ভাঙার গান- (Bhangar Gaan) Bangla Literature Subject WBBSE Class 9

আপনি এখানে শিখবেন এই অধ্যায়ে এবং বিষয়ের ফাউন্ডেশন অংশটা, এই বিষয়টিকে সহজ-সরলভাবে পড়িয়েছেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক ভিডিও লেকচার এর মাধ্যমে এবং এই পুরো অধ্যায়কে চার ভাগে খন্ডিত করে আপনার জন্য তৈরি করা হয়েছে

  • প্রথম খন্ডে আপনি শিখবেন ফাউন্ডেশন অংশটা যেখানে অধ্যায়ের ব্যাপারে আপনাকে বোঝানো হয়েছে তার মানে definitions,basics  গুলো সহজভাবে.  এবং এটাকে আপনি বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে পরীক্ষার জন্য ক্রীপের করতে সাহায্য করবে
  • দ্বিতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন MCQ মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন যেটা সাধারণত এক Marks’er আসে পরীক্ষায়
  • তৃতীয় মডিউলে আপনি শিখবেন শর্ট অ্যানসার এবং কোয়েশ্চেন, যেটা আপনার পরীক্ষার সাজেশন মধ্যে পড়ে এবং এটা 3-4 marks’er  প্রশ্ন আসে আপনার পরীক্ষা
  • চতুর্থ মডিউল আপনি শিখবেন লং আনসার এবং questions যেটা সাধারণত 5-6 marks er হয়

আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন যাতে কি আপনাকে আমরা সাহায্য করতে পারি

বিষয়সংক্ষেপ :

যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিল তারা ইংরেজ কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দী। কবি দেশের তরুণদের লোহার দরজা ভেঙে কারাগার ধ্বংস করার আহ্বান জানান। কারাগারের বেদিতে শিকলবন্দী বিপ্লবীদের রক্ত লেগে আছে। তরুণ দেশপ্রেমিকদের কবি শিবের সাথে তুলনা করেছেন, যিনি তাদের সর্বনাশের শিঙা বাজানোর নির্দেশ দেন। কারাগারের কাণ্ডে উড়বে ধ্বংসের পতাকা এই কবির কামনা। ‘কেউ মালিক বা রাজা নয়, আমরা সবাই সমান ও মুক্ত’ এই মানসিকতা নিয়ে কবি স্বাধীনতার ঘোষণার ডাক দিতে গাজনের বাজনা বাজাতে বলেছেন। সত্য স্বাধীন এবং কারো দ্বারা প্রভাবিত হয় না; এটাও চিরন্তন। ঈশ্বরকে ফাঁসিতে ঝোলানোর ইংরেজ পরিকল্পনার খবর কবিকে হাসায়। কারণ যারা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে তারা মৃত্যুঞ্জয়ী । কে বা কারা ইংরেজ শাসকদের এমন বিপর্যয়কর ভুল এবং মিথ্যা তথ্য প্রদান করে যে তারা ঈশ্বরকে ফাঁসি দেয়? কবি জাতির যুবকদের খ্যাপা ভোলানাথের মতো প্রলয় আক্রমণে কারাগার ধ্বংস করার আহ্বান জানান। কবি চতুর্থ খলিফা হজরত আলীর আদলে তরুণদের হায়দারী হাঁক ছেড়ে বিদেশী শাসককে ভীত করে যুদ্ধের ভেরি বহন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। কবি এখানে মৃত্যুর ভয়কে দূরে সরিয়ে রেখে দেশের মুক্তির জন্য জীবন উৎসর্গ করার বার্তা দিয়েছেন। কালবৈশাখী ঝড়ের মতোই দেশের পরিস্থিতি উত্তাল। এখন বসে না থেকে ভয়ঙ্কর কারাগারের ভিত নাড়াতে হবে। বন্দিশালায় আগুন লাগাতে হবে, লাথি মেরে তালা ভেঙে দিতে হবে, এবং সমস্ত বন্ধন উপড়ে ফেলতে হবে।

নামকরণের তাৎপর্য :

‘ভাঙ্গার গান’ (1924) কবিতা সংকলনের প্রথম রচনাটির নাম ‘ভাঙ্গার গান’। এই গানটি, অসহযোগ আন্দোলনের সময় প্রায় 200 বছরের ব্রিটিশ দুঃশাসনের অবসানের পক্ষে

রচিত হয়েছিল। আলোচ্য গানটি  সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ইংরেজ কারাগারে বন্দী বিপ্লবীদের মুক্তি দেবে এবং সমগ্র স্বদেশকে বিদেশী শাসকদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করবে এই দুর্বারের সংকল্পকে প্রকাশ করে । 

প্রথম এবং পঞ্চদশ স্তবকটিতে কবি ভাঙার কথা রয়েছে করেছেন । সমগ্র গানে ধ্বংস ও ভাঙার কথা বলেছেন । সামগ্রিকভাবে ভারত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে। এই ধরনের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দেশের নাগরিকদের অবশ্যই সশস্ত্র বিদ্রোহ ও যুদ্ধ করতে হবে। নিপীড়নের বন্ধন ছিন্ন করাই মুক্ত জাতি গঠনের প্রথম ধাপ। আলোচ্য গানটিতে সেই ভাঙনের অনুরোধ রয়েছে। সুতরাং, এই গানের নামকরণ ‘ভাঙ্গার গান’ উপযুক্ত।

SOLVED QUESTIONS & ANSWERS of ভাঙার গান- (Bhangar Gaan)

1 MARKS QUESTIONS of ভাঙার গান- (Bhangar Gaan)

1 ‘ভাঙার গান’ রচনাংশটি মূল গ্রন্থে কী নামে সংকলিত হয়েছিল?

উত্তর : ‘ভাঙার গান’ রচনাংশটি মূলগ্রন্থে ‘ভাঙার গান’ নামে সংকলিত হয়েছে।

2 “কারার ওই লৌহকপাট”—‘লৌহকপাট’ কথার অর্থ কী?

