বর্ণনাতীত বলেছেন। 

  1. “ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।”—কোথা থেকে লেখিকা সেই সুন্দরকে দেখেছেন?

উত্তর:) শিলিগুড়ি থেকে কার্সিয়াং যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে লেখিকা বেগম রােকেয়া জলপ্রপাতের বর্ণনাতীত সৌন্দর্য দেখেছেন। 

  1. “ইহারা কোথায় চলিয়াছে!”—কখন লেখিকার মনে এরূপ চিন্তার উদয় হয়েছে? 

উত্তর:) কার্সিয়াং যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে অনেকগুলি জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মনে এরূপ চিন্তার উদয় হয়েছিল। 

  1. “একথা সহসা বিশ্বাস হয় কি?”—এখানে কোন্ কথা বিশ্বাস করার কথা বলা হয়েছে? 

উত্তর:) লেখিকার হিমালয়ান রেলপথে দেখা জলপ্রপাতগুলির কোনাে-একটি বিশাল গঙ্গানদীর উৎস, একথা সহসা বিশ্বাস হয় না। 

  1. “একটি বড়াে ঝরনার নিকট ট্রেন থামিল।”—ট্রেন থামার কারণ কী? 

উত্তর:) লেখিকা বেগম রােকেয়া হিমালয়ান রেলের যে ট্রেনটিতে চড়ে কার্সিয়াং যাচ্ছিলেন, একটি বড়াে ঝরনার কাছে জল পরিবর্তনের জন্য সেটি দাঁড়িয়েছিল। 

  1. “…ট্রেন থামিল।”—প্রাথমিকভাবে লেখিকার ট্রেন থামার কারণ হিসেবে কী মনে হয়েছিল? 

উত্তর:) ‘হিমালয় দর্শন’ লেখিকার প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল যাত্রীসাধারণ যাতে প্রাণভরে ঝরনাটি দেখতে পায় সে কারণেই ট্রেনটি দাঁড়িয়েছে। 

  1. “সেই জন্য বােধহয় গাড়ি থামিয়াছে।”—কীজন্য গাড়ি থেমেছে বলে লেখিকা ভেবেছিলেন? 

উত্তর:) যাত্রীসাধারণ যাতে প্রাণভরে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভােগ করতে পারে সেজন্য রেলগাড়ি থেমেছিল বলে মনে করেছিলেন লেখিকা। 

  1. “অন্য কারণ ছিল।”—কোন্ প্রসঙ্গে লেখিকা এই মন্তব্যটি করেছেন? 

উত্তর:) পাহাড়ি রেলপথে হঠাৎ ট্রেনের দাঁড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে লেখিকার ভাবনাটা যে ভুল ছিল সেই প্রসঙ্গে এই মন্তব্য।

  1. “আমাদের মনােরথ পূর্ণ হইল।”— মনােরথটি কী? 

উত্তর:) কার্সিয়াং যাবার পথে জলপ্রপাতগুলির অবর্ণনীয় সৌন্দর্যে মুগ্ধ লেখিকা প্রাণভরে জলপ্রপাত দেখার সুযােগকেই মনােরথ পূর্ণ হওয়া বলেছেন। 

  1. “সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম।”—কে কোন্ জুলুম থেকে রক্ষা পেয়েছেন? 

উত্তর:) “হিমালয় দর্শন’-এর লেখিকা বেগম রােকেয়া ৪০০০ ফিট উচ্চতায় শীত অনুভব না করলেও সমতলের তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। 

  1. “তবু শীত অনুভব করি না”—পাহাড়ের কত উচ্চতায় উঠেও লেখিকার শীত অনুভব হচ্ছে না? 

উত্তর:) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার ফিট উপরে উঠেও লেখিকা শীত অনুভব করছিলেন না।

Multiple Choice Questions – 1 Marks of হিমালয় দর্শন (HIMALAY DORSHON)

