কি হয় নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ Class 10 WBBSE Geography Bhugol

নদীর ক্ষয়কাজের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ 

  1. V আকৃতির উপত‍্যকা (V-Shaped valley) : আর্দ্র ও আর্দ্র-প্রায় অঞ্চলে নদীর ভূমির ঢাল বেশি হওয়ায় নদী গুলি নিম্নক্ষয় ও পার্শ্বক্ষয় করে, ফলে নদী উপত‍্যকা একদিকে গভীর হয় এবং একদিকে চওড়া V আকৃতির উপত‍্যকা গঠন করে ।
  2. আবদ্ধ শৈলশিরা  (Interlocking spur) :  কঠিন শিলাকে পরিহার করার জন‍্য, নদী ছোটো ছোটো বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হয় । এর ফলে দুটি বাঁকের সমস্ত স্পারগুলিকে একসঙ্গে দেখা যায় না, একেই আবদ্ধ শৈলশিরা বলে । এর অপর নাম শৃঙ্খলিত শৈলশিরা ।
  3. গিরিখাত (Gorge) :  আর্দ্র পার্বত্য অঞ্চলে ‘V’ আকৃতির নদী উপত্যকা খুবই গভীর ও সংকীর্ণ হলে তাকে গিরিখাত বলে । পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত হল নেপালের কালী গন্ডকী গিরিখাত ।
  4. ক‍্যানিয়ন (Canyon) : পার্ব‍ত‍্য অঞ্চলে গিরিখাতের মত শুষ্ক ও মরু অঞ্চলে ইংরেজী ‘I’ আকৃতির যে খাড়া উপত‍্যকার সৃষ্টি হয় তাকে ক‍্যানিয়ন বলে । যেমন: ক‍্যালিফোর্নিয়ার কলোরাডো নদীর গ্র‍্যান্ড ক‍্যানিয়ন পৃথিবীর দীর্ঘতম ক‍্যানিয়ন ।
  5. খরস্রোত (Rapid) : নদীর পার্বত‍্য প্রবাহে যখন প্রচন্ড ঢাল সম্পন্ন জলপ্রপাতে বিপুল পরিমাণ জলরাশি প্রবাহিত হয় তাকে খরস্রোত বলে । যেমন:  আফ্রিকার জাইরে নদীতে পরপর 32টি খরস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে ।
  6. জলপ্রপাত (Waterfalls) : উচ্চগতিতে নদীর তলদেশের ঢাল হঠাৎ বিচ‍্যুত হলে, বিচ‍্যুতিতলের ওপর থেকে জলরাশি নীচে পতিত হয় একে জলপ্রপাত বলে । যেমন :  ভারতের কর্ণাটক রাজ‍্যের ভারাহী নদীর ওপর কুঞ্চিকল জলপ্রপাত হল উচ্চতম জলপ্রপাত ।
  7. প্রপাত কূপ (Plunge Pool) :  নদী তার প্রবাহপথে অবস্থিত নুড়ি বা শিলা, পাক খেতে খেতে শিলাখন্ডের আঘাতে নদীবক্ষে প্রায় গোলাকার গর্তের সৃষ্টি হয় । এদের প্রপাত কূপ (Plunge Pool) বলে ।
  8. মন্থকূপ (Potholes) :  প্রবল বেগে প্রবাহিত নদীর তলদেশ বা পার্শ্বদেশে জলাবর্তের সৃষ্টি হলে সেখানে নুড়ি বা শিলার ঘর্ষনের ফলে, যে গর্তের সৃষ্টি হয় তাকে মন্থকূপ বা পটহোল বলে । যেমন: ঝাড়খন্ডের খরকাই