উত্তর : লৌহকপাট কথার অর্থ লোহার তৈরি দরজা ।

3 “কারার ওই লৌহকপাট ভেঙে ফেল কর রে লোপাট” কবি কাদের এই আহ্বান জানিয়েছেন?

উত্তর : পরাধীন ভারতে তরুণ বিপ্লবী বীরদের প্রতি কবি এই আহ্বান জানিয়েছেন ।

4 ‘কারার ওই লৌহকপাট’কে কবি কেন ভেঙে ফেলতে বলেছেন?

উত্তর : স্বাধীনতাসংগ্রামী বীর বিপ্লবীদের কারাগার থেকে মুক্ত করে তাঁদের আরব্ধ কাজকে সম্পূর্ণ করার জন্য কবি লৌহকপাট ভেঙে ফেলতে বলেছেন ।

5 ‘শিকল পূজার পাষাণ বেদী’তে কাদের রক্ত জমাট হয়ে আছে?

উত্তর : ব্রিটিশ সরকার দ্বারা অত্যাচারিত ভারতের বীর সন্তান স্বাধীনতাসংগ্রামীদের রক্ত জমাট হয়ে আছে।

6 “ওরে ওই তরুণ ঈশান”—তরুণ ঈশানকে কবি কী করতে বলেছেন?

উত্তর :  তরুণ ঈশানকে কবি প্রলয় বিষাণ অর্থাৎ ধ্বংস ঘোষণাকারী শিঙা বাজাতে বলেছেন ।

7 “ওরে ওই তরুণ ঈশান”— ‘তরুণ ঈশান’ বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে কাদের বুঝিয়েছেন?

উত্তর : ‘তরুণ ঈশান’ বলতে কবি প্রকৃতপক্ষে ভারতমাতার বীর সন্তান স্বাধীনতাসংগ্রামীদের বুঝিয়েছেন |

৪ ‘ঈশান’ শব্দের দুটি অর্থ লেখো।

উত্তর : ‘ঈশান’ শব্দের অর্থ শিব। অন্যদিকে, ‘ঈশান’ হল উত্তর পূর্ব দিক, যা দশটি দিকের একটি।

9 “ওরে ওই তরুণ ঈশান, বাজা তোর প্রলয় বিষাণ”- কবি কেন তরুণ ঈশানকে প্রলয় বিষাণ বাজাতে বলেছেন?

উত্তর : ইংরেজদের কারাগারে স্বদেশের মুক্তিযোদ্ধারা বন্দি থাকায় সেইসব কারাগার ভেঙে ফেলার জন্যই কবি প্রলয় বিষাণ বাজাতে বলেছেন।

10 “ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীন প্রাচীর ভেদি।”— কীসের “ধ্বংস নিশান’?

উত্তর : স্বাধীনতাকামী বহু বীর বিপ্লবীকে ইংরেজ সরকার কারাবন্দি করে রেখেছে। সেইসব কারাগার ধ্বংস করে নিশান ওড়াতে হবে।

11 “গাজনের বাজনা বাজা” – ‘গাজনের বাজনা’ কী?

উত্তর : চৈত্রের শেষে শিবের গাজন উৎসবের সময়ে ঢাক, ঢোল, কাঁসর, বাঁশি ইত্যাদি সমন্বিত বাজনা হল গাজনের বাজনা।

12 “কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে।”— ‘মুক্তস্বাধীন সত্য’ কী?

উত্তর : মুক্ত স্বাধীন সত্য হল ‘স্বাধীনতা ভারতবাসীর জন্মগত অধিকার এবং তারা তা অর্জন করবেই’।

13 “হা হা হা পায় যে হাসি ” — কবির হাসি পাওয়ার কারণ কী? 

উত্তর : কবির হাসি পাওয়ার কারণ হল অত্যাচারী ইংরেজ শাসক ভগবানতুল্য মৃত্যুঞ্জয়ী বিপ্লবীদের ফাঁসি দিতে চায় 

14 “ভগবান পরবে ফাঁসি” – কে ভগবানকে ফাঁসি দিতে চায়?

উত্তর : অত্যাচারী ইংরেজ শাসক ‘ভগবান’কে ফাঁসি দিতে চায় ।

15 “ভগবান পরবে ফাঁসি”— ‘ভগবান’ বলতে কবি কাকে বা কাদের বুঝিয়েছেন?

উত্তর : এখানে ‘ভগবান’ বলতে কবি মৃত্যুঞ্জয়ী বীর বিপ্লবীদের, যাঁরা স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের বুঝিয়েছেন।

16 “শিখায় এ হীন তথ্য কে রে”—‘হীন তথ্য’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : ভগবানের মতো অমর স্বাধীনতাসংগ্রামীদের ফাঁসি দিয়ে তাঁদের স্বপ্নকে নির্মূল করা যায়—এটাই হল হীন তথ্য ।

17 “ওরে ও পাগলা ভোলা, দে রে দে প্রলয় দোলা” – ‘পাগলা ভোলা’ কীভাবে প্রলয় দোলা দেবে?

উত্তর : গারদগুলো সজোরে ধরে হ্যাঁচকা টান মেরে ‘পাগলা ভোলা’ প্রলয় দোলা দেবে।

18 “মার হাঁক হায়দারী হাঁক” – ‘হায়দারী হাঁক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর :, হজরত মহম্মদের জামাতা হায়দার যেমন শত্রুর উদ্দেশে হাড় হিম করা হাঁক দিতেন, তেমন হাঁককে বোঝানো হয়েছে ।

19 “মৃত্যুকে ডাক জীবনপানে” – কে ডাকবে?

উত্তর : ‘পাগলা ভোলা’ অর্থাৎ তরুণ স্বাধীনতাসংগ্রামীরা মৃত্যুকে জীবনপানে ডাকবে অর্থাৎ হাসিমুখে বরণ করবে।

20 “নাচে ওই কাল বোশেখি”—’কাল বোশেখি’ কীসের প্রতীক?