1.‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশটির রচয়িতা হলেন—
A. বেগম রােকেয়া B. বাণী বসু C. নবনীতা দেবসেন D. মহাশ্বেতা দেবী
উত্তর:) বেগম রােকেয়া
2. হিমালয় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে লেখিকা ও তাঁর সঙ্গীরা প্রথমে যে স্টেশনে পৌঁছােলেন, সেটি হল—
A. শিলিগুড়ি স্টেশন B. নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন
C. কাঠগুদাম স্টেশন D. ঘুম স্টেশন
উত্তর:)শিলিগুড়ি স্টেশন
3. হিমালয় রেল রােড যেখান থেকে শুরু হয়েছে—
A. দার্জিলিং B. শিলিগুড়ি C. কার্সিয়াং D. অসম
উত্তর:) শিলিগুড়ি
4. ইস্ট ইন্ডিয়ান গাড়ি, ইস্টার্ন বেঙ্গল গাড়ি এবং হিমালয়ান রেলগাড়ি—এদেরকে বড়াে থেকে ছােটো অনুযায়ী সাজাও।
A. হিমালয়ান রেলগাড়ি, ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি
B. ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি, হিমালয়ান রেলগাড়ি
C. ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি, হিমালয়ান রেলগাড়ি, ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি
D. হিমালয়ান রেলগাড়ি, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি, ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি
উত্তর:) ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি, ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি, হিমালয়ান রেলগাড়ি
5. ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ির একটি বিশেষত্ব হল—
A. এটি কেবল পাহাড়েই চলে B. এটি ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ির চেয়ে ছােটো
C. এটি শুধুমাত্র দিনের বেলায় চলে D. এই ট্রেন বাংলার সীমানা অতিক্রম করে না
উত্তর:) এটি ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ির চেয়ে ছােটো
6. ‘হিমালয় দর্শন’ পাঠ্যাংশে লেখিকা খেলনাগাড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন—
A. ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়িকে B. ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়িকে
C. হিমালয়ান রেলগাড়িকে D. টয় ট্রেনকে
উত্তর:) হিমালয়ান রেলগাড়িকে
7. “ক্ষুদ্র গাড়িগুলি খেলনা গাড়ির মতাে বেশ সুন্দর দেখায়।”— ক্ষুদ্র গাড়িলি বলতে কোন্‌টিকে বােঝানাে হয়েছে?
A. হিমালয়ান রেলগাড়ি B. ছােটো জিপগাড়ি
C. ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি D. ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি
উত্তর:) হিমালয়ান রেলগাড়ি
৪. “যাত্রীগণ ইচ্ছা করিলে গাড়ি চলিবার সময়ও অনায়াসে উঠিতে নামিতে পারেন।”— হিমালয়ান রেলগাড়িতে ভ্রমণকালে এটি করা সম্ভব, কারণ—
A. গাড়িগুলি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলে
B. গাড়িগুলি অত্যন্ত নীচু
C. গাড়ির চালক খুব সাবধানে গাড়িটি চালিয়ে নিয়ে যান
D. রেলপথের দু-ধার একদম ফাঁকা
উত্তর:) গাড়িগুলি অত্যন্ত নীচু
9. “আমাদের ট্রেন অনেক আঁকাবাকা পথ অতিক্রম করিয়া ধীরে ধীরে উপরে উঠিতে লাগিল..”-ট্রেনটি চলেছিল–
A. শিলিগুড়ির পথে B. কার্সিয়াং-এর পথে C. ভুটানের পথে D. সিকিমের পথে
উত্তর:) কার্সিয়াং-এর পথে
10. গাড়িগুলি চলার সময় শব্দ হয়—
A. ঝমঝম B. ঝিকঝিক C. দুদ্দাড় D. কটাটটা
উত্তর:) কটাটটা
11. “মেঘের ভিতর দিয়া চলিয়াছি।”—লেখিকা মেঘের ভিতর দিয়ে চলেছেন, যখন তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে—
A. ২০০০ ফিট উঁচুতে উঠেছেন B. ৩০০০ ফিট উঁচুতে উঠেছেন
C. ৪৮৬৪ ফিট উঁচুতে উঠেছেন D. ৪৮৮০ ফিট উঁচুতে উঠেছেন
উত্তর:) ৩০০০ ফিট উঁচুতে উঠেছেন
12. “পথের দুই ধারে মনােরম দৃশ্য”—‘মনােরম দৃশ্য বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?
A. মানুষ ও গাছ B. সরু রাস্তা ও মানুষ C. উচ্চচূড়া ও নিবিড় অরণ্য D. অরণ্য ও রাস্তা
উত্তর:) উচ্চচূড়া ও নিবিড় অরণ্য
13. “সহসা নদী বলিয়া ভ্রম জন্মে।”—যা দেখে লেখিকার এমন ভ্রম জন্মে, তা হল—
A. নীচের উপত্যকায় নির্মল সাদা কুয়াশা B. ঝরনার অবারিত জলধারা
C. সরু রেললাইন D. পায়ে চলার সংকীর্ণ পথ
উত্তর:) নীচের উপত্যকায় নির্মল সাদা কুয়াশা
14. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতায় উঠে শ্বেত কুজঝটিকা দেখে লেখিকার নদী বলে ভ্রম হয়েছে?
A. তিন হাজার ফিট B. দুই হাজার ফিট C. চার হাজার ফিট D. ছয় হাজার ফিট
উত্তর:) তিন হাজার ফিট
15. “আমি পূর্বে দেখি নাই।”—এক্ষেত্রে লেখিকার পূর্বে না দেখা জিনিসটি হল—
A. ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলগাড়ি B. ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলগাড়ি
C. বড়াে বড়াে ঘাস D. পার্বত্য ঝরনা
উত্তর:) বড়াে বড়াে ঘাস
16. লেখিকা বেগম রােকেয়া চায়ের ক্ষেত্রগুলির বর্ণনায় যে রঙের উল্লেখ করেছেন তা হল–
A. কালাে B. হলদে C. সবুজ D. বাদামি
উত্তর:) সবুজ
17. “…প্রাকৃতিক শােভা আরও শতগুণ বৃদ্ধি করিয়াছে।”— প্রাকৃতিক শােভা আরও শতগুণ বৃদ্ধি করেছে—
A. পাহাড়ি অঞ্চলের গাছ, লতা, ঘাস, পাতা B. জলপ্রপাত বা নির্ঝর
C. চায়ের সবুজ খেতগুলি D. নিবিড় অরণ্য
উত্তর:) চায়ের সবুজ খেতগুলি
18. হিমালয়ান রেলগাড়িতে যাওয়ার পথে প্রাকৃতিক শােভা শতগুণ বৃদ্ধি করেছে—
A. জলপ্রপাত B. চা বাগান C. সরু রাস্তা D. নিবিড় অরণ্য
উত্তর:) চা বাগান
19. “….বড়াে সুন্দর বােধ হয়।”—লেখিকার কাছে ‘বড়াে সুন্দর বােধ হয়’—
A. পাহাড়ের ‘অতি উচ্চ চূড়া’ B. দূর থেকে দেখা চা বাগানের সারি সারি চারা
C. নীচের উপত্যকার সাদা কুয়াশাঘেরা রূপ D. কার্সিয়াং স্টেশনের পরিবেশ