নদীর সঞ্চয় কার্যের ফলে গঠিত ভূমিরূপ

  1. পলল ব্যজনী (Alluvial Fan) : পর্বতের পাদদেশে নুড়ি, বালি, পলি, কাঁকর প্রভৃতি সঞ্চিত হয়ে যে শঙ্কু আকৃতির ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে পলল শঙ্কু বলে । পলল শঙ্কুর উপর দিয়ে নদী যখন বিভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়, তাকে পলল ব‍্যজনী বলে । যে নদীতে জলপ্রবাহ বেশি কিন্তু পলির পরিমাণ কম সেখানে পলল ব‍্যজনী গড়ে ওঠে । যেমন: হিমালয়, আন্দিজ, রকি ।
  2. নদী বাঁক বা মিয়েন্ডার (Meander) : মধ‍্য ও নিম্নপ্রবাহে নদীর গতিবেগ কম থাকায়, নদী সামান‍্য বাধার সম্মুখীন হলে, নদী তার গতিপথে পরিবর্তন ঘটায় এবং একেঁবেঁকে প্রবাহিত হয়, একে নদী বাঁক বলে । তুরস্কের আঁকাবাঁকা নদী মিয়েন্ডারের নামানুসারে এই ভূমিরূপের নাম হয় মিয়েন্ডার । পলল অবক্ষেপণের ফলে নদীর গতি ধীর হয় এবং বেঁকে যায় এর ফলে খাড়া পাড়ের সৃষ্টি হয় । খাড়া পাড়ের বিপরীত দিকে নদী স্রোতের বেগ কম থাকায় ঢালু পাড়ের সৃষ্টি হয় ।
  3. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Ox-Bow-Lake) : নিম্নপ্রবাহে আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত নদী বাঁকের বাইরের পাড়টি বেশি ক্ষয় হয় এবং ভেতরের পাড়ে পলি জমা হয় । এর ফলে নদীর বাঁক আরো বাড়তে থাকে এবং এক সময় বাঁকটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ঘোড়ার ক্ষুরের মত একটি অংশ নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ও মূল নদীটি সোজাপথে প্রবাহিত হয় । এই ঘোড়ার ক্ষুরের মত বিচ্ছিন্ন হ্রদকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে । যেমন: গঙ্গা নদীর নিম্নপ্রবাহে দেখা যায় ।
  4. প্লাবনভূমি  (Flood plan) :  নদীর জল যখন হঠাৎ করে বৃদ্ধি হয় তখন অতিরিক্ত জল নদীখাত ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী উপকূল অঞ্চলকে প্লাবিত করে এবং পলি, বালি, কাদা, জমা হয়ে ওই অঞ্চলে সমভূমির সৃষ্টি করে, এই সমভূমি হল প্লাবনভূমি । যেমন: গঙ্গা, সিন্ধু নদীতে দেখা যায় ।
  5. স্বাভাবিক বাঁধ (Natural levee) : নদীতে প্লাবনের ফলে নদীখাতের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পলি জমতে জমতে নদী ও প্লাবনভূমির মাঝে বেশি উচ্চতাসম্পন্ন ভূমির সৃষ্টি হয়, একে স্বাভাবিক বাঁধ বলে । যেমন: মিশরের নীলনদ ।
  6. খাঁড়ি (Estuarine bank) :  মোহনার কাছে নদীস্রোত বেশি হলে পলি, বালি, কাদা সঞ্চিত হতে পারে না, ফলে নদীর মোহনা যথেষ্ট খোলা ও চওড়া হয়, একে খাঁড়ি বলে ।