উত্তর : কালবোশেখি অর্থাৎ কালবৈশাখী ঝড় একাধারে ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রতীক।

multiple choice questions – 1 marks of ভাঙার গান- (Bhangar Gaan)

1 ‘ভাঙার গান’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তা হল—
A) সর্বহারা B) ভাঙার গান C) ছায়ানট D) বিষের বাঁশী
উত্তর : B) ভাঙার গান
2 “কারার ওই লৌহকপাট ভেঙে ফেল কররে লোপাট”— এখানে ‘লৌহকপাট’ শব্দের অর্থ—
A) লোহার দরজা B) লোহার দ্বারের আবরণ C) লোহার জানালা D) লোহার শিকল
উত্তর : A) লোহার দরজা
3 ‘কারার ওই লৌহকপাট’কে কবি কী করতে বলেছেন?
A) ভেঙে ফেলতে B) লোপাট করতে
C) ভেঙে ফেলতে ও লোপাট করতে D) খুলে ফেলতে
উত্তর : C) ভেঙে ফেলতে ও লোপাট করতে
4 “ভেঙে ফেল কর রে লোপাট”—কী?
A) পাষাণ বেদী B) লৌহকপাট C) ধ্বংস নিশান D) প্রাচীন প্রাচীর
উত্তর : B) লৌহকপাট
5 ‘ওই লৌহকপাট’ কোথাকার?
A) কারার B) প্রাসাদের C) অট্টালিকার D) দেবালয়ের.
উত্তর : A) কারার
6 “কররে লোপাট”— ‘লোপার্ট’ শব্দের অর্থ হল-
A) ভেঙে ফেলা B) লুঠ করা C) আত্মসাৎ করা D) চিহ্নমাত্র না রাখা
উত্তর : D) চিহ্নমাত্র না রাখা
7 “রক্ত জমাট শিকল পূজার পাষাণ বেদী”—কবি কাজী নজরুল পাষাণ বেদী বলেছেন—
A) বিদেশের কারাগারকে B) ভারতীয় কারগারকে
C) পরাধীন ভারতবর্ষকে D) মন্দির-মসজিদকে
উত্তর : C) পরাধীন ভারতবর্ষকে
8 “পাষাণ বেদী’—কীসের?
A) জমাট রক্তের B) শিকল পূজার C) দেবীর পূজার D) ঈশান পূজার
উত্তর : B) শিকল পূজার
9 “শিকল পূজার পাষাণ বেদী’তে কী পড়ে আছে?—
A) তরল রক্ত B) লাল রক্ত C) জমাট রক্ত D) চোখের জল
উত্তর : C) জমাট রক্ত
10 ‘শিকল পূজার পাষাণ বেদী’তে রক্ত লেগে আছে—
A) বিপ্লবীদের B) ক্রীতদাসদের C) বলিপ্রদত্ত পশুদের D) রক্তদাতাদের
উত্তর : A) বিপ্লবীদের
11 কবি ‘ভাঙার গান’ কবিতায় ‘শিকল পূজা’ বলেছেন
A) সমাজের স্থবিরতাকে B) আইনশৃঙ্খলার অবনতিকে
C) ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্যকে D) কারাবরণের শৌখিনতাকে
উত্তর : C) ইংরেজ শাসনের প্রতি আনুগত্যকে
12 “ওরে ও তরুণ ঈশান”— উদ্ধৃতাংশে সম্বোধন করা হয়েছে
A) শিবকে B) ছাত্রদলকে
C) আকাশের একটি বিশেষ দিককে D) জাগ্রত তরুণদলকে
উত্তর : D) জাগ্রত তরুণদলকে
13 ‘ভাঙার গান’-এ কবি ঈশানের কাছে কী প্রত্যাশা করেন?
A) সে শিকল পূজার পাষাণ বেদী গড়ে তুলবে
B) সে তার প্রলয় বিষাণ বাজাবে
C) সে ধ্বংসের নিশান ওড়ানো বন্ধ করবে
D) সে মুক্ত স্বাধীন সত্যকে সাজা দেবে
উত্তর : B) সে তার প্রলয় বিষাণ বাজাবে
14 “ওরে ওই তরুণ ঈশান”— ঈশান কোন্ দেবতা?
A) শিব B) বিষ্ণু C) ব্রহ্মা D) ইন্দ্ৰ
উত্তর : A) শিব
15 “বাজা তোর প্রলয় বিষাণ” – কে বাজাবে?
A) তরুণ ঈশানী B) পাগলা ভোলা C) তরুণ ঈশান D) ভগবান
উত্তর : C) তরুণ ঈশান
16 ‘প্রলয় বিষাণ’ কী?—
A) ধ্বংসের ঘোষণাকারী বাঁশি B) ধ্বংসের ঘোষণাকারী শিঙা
C) ধ্বংসের ঘোষণাকারী দুন্দুভি D) ধ্বংসের ঘোষণাকারী বাজনা
উত্তর : B) ধ্বংসের ঘোষণাকারী শিঙা
17 “ধ্বংস নিশান উড়ুক” — ধ্বংস নিশান কী?
A) প্রলয়ের শিঙা B) প্রলয়শঙ্খ C) প্রলয়-বাঁশি D) প্রলয়সূচক পতাকা
উত্তর : D) প্রলয়সূচক পতাকা
18 “ধ্বংস নিশান উড়ুক”- . কীভাবে উড়বে?
A) প্রাচীন প্রাচীর ভেদ করে B) দীর্ঘ প্রাচীর ভেদ করে
C) কঠিন প্রাচীর ভেদ করে D) বিশাল প্রাচীর ভেদ করে
উত্তর : A) প্রাচীন প্রাচীর ভেদ করে
19 “গাজনের বাজনা বাজা, কে মালিক, কে সে রাজা” ‘গাজন’ কী?
A) বাদ্যযন্ত্র B) প্রলয় বিষাণ C) সংগীতবিশেষ D) উৎসববিশেষ
উত্তর : D) উৎসববিশেষ
20 “গাজনের বাজনা বাজা” – কবি গাজনের বাজনা বাজাতে বলেছেন কারণ—
A) চৈত্রমাসে গাজনের সময় কাছে এসেছে
B) গাজনের বাজনা তরুণ ঈশানকে কারার লৌহকপাট ভাঙতে উদ্দীপিত করবে
C) দেশ স্বাধীন হতে আর দেরি নেই
D) প্রচুর মানুষ শিবের প্রীতি কামনায় সন্ন্যাস নিয়েছে
উত্তর : B) গাজনের বাজনা তরুণ ঈশানকে কারার লৌহকপাট ভাঙতে উদ্দীপিত করবে
21 “গাজনের বাজনা বাজা”—’গাজন’ কোন্ মাসে অনুষ্ঠিত হয়?
A) বৈশাখ B) শ্রাবণ C) আশ্বিন D) চৈত্র
উত্তর : D) চৈত্র
22 “গাজনের বাজনা বাজা” – “গাজন’ কোন্ দেবতার উৎসব?
A) মনসা B) চণ্ডী C) মহাদেব D) সত্যপীর
উত্তর : C) মহাদেব
23 ‘মুক্ত স্বাধীন সত্যকে কেউ কী করতে পারে না?
A) অস্বীকার করতে হত্যা করতে B) বন্দি করতে C) হত্যা করতে D) সাজা দিতে
উত্তর : D) সাজা দিতে
24 “কে দেয় সাজা” কাকে সাজা দেওয়া যায় না?
A) মিথ্যাকে B) সত্যকে C) বিপ্লবীকে D) আদর্শকে
উত্তর : B) সত্যকে
25 “হা হা হা পায় যে হাসি” কার হাসি পায়?
A) রাজার B) মালিকের C) ভগবানের D) কবির
উত্তর : D) কবির
26 “ভগবান পরবে ফাঁসি”—কে ভগবানকে ফাঁসি পরাতে চায়?
A) শাসক B) জনগণ C) বিপ্লবী D) তরুণ ঈশান
উত্তর : A) শাসক
27 “শিখায় ও হীন তথ্য কে রে”—কোন্ তথ্য?
A) সত্যকে সাজা দেওয়া যায় B) ভগবানকে ফাঁসি দেওয়া যায়
C) লৌহকপাট ভেঙে ফেলা যায় D) প্রাচীন প্রাচীর ভেদ করা যায়
উত্তর : B) ভগবানকে ফাঁসি দেওয়া যায়
28 “সর্বনাশী শিখায়”—কী শেখায়?
A) স্বাধীন সত্য B) হীন তথ্য
C) প্রলয় বিষাণ বাজাতে D) গাজনের বাজনা বাজাতে
উত্তর : B) হীন তথ্য
29 “ওরে ও পাগলা ভোলা” – ভোলা কে?
A) ব্রহ্মা B) বিষ্ণু C) মহেশ্বর D) পবনদেব
উত্তর : C) মহেশ্বর
30 “দে রে দে প্রলয় দোলা”- প্রলয় দোলা কে দেবে?
A) পাগলা ভোলা B) তরুণ ঈশান C) মালিক বা রাজা D) কাল বোশেখি
উত্তর : A) পাগলা ভোলা