উত্তর:) দূর থেকে দেখা চা বাগানের সারি সারি চারা
20. কী দেখে লেখিকার মনে হয়েছে ‘ধরণীর সীমন্তের ন্যায়’?
A. চা বাগানের মাঝে মানুষ চলার সংকীর্ণ পথ B. জলপ্রপাত
C. নিবিড় অরণ্য D. উচ্চচূড়া
উত্তর:) চা বাগানের মাঝে মানুষ চলার সংকীর্ণ পথ
21. “ইহার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত।”—লেখিকার কাছে যার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত, সেটি হল—
A. হিমালয় রেলরােড B. হিমালয়ান রেলগাড়ি C. পাহাড়চূড়া D. জলপ্রপাত
উত্তর:) জলপ্রপাত
22. “…ইহারা কোথায় চলিয়াছে!”—যাদের কথা বলা হয়েছে, তারা হল—
A. ভুটিয়ানি B. পাহাড়ি বালক বালিকা C. জলপ্রপাত বা ঝরনা D. মেঘ
উত্তর:) জলপ্রপাত বা ঝরনা
23. “ইহাদেরই কোন একটি বিশালকায় জাহীর উৎস”–‘ইহাদেরই কোন একটি’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?
A. জলপ্রপাত B. লেক C. নদীধারা D. হিমবাহ
উত্তর:) জলপ্রপাত
24. “একথা সহজে বিশ্বাস হয় কি?” যে-কথা সহজে বিশ্বাস হয় না , তা হল—
A. ট্রেন থেকে দেখা এমনই কোনাে একটি ঝরনা জাহ্নবীর উৎস
B. ট্রেন চলাকালীন সহজেই ওঠানামা করা যায়
C. ভুটিয়ানিরা পুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করে
D. মহিলা পত্রিকার সম্পাদক নারীজাতিকে অবলা বলেছেন
উত্তর:) ট্রেন থেকে দেখা এমনই কোনাে একটি ঝরনা জাহ্নবীর উৎস
25. “একটি বড়াে ঝরনার নিকট ট্রেন থামিল…”—ট্রেনটি থামলে যাত্রীদের মনে হল—
A. তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন
B. কোনাে যান্ত্রিক গােলযােগ হয়েছে
C. সাধ মিটিয়ে তাদের ঝরনার জলপ্রবাহ দেখানাের জন্যই এই ব্যবস্থা
D. এবার ট্রেনে জল পরিবর্তন করা হবে
উত্তর:) সাধ মিটিয়ে তাদের ঝরনার জলপ্রবাহ দেখানাের জন্যই এই ব্যবস্থা
26. “…আমাদের মনােরথ পূর্ণ হইল।’—এক্ষেত্রে লেখিকার মনােরথটি হল—
A. দার্জিলিঙে চলে যাওয়া ট্রাঙ্কগুলি কোনােভাবে ফিরে পাওয়া
B. প্রাণভরে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভােগ করা
C. সহসা ট্রেন থেকে নেমে পড়া
D. ঘরে পৌঁছে গৃহসুখ অনুভব করা
উত্তর:) প্রাণভরে জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভােগ করা
27. “আমাদের মনােরথ পূর্ণ হইল।’— কী দেখে লেখিকাদের মনােরথ পূর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে?
A. নদী B. জলপ্রপাত C. মেঘরাশি D. চা বাগান
উত্তর:) জলপ্রপাত
28. “সে জুলুম হইতে রক্ষা পাইলাম।”—জুলুমটি হল—
A. অত্যন্ত ধীরগতিতে চলা ট্রেনে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা
B. অসহ্য গরমের জ্বালায় প্রাণ কণ্ঠাগত হওয়া
C. যাত্রীদের ট্রাঙ্ক অন্যত্র চলে যাওয়া
D. উপযুক্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকা
উত্তর:) অসহ্য গরমের জ্বালায় প্রাণ কণ্ঠাগত হওয়া
29. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কত ফিট উচ্চতায় উঠে লেখিকা গরমের জুলুম থেকে রক্ষা পেয়েছেন—
A. দুই হাজার ফিট B. তিন হাজার ফিট C. চার হাজার ফিট D. পাঁচ হাজার ফিট
উত্তর:) চার হাজার ফিট
30. হিমালয়ান রেলগাড়ি চড়ে লেখিকার গন্তব্যস্থল ছিল—
A. দার্জিলিং B. অসম C. কার্সিয়াং D. শিলিগুড়ি
উত্তর:) কার্সিয়াং
31. সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কার্সিয়াং-এর উচ্চতা—
A. ৩৮৬৪ ফিট B. ৪৮৬৪ ফিট C. ৫৮৬৪ ফিট D. ২৮৬৪ ফিট
উত্তর:) ৪৮৬৪ ফিট
32. “স্টেশন হইতে আমাদের বাসা অধিক দূর নহে”— কোন্ স্টেশনের কথা বলা হয়েছে?
A. শিলিগুড়ি B. দার্জিলিং C. অসমD কার্সিয়াং
উত্তর:) কার্সিয়াং
33. “শীঘ্রই আসিয়া পঁহুছিলাম।”—লেখিকা শীঘ্রই এসে পৌঁছেছেন—
A. শিলিগুড়ি স্টেশনে B. দার্জিলিঙে
C. কার্সিয়াং-এ D. কার্সিয়াং স্টেশন থেকে অনতিদূরে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট বাসায়
উত্তর:) কার্সিয়াং স্টেশন থেকে অনতিদূরে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট বাসায়
34. ‘হিমালয় দর্শন’-এর লেখিকার আসবাব সরঞ্জাম ভুল করে কোন্ ঠিকানায় বুক করা হয়েছিল?
A. ঘুম B. দার্জিলিং C. কার্সিয়াং D. শিলিগুড়ি
উত্তর:) দার্জিলিং
35. “…সন্ধ্যার পূর্বে গৃহসুখ (at home) অনুভব করিতে পারি নাই ।”—সন্ধ্যার আগে গৃহসুখ অনুভব করতে না পারার কারণ—
A. সন্ধ্যার আগে লেখিকাদের ট্রাঙ্কগুলি ফেরত আসেনি B. পানীয় জলের অভাব
C. জোঁক ও সাপের উপদ্রব D. দিনেরবেলা অসহ্য তাপমাত্রা
উত্তর:) সন্ধ্যার আগে লেখিকাদের ট্রাঙ্কগুলি ফেরত আসেনি
36. লেখিকার জিনিসপত্রগুলি দার্জিলিং থেকে ফিরে এসেছিল যে ট্রেনে—
A. সন্ধ্যার ট্রেনে B. সকালের ট্রেনে C. বিকালের ট্রেনে D. রাতের ট্রেনে
উত্তর:) সন্ধ্যার ট্রেনে
37. “…তথাকার বায়ু সেবন করিয়া চরিতার্থ হইল!’—এখানে যে স্থানটির কথা বলা হয়েছে, সেটি হল—
A. বঙ্গোপসাগর B. দার্জিলিং C. কার্সিয়াং D. নেপাল
উত্তর:) দার্জিলিং
38. “তাই বলি…”—এক্ষেত্রে লেখিকার বক্তব্য—
A. প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ঈশ্বরের ধন্যবাদ প্রাপ্য
B. পাহাড়ে যেন সর্বদা বসন্তকাল বিরাজ করে
C. শুধুমাত্র আশ্রয় পেলেই সুখে গৃহে থাকা হয় না, অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামও চাই
D. ভ্রমণে বেরিয়ে আয়েসের কথা ভাবলে চলবে না
উত্তর:) শুধুমাত্র আশ্রয় পেলেই সুখে গৃহে থাকা হয় না, অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামও চাই
39. “এখানে এখনও শীতের বৃদ্ধি হয় নাই, গ্রীষ্মও নাই৷”— লেখিকা পর্বতের এই সময়কালকে বলেছেন—
A. গ্রীষ্মকাল B. বসন্তকাল C. শরৎকাল D. শীতকাল
উত্তর:) বসন্তকাল
40. “জল নাকি খুব ভালাে নহে।”—এই জলের উৎস—
A. ঝরনা B. কূপ C. নদী D. পুকুর
উত্তর:) ঝরনা