যেমন : রাশিয়ার ওব নদীর মোহনায় অবস্থিত খাঁড়ি হল পৃথিবীর দীর্ঘতম খাঁড়ি ।

  1. বদ্বীপ :  মোহনার কাছে নদীর গতিবেগ অনেকটা কমে যায় । তাই এখানে নদী দ্বারা পরিবাহিত প্রায় সমস্ত পদার্থ সঞ্চিত হয় । এইভাবে সঞ্চয়ের ফলে নদীবক্ষে মাত্রাহীন বাংলা ‘ব’ অক্ষরের মতো  দ্বীপের সৃষ্টি হয়,  একে বদ্বীপ বলে । যেমন: গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের সম্মিলিত বদ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ । বদ্বীপ তিনপ্রকার, যথা –
    1. ধনুকাকৃতি বদ্বীপ : এ জাতীয় বদ্বীপের আকৃতি ধনুকাকার, যা দেখতে বাঁকানো ফলার মতো । প্রধান নদী বা অনেক শাখাপ্রশাখাবিশিষ্ট নদী দ্বারা গঠিত হয় বলে, এ বদ্বীপের বাইরের অংশ উত্তল দেখায় । এই বদ্বীপ জিহ্বাগ্র বদ্বীপ বা ব‍্যজনী বদ্বীপ নামেও পরিচিত । সিন্ধু, গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনা, নীল, হোয়াংহো, পো, রাইন প্রভৃতি নদীর বদ্বীপ এই ধরণের বদ্বীপের  শ্রেণিভুক্ত ।
    2. তীক্ষাগ্র ব-দ্বীপ  বা কাসপেট ব-দ্বীপ :  প্রধান নদী  করাতের দাঁতের তীক্ষ্ণ সম্মুখভাগের  মত সমুদ্রে প্রবেশ করে, একে তীক্ষাগ্র ব-দ্বীপ  বা কাসপেট ব-দ্বীপ বলে । যেমন: ইটালির টাইবার নদীর বদ্বীপ ।
    3. পাখির পা -এর মত বদ্বীপ : সমুদ্র তরঙ্গের তুলনায় নদীশক্তির পরিমাণ বেশি হলে পাখির পা-এর মত বদ্বীপ সৃষ্টি হয় । যেমন: মিসিসিপি মিসৌরি

নদীর মোহনায় বদ্বীপ সৃষ্টির অনুকুল ভৌগোলিক অবস্থাসমূহ 

  1. নদীস্রোতের বেগ : নদীর স্রোতের বেগ কম থাকলে বদ্বীপ সৃষ্টি হবে ।
  2. অগভীর সমুদ্র : মোহনার কাছে সমুদ্রের গভীরতা কম হলে বদ্বীপ সৃষ্টি হয়  ।
  3. জোয়ারভাটা : সমুদ্রে জোয়ারভাটার প্রকোপ কম থাকলে, বদ্বীপের সৃষ্টি হয় ।
  4. সমুদ্র জলের লবণতার আধিক‍্য : সমুদ্রের জলের লবণাক্তের আধিক‍্য থাকলেও বদ্বীপ সৃষ্টি হয় ।
  5. পলল রাশির পরিমাণের আধিক‍্য : পলল রাশির পরিমাণ বেশি হলে বদ্বীপ গঠন হবে ।

এছাড়াও নদীর স্রোত বিপরীত দিকে বাহিত হলে, উন্মুক্ত সমুদ্র অপেক্ষা আবদ্ধ সমুদ্রে, ঋতু অনুসারে নদীর জলপ্রবাহের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলে ।

বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ class 10
বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ অনুশীলনী
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ প্রশ্ন উত্তর 2023
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও সৃষ্ট ভূমিরূপ
বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে উদাহরণ
বহির্জাত প্রক্রিয়া কে পর্যায়ন প্রক্রিয়া বলে কেন
বহির্জাত প্রক্রিয়া mcq
বহির্জাত প্রক্রিয়া কি
বহির্জাত প্রক্রিয়া কাকে বলে class 12
বহির্জাত প্রক্রিয়া কী
বহির্জাত প্রক্রিয়া বলতে কী বোঝো

GEOGRAPHY BHUGOL SUBJECT WBBSE MADHYAMIK CLASS 10
ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ-BHARAT ER PRAKTITIK PARIBESH

Geography Bhugol Subject WBBSE Madhyamik Class 10 বায়ুমণ্ডল Bayumondol​

error: Content is protected !!
Scroll to Top