short questions – 2-3 marks of ভাঙার গান- (Bhangar Gaan)

  1. কারার ওই লৌহ কপাট ভেঙে ফেল কররে লোপাট”—এই আহ্বানের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ভারতকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত করার জন্য কবি তরুণ বিপ্লবী শক্তির প্রতি আহ্বান জানান। যেখানে অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকরা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দী করেছে বা কারারুদ্ধ করতে চায়, সেই সব কারাগারের লৌহকপাট ভেঙ্গে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন কবি।

  1. “রক্ত জমাট শিকল পূজার পাষাণ বেদী”— পক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝিয়ে দাও।

উত্তর : ভারত ব্রিটিশ আধিপত্যের অধীনে ছিল, এবং স্বৈরাচারী ইংরেজ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কারারুদ্ধ করার জন্য উন্মত্ত হয়ে ওঠে। ভারত মাতার সাহসী ছেলেরা যারা বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিল তারা জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে তাদের জীবন দিয়েছে। বিপ্লবীদের অবরুদ্ধ করে, ব্রিটিশরা স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চেয়েছিল। ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচারের কারণে বিপ্লবীদের ব্যাপক রক্তক্ষয় হয়। ইংরেজদের অত্যাচারে কারাগারের মধ্যে রক্ত ক্ষরণ হয়। যেখানে শহীদদের রক্ত জমাট বেঁধেছে সেই কারাগারেই কবির জাতির পূজার পাষাণ বেদী।

  1. “ওরে ওই তরুণ ঈশান, বাজা তোর প্রলয় বিষাণ” – তরুণ ঈশান প্রলয় বিষাণ বাজাবে কেন ?

উত্তর : ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা শিব ঈশান নামে পরিচিত। যখন তিনি ক্ষয়িষ্ণু, অশুভকে ধ্ব়ংস করার জন্য প্রলয় নৃত্য করেছিলেন তখন নৃত্যের আগে তিনি বিষাণ বা শিঙা  বাজিয়েছিলেন। কবি তরুণ বিপ্লবীদের ব্রিটিশ ক্ষমতার পতনের ঘটানোর আগে বিষাণ বাজানোর জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং তাদের ঈশানের সাথে তুলনা করেছেন। 

ভারতবর্ষের যে সংগ্রামীরা দেশমাতার মুক্তির জন্য মুক্তির জন্য লড়াই করছে, ইংরেজরা তাদের উপর নির্যাতন ও কারারুদ্ধ করে তাদের স্বাধীনতার স্পৃহাকে মেটাতে চাইছেন । তরুণ ইশানকে তাই ভয়ঙ্কর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের জন্য প্রলয় বিষাণ বাজাতে হবে।

  1. “ধ্বংস নিশান উড়ুক প্রাচীন প্রাচীর ভেদি। — ধ্বংস নিশান ওড়াতে কবি এত উৎসাহ নিয়েছেন কেন?