Short Questions – 2-3 Marks of হিমালয় দর্শন (HIMALAY DORSHON)

1.“বায়ু এবং মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখিতে চমৎকার!”—এর যে বর্ণনা লেখিকা দিয়েছেন তা নিজের ভাষায় লেখাে

উত্তর:) শৈলশহর কার্সিয়াং-এর  নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশে লেখিকা  মুগ্ধ হয়েছিল। এখানে নির্মল ও হালকা বাতাস মেঘকে সর্বদা তাড়িয়ে বেড়ায়। অস্তগামী সূর্য তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে যেন অপরূপ সৌন্দর্যের রাজ্য তৈরি করেছে।  সূর্যের পড়ন্ত আলাে পাহাড়ের গায়ে যেন সােনা মাখিয়ে দেয়। সেই সােনা মাখা মেঘগুলিকে বাতাসে অবিরাম ছােটাছুটি করতে দেখে লেখিকার মন আত্মহারা হয়ে ওঠে।

  1. “এখানে সবলেরা বালক বালিকার দলভুক্ত বলিয়া বােধ হয়।”—কেন লেখিকার এ কথা মনে হয়েছে লেখাে।

উত্তর:) লেখিকা বেগম রােকেয়া পাহাড়ী  ভুটিয়ানিদের কর্মক্ষমতা ও জীবনীশক্তি দেখে অবাক হয়েছিলেন।  পুরুষদের উপরে নির্ভর না করে তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমান উপার্জন করে তারা নারীদের অবলা অপবাদ ঘোচাতে সক্ষম। তাদের বয়ে নিয়ে যাওয়া পাথরে রাস্তা তৈরি করে পুরুষেরা, যে কাজে বালকবালিকারাও যােগ দেয়। এই কারণেই লেখিকা কৌতুক করে মন্তব্যটি করেছেন।

  1. “ঐরূপে উহারা অন্যান্য জাতির সহিত মিশিতেছে।”— কাদের কীভাবে মেশার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর:) উল্লিখিত অংশে পাহাড়ি মহিলাদের সমতলবাসীদের  সঙ্গে মিশবার কথা বলা হয়েছে।  ‘নীচেকা আদমি’ অর্থাৎ সমতলবাসীদের সংস্পর্শে সাহসী, পরিশ্রমী পাহাড়ি মহিলারা তাদের ভালাে গুণগুলি হারিয়ে  নানারকম অসৎ উপায় অবলম্বন করছে তেমন ছােটোখাটো চুরি করা, ভেজাল দেওয়া ইত্যাদি। আবার বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেও পাহাড়ি ভুটিয়ানিরা অন্য জাতির সঙ্গে মিশেছে। 

Long Questions – 5 Marks of হিমালয় দর্শন (HIMALAY DORSHON)

1) ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশটির অন্য কোনাে নামকরণ করো। কেন তুমি সেই নামকরণ দিলে বুঝিয়ে দাও।

উত্তর:) বেগম রােকেয়া রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির নামকরণ ‘ঈশ্বর প্রদত্ত প্রকৃতি’ দেওয়া যেতে পারে।

‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরের সৃষ্ট প্রকৃতির সৌন্দর্যে বিভোর লেখিকার অনুভূতি প্রকাশিত হয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে হিমালয়ান রেলগাড়ি চড়ে ৪৮৬৪ ফিট উচ্চতার শৈলশহর কার্সিয়াং-এ পৌছে এবং সেখানে বসবাসকালে লেখিকা বারবার  অপূর্ব সৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। লেখিকা রেলগাড়ি থেকে পথের দুধারের পর্বতের চূড়া, ঘন অরণ্য, চা বাগান এবং জলপ্রপাতগুলির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ ‌করেন। পার্বত্য অঞ্চলের  মনােরম প্রকৃতি আর সঙ্গে  স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া লেখিকার সুখানুভূতি তৈরি করে | মেঘ ও বাতাসের লুকোচুরি, পশ্চিম আকাশকে সােনার রঙে রাঙিয়ে সূর্যের অস্ত যাওয়া—প্রকৃতির সবটুকু ই তে থেকে লেখিকার মনকে তৃপ্ত করেছে | কার্সিয়াং-এর জলপ্রপাতের রূপ  লেখিকাকে মােহিত করেছে। জলপ্রপাতের স্বচ্ছ সাদা জলধারার শব্দ তার  এনেছে আনন্দের জোয়ার। তাই তাে তিনি লিখেছেন, “…ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির উচ্ছাস দ্বিগুণ ত্রিগুণ বেগে প্রবাহিত হয়।