উত্তর : স্বাধীনতা পূর্ব ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শোষণ, বর্বরতা এবং আধিপত্য দ্বারা পীড়িত। ফলে দেশের ছেলেরা তার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়েছে। বিদ্রোহী, বিপ্লবী তরুণদের অত্যাচারী সরকার শৃঙ্খলে বন্দী করে রেখেছে। কবি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণকে প্রত্যাখ্যান করে কারাগারের লৌহকপাট ভেঙ্গে ফেলতে এবং চারপাশের সন্ত্রাসের প্রাচীর ভেঙে ফেলার আকাঙ্ক্ষা করেন। সত্য, মানবতা ও স্বাধীনতা তখনই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তাই কবি মানুষকে বারবার ধ্বংসের চিহ্ন উড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

  1. “গাজনের বাজনা বাজা” – গাজনের বাজনা কখন এবং কেন বাজে ?

উত্তর : গাজন উৎসব, ভগবান শিবের উপাসনাকে কেন্দ্র করে, বাংলা ক্যালেন্ডার বছরের শেষ মাসের শেষ দিনে বা চৈত্রসংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি একটি লৌকিক অনুষ্ঠান। এটি চড়কপূজা নামেও পরিচিত । এই পার্বণের দিনে গ্রামবাংলায় মেলা বসে। গাজন উৎসবের সময় শিবকে ঢাক, ঢোল, কাঁসি এবং বংশী সহ ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে পূজা করা হয়।

  1. “গাজনের বাজনা বাজা” – ‘গাজনের বাজনা’র প্রসঙ্গটি কবিতায় কেন এসেছে আলোচনা করো। 

উত্তর : গ্রাম বাংলায় চৈত্রসংক্রান্তির সময় গাজন অর্থাৎ প্রলয় দেবতা শিবের পূজা করা হয়। কবি চেয়েছেন এই গাজনের বাজনার মধ্য দিয়ে বিপ্লবী যুবকরা ইংরেজ কারাগারের প্রাচীর ভেঙ্গে এক মুক্ত স্বাধীন সত্য প্রতিষ্ঠা করুন । কবি গাজনের সঙ্গীতের ইঙ্গিতকে তাঁর স্বাধীনতার আদর্শকে উপলব্ধি করার জন্য ব্যবহার করেছেন।

  1. “কে দেয় সাজা মুক্ত স্বাধীন সত্যকে রে” — মুক্ত স্বাধীন এ সত্যকে কেউ সাজা দিতে পারে না কেন?

উত্তর : মানবতার অনুকূলই হলো সত্য। সত্য সর্বদা স্বাধীন এবং মুক্ত। মানবতাবিরোধী কর্ম তাকে কলুষিত করার চেষ্টা করে, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। পৃথিবীর কোন জেলই সত্যকে ধারণ করতে পারে না। ইংরেজ শাসকেরা দেশের স্বাধীনতাকামী তরুণদের ফাঁসির মঞ্চে ঝুলাতে পারে না কারণ তারা সত্য ও মানবতার স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। এমনকি একজন ব্যক্তির ফাঁসি বা অন্যথায় শাস্তি হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত আদর্শ সমস্ত শাস্তির উপরে থাকে।

  1. “ভগবান পরবে ফাঁসি/সর্বনাশী শিখায় এ হীন তথ্য কে রে -এই অংশটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ভগবান হলেন সত্যরক্ষক এবং মৃত্যুঞ্জয়ী । তাকে ফাঁসি বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা সম্ভব নয় । তরুণ বিপ্লবীরা হলো দেশের ভগবান অর্থাৎ অমর । এমনকি তারা ফাঁসির মঞ্চে জীবনের জয়গান গাইতে পারে। ফাঁসিতে তাদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে কিন্তু তাদের সততা, মানবতাবোধ, দেশপ্রেম কখনোই মৃত হতে পারে না । কারারুদ্ধ এবং ফাঁসির দ্বারা মুক্তি আন্দোলনের অবসান ঘটাতে পারে এমন মিথ্যা ও হীন তথ্য ব্রিটিশদের কে নির্দেশ দিয়েছিলেন জানা নেই।

long questions – 5 marks of ভাঙার গান- (Bhangar Gaan)

  1. ‘ভাঙার গান’ শীর্ষক গানটির নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো। 

উত্তর 🙂 ‘ভাঙ্গার গান’ (1924) কবিতা সংকলনের প্রথম রচনাটির নাম ‘ভাঙ্গার গান’। এই গানটি, অসহযোগ আন্দোলনের সময় প্রায় 200 বছরের ব্রিটিশ দুঃশাসনের অবসানের পক্ষে রচিত হয়েছিল। আলোচ্য গানটি  সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামীরা ইংরেজ কারাগারে বন্দী বিপ্লবীদের মুক্তি দেবে এবং সমগ্র স্বদেশকে বিদেশী শাসকদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করবে এই দুর্বারের সংকল্পকে প্রকাশ করে । 

প্রথম এবং পঞ্চদশ স্তবকটিতে ভাঙার কথা রয়েছে । সমগ্র গানে ধ্বংস ও ভাঙার কথা বলেছেন । সামগ্রিকভাবে ভারত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে। এই ধরনের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য দেশের নাগরিকদের অবশ্যই সশস্ত্র বিদ্রোহ ও যুদ্ধ করতে হবে। নিপীড়নের বন্ধন ছিন্ন করাই মুক্ত জাতি গঠনের প্রথম ধাপ। আলোচ্য গানটিতে সেই ভাঙনের অনুরোধ রয়েছে। সুতরাং, এই গানের নামকরণ ‘ভাঙ্গার গান’ উপযুক্ত।