পর্বতশৃঙ্গ এবং তার বুক চিরে বয়ে চলা জলপ্রপাত দেখে লেখিকার উপলব্ধি হয় সেগুলি ঈশ্বরের নিপুণ তুলিতে আঁকা ছবি। তাইতো প্রকৃতির সৌন্দর্যে বিভোর লেখিকা প্রতি মূহুর্তে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্রষ্টাকে। তাই  ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটির বিকল্প নাম হিসেবে আমার ‘ঈশ্বর প্রদত্ত প্রকৃতি’ নামটিকেই যথার্থ মনে হয়।

  1. “অবশেষে কার্সিয়াং স্টেশনে উপস্থিত হইলাম”— কার্সিয়াং যাত্রাপথে হিমালয়ের যে সৌন্দর্য দেখে লেখিকা মুগ্ধ হয়েছিলেন তার স্বরূপ বিশ্লেষণ করাে। 

উত্তর:) ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে লেখিকা বেগম রােকেয়া জানিয়েছেন শৈলশহর কার্সিয়াং-এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৮৬৪ ফিট।

শিলিগুড়ি থেকে  হিমালয়ান রেলগাড়ি চড়ে কার্সিয়াং-এর উদ্দেশ্যই যাওয়ার সময় পথের দু-পারে অতি উচ্চচুড়া এবং ঘন – সবুজ অরণ্য লেখিকাকে মুগ্ধ করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ফিট উচ্চতায় মেঘের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় নীচের উপত্যকার সাদা কুয়াশার আস্তরণ দেখে লেখিকা নদী মনে করে বলেছেন, এই যাত্রাপথে ‘তরু, লতা, ঘাস, পাতা—সকলই মনােহর’। সবুজ চা বাগান ও চা বাগানের মাঝের সংকীর্ণ পথগুলি লেখিকাকে ‘ধরণীর  সীমন্ত’ র ধারণা দেয়। শুধু তাই নয় লেখিকার অমোঘ মুগ্ধতায় পথের দুধারের ঘন অরণ্যকে ধরণীর ঘন কেশরাশি‌ এবং মাঝের পথগুলিকে তার আঁকাবাঁকা সিঁথির মতো মনে হয়। পথের ধারের জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মন আনন্দে ভরে ওঠে। সমতলের তীব্র গরম থেকে মুক্তি পেয়ে চার হাজার ফিট উচ্চতায় লেখিকা বেশ আরাম অনুভব করেন।  এভাবেই চড়াই উতরাই অতিক্রম করে পথের দুধারের সৌন্দর্যে বিভোর লেখিকা  দীর্ঘপথ যাত্রা করে কার্সিয়াং পৌছান। 

  1. ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশটিতে পার্বত্যজাতি সম্পর্কে লেখিকার কীরূপ মনােভাব ফুটে উঠেছে?

উত্তর:) লেখিকা বেগম রােকেয়া তাঁর ‘হিমালয় দর্শন রচনাংশে শৈলশহর কার্সিয়াং-এ কিছুদিন ছিলেন। সেই সুবাদে পার্বত্যপ্রদেশের অধিবাসীদের জীবনযাপন খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ তিনি পেয়েছেন।  সেই সম্পর্কে তিনি সুচিন্তিত অভিমত এই রচনা়ংশে ব্যক্ত করেছেন। পাহাড়ি নারীদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা  আলােচ্য রচনাংশটিতে ফুটে উঠেছে। তিনি কখনোই নারীদের  দুর্বল বা অবলা জাতি মনে করেননি, বরং তারা যে পুরুষের সমকক্ষ তা পাহাড়ি নারীরা প্রমানিত করে। পাহাড়বাসীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রথমেই তিনি পাহাড়বাসীদের পরিশ্রম, কষ্টসহিষ্ঞুতার কথা বলেছেন। দুর্গম পার্বত্যপথে পিঠে ভারী বােঝা নিয়ে পাহাড়ের স্ত্রীলােকেরা অনায়াসেই উপরে উঠে যায়।  সেই পাহাড়ি মেয়েরা কোনো কিছুর জন্যই পুরুষের ওপর নির্ভরশীল হয় না। তাদের চরিত্রের গুণগুলি হল তারা “শ্রমশীলা, কার্যপ্রিয়, সাহসী ও সত্যবাদী”। একজন নারী হিসেবে লেখিকা গর্বের সঙ্গেই এই ভুটিয়ানিদের দেখে প্রশ্ন তুলেছেন পুরুষের তুলনায় শারীরিকভাবে দুর্বল যে নারীজাতিকে ‘অবলা’ বলা হয়, ভুটিয়ানিরাও ওই অবলা জাতির অন্তর্গত কি না। 

 অর্থাৎ পাহাড়ি মেয়েরা নিজেদের জোরেই আর্থিক সাবলম্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু লেখিকার মতে পাহাড়ি নারীদের এই সদগুণগুলি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে সমতলবাসীদের সংস্পর্শে আসার কারণে।  তারা কিছু ক্ষেত্রে অসততা অবলম্বন করছে।

  1. “যেন ইহাদের মতে নীচেকা আদমি’ই অসভ্য!”— ‘ ‘ইহাদের’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? ‘নীচেকা আদমি’ বলতে কারা? নীচেকা আদমির সংস্পর্শে তাদের কী হয়েছে?