  1. ‘ভাঙার গান’ রচনাটির পটভূমি উল্লেখ করে মমার্থ লেখো ।

উত্তর : ‘ভাঙ্গার গান’ 1922 খ্রিস্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলনের পটভূমিতে কাজী নজরুল ইসলামের লেখা । কবিতাটিতে অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকারের হাতে বন্দী দেশের স্বাধীন হবার কথা বলা হয়েছে। অত্যাচারী ব্রিটিশ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বন্দি করে।  কবি সেই কারাগারের লোহার কপাট ভাঙার ডাক দিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচারের ফলে দেশমাতৃকার মন্দিরে রক্ত ঝরেছে। বিদেশী স্বৈরশাসক দেশপ্রেমিকদের ফাঁসি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে কবির মতে বিপ্লবী বীরদের মৃত্যু নেই, তারা মৃত্যুকে জয় করতে সমর্থ। রুদ্র মহেশ্বর বা খ্যাপা ভোলানাথের মতো প্রলয়নৃত্যকারী তরুণ দেশপ্রেমিকদের অভ্যুত্থানে দেশ স্বাধীন হবেই। অন্য কথায়, দাসত্বের শিকল ভেঙে যাবেই। প্রচন্ড ঘৃণার লাথিতে ভীমকারের তালা ভেঙ্গে যাবে। পুরো দেশই যেন কারাগারে পরিণত হয়েছে। কবি সেখান থেকে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য ডাক পাঠান। তিনি আত্মবিশ্বাসী যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ভারতীয়দের একত্রিত করবে এবং দেশকে মুক্ত করবে।

3.’ভাঙার গান’ পাঠ্যাংশে কবির যুগচেতনা ও স্বদেশভাবনা  কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে আলোচনা করো। 

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলাম হলেন একজন যুগসচেতন কবি। তাই তিনি স্বয়ং বলেছেন—

“বর্তমানের কবি আমি ভাই ভবিষ্যতের নই নবি”।

1922 খ্রিস্টাব্দের অসহযোগ আন্দোলনের সময় লেখা তাঁর কবিতা ‘ভাঙ্গার গান’-এ কবি সংগ্রামের বার্তা দিয়েছেন । এই গানটি কবির সময়, মানে বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি রাজনৈতিক আবহাওয়ার মূর্ত প্রতীক। কবি দেশের মুক্তিকামী বিপ্লবীদের জেল, ফাঁসি, ভয়ভীতি, অত্যাচার ইত্যাদির বিরুদ্ধে তরুণ বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিলেন। কবি যুবকদের জেগে ওঠা এবং অত্যাচারী ব্রিটিশ সরকারের কারাগারের বার ভাঙার ডাক দিয়েছেন।  দেশপ্রেমিক নজরুল অত্যচারী ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশমাতাকে মুক্ত করার জন্য একটি গান গেয়েছিলেন। কবি সশস্ত্র বিপ্লবীদের তার সাথে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন-

“লাথি মার ভাঙরে তালা, মত সব বন্দিশালায়

আগুন জ্বালা, আগুন জ্বালা ফেল উপাড়ি।”

সারা দেশে কারাগারে আটকে থাকা সাহসী তরুণদের মুক্ত করা প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, পুরো দেশটাই যেন কারাগারে পরিণত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে সেখান থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। ফলে কবি তরুণ দেশপ্রেমিকদের “কারার ওই লৌহকপাট” ভাঙার ডাক দিয়েছেন। এভাবেই কবির দেশপ্রেম আলোচিত কবিতায় ফুটে উঠেছে।

  1. ‘ভাঙার গান’ পাঠ্যাংশে কবির বিদ্রোহী মনোভাবের কী পরিচয় পাও ? 

উত্তর : ‘ভাঙ্গার গান’ গানটিতে কবি নজরুলের সহজাত বিদ্রোহী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। বিদেশী শাসকদের দ্বারা দেশের জনগণের অব্যাহত নিপীড়নের ফলে কবি বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। মাতৃভূমির বিপুল সংখ্যক সাহসী সন্তানেরা কারারুদ্ধ। তিনি তাই অনুরোধ করেছিলেন ‘তরুণ ঈশান’ কে ‘প্রলয়-বিষাণ’ বাজিয়ে জেলের প্রাচীর ভেঙে ধ্বংসের পতাকা উড়াতে। তিনি খ্যাপা ভোলানাথের মতো ‘প্রলয়-দোলা’ ব্যবহার করে গারদগুলি নির্মূল করার  দাবি করেছিলেন। তিনি অনুরোধ করেছিলেন দুন্দুভি কাঁধে নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষের জন্য যাওয়ার সময় ভয়ঙ্কর চিৎকার করতে যাতে শাসক ভীত হয়। তরুণ দেশপ্রেমিকরা ক্রোধে জেলের দরজা ভেঙে ফেলতে পারে এবং কালবৈশাখী ঝড়ের শক্তিতে ভীমকারার ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। তারা চূড়ান্ত আত্মত্যাগ এবং বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা করে মৃত্যুকে জীবিত করার ডাক দেবে। বিপ্লবীদের কারারুদ্ধ ও ফাঁসি দিয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ স্বাধীন সত্যকে, অর্থাৎ দেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারবে না। মানবতার জয় হবেই। কবির বিদ্রোহী আচরণ প্রবল মানবতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। তাই পুরো গান জুড়ে সেই বিদ্রোহের মেজাজ।

  1. ‘ভাঙার গান’ পাঠ্যাংশে কবি হিন্দু ও মুসলমান পুরাণ প্রসঙ্গ কীভাবে এনেছেন? কবির অসাম্প্রদায়িক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দাও।

উত্তর : ভারতে হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মই আছে। এদেশ এই দুই সম্প্রদায়ের । তখন বিদেশী রাজশক্তি দেশজননীকে অত্যাচার করে চলেছে । বিদ্রোহী মনোভাব বোঝাতে কবি ‘ভাঙার গান’-এ হিন্দু-মুসলিম পৌরাণিক ইঙ্গিতের ব্যবহার করেছেন। ‘ভাঙ্গার গান’’-এ কবি দেশকে  দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার প্রয়াসে হিন্দু পুরাণের রুদ্র ও মহাদেবের খ্যাপা রূপের পরিচয় দিয়েছেন। কবির আকাঙ্খা ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে দেশকে উদ্ধারের জন্য তরুণ বিপ্লবীরা যেন শিবের মতো ধ্বংসযজ্ঞের শিঙা বাজিয়ে দেশকে মুক্ত করে।

“ওরে ও তরুণ ঈশান, বাজা তোর প্রলয় বিষাণ” । 

একই উদ্দেশ্যে পুনরায় কবি বলেছেন

“ওরে ও পাগলা ভোলা, দে রে দে প্রলয় দোলা”। 

অন্যদিকে, তরুণ বিপ্লবীদেরকে ইসলামী পুরাণ অনুসারে হজরত মহম্মদের জামাতা চতুর্থ খলিফা আলীর শক্তিশালী “হায়দারি গর্জনের” মতো তরুণ বিপ্লবীদের একটি ভয়ঙ্কর এবং জোরালো হাঁক দেওয়ার কথা বলেছেন –

“মার হাঁক হায়দারী হাঁক, কাঁধে নে দুন্দুভি ঢাক”।

কবি নজরুল ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক ও উদার মানবতাবাদী। এই গানে এবং অসংখ্য গান ও কবিতায় হিন্দু ও মুসলিম পৌরাণিক প্রসঙ্গ ব্যবহার করে তিনি বারবার সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই কবিতায় দুটি সাম্প্রদায়িক পৌরাণিক প্রসঙ্গ ব্যবহারের মধ্যেও তাঁর অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়।

  1. “ওরে ও তরুণ ঈশান’ এবং ‘ওরে ও পাগলা ভোলা’ পৃথক দুটি পঙক্তিতে কবি শিবের প্রসঙ্গ এনেছেন কেন? 

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় শিবের প্রসঙ্গ রয়েছে । দেবাদিদেব মহাদেব দুটি ভিন্ন পরিচয়ের অধীনে “ভাঙ্গার গান”-এ দুটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি করেছেন। তাকে তৃতীয় লাইনে “ঈশান” এবং নবম লাইনে “ভোলা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কবি স্বাধীনতার বিপ্লবী যোদ্ধাদের সাথে রুদ্র ঈশানকে তুলনা করেছেন। কবি তরুণ দেশপ্রেমিকদের জন্য শিবের মতো রুদ্রের মূর্তি ধারণ করতে, প্রলয়ের শিঙায় ফুঁ দিতে, বিপর্যয়ের পতাকা উড়াতে এবং কারার দেয়ালগুলিকে ভেঙে ফেলার জন্য ডাক দিয়েছেন।

কবি তরুণ বিপ্লবীদের অনুরোধ করেন খ্যাপা ভোলানাথের প্রলয়-দোলা ব্যবহার করে গারদের বার গুলি ভাঙার জন্য। অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকের কারাগারে মাতৃভূমির সন্তানরা বন্দি । দাসত্বের খাঁচায় গোটা দেশকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। সমস্ত বন্ধন ভেঙ্গে তরুণ দেশপ্রেমিকদের ভয়ানক শিব শক্তিতে সচেতন হয়ে সব বাঁধন ভাঙতে হবে। মহাদেব হলেন সৃষ্টিকর্তা ও ধ্বংসকারী দেবতা। অন্যায় ও অমঙ্গল দূর করে ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি রুদ্রের শক্তিশালী রূপে আবির্ভূত হন। কবি চেয়েছেন যুবসমাজও ক্ষুব্ধ ভোলানাথের মতো সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসন উৎখাত করতে, অন্যায়-অত্যাচারের অবসান ঘটাতে এবং একটি নতুন সমাজ ও জাতি প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হোক। কবি এই কারণে শিবকে তুলে ধরেন এই গানে ।

7 “মার হাঁক হায়দারী হাঁক, কাঁধে নে দুন্দুভি ঢাক”– হায়দারী হাঁক কী? কাঁধে দুন্দুভি ঢাক নেওয়ার তাৎপর্য কী ?

উত্তর : অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকের হাড় হিম করার জন্য, কবি ভারতের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিপ্লবীদের জোরে হাঁক ছাড়ার আহ্বান জানান। ইসলামী বিশ্বের চতুর্থ খলিফা হজরত আলীর মতো চিৎকারে বিদেশী শাসকের হৃদয় কেঁপে উঠুক। হজরত মহম্মদের প্রথম খুড়তুতো ভাই ও জামাতা ছিলেন হজরত আলী। তার জোরে হাঁককে ‘হায়দারী হাঁক’ বলা হয়েছে। কবি কাজী নজরুল দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে, মানবতার যুদ্ধে এবং তরুণ দেশপ্রেমিকদের কণ্ঠে ‘হায়দারী হাঁকের’ আবির্ভাব কামনা করেন।

দুন্দুভি হল এক ধরনের বড় ঢাক যা যুদ্ধের আগে বাজানো হয়। কবি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ দাবি করেছিলেন। কবি দেশের যুবসমাজকে যুদ্ধের ভার বহন করার আহ্বান জানান। কারাগারে বন্দী দেশপ্রেমিকদের মুক্ত করতে কারাগারের দরজাগুলি ভেঙে ফেলতে হবে। লাথি মেরে জেলের তালা ভাঙতে হবে। জাতিকে সকল নিপীড়ন থেকে মুক্ত করার জন্য শাসকের সাথে সরাসরি সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হতে হবে। দুন্দুভি ঢাকের ধ্বনিতে এই বাণী দেশের হৃদয়ে বয়ে যাক। কবি তরুণ, বীর বিপ্লবীদের এই ধরনের আকাঙ্ক্ষা থেকে  দুন্দুভি কাঁধে নিয়ে যেতে বলেছিলেন।

  1. “ডাক ওরে ডাক মৃত্যুকে ডাক জীবনপানে”—মৃত্যুকে জীবনপানে ডাক দিতে হবে কেন? কেমন করে সেই ডাক দেওয়া সম্ভব?