উত্তর:) বেগম রােকেয়া রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতাংশে ‘ইহাদের’ বলতে পার্বত্যবাসীদের কথা বলা হয়েছে।

পাহাড়িরা কথানুযায়ী সমতলবাসীদের ‘নীচেকা আদমি’ বলা হয়।

শৈলশহর কার্সিয়াং-এ থাকাকালীন লেখিকা পার্বত্যজাতির মানুষ বিশেষত সেখানকার নারীদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযােগ পেয়েছিলেন। সেই সুবাদে ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধটিতে তার সেই অভিজ্ঞতাকেই তিনি ব্যক্ত করেছেন পাঠকের সামনে। পাহাড়বাসী ভুটিয়া নারীদের প্রতি লেখিকা যে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন,  তা এই প্রবন্ধে ফুটে  উঠেছে। পাহাড়বাসী মহিলারা সাহসী, পরিশ্রমী, কষ্টসহিষ্ণু। দুর্গম পার্বত্যপথে পিঠে ভারী বােঝা নিয়ে পাহাড়ের স্ত্রীলােকেরা অনায়াসেই উপরে উঠে যায়।  সেই পাহাড়ি মেয়েরা কোনো কিছুর জন্যই পুরুষের ওপর নির্ভরশীল হয় না।  সমতলবাসীদের সংস্পর্শে সাহসী, পরিশ্রমী পাহাড়ি মহিলারা তাদের ভালাে গুণগুলি হারিয়ে  নানারকম অসৎ উপায় অবলম্বন করছে তেমন ছােটোখাটো চুরি করা, ভেজাল দেওয়া ইত্যাদি। আবার বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেও পাহাড়ি ভুটিয়ানিরা অন্য জাতির সঙ্গে মিশেছে। 

  1. ‘আমি পাহাড়ে আসিয়া অত্যন্ত সুখী এবং ঈশ্বরের নিকট কৃতজ্ঞ হইয়াছি।’—কে কোথায় পৌঁছলেন? তাঁর এরূপ মুগ্ধতার কারণ কী?

উত্তর:) “হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধে উল্লিখিত উদ্ধৃতাংশটিতে  ‘আমি’ হলেন লেখিকা বেগম রােকেয়া।

‘পাহাড়ে’ বলতে তিনি শৈলশহর কার্সিয়াং-এ পৌঁছানোর কথা বলেছেন।

হিমালয়ান রেলগাড়িতে চড়ে শিলিগুড়ি থেকে শৈলশহর  কার্সিয়াং-এ পৌঁছােন লেখিকা। সেখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভােগ করেছেন প্রাণ ভরে। পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষদের বিশেষ করে নারীদের  সাহসীকতা, পরিশ্রম দেখে লেখিকা নিজে   নারী হিসেবে গর্বিত  বোধ করেছেন। তাই  তিনি বার বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ঈশ্বরের কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। পার্বত্যপথ, চা বাগান, জলপ্রপাত ইত্যাদির নৈসর্গিক সৌন্দর্যে লেখিকার মন সমৃদ্ধ হয়েছে । কার্সিয়াং-এ পৌঁছানাের পর সূর্য, মেঘ ও বায়ুর লুকোচুরি দেখে আনন্দিত লেখিকা বাসস্থান থেকে এক মাইল দূরত্বে অবস্থিত জলপ্রপাতের  জলপ্রবাহ এবং তার কলতান তিনি  উপভােগ করেছেন মন থেকে। লেখিকা ঈশ্বরকে কুর্নিশ জানিয়েছেন  তাঁর অদ্ভুত সুন্দর সৃষ্টির জন্য। সৃষ্টিকর্তার প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত করছেন  সৃষ্টির সৌন্দর্যে মুগ্ধ লেখিকা। এইরূপে পার্বত্য প্রকৃতির অমোঘ সৌন্দর্যে লেখিকা মুগ্ধ হয়েছেন।

  1. “ঈশ্বরই প্রশংসার যােগ্য। তিনিই ধন্য!” —কার লেখা কোন্ রচনাংশে উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে? উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।

উত্তর:) উদ্ধৃতিটি প্রাবন্ধিক বেগম রােকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ রচনা থেকে নেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ি থেকে হিমালয়ান রেলগাড়ি চড়ে ৪৮৬৪ ফিট উচ্চতার শৈলশহর কার্সিয়াং-এ পৌছে এবং সেখানে বসবাসকালে লেখিকা বারবার  অপূর্ব সৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন। লেখিকা রেলগাড়ি থেকে পথের দুধারের পর্বতের চূড়া, ঘন অরণ্য, চা বাগান এবং জলপ্রপাতগুলির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ ‌করেন। পার্বত্য অঞ্চলের  মনােরম প্রকৃতি আর সঙ্গে  স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া লেখিকার সুখানুভূতি তৈরি করে | মেঘ ও বাতাসের লুকোচুরি, পশ্চিম আকাশকে সােনার রঙে রাঙিয়ে সূর্যের অস্ত যাওয়া—প্রকৃতির সবটুকু ই তে থেকে লেখিকার মনকে তৃপ্ত করেছে | কার্সিয়াং-এর জলপ্রপাতের রূপ  লেখিকাকে মােহিত করেছে। জলপ্রপাতের স্বচ্ছ সাদা জলধারার শব্দ তার  এনেছে আনন্দের জোয়ার। তাই তাে তিনি লিখেছেন, “…ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির উচ্ছাস দ্বিগুণ ত্রিগুণ বেগে প্রবাহিত হয়।

  1. ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে প্রকৃতির শােভা দেখে। লেখিকার যে মুগ্ধতা ব্যক্ত হয়েছে তা আলােচনা করাে।  

উত্তর:) শিলিগুড়ি থেকে  হিমালয়ান রেলগাড়ি চড়ে কার্সিয়াং-এর উদ্দেশ্যই যাওয়ার সময় পথের দু-পারে অতি উচ্চচুড়া এবং ঘন – সবুজ অরণ্য লেখিকাকে মুগ্ধ করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার ফিট উচ্চতায় মেঘের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় নীচের উপত্যকার সাদা কুয়াশার আস্তরণ দেখে লেখিকা নদী মনে করে বলেছেন, এই যাত্রাপথে ‘তরু, লতা, ঘাস, পাতা—সকলই মনােহর’। সবুজ চা বাগান ও চা বাগানের মাঝের সংকীর্ণ পথগুলি লেখিকাকে ‘ধরণীর  সীমন্ত’ র ধারণা দেয়। শুধু তাই নয় লেখিকার অমোঘ মুগ্ধতায় পথের দুধারের ঘন অরণ্যকে ধরণীর ঘন কেশরাশি‌ এবং মাঝের পথগুলিকে তার আঁকাবাঁকা সিঁথির মতো মনে হয়। পথের ধারের জলপ্রপাত দেখে লেখিকার মন আনন্দে ভরে ওঠে। সমতলের তীব্র গরম থেকে মুক্তি পেয়ে চার হাজার ফিট উচ্চতায় লেখিকা বেশ আরাম অনুভব করেন।  এভাবেই লেখিকা অমোঘ মুগ্ধতার সাথে চড়াই উতরাই অতিক্রম করে পথের দুধারের সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে  দীর্ঘপথ যাত্রা করে কার্সিয়াং পৌছান।

৪. ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে লেখিকার চরিত্রের কোন্ দিকগুলি ফুটে উঠেছে? 

উত্তর:) ‘হিমালয় দর্শন’ রচনাংশে আমরা লেখিকা বেগম রােকেয়ার চরিত্রের অন্যতম দিক উন্মেচিত হতে দেখেছি। 

প্রকৃতিপ্রীতি : প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভােগ করার মানসিকতা সাধারণের মধ্যেও লেখিকার কিছুটা বেশি।   প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যেকে যেভাবে ধরতে পেরেছেন তা তাঁর প্রকৃতিপ্রীতিকে তুলে ধরে। পার্বত্যপথের দুধারের উচ্চচুড়া এবং নিবিড় অরণ্যের মনােরম দৃশ্য লেখিকার হৃদয়কে পুলকিত করেছে। গাছ, লতা, ঘাস, পাতা, সবুজ চা বাগান সবই তাঁর কাছে মনােহর লেগেছে। জলপ্রপাতগুলির সৌন্দর্যে বিভাের হয়েছেন তিনি। পার্বত্য অঞ্চলে হালকা বায়ুর আনাগােনায় মেঘখণ্ডগুলি যে সৌন্দর্য রচনা করে তা প্রকৃতিপ্রেমী লেখিকার মন ছুঁয়ে গেছে। প্রকৃতির অপূর্ব শােভা দেখে তাঁর তৃপ্ত মন-প্রাণ ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।

বিদুষী ও জ্ঞানপিয়াসি : রচনাংশটির ক্ষুদ্র পরিসরে ‘মহিলা’ পত্রিকার অনুষঙ্গ বা ভূতত্ত্ব গ্রন্থের প্রসঙ্গ উত্থাপনের মধ্যে দিয়ে তাঁর চরিত্রের বিদুষী ও জ্ঞানপিপাসু দিকটি উন্মােচিত হতে দেখা যায়। 

নারীসমাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীলা ও অধিকার সচেতন : নারীসমাজের উন্নয়নের অগ্রণী প্রতিনিধি লেখিকা ভুটিয়ানিদের চরিত্রের শ্রমশীলা, কার্যপ্রিয়, সাহসী দিকগুলি উদাহরণসহ তুলে ধরে প্রমাণ করেছেন যে নারী পুরুষের অপেক্ষা কোনাে অংশেই কম নয়। তারা পরনির্ভরশীল না হয়ে পুরুষের মতােই উপার্জন করে। একজন নারী হিসেবে নারীর এই বিশ্লেষণে নারীসমাজের অধিকার সচেতনতা ফুটে উঠেছে।

ঈশ্বরের সৃষ্টিমাহাত্মে বিশ্বাসী : সমগ্র জগৎ ও প্রকৃতির সৃষ্টিতে ঈশ্বরের সৃষ্টি-মাহাত্মই প্রকাশ পায়। তাই প্রকৃতির অপূর্ব শােভায় | মুধ লেখিকা অকুণ্ঠচিত্তে ঈশ্বরের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

  1. “রমণীজাতি দুর্বল বলিয়া তাঁহাদের নাম অবলা”—বক্তা কে? এই বক্তব্য লেখিকার কাছে সমর্থনযােগ্য নয় কেন?

উত্তর:) ‘হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধের লেখিকার দ্বারা মন্তব্যটি উদ্ধৃত হলেও এটি করেছিলেন ‘মহিলা’ পত্রিকার সম্পাদক।