উত্তর : কবি কাজী নজরুল তাঁর ‘ভাঙার গান’ কবিতায় মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জীবন মানেই জয়, আর মৃত্যু মানে হেরে যাওয়া। জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামীরা নিষ্ঠুর ব্রিটিশ অধিপতির কাছে নতি স্বীকার করবে না। শাসকের নিপীড়নমূলক নীতির ফলে কারারুদ্ধ বিপ্লবীদের জমাট বাঁধা রক্তের প্রমাণ পাষাণবেদীতে দেখা যায়। এমনকি দেশপ্রেমিকদের অনেকের  মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। তাদের চলে যাওয়া মানবতা বা সত্যের সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয় না। নিঃস্বার্থ জীবনদান শত শত জীবনকে অনুপ্রাণিত করে। তাই কবি তরুণ দেশপ্রেমিকদের মৃত্যুতে আতঙ্কিত না হয়ে জীবনের দিকে এগিয়ে আসতে পরামর্শ দিয়েছেন। অন্য কথায়, কবি মানুষের মৃত্যুর ভয়কে একপাশে রেখে দেশবাসীর জীবনকে ভালো রাখার ডাক দিয়েছেন।

মানুষের শরীরের শেষ আছে। কিন্তু পুনরুত্থানের মন্ত্র থাকে জাতির জন্য আত্মদানের মধ্যে। বিদ্রোহীরা যারা ফাঁসিতে ঝুলতে গিয়ে জীবনের জয়গান গেয়েছিল তারা জীবন শেষের মধ্যে দিয়ে মৃত্যুকে জীবনমুখী করে তোলে। কবি আশা করেন দেশের লক্ষ লক্ষ সন্তান সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার লড়াইকে সমর্থন করুক। জাতির স্বাধীনতা রক্ষায় জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জীবনমুখী করা যেতে পারে।

  1. ‘ভাঙার গান’-এ কবির প্রতিবাদী ও স্বাধীন মনের পরিচয় কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে লেখো ।

উত্তর : কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী, প্রতিবাদী ও স্বাধীনচেতা স্বভাব তাঁর অধিকাংশ রচনায় স্পষ্ট। এটি ‘ভাঙ্গার গান’-এর ক্ষেত্রেও সত্য। এই অনুচ্ছেদে কবির প্রতিবাদী মনোভাব ব্যাপকভাবে ফুটে উঠেছে। 

এই কবিতার প্রথম স্তবকে তিনি বলেছেন—

“কারার ওই লৌহকপাট ভেঙে ফেল কর রে লোপাট”।

ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক আটক মুক্তিযোদ্ধাদের লৌহকপাট ভেঙ্গে মুক্ত করতে হবে। গারদগুলো ভাঙতে হ্যাঁচকা টান দিতে হবে। পদাঘাত করে জেলের তালা ভাঙতে হবে, ভীমকারের ভিত নাড়াতে হবে। কবি পরাধীন দেশে ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে  তীব্র প্রতিবাদ করেছেন।

মাতৃভূমির স্বাধীনতার সকল বিপ্লবী অবাধ, স্বাধীন সত্যে বিশ্বাসী। কেউ সেই সত্যকে আবদ্ধ করতে বা শাস্তি দিতে সক্ষম নয়। একজন মানুষ মারা গেলেও বিপ্লবী নীতি, সত্য এবং মানবতা চিরকাল টিকে থাকে। অত্যাচারী ব্রিটিশ প্রশাসনের অধীনে স্বাধীনতার আবেগ ছিল অটুট। দেশপ্রেমিকেরা তরুণ ঈশান ও ভোলার মতোই আবেগপ্রবণ, পাগল ও স্বাধীন। কবি স্বপ্ন দেখেছিলেন যে তিনি ব্রিটিশদের পরাজিত করবেন এবং দেশকে সকল প্রকার অত্যাচার থেকে মুক্ত করবেন। এর ফলে তার স্বাধীন মানসিকতা স্পষ্ট হয়েছে।

  1. ‘ভাঙার গান’ কবিতাটিতে কবি নজরুলের কবি মানসিকতার যে পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে তা সংক্ষেপে লেখো। 

উত্তর : কাজী নজরুল ইসলামের ‘ভাঙ্গার গান’ কবিতাটি স্বাধীনতার জন্য আকাঙ্ক্ষিত মানুষের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের তাগিদকে তুলে ধরেছে । এই কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদী শাসক শ্রেণীর প্রতি কবির প্রতিবাদী মনোভাবকে প্রকাশ করে। কবি অনুরোধ করেন যে কারাগারের লোহার কপাট ভেঙ্গে ফেলে বিপ্লবীদের রক্তে ভেজা বেদি ধ্বংসের ডাক দিয়েছেন। গারদগুলি ভাঙতে বলেছেন হ্যাঁচকা টানে। আত্মত্যাগের মাধ্যমে কবির জীবনকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস বা মাঝে মাঝে জেলখানায় আগুন লাগিয়ে তাকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও কবি উল্লেখ করেছেন।

কবি নজরুলের নির্ভীকতা, বিদ্রোহের প্রতি আনুগত্য এবং ‘মুক্ত ও স্বাধীন সত্য’ এই আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। কবি শুধু বিদ্রোহের আলোচনা করেননি, তিনি একটি অদম্য প্রতিবাদ মানসিকতা পোষণ করেছেন। তিনি চিরন্তন স্বাধীনতার বিজয় ঘোষণা করেছিলেন। কবি ধ্বংসের মধ্য দিয়ে সৃষ্টির আগমনের সূচনা করেন গাজনের বাজনায় আঘাত করে। সেখানে মৃত্যুর মাধ্যমে জীবনের একটি নতুন সূচনা হবে। শাসক ও শাসকের মধ্যে দূরত্ব দূর হবে। এভাবেই ‘ভাঙ্গার গান’ কবিতায় নজরুলের আপসহীন, স্বাধীনতাকামী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

error: Content is protected !!
Scroll to Top

আজকেই কেনো পরীক্ষার শর্ট নোটস

এখন সহজে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও – আজকেই ডাউনলোড করো পিডিএফ বা বই অর্ডার করো আমাজন বা ফ্লিপকার্ট থেকে