বেগম রােকেয়া রচিত “হিমালয় দর্শন’ পাঠ্যাংশটিতে উদ্ধৃতাংশটি উল্লিখিত হয়েছে। লেখিকা বেগম রােকেয়া শৈলশহর কার্সিয়াং-এ বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ি ভুটিয়া রমণীদের জীবনযাত্রা নিজের চোখে দেখে এই মত সমর্থন করতে নারাজ ছিলেন। তিনি দেখেছিলেন যে, ভুটিয়া রমণীরা পিঠে দু-এক মণের বােঝা নিয়ে অনায়াসে পাহাড়ের এবড়ােখেবড়াে পথে ওঠানামা করতে সক্ষম। সেই পথ  সমতলবাসীদের কাছে যথেষ্ট দু্র্গম। এই পাহাড়ি রমণীদের মনোবল অনুসরণযোগ্য। তাঁরা নিজেদের উদরান্নের জন্য পুরুষদের উপরে নির্ভরশীল নয়, বরং পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমানভাবে উপার্জন করতে সক্ষম এমনকী পরিশ্রমে তারা পুরুষদেরও হারিয়ে দেয়। অধিকাংশই মহিলারাই পাথরবহনের কাজ করে আর পুরুষেরা সেই পাথর দিয়ে রাস্তা প্রস্তুত করে। সে কাজ পাহাড়ের বালকবালিকারাও করে থাকে। যার অর্থ লেখিকা কৌতুক করে বলেছেন—“এখানে সবলেরা বালক বালিকার দলভুক্ত বলিয়া বােধ হয়। কিন্তু এই অভিজ্ঞতাই তাঁর মনে ‘মহিলা’ পত্রিকার সম্পাদকের রমণীদের সম্পর্কে করা মন্তব্য বিষয়ে প্রশ্ন এবং তীব্র আপত্তির জন্ম দিয়েছে।

  1. “সকলই মনােহর।”—’হিমালয় দর্শন’ প্রবন্ধ অনুসারে মনােহর দৃশ্যের পরিচয় দাও।  

উত্তর:) বেগম রােকেয়া রচিত ‘হিমালয় দর্শন’ পাঠ্যাংশটি থেকে উদ্ধৃতাংশটি নেওয়া হয়েছে।

‘হিমালয় দর্শন’ রচনায় বেগম রােকেয়া পাহাড়ি এলাকায় অপরূপ সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। ছোটো আকারের হিমালয়ান রেলগাড়ি চড়ে হিমালয় রেল রােড দিয়ে শিলিগুড়ি থেকে কার্সিয়াং যাচ্ছিলেন। কখনো অরণ্যের বুক চিরে আবার কখনো পর্বত ডিঙিয়ে যাত্রাপথে বিশালকায় জলপ্রপাত কিংবা সবুজ চা বাগান লেখিকার সঙ্গী। রেলগাড়ি থেকে পথের দুধারের পর্বতের চূড়া, ঘন অরণ্য, চা বাগান এবং জলপ্রপাতগুলির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ ‌করেন। পার্বত্য অঞ্চলের  মনােরম প্রকৃতি আর সঙ্গে  স্বাস্থ্যকর আবহাওয়া লেখিকার সুখানুভূতি তৈরি করে। লেখিকার মনে হচ্ছিল তিনি যেন মেঘের ভিতর দিয়ে চলেছেন। নীচের উপত্যকায় সাদা কুয়াশার বিস্তারকে তার নদী বলে ভ্রম হয়। সবুজ চায়ের বাগানগুলি প্রাকৃতিক শােভাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মাঝে মাঝে ‘ধরণির সীমান্তের ন্যায়’ মানুষের পায়ে চলার সংকীর্ণ পথগুলি যদি সিঁথি হয় তাহলে নিবিড় সবুজ বনানী ধরণীর কেশপাশ। পথের দু-পাশের গাছ, লতা, ঘাস, পাতা—সবকিছু মিলিয়ে এক অসামান্য দৃশ্য লেখিকার কাছে প্রকাশিত হচ্ছিল। সেই সৌন্দর্যকেই লেখিকা স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রশ্নোদ্ধৃত মন্তব্যে। 

  1. ইহারা উদরান্নের জন্য পুরুষদের প্রত্যাশী নহে—ইহারা কারা? উদরান্নের জন্য পুরুষদের প্রত্যাশী না হবার কারণ হিসেবে লেখিকা কোন দিকটির প্রতি আলােকপাত করেছেন? 

উত্তর:) বেগম রােকেয়ার ‘হিমালয় দর্শন’ রচনার উল্লিখিত অংশে ‘ইহারা’ বলতে পাহাড়ের ভুটিয়া রমণীদের কথা বলা হয়েছে।

লেখিকা বেগম রােকেয়া কার্সিয়াং বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ি ভুটিয়া রমণীদের কষ্টকর ও পরিশ্রমী জীবনযাত্রার পরিচয় পেয়েছিলেন। তাই

‘মহিলা’ পত্রিকার সম্পাদকের নারীদের অবলা বলার তিনি বিরোধী ছিলেন। পাহাড়ের ভুটিয়া রমণীরা ছিল অসম্ভব সাহসী এবং পরিশ্রমী। এবড়ােখেবড়াে পাহাড়ি পথে দু-এক মণ বােঝা নিয়ে তারা যেভাবে অনায়াসে ওঠানামা করে, তা দেখে, লেখিকার মতে, সমতলের মানুষদের যাবতীয় সাহস অন্তর্হিত হতে বাধ্য। এই পাহাড়ি রমণীদের মনোবল অনুসরণযোগ্য। তাঁরা নিজেদের উদরান্নের জন্য পুরুষদের উপরে নির্ভরশীল নয়, বরং পুরুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমানভাবে উপার্জন করতে সক্ষম এমনকী পরিশ্রমে তারা পুরুষদেরও হারিয়ে দেয়। অধিকাংশই মহিলারাই পাথরবহনের কাজ করে আর পুরুষেরা সেই পাথর দিয়ে রাস্তা প্রস্তুত করে। যেভাবে পাথর বয়ে নিয়ে তারা চলত ত নারীজাতির ‘অবলা’ বিশেষণটি ঘুচিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। বরং তথাকথিত ‘সবল পুরুষেরা পরিশ্রমের নিরিখে তাদের তুলনায় ‘বালক বালিকার’ সমান হয়ে যেত। এই উপার্জনের ইচ্ছার মধ্য দিয়ে তাদের সাবলম্বী সত্তা ব্যক্ত হত, যা সমতলবাসীদের কাছেও অনুসরণযোগ্য।

